রব্বানী, আমার নিজস্ব তরজা:কবি নৃপেন্দ্রলাল দাশের শ্রীহট্টীয় সৃষ্টিলোক

আলোচনা;গোবিন্দ ধর

কবি নৃপেন্দ্রলাল দাশের
লেখায়-উপমায় প্রকৃতি লগ্নতা লক্ষনীয়।
শ্রীমঙ্গলের অসাধারন নিসর্গ নিয়ে তাঁর
বিন্যস্ত বর্ণমালা...

"চা-পাতার আঁচলে ছড়ানো একটি আবাসস্হল, 
অনেক প্রাণের মমতা জড়ানো আমার শ্রীমঙ্গল।"

কবিতা আমার নিকট মেডিপিস।সমস্ত আনন্দে,বিষাদে,সৌন্দর্যে, শৌয্যে এবং প্রাণ খোলে হৃদয় নিংড়ানো যন্ত্রণার দশদিগন্ত উন্মোচনের খোলা মাঠ।
আমাদের আলোচ্য কবি নৃপেন্দ্রলাল দাশের " রাব্বানী,আমার নিজস্ব তরজা"সংকলনেও আমরা পেয়ে যাই এই সকল সংবেদ।
তাঁর উচ্চারণে শ্রীহট্টীয় মাটির ঘ্রাণ উঠে আসে।তিনি যেন কবিতায় দক্ষ সৈনিক।আর কলম হাতে একজন শিল্পী। কবিতায় তিনি সাবলীল আবার ঋজু।সহজসুন্দর তাঁর ভাষাশৈলী।
শ্রীহট্টীয় সরলতার পাশাপাশি তিনি জানেন এই সময়ের ভাষাবুনন।সময়ই উঠে আসে তাঁর উচ্চারণে।

আলোচ্য কাব্য সংকলনেও কবিকে পাই জীবনের পরিমিতিবোধে।
প্রতিটি পংক্তি যেন খাপখোলা তলোয়ার।

শ্রীহট্টীয় হাকালুকির হাওয়র তাঁর কাছে মৃত্যুর পরেও এক বিশেষ স্মরণ স্মৃতিময়।

"যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আমি আছি স্থির
চলে যাবো-যদি যাই
কেবল কাঁদবো হাকালুকির জল হাওয়া।"

ইতিহাস -ঐতিহ্য আর দেশজননীর প্রতি শ্রদ্ধা কবি নৃপেন্দ্রলাল দাশের কবিতার পংক্তি জুড়েই আবহ রচনা করে।
"আমি মুক্তিযোদ্ধা নই, 
কামরুলের শাপলার কারিগর নই, 
জাতীয় পতাকার লালবৃত্তে
রক্ত আমি ঢালিনি কখনো। 
হয়তো যাইনি যুদ্ধে আমি,
এস-এল-আর দেখিনি কখনো, 
কেবল আমার রক্তে ফুটে থাকে নির্বিরোধী
একগুচ্ছ রক্তিম রুবাই "

২৪:১০:২০১৮
রাত:১১:১০মি
কুমারঘাট।