ছন্দ ও ছড়ায় গোবিন্দ ধর ||অমলকান্তি চন্দ
ছন্দ ও ছড়ায় গোবিন্দ ধর ||অমলকান্তি চন্দ
কবি পীযূষ রাউত গোবিন্দ ধর সম্পর্কে বলেছেন ---"আপন অন্তরের একনিষ্ঠ খননকর্মী হয়ে কবি ও ছড়াকার গোবিন্দ ধর প্রকাশিতব্য এই ছড়ার বইয়ে নিজেকেই যেন বার বার আবিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন। সুখের কথা, আশা ও আশ্বাসের কথা, তাঁর ছড়া একার ব্যাক্তিগত স্তরে আবদ্ধ হয়ে থাকেনি। বহু বহু পাঠকের ব্যক্তিগত জীবনদর্শনের সঙ্গে মিলেমিশে এক হয়ে গেছে এবং এখানেই গোবিন্দ ধর একজন প্রকৃত কবি ও ছড়াকার হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।"
থই থই ছড়া বইয়েরর প্রচ্ছদের উল্টো পৃষ্ঠায় ছড়াকার ও কবি গোবিন্দ ধর সম্পর্কে কবি পীযূষ রাউত যা কিছু বলেছেন তারপরে আমার মনে হয় আলোচনার
আর জায়গা আছে বলে ।
ছড়াকার গোবিন্দ ধর নিয়মিত ছড়া চর্চা করেন কি না আমি জানি না। ছড়ার বইটি পড়ে আমার মনে হল ছড়ায় যে ঢং -এ ছন্দের বুনন এবং শব্দগুলোকে আঁকড়ে ধরার কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন, তাতে আরো কিছু শ্রমদিবসের দরকার ছিল। বিস্তর কথামালাগুলো তাল ও লয়ে ছুটতে থাকার মধ্যে দিয়ে এক জন সফল ছড়াকার উঠে আসেন। ছড়াকার গোবিন্দ ধরের মধ্যে সহজ সরল কথাগুলো প্রশংসার দাবী রাখে। আর এইভাবে শিশু কিশোরদের মনে কল্পলোকের দরজা খুলে দেন আপন হাতে।
থই থই ছড়া থেকে একটি ছড়ার চারটি লাইন। যেমন -
"নীল আকাশে মেঘের দেশে /সাঁতার কাটছে হাঁস। /বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর /এল বোশেখ মাস। /"
ছড়াকার গোবিন্দ ধর' রথের মেলায় 'লিখেছেন -
"জগন্নাথের রথের মেলায় /ছোট্ট সোনা যায়, /বুড়ো দাদুর হাতের দেওয়া /মণ্ডামিঠাই খায়। "
ছোট্ট সোনার মনে মেলার যে আনন্দ তা ছন্দের যাদুতে দারুণ ভাবে ফুটে উঠেছে।
"মারাদোনা প্রীতি"ছড়ায় যে সমাজকে সচেতন করেছেন ছড়াকার -
"তোমরা যারা মারাদোনা /খেলছ না তাই দুঃখ পাও /
তাদের কাছে খোকাখুকি /প্রশ্ন রাখে ড্রাগস্ কি নাও? "
ছড়াকার গোবিন্দ ধর নিজের গ্রাম সম্পর্কে বলেছেন -
"এখনো গ্রাম সবুজে ভরা /দেখা যায় বন /এখনো শিশু উদাস হাসে /মিষ্টি তাদের মন । /"
"থই থই ছড়া "মোট আটান্নটি ছড়া নিয়ে প্রাণবন্ত প্রচ্ছদের আড়ালে সুসজ্জিত। ছড়ার কথাগুলো শিশু শ্রোতাকে কল্পনা ও বাস্তবের সংমিশ্রণে এক অদ্ভুত জগতে নিয়ে যায়। সরল কথাগুলো সরল ভাবে বলার মধ্যে দিয়ে শিশুরা হাসতে থাকে, খেলতে থাকে, ফুল ঘুটিতে নাচতে থাকে সময়।
0 Comments