গোবিন্দ ধরের গদ্য
কবিতায় কিংবা কোন লেখায় ছবির প্রাসঙ্গিতা
গোবিন্দ ধর
প্রিয়জন
অপাংশু দেবনাথ
কবিতায় কিংবা কোন লেখায় হয়তো ছবির কোন প্রয়োজন নেই।তা যেমন বাস্তব এটাও বাস্তব ছবি লেখার প্রতি মনোসংযোগ বাড়ায়।লেখাটি ভালো হলে নিশ্চয়ই ছবির কোন গুরুত্ব নেই।
আমরা বই প্রকাশে যেমন প্রচ্ছদ রাখি।তাও যেমন তেমন নয়।নামি প্রতিষ্ঠিত কোন শিল্পীকেই তখন মান্যতা দিই।যেমন তেমন কোন প্রচ্ছদ শিল্পীকে প্রচ্ছদের বরাত দিই না।কারণ প্রচ্ছদের নান্দনিকতার দিকটা একটা বিষয়।আমাদের চোখে সৌন্দর্য একটা বিষয়।সুন্দর চিরকাল চোখকে টানে।মনোসংযোগ ঘটায়।
রবীন্দ্রনাথ নিজের বইয়ে একটি ট্রেনড তৈরী করেছিলেন। প্রায় একই রকম সবগুলো বইয়ের পোষ্টকার্ড কালার।এতে রবীন্দ্র ঘরণা তৈরী হয়েছিলো।
আমরা তার পর ততটা আধুনিক হতে পারিনি।আমাদের নিজস্বতা বলতে এমন কোন স্বকীয়তা নেই।আমরা সকলেই গড্ডালিকাপ্রবাহে নিজেকে প্রবাহিত করেছি।
ছবিতা কবিতায় কোন বিষয় হয়তো নয়।তবুও লিটল ম্যাগাজিনের পাতায় যখন দেশ পত্রিকা কবিতা ছাপে সাথে ছবি নিশ্চয়ই থাকে।
বিষয় একটা বিষয়।কবিতার সাথে ছবিটার বিষয় অনেকটা মিলে গেলে যেমন সেই ছবির প্রাসঙ্গিকতা আছে তেমনি গল্পে গদ্যে প্রবন্ধেও কিংবা শিশু সাহিত্য ছড়া সংকলনে ছবি একটি ভাইটাল বিষয়।
স্কেচ না হলে যেন বিষয় মেড়মেড়ে হয়ে যায়।
সুতরাং ছবিটি আসলেই ঐ লেখার সাথে প্রাসঙ্গিক হলে ছবি থাকাটা কোন অমূলক নয়।আমি এমনই মনে করি।
আর এমন না হলে তো কাব্য সংকলনগুলো প্রচ্ছদ অলংকরণ হীন হয়ে পড়তো কবেই।এমন দৃষ্টিনান্দনিকতাকে আপাদত আমরা অস্বীকার করতে পারছি কী রবীন্দ্রঘরনার মতো?
লেখাটিই যখন একটি ছবি তাহলে ছবির আবার ছবি কিসের?বিষয়টা হয়তো তুমি তেমনই বলতে চাইছো।কিন্তু আমাদের সব লেখা আদৌ ছবি হচ্ছে কী?
আমরা কবিতা বলছি।কোনটা কবিতা আর কোনটা কবিতা নয় সেই বিচারই বা কে করবে?আমাদের এক রকম পাঠ দক্ষতাই হয়তো কিছু লেখাকে কবিতা বলছি।কিছু লেখাকে কবিতার তকমা দিতে পারছি না।
কবিতা কী আসলেই এমন আবছা কোন বিষয়?নাকি কবিতা আরো কোন সুন্দরের উপাসক?
কবিতা কী কেমন লেখা হবে এমন পরীক্ষা নিরীক্ষা তো নিরন্তর চলছে।আজও চলছে।আগামীতেও চলবে।কেউ কেউ কালউত্তীর্ণ হন।কেউ কেউ হন না।এই যারা হলেন আর যারা হলেন না তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই কবিতা।আমি অন্তঃত এমনই ভাবি।
এখানে একাই আমি সম্রাট নই।কবিতার কোন সীমায়িত ভূগোল নেই।কবিতার কোন সম্রাট নেই।কবিতা কারো চামচাগিরী পচন্দ করে না।
কবিতা আসলেই একটি শিল্প মাধ্যম।যা পাঠ করলে নীরব বসে থাকতে হয়।
কবিতা লেখক ও কবিতা পাঠক দুজনই তার আনন্দ ভাগ করতে পারেন।কবিতা এমনই।
অথচ দেখো আমাদের পৃথিবীতে কত কি।কত কবিতা।লাদেনও কবি।সকল মহাপুরুষও কবি(যারা দাবী করেন মহাপুরুষ)।হজরত মুহাম্মদ থেকে যীষু,অনুকুল থেকে চৈতন্য সকলেই কবি।কবিতায় তাদের ভাব ভালোবাসা জগতের জন্য বিলিয়েছেন।
তার পরেও এত অসুন্দর আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে।আমরা এই অক্ষমতা নিয়েই বড় হই।লেখি।পড়ি।তথাকথিত মানুষ হই।খাই দাই অফিস যাই।
এত সব সুন্দরের মাঝে আমরা কী আর নতুন কিছু করি।সবই তো আগেও ছিলো।এখনো আছে।আগামীতেও থাকবে এমন কোন গ্যারান্টি নেই।
সুতরাং কবিতায় কিংবা কোন লেখায় দৃষ্টিপাত করাতে ছবি একটি মাধ্যম।
কেউ কেউ ছবি ব্যবহার করেন কারণ হয়তো লেখাটিকে আকর্ষিত করানোর জন্য।আমিও লেখায় ছবি এ জন্যেই ব্যবহার করি।
আমি মনে করি ছবি ও লেখা পরস্পর দুটি আলাদা মাধ্যম হলেও একের রূপ অন্য বাড়িয়ে দেয়।
এই ব্যক্তিগত ভাবনা থেকেই লেখাতে ছবির প্রয়োগ করি।
তোমার সাথে তাই হয়তো আমার মিলছে না।
আর দুজন সৃজনশীল মানুষের মতের ভিন্নতা তো স্বাভাবিক।
এতে নিশ্চয়ই ব্যক্তি অপাংশুর সাথে ব্যক্তি গোবিন্দের কোন বৈরীতা নেই।
আমি কবিতায় ছবিতায় এমনই আছি,প্রিয়জন।
০৫:০৬:২০১৮
বেলা:১২:১০মি
রাজেন্দ্রনগর।
0 Comments