গোবিন্দ ধরের কবিতা
হননলিপি
চৈতন্য ফকির
রাশিচক্রে হননকাল এলে জ্যোতিষীকে হত্যা করলেই জীবন আলোকিত হয় না।
নেপোলিয়ান নিজেই
তলোয়ারের ধারালো আঘাতে হস্তরেখায় বাড়িয়েছেন আয়ুষ্কাল।
আমি তো নিমিত্তমাত্র সামন্য শিক্ষক।
আমার ঈশ্বর নেই জ্যোতিষী নেই,নেই গোপন ঈশ্বরী।
আয়ুষ্কাল জুড়ে মঘানক্ষত্র।জাতিতে মিথুন আমি।দেবগণ।রাশিচক্রে চরম হীনমন্য তুলাযন্ত্র।
ন্যায়দন্ড হাতে ঝুঁকে আছে আত্মার মেনোফেস্টো।
১২:১২:২০১৭
নিকেল:৩:৩০মি
কুমারঘাট।
তৃতীয়পুরুষ
চৈতন্য ফকির
মনে মনে সেই তোমার তৃতীয় পুরুষ।
মুখে শুধু লটকে রাখো আপেল।
পুরুষ অচ্যুত নয় তোমার ভূগোলবিদ্যায়।
সেও রাধারমণ রাধারমণ বার্তা পাঠালে
তুমিও লাইক দাও।গেরিলাযুদ্ধে তুমিও কামুক।
পরিপাটি করা নিপাট মুখের মানচিত্রে এঁকেছো জগৎকুঠির।প্রেমতলা।
তুমিও আনবাড়ি যাও জল নয় বইসখি
সন্তানের মুখ তখন অপরিচিত।
বইউৎসব গায়ে মেখে তুমিও কামুকের ছায়াশরীর।
১২:১২:২০১৭
সকাল:৬:৩৫মি
কুমারঘাট।
পাক
চৈতন্য ফকির
অতিরিক্ত পাকে দড়ি টেকে না,বাবা বলতেন।
রাতাছড়াবাড়ির বড় উঠোন
আমি পাটগাছের দড়ি পাক দিতাম।
বাবার হাতে দড়ির প্রথমপর্ব।
আমার হাতে শেষঅংশ।
একজন পাট আলাদা করে বাবার হাতে দিত
বাবা মূল কারিকর হিসেবে পাক সামাল দিতেন।
দীর্ঘক্ষন দাঁড়িয়ে পাক দিতে আমার অসহ্য হতো।
বেশি বেশি ঘুরাতাম পাকযন্ত্র।
বাবা আমার বিরক্তি বুঝতেন:
বলতেন বেশি পাক দিলে দড়ি ছিড়ে যায়।
তখন বাবার সহজ কথাকে পাত্তা দিইনি।
এখন বুঝি বেশি চাওয়াও অপূর্ণ থাকে
পাক দেওয়া দড়ির মতো ছিড়ে যায়।
১২:১২:২০১৭
সকাল:০৬:০৫মি
কুমারঘাট।
পাক
চৈতন্য ফকির
অতিরিক্ত পাকে দড়ি টেকে না,বাবা বলতেন।
রাতাছড়াবাড়ির বড় উঠোন
আমি পাটগাছের দড়ি পাক দিতাম।
বাবার হাতে দড়ির প্রথমপর্ব।
আমার হাতে শেষঅংশ।
একজন পাট আলাদা করে বাবার হাতে দিত
বাবা মূল কারিকর হিসেবে পাক সামাল দিতেন।
দীর্ঘক্ষন দাঁড়িয়ে পাক দিতে আমার অসহ্য হতো।
বেশি বেশি ঘুরাতাম পাকযন্ত্র।
বাবা আমার বিরক্তি বুঝতেন:
বলতেন বেশি পাক দিলে দড়ি ছিড়ে যায়।
তখন বাবার সহজ কথাকে পাত্তা দিইনি।
এখন বুঝি বেশি চাওয়াও অপূর্ণ থাকে
পাক দেওয়া দড়ির মতো ছিড়ে যায়।
১২:১২:২০১৭
সকাল:০৬:০৫মি
কুমারঘাট।
আজন্ম প্রেমিক আমি
চৈতন্য ফকির
আজন্ম প্রেমিক বলে তুমি তাৎচ্ছিলো করো।
অনুভূতিগুলো তুচ্ছার্থে নাও!
এই যে শীত শীত সকালগুলো গুড়িগুড়ি টুপটাপ পড়ছে
নির্লিপ্ত তুমি, সময় প্রবাহমান।
সারাক্ষণ রক্তঝরা হৃদপিন্ডের লাভডুব লাভডুব
ক্রমাগত অসুখের জানান দেয়।
তুমি ভাবো মস্করা।তুমি ভাবো নাট্যাৎসব।
শরীর কি শরীর চায় শুধু, তার যে মন আছে
মনোকষ্ট আছে তুমি বুঝো না!
চিরপ্রেমিকের প্রেম শুধু চাওয়া চেয়ে থাকা
বিষন্নদিন ঝরে পড়ে বর্ষার টুপটাপ।
১০:১২:২০১৭
দুপুর:২:২০মি
কুমারঘাট।
আমার ভারত
চৈতন্য ফকির
আমার ভারত
রবীন্দ্রনাথ
বিবেকানন্দ
রামকৃষ্ণ
কবীর নানক আর চৈতন্য পুরুষের।
আমার ভারত
সুফি
সাধু সন্ত আর সত্য
শিব ও সুন্দরের।
আমার ভারত
বুদ্ধ যিষু
জৈন
নবী আর
নরনারায়ণের।
আমার ভারত
মানুষ আর ঈশ্বর
আল্লা গড
ভগবান
এক হয়ে গান
মানবতার ভৈরবী।
আমার ভারত
একজন আরেক জনকে
বুকে জড়িয়ে বলে ওঠে
কেমন আছিস
ইয়াচিন।
আমার ভারত
মানুষকে মানুষ বলে
জড়িয়ে ধরে বলতে পারে
অমলকান্তি প্রকৃতই রুদ্ররূপ।
আমার ভারত
হজরত আর ভগবানে
এক পাতায় ভাগ করে খান
টেঁকিছাটা চালের বিন্নিভাত।
১০:১২:২০১৭
সকাল:০৬:৩৫মি
কুমারঘাট।
ইউটার্ন
চৈতন্য ফকির
স্খলন থেকে চলে যাওয়া কিছুই
শীঘ্র হলে পচন্দ নয় কারো।
এই যে তুমি ইউটার্নে ঘুরে গেলে
রাজধানীমুখো কাম্য ছিলো না।
রাজধানী সব সময় আনন্দ নয়
তারও আছে অলিগলি খানাখন্দ।
ভেতরের অন্ধকারে লুঁকিয়ে থাকা
বেড়ালের থাবার ভেতর তুমি নাচছো।
একটু চকমকিই প্রদীপ নয় ভুলে গেলে
আমাদের সকল আলো খেকো হায়নারা
তীব্র নখদাঁত বের করে তেড়ে আসে
তুমি জানলেও বের হওয়া কঠিন।
০৯:১২:২০১৭
দুপুর:১২:৪৫মি
কুমারঘাট।
আমিই শূণ্য
চৈতন্য ফকির
অসংখ্য ভুলের যোগফল নিয়ে
বাঁচিয়ে রাখা জীবন থেকে পাঠ নিই
একটিও মুখ নেই।
মুখোশগুলোও মুখ খুঁজে এখন কঠিন সময়।
যোগ করতে করতে বিয়োগ ভুলে যাই।
বিয়োগ করতে গেলে টুটি চেপে ধরে
লটকে থাকা মুখোশ।
অসংখ্য ঘাতকের আঁকা মানচিত্র
বগলে নিয়ে বগল বাজাই।
যোগফল শুধুই শূণ্য।
হারাতে হারাতে নিজেই হারিয়ে যাই
সব থেকেও খাতাভরা
মনে হয় আমিই শূণ্য।
০৮:১২:২০১৭
রাত:০৯:৪৫মি
কুমারঘাট।
আঁকিবুঁকি
চৈতন্য ফকির
আত্মার ক্ষরণ দিয়ে লিখি জীবনের ধ্রুবপাঠ।
কবিতা লিখি না।লিখি আমাকেই আমি।
আমার লেখা আসলে আমারই মৃত্যুবাণ।
লিখি এক একটি আত্মার ম্যানোফেস্টো।
তুমি বলো এসবই নাটক।জানি না নাটক।
আমাকে আমিই হত্যা করি।মুক্ত আকাশ আঁকি।
তুমি লাল ভোর এনে দিতে পারো।কিংবা নাও বিষহরি।
৬:১২:২০১৭
সন্ধ্যা:৪:৫৮মি
কুমারঘাট।
জল আলাপ
চৈতন্য ফকির
খুচরো হতে হতে শূণ্য তোরঙ্গ।
ভেতরে শুধুই শূণ্যতা।
বৃক্ষের কাছে নতজানু জীবন বাঁচার বাতাস
না পেলে মৃত্যু কেবল ট্রামের মতো আসে।
এতবার করেছি সমর্পন এই শূণ্যতা নাও।
কলসের জল রেখে কে আর জল আনতে যাবে নদীর নাব্যতায়।
সকল প্রাপ্তিযোগ পেরিয়ে একদিন
সমস্তনদীই মিশে যায় সাগর সঙ্গমে।
বেদনার কোন পরিভাষা নাই
তুমি তাতে প্রলেপ না দিলে বাড়ে জলাতঙ্ক।
৬:১২:২০১৭
সকাল:১০:৫০মি
রাজেন্দ্রনগর
মনের ভেতর
চৈতন্য ফকির
মনের ভেতর গভীর বন।
তার ভেতর আলো।
তার ভেতর জঙ্গল।
লুঁকিয়ে থাকা বাঘটি কখন
ঘাপটি বসে থাকে।
ঝাপটি ধরে সু কুঁড়ে খায়।
কু কি এতই কুলক্ষণা?
৪:১২:২০১৭
রাত:১২:৩০মি
কুমারঘাট।
স্ক্রীপ্ট
চৈতন্য ফকির
যেরকম এক দাড়িতে মাফছো ওজন
হেরফের নেই ভাবছো ওজন সমানই হয়।
আমি সেরকম ওজন দরে বিক্রি হওয়া
কোন উপলখন্ড নয়।
আমার নিজস্ব ভূখন্ডে লিখে রাখি হলমার্ক।
ওজন সামান্য হলেও আমি আমিই।
তোমার জগৎ থেকে একটু দূরে
দেওনদী স্রোত মনুতেই মিশে।
১২:১২:২০১৭
সকাল:১১:৩৫মি
কুমারঘাট।
মেনোফেস্টো
চৈতন্য ফকির
চলো জলে ডুববো না
চলো জলে ভাসবো না
জলডুবুরীর জীবন থেকে
পাঠ নিই কিভাবে বাঁচতে হয়।
ধরো কিছুই হয়নি
ধরো এই প্রথম প্রতিশ্রুতি
তার আগে কিছুই ঘটেনি
হাত ধরো জেব্রাক্রসিং পেরিয়ে বাঁচি।
মনে করো সেডাক্টিভ জীবন নয়
সামনে অনেক পথ লাল গালিচায় মোড়া
আমাদের নতুন ধারাপাত লেখা হবে
সৃজনশীল ক্যানবাসে রংকরা হবে মুখশ্রী।
১২:১২:২০১৭
সকাল:১০:৪৫মি
কুমারঘাট।
ঘাতক সময়
চৈতন্য ফকির
সহজ বর্ণমালায় আত্মীয়তা পাতি
বলি ভালোবাসী
বলি প্রিয়জন।
বলি এসো,অরণ্যসাধনা করি।
বলি সহজসুন্দর।
ঘাতকের মেধাবী উচ্চারণ
সব কিছুতেই কাটাকাটি তার।
সব কিছুতেই এলজেব্রা রুটিন।
বলি,চলো খুব ঘনিষ্ঠ সময় কাটাই।
বলি,ভোগল থেকে পাঠ নিই জীবন।
বলি,সাম শের গাজীর বিনিময় শিখি।
ঘাতক নির্বাক।
ঘাতক নির্বিকল্প মুদ্রায়
আঁকে বৃত্ত।
লক্ষ্মণরেখা ডিঙ্গিয়ে যাওয়ায় তার মানা।
সবই মরুমায়া।
ঘাতকের মেধাবী মায়ার কাছে শিখি
তৈলাক্ত বাঁশের অংক।
১৭:১০:২০১৭
রাত:১০:৩০মি
কুমারঘাট।
পদ্যাণু
চৈতন্য ফকির
ক.
সুখ চেয়ে বদলেছি বাসা
নিবিড় অসুখে আমি চন্দ্রাহত।
খ.
সূর্যোদয় ভেবে গ্রহণ করেছি সকাল
অন্ধকারে হয়েছি খুন চিরকাল!
গ.
অসুখ থেকে নিয়েছি পাঠ:
পরিক্রমারত ঈশ্বরী
অভয় মুদ্রায় হাত নাড়েন।
ঘ.
অস্থির সময়ের কাছে সুস্থ চৈতন্য নেই
আছে শুধু মরুময় জল ছলছল।
ঙ.
আনন্দনগর ভেবে বসত চেয়েছি
খাপে ছিলো কিরিচ রক্তমাখা আমি।
চ.
শরীর মন্দিরে সাধনা করে শিখেছি সন্যাস
কিছুই কিছু নয় সবই ভ্রান্তিবিলাস।
০৬:১২:২০১৭
রাত:৮:৩০মি
কুমারঘাট।
তর্জমা
চৈতন্য ফকির
হাসপাতাল ভেবে শয্যা চেয়েছি।
ব্যবচ্ছেদ করে পাঠিয়েছো মর্গে।
অসুখ বাড়িয়েছি মেডিসিন নয়
পেয়েছি বৈদ্যুতিনশক।
৬:১২:২০১৭
সন্ধ্যা:৭:৩০মি
কুমারঘাট।
আঁকিবুঁকি
চৈতন্য ফকির
আত্মার ক্ষরণ দিয়ে লিখি জীবনের ধ্রুবপাঠ।
কবিতা লিখি না।লিখি আমাকেই আমি।
আমার লেখা আসলে আমারই মৃত্যুবাণ।
লিখি এক একটি আত্মার ম্যানোফেস্টো।
তুমি বলো এসবই নাটক।কি জানি কোথায় টক।
আমাকে আমিই হত্যা করি।মুক্ত আকাশ আঁকি।
তুমি লাল ভোর এনে দিতে পারো।কিংবা নাও বিষহরি।
৬:১২:২০১৭
সন্ধ্যা:৪:৫৮মি
কুমারঘাট।
ভ্রমন
চৈতন্য ফকির
জমিনে পুঁতে রাখি সম্ভাবনাবীজ।
কচিকচি পাতায় বেড়ে উঠলে গাছ
চেয়ে থাকি অনন্তসময়।
০৪:১২:২০১৭
রাত:৭:১৫মি।
কুমারঘাট।
সংকেত
চৈতন্য ফকির
একা একা আনন্দ উপভোগ করা খুবই কঠিন।
একা একা দুঃখ যাপনও কি সহজ?
একাকিত্ব কঠিন অসুখ।
সকল সংকট মোচনে চাই প্রকৃত বন্ধুজন।
যার মন উদার।বিশাল।দুঃখের কথা বললে সহানুভূতিশীল হাত প্রলম্বিত করে এমন বন্ধুজন যাদের নাই তাদের জীবন দুর্বিষহ।বন্ধুর মনের ভেতর একজন সৎ মানুষ থাকা জরুরী।বন্ধুর জন্য যে যেকোন সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে।বন্ধুকে খুশি করতে তার থাকবে সদা সর্তক উদারতা।এক পক্ষে বন্ধুত্ব ধরে রাখা কঠিন।একজন গলাজলে এলে অন্যজনও আসবে এমন প্রত্যাশা তো আশা করা স্বাভাবিক।দিনের পর দিন বন্ধু শুধু বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে করেই যাবে।আর অন্যজন তোমায় ঠকেই যাবে,তাহলে বন্ধুত্ব টিকে থাকার কথা নয়।
৩:১২:২০১৭
রাত:৯:৪৫মি
কুমারঘাট
তুমি
চৈতন্য ফকির
সারা শরীর ধানীজমিন।
তুমি এলেই চাষবাস।
দুপাতায় লাফিয়ে বাড়ে
কচি কচি ধানগাছ।
শরীরে শেখড়বাখড়
তাকে কেউ তুলে নিলে
মরে যাবে, পুঁতে রাখা
জমিনের চারাগাছ।
০৪:১১:২০১৭
ভোর:৫:৫মি
কুমারঘাট।
কবি
চৈতন্য ফকির
কলমে সুলেখা আছে,হৃদয়ে খরা।
তখন এক শব্দ একাধিক কবিতায়,
প্রায় এক ভাব ভাবনা
আর মুখে বাংলা পাঁচ লটকে
নিজেকে সম্রাট করে তুলেন
কবিতার পিতা।
কবিতাকাল
চৈতন্য ফকির
ভালোবাসতে বাসতে
জীবন এমনি কেটে যাবে।
জানি তো আসবে না ঘরে
আপাদত ছাড়বো না
তুমি যেতে চাও যাও চলে
গেলে যাও দূর কুহকজালে।
আপাদত তুমি ঠেলে দিলেও
আমি ঠিক পড়ে থাকবো
তুমি আসছো না বলে।
আমার সুখের জানলা পাশে
তুমি মেঘ রেখে যাওয়া নীলাচল।
০১:১২:২০১৭
বেলা:১টা
কুমারঘাট।
বুকেরপাখি
চৈতন্য ফকির
সারাক্ষণ খালি খালি লাগে বুকের ভেতর।
পোষ না মানা পাখিটি খাঁচায় ছিলো।
কখন উড়ে গেলো ভিনগ্রহে কেউ জানে না
পাখিটি একদিন বুকের মাঝে ছিলো।
ডানার উত্তাপ নিয়ে এই যে দৌড় জীবন
লালনে লালনে কোন খামতি ছিলো না।
তাকে সব বিলিয়েছি খাদ্যকণা জল
চাই মুক্ত আকাশ তার আর কিছু চাই না।
সে চলে গেলো আছে কিছু স্মৃতিকাল
বুকেরপাখিটি সাইবেরিয়াগামী হলো বহুকাল।
০১:১২:২০১৭
রাত:৯:১০মি
কুমারঘাট।
From: Boibari Agartala <boibari15@gmail.com>
Date: Fri, 8 Jun 2018, 9:49 pm
Subject: গেবিন্দ ধর
To: <apurba.sylhet@gmail.com>
0 Comments