স্রোত, বিশেষ সংখ্যা ত্রিপুরার উপন্যাস : একটি পর্যালোচনা||ড. অগ্নিমিত্রা পাণ্ডা , গবেষক ও প্রাবন্ধিক, শান্তিনিকেতন, পশ্চিমবঙ্গ
স্রোত, বিশেষ সংখ্যা ত্রিপুরার উপন্যাস : একটি পর্যালোচনা||ড. অগ্নিমিত্রা পাণ্ডা , গবেষক ও প্রাবন্ধিক, শান্তিনিকেতন, পশ্চিমবঙ্গ
ত্রিপুরার স্রোত প্রকাশনা ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে একযোগে ত্রিপুরার উপন্যাস নিয়ে একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয় মে মাসে ২০১৯ সালে (রজতজয়ন্তী বর্ষ)। আজ সেই সংখ্যা নিয়েই আলোচনা। এই বিশেষ সংখ্যার সম্পাদক গোবিন্দ ধর, সহযোগী সম্পাদক পদ্মশ্রী মজুমদার, প্রকাশক সুমিতা পাল ধর এবং প্রচ্ছদ করেছেন বিকাশ সরকার, নামলিপি সুনীল ভৌমিকের, মুদ্রণ গ্রাফিপ্রিন্ট, কুমারঘাট ত্রিপুরা থেকে। বিন্যাসক্রমে প্রথমেই দেখা যায় সম্পাদক গোবিন্দ ধরের স্রোতকথা। সেখানে ত্রিপুরার উপন্যাস নিয়ে কিছু তথ্য দিয়েছেন এবং একটি তালিকাও দিয়েছেন যা বিশেষ কার্যকারী। তবে তিনি পাশাপাশি জানিয়েছেন ‘এই তালিকায় লিটিল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত সব ক’টি উপন্যাসও তালিকাভুক্ত করতে পারিনি। সাকুল্যে ত্রিপুরায় ১০০-১৩৫ টি উপন্যাসের গল্প শোনা যায়, যা আমার পড়ার বিস্তৃতি কম হেতু সবক’টি উপন্যাস তালিকাভুক্ত করতে পারিনি।’১ ত্রিপুরার প্রথম উপন্যাস ‘খাঁচার পাখি’ প্রকাশিত হয় রবি পত্রিকায় প্রথম বর্ষ বৈশাখ –চৈত্র সংখ্যায় ১৯৩৪। লেখক পরিমল কুমার ঘোষ। রবি পত্রিকার হাত ধরে ত্রিপুরায় বাংলা উপন্যাসের জন্ম হল। তারপর দীর্ঘদিন পর প্রায় চুয়াল্লিশ বছর পর আমরা পাই আর এক উপন্যাস ‘গ্রামের মেয়ে’। লেখক বীরেন দত্ত।
এই সংখ্যাটিতে চারটি উপন্যাস বিষয়ক আলোচনা ও চারটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। শেষ পর্বে মধুমিতা দেব সরকারের গবেষণামূলক আলোচনা রয়েছে। তাঁর আলোচনার বিষয় ‘মুক্তিযুদ্ধের আলোকে বাংলাদেশের নির্বাচিত উপন্যাস’ আমারা এই প্রবন্ধে যথাসময়ে এ নিয়ে আলোচনা করবো। প্রথমেই দেখে নেব উপন্যাস বিষয়ক প্রবন্ধগুলি। বিমল চক্রবর্তী ‘ত্রিপুরার উপন্যাস শিল্প পাঠ প্রতিক্রিয়ার সূচনাপর্ব’ প্রবন্ধে পরিমল কুমার ঘোষের ‘খাঁচার পাখি’থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপন্যাসের পাঠ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এর মধ্যে সূচনা পর্বের উপন্যাস যেমন আছে তেমনি স্থান পেয়েছে সমসাময়িক উপন্যাসও। বিমল সিংহ, নৃপেণ চক্রবর্তী, কার্ত্তিক লাহিড়ী, সমরজিত সিংহ, ভীষ্মদেব ভট্টাচার্য, জয়া গোয়ালা, দুলাল ঘোষ, অরুণোদয় সাহা, অনুপ ভট্টাচার্য, দেবব্রত দে, কিশোর রঞ্জন দেব, সুনন্দা ভট্টাচার্য, শ্যামল ভট্টাচার্য, দীপক দেব, সুবিমল রায় প্রমুখ কথাকারের কিছু কিছু উপন্যাস নিয়ে আলোচনা রয়েছে। মূলত প্রাবন্ধিক উপন্যাসগুলি বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেছেন। আলোচনাটি মনোগ্রাহী। তবে শেষ অংশটি হঠাৎ করে শেষ হয়ে গেছে, প্রবন্ধের উপসংহার আলাদা করে নেই বলে প্রবন্ধের গঠনের দিক থেকে একটি অসম্পূর্ণতা চোখে পড়ে। কিছু মুদ্রণপ্রমাদ ছাড়া স্রোতের এই প্রয়াস অনন্য।
দ্বিতীয় আলোচনার শিরোনাম ‘ত্রিপুরার উপন্যাসে নদী’, আলোচক শ্যামল বৈদ্য। লেখক নিজেও একজন কথাসাহিত্যিক। তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে নদী ও ত্রিপুরার উপন্যাসের সমীকরণ বোঝবার চেষ্টা করেছেন। আসলে সাহিত্য আর প্রকৃতি অঙ্গাঙ্গী জড়িত। লেখকের ভাষায় ‘ ত্রিপুরা রাজ্যে পাহাড়ের দাপট যত বেশি ততটা নদীর নেই। ফলে এখনকার সাহিত্যে নদী উপেক্ষিত বলা যায়।’ ২ এটা ঠিক পাহারঘেরা ত্রিপুরার ভৌগোলিক পরিমণ্ডলে নদীর ভূমিকা কিঞ্চিত কম, তাই গল্প উপন্যাসে পাহাড়ের আধিপত্য বেশি। অন্যদিকে বরাক ও ব্রহ্মপুত্র নদীর কথা বারে বারে অসমের বাংলা সাহিত্যে আসতে দেখি। কারণ এই দুটি নদীপ্রধান অঞ্চল। শ্যামল বৈদ্য তাঁর আলোচনায় প্রথমেই ত্রিপুরার নদীর অস্তিত্ব নিয়ে তথ্য দিয়েছেন। মাধুরী লোধের ‘মুহুরী চরের মানদা’, বুনো গাঙের চর’, অশোক দেবের ‘সদাপুরাণ’, ‘জন্মবদল’, পদ্মশ্রী মজুমদারের ‘দেউনদীর জল’ নিয়ে তিনি আলোকপাত করেছেন। বিশেষত শ্যামল বৈদ্যের ‘বুনো গাঙের চর’ নিয়ে বিমল চক্রবর্তী ও রাজীব ঘোষের আলোচনার অংশ তুলে ধরেছেন সমালোচক শ্যামল বৈদ্য। ‘জন্মবদল’ উপন্যাসেরও ক্ষেত্রেও সুস্মিতা দাসের আলোচনাটি স্থান পেয়েছে। নিজের উপন্যাস নিয়ে তিনি দু’এক লাইনে বক্তব্য রেখেছন।
ক। ‘এই উপন্যাসটি মূলত ত্রিপুরায় উদ্বাস্তু হয়ে আসা বাঙালিদের জীবন বৃত্তান্ত এবং এখানকার আদিবাসীদের সাথে তাদের মিলনের কাহিনি।’৩
খ। ‘২০১৮ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসে মনুনদীর দুপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলই এই কাহিনির পটভূমি বলা যেতে পারে। ধলাইর চর থেকে এই কাহিনি ক্রমশ ছড়িয়েছে মনু নদীর চরে। ডেমডুম, অ্যামরাপাশার কাছাকাছি একটি বৈষ্ণবের আখড়া নিয়ে বুনোট বেঁধেছে এই উপন্যাসের কাহিনি।’ ৪
মাধুরী লোধের ‘মুহুরী চরের মানদা’ উপন্যাসে চর অঞ্চলের মানুষের জীবন যাপন ,উদ্বাস্তু জীবনের সংগ্রাম উঠে এসেছে। মুহুরী চর নিয়ে লেখক জানাচ্ছেন ‘ ...এই চর নিয়ে ক’দিন পরপর গোলাগুলি বিনিময় বন্ধ রয়েছে।’৫ এই চরে মানদাও স্বামীর সঙ্গে ওপার বাংলা থেকে এসেছে। কিন্তু একে একে স্বামী, পুত্র রামু আর কিশোরবাবু মুহুরীর স্রোতে হারিয়ে যায়। এরপর মানদার মস্তিষ্ক বিভ্রাট দেখা দেয়, নদীর তীরে গিয়ে সে নদীর কাছে কৈফিয়ত চায়। তার বিশ্বাস ওরা মরেনি। এই আশাতেই দিন যায়। অন্যদিকে ‘বুনো গাঙের চর’ উপন্যাসেও দেশভাগ ও উদ্বাস্তু সমস্যা প্রতিফলিত। এর মধ্যে প্রেমও এসেছে, মানবজীবনের বিচিত্র আলেখ্য ধরা পড়েছে তার লেখায়। ‘সদাপুরান’ নিয়ে সমালোচক জানাচ্ছেন ‘...গোমতী নদীর অববাহিকায় যে সব মানুষ থাকে তাদের কথা একটু ভিন্ন মাত্রায় উপস্থাপিত হলেও পাঠক পেয়ে যাবেন।’৬ ‘দেউনদীর জল’ নিয়ে প্রাবন্ধিক কয়েকটি বিষয়ে আলোকপাত করেছেন- ১। দেউ শব্দের উৎস। ২। চরিত্র প্রসঙ্গে দেখা যায় কোন একক চরিত্র নয় বরং দেওনদীর পাড়ের মানুষজন ই গুরুত্ব পেয়েছে।
সুস্মিতা দাস ‘সাম্প্রতিকতার আলোয় ত্রিপুরার উপন্যাস’ প্রবন্ধে সাম্প্রতিক কিছু উপন্যাসের আলোচনা করেছেন, যেমন জয়া গোয়ালার ‘মুর্গা ঝুটির লালধুল’, শঙ্খশুভ্র দেব বর্মণের ‘আগরতলা আনলিমিটেড’, ‘ত্যুই’, ‘মেঘবতী’,শ্যামল বৈদ্যের ‘বুনো গাঙের চর’, ‘উজানভাটি’, ‘জন্মবদল’, সুতপা দাসের ‘সোনার দুয়ারী ঘর রুপোর দুয়ারী ঘর’, ‘ঈশ্বর কথন’, মাধুরী লোধের ‘মুহুরী চরের মানদা’, সুনন্দা ভট্টাচার্যের ‘অর্ধেক মানুষ’, মাঝপথের আখ্যান’। এছাড়া পল্লব ভট্টাচার্যের ‘কমলিনীর উপাখ্যান’, অশোক দেবের ‘সদাপুরাণ’, শ্যামল ভট্টাচার্যের ‘লোভদ্রার কাছাকাছি’, অরুণোদয় সাহার ‘নিদ নাহি আঁখিপাতে’। উপন্যাসগুলির কাহিনি বিন্যাস, চরিত্র বিন্যাস নিয়ে আলোচক মনোগ্রাহী আলোচনা করেছেন এবং রচনাগুলির বহুমাত্রিকতাকে তুলে ধরতে চেয়েছেন। উপন্যাসগুলিতে কখনো চা – বাগানের জীবন যন্ত্রণা, কখনো বিচ্ছিনতাবাদী শক্তির দাপট ও রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে যন্ত্রণায় ভুগতে থাকা জনজাতির কথা, আবার কখনো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে ত্রিপুরার অবস্থান ,রাজপরিবারের কাহিনি, ব্যক্তিজীবনের নানান ওঠাপড়া আলোচক তার আলোচনায় নিয়ে এসেছেন। আর এইসব বিষয় ‘ঔপন্যাসিকদের ব্যক্তিগত অনুভব –অভিজ্ঞতা উপন্যাসের বিষয় হয়ে তাদের স্থানিকতা থেকে মুক্তি দিয়ে সার্বজনীন করে তুলেছে।’৭ শ্যামল বৈদ্যের কথাকল্পে বাস্তবতা বিষয়ে আলোচনা করেছেন বিমল চক্রবর্তী। ঔপন্যাসিক বাস্তবতাকে কিভাবে নির্মাণ করেছেন সে নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রাবন্ধিক ‘বুনোগাঙের চর’, ‘ইতরবিম্ব’, ‘উজানভাটি’, ‘জন্মবদল’, ও ‘চাকমা দুহিতা’ কে সামনে রেখেছেন। আসলে শ্যামল বৈদ্যের লেখায় বারবার ব্রাত জীবনের কথা, দেশভাগ পরবর্তী সময়ের সমস্যা, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, মুক্তিযুদ্ধ, চরজীবনের সংগ্রাম আসতে দেখি। প্রাবন্ধিক বিষয়গুলিতে আলো ফেলেছেন। নদীতীরবর্তী অঞ্চলের সেই ব্রাতজনের জীবনের বাস্তবচিত্রকে তুলে ধরেছেন শ্যামল বৈদ্য। এছাড়াও চাকমা জাতির সংগ্রামী জীবনকে উপন্যাসের পটভূমি হিসেবে এনে আর এক বৈচিত্র তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে উপন্যাসগুলির রাজনৈতিক আর্থ- সামাজিক প্রেক্ষিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেদিকেও প্রাবন্ধিক দৃষ্টিপাত করেছেন। সর্বোপরি আলোচ্য প্রবন্ধগুলিতে ত্রিপুরার উপন্যাসের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন বেশ সহজ ও সাবলীলভাবে।
এরপর চারটি উপন্যাস প্রকাশিত। ১. শ্যামল বৈদ্যের ‘লালমাটির শিকারি’, ২. অনুপ ভট্টাচার্যের ‘চেনা মানুষ অচেনা গল্প’, ৩. কিশোররঞ্জন দে’র ‘ভালোবাসার কলাকৌশল’, ৪. পদ্মশ্রী মজুমদারের ‘দেউনদীর জল’। প্রথমেই বলি উল্লিখিত উপন্যাসগুলি নিয়ে আলাদা করে বিশ্লেষণের অবকাশ আছে। বিস্তৃত পরিধিতে কাহিনি, চরিত্র, সময় ও পরিবেশ বিন্যাস নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন আছে, পরবর্তী সময়ে সে বিষয়ে বিস্তারিত বলব।
শেষ পর্বে আছে গবেষণামূলক একটি কাজ। মধুমিতা দেবসরকারের ‘মুক্তিযুদ্ধের আলোকে বাংলাদেশের নির্বাচিত উপন্যাস’। গবেষণাটিকে ছয়টি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন গবেষক। প্রথম অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন মুক্তিযুদ্ধের আর্থ –সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষিত নিয়ে। সেখানে তিনি ভাষাকে কেন্দ্র করে যে লড়াই, এবং তার সূত্রে স্বাধীনতার চেতনার বিকাশকে তুলে ধরেছেন। কিভাবে ৬০ এর দশকে স্বাধিকার অর্জনের দিনগুলিতে তার পূর্ব প্রস্তুতি চলছিল তারও হদিশ পাওয়া যায় এই অধ্যায়ে। বাংলাদশের মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব পড়েছে সাহিত্যেও। সমগ্র জাতির রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের চিত্র তাদের উপন্যাসেও অঙ্কিত। দ্বিতীয় অধ্যায়ের শিরোনাম ‘শওকত ওসমানের নির্বাচিত উপন্যাস প্রেক্ষিত মুক্তিযুদ্ধ’। আলোচিত হয়েছে ঔপন্যাসিকের’জাহান্নাম হইতে বিদায়’ (১৯৭১), ‘দুই সৈনিক’ (১৯৭৩), ‘জলংগী’ (১৯৮৬), ও ‘নেকড়ে অরণ্য’। তৃতীয় অধ্যায়ে সৈয়দ সামসুল হকের ‘নিষিদ্ধ লোবান’ ‘নীল দংশন’, ‘দ্বিতীয় দিনের কাহিনি’, ‘বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ’, ‘ত্রাহি’ এবং ‘অন্তর্গত’ নিয়ে আলোচনা। এরও পটভূমিতে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ। উপন্যাসগুলিতে কখনো মধ্যবিত্তের দিনযাপনের চিত্র, দারিদ্র কখনো পাকিস্থানি হানাদারদের আক্রমণ ও সাধারণ মানুষের প্রতি তাদের নির্মম নিপীড়ন আবার কখনো উঠে এসেছে নারী নির্যাতনের নিষ্ঠুর কাহিনি। চতুর্থ অধ্যায়ে গবেষক রেখেছেন সেলিনা হোসেনের উপন্যাসগুলি। নতুন করে চিন্তনের আলোয় সেলিনা হোসেন মুক্তিযুদ্ধের কাহিনিকে মেলে ধরলেন পাঠকের সামনে। তাঁর আসামান্য সৃষ্টি ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’, ‘গায়িত্রী সন্ধ্যা’, ‘যাপিত জীবন’, ‘সাগর’। গবেষক জানাচ্ছেন, ‘সেলিনা হোসেন তাঁর এই উপন্যাসগুলিতে একাত্তরের রক্তাক্ত সময়ের সমাজচিত্র এমনিভাবে তুলে ধরেছেন যে, তা যুদ্ধকালীন দুর্গত বাংলাদেশের প্রত্যক্ষ প্রতিচ্ছবি হয়ে ফুটে উঠেছে।’৮ পঞ্চম ও ষষ্ঠ অধ্যায়ে যথাক্রমে হুমায়ূন আহমেদ ও ইমদাদুল হকের নির্বাচিত উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অনুসন্ধান করেছেন। মূলত গবেষক ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা এবং উপন্যাসে তার প্রভাব নিয়ে ছয়টি অধ্যায়ে আলোচনা করেছেন যা অত্যন্ত তাৎপর্যবাহী।
এই বিশেষ সংখ্যাটি স্রোতের কর্ণধার শ্রী গোবিন্দ ধরের নিরলস পরিশ্রমের ফসল বলা চলে। সম্পাদক বিন্যাসক্রমেও বৈচিত্রকে স্থান দিয়েছেন। ত্রিপুরার উপন্যাস নিয়ে আলোচনা যেমন আছে বিশিষ্ট লেখকদের চার চারটি উপন্যাসও ছাপা হয়েছে। আবার একটি মুক্তিযুদ্ধের আলোকে বাংলাদেশের উপন্যাসের উপর একটি গবেষণামূলক কাজও প্রকাশ পেয়েছে। যদিও সংখ্যাটির শিরোনামে বাংলাদেশের উপন্যাসের কথা আলাদা করে আসেনি। বিষয়টি নিয়ে সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যার দিকে চোখ পড়লে দেখা যাবে প্রবন্ধ বা উপন্যাস বা গবেষণামূলক লেখাটির পৃষ্ঠা সংখ্যার ধারাবাহিক ক্রম রক্ষিত হয়নি। অর্থাৎ প্রতিটি লেখার প্রতিটি পৃষ্ঠা নতুন করে ১ থেকে গোনা হয়েছে। সে বিষয়টিও সম্পাদক মহাশয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। সর্বোপরি পাঠক, গবেষক ও সমালোচকের কাছে স্রোত ত্রিপুরার উপন্যাস সংখ্যা বিশেষ সমাদৃত হবে বলেই আশা করি। কিছু মুদ্রণপ্রমাদ ছাড়া সংখ্যাটি বেশ ভালো। বাঁধাই ও অন্যান্য বিষয়ে যত্ন সহকারে করা হয়েছে। পাঠককে এমন একটি সংখ্যা উপহার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাই সম্পাদককে ।
তথ্যসূত্র
১। গোবিন্দ ধর, স্রোতকথা, দ্র স্রোত ত্রিপুরারা উপন্যাস সংখ্যা, সম্পাদক গোবিন্দ ধর, সহ- সম্পাদক পদ্মশ্রী মজুমদার, রজতজয়ন্তী বর্ষ, মে ২০১৯, প্রকাশক সুমিতা পাল ধর, কুমারঘাট, উনোকোটি, ত্রিপুরা ।
২ । শ্যামল বৈদ্য, ত্রিপুরারা উপন্যাসে নদী, দ্র. পূর্বোক্ত স্রোত উপন্যাস সংখ্যা, পৃ. ৫৭।
৩ । তদেব, পৃ. ৬১।
৪ । তদেব, পৃ. ৬৭।
৫ । তদেব, পৃ. ৫৯।
৬ । তদেব, পৃ. ৬৭ ।
৭ । সুস্মিতা দাস, সাম্প্রতিকতার আলোয় ত্রিপুরার উপন্যাস , দ্র. পূর্বোক্ত স্রোত, পৃ. ৮৭।
৮। মধুমিতা দেব সরকার, মুক্তিযুদ্ধের আলোকে বাংলাদেশের নির্বাচিত উপন্যাস, দ্র. পূর্বোক্ত স্রোত, পৃ. ২৯।
0 Comments