সম্পাদনা, বির্নিমাণ এবং বিজিৎকুমার ||গোবিন্দ ধর


গোবিন্দ ধর

নিজেকে অনেক খুচরো করেছি। ভেঙ্গেছি। আবার সম্পাদনা করেছি। নিজেই নিজের সম্পাদনা করেছি।সম্পদনা খুব কঠিন কম্ম। তবু সেচ্ছা নিবার্সনের মতোই এ কাজ হাতে তুলে নিয়েছি নিজেই। সাপব‌্যাং কী হচ্ছে জানি না। প্রতি নিয়তো নিজেই নিজেকে সম্পদনা করি। আত্মসুখ অনুভব করি। এ যেন আত্মরতি। আত্মসুখ। আমাকে আমার থেকে এগিয়ে নিতে চাই। হয়তো সফল হয়েছি। হয়তো হইনি। যখনই মনে হয়েছে সন্পাদনা প্রয়োজন, সাথে সাথে নিষ্টুরের মতো হাতে নিয়েছি আগাছা ছাটাই দা। আমার আমিকে কতভাবে বধ করেছি ভাবি। তারপরও কী আমি, আমি হয়ে উঠলাম আমি জানি না। পাঠক ব‌্যবচ্ছেদ করুণ। যেখানে প্রয়োজন, বাকিটা আমার আমি। আপনাদের চোখ যেন বাকিটা আমায় ঋদ্ধ করে। আমার আমিকে সম্পাদনার কাজে আপনাদের সহযোগিতা চাই।আমাকে আমিই করি বির্নিমাণ।সময় কেটে কেটে এগিয়ে যাওয়াই জীবন।

কথাগুলো উত্তর পূর্বাঞ্চলের একটি উল্লেখযোগ্য লিটল ম্যাগাজিন সাহিত্যের জন্য খুব প্রাসঙ্গিক। বিজিৎকুমার ভট্টাচার্য সত্যি লিটল ম্যাগাজিনের প্রকৃতপক্ষে একজন যোদ্ধা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন।
সাহিত্য নিয়মিত প্রকাশ হতো নিয়ম মতো। যদিও কারো কারো মতে নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশ হলে তাকে লিটল ম্যাগাজিন বলতে অমত প্রকাশ করেছেন।
সাহিত্য পত্রিকায় প্রথম সংখ্যা থেকে সর্বশেষ ১৫৮ তম সংখ্যা অব্দি সংখ্যাগুলোর কোথাও বিজ্ঞাপন থাকতো না।এই বিজ্ঞাপন নেবো না নেবো না বিষয়টির প্রসঙ্গে নানা সময়ে মতানৈক্য হতো।পরবর্তী সময় আবার নিজেই ডেকে নিতেন।কথা বলতেন।বলতেন মতানৈক্য থাক কিন্তু প্রতিটি লিটল ম্যাগাজিনই তো সাহিত্যের জন্য কাজ করছে।
সাহিত্যের বিভিন্ন সংখ্যায় আমার লেখা কবিতা প্রকাশিত হতো।নিয়মিত না হলেও সাহিত্য পত্রিকায় লিখেছি। সাহিত্যে লেখা  প্রকাশ হলে মনে হতো লেখাটি হয়তো উৎরেছে।
একবার আমি সাহিত্য উৎসবে উপস্থিত হয়েছিলাম হাইলাকান্দি।তখন দেখলাম পূর্ব ভারতের বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক রবীন্দ্র গবেষক উষারঞ্জন ভট্টাচার্য ও অন্য আরেকজনকে সাহিত্য সম্মাননা তুলে দিলেন।তখন জিজ্ঞেস করেছিলাম এই খরচা কিরকম মেন্টেন করেছেন। তিনি অকপটে বলেছিলেন যাদের নামাঙ্কিত সাহিত্য সম্মাননা তাদের পরিবার এই খরচা বহন করেছেন।
সেই থেকে একটি খটকা লেগে আছে আমার মনে বিজিৎকুমার ভট্টাচার্য সাহিত্য লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনা করার সময় বিজ্ঞাপন স্পনসর নিতে না চাইলেও সম্মাননা স্মারক প্রদান করার সময় কেন স্পনসর গ্রহণ করেন।হয়তো লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক বিজিৎকুমার ভট্টাচার্যের সাথে সাহিত্য প্রকাশনীর বিজিৎকুমার ভট্টাচার্যের এখানেই দ্বন্দ্ব।
উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলনে সম্পাদকীয় পরিচয় পর্বে কথাপ্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন সাহিত্য ১০০ টি সংখ্যা প্রকাশ হলে হয়তো থেমে যাবে তার আগে নয়।তিনি তাঁর কথা অতিক্রম করতে পেরেছিলেন তাঁকে কুর্ণিশ।
বহুবছর ধরে তিনি দুটো কিডনি ট্রান্সপার করেও স্রোতের বিরুদ্ধে প্রকৃতির বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই করে সাহিত্যকে টেনে নিয়ে গেছেন উচ্চ মাত্রায়।যা লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদকদের নিকট শ্লাঘার বিষয় ও শিক্ষার বিষয়ও।


১১:১০:২০২৩