কবি গোবিন্দ ধর 
প্রিয়বরেষু

তোমার কথার সূত্র ধরেই বলছি --আসলে শিল্প এক নির্মাণ, যা মেধায় লুকিয়ে থাকে।রহস্যের খোঁজ পেতে হলে জট খুলতে হয়।তার জন্যও সুসময় আছে। একটি কাঁধব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়লুম আর চাঁদের টুকরো বিলোতে-বিলোতে চল্লুম, তা হয় না।সবকিছু তো আর আমি সর্বস্ব নয়।মূক-বিষয়গুলি চাঙ্গা করতে মৌলবাদ  খতম করতে হয়।সে আলোচনা অনেক দীর্ঘ। আপাতত থাক।আমার ডকুমেন্টশনের পাশাপাশি ইমাজিনেশনের জায়গাটার দিকে চোখ ফেরানো যাক। 

একটি সাহিত্য -প্রকাশনার অন্যতম শর্ত হওয়া উচিত দায়বদ্ধতা (বাংলাভাষার সাহিত্য বলে কিছু আছে কি?)কর্ণধারকে বুঝতে হবে এটা ঝালমুড়ির কারবার নয়।মানুষের কাছে আমি কি পৌঁছে দেবো?যার কোন স্থিতিস্থাপকতা নেই -- আসে শেষ হয়ে যায়? কবরস্থ হয়? কোন তাৎপর্য নেই -- অগভীর --ভোঁতা দূষ্য ! বাণিজ্যিকবোধ কতটা থাকবে?

  আমরা কি মার্কেট -ফেন্টাসি হব?
  ভূত তাড়াতে ভূতকে ডেকে আনবো?
  ডিসকোর্সটা কি হবে?
  দ্যাখো, উপনিবেশিকতা মানেই,         উত্তরউপনিবেশিকতা।

ভারতবর্ষে খনিজ সম্পদ, বলসম্পদ আছে -- সেখানে অঢেল মানুষ মানুষের চেয়ে অমানুষ বেশি-- দ্বন্দ্ব ফাসাদ বেশি।লিখতে বসে সবাই ডিগবাজি খাচ্ছে। গঙ্গার জলতলে মেট্রো --এই নিয়ে উপন্যাস হয়না? শুধু নির্মাণের কাজ।

আমি তো ভয়ংকর মেট্রো-দুর্ঘটনার কথা লিখেছি 'ইহা দিল্লি শহরনামায়।'সাতটি ব্লাস্ট ফার্নেস তৈরীর কথা লিখেছি 'সূর্যের সাত ঘোড়ায়'।১০০ মহিষের বাথানের (হরিয়ানাভিরা বলে নহেরখানা) কথা লিখেছি। আমাকে সেখানে থাকতে হয়েছে। অমিতাভ ঘোষকেও তো সুন্দরবনে থাকতে হয়েছে। 'হাংরি টাইড'লেখার জন্য। ভালো কিছু করার জন্য রক্তক্ষরণ করতেই হবে।এটা শর্ত।না হয় ঘরে বসে 'অরণ্যের দিনরাত্রি 'লেখো।'রাজপথ জনপথ'লেখো।তোমার জন্য আকাদেমি পুরস্কার আছে।আমজনতা প্রদত্ত উপাধি নেই। হ্যাঁ, সতীনাথ ভাদুড়িকে আমরা শ্রদ্ধা করি।চিন্তাবিদদের মতে,উত্তর অদুনান্তিকতা তথা ফিউচার ট্রুথের অনিশ্চিত সঙ্কটের কথা এখন থেকে ভাবা উচিত। গনতন্ত্র -ধনতন্ত্র থাকবে না।তাহলে?দ্বন্দ্ব তো থাকবেই। পর-অপর থাকবেই, ভাবা যেতে পারে।এবং ভোগসর্বস্বতা এবং দাম্ভিকতা, পছন্দ -অপছন্দ, উপায়স্বরূপ মূল্য (instrwmantal value)?  প্রভূত্বের মনোভাব ত্যাজ্য মানেই আবেগ,বিশ্বাস অনুভূতি, স্বপ্নপছন্দ, প্রবৃত্তি-- এসবের মৃত্যু। এই প্রস্থান বিন্দুটি কেমন? ভারতীয় সবজান্তারা আজও কিছু বলেননি,বিদেশী নীতিবিদরাও চুপ।দ্বন্দ্ব -বিরোধীদের কি মত?

একদল বলছেন,সত্য বলে কিছু নেই, জ্ঞান বলে কিছু নেই, প্রগতি বলে কিছু নেই। আমরা যেখানে ছিলাম সেখানেই আছি,থাকব সেখানেই। দারিদ্র, অপুষ্টি, শোষণ, অগনতি মৃত্যু থাকবে।বাকি সব ভুলে যাও।গোঁড়ামিমুক্ত হও।জাক দেরিদা বেশ জোর দিয়ে বলেনঃ 'হ্যাঁ মশাই, এটাই ঠিক।'

আমরা এসব কিছুই জানি না।মেয়েদের ধর্ষিত হতে দেখছি। তন্দুর চুল্লিতে ঝলসে যেতে দেখছি। পথ অবরোধ করছি।পথের বাঁকে সার সার পথবাতি। আধুনান্তিককতার পথে সেক্যুলার হয়ে হাঁটছি।বা হাঁটার ভান করছি।এর কোন পূর্ণাঙ্গ ছবি নেই। যা আছে তা নাচগান সমৃদ্ধ। পড়তে গেলে হোঁচট খেতে হয়।উপাদান ছলনায় ভরা। সৃষ্টি তো নয়,অধিকাংশ অনাসৃষ্টি। International, তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করা। সেই গল্প চাই। পৃথিবীকে মুঠোর মধ্যে আনা হয়েছে --সে ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, রাজস্থান তো পাশের বাড়ি।বাঙালি সেখানেই যাক পরবাসী নয়।সেই অঞ্চল নিয়ে লেখা হোক ডায়াসপোরিক বাংলা সাহিত্য। হোক আঞ্চলিক শব্দের শংকরায়ন।গুণীজনেরা আসুক ভিন্ন রুচি তথা নীতিবোধ নিয়ে। দিল্লিতে বাংলাবইয়ের মেলা হলে দণ্ডকারণ্যে নয় কেন?এবং ভিলাইতে?  এখন তো সর্বত্র প্রতিভাসম্পন্ন মানুষ। কতরকম চিন্তন। একজন দক্ষ লেখক যখন প্রকাশক হয়ে যান তখন তার জাস্টিস্ ফর্ ট্রুথ  প্রশ্নাতীত। সুতরাং, সেদিক থেকে তোমাকে কি উপদেশ দেবো? সমস্ত ব্যাপারটাই দীর্ঘমেয়াদী। এখন তো জাঁকজমকের জমানা।সেকথা কেউ লিখছে না। 

শুভেচ্ছা নিও।গুণমুগ্ধ 
রবীন্দ্র গুহ

0 Comments