আত্মক্ষর
পর্ব:১২
গোবিন্দ ধর

বাজার করতে বাবার সাথে চলতে চলতে অনেক গল্প বাবা বলতেন।পথ চলতে রাস্তায় কাঁটাগুলো নিজের হাত দিয়ে রাস্তার পাশে রাখতেন।পাড়ার ছেলেরা দুষ্টমি করলে বুঝাতেন।প্রয়োজনে বকাও দিতেন।এখন কারো বাচ্চাকে বকাঝকা দিলে থানাপুলিশ হবে  নির্ঘাত।আমাদের গ্রামের বাড়ির তবুও একে অন্যে চেনা জানা।সবাই সবার ছেলেমেয়েদের চেনেন।এখন ডিজিটাল শহর -গ্রাম।কেউ কারো চেনা নাই শুনা নাই।সবাই সবার অচেনা।কে আর কাকে সাবধান করবে।সকলেই সকলের প্রতি বিশ্বাসে চিড় ধরা একজাতি।কেউ কারো এগিয়ে যাওয়ায় তবু হিংসে করে।পিচিয়ে গেলে পাত্তা দেয় না।পতনেও কেউ মাথা ঘামান না।উথ্বানে পিচে কাঁকড়ার মতো টেনে নামিয়ে দিতে সর্ব শক্তি
প্রয়োগ করেন।এটা কি রকম ভয়ানক সংকটকাল অতিক্রম করে যাচ্ছি আমরা।
পথে অনেক সমস্যা রেখেবআমরা পথ পেরুই।দেখেও না দেখার ভাণ করি আমরা।পাশের বাড়ির সময় ডিঙ্গিয়ে আমরা তো বিশ্বমানুষ হচ্ছি।কিন্তু নিজের ঘরের দিকেও তাকানোর সময় নাই।
বাবার হাত ধরে বাচ্চা আর বাজারে যাওয়ার সময় নাই।ক্রয় বিক্রয়ও শেখাকে কেউ কোন শিক্ষা মনে করেন না।বাচ্চার পিঠে এক ব্যাগ বই।আর ইংলিশ মাধ্যম লেখাপড়া।কি পড়া।বাবাও জানেন না মাও না।এমন সময় আমরা কি রকম বেঁচে আছি তা আমরাও জানি না।জীবনের এই সংকটকাল অতিক্রম এক ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১৪:০৬:২০১৭
রাত:৯টা১১০মি।
কুমারঘাট।