এডভোকেট মানবতাকর্মী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা 
রাখি দাশ পুরকায়স্থ"
একটি চিঠি:পঙ্কজ ভট্টাচার্য মহোদয়কে প্রেরণ 

গোবিন্দ ধর 


সারা পৃথিবীর অসুখ যখন গাঢ়তর তখনই আপনি বৌদি রাখি দাশ পুরকায়স্থ মহোদয়াকে গৌহাটিতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসছিলেন।

কুমিল্লা মধুমিতা কচি-কাঁচা মেলার উপদেষ্টা, বিশিষ্ট নারী নেত্রী ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট রাখী দাশ পুরকায়স্থ গত ৬ এপ্রিল, ২০২০ সোমবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে ভারতের গৌহাটি অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি লিভারের সমস্যায় ভুগছিলেন । তাঁর জন্ম সিলেট শহরের দাড়িয়াপাড়াতে  ১৯৫২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারী ।

রাখি দাশ পুরকায়স্থ আর পাঁচজন মানুষের মতো গড্ডালিকা জীবনের শরীক নন।তিনি মানবতাকর্মী।
তিনি মহান মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযোদ্ধা। 
খবরটি শুনে মনটা খুব বিষন্ন। আপনার খবর পেয়েছি। 
আশা করি এই করোনাকাল ও বৌদির শোক কেটে নতুন ভোর আসবে।
আপনি ভালো থাকবেন।
আপনার বিয়োগ ব্যথার উপশম হোক।
আপনি দৃঢ় হোন।নতুন বিশ্বকে পথ দেখাতে আপনার প্রয়োজন থাকবে।
মন শক্ত রাখুন।
দূর থেকে আপনার ও আপনার পরিবারের এই শোকে ব্যথিত আমরাও।
মহান মুক্তিযোদ্ধা ও মানববতাকর্মী আমাদের আপনজনের ঋণ বাংলাদেশ মনে রাখবে বিশ্বাস রাখি। 
করোনার দিনগুলোর জন্য হয়তো তিনি গুহাটিতেই শেষকৃত্যে বিলীন, দেশের গানস্যুলুট হয়নি।তাও এই ঋণ আশা রাখি দেশের ও প্রবাসীদের নিকটও মনে থাকবে।

ধন্যবাদান্তে
গোবিন্দ ধর 
কুমারঘাট 

০৮:০৪:২০২০

বিদ্রঃ ১
পঙ্কজ ভট্টাচার্য মহোদয়
উত্তর পূর্বাঞ্চলের লিটল ম্যাগাজিন পুঁথি পাণ্ডুলিপি গবেষণা ও সংরক্ষণ কেন্দ্র আয়োজিত বাইশতম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আপনার উপস্থিতি এবং আলোচনা আমাদের নিকট এখনো স্মরণযোগ্য।আপনার সাধারণ জীবনযাপন আমাদেরকে ঋদ্ধ করেছে।

বিদ্র:২

সংবাদ:আজ ৮ এপ্রিল ২০২০ তারিখে সকাল ১১ টায় শ্রদ্ধেয়া মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশের প্রগতিশীল আন্দোলনের অন্যতম ধারক প্রয়াত রাখী দাশ পুরকায়স্থের শেষকৃত্য ভারতের ভূতনাথ শ্মশানে সম্পন্ন হয়েছে। 

উল্লেখ্য বিগত ৬ এপ্রিল ২০২০ তারিখে  ৬৮ বছর বয়সে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬ টা ২৫ মিনিটে ভারতের গোহাটির এ্যাপোলো হাসপাতালে লিভার সিরোসিসের জন্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিরতরে  ছেড়ে চলে যান।

তাঁর প্রাণহীন দেহটি বাংলাদেশে নেওয়ার সর্বোচ্চ এবং নিবিড় চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু মহামারী করোনার কারণে সর্বত লকডাউনের কারণে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে সকল প্রচেষ্টা ব্যার্থতায় পর্যবাসিত হয়।

তাঁর দাম্পত্য জীবনের সঙ্গী সর্বজন শ্রদ্ধেয় জাতীয় নেতা পংকজ ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ দূতাবাস-গৌহাটির কর্মকর্তাগণের উপস্থিতিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

আজীবন সংগ্রামী রাখী দাশ পুরকায়স্থের জন্য আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা নিবেদন করি।

ভালো থাকেন বৌদি
৮ এপ্রিল ২০২০

সুপ্রিয়, 
গোবিন্দ ধর 

আপনার চিঠিটা বিলম্বে চোখে পড়েছে।চিঠিতে বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, নারীনেত্রী, আমার জীবন সাথী রাখী দাশ পুরকায়স্থের আকস্মিক প্রয়াণে এবং ভারতের মাটিতে তার শেষকৃত্য করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ আমি মেনে নিয়েছি।আপনার চিঠির মর্মার্থ আমার হৃদয়স্পর্শ করেছে। রাখীর ছাত্রাবস্থা থেকে মুক্তিযুদ্ধ এবং নারী আন্দোলনের ভূমিকার কথা বলা হয়েছে,যা আমাকে অভিভূত করেছে।আমার জীবনে তার অবদান বহুমাত্রিক। আমার ভরণপোষন, চব্বিশ ঘন্টা রাজনীতি,মানবাধিকার ও সমাজকর্মী হিসেবে ভূমিকা পালন তার সাহায্য ছাড়া দুঃসাধ্য ছিল।আমি চিরকৃতজ্ঞ তার কাছে।আব্দুর রাজ্জাক আওয়ামী লীগ নেতা,আমার সাথে তুইতোকারির সম্পর্ক ছিলো,সে বলতো,আমি ঘরজামাই,তুমিও ঘরজামাই।বন্ধুবরের এই মন্তব্যের প্রতিবাদ করতাম এই বলে যে,"তুমি ঘরজামাই হতে পারো,আমি কিন্তু বউজামাই।"সুদূর ত্রিপুরা থেকে আপনার প্রেরিত সমবেদনা-বার্তা পাঠিয়ে আমাকে কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ করেছেন।আপনার অশেষ কল্যান কামনা করি।
আপনাদের 
পংকজ ভট্টাচার্য 
২৯:১০:২০২২

পুনঃআমি দীর্ঘ ছয়মাস হাসপাতাল ও বাড়িতে চিকিৎসা রত,দুটো বড়ো অপারেশন হয়েছে।এখন অক্সিজেননির্ভর আমার জীবন।শেষের দিনগুলো ঘুরে দাঁড়িয়ে আরো কিছু কাজ করে যেতে চাই।

0 Comments