মানুষের মৃত্যু ঠুনকো যখন 
গোবিন্দ ধর 

প্রিয়জন
অপাংশুরাজীবশ্যামলহারাধন 
কিংবা সঞ্জীব

পরপর মৃত্যু দেখে আমরা এখন পাথর।তাও  পরিচিতজনদের সাথে গতকাল শিলাছড়িতে যে আপনাদের কথা হলো আড্ডা হলো।তারপর হঠাৎ কেউ এমন মরে যায়?
যায়  তো দেখছি।
এখন মানুষ এমনি এমনি মরে যায়।

উবাত থেকে পড়ে দুম করে মরে যাওয়া বোধ হয় এমন মৃত্যুকেই বলতেন সিলেটিরা।

অপাংশু 
রাজীব 
হারাধন 
কেন এমন হয় জানি না।মানুষের মৃত্যু ঠুনকো যখন কি বলি আর।
মৃত্যু হয় বলেই আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগে।কিন্তু কেন এমন হয় আমিও কি জানি বলুন?

চেতনাবোধ আছে বলেই আপনি কবি।এমনই তো হবে একজন কবি হৃদয়।হারাধনের হৃদয়ে তাই রাইমার স্রোত। অপাংশুর হৃদয়ে বিজয়নদের কল্লোল।রাজীবের বুকের নদীতে গোমতীর ইলিশ রূপোলী জল নাড়ে।
আর আমি মনুদেওজুড়ি তিনটির ডাক শুনে বিভ্রম গোবিন্দ ধর। 
জানি না কেন এমন হয়।তাও হয়।
সঞ্জীবের হৃদয়ে নাচে উত্তাল ফেনী।

আমার একবার এমন হয়েছে।মায়ের কষ্ট দেখতে দেখতে একদিন এক সকালে সবাই আমরা ভাইবোন কান্নায় ভেঙে পড়ছি। এমন সময় হঠাৎ আমার মুখ ফসকে বেরিয়ে আসে আর কষ্ট দিও না।বিদায়,দাও।সেকেন্ডে মা সত্যি সত্যি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।আর এক ঘটনা গত দুবছর আগে বড়দার ছেলে দীনেন অসুস্থ। আমাকে দেখতে বললো ছোট ভাই স্বপন।আমি আর যাওয়ার সম পাচ্ছিলাম না।তাও তিন দিন পরেও স্বপন আমাকেই যাওয়ার জন্য পিড়াপিড়ি করছিলো।এদিকে বড়দা নিত্যানন্দকে আমি দীনেনকে হাসপাতালে নিয়ে যাবার বহু অনুরোধ করেও তিনি তখনো তাকে হাসপাতালে নেননি।আমার সেই মুহূর্তে অজান্তেই বেরিয়ে এসছিল তাহলে আর বাঁচবে না দীনেন।তার পরদিন আমি জোর দিয়ে হাসপাতাল পাঠাই।সাথে সাথে ভগবান নগর জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান হৃদরোগ রেফার করতে হবে।অক্সিজেন লেভেল প্রায় নেই। শিলচর নিয়ে যাওয়া হয়।কিন্তু তাকে সত্যি সত্যি বাঁচানো গেলো না।
এ বড় অসহায়ত্ব। 
কেন এমন হয়।
কে জানে?তাও হয়।মানুষ মরে যায় ঠুনকো। 

২৪:০৭:২০২১
সকাল :৬:৪৫মি
কুমারঘাট।

0 Comments