স্বজন আমার:কবি গোবিন্দ ধর
অপাংশু দেবনাথ 
                  
 এই তো আবার শুরু করলে নতুন করে চিঠি লেখা। তুমি আমাকেই প্রথম চিঠি লিখেছিলে কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে এতোটা দিন আমার নজর এড়িয়ে গেছে।মনে আছে তোমার?  স্রোত তখনও সিল্সক্রিনে ছাপা হচ্ছিলো।  তুমি আমার প্রকাশিত কবিতাসহ স্রোত পাঠাতে।সেদিনও শান্তিদা দিয়ে গেছেন বাড়ি।স্পষ্ট মনে আছে পকেটে করে নিয়ে গেছি হাসপাতালে।কবি তপন দেবনাথ একটু সুস্থ হলে তাতে পড়ে শুনাবো।কিন্তু তা আর হলোনা। চোখের জলে স্রোত আমার বেদনার স্রোতে ভেসে যায়।তারপর সব ইতিহাস।
সময় গড়িয়ে যায় তবু ভূত এসে মাথার ভেতর নাড়া দিয়ে যায়।আমিও তার তালে নড়ে উঠি। আবার নিজেকে সামলে নিয়ে হাঁটতে থাকি।
এই যে হাঁটার কথা বললাম।তা তোমার হয়তো মনে আছে কবে থে তোমার সাথে হেঁটে যাচ্ছি। আমি স্বভাবতই ভুলে যাই। মানুষও তাই ভাবে
তবু কি যেন ভেতরে ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়।
তোমার সাথে আত্মার সম্পর্ক যেমন অনুভব করি তেমনি দ্বন্দ্বে কাটিয়েছি তোমার সাথেই খুব বেশী
এইসব বিবাদ বিষম্বাদের কথা বলতে আজ আত্মার এই ক্ষরা মরসুমে চিঠি লিখছিনা তোমাকে। চিঠিতো লিখিনা বহুদিন।এখন ডাকপিওন শান্তিদা আর আসেনা বাড়ি।দেখা হলে মুচকি হেসে চলে যান।তার যাওয়া ও আসাতে আমার কিছু যায় আসেনা। শুধু মনে পড়ে কত কত প্রিয় মানুষেরা তোমার মতো চিঠি লিখতো।  এখন আরা ওরা কেউ চিঠি লেখেনা কেবল হাওয়ায় হাওয়ায় কেউ কেউ কথা বলেন শুধু নিজেরই প্রয়োজনে। এতো যে প্রযুক্তি চারিদিকে, তার চেও অবাক হই মানুষগুলো কেমন যেন বদলে গেছে। এই বদলে যাচ্ছে বলেই সুখে আছে ওরা।বদলাতে পারিনি আমি।আর পারিনি বলেই এই মধ্যরাতে সবাই যখন দরোজায় খিল দিয়ে ঘুমাচ্ছে তখন আমি এক উদভ্রান্ত বাউলের মতো তোমাকে চিঠি লিখছি। মনের ভেতর জমে থাকা অসুখের ডালি খুলে লিখছি
হয়তো তুমিও ঘুমাচ্ছো।ঘুমাও।ঘুম ভাংলে দেখতে পাবে এই মধ্যরাতে অসমাপ্ত শব্দলিপি।এইসব শব্দেরা আমাদের জাগিয়ে রাখে।জেগে থাকি অকারণ।আসলে অভ্যাসের দোষে জেগে থাকা।কোনো মানে নেই নিজেকে কষ্ট দেবার। তুমিও তো আর কম জাগোনা?  কবিতার জন্য জেগে থাকো বুঝি। আমি বুঝতে পানি নিজের নামে যা লিখতে পারোনা তা চৈতন্য ফকির ছদ্ম নামে লিখো।জানো এ যাবৎ কোনো ছদ্মনাম নিতে পারিনি আমি।তবে কেউ কেউ ভুবন বলে যাকে অথচ আমি বাউল বলে ভাবি নিজেকে। আর কেনো যেন মনে হয় আমি এক চিরন্তন শব্দবাহক মাত্র।এর বাইরে কোনো পরিচয় নেই আমার। জানি তুমি ভাবছো এসব লিখছি কেনো তোমাকে?  কি ন্তু কাকে বলি এসব ভঙ্গুর বেদনার কথা।কথার পীঠে কথার জাল বুনতে বুনতে ভুলে গেছি শুক্রবার ভেঙে গলে মিশে গেছে শণিবারের অন্ধকারের ভেতর। তোমার ধারণা সঠিক নয় প্রিয় কেমনা ভুটান যাইনি আমি
তবে সিকিম থেকে দার্জিলিং। ওখান থেকে মিরিক হয়ে ফিরে আসি নেপালের সীমান্ত বাজার ছুঁয়ে।  কোনোদিন সময় হলে চলো মিনিকে রাত কাটাতে যাবো। আর যদি তোমার সময় না হয় আমি একা হলেও যাবো।মিরিকে রাত্রি কাটাবো। 
অনেক কথা কথায় কথায় লিখে ফেললাম।তপনের বইয়ের প্রুফ অনেকটাই শেষ।আর আমার শৈশবের কথা বেশ কিছু এপিসোডে লিখেছিলাম।হয়তো কোনোদিন ছাপা হবে নাও হতে পারে কে পড়বে আমার ব্যর্থ জীবনের শব্দলিপি।তবু তোমার ভাবনার প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা রইলো আমার।
সামনে লিটিল ম্যাগাজিন উৎসব করছো। বিরাট কাজ।বলো কোনো কাজে এলে ভালো লাগবে আমারও। 
তোমার চিঠির উত্তর লিখতে লিখতে রাত অনেক হলো। এখন ১.৫০ রাত। বহুদিন পর প্রাণ খুলে ঠিঠি লিখলাম। পদ্মশ্রীর উপন্যাসের কতদূর।এবার প্রকাশ হবে নিশ্চই।  গৈরিকার দোলনা কবে প্রকাশ হচ্ছে। তাকে আমার আদর দিও। গৌরবদের বলো ঘুরে যেতে আমাদের এখানে।
ভালো থেকো।আর হ্যাঁ তোমার ক'টা বই বের হচ্ছে এবার?
শুভরাত্রি জেনো স্বজন আমার।

২৪-০৮-১৮

0 Comments