আত্মক্ষর
আত্মক্ষর
পর্ব:৬
(বাবাকে নিয়ে শুধু নয়।ধীরে ধীরে লেখাটা মোড় নেবে, বাঁক নেবে।কখনো বাবা।কখনো তাঁর বাবা।কখনো বা বাবার বাবা।কিংবা আমার মাকে নিয়েও লিখবো না এমন নয়।লেখাটা যে আমার কবিজীবন,কিংবা প্রকাশনার টুংটাং কিংবা প্রেম অপ্রেম,অন্ধকার কিংবা আলোকিত অধ্যায় আসবে না এমন নয়।সবই আমার আত্মার অক্ষর। ক্ষরণগুলো হরপের ডানায় উড়ুক চাই।পড়ুন।সাথে থেকে পরামর্শ চাই।প্রতি রবিবার,বুধবার ও শুক্রবার)
গোবিন্দ ধর
বাবা নানান জায়গায় চাকুরী করেছেন।প্রথমে ভারত সরকারের ডাকপাল।তারপর চলে আসেন বিদ্যালয় শিক্ষা বিভাগে।বদলির চাকুরী।কখনো ধর্মনগর পদ্মপুর দ্বাদশ শ্রেণি তো কখনো খোয়াই বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিশ।আবার কখনো বা পাবিয়াছড়া দ্বাদশ শ্রেণি।সব চেয়ে বেশি দিন করেন কাঞ্চনবাড়ি দ্বাদশ শ্রেণিতে।তাই সে সব অঞ্চলে বাবার বন্ধু সংখ্যাও কম নয়।বাবার প্রিয় বন্ধু ছিলেন করামত আলি।তিনি বাবার সাথে মৃত্যুরর আগে অব্দি বন্ধুত্ব রাখেন।দুজন প্রায়ই নিমন্ত্রণ খেতে যেতেন কলিকদের বাসায়।বাবার মুখে শুনা করামত চাচা নাকি খেতে বসে বাম হাত দিয়ে মাছের কাঁটা সরাতেন।তা যখন জানলেন যে করামত চাচা কাঁটা বাছেন বাম হাতে তখন বাবা শিখিয়ে নিতেন হিন্দু বাড়িতে কাঁটা ডান হাতেই বাছতে হয়।এনিয়ে বাবা প্রায়ই আমাদের গল্প করতেন
।তখন জাতপাতের খুব ছোঁয়াছুঁয়ি মারাত্বক ছিলো।তবুও বাবা এসব বিশ্বাস করতেন না। বাবা করামত চাচাকে বন্ধু কাম ছেট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন।এক সময় দুই পরিবারের আত্মীয়তার মতো বন্ধন তৈরী হয়।চাচা উনার মেয়েদের দিয়ে দুধ, ঘি,কাঁঠাল,শশা আমাদেরকে প্রায় সময় পাঠাতেন।আমাদের সেকি আনন্দ।মনে আছে আমাদের ভাইবোনদের কাঁঠাল খাওয়ার প্রতিযোগিতা লাগতো।আমি প্রায় ৫০-৬০ কোষ কাঁঠাল সাবাড় করে দিতাম।ছোটখাটো কাঁঠাল তো প্রায় দিন একাই খেতাম।এখন ভাবলেই অম্বল হয়।আর আম লিঁচু জাম তেঁতুল তো খেতে খেতে ছোটবেলা কতদিন আর ভাত খেতে হয়নি।মনে পড়ে সে সব দিন।আমার ছোটবেলার খাদকগিরি।এখন আর খেতে পারি না।নানান অসুখ।পেট কিছু খেলেই আমার দখলদারি অস্বীকার করে।বাবা আমতলি বাজার থেকে কাঁঠাল কিনেও নিতেন।নরম কোষ হয় এমন।বাবা রুটি দিয়ে কাঁটাল খেতে শিখিয়েছেন।কি মজাই না লাগতো কম্বিনেশন।এখনের ছেলেরা রুটি আর কাঁঠাল খাবে কিনা জানি না।আমরা তো মিস্টি আলু সেদ্ধ করে খাওয়াও বাবার কাছ থেকে শিখেছি।আর বৃষ্টি হলে চাল ভাজা।মা কাঁঠাল বীচি সেদ্ধ করে দুমাই চালের ভাত যখন ঘি দিয়ে দিতেন মনে হতো রান্না করা সব ভাত একা খেয়ে নিই।কিন্তু আমরা আট ভাই বোনের সংসারে স্বাদের চেয়ে সবার হচ্ছে কিনা তাও দেখতে হতো।অভাবের ঘরের ছেলে ছিলাম।ইচ্ছে গুলো স্বপ্নই থাকতো।বৃষ্টি হলে মা চাল ভাজা করতেন।আর কাঁঠাল বীচি ভাজা খেতেও আনন্দ লাগতো।বৃষ্টি পড়লেই মা কাঁঠাল বীচি ভাজা করতেন।আমরা তাতেই কত আনন্দিত হতাম।আজকের শিশুরা পিচজা,তন্দুরী,রুমালি রুটি চিকেন না হলে তো মুখে রুচিই পাবে না।ভাবি দিন কেমন বদলে যায়।আমাদের ছোটবেলার আনন্দ আজ খুঁজি কিন্তু সেসব সোনালিদিন আর নাই।বাবার কথা যখন মনে পড়ে কথাগুলো মনে আসে দলা পাকিয়ে।
আমাদের সময়ও হিংসে নেই।ছিলো না অবিশ্বাস।মানুষ মানুষকে দেখলে জড়িয়ে ধরতেন।এখন শুধু অবিশ্বাস।
কত আনন্দ হতো।কাঁঠাল বীচি ভাজা দিয়ে বিন্নি চালের ভাত খেতেও জীবের জল টলমল এখনো করে।
০২:০৬:২০১৭
বেলা:১২:২০মি
রাজেন্দ্রনগর।
0 Comments