ত্রিপুরার কবিতায় সাহিত্যে ছড়া


ড.পম্পা দাস

পার্বত্য ত্রিপুরার নদীবাহুল্য বাংলা কবিতায় গানে গল্পে উপন্যাসে যেমন অবধারিত ছায়া ফেলেছে তেমনি নদী থেকে আকারে ছোট ছড়াও সাহিত্যে সমান প্রতিপক্ষ। শুধু আজ নয়- আবহমানকালের সেই প্রদোষাচ্ছন্ন প্রারম্ভ থেকে সেই চর্যাপদের কাল পর্যন্ত। যথার্থ বলতে গেলে পার্বত্য ত্রিপুরায় ছড়া বলতে পাহাড়ের ঢালুতে বোধহয় অসংখ্য নদীর শাখা প্রশাখা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ত্রিপুরার ছড়াগুলোর রূপ স্বরূপও একজনের একেকরকম। সমতল জায়গার ছড়া যেমন পাহাড়ি এলাকায় ছড়া তেমন নয়। প্রকৃতির এই জলাভূমির পটধৃত মানুষগুলির চরিত্র- প্রকৃতিকেও প্রভাবিত করেছে। এনে দিয়েছে এক দার্শনিকতা, অন্যার্থে এক নিয়তি সচেতনতা। শ্যামল বৈদ্যর 'বুনো গাঙের চর' উপন্যাসের প্রান্তিক দার্শনিকতা ছড়ার দান অনস্বীকার্য। ত্রিপুরার সাহিত্যে ছড়াকে কাহিনীর সঙ্গে সর্বার্থে অবিচ্ছেদ্য করে তুলেছেন প্রথমে বিমল সিংহ। লংতরাইয়ের কাহিনী শুনিয়েছেন তিনি। আছেন কার্তিক লাহেড়ী, নৃপেন চক্রবর্তী, ভীষ্মদেব ভট্টাচার্য, দীপক দেব, জয়া গোয়ালা, মাধুরী লোধ, টগর ভট্টাচার্য, সুবিমল রায় এছাড়াও ত্রিপুরার প্রায় বেশিরভাগ কথাসাহিত্যে ছড়া প্রবহমানতা জীবনের আলেখ্য। খুব সম্প্রতি অন্যভাবে ছড়াকে ব্যবহার করেছেন কবি কথাসাহিত্যিক নাট্যকারগণ। কমলপুরের পিকরাই ছড়ার কাহিনী শুনিয়েছেন বিমল সিংহ, শ্যামল বৈদ্য। নালিছড়া, লাম্বুছড়া, ভুবনছডা, দুরাইছড়া, কাইমাছড়া, তীরবর্তী ইত্যাদি জনপদের মানুষ উঠে এসেছে শ্যামল বৈদ্যের বুনোগাঙের চর' উপন্যাসে।
কবিতায় ত্রিপুরার ছড়া এসছে একমাত্র গোবিন্দ ধরের কবিতায়।গোবিন্দ ধর বারবার ছড়া নালা নদী নিয়ে অসংখ্য কবিতা লিখেছেন। লিখেছেন দেওনদীসমগ্র,মনুনদী খণ্ড। একমাত্র আনোয়াছড়া নিয়ে একক একটি সংকলন আনোয়ারা নামের মেয়েটি। আনোয়াছড়া নিয়ে একক কাব্য সংকলন আনোয়ারা নামের মেয়েটি। গোবিন্দ ধরকে চিহ্নিত করতে তাঁর নদনদী ছড়া জল জলা নিয়ে কবিতাগুলো হতে পারে কবির চেতনাকে চেনার সহজ পথ।নদী অনেকের কবিতায় এলেও ত্রিপুরার ছড়া একমাত্র গোবিন্দ ধর-ই ত্রিপুরার সাহিত্যে প্রতিনিধিত্ব করছেন।আমরা বলতেই পারি ছোটনদী আনোয়াছড়াকে ত্রিপুরার সাহিত্যে অমর করে তিনিও কাব্য আন্দোলনে এক অনন্য নিদর্শন রাখতে পেরেছেন। গোবিন্দ ধরকে চিহ্নিত করতে তাঁর নদনদী ছড়া জল জলা নিয়ে কবিতাগুলো পাঠ অনিবার্য হয়ে ওঠেছে।
কবিতায় গোবিন্দ ধরকে চিহ্নিত করতে তাঁর জলজলা নদনদী ছড়া বিষয়ক কবিতাগুলো পাঠ অনিবার্য করে তুলেছেন।

0 Comments