রুদ্র হিল ফরেস্ট রিসোর্ট ||গোবিন্দ ধর
রুদ্র হিল ফরেস্ট রিসোর্ট :গোবিন্দ ধর
কথাচর্চা
আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। মেঘ এসে লংতরাইভ্যালী রিজার্ভফরেস্ট চুমু দিচ্ছে। মেঘগুলো প্রেমিকার মতো। যেন আরুক্কুর পাঁচতারায় প্রেমিকের সাথে শুয়ে আছে। কখন ঝমঝম বৃষ্টি হয়ে আসবে প্রেমিকামেঘ জানে।বাইকের চাকা পিচ রাস্তায় ঘর্ষণের আওয়াজ যেন প্রেমিকার শিৎকার।সামনে চাকা ঘুরছে।আরো ঘুরছে।পাহাড় ছুঁই ছুঁই সাদাসাদা তুলোর মতো মেঘ।উড়ুক্কু মেঘ।উড়ে উড়ে লংতরাইভ্যালী রিজার্ভফরেস্টের আকাশে আঁকছে নানা চিত্র। এই রুদ্রহীলের সেই মেয়েটির মুখ তো আবার হাসপাতালের আরোগ্যবালিকার মুখ।এই মেধার মুখ তো আবার চাঁদপুরের মৎসমেয়েটির মুখ।নানা চিত্রে চিত্রিত মুখগুলো নিমিষেই হারিয়ে যায়।আবার নতুন মুখ আঁকে সাদা মেঘ।আমার বাইকের চাকার ঘর্ঘর আওয়াজ বাতাস ভেদ করে কানে এসে বলছে সেই মেয়েটির শিৎকারের মতো উঃআঃ।আঃউঃ।আমি আরো এগুচ্ছি।পরীর মতো মেঘ আরো নামছে।নামছে মেঘ।আষাঢ় নামছে।এখনো ঝমঝম বৃষ্টি আসেনি।
রাবার পাতা থেকে টিপটপ জল পড়ছে।সেগুন পাতা থেকে নামছে জল।
আমি এগিয়ে যাচ্ছি। দীর্ঘ পথ। আগে মেধা সেই সময় টুংটাং মোবাইলে টাইপ করে মেঘ পাঠাতো।পথের ক্লান্তি থেকে আরো সামনে এগিয়ে যেতে যেতে কখন কান্তচৌধুরী পাড়ার বটবৃক্ষ পেরিয়ে চামলবৃক্ষ পেরিয়ে কুকিছড়ার জল ছুঁই ছুঁই এগিয়ে যেতো ভাঙা সিটি ১০০ টের পেতো না আরোহী।
এখন কাঁঠলছড়ায় জলের গর্জনে তন্দ্রা ভাঙে।
এখন আষাঢ় মাস।খারচিপুজোর শেষ। মেঘ অনেক নিচে নেমো এসেছে।পাহাড়ের চূড়া ছুঁয়ে দিতেই শীতকাঁটা দেওয়া মেয়েটির মতো বনজপাতার লাজুক চুঁইয়ে পড়া জল নামছে পথে পথে।
ভিজে একসা। আজ স্কুলের পথ ফাঁড়ি দিতে সময়ে অসম্ভব। তবুও সামনে এগিয়ে যেতে যেতে চন্ডীতলা আসতেই সেকি বৃষ্টিচুম্বন আমি আর আমি নই তখন। তখন আষাঢ়ের প্রথম কদমফুল।ভিজতে ভিজতে বৃক্ষরামের অশরীরী ছায়া।
আমাকে আমিই চিনতে পারছি না। মনে হয় আমিই লংতরাইভ্যালী রিজার্ভফরেস্ট।অথবা রুদ্র হিল ফরেস্ট রিসোর্ট।
শীতকাঁটা দেওয়া মেয়েটিই কবিতা।
৩০:০৬:২০২৩
সূচনা.
এখানেই মিলে যাবে অক্সিজেন, সবুজ
এবং স্পন্দন। তখন বিকেল নয় দুপুর সন্ধ্যা হয় হয়।
সূর্য হেলে গেছে মরারোদের তীব্র দাবদাহ নেই।
বনজঙ্গল মাড়িয়ে যেতে যেতে হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকো ওঠে।
একটি পাতা মিশে গেছে আরেকটি লজ্জাবতী পাতায়।
পাতা মোড়ে গেলেও তারও আরো রূপ ঝরে মরারোদের আলোয়।
সকলেই জানেন সবুজের মাঝে মিশে থাকে সবুজ।
আমি তখন একাকিত্বের মনখারাপের প্রহরকে বছর ভাবছি
কী করি কী করি কোনো সুরাহা নেই, হঠাৎ ঝিলিক দিয়ে
রুদ্র হিল ফরেস্ট রিসোর্ট আমাকে ডেকে নিয়ে
সবুজে ঢেকে দিলো,আমি মূহুর্তের কাছে নতজানু হলাম।
আমি সমস্ত নিরাশার মেঘ সরাতে সরাতে সবুজের কাছে
নিজেকে তুলে দিলাম বিমর্ষ শরীর। প্রকৃতি শ্রীমতির মতো আষাঢ়ের প্রথম দিবসের বৃষ্টি নিয়ে এলো।
আমি সবুজে সবুজে নিশ্বাস নিচ্ছি তো নিচ্ছি।
ভুলেই গেছিলাম আমিও কারো বাবা।কারো মায়া।
শ্রীমতি প্রকৃতি রুদ্র হিল ফরেস্ট রিসোর্ট, রাজধানীর কার্বনে যখন দম আটকে আসবে
আমি আবারো গাছগাছালির আড়ালে মরারোদে নিশ্বাস নেবো
তুমি তো মোহময়ী লজ্জাবতী সবুজ বনবীথিকা।
১৯:০৬:২০২৩
রাত:১০টা
কুমারঘাট।
এক.
একজন কবির নিকট কবির আত্মা পাঠালাম।
একজন বাচিকশিল্পীর নিকট কবিকে তুলে দিলাম।
একজন সংগীতশিল্পীর নিকট নতজানু হলাম।
এবার তুমি কবিতায় সুর দাও।
এবার তুমি আবৃত্তি করো আমার অপাঠ্য কবিতা।
নিজের মতো গড়ে তুলো নিজস্ব ভুবন।
আমি ভুবনবন থেকে বিশল্যকরণী লতার মতো পেছিয়ে রাখবো শ্রীমতী পর্ণাময়ীবৃক্ষ।
১২:০৬:২০২৩
বিকেল:৪টা৫৫মি
জিবি হাসপাতাল,আগরতলা।
দুই.
ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে অপেক্ষায় আছি।
এসো অপেক্ষার দরজায় কড়া নাড়লেই
হাট করে খোলে যাবে সদর হাসপাতাল।
সকল অসুখ থেকে পরিত্রাণ প্রার্থনায়
এই আমন্ত্রণ লিপি পাঠালাম তোমাকেই।
এসো ভেতর এসি হয়তো নেই
কিন্তু এই উষ্ণতায় উষ্ণতা দূর হবে বলা যায়।
০৬:০৬:২০২৩
রাত:০৭টা২৪মি
জিবি হাসপাতাল,আগরতলা।
তিন.
শরীর আগুনময়,দেহ পুড়ে না!
অথচ নিভিয়ে দিতে তুমিই পারো।
জলের ঝাপটায়।
চার.
একটি গাছ রোপণ করতে চাই
সে বড় হবে ছায়া দেবে
ক্লান্ত আমায়।
তার পাতার হাওয়ায় বহুদিন
বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখবো।
পাঁচ.
একটি বৃক্ষের নিকট নিজেকে সমর্পন করেছি।
যার ছায়ায় শীতল হবে ঘর্মাক্ত শরীর।
ছয়.
নিজেকে নিজের পাণ্ডুলিপির মতোই কাটাকাটি করি। সংশোধন করি ভুল বানানে লেখা আত্মক্ষর।
সাত.
তুমি সেই পর্ণাময়ী বৃক্ষ
যার শাখায় অসংখ্য সম্ভাবনা আছে
একদুটো পাতার ছায়ায় জিরিয়ে নিতে পারি।
আট.
গোপন অক্ষরে লেখা তোমার শুভনাম।
তারও গোপনে তুমি এক মায়া।
হৃদয়ে কুটুম করে জায়গা ছেড়েছি
এসো নিও জমির মালিকানা স্বত্বা।
নয়.
এত মায়ায় জড়িয়েছো প্রিয়জন
বুকে গেঁথে রেখেছি বরশীর মতো
তুমি ছিপ তুললেই আমি মুক্ত হতে পারি।
দশ.
আমার আত্মার রক্তে লিখি পদার্থবিদ্যার গোপন অক্ষর।
তুমি তার শুরু তুমি তার শেষ।
এগারো.
দূর্গম পথ।জানি এবড়োখেবড়ো। বিপদসংকুল।
এ পথ ফাঁড়ি দিলেই নিশ্চিত গন্তব্য।
গন্তব্যে পৌঁছলে মণিরত্নময় সেই কিচিরমিচির
রুদ্র হিল ফরেস্ট রিসোর্ট।
১৩:০৬:২০২৩
বিকেল:৫টা৩০মি
আগরতলা
বারো.
গভীরভাবে স্পর্শ চায় বুকের হারমোনিয়াম।
স্বরলিপি জানি না আমি
তুমি বাজালে বেজে উঠবে সারেগামা পা।
তেরো.
গানদিদিমণি গানদিদিমণি একটু স্বরলিপি শেখাও।
শিখিয়ে দিলে বেজে উঠবে পাঁজারের সিন্থেসিজার।
চৌদ্দ.
মনের একতারায় বেজে চলেছে অবিরত নিশিদিন
অপর্ণা শব্দবাণ।
পনের.
বিদ্যুৎ চমকালে ভীতুর ডিম হয়ে যাই।অথচ
তুমি ছুঁয়ে দিলে সারা শরীর তো বিদ্যুৎই প্রবাহিত হয়।
আলোকিত হয় মিলনপল্লী।
ষোলো.
মুখমণ্ডল থেকে পশ্চিম আকাশের লাল আভা বিচ্ছুরিত হয়ে আমিও আলোকিত হলাম বিকেলের মরারোদেও।
সতেরো.
শেষ বিকেলে তুমি রেখেছিলে মুখ বইকামলার বুকে।
কামলার কাম জাগেনি বরং জমিয়ে রেখেছি চুলের ঘ্রাণ।
আঠারো.
শিহর জাগানো স্পর্শের নিকট নতজানু হয়ে
হৃদয়ের দরজা দিলাম হাট করে খোলে
সিংহদোয়ার অব্দি তুমি যেতে পারো অনায়াসে।
ঊনিশ.
একদিন বেজে উঠবে সারেগামা শরীর।
আনন্দবিন্দু জেগে উঠবে নক্ষত্রলোকে।
শিৎকার শেষে হারমোনিয়াম থেকে গান ঝরে পড়বে নিশ্চিত।
বিশ.
আমার কুটুমবাড়ি থেকে রক্ত ঝরে পড়লে
হে বিশল্যকরণী। সকল অসুখ শুষে নিও পদ্মপাপড়ি ঠোঁটের ছোঁয়ায় দিও আরোগ্য।
১৪:০৬:২০২৩
রাত:০৯টা৪৫মি
লিচুবাগান, আগরতলা।
একুশ.
রক্তে বয়ে যাওয়া জীবনের গান।
টগবগিয়ে নাচছিল, সেই মূহুর্তে।
তুমি তখন অনাবিল পরীর মতো
নির্মল নিষ্পাপ ক্লিওপেট্রা।
বাইশ.
তুমি অভিকর্ষ বলের মতো টানছো
শেকড় সমেত আমি উপড়ে তোমার উঠোনে
গাছ হয়ে বাড়ছি।
মাঝে মাঝে জল দিও।স্পর্শ দিও।
ফুলের পাপড়িঠোঁটের ছোঁয়ায় দিও তরল বিদ্যুৎ।
তেইশ.
স্পর্শ করলে তুমি শীতকাঁটা দিয়ে ওঠো
শিহরবিন্দুগুলো সারারাত জেগে থাকে
তোমার স্তনের কার্নিশে মাথা রেখে।
চব্বিশ.
এক অনন্ত টান।
নাভিকুণ্ডলীর গর্তে অনন্তসাঁতার কাটছি।
পঁচিশ.
তুমি এসে মনখারাপের দিনগুলো সাজিয়ে দিলে ফুলে।
ছাব্বিশ.
রক্তের ভেতর তুমি প্রবাহিত নদী এখন
যার নাম প্রকাশপর্ণা।
কী স্রোত তোমার আমাকে তলিয়ে দিলে গহীনজলে।
সাতাশ.
আজ এই বর্ষাভরা আবহাওয়ায় মন চায় কেবল চায় ফিরে ফিরে চায় শুধু তোমাকেই।
আঠাশ.
টিপটিপ টিপটিপ বৃষ্টি ঝরুক চলো কোথাও ভিজি।
ঊনিশ.
একদিন মেঘ কেটে উঁকি দেবে চাঁদ
তোমার চাঁদের আলোয় আলোকিত উপগ্রহ আমি।
আমিও আলো চাই।আমিও বিদ্যুৎ চাই।
আমিও একটু উষ্ণতা বিলাতে চাই তুমি যখন
মেঘলা দিনে শীতকাঁটা দিয়ে ওঠো।
তিরিশ.
সকাল সন্ধ্যা নিশিদিন তোমার সুরে বেজেই চলছে আমার হারমোনিয়াম।
একত্রিশ.
এই স্বর্গীয় সময় আজীবন বুকে রাখবো কস্তরীঘ্রাণের মতো।
বত্রিশ.
ভালোবাসা মূহুর্তের কাছে মূহুর্তের নক্ষত্রপতন।আলোর বিস্ফোরণ। একটি নক্ষত্রের ভেতর আরেকটি নক্ষত্রের মিলন।সে এক আশ্চর্য আবিস্কার। গ্যালিলিও বৈজ্ঞানিক ছিলেন নয়তো নক্ষত্রের এই নক্ষত্রে মিশে যাওয়াকে রতিক্রিয়া বলতেন।
তেত্রিশ.
তোমার মনে বাজুক একটিই নাম
সারাক্ষণ সারাদিন গোবিন্দ গোবিন্দ কৃষ্ণ নাম।
চৌত্রিশ.
এত ভালোবাসা বারবার টানছো তুমি
মনে হয় সব ছেড়েছুঁড়ে চলে আসি।
মিলি কোথাও।ঢুকে যাই তোমার আত্মায় আমি।
আমার আত্মায় ঢুকে যাও তুমি।
যেন গোবিন্দ পর্ণাশ্রী উপাধি পায়।
আর অপর্ণা গোবিন্দ পায়।
এই হোক আগামীর প্রত্যয়।
এই হোক ধ্রুবাবর্ত কালখণ্ড।
১৬:০৬:২০২৩
বেলা:১১টা
ডেমছড়া,বৃক্ষরাম।
পঁয়ত্রিশ.
রুদ্র হিল ফরেস্ট রিসোর্টের সেই লজ্জাবতী মেয়েটি
যাকে ছুঁয়ে দিতেই শীতকাঁটা দিয়েছিলো
সে-ই আমার প্রকৃত প্রেমিকা
আপাতত আমি তার প্রেমিক।
এছাড়া আর কোনো পরিচয় নেই আমার।
ছত্রিশ.
এই বৃষ্টিঝরা বাদলা আষাঢ় তুমি কোথাও নেই।
অথচ তোমায় কদমফুলে ঢেকে রাখি মন চায়।
তুমি ফুলের পাপড়ি ঝেড়ে উঠবে
জন্মদিনের পোশাকে।
দুহাত বাড়িয়ে বুকে জড়িয়ে ভরিয়ে দিতাম আদরে।
প্রথম আষাঢ় আজ প্রথম আষাঢ়।
আজ তুমি নেই কাছে।
সাঁইত্রিশ.
আমি অপেক্ষায় আছি।তুমি সুর দিলে আমি বেজে উঠবো ত্রিপুরী খামের মতো।
আটত্রিশ.
তোমার অন্তরে বসাও আমার সুর
আমি যেন বেজে উঠি,সকাল থেকে রাত্রি।
সারাক্ষণই বাজিয়ে রাখো একতারাটি হাতে রেখো
অন্তরে এক বাউল থাকুক
সে যেন বাজিয়ে রাখে একতারাটি।
আমার নিকট সুর পাঠিও সুরের মুর্ছায়
আমি যেন অনন্তকাল ঘুমিয়ে থাকি
তোমার বুকের মায়ায়।
বুকে তোমার যাদু আছে
যাদুকাঠি ছুঁইয়ে দিও মনের মনিকোঠায়।
আমি কেবল তোমার সুরে বাজতে চাই
সারাক্ষণই সারাদিনই।
২৩:০৬:২০২৩
ঊনচল্লিশ.
তোমার শরীর ফিট। মন সবুজ।সুন্দর মন।ভাবনায় পরিপক্বতার ছাপ।কোথাও তো বাড়তি কিছু নয়।সব ঠিকঠাক। প্রয়োজন মতো ডিজাইন করেই রুদ্রহিল পাঠিয়েছে প্রকৃতি। অনাহূত চোখের আলোয় দেখে ফেলেছি বন্যসুন্দর।
চল্লিশ.
পাগলী ও পাগলী এমন করো না প্লীজ
আমি আর কে বলো?
সামান্য বালক। কোথাকার কে এক জুমের ছাই!
মাউস ক্লিক করো,প্লীজ, ডিলিট করো অতিরিক্ত ফাইল।
সে তো আর কেউ নয় তোমার।
সে এক উন্মাদ সময়ে ক্ষণিকের অতিথিমাত্র
যার হৃদয়ে অসংখ্য বিষাক্ত ছোবল আর দংশন লেখা।
যার কোন ক্ষোভ নেই রাগ নেই অভিমান নেই
জড়যন্ত্র এক অবিকল না-মানুষ না -মানুষ আমি
তার জন্য কেন এই মিথ্যে মায়ায় জড়াবে?
এক উড়ুক্কু আমি মসৃণপথ পিচ্ছিল করা নষ্ট বালক।
এমন কিছু চাই না প্লীজ, কেউ অভিমান করুক।
কখনোই কোনো মেয়েমানুষের অভিমান পায়নি পাইনবন।
তুমি অভিমান করে না খেলে মোমের মতো গলে জল হয়ে যাবো।
প্লীজ প্লীজ শক্তকাঠ থাকতে দাও,জড় থাকতে দাও।
যন্ত্র থাকতে দাও।
ভেতর অসংখ্য পশু বিচরণ করুক লংতরাই রিজার্ভফরেস্টে
যেভাবে পাগলা হাতি মাঝে মাঝে লোকালয়ে
ফসল নষ্ট করে
আমিও কি তেমন হলে তুমি সুখী হবে প্রিয়জন?
আমিও কি পুরুষ থাকবো?
সমস্ত পুরুষগুলো ক্লীবত্বে জড় হয়ে উঠুক।
কখনো চাই না -কেউ একজন ফুঁসে উঠুক
রাগ করুক অভিমানে নাওয়াখাওয়া বন্ধ করে দিক।
আছি তো বিন্দাস আছি এই যে প্রকৃতই কারো ভালোবাসা না পেয়ে পাথর হয়ে গেছে মিলনপল্লীর কুটুমবাড়ি।
তাতেই তো ভালো থাকা যায়।
কেন তবে মিছামিছি নিজেকে কষ্ট দেবে
রুদ্রহিলের ফরেস্ট মেয়েটির মতো চনমনে থেকো
বরের নিকট কাছে কাছে থেকো
প্রতিমুহূর্তে সঙ্গ দাও রিফিউজি লতার মতো।
ছেলেটির পাশে থেকো ও যেন তার মাকে বিশালতায় ভাবতে পারে।
আমি তো নগন্য বালক।
মৃত্যুর পর কৃষ্ণাদ্বাদশীর চাঁদ উঠবে দেখো।
লালসূর্য বিশাখাপত্তনমের আরুক্কুর জল ডিঙিয়ে ঠিকঠাক উঠবে দেখো।
লালকেল্লায় পতাকা উড়বে বাতাসের গান বেজে বেজে যাবে।
কোথাও কিচ্ছুটি থেমে থাকবে না লক্ষ্মীমেয়েটি, প্লীজ রাগ করো না।
জানো মাঝে মাঝে নিজেকে আরো শাস্তি দিলে ভালো লাগে।
সিসিফাস পাথরের মতো এ জীবন গড়িয়ে পড়ে
যতই উচ্চতায় উঠুক ঠিক দেখো
একদিন তো এমনিতেই অনিবার্য মৃত্যু এসে
ছুঁ মেরে নিয়ে যাবে ভোরের সংলাপ।
সমস্ত রাগ অভিমান কে করবে কার জন্য?
আমি কে কেন বুঝো না প্লীজ এমন করো না আনন্দবালিকা।
বরকে সময় দাও।ছেলেকে নিয়ে হইচই করো।
ও তো আগামী পৃথিবীর বহু মানুষের সেবক।
তাকে মাতৃত্বের স্নেহ দাও।স্নেহহাত মাথায় বুলিয়ে দাও।
ওকে তুমি মানুষের মতো বড় করে দাও।
তুমি রাগ করো না প্লীজ লক্ষ্মীমেয়েটি।
দুদিনের ছানাপোনা অশ্লীল বালক।
জানো এই জীবনে কেউ অভিমান করেনি।
তুমি তো কারো মেয়ে।কারো মা।কারো কাছে ক্লিওপেট্রা।
আমি এক নগন্য যন্ত্র বালক।
এ জীবনে কারো কাজে আসিনি।
তবুও কেন তুমি তাহার জন্য কষ্ট পাবে বলো?
প্লীজ প্লীজ প্লীজ প্লীজ প্লীজ প্লীজ প্লীজ তুমি খেও।
তুমি না খেলে নষ্ট বালকের মন খারাপ হয়।
তুমি না খেলে আমি পাগল হয়ে যাবো।
তুমি না খেলে আমি যেন আরো তাড়াতাড়ি মরে যাবো।
বিশ্বাস করো কেউ অভিমান করেনি কোনোদিন।
তুমি প্লীজ প্লীজ প্লীজ এমন করো না প্লীজ।
আমি কে বলো তো।বরং তারপরেও অকৃত্রিম ভালোবাসার হাত এসে ছুঁয়ে ছিলো হাত।
এ তো কম নয়।
এই হাতে স্পর্শ লেগেছে রুদ্রবালিকার
এই হাত আমি আর জীবন্ত চাই না।
জীবিত হাত কারো কপাল ছুঁয়ে দিলে
মনে মনে কষ্ট পাবো।
বিশ্বাস করো নির্মল নিষ্পাপ ক্লিওপেট্রা মেয়ে তুমি
আমার মানুষগুলো জেগে জেগে উঠবে
তুমি আর শিষধ্বনি দিও না প্লীজ।
তোমার মসৃণ পথ ধরে তুমি সামনে এগিয়ে যেতে যেতে আরো সামনে যাও।
বরের নিকট মেলে দিও ইলিশরূপ।
আমি তো অভিমান করিনি।
দেখো আমি তো ভালো আছি।
অনাথ বালকের কথা মনে রেখে না খেয়ে উপোস করবে?
অনেক কথা বলেছি।তুমি ডিলিট করে দিও।
আমার আমিকেও ডিলিট করে নিও মাউসের এক ক্লিকে।
মাউস ক্লিক করো,প্লীজ, ডিলিট করো অতিরিক্ত ফাইল।
পয়লা জুলাই ২০২৪?৩
সকাল:৯:১৫মি
বৃক্ষরাম চৌধুরী পাড়া।
একচল্লিশ.
আমার কোনো অভিমান হয় না
আমি তো কবেই জড়বস্তু।
পদার্থবিদ্যার ভাষায় জড় তো জড়ই।
তার কোন মান অভিমান নেই।
তবু সারাক্ষণ সারাদিন চাই সুস্থ থেকো।
সুন্দর থেকো।
বর ও ছেলেকে নিয়ে হইচই আনন্দ উল্লাসে থেকো।
বন্ধুদের সময় দাও।
আমার মান অভিমান থাকতে নেই, কাম-লা মানুষ তো।
বিয়াল্লিশ.
তুমি নগন্য কে কোথাকার তার জন্য বরের পাশে বসে না খেয়ে উপোস করবে?
এতো পবিত্রতা নয়।
সত্যি সত্যি চাই না এমন কেউ জীবনে আসুক
যে অভিমান করবে।উপোস করবে।
আমি চাই আমাকে ক্লিক করে ডিলিট করে দাও।
তেতাল্লিশ.
কেন তোমাকে ডেকেছি।কেন ডাকলাম।
নিজেকে কষ্ট দিই,হুল বসাই।। কারো জন্য নয়।
নিজের রক্ত থেকে যেনো রক্তবীজ না জন্মে আর।
যদি না ডাকতাম তো তো আমিও পাঁচজনের মতোই
দৌড় প্রতিযোগিতার একজন বালকই শুধু
আর কিছু নয়।আর কিছুই নয়।সুতরাং
নিজের ভেতর থেকে হিসহিস ঝরিয়ে দিতে
নিজেই নিজের ওঝা সাজি।
চুয়াল্লিশ.
যতদিন বাঁচবো সুখী ও সুন্দর রুদ্রবালিকার মুখের আলো
এমন চাওয়াকে ভালোবাসা বলো না,প্লীজ।
মায়া পেলে মাথায় উঠে যাই।তাই আর মায়ায় জড়িও না।
রিগিং করে দিও স্ল্যাং উচ্চারণে।
ভালোবাসার ভিখারিবালক।ভালেবাসা পেলে গলে পড়ে মোম।
শরীরের জল ছুঁইয়ে ভিজে যায় চোখ।
পয়তাল্লিশ.
আর কাছে নয় দূরে দূরে থেকো,রুদ্রহিল ফরেস্টের
সবুজ গাছগাছালির পাতায় বিকেলের আলো
নেমে যে মায়ামুখ এগিয়ে দিয়েছো ঠোঁটে, এমন
করো না প্লীজ।এমন জোয়ার এলে হৃদয় উৎলে ওঠে।
সকল সঞ্চয় নাও উৎসর্গ করেছি সাদা পৃষ্ঠায়।
ছেচল্লিশ.
আর কাছে ডেকো না।
তবুও সমস্ত কাজেই আছি কাম-লাআমি।
কামকলা জানি না কাম তো জানি
পদার্থের নিবিড় পরিচর্যা করে জেনেছি
তাকেও শিলালিপি করে নেওয়া যায়।
আটচল্লিশ.
আধোঘুমে আধোসজাগ সেই সময় এক কাপ চায়ের জুড়ি নেই।
তখন কখনোই বন্ধু বন্ধুকে দিতে পারে না।সময় শুধু প্রিয় মানুষ প্রিয় মানুষকে বলে,এসো চা নাও।
খুব ভোরে মনে হয় তুমিই এগিয়ে দিচ্ছো দুর্গাবাড়ি চা।
চা খেতে খেতে বিলি কাটা সময় ঘুমায় আই জি এম গেটে।
ঊনচল্লিশ.
মনের পাখিটি খাঁচায় রেখেছি
মুক্ত করেছি বিহঙ্গবালিকা।
একা আছি জীবন সংবেদ থেকে
বহুদূর। যেখানে আকাশ নামে না মাটিতে।
আমি কেবল নেমে যাই ভূকম্পন অঞ্চলে।
আশীর্বাদ মুদ্রায় রাখি শঙ্খলাগা সময়।
পঞ্চাশ.
আমি আমার বুকের ভেতর কিছু পাথর বসাই, বাঁধাই
করি রকমমারি ইচ্ছেগুলো যেন ডানা না মেলে আকাশ ছুঁতে পারে।
এ কাজে মিস্ত্রির ভূমিকা নিলাম।
বুকের ভেতর কিছু সহজ তরল বিদ্যুৎ ছিলো
তার তরঙ্গের স্রোত প্রবাহিত হতো অবিরাম।
আমি এসটি এলটি লাইন প্রথমে কেটে দিলাম।
তারপর পাথর বসিয়ে প্লাস্টার বাঁধাই করেছি।
এখন আর বিদ্যুৎ চমকায় না।
বুকের বাম পাশের হৃদয়টাকে লাভডুব থেকে
লাভ বাদ দিয়ে জলজডুব দিয়ে বহুদূর
চলে যেতে হবে যখন থেকে বুঝেছি
তখন থেকেই লাভ চিহ্ণ কেটে দিই।
ডুব সাঁতারে ফাঁড়ি দিলাম অচিন পাখির দেশে।
০২:০৭:২০২৩
কুমারঘাট।
একান্ন.
বেরিয়ে গেছো,নিশ্চয়ই, শুনো,লিখি দিনলিপি।
তবু কেন মনে হলো,সব কিছু নিয়েছো তো?
তোমার নাইটড্রেস,পেন্টি,ব্রা
ব্রায়ের হুগ পড়েনি তো পাঁচতারায়?
বরের সব কিছু গুছিয়ে দিও।
সাধারণত পুরুষ চিরকাল অগোছালো।
হয়তো কার্নিশে ফেলে রেখেছে শর্টস,ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে স্মোকিং লাইটার।
এগুলো নিও।
হাতের কাছে রেখো লিপস্টিক, চিরুনী, হাত-আয়না।
তোমাকে লিপস্টিকে দিব্যাভারতী লাগে।
মনে হয় নায়িকা নায়িকা।
আর নায়িকাদের নিটোল থুতনি, ধারালো নাক।
বক্ষ বটবৃক্ষের মতো টান টান।
তুমিও জোনিকার আলোয় দৃশ্যমান, নাইটকুইন।
সারারাত জেগে থাকি কখন পাপড়ি মেলে
আকাশের নীল ছুঁয়ে সেজে উঠবে, শুকতারা।
০৩:০৭:২০২৩
ভোর:৬টা৩০মি
কুমারঘাট।
বায়ন্ন.
সব শাখা থাক প্রশাখা থাক
আমিও সবুজে সবুজে পল্লবিত তরুরাজি ভাবি
তাই মনের গোপন কোঠর থেকে নৈশশিষ পাঠাই।
আমিও দূরত্বে গিয়ে উচাটন শরীর -মন।
হৃদয়ে অসুখ করেছে খুব।
যেন ড্রজার খুবলে নিচ্ছে বুকের মাংস পেশি হাঁড় গুড়।
দূরত্বে থাকা জরুরী অথচ দূরত্বের পরিধি বাড়িয়ে বুঝেছি
বুকের ভেতর সবুজবীথি রেখে
জুমের ছাই হয়ে যাক
এ কোনো মহত্তম অর্জন নয়।
এরকম সন্ন্যাস হয় না।
মনের অসুখ সারাতে হলে প্লাকপয়েন্ট লাগেই।
পিকপয়েন্টে একটু বিশ্রাম সেরে
শেষ ঘুমস্টেশন অব্দি যেতেই হয়।
না হয় হবে না সন্ন্যাসযাপন
ঠিক থাকে না-বেঁচে থাকার নীড়।
ঝড়ের রাতে ভেঙে যায় বাবুইপাখির বাসা।
সুতরাং তুমি বলো-এ জীবন থেকে
যে পাঠ পেয়েছি-তাকে শিক্ষা বলবো
নাকি এখান থেকেই হঠাৎ শিমূলডাল ভেঙে দিয়ে
অন্য কোথাও অন্য কোথাও জীবনের স্যুইচঅব করে চুপ নিভে যাবো?
০৩/০৭/২০২৩
সকাল:৮টা২৫মি
ডেমছড়া।
[তিপ্পান্ন.
লিখে যাও জীবন সংগীত
বাজাও হারমোনিয়াম
যদি বেজে ওঠে টুংটাং বাজুক।
লাজুকলতাটি আমার ছায়ায় শীতল রেখো
এই সমুদ্রশিৎকার।
রেখেছি বুকের ভেতর অজস্র ডলফিন
যদি লাফিয়ে আদর করে সমুদ্র সৈকত
তুমিও বিলিকেটে দিও
মসৃণ শরীর।
ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভেসে যাক জলের শরীর।
তুমিও ভিজিয়ে নিও চরণসুন্দর।
এতদিন জেনেছি বিশ্বাস হাঁটুভাঙা দ
অথচ তোমার হাঁটুর স্ক্রিনশট থেকে
ঝরে পড়ে মৎসমেয়েটির রূপ।
রূপের ঝিলিকে নাচুক গভীরে লুকানো সমুদ্রকল্লোল।
০৩/০৭/২০২৩
সকাল:৮টা৪৫মি
ডেমছড়া।
চুয়ান্ন.
একটু কণ্ঠস্বরে কত অসুখ নিরাময় হয়
তুমি জানো না?জানো না তুমি?
আমার অসুখে আমি পুড়ি।
তুমি তখন হাওয়াগাড়ি চড়ে উড়ছো মেঘের দেশে।
মেঘেরা মেয়েমানুষের মতো।
এই ক্লিওপেট্রা তো এই রুদ্রবালিকা
এই সাদা দাঁত বের করে লুটোপুটি তো এই কালোহাঁড়িমুখ।
মেঘেরা বালিকা হলে বালকেরা জ্বলে মরে
বৃষ্টি পড়ুক টাপুরটুপুর বৃষ্টি পড়ুক টাপুরটুপুর
মেঘবালিকা একটু বৃষ্টি পাঠাও।
আমার খাঁ খাঁ অন্তর পুড়ে আষাঢ়ের খরায়।
পঞ্চান্ন.
দিনলিপি লিখি না আমি, লিখি
আমাকেই আমি।লিখি সমুদ্র সৈকতে
লাফানো ডলফিন।টানেলের অন্ধকার।
আরক্কুর মেঘ সরাতে সরাতে লিখি বৃষ্টিদুপুর।
০৩/০৭/২০২৩
সকাল:০৯টা৩০মি
ডেমছড়া
ছাপ্পান্ন.
অবাধ্য আকাশ,কত রঙে সাজো
আমার আকাশের নীল ছুঁয়ে দেওজলে মিশে থাকে।
তোমার আকাশ হাওড়ায় জলে রামধনু আঁকে।
দুজনের আকাশ মূলত একই রঙে সেজে ওঠে বিকেলের মরারোদে।
মনের দূরত্ব নেই অথচ আকাশগঙ্গার স্রোত কল্লোল তুলে
সেই তরঙ্গে ভেসে ভেসে যায় আসে
সম্ভাবনাময় মেঘ।
কখন বৃষ্টি পড়বে টুপটাপ ফোঁটা ফোঁটা আশমান থেকে জমিনে।
ভূকম্পন অঞ্চল সে খবর জানে নিশ্চয়ই।
তবুও তুমি এক আকাশ মেঘ নিয়ে বসে থাকো কেন?
একটু বৃষ্টি পাঠাও বৃষ্টি ঝরাও ভিজবো।
০৭:০৭:২০২৩
সন্ধ্যা :৭টা
কুমারঘাট।
সাতান্ন.
সমুদ্রের শিৎকারধ্বনি শুনেছো তুমি?
আটান্ন.
আধোঘুমে আধোসজাগ সেই সময় এক কাপ চায়ের জুড়ি নেই।
তখন কখনোই বন্ধু বন্ধুকে দিতে পারে না।
এ সময় শুধু প্রিয় মানুষ প্রিয় মানুষকে বলে,এসো চা নাও।
খুব ভোরে মনে হয় তুমিই এগিয়ে দিচ্ছো দুর্গাবাড়ি চা।
চা খেতে খেতে বিলি কাটা সময় ঘুমায় আই জি এম গেটে।
ঊনষাট.
দিনলিপি লিখি
বেরিয়ে গেছো,নিশ্চয়ই, শুনো,লিখি দিনলিপি।
তবু কেন মনে হলো,সব কিছু নিয়েছো তো?
তোমার নাইটড্রেস,পেন্টি,ব্রা
ব্রায়ের হুগ পড়েনি তো পাঁচতারায়?
বরের সব কিছু গুছিয়ে দিও।
সাধারণত পুরুষ চিরকাল অগোছালো।
হয়তো কার্নিশে ফেলে রেখেছে শর্টস,ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে স্মোকিং লাইটার।
এগুলো নিও।
হাতের কাছে রেখো লিপস্টিক, চিরুনী, হাত-আয়না।
তোমাকে লিপস্টিকে দিব্যাভারতী লাগে।
মনে হয় নায়িকা নায়িকা।
আর নায়িকাদের নিটোল থুতনি, ধারালো নাক।
বক্ষ বটবৃক্ষের মতো টান টান।
তুমিও জোনিকার আলোয় দৃশ্যমান, নাইটকুইন।
সারারাত জেগে থাকি কখন পাপড়ি মেলে
আকাশের নীল ছুঁয়ে সেজে উঠবে, শুকতারা।
০৩:০৭:২০২৩
ভোর:৬টা৩০মি
কুমারঘাট।
ষাট.
লিখো,জীবন সংগীত
লিখে যাও জীবন সংগীত
বাজাও হারমোনিয়াম
যদি বেজে ওঠে টুংটাং বাজুক।
লাজুকলতাটি আমার ছায়ায় শীতল রেখো
এই সমুদ্রশিৎকার।
রেখেছি বুকের ভেতর অজস্র ডলফিন
যদি লাফিয়ে আদর করে সমুদ্র সৈকত
তুমিও বিলিকেটে দিও
মসৃণ শরীর।
ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভেসে যাক জলের শরীর।
তুমিও ভিজিয়ে নিও চরণসুন্দর।
এতদিন জেনেছি বিশ্বাস হাঁটুভাঙা দ
অথচ তোমার হাঁটুর স্ক্রিনশট থেকে
ঝরে পড়ে মৎসমেয়েটির রূপ।
রূপের ঝিলিকে নাচুক গভীরে লুকানো সমুদ্রকল্লোল।
০৩/০৭/২০২৩
সকাল:৮টা৪৫মি
ডেমছড়া।
একষট্টি.
দিনলিপি লিখি না আমি, লিখি
আমাকেই আমি।লিখি সমুদ্র সৈকতে
লাফানো ডলফিন।
বাষট্টি.
অভিমান, সারারাত মেঘ হয়ে ছিলো।
একবারও কেউ বৃষ্টি পাঠাবে না?
ভিজিয়ে দেবে না?
এত মায়াহীন হলে আমি আরো শিলালিপি হয়ে যাবো।
তেষট্টি.
আমি যে তুমি তুমি তুমি অসুখকাতর
তুমি বুঝো না?জলকন্যা একটু আরোগ্যজল পাঠাও।
চৌষট্টি.
তুমি এসে বুকে দাও মাথা
আমিও আদর করি,ভাইজাক পাহাড়।
পয়ষট্টি.
তুমি এসো বসো আমার উপর
কোলের মাঝে,মাথা রাখো বুকে।
আমি স্পর্শহীন সুন্দর অনুভব করবো।
মেঘমেদুর টিলাগড় পয়েন্টে পড়ালেখা করে
আমিও কিছু শিখি, এসো।
ছেষট্টি.
আমি সুন্দর দেখবো বললেই
তুমি দিদিমণি হয়ে যাও।
আমি কি এতই বুঝি না
প্রতিদান পাঠ দাও পদার্থের সজলতা?
সাতষট্টি.
আমিও এরকমই টা টা দিয়ে
কোথাও চলে গেলে
বেশ তো ভালোই হতো।
কেন জানি মনে হয়,আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, এবেলা বৃষ্টি আসবে।
আটষট্টি.
আমার বাবার মৃত্যুর পর আমি ১৮ বছরে শিক্ষক। অসংখ্য মেয়ে প্রপোজ করেছে।বাবা নামক সূর্যটা ডুবে গেলে অসমাপ্ত কাজগুলো করার তাগিদে আমিও প্রত্যাক্ষাণ করেছি সম্ভাবনাময় ইশারা।
#
আমরা পাঁচ বোন তিন ভাই।
তিন বোনকে বিয়ে দিতে শিক্ষা সমাপ্ত করতে
যখন জীবনকে বাবার জায়গায় নিয়েছি
তখন আমার সামনে ইশারামেঘ ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিলেও আমি নিতে পারিনি।
কারণ বোনদের জীবনের চেয়ে নিজস্ব চাওয়াকেও আমি তুচ্ছ করে দিয়েছি।
#
তাদের বিয়ে দিয়ে বড় ভাইয়ের বিয়ে হওয়ার পরেও আমি মেঘেদর প্রপোজ ফিরিয়ে দিয়েছি।
#
তারপর মায়ের কথা রাখতে গিয়ে যাকে জীবনসঙ্গীমেঘ
মনে করেছি তার নিকট ভালোবাসা নেই।
অনুভব নেই।
পাথর প্রতিমাকে আমি ভালোবাসতে পারি না।
আমার হয়তো তাড়ানা থেকে গৌরব এসছে।
কিন্তু ওর মায়ের ভাষায় অনুবাদ করা মেঘ
তার কোন এক্টিভিটি নেই।
কোনো ফোরপ্লে নেই। অর্গাজম কি বুঝে না।
কোন এনজয়মেন্ট উপভোগ করাও নেই।
এমন হতে হতে লংতরাই রিজার্ভ ফরেস্টে
ধ্বস নেমেছে বিশ্বাস করি না ইশারাকাতর মোহিনীমেঘ
ভালোবাসলেও যে মেঘেরা বুঝে না।
মেঘেরা বালিকার মতো সৃষ্টির এক রহস্য।
আমি ততো রহস্যময় নয়।
রহস্যের মাঝে নিজেকে নিতে পারি না।
বুদ্ধি প্রয়োগ জানি না।
হৃদয়ের অনুভব যাদের নিকট ফালতু তাদের নিকট যাই না।
আমার ভালো লাগে না।
আমি এই জন্য আর বৃষ্টিতে আর ভিজিনি।
#
তুমি থাকো।তোমার মতোই থাকো।
শুধু শুধু নিজেকে জড়াও কেন।
#
কেননা এত সব দায়িত্ব পালন করার পর বুকের ভেতর অনেক স্বপ্নমেঘ পুষতে পুষতে মেরে ফেলেছি
স্বপ্নগুলো মেরে ফেলতে হয় তখন আর নিজেকেই বাঁচিয়ে রাখার মানে থাকে না।
#
এখন প্রতিদিন একটু একটু নিজেকে মেরে ফেলি।
প্রতিদিন আগে বাঁচতে চাইতাম।
এখন প্রতিদিন এই এক্ষণ মরে গেলেই বেঁচে যাই,বুঝি।
কিন্তু আত্মহত্যা পারি না।
তাই তিলতিল করে করে নিজেকে মারি।
নিজেকে কষ্ট দিই।
অন্যকে কষ্ট দেওয়া আমার অধিকার নয়।
আমার স্বপ্ন অন্যের ঘাড়ে মাথায় চাপিয়ে বাঁচতে চাই না।
আমি নারীকেও সম্পত্তি মনে করি না।
মেয়েদেরকে শ্রদ্ধা করি।
সম্মান করি।
তাদের অসম্মান করা আমার পুরুষত্ব নয়
এটুকু সভ্যতার আলোকগ্রাম বাবা শিখিয়েছেন।
#
সুতরাং একদিন মনের অজান্তে বৃষ্টিকে ডেকেছি
ভিজবো বলেই নয়।
তোমাকে নির্ভর করে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চাইবো
এই অনুভব থেকে। ধর্ষকবৃষ্টি নামাতে নয়।
আমি জানি বাজারেও মেঘ পাওয়া যায়।
প্রেম ভালোবাসা স্নেহ বৃষ্টি বাজারজাত নয়।
আর বাজারের কাছ থেকে বৃষ্টিজল চাই না।
#
যেখানে মানুষের সম্মান নষ্ট হয় সে জায়গায়
নিজেকে যুক্ত রাখতে পারি না।
আমার মন মুখ সাদা পৃষ্ঠা।
লুকোচুরি পছন্দ করি না।
কাউকে আঘাত দিলে নিজেই ভেঙে পড়ি।
#
সুতরাং তুমি ভুলে যাও মেঘমেঘ কাতুকুতু।
আমি এক অনাহূত। যার কাছে কিছু নেই।
যার কাছে এলে তুমি অপবিত্র হবে মনে করো
তার নিকট কেন আসবে তুমি?
কেন তার বন্ধুত্বই চাও।
আমি কারো বন্ধু হতে পারি না
আমি পুরুষ।
পুরুষমেঘ বৃষ্টি মেয়েদেরকে সম্মান জানে নাকি?
তুমিও এক অসতর্ক মুহূর্তের জন্য অনুতপ্ত হয়ে
সব কিছু জলাঞ্জলি দাও হাওড়ার জলে।
আজই।
এরপর আর কোনো কথা নেই।
যোগাযোগ নেই।
সমস্ত কিছু এক দুঃস্বপ্ন ভেবে ভুলে যাও।
নিজেকে গুছিয়ে নাও।
আমি আমিই।
আমাকে আমার মতো রাখি।
তোমাকে তুমি পবিত্র রেখো।
সংসারে মন দাও।
বরকে আরো সময় দাও।
বাবাকে নিয়ে সময় কাটাও।
আমি বলে কিছু ছিলো না
এখনো নেই।
ঊনসত্তর.
যে শহরে বৃক্ষের আবক্ষ প্রতিকৃতি, বসে না
বৃক্ষের আবক্ষ প্রতিকৃতি বসে না যে শহরে
সে শহর থেকে সব পাতা ঝরে গেলে,রবীন্দ্রপল্লী
গেয়ে উঠবে সারেগামা।
শেষমেশ হাছাহাছা একদিন পাতা ঝরে যায়
পাখিরা বসে না আর মরা শাখায়,হাগ
ভেদ করে শূন্যতা নামে লংতরাই রিজার্ভফরেস্টের
পাদদেশে। গভীর আন্ধার করে মেঘ নামে
গাভিন উলানের মতো বৃষ্টির ঝিলিক দিয়ে
হয়তো শ্রাবণের মেঘগুলো প্রেমিকার মতো
জুলাইয়ের শরীর থেকে খসে পড়ে একতারা পাতা
রিয়্যালি কিছুই গ্রীবা উঁচু করে বাঁচতে পারে না।
সব পাতা ঝরে যায় ঝরে পড়ে জুমের আগুনে।
এইসব রাজনৈতিক মৃত্যু তো জুনের শেষে
জুলাইয়ের শেষে মগডালে লটকে থাকা
শেষ পাতাটিও পড়ে গেলে তিনতলা বাড়িটার উপর থেকে দেখো বটতলাগামী শববাহী গাড়িতে
বৃষ্টিঝরা শ্রাবণের গভীর রাতে নিভু নিভু আলো
জ্বালিয়ে চালক নিয়ে যাবে মরাগাছ
শহরের কোলাহল থেকে বয়ে নিয়ে যাবে
বৃক্ষটির মতো তার কোনো আবক্ষ বসবে না
আই জি এমের পুরোনো গেটে কিংবা লংতরাই রিজার্ভফরস্টে।
০৪:০৭:২০২৩
রাত:০৭টা৩৫মি
কুমারঘাট।
[05/07, 06:48] SROT PRAKASHANA:
সত্তর.
শ্রীমতি পর্ণশ্রী রায়
আগুন সেজেগুজে তুমি আকাশের নিকট নতজানু
অথচ বৃষ্টিহীন এই শ্রাবণ ট্র্যাজেডি মহাকাল
জুলাইয়ের এক বৃষ্টিস্নাত রাত নামে
আষাঢ় আষাঢ় কোথায় আষাঢ়
চারদিকে আগুনের ধোঁয়া ওঠা পর্ণশ্রী রায়।
০৫:০৭:২০২৩
ভোর:৬টা৩৫মি
কুমারঘাট।
[05/07, 07:24] SROT PRAKASHANA:
একাত্তর.
আমার কোনো দেশ নেই
আমার কি আর ভূগোল আছে?
দেশ আছে?
একজন ভূগোলদিদিমণির নিকট
দেশ দেখাতে বলায়
তিনিও ক্ষেপেছিলেন।
তারপর থেকে আর দেশ চাইনি।
আমি এখন সীমান্ত অতিক্রম করে উড়ে যাই
যেখানে কাঁটাতার নেই।
দেশ দেশ ঘ্রাণ এসে জুড়িয়ে দেয় ভূগোল।
০৫:০৭:২০২৩
সকাল:৭:২০মি
কুমারঘাট।
বাহাত্তর.
আমাদের পূর্ব পুরুষের দেশ বাংলাদেশ
তাঁদের সকলেই কৃষক।
আমিও ছোটবেলা ধান থেকে তিল
শষ্য ডাটা পাটশাক
কপি থেকে তামাক সবই চাষ করতাম।
এখন কৃষিকাজ জানি না বলে
শ্রীমতি পর্ণা তার জমিন পতিত রাখে
আমিও অবাক হাঁটি ছাদকৃষকের কৃষিকাজে।
শুধু আমার উর্বরভূমিতে কত ফসল নষ্ট হয়
তোমার চাষের আওতায় নেই বলে।
তিয়াত্তর.
স্কুলে আসতে আসতে হঠাৎ পথ ভুলে গেছি।
মাথার সকল ডাটা উড়ে গেছে।
শুধু তোমার পাঠানো টুংটাং আওয়াজ এসে
সারেগামাশরীর জেগে ওঠে।
চুয়াত্তর.
এমনই হয় মায়া কেটে গেলে
প্রাথমিক মায়া কেটে গেলে
আর মনে রাখে না শীতকাঁটা বিকেল
রুদ্র হিল ফরেস্ট রিসোর্টের বনজঙ্গল
ধীরে ধীরে আবছা হয়ে আসে।
তখনো গভীর আলিঙ্গনের রোদ এসে
বিদ্যুৎ খেলে গেলে ঠোঁটের কি দোষ বলো?
আমিই চমকাতে থাকি তুমি নেই
এই পর্ণশ্রীকাতরতায়।
০৬:০৭:২০২৩
দুপুর:২টা০৫মি
কুমারঘাট।
পচাত্তর.
অবাধ্য আকাশ,কত রঙে সাজো
আমার আকাশের নীল ছুঁয়ে দেওজলে মিশে থাকে।
তোমার আকাশ হাওড়ায় জলে রামধনু আঁকে।
দুজনের আকাশ মূলত একই রঙে সেজে ওঠে বিকেলের মরারোদে।
মনের দূরত্ব নেই অথচ আকাশগঙ্গার স্রোত কল্লোল তুলে
সেই তরঙ্গে ভেসে ভেসে যায় আসে
সম্ভাবনাময় মেঘ।
কখন বৃষ্টি পড়বে টুপটাপ ফোঁটা ফোঁটা আশমান থেকে জমিনে।
ভূকম্পন অঞ্চল সে খবর জানে নিশ্চয়ই।
তবুও তুমি এক আকাশ মেঘ নিয়ে বসে থাকো কেন?
একটু বৃষ্টি পাঠাও বৃষ্টি ঝরাও ভিজবো।
০৭:০৭:২০২৩
সন্ধ্যা :৭টা
কুমারঘাট।
ছিয়াত্তর.
কৃষ্ণদ্বিতীয়ার চাঁদ, মেঘ সরাতে সরাতে এসো
গোবিন্দ ধর
মেঘে মেঘে ঢেকে রেখো কেন, চাঁদ।
মেঘ সরিয়ে দাও পূর্ণিমাআলো।
গুরুপূণিমা শেষে কৃষ্ণদ্বিতীয়ার চাঁদ
তাও রেখো ঢেকে মেঘে?
জানো তো অসংখ্য ছায়াপথে যেকোনো ছুতোয়
তুমি মেঘ সরাতে পারো
৯০ কোটি আলোকবর্ষ দূরের ছায়া
অথবা ৭০ কোটি আলোকবর্ষ দূরের ছায়া ছায়া জেলিফিস অন্ধকার দূর করে
কৃষ্ণদ্বিতীয়ার চাঁদ
তুমিই আমার আলোকবিন্দু
তুমিই আমার আনন্দবিন্দু অব্দি আলো পৌঁছে দিও।
০৮:০৭:২০২৩
ভোর:৪টা২৫মি
কুমারঘাট।
সাতাত্তর.
মাথাটি বুকের মাঝে একবার নিও।আমি সত্যি সত্যি ক্লান্ত।
একটু বিশ্রাম দিও।
এত ক্লান্তি এত ক্লান্তি তুমি বিলিকেটে দিও
আমি বহুদিন ধরে শান্ত শিশুটির মতো ঘুমিয়ে কাটাবো।
[09/07, 05:38] SROT PRAKASHANA:
আটাত্তর.
তৃতীয়ার চন্দ্রিমা আলোয় জেগেছি সারারাত
তুমিও ক্লান্ত ছিলে,নাইটকুইনের মতো।আমিও।
অপেক্ষা করতে করতে কখন তন্দ্রা এসে বিলিকেটে দিলো
আমি ঘুমিয়ে পড়লাম।
জেগেছি গভীর রাতে।
রাত তখন সবে ১২টা দশ মিনিট।
কিন্তু তখন কি আর উত্তর দিতে চাইলেও দেওয়া সঙ্গত বলো?
তাই আমি বাকী রাত বিনিন্দ্রায়
সজাগ থাকি।
এই বুঝি ভোর হবে,কাক ডাকবে।হঠাৎ কাক ডেকে উঠলো।
ভোরের সূর্য উঠবে উঠবে করছে।
আমিও সূর্যের মতো চোখ খুলছি।
আমিও একটু একটু করে উঠছি।
আমিও জেগে উঠতে চাই।
আমিও সারারাত ফুল ফুটুক চাই
আমিও নাইটকুইনের পাপড়ি মেলে ফুটে ওঠা দেখবো বলে
তৃতীয়ার চন্দ্রিমা আলোয় জেগে থাকি সারারাত।
০৯:০৭:২০২৩
ভোর:০৫টা০৫মি
লিচুবাগান, আগরতলা।
ঊনআশি.
ঝরুক আজ বৃষ্টি, পড়ুক মনের উঠুনজুড়ে
ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি।
আশি.
আমিই যখন হারিয়ে গেলাম অন্য কোথাও
অন্য পৃথিবীর আবর্তণে।
তখন টিপটিপ বৃষ্টি ঝরছিল।
তখন শ্রাবণের অপেক্ষা শেষে মেঘ উড়ে
আসে ভাইজাগ থেকে ভিজিয়ে দিলো
বুকের ভেতর পাহাড়গুলো।
আর যখন বৃষ্টি থেমে গেলো:হারিয়ে গেছি আমি।
আবার যখন বৃষ্টি নামলো
আমি তখন আমি কোথায় হারিয়ে গেছি আমি।
০৯:০৭:২০২৩
বেলা:১টা১৫মি
রাধানগর।
একআশি.
আমার হাত খুঁজছিল একটি শুকতারা
তবু অবাধ্য নয়।
আমি তাকে লালনপালন করি
আমিই লাগাম টানি।
তুমি তখন বুকের ভেতর ঢেউ খেলেছো
আমি তখন শ্রাবণ মাসের বর্ষা।
ইচ্ছে হলেও থামিয়ে রাখি বাদলা দিনের বৃষ্টি।
বিরাশি.
আমি খুব ক্লান্ত বুকের নিকট মাথা রাখতে চাই।
আমি কেবল ভিজিয়ে দিতে চাই।
আমি কেবল টাপুরটুপুর পুকুরপাড়ে
একটি জেতা কৈ।
হৃদয়পুরের পুকুরজলে মাছটি আমি
তোমার জলে ছেড়ে দেবো
সাঁতার কেটে বেড়াক।
[09/07, 15:47] SROT PRAKASHANA:
তিরাশি.
জিবের ডগায় কিংবদন্তির মতো স্মৃতি স্রোত জাগছিল।
#
এত সুর শরীরিতরঙ্গে আমি বেজে বেজে উঠেছি।
চৌরাশি.
ইচ্ছে ছিলো তোমার যোনীকাশে বিলি কাটি
আঙুলের ডগায়।
#
তুমি যদি নেচে ওঠো
আমার বাজনায় আমিও ঝরাতে পারি
পঁচাশি.
ভারতবর্ষ
পতাকা সর্বময় দেশে
আমি আপনি সবাই
কলাপাতার মতো মরমে ছিঁড়ে গেলেও
প্রতিশ্রুতি রাখা সম্ভব নয়।
ব্যবস্থা নামক শূকরের খোয়াড়ে
পতাকার দোলনকাল থেকে
আমাদের কোন শিক্ষা হলো না আজও।
০৯:০৭:২০২৩
রাত;১৯টা৪৫মি
লিচুবাগান, আগরতলা।
ছিয়াশি.
আমরা বসবো মুখোমুখি
তোমাকে কোলে নেবো
তারপর পরস্পরের নিকট হারিয়ে যাবো।
তুমি আমার শরীরের ভেতর
আমি তোমার শরীরের ভেতর ঢেউ খেলে যাবো
তোমার সুমদ্র জাগবে।
ঢেউ তুলবে।
আমি আমার বুকের ছাতি আষাঢ় করে দেবো
সাতাশি.
তুমি খুব টানছো,আমি হারিয়ে যাচ্ছি
তোমার ভেতর, সমুদ্রসৈকতে
ঢেউ তুলে তুমি ঝিনুক-শিকারীর নিকট মেলে দিলে
মুক্ত।
অট্টাশি.
দূরে কোথাও জেলিফিশ কৃষ্ণ অন্ধকারে নিমজ্জিত আলো
আলো জ্বলছে। আলোকিত একজন মানুষ দেখছেন চুপচাপ মোবাইল নাড়ছেন।এই দেখা বাহ্যিক।ভেতরে আরো কত কিছু নেই। আলোর বিস্ফোরণ থেকে যে গান সেদিন ঝরে পড়েছিলো তা কি আর ফিরে আসে? নির্মল অন্ধকারে ক্রমশঃ ঝকঝকে আলো জ্বলেছিলো সেদিন।
এই আলোর বিস্ফোরণ ঘটনার প্রয়োজন ছিলো?আমি সুইচ অন করতেই জ্বলে উঠে টেবিল লাইট।
তারপর আর কোনোদিন বসিনি এই আলোয়।অথচ আলো জ্বলে উঠে। আলো নিভে যায়।আলোর কাজ আলোকিত হতে সাহায্য করা।আলোর কাজ অন্ধকার দূর করে দেওয়া।আবার আলোর কাজ অন্ধকার তৈরী করাও।
আমি সেদিন আলোকিত করতে পেরেছি? না অন্ধকার আরো গাঢ় হয়ে নেমেছে?
আমি জানতে চেয়েছি।
তুমি অন্ধকারকে আরো অন্ধকারে নিমজ্জিত করে দূরত্বে অবস্থান করেছো।
আমি কি তাহলে আলো জ্বালিয়ে নিশ্চিহ্ন করেছি অন্ধকার?
আরো কিছু অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়নি তো সময়?
ছায়াছায়া জেলিফিশ কৃষ্ণ অন্ধকারে দূর বহুদূরে আলো কি তাহলে কোথাও হারিয়ে যায়?
আমাদের চোখের গভীরে লুকানো অজস্র ডলফিন ছবি জমে থাকতে থাকতে গিলে খায় কেউ?
এই যে আলোকবর্ষ দূরে কোথাও কৃত্রিম আলো জ্বালিয়ে নিশ্চিহ্ন করেছি অন্ধকার তাও তো সত্যি সত্যি আলোকিত থাকেনি।
আমি কি তাহলে আলো জ্বালিয়ে নিশ্চিহ্ন করতে পারি না অন্ধকার?
না আলো জ্বলে উঠে আবার নিভে যাওয়াই প্রকৃত সত্যি?
আলো কি তাহলে হারিয়ে যায়?
আলোর বিস্ফোরণ থেকে যে আলো বিচ্ছুরিত হয়ে আলোকিত করে দিকচক্রবাল তা মিথ্যা?
আলো হারিয়ে যায়?
আলো আমাদের দৃশ্যমান করে কোথাও হারিয়ে যায় দূরে।জেলিফিশ কৃষ্ণঅন্ধকার গিলে খায় আলো?আলোর আলোকিত রাখার শক্তির সাথে আলোকে গিলে ফেলে বহুদূর ছায়াপথে আলো হারিয়ে যায়।
আলোর বিস্ফোরণ থেকে যে আলো বিচ্ছুরিত হয়ে আলোকিত করে দিকচক্রবাল তা মিথ্যা?
আমাদের ছায়াছায়া আলো আর আলো আলো ছায়ার কাছে মূহুর্তের আলোয় আলোকিত হতে হতে একদিন সমস্ত আলো অন্ধকারে নিমজ্জিত হতেই কি আলোর উদযাপন?
একদিন আলো জ্বলে উঠেছিলো।একদিন আলো জ্বলে। একদিন আলো দূর কোথাও জেলিফিশ কৃষ্ণ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়।
১০:০৭:২০২৩
রাত:০৮টা৪৫মি
লিচুবাগান,আগরতলা।
ঊননব্বই.
আজ বর্ষা নামার মরসুম ছিলো
আষাঢ় এসে মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে।
মেঘ জমে ছিলো উলানের মতো।
তুমি ভিজনি।
আমার জল জমতে জমতে মেঘ শিলাস্তরের কম্পন তুলে দিতে দিতে
আকাশ বারবার চমকেই গেলো।
আজ ভরা বর্ষা নামার সময় ছাতাটি ভুল করে
কোথায় হারিয়ে গেলো।
১১:০৭:২০২৩
নম্বই.
মেঘ মেঘ আকাশ নামেনি বৃষ্টি
শাখানটাং জোনে আজও মেঘ করেছে
পরীর মতো উলুন বেয়ে নামছে মেঘ।
তার নাভীকুম্ভের উত্তাল ঢেউ খেলে যায়
লংতরাই রিজার্ভ ফরেস্ট।
নীলগিরিধাবায় ভেঙে পড়ে শিলাশিলা মেঘ
দীর্ঘ অপেক্ষা করতে করতে মেঘ আরো জমেছে
লংতরাই রিজার্ভ ফরেস্ট ঘনঅন্ধকারে ছেয়ে গিয়েছিল।
তবুও সম্ভাবনাময় মেঘ নামেনি চুমুক দিতে দিতেও।
উড়ে গেছে দমকা হাওয়ায় মেঘগুলো।
আজ সম্ভাবনা ছিলো আকাশ উপছে পড়েছিলো
তবুও ভরা বর্ষামৌসুমে তুমি ভিজে গেলে
আমিও ভিজে একসা।
মেঘ কাটেনি আসেনি বৃষ্টি।
মেঘ মেঘ আকাশ নিয়ে তুমি উড়ছো।
আমিও মেঘে মেঘে ঢেকে রাখা উত্তুঙ্গ পাহাড়ের টগবগে কৌতূহলে
লংতরাই রিজার্ভ ফরেস্ট এসে অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছি।
১২:০৭:২০২৩
সকাল:০৮:৫০মি
বৃক্ষরাম।
একানম্বই.
ভিউফাইনডার
জুমের আগুন থেকে লাফিয়ে ওঠে সবুজ প্রকৃতি।
আমি এ রূপ উপভোগ করতে করতে আসি যাই।
আবার পরদিন আসি।
ভিউফাইনডারে দেখি লংতরাই রিজার্ভ ফরেস্ট।
এই পথ ফাঁড়ি দিতে প্রকৃতি আমার জন্য অপেক্ষা করে।
আমি এলে জেগে ওঠে বৃক্ষতৃণলতা
জুমের আগুন থেকে লাফিয়ে ওঠে গন্ধধান সবুজ।
প্রকৃতির সরলতায় নতজানু হই, মেলে দিই
উত্তুঙ্গ পাহাড়ের টগবগে ঢেউয়ের নিকট,তখন আমিই লংতরাই রিজার্ভ ফরেস্ট ।
১৩:০৭:২০২৩
সকাল:০৮:২০মি
ডেমছড়া।
বিরানম্বই.
লংতরাই রিজার্ভ ফরেস্ট
এমন করে মেঘ মেঘ আকাশ নিয়ে
দীর্ঘ সময় ধরে থাকতে পারো মেঘলা আকাশ?
আমিই মেঘাচ্ছন্ন আকাশ থেকে
মেঘ সরিয়ে বৃষ্টি পাঠাও বৃষ্টি ঝরাও ভিজবো বলছি
আর তুমি আমার ডাক শুনলেও না!
#
এই পথ অপেক্ষায় আছে, নিশ্চিত আসবে
লংতরাই রিজার্ভ ফরেস্টে একদিন হারিয়ে যাবো।
চারদিকে ঘনবন আর টিলালুঙ্গা
মাঝে জুমের আগুন থেকে লাফিয়ে ওঠা পথ।
কোথাও একটু মিলে গেলে কার কি ক্ষতি?
এত মেঘ জমিয়ে রেখো কেন? মেঘপরীর সাথে
দীর্ঘ পথ ফাঁড়ি দিতে দিতে
ঢুকে যাই গভীর বনের আলিঙ্গনে।
তখন ঠিক বিলিকেটে বৃষ্টি পাঠাও, বৃষ্টিতে ভিজবো।
১৪:০৭:২০২৩
সকাল:০৮টা
ডেমছড়া।
0 Comments