সাংবাদিক সাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক অপূর্ব শর্মার করোনাকালের সৃজনকর্ম

গোবিন্দ ধর 
কথাবিশ্ব 
--------------
ভাষা আন্দোলনে সিলেটের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সূচিত আন্দোলনের নবপ্রজন্মের সাহসী দেশপ্রেমিক অনুসন্ধানী সাংবাদিক হচ্ছেন অপূর্ব শর্মা যিনি প্রায় দুইদশক ধরে নির্ভীক সাংবাদিকতার সাথে নিজেকে জড়িত করে অনেক ব্যতিক্রমধর্মী কাজ করেছেন, লিখেছেন বেশ কিছু গ্রন্থ যার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থগুলো নিজেদের এমনিতেই আলাদা করে নেয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক লেখালেখিতে।

করোনাকালের সৃজনকর্ম
-----------------------------------

মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, লেখক, সাংবাদিক, কবি অপূর্ব শর্মার
করোনাকালের সৃজনকর্ম
করোনাকালে মানুষকে জাগাতে একের পর এক কবিতা ও গান লিখে চলেছেন অপূর্ব শর্মা। প্রথম লিখেন ‘জাগো মানুষ’ গীতি কবিতা। এটি সুর করেছেন ভারতের প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী শুভপ্রসাদ নন্দী মজুমদার। গেয়েছেন বিলেতের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী গৌরী চৌধুরী। গানটি বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। গানটি এই দুঃসময়ে মানুষের মনে আশা সঞ্চারে ভূমিকা রাখছে। এছাড়াও তাঁর লেখা ‘করোনার ফাঁদে পৃথিবী কাঁদে’ গানটিও বিপুল প্রশংসিত হয়েছে। গানটি সুর করে গেয়েছেন অনিমেষ বিজয় চৌধুরী। গৌরী চৌধুরী অপূর্ব শর্মার আরও দুটি গান সুর করেছেন। ‘বাংলা আমার মা’ এবং ‘দূর প্রবাসে’ গান দুটি খুব শিগগীর ইউটিউব চ্যানেলে রিলিজ হবে।
জাগো মানুষ গীতি কবিতাটি প্রথমে আবৃত্তি করেন বিলেতে জনপ্রিয় বাচিক শিল্পী মনিরা পারভীন। ১১ এপ্রিল তারিখ কবিতাটি আবৃত্তি করে তিনি ফেসবুকে পোস্ট করেন। যা ব্যাপক প্রশংসিত হয়। সুরারোপের পর গৌরী চৌধুরীর কন্ঠে গানটি ভিন্নমাত্রা পায়। গানটি হতাশাগ্রস্থ মানুষের মনে আশা জাগাতে ভূমিকা রাখছে। গানটির রিলিজ উপলক্ষে এক অন্তরজাল আড্ডার আয়োজন করা হয়। আড্ডায় উপস্থিত আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি তপধীর ভট্টাচার্য্য বলেন, বলেন, ‘এ ধরনের গান দুঃসহ সময়ে মানুষের মন থেকে হতাশা দূর করতে ভূমিকা রাখবে।’  ‘জাগো মানুষ’ ছয়টি ভাষায় অনুদিত হয়েছে। আরও চারটি ভাষায় ভাষান্তরিত হবে। 
করোনাকালীন সময়ে অপূর্ব শর্মা বিশটিরও বেশী আশা জাগানিয়া কবিতা লিখেছেন। তারমধ্যে ‘দেখা হবে মিলন মোহনায়’ কবিতাটি উল্লেখযোগ্য। এই কবিতাটির ভিডিও চিত্র হয়েছে। বাংলাদেশে এ ধারার নির্মাণ এটিই সম্ভবত প্রথম। এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান চ্যানেল 'চ্যানেল আইয়ে' প্রচারিত হয়েছে। দীর্ঘ চৌষট্টি লাইনের এই কবিতাটিতে অপূর্ব শর্মা বাঙালির চেতনা এবং মিলনের ক্ষেত্রগুলোকে এক মোহনায় নিয়ে এসেছেন। এই ভিডিও চিত্রটি অপূর্ব শর্মা এবং বাচিক শিল্পী মুনিরা পারভীনের পরিকল্পনায় নির্মিত হয়েছে। সময়োপযোগী আশাজাগানিয়া এই কবিতাটি আবৃত্তির সূচনা করেছেন একুশের গানের রচয়িতা প্রখ্যাত সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী, সমাপ্তি টেনেছেন প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। যে সব বরেণ্য বাচিক শিল্পী সম্মিলিত এই আবৃত্তি উচ্চারণে অংশ নিয়েছেন তারা হচ্ছেন, পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডালিয়া আহমেদ, শিমুল মুস্তাফা, মো. আহকাম উল্লাহ্, মাহিদুল ইসলাম, রবিশঙ্কর মৈত্রী, বেলায়েত হোসেন, এ কে এম শামসুদ্দোহা, মুনিরা পারভীন, কেয়া রোজারিও, শারমিন লাকী, মেরী রাশেদীন, নাজমুল আহসান, রূপশ্রী চক্রবর্তী এবং গোপন সাহা। ভিডিও সম্পাদনা করেছেন, শোভন সরকার। এর আগে কোনও একটি কবিতায় এতজন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী অংশ নেন নি। অনেকেটা অসাধ্যকেই সাধন করেছেন অপূর্ব শর্মা। কবিতাটি ইংরেজি ভাষায় অনুদিত হয়েছে অনুবাদ করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, রবীন্দ্র গবেষক মিহিরকান্তি চৌধুরী। গানটিকে গাফফার চৌধুরী লিলিবেথের বিখ্যাত আশাজাগানিয়া কবিতার সাথে তুলনা করেছেন।  
এ ধরনের কবিতা লিখে নির্মান করার পাশাপাশি, অন্য আরেকটি কবিতা নির্মান করেছেন অপূর্ব শর্মা। একুশের গানের রচয়িতা প্রখ্যাত সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরীর ‘মহাজীবনের গান’ কবিতাটির ভিডিওচিত্র তারই পরিকল্পনায় বাস্তবায়িত হয়েছে। এটিও চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত হয়েছে। আবদুল গাফফার চৌধুরীর কবিতাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং চ্যানেল আইয়ে প্রচারের সুবাদে বিপুল প্রশংসিত প্রসংশিত হচ্ছে। এই কবিতাটি আবৃত্তি করেছেন  সৈয়দ হাসান ইমাম, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, রূপা চক্রবর্তী, ডালিয়া আহমেদ, ঊর্মী মাজহার, রবিশঙ্কর মৈত্রী, মুনিরা পারভীন, সতত সুপ্রিয় রায় এবং মালা সরকার। এই কবিতার সাথে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আছে দুঃখ আছে মৃত্যু গানটি সংযোজন করা হয়েছে। গেয়েছেন বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। দুটি কবিতার নির্মানে দেশ ও বিদেশের গুনী বাচিক শিল্পীদের এক প্লাটফর্মে নিয়ে এসে অনেকটা অসাধ্যকে সাধন করেছেন অপূর্ব। আবৃত্তিতে অংশ নিয়েছেন, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং বাংলাদেশের বাচিকশিল্পীরা। 
তার লেখা প্রায় সবগুলো কবিতা এবং গানই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ‘শুনতে পাও শিশুর কান্না’ কবিতাটি। বাচিক শিল্পী মুনিরা পারভীনের অসাধারণ আবৃত্তি শৈলী এবং আবেগঘন কথামালায় কবিতাটি ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। এ পর্যন্ত কবিতাটি শুনেছেন দুই লক্ষাধিক মানুষ। দুইহাজারের বেশি মানুষ শেয়ার করেছেন কবিতাটি। বিশ্বময় শিশুদের অত্যাচার নির্যাতন এবং করোনাকালে শিশুদের আহাজারি বিবৃত করেছেন অপূর্ব শর্মা। একইভাবে তার লেখা ‘প্রাণের সিলেট’ কবিতাটিও ভাইরাল হয়েছে। ৭০ হাজার মানুষ শুনেছেন এই কবিতাটি। হাজারেরও বেশি হয়েছে শেয়ার। মুনিরা পারভীন, করোনায় প্রবাসীদের দুঃখ বেদনা নিয়ে লেখা অপূর্ব শর্মার ‘করোনায় কান্দি’ কবিতাটিও আবৃত্তি করেছেন। এই কবিতায় প্রবাসীদের, সুখ, দুঃখ এবং দেশাত্ববোধের বিষয়টি ফুটে ওঠেছে। এটি সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় লেখা। 

অপূর্ব শর্মার করোনাকালে লেখা অন্যান্য কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ‘আলো আসবেই’, ‘প্রিয় স্বদেশ’, ‘পৃথিবী কাদে’, ‘কেন এই অবিচার’, ‘মানুষ বড় অসহায়’, ‘কাটবে আধাঁর’, ‘সেবাব্রতীর জন্য শোকাঞ্জলি’, ‘শুনতে পাও শিশুর কান্না’, ‘করোনায় কান্দি’ (সিলেটি ডায়ালক্টে লেখা), ‘গান পোড়েনা’, ‘অবিনশ্বর’। প্রতিটি কবিতায়ই অপূর্ব শর্মা করোনা জয়ে মানুষের মনে সাহস জাগানোর চেষ্টা করেছেন। কবিতাগুলোতে আছে দুঃসময় পারি দেয়ার মন্ত্র। করোনাকালে তার মতো করে এত আশাজাগানিয়া কবিতা আর কেউ লিখেনি। 

মুুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কন্ঠ সৈনিক, প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী হিমাংশু গোস্বামী তাঁর সিলেট ভূমি গানটি সুর করে গেয়েছেন। গত ১০ জুন গানটি ফেসবুকে পোস্ট করেন অপূর্ব। সিলেটের কথকতাই ওঠে এসেছে গানে। প্রাকৃতিকভাবে সিলেটের রূপ লাবন্য বর্ননা করা হয়েছে গানে। 

৬ জুন ২০২০ কবি ও বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী রবীশঙ্কর মৈত্রী অপূর্ব শর্মার লেখা গান পোড়েনা কবিতাটি আবৃত্তি করে ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেন। করোনার এই দুঃসহ সময়ে বাউল রণেশ ঠাকুরের গানের ঘর পোড়ার প্রতিবাদে লেখা এ কবিতাটি ব্যতিক্রমীভাবে কবিতাপ্রেমিদের উদ্দেশ্যে উপস্থাপন করেছেন। 
কানাডা প্রবাসী লেখক ও আবৃত্তি শিল্পী হিমাদ্রী রয় তার লেখা ‘অবিনশ্বর’ কবিতাটি আবৃত্তি করেছেন। গত ৪ জুন কবিতাটির একটি ভিডিও নির্মান করে তিনি তার ফেসবুকে আপ করেছেন। 
কবি আসাদ চৌধুরীও আবৃত্তি করেছেন অপূর্ব শর্মার কবিতা। আনিসুজ্জামানকে নিয়ে লেখা ‘পৃথিবীর সন্তান’ কবিতাটি গত ২ জুন তিনি আবৃত্তি করেন। আবৃত্তির ভিডিওটি এদিনই তার ফেসবুকে পোস্ট করেন অপূর্ব।
১৮ এপ্রিল  ২০২০ করোনাযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী ডাক্তার মঈন উদ্দীনকে নিয়ে লেখা 'সেবাব্রতীর জন্য শোকাঞ্জলি' কবিতাটি আবৃত্তি করেছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী প্রতিশ্রুতিশীল আবৃত্তি শিল্পী শ্রাবনী দাশ পুরকায়স্থ। ঐ দিনই তিনি তার ফেসবুক পেজে কবিতাটি আবৃত্তি করে পোস্ট করেন।
যুক্তরাজ্যের অন্যতম আবৃত্তি সংগঠন ছান্দসিক তার ‘আলো আসবে’ এবং ‘জাগো মানুষ’ কবিতার সমন্বয়ে ‘আলো আসবেই’ শিরোনামে কবিতার কোলাজ নির্মান করেছে। এতে সংগঠনটির দশজন আবৃত্তি শিল্পী অংশ নিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র থেকেও তার একটি কবিতার কোলাজ নির্মিত হচ্ছে। প্রিয় স্বদেশ নামে কবিতায় আমেরিকার বসবাসকারী প্রথম সারির ১১জন আবৃত্তি শিল্পী অংশ নিচ্ছেন। এই নির্মান উদ্যোগটি সমন্বয় করছেন, গোপান সাহা। 
কানাডা থেকেও তার একটি কবিতার কোলাজ নির্মানের কাজ চলছে। এটি সমন্বয় করছেন লেখক ও আবৃত্তি শিল্পী হিমাদ্রী রয়। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়া এবং ভারত থেকেও তার কবিতা নিয়ে কোলাজ নির্মানে পরিকল্পনা চলছে।
বাংলাদেশে করোনাকাল শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশ বিদেশের অর্ধশতাধিক অনুষ্ঠানে তার লেখা আশাজাগানিয়া গান এবং কবিতা আবৃত্তি করা হয়েছে। সমকালীন কোনো কবির, লেখা গান কিংবা কবিতা এত এত অনুষ্ঠানে উপস্থাপনের নজির নেই।   
মানুষের মধ্যে জনসচেতনাপ তৈরীর জন্য এবং মনোবল বৃদ্ধিও লক্ষ্যে নিয়মিত প্রবন্ধ, নিবন্ধ এবং কলাম লিখে যাচ্ছেন অপূর্ব শর্মা। তার ‘মন্ত্রী এমপিরা কেন পাশে নেই জনতার’ লেখাটি ফেসবুকে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ শেয়ার করেছেন।  

বিবরণ

১১ জুলাই স্বরলিপির ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক ফেসবুক লাইভে অংশগ্রহণ। লাইভে কবি আসাদ চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এবং বাচিক শিল্পী মুনিরা পারভীন অংশগ্রহন করেন। 
৬ জুলাই ‘আলো আসবেই’ কবিতার কোলাজ রিলিজ করে লন্ডনের অন্যতম আবৃত্তি সংগঠন ছান্দসিক। এ উপলক্ষে একটি ফেসবুক লাইভের আয়োজন করা হয়। এটি সমন্বয় করেন, ছান্দসিকের প্রতিষ্ঠাতা মুনিরা পারভীন। এই আয়োজনে অপূর্ব শর্মা, কোলাজে অংশগ্রহণকারী আবৃত্তি শিল্পী ছাড়াও বিলেতের প্রধান কবি শামীম আজাদ, প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী শুভপ্রসাদনন্দী মজুমদার এবং জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী গৌরী চৌধুরী অংশগ্রহণ করেন।      
৬ জুলাই লন্ডনের ‘বাংলাভাষী’ পত্রিকার হৃদ কথায় আড্ডা" অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন অপূর্ব শর্মা। 
২৭ জুন আবৃত্তি ও নৃত্যগুরু হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য্য স্মরণে লন্ডনের আবৃত্তি সংগঠন ছান্দসিকের কর্ণধারের উদ্যোগে লাইভে অংশগ্রহণ
১৯ জুন প্যারিসের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান সহজ মানুষের ‘আকাশখাতায় -না পোড়া গান’ অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে অংশগ্রহন। বাউলদের উপর আক্রমন এবং বাউল গানের বানী পরিবর্তন বিষয়ে আলোকপাত করেন।
১৮ জুন ষরংঃবহ ভড়ৎ ষবংংড়হ  আর জে তোষারের সাথে লাইভে অতিথি হিসেবে যোগদান। মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা নিয়ে আলোচনা করেন। 
১০ জুন, প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী হিমাংশু গোস্বামী ‘ও আমার সিলেট ভূমি’ গানটি সুর করে ভিডিও চিত্র ফেসবুকে পোস্ট করেন। 
৯ জুন, এটিএন বাংলা ইউকের লাইভে অতিথি হিসেবে অংশগ্রহন করেন। কথা বলেন, আববদুল গাফফার চৌধুরীর লেখা ‘মহাজীবনের গান’ কবিতার ভিডিও নির্মাণ নিয়ে। 
৮ জুন, চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত হয় দেখা হবে মিলন মোহনায় কবিতাটিতে মোট ১৭ জন বরেণ্য আবৃত্তি শিল্পী অংশ নেন। 
৭ জুন কলকাতার আবৃত্তি সংগঠন চিরন্তনীর ‘বিশ্বজুড়ে রবিপ্রণাম’ অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ। হাসন রাজার গান বিশ্বসভায় ।
৬ জুন হিমাংশু গোস্বামীর গাওয়া ‘থামছেনা ঝড়’ করোনাকালের গান রিলিজ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ। 
৪ জুন, হিমাদ্রী রয়, আবৃত্তি করেন তার লেখা অবিনশ্বর কবিতাটি। কানাডা প্রবাসী শিল্পী ফারহানা শান্তা তার ফেসবুক পোস্টে আবৃত্তিটি প্রচার করেন।
৩ জুন, জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী লাভলী দেব, ‘পোড়া মনে তোষের অনল’ গানটি সুর করেন। সেটি ঐদিনই ফেসবুকে পোস্ট করেন। 
২ জুন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি প্রয়াত ড. আনিসুজ্জামানকে নিবেদিত ‘পৃথিবীর সন্তান’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন দেশের অন্যতম প্রধান কবি আসাদ চৌধুরী।
২৯ মে চিত্র শিল্পী শাহ আলম স্মরণে ‘রংতুলির কবি’ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। প্রস্তাবনা দেন, শাহ আলমের আর্টগুলো নিয়ে এ্যালবাম প্রকাশের। 
২৮ মে, করোনার দুঃসময়ে বাউল রণেশ ঠাকুরের গানের ঘর পোড়ানোর প্রতিবাদে লেখা ‘বাউল মনে ব্যাথা দিওনা’ গানটি প্রচলিত সুরে গেয়েছেন বাউল আবদুর রহমান। এটি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। 
২৪ মে, কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তীতে পাঞ্চজন্য নামে একটি আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে অংশগ্রহণ করেন। নজরুলকে নিয়ে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন তিনি।  
২৪ মে, ফ্রান্সের গৃহবর্তী নজরুল অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে যোগদান করেন। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক ছিলেন রবিশঙ্কর মৈত্র।
২৪ মে, ইউনেক্স ঢাকা অফিসের বি ক্রিয়েটিভ প্রোগ্রামে তার লেখা ‘আলো আসবেই’ কবিতা এবং ‘জাগো মানুষ’ গানের যুগলবন্দিতে নৃত্য করেন নৃত্যশৈলীর কর্ণধার নীলাঞ্জনা দাশ জুই। 
২২ মে, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী প্রতিশ্রুতিশীল আবৃত্তি শিল্পী শ্রাবনী দাশ পুরকায়স্থ নজরুলকে নিয়ে তার লেখা ‘অবিনস্কর’ কবিতার অডিও প্রকাশ করেন। এবং সেটি তিনি তার ফেসবুকে পোস্ট করেন। 
২১ মে, একুশে ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বরেণ্যজন সৈয়দ হাসান ইমাম আবৃত্তি করেন ১৯৫২ এবং ১৯৬১ সালে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে লেখা তার কবিতা ‘একুশে-উনিশে।’   
১০ মে, দীর্ঘ চৌষিট্ট লাইনের কবিতা ‘দেখা হবে মিলন মোহনায়’ কবিতাটির কোলাজ প্রকাশিত হয়। যৌথ এ কবিতাটি আবৃত্তি করেন ১৫ জন বাচিক শিল্পী। একুশের গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী কবিতাটির শুরু এবং প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন সেটি শেষ করেন। এই কবিতাটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন রবীন্দ্র গবেষক মিহির কান্তি চৌধুরী। 
৮ মে, কলকাতার জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল তারা টিভির কবি প্রণাম অনুষ্ঠানে তার ‘অবিশ্বর’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন বাচিক শিল্পী মুনিরা পারভীন। 
৪ মে, 'জাগো মানুষ' গানটি রিলিজ হয় ইউটিউবে। গেয়েছেন বিলেতের খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী গৌরী চৌধুরী। অনুপ্রেরণাজাগানিয়া এই গানটির সুর করেছেন প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী শুভপ্রসাদ নন্দী মজুমদার। সংগীতায়ােজন করেছেন পরাগ হাসান। এ উপলক্ষে ঐ দিন লন্ডনের সংগীত প্রতিষ্ঠান সৌধের আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন। 
১ মে, লন্ডনের আবৃত্তি সংগঠন কথনের ফয়জুল ইসলাম ফয়েজ নূর পৃথিবী কাঁদে কবিতাটি আবৃত্তি করে তার ইউটিউব চ্যানেলে পোস্ট করেন।
২৮ এপ্রিল, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী চিকিৎসক ড.মঈন উদ্দিনকে নিয়ে লেখা ‘সেবাব্রতীর জন্য শোকাঞ্জলী’ কবিতাটি ঢাকার আবৃত্তি সংগঠন সংবৃত্তার সভাপতি আবৃত্তি শিল্পী এ কে এম শামসুদ্দোহা আবৃত্তি করে তার ইউটিউব চ্যানেলে আপ করেন। এর আগে সংবৃত্তার ফেসবুক পেইজে থেকে অনুষ্ঠিত লাইভেও কবিতাটি পড়েন তিনি। 
২৬ এপ্রিল, করোনায় প্রবাসীদের বেদনাগাঁথা নিয়ে সিলেটি ডায়লেক্টে লেখা ‘করোনায় কান্দি’ কবিতাটি কবিতাটির ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করেন বাচিক শিল্পী মুনিরা পারভীন। তার আবেগঘন কন্ঠে প্রবাসীদের হাহাকার অনেককেই করেছে অশ্রুসিক্ত।
২৪ এপ্রিল, কলকাতার আবৃত্তি সংগঠন চিরন্তনের কর্ণধার বাচিক শিল্পী বর্নালী সরকার ‘কেন এই অবিচার’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন। এবং আবৃত্তির ভিডিওটি যথারীতি ঐদিন ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি।
২২ এপ্রিল খ্যাতিমান আবৃত্তি শিল্পী নাজমুল আহসান তাঁর লেখা ‘সেবাব্রতীর জন্য শোকাঞ্জলি’ কবিতাটি আবৃত্তি করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। 
২০ এপ্রিল, কলকাতার জনপ্রিয় বাচিক শিল্পী, উপস্থাপক মধুমিতা বসু আবৃত্তি করেন তার লেখা ‘পৃথিবী কাঁদে’ কবিতাটি। 
১৫ এপ্রিল, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী চিকিৎসক ড.মঈন উদ্দিনকে নিয়ে লেখা ‘সেবাব্রতীর জন্য শোকাঞ্জলী’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন খ্যাতিমান আবৃত্তি শিল্পী নাজমুল আহসান তাঁর ইউটিউবে আপ করেন।  
১৩ এপ্রিল, খ্যাতিমান আবৃত্তি শিল্পী নাজমুল আহসান আবৃত্তি করেন, ‘মানুষ বড় অসহায়’ কবিতাটি। এটি ঐদিন তার ইউটিউবে আপ করেন তিনি।  
১২ এপ্রিল, আবৃত্তি সংগঠন শ্রুতির অন্যতম কর্ণধার সুকান্ত গুপ্ত আবৃত্তি করেন তার লেখা ‘কাটবে আঁধার’ কবিতাটি। 
১১ এপ্রিল তার লেখা কবিতা ‘জাগো মানুষ’ আবৃত্তি করে পোস্ট করেন বাচিক শিল্পী মুনিরা পারভীন। এই কবিতাটি পরবর্তীতে গান হয়েছে। 
১০ এপ্রিল, তার লেখা ‘পৃথিবী কাঁদে’ গানটি সুর করে গেয়ে সেটি পোস্ট করেন রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী ও প্রশিক্ষক অনিমেষ বিজয় চৌধুরী। 
৯ এপ্রিল, আবৃত্তি সংগঠন শ্রুতির অন্যতম কর্ণধার সুকান্ত গুপ্ত আবৃত্তি করেন ‘পৃথিবী কাঁদে’ কবিতাটি। এটি তিনি তার ইউটিউব চ্যানেলে আপ করেছেন। 
৮ এপ্রিল, কলকাতার আবৃত্তি সংগঠন বিহানের কর্ণধার সুজাতা চৌধুরী তার হাসন রাজাকে নিয়ে লেখা পাঠ করেন। 

অপূর্ব শর্মার সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত
----------------------------------------
অপূর্ব শর্মার জন্ম ১৯৭৯ সালের পহেলা মার্চ। পৈত্রিক নিবাস মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানার হরিনাকান্দি গ্রামে। কবিতার মাধ্যমেই লেখালেখিতে হাতেখড়ি। প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক মনুবার্তা পত্রিকায়, ১৯৯৫ সালে। ১৯৯৮ সালে শ্রীমঙ্গল সরকারী কলেজ বার্ষিকী নিসর্গে প্রকাশিত হয় তার প্রথম গল্প অপুর চিঠি। সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিলেও ২০০৬ সাল থেকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে শুরু করেন গবেষণা। নিভৃত ও আড়ালে পড়ে থাকা ইতিহাসের খ-াংশ তুলে আনার অদম্য প্রত্যয় ও নেশা থেকেই তিনি প্রবহমান রেখেছেন তাঁর অনুসন্ধানের গতিধারা। চারণ গবেষকের মতো মাঠ পর্যায়ে বিচরণ করে বিস্মৃত হতে চলা অনেক বিষয়কে তিনি সযতনে তুলে এনে তা  উপস্থাপন করছেন সাবলীল ভাষায়। 
২০০৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত অমর একুশে বইমেলায় তার প্রথম গবেষণাগ্রন্থ ‘অনন্য মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি’ প্রকাশিত হয়। এ পর্যন্ত তার লেখা ১৪ টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এরমধ্য দুটি গ্রন্থ অনুবাদ হয়েছে ইংরেজি ভাষায়। সম্পাদনায়ও তিনি সিদ্ধহস্ত। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে ১৬টি গ্রন্থ।
কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম দুটি পুরস্কার লাভ করেছেন তিনি। ‘সিলেটের যুদ্ধাপরাধ ও প্রাসঙ্গিক দলিলপত্র’ গ্রন্থের জন্য ২০১০ সালের এইচএসবিসি কালি ও কলম পুরস্কার এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাংবাদিকতায় শ্রেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে ২০১৩ সালে লাভ করেন বজলুর রহমান স্মৃতিপদক। চলতি বছরে গবেষণা কর্মের জন্য পেয়েছেন লীলানাগ স্মৃতিপদক। তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা নিয়ে ২০১৬ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৬ নভেম্বর তার লেখা বীরাঙ্গনা কথা গ্রন্থ অবলম্বনে লেখা নাটক মঞ্চত হয়েছে লন্ডনে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন সংবাদপত্র দৈনিক যুগভেরী পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সম্পাদনা করছেন সাহিত্যপত্রিকা অভিমত।

গাফফার চৌধুরী লেখা মূল্যায়ণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ
-------------------------------------
‘‘অপূর্বকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। তিনি দীর্ঘকাল ধরে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ‘দৈনিক যুগভেরী’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক। তিনি অনুসন্ধানী রিপোর্টারও। তবে আসল পরিচয় অসাধারণ প্রতিভাশালী সাহিত্যিক। এদিক থেকে তার অপূর্ব নামটি সার্থক হয়েছে। অনুসন্ধানী রিপোর্ট, কবিতা, গল্প কোন কিছু লেখাতেই তার জুড়ি নেই। বেশ ক’টি জনপ্রিয় গানও আছে তার। তার লেখা অসংখ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে বীরাঙ্গনাদের কথা, মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের নারী, ওরা ফিরে আসেনি, চা বাগানে গণহত্যা ইত্যাদি। বাংলাদেশে করোনা যুগের সাহিত্যের অগ্রনায়ক হিসেবেও তার নাম বেঁচে থাকবে। তিনি সাহিত্যিক, সাংবাদিক হিসেবে বহু পুরস্কার পেয়েছেন। আমার আশা তিনি অচিরেই সাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাবেন।
প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি আমি অপূর্বর ‘দেখা হবে মিলন মোহনায়’ কবিতাটির দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ‘মহাজীবনের গান’ কবিতাটি লিখি। উদ্দেশ্য, করোনার আতঙ্ক মানুষের মন থেকে দূর করা। কবিতাটি আবৃত্তি করেছেন নয়জন বাচিক শিল্পী। সৈয়দ হাসান ইমাম, জয়ন্ত চট্টপাধ্যায়, রূপা চক্রবর্তী, ডালিয়া আহমদ, উর্মি মাযহার, রবিশঙ্কর মৈত্রি, মুনীরা পারভীন, সতত সুপ্রিয় রায় এবং মালা সরকার। এই আবৃত্তিতে রবীন্দ্রনাথের ‘আছে দুঃখ আছে মৃত্যু’ গানটি সংযোজন করেছেন আমার অত্যন্ত প্রিয় রবীন্দ্র সঙ্গীত-শিল্পী এবং দেশ-বিদেশে বন্যা নামে পরিচিত রেজওয়ানা চৌধুরী। চ্যানেল আই’র ফরিদুর রেজা সাগর আমার এই কবিতা সম্প্রচার করেছেন। তাদের সকলের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
করোনা একদিন যাবে। সম্পূর্ণভাবে না গেলেও যাবে। কিন্তু মানব সভ্যতায় সে যে পরিবর্তন ঘটাবে তা হবে অচিন্তনীয়। এই পরিবর্তনের ছাপ পড়বে আমাদের শিল্প-সাহিত্যেও। এই পরিবর্তনের পদধ্বনি ইতোমধ্যেই কবিতায় ও গানে শোনা যাচ্ছে। ব্রিটেনের কবি লিলিবেথের কবিতায় তা প্রথম শোনা গেছে। তার প্রতিধ্বনি জেগেছে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের তরুণ কবিদের কাব্যে ও গানে। বাংলাদেশে অপূর্ব শর্মাও করোনা যুগের সাহিত্যের প্রথম অনুভূতি তার কাব্যে জাগিয়েছেন। চল্লিশের দশকের সুকান্তর ‘ঘুম নেই’ কবিতা যেমন ত্রিশের কবিদের আত্মকেন্দ্রিকতা ও ব্যক্তি সর্বস্বতা ভাঙার কাজে লেগেছিল, বর্তমান দশকে তেমনি করোনা নিয়ে অপূর্ব শর্মার কবিতা ও গান এ যুগের তরুণ কবিদের আত্মমোহ ও আত্মকেন্দ্রিকতা ভাঙাতে পারলে খুশি হবো।’’

বিলেতের অন্যতম প্রধান কবি শামীম আজাদের মন্তব্য 
‘‘কবিতার চেয়ে অধিক কিছু। বিশেষ কবিতা এটি। বাঙালির সমস্ত চেতনাকে একটি প্লাটফর্মে নিয়ে এসেছেন কবি। এরকম এর আগে বাঙলা কবিতায় ঘটেনি। কবিতার ফরমেটকে ঠিক রেখে, তা নির্মাণ করা সত্যিই অনন্য। যে কোনো সময়ের জন্যই এটি কঠিন কাজ। করোনা কালতো দূরহ-ই। এত নন্দিত মানুষ, গুণী মানুষকে একত্রিত করা সত্যিই অসাধারণ। কবিতাটিতে বিশ্ববাঙালির সম্মিলন ঘটেছে বললে, ভুল বলা হবে না। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের বাঙালি একই স্থানে মিলিত হয়েছেন এই কবিতায়, সবার প্রাণের কথাই বলেছেন কবি। বলেছেন, আশার কথা, প্রত্যয়ের কথা। 
আমি এই কবিতাটিকে লিলিবেথের কবিতার সাথে তুলনা করবো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লিলিবেথও এমন আশাজাগানিয়া কবিতা লিখেছিলেন। লিলিবেথের সেই বিখ্যাত কবিতার সাথে মিল আছে অপূর্ব শর্মার কবিতার। 
করোনার এই সময়ে মানুষ হতাশ। একের পর এক মৃত্যু সংবাদের বেদনাবিদ্ধ এই সময়ে মনটা ভালো হয়ে যায় কবিতাটি শুনলে। কবিতাটি হতাশা ভুলতে সাহায্য করে। মনে হয়, দুঃখের কিছু নেই। আবার দেখা হবে, শীগগীর দেখা হবে।’’

করোনাকালে তাঁর কবিতা
-----------------------------------

আলো আসবেই 

অপূর্ব শর্মা
আলো আসবে, আসবেই, কেটে যাবে আঁধার
সে আঁধার হোকনা যতই ঘোর অন্ধকার
সূর্য যেমন অস্ত যায়না, দিয়ে যায় আলো 
রবি কিরনে দূর হয় দিনের সব কালো 

মেঘে ঢাকা আকাশ থাকুক যতই ফ্যাকাশে
সূর্যের আলোক প্রভা আড়ালে ঠিকই হাসে 
প্রকৃতিই দেয় মানুষকে বাঁচার প্রেরণা
জাগরণেই খোঁজে মানুষ মুক্তির চেতনা

জাগো মানুষ, জাগো মানুষ, শক্তি করও সঞ্চয়
বেদনার অশ্রু মুছে হও তুমি নির্ভয় 
আধাঁর কেটে যাবে, ফুটবেই আলো আশার  
নির্ভয় হলেই বিজয় হবে ভালোবাসার

চন্দ্র-সূর্য আড়াল করে আসে গ্রহণকাল
থামেনাতো তাতে কভূ সম্ভাবনার সকাল
রাত হোক যতই বিষাদময় ঘুটঘুটে
নিশী শেষে পুব আকাশ আলোয় ভরে ওঠে

আকাশ-বাতাস মাটি হোক যতই বিষাদময়
ভোরের আলো জানান দেবে নতুন সূর্যদয় 
সুদিন আসবেই, আসবেই আলোর ছটা
নির্মল ভোরে কাটবে দুর্দিনের ঘনঘটা 

জন্ম নিলেই মৃত্যু আছে সবাই সেটা জানে
জীবন চলা থামেনাতো মরণের কারণে
সৃষ্টি থেকে বাঁচার লড়াই চলছে ভূবনে
মৃত্যু ভয়ে হারেনা জীবন, বাঁচে জাগরণে

জাগতে হবে, জাগাতে হবে হতে হবে দুর্জয়
জাগরণেই যাবে চলে সকল মৃত্যুভয়
মানুষ বাঁচে প্রাণের মাঝে জীবন জীবনে
নিঃশ্বেস হয়না মানুষ কখনও মরণে

দুর্যোগে পরান যতই করুক আহাজারি
মানুষের চলা থামাতে পারেনা মহামারি
চলছে চলবে সংগ্রাম জীবনে প্রয়াণে
জীবন মানে যুদ্ধ খেলা মরণ ইষ্টিশনে 

কোনো কালেই হারেনি মানুষ মানেনিতো পরাজয়
এই যুদ্ধেও মানুষেরই হবেই হবে জয়।
মানুষকে বাঁচাতে মানুষ আছে ভাবনায়
আগামীর সূর্য ওঠে তারই সম্ভাবনায়

দেখা হবে মিলন মোহনায়!

অপূর্ব শর্মা
আবারো দেখা হবে, ঠিক যেভাবে দেখা হতো
আবারো কথা হবে, ফেলে আসা দিনের মতো
দেখা হবে জাগরণে, দেখা হবে শ্লোগানে
আবারো দেখা হবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে 
দেখা হবে আন্দোলনে, দেখা হবে সংগ্রামে 
দেখা হবে প্রেরণার চিরচেনা সমভূমে

আবারো দেখা হবে, নতুন কোনও প্রত্যয়ে
আবারো দেখা হবে, পথচলায় নির্ভয়ে
দেখা হবে গৌরবের স্মৃতিসৌধ সাভারে
দেখা হবে চির চেতনার শহীদ মিনারে

আবারো দেখা হবে, নুতন কোনও অর্জনে 
আবারো কথা হবে, সস্মিলিত সব গর্জনে 
দেখা হবে পরিবর্তনে, একুশের র্যালীতে 
স্বাধীনতা, বিজয়ের, আনন্দেরই ফেরিতে 
দেখা হবে আবারো, নির্মল ভোরের আশায়
প্রাণের সাথে মিলবে প্রাণ নব প্রত্যাশায় 

আবারো দেখা হবে, হালখাতার উৎসবে 
মিলবে মন মনের সাথে গভীর অনুভবে
দেখা হবে বৈশাখে, রমনার ঐ বটমূলে
দেখা হবে অগ্নিস্নানে সূচির পূণ্য অনলে 
দেখা হবে আমের বনে, দেখা হবে ফাল্গুনে
দেখা হবে অগ্রহায়ণে, দেখা হবে নবান্নে
আবারো দেখা হবে, নুতনেরই আবাহনে
পুণরায় দেখা হবে, নতুন বর্ষবরণে
 
দেখা হবে রবির আলোয়, শান্তি নিকেতনে  
দেখা হবে আসানসোলে নজরুল স্মরণে 
দেখা হবে কালশ্রেষ্ঠ বাঙালির স্বপ্ন ঘরে 
দেখা হবে জাতির যাদুঘর, ৩২ নম্বরে
দেখা হবে টুঙ্গিপাড়ায়-স্বপ্নের আঙিনায়   
জাতির জনকের জন্মভূমির ঠিকানায়

দেখা হবে গ্রামের পথে, দেখা হবে শহরে
পিচঢালা পথে দেখা হবে যাত্রীর বহরে
দেখা হবে থিয়েটারে, নাটকের মহরায়
দেখা হবে নৃত্যের নতুন কোন মুজরায়

দেখা হবে নদী ধারে, আনন্দের প্লাবনে
মনে মনে কথা হবে নৌকা বাইচের গানে
দেখা হবে সংস্কৃতির প্রান্তরে আঙিনায় 
পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাততালির ফোয়ারায়

আবারো দেখা হবে প্রিয় স্বাধীনতার স্তম্ভে
অগনন প্রাণ নমিত যেখানে আত্ম দম্ভে
দেখা হবে জনসভায়, অমর বক্তৃতায়
দেখা হবে ময়দানে, ভাষনের চেতনায়
দেখা হবে খেলার মাঠে আনন্দ লড়াইয়ে
উচ্ছাসে প্রাণ মাতবে নতুন কোনো বিজয়ে 

দেখা হবে টিএসসিতে, অক্সফোর্ডে প্রাচ্যের
দেখা হবে শাহবাগে, মিলন মেলায় সত্যের 
দেখা হবে সকলের প্রাণের উন্মাদনায় 
দেখা হবে বইমেলায়, মিলন মোহনায়

দেখা হবে স্টপেজে, নতুন কোনও বন্দরে
দেখা হবে যাওয়া আসারই পথের ধারে
দেখা হবে বিখ্যাত সেই মধুর রেস্তোরায়
আবারো দেখা হবে কফি হাউসের আড্ডায়
আবারো দেখা হবে মন মানুষের মেলায়
দেখা হবে কুষ্ঠিয়ায়, লালনের দুনিয়ায়

আবারো দেখা হবে মসজিদের প্রার্থনায়
আবারো দেখা হবে মন্দিরের আঙিনায়
দেখা হবে গীর্জা, আর দেখা হবে প্যাগডায়
দেখা হবে আশা আর দেখা হবে ভরসায়
দেখা হবে পুজোতে, বিশেষ বিশেষ জামাতে
দেখা হবে জানাজায়, দেখা হবে শেষকৃত্যে 
দেখা হবে ক্রিসমাসে, দেখা হবে পূর্ণিমায়
দুর্যোগ কাল শেষে নতুন এক দুনিয়ায়!

দেখা হবে জয় বাংলায়, বাঙালিয়ানায়
দেখা হবে বার বার মিলনের মোহনায় 
দেখা হোক বার বার থাকি যেনো মিলে মিশে
দেখা হবে দেশের প্রেমে, দেশকে ভালোবেসে।

পৃথিবী কাঁদে

অপূর্ব শর্মা
করোনার ফাঁদে, পৃথিবী কাঁদে
মানুষ বড় অসহায়
কোভিড-১৯ ইতি টেনেছে
সকল দাম্ভিকতায়

রুদ্ধ হয়েছে মানুষের যাত্রা
মসজিদ মন্দির পেগোডায়
সকল শক্তি, সকল যুক্তি
থেমেছে করোনায়

শংকিত আজ সাত মহাদেশ
স্বস্থি নেই মৃত্তিকায়
চূর্ণ হয়েছে বর্ন বিভেদ
মরণ যাতনায়

জীবানু যেখানে মাতোয়ারা
জীবন নাশের খেলায়
ভাসছে সেখানে প্রকৃতি
আনন্দেরই ভেলায়

হরিন নাচে ঢেউয়ের তালে
সাগর উপত্যকায়  
তাই দেখে ভোরের পাখি
আনন্দে গান গায়

ডফিলন আসে, তীরের কাছে
ফেরার ভরসায় 
সচল থাকে জলের গতি
পদ্মা মেঘনা যমুনায়

জেগে থাকে যুক্তির হাত
স্বপ্ন-সম্ভাবনায়
বিশ্বাসের হাত উর্ধ্বমুখি
অমোঘ প্রার্থনায়

প্রকৃতি আর মানুষ যেদিন
হবে একাকার 
সে-দিনই থামবে দাপট
ঘাতক করোনার।

কাটবে আঁধার

অপূর্ব শর্মা
ভয় করোনা, ভয় করোনা 
ভাইরাস করোনায়
এ আঁধার যাবে কেটে
আলোর ফোয়ারায়

গৃহবন্দি মানুষ আজ 
বড়ই অসহায়
আহাজারি করছে তারা
মরণ যাতনায়

মৃত্যু মিছিল দেখে তুমি
ভুগছো হতাশায়
ভাবছো, বিশ্বকে পেলো
এ কোন অমানিশায়
৷ 
মানুষকে বাঁচাতে মানুষ
আছে ভাবনায়
আগামীর সূর্য ওঠে 
তারই সম্ভাবনায়।

বিশ্বের সংকটে তিনি কলম ধরেছেন।তাঁর মানবতার জয়গানগুলো আমাদের জীবনেরই সংকট মোচনের ক্রান্তিলগ্ন থেকে উত্তরণের মন্ত্র হিসেবে লিপিবদ্ধ। 

করােনার দুঃসময়ে মানুষের মনে কবিতায় গানে অপূর্ব শর্মা অপূর্ব মিলন ঘটিয়েছেন
---------------------------------------

গান-১
জাগো মানুষ

অপূর্ব শর্মা
জাগো মানুষ, জাগো 
শক্তি করও সঞ্চয়
বেদনার অশ্রু মুছে
হও তুমি নির্ভয়

আকাশ-বাতাস হোক
হোক যতই বিষাদময়
ভোরের আলো জানান
দেবে নতুন সূর্যদয় 
 
জাগতে হবে, জাগাতে হবে
হতেই হবে দুর্জয়
জাগরণেই যাবে চলে
সকল মৃত্যুভয়

কোনো কালেই হারেনি মানুষ 
মানেনিতো পরাজয়
এই যুদ্ধেও মানুষেরই
হবেই হবে জয় ॥ 

গান-২
সিলেট ভূমি

অপূর্ব শর্মা
ও আমার সিলেট ভূমি 
তোমারে প্রনমি 
আমি তোমারে প্রনমি!
তোমার মাটির চাইতে মাটি 
কোথাও নাই এমন খাটি 
তোমার ¯েœহের পরশ পেয়ে
ধন্যযে হায় আমি ॥ ঐ

আঁচল ভরা সবুজ মায়া
সুশোভিত শীতল ছায়া
যুগে যুগে কালে কালে
তুমি অগ্রগামি...! ঐ

হাওর-পাহাড় জল-তরঙ্গে
শ্যামল মায়া তোমার অঙ্গে
এমন জমি পাইনি আমি
আজও বিশ্বভ্রমি। ঐ

গান-৩
কে লইত খবর

অপূর্ব শর্মা
আমার পোড়া মনে তোষের
অনল জ্বলছে অষ্টপ্রহর
বৃন্দাবনে কৃষ্ণ নাই তাই
কে লইত খবর

মন জুড়াইতো বাঁশির সুরে
কাছে কি-বা থাকি দূরে
শ্যাম নাই তাই আনন্দ নাই
হইছি যাযাবর

নদীর ঘাটে যাইনা আমি
যাইনা কদম তলে
শ্যাম বিরহে সদা আমি
ভাসি নয়ন জলে

জীবন যৌবন সব শপিলাম
কলঙ্কের দায় মাথায় নিলাম
লােকের নিন্দা কত সইলাম
তবু করল পর । 

গান-৪ 
পোড়ে আমার হিয়া

অপূর্ব শর্মা
বন্ধু আমায় ভুইলা গেছে 
দূর প্রবাসে গিয়া
তার লাগিয়া সদাই কান্দি
পোড়ে আমার হিয়া। 

আসবে বলে সেইযে গেল
আইলনা ফিরিয়া
আমার অন্তরে বাহিরে 
জ্বালা নিভাই কি দিয়া। 
 
আপন মানুষ পর হইলো
সাধের বিদেশ যাইয়া
দিবানিশি কাটে আমার
কান্দিয়া কান্দিয়া

ভুুলেই যদি যাইবো বন্ধু 
খেলল কেন মন নিয়া 
আর কতকাল থাকবো
আমি পথের পানে চাইয়া

গান-৫
করওনা জাতের লড়াই

অপূর্ব শর্মা
মন তুমি আর করওনা
করওনা জাতের লড়াই
জাত-পাত নিয়ে যুদ্ধ করে
লাভ কি আছে বলনা তাই

আপন স্বার্থে মত্ত থেকে
যত ঘোরাও লোভের নাটাই
জারি জুরি বাহাদুরি দম
ফুরাইলে কই যাবে ভাই

হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিষ্ট
কে কি জাত গাঁয়ে লেখা নাই
তুমিযে মানুষের জাত চিনলে
নাতো আসল সেটাই

হিংসা বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে
এসোনা প্রাণ প্রাণে মিলাই
আসবে যেদিন মৃত্যু কাছে
মানবেনাতো কোন বড়াই 

গান-৬
প্রাণ পাখি 

অপূর্ব শর্মা
যে পাখিটা বসত করে 
মন খাঁচার ভেতরে
প্রাণটা আমার আনচান
করে তাঁরে দেখিবারে 
ও-সে দেখতে গেলে দেয়না 
দেখা লুকায় পিঞ্জরে

আমার আমি হয়েইতো 
সে আছে হৃদমাঝারে
লুকোচুরি খেলছে সে-যে
জনম জনম ধরে

বুঝিনা তার কি ছলনা
থাকে দূরে দূরে
আসা যাওয়ার খেলা 
শেষে পালায় অচিনপুরে

গান-৭
বাংলা আমার মা 

অপূর্ব শর্মা
বাংলা আমার মা, বাংলা মাতৃভূমি
বাংলা আমার জননি, বাংলা জন্মভূমি 
তোমার মতো, আর কোনো মা 
পাইনি জগৎভ্রমি 

জগতের বুকে আছে যত দেশ
আছে যত বনভূমি
সবার চাইতে তোমার মাটিই 
সোনার চেয়ে দামি। ঐ 

ফুলে ফলে ভরা শস্য শ্যামলা
পল্লী জননী তুমি  
পদ্মা মেঘনা যমুনা তাই 
তোমার অনুগামি

নানা বর্ণ নানা জাতি 
সিক্ত তোমার অপার ভালবাসায় 
শত যাতনা ভোলাও তুমি 
মাগো অসীম মমতায়
তোমার বুকেই বারবার যেনো 
জন্ম নেই আমি...ঐ

গান-৮
বাস্তবতা 

অপূর্ব শর্মা
অন্ন চাই, বস্ত্র চাই
বাঁচার মতো, বাঁচতে চাই
এ কথাটি আর যেনও
কারও মুখে শুনতে না পাই  

রক্ত ঝড়লো একাত্তরে
প্রাণ গেলো অকাতরে
তবু কেনও আজও হায়রে
শান্তি নাই শান্তি নাই

হানা-হানি মারামারি
চলে শুধু বাহাদুরি
কার চেয়ে কে হবে বড়
সেই চিন্তাতে ঘুম নাই ॥ (২) ঐ

সোনার বাংলা গড়তে চাই
তাতে কেনও বিভেদ ভাই
কেনও চলে রক্তের খেলা
কার কাছে জবাব চাই ॥ (২) ঐ

গান-৯
প্রেমানলে পুড়েছে অন্তর

অপূর্ব শর্মা
প্রেমানলে সাতার দিয়া 
পুড়েছে অন্তর (আমার)
তুমি যদি ভিন্ন বাসও 
কে লইত খবর (বন্ধু)॥ 

ভালোবাসায় বিষের জ্বালা 
আগে জানিনা (আমি)
জানলে কভু আমার এমন 
তোমায় দিতাম না
হৃদমাঝারে বাসা বাইন্ধ্যা 
কেনও আমায় করলায় পর ॥  ঐ  

তোমরই বিরহে মনে
হাহাকার করে (বন্ধু)
ভুলে গেলে কেনও তুমি
চলে গিয়ে দূরে
কি করে কাটাই বলো 
আমি বিনিদ্র প্রহর ॥ (২)

গান-১০
মুজিবগাঁথা 

অপূর্ব শর্মা
জাতির পিতা বিশ্বনেতা তুমি রবে অন্তরে
আমরা কোনওদিনও ভুলবোনা তোমারে
তোমার দীপ্তকন্ঠে আহ্বান শুনে প্রাণভরে 
অস্ত্র হাতে নিয়েছি মোরা স্বাধীনতার তরে

হাসিমুখে দিয়েছি প্রাণ অকালে অকাতরে
রক্ত নদী দিয়েছে পৌঁছে বিজয়ের বন্দরে
জন্ম যদি না হতো প্রিয় টুঙ্গিপারার পরে
পরাধীন থাকতে হতো জনম জনম ধরে

তুমি আছো আকাশ-বাতাস নদী ও সাগরে 
বাঙালি নিয়েছে তোমায় চির আপন করে
বেঁচে রবে তুমি বাংলার প্রতি ঘরে ঘরে
মুজিবগাঁথা গাইবে জাতি চির জনম ধরে।

শেষকথা
--------------
মুক্তিযুদ্ধ গবেষক, লেখক, সাংবাদিক, কবি অপূর্ব শর্মার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন একুশের গানের রচয়িতা, প্রখ্যাত সাংবাদিক, কলামিষ্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী। ‌’কাব্যে ও গানে করোনার প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক প্রবন্ধে করোনাকালের লেখা অপূর্ব শর্মার কবিতা ও গানের প্রশংসা করেন তিনি। প্রবন্ধটি আজকের (বুধবার) দৈনিক জনকন্ঠে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘অপূর্বকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। তিনি দীর্ঘকাল ধরে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ‘দৈনিক যুগভেরী’ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক। তিনি অনুসন্ধানী রিপোর্টারও। তবে আসল পরিচয় অসাধারণ প্রতিভাশালী সাহিত্যিক। এদিক থেকে তার অপূর্ব নামটি সার্থক হয়েছে। অনুসন্ধানী রিপোর্ট, কবিতা, গল্প কোন কিছু লেখাতেই তার জুড়ি নেই। বেশ ক’টি জনপ্রিয় গানও আছে তার। তার লেখা অসংখ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে বীরাঙ্গনাদের কথা, মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের নারী, ওরা ফিরে আসেনি, চা বাগানে গণহত্যা ইত্যাদি। বাংলাদেশে করোনা যুগের সাহিত্যের অগ্রনায়ক হিসেবেও তার নাম বেঁচে থাকবে। তিনি সাহিত্যিক, সাংবাদিক হিসেবে বহু পুরস্কার পেয়েছেন। আমাদের আশা তিনি অচিরেই সাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাবেন।
প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি আমি অপূর্বর ‘দেখা হবে মিলন মোহনায়’ কবিতাটির দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে ‘মহাজীবনের গান’ কবিতাটি লিখি। উদ্দেশ্য, করোনার আতঙ্ক মানুষের মন থেকে দূর করা। অপূর্ব শর্মার কবিতাটি হৃদয়স্পর্শী এবং প্রতিভাবান তরুণ আবৃত্তি শিল্পীদের কণ্ঠে তা জীবন্ত হয়ে মানুষের মনে আশা ও বিশ্বাস জোগাচ্ছে।
করোনা একদিন যাবে। সম্পূর্ণভাবে না গেলেও যাবে। কিন্তু মানব সভ্যতায় সে যে পরিবর্তন ঘটাবে তা হবে অচিন্তনীয়। এই পরিবর্তনের ছাপ পড়বে আমাদের শিল্প-সাহিত্যেও। এই পরিবর্তনের পদধ্বনি ইতোমধ্যেই কবিতায় ও গানে শোনা যাচ্ছে। ব্রিটেনের কবি লিলিবেথের কবিতায় তা প্রথম শোনা গেছে। তার প্রতিধ্বনি জেগেছে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের তরুণ কবিদের কাব্যে ও গানে। বাংলাদেশে অপূর্ব শর্মাও করোনা যুগের সাহিত্যের প্রথম অনুভূতি তার কাব্যে জাগিয়েছেন। চল্লিশের দশকের সুকান্তর ‘ঘুম নেই’ কবিতা যেমন ত্রিশের কবিদের আত্মকেন্দ্রিকতা ও ব্যক্তি সর্বস্বতা ভাঙার কাজে লেগেছিল, বর্তমান দশকে তেমনি করোনা নিয়ে অপূর্ব শর্মার কবিতা ও গান এ যুগের তরুণ কবিদের আত্মমোহ ও আত্মকেন্দ্রিকতা ভাঙাতে পারলে খুশি হবো।
উল্লেখ্য, করোনাকালে মানুষের মনে সাহস ও শক্তি যোগাতে একের পর এক কবিতা ও গান লিখে চলেছেন অপূর্ব শর্মা। তাঁর লেখা ‘জাগো মানুষ’ এবং ‘দেখা হবে মিলন মোহনায়’ কবিতাটি দুঃসহ এই সময়ের অন্যতম সৃষ্টি হিবেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেখা হবে মিলন মোহনায় কবিতার কোলাজটি চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত হয়েছে। যা সুধিমহলে বিপুলভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

১৬:০৭:২০২০
দুপুর:০১:৩৫মি
কুমারঘাট।

0 Comments