ছায়া ছায়া কত কথা ঘুরে ধরাধামে

গোবিন্দ ধর 

ভয়ংকর মানসিক অবসাদগ্রস্ত জাতি মানুষ। অসুস্থ প্রতিটি মানুষ।মানুষ হওয়ার যাবতীয় গুণাবলি লুপ্ত হয়ে ধীরে ধীরে ডারউইনের বিবর্তনতত্ত্বের কোথাও একটু পরিবর্তন হয়ে অন্য কিছু যুক্ত হয়েছে যা আকৃতির পরিবর্তন তেমন না হলেও মানুষের মানসিক পরিবর্তন লক্ষনীয়।

প্রতিটি মানুষ আত্ম উন্নয়নের চেয়ে জৈবিক চাহিদার বাড়বাড়ন্ত বাড়িয়েছেন।আরো চাই। আরো চাই। খাই খাই।নিজের হলেই হলো।অন্যদের সব নষ্ট হোক।এতে প্রয়োজনে অন্যকে গুম করে হলেও নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করাই এখন মুখ্য।
সামগ্রিক উন্নয়ন পরের মঙ্গল কামনায়, পরের ভালোয় আনন্দিত হওয়া,পরের কষ্টে কষ্ট পেয়ে সমবেদনা, সহযোগিতা প্রদানের যে মানসিক চেতনার জায়গায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা তা সে মানবিক মুনিষ্যত্ববোধ এখন লুপ্ত। 
আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলেও বাস্তব এখন এরকমই।নিজের জন্য নির্লজ্জ রকমের পদস্খলন হচ্ছে, অধ পতন হচ্ছে ক্রমশঃ নিস্পৃহতা মানুষের লোভ লালসা,ভোগ বিলাস এই চাহিদাগুলো মিটাতেই ব্যস্ত মানুষ।
নিজের উন্নয়ন চাই।পরের যদি ক্ষুধা তৃষ্ণায় ক্লান্তিতে প্রাণ যায় যাক এতে করে বিবেকের বন্ধ ঘরে আর দংশন নাই।অনুসূচনা নেই। মর্মে আর পীড়া নেই। 

সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যকে আমরা পরের তরে।

কবির এই আপ্তবাক্য কবেই অধিকাংশ মানবজাতির নিকট কোনোভাবেই নাড়া দিচ্ছে না। বিবেক, মুনিষ্যত্ব,লজ্জা  এগুলো দ্রুত কোথায় কর্পূরের মতো উবে গেছে। এক মহাজাগতিক সংকট।আমরা খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়ে আছি।
আমিই শেষ কথা। এই আমিকে অন্য আমি স্বীকার বা স্বীকৃতি দিতে নারাজ।নিজের বিরুদ্ধে নিজেকেই যুদ্ধে অবতীর্ণ করেছে প্রকৃতি। প্রাকৃতিক এই লড়াইয়ে কে টিকবে আর কে বা কারা হারিয়ে যাবে নাকি মানুষই হারিয়ে যাবে নীলগ্রহ আমাদের প্রিয় পৃথিবী থেকে সেদিন কি এই ইতিহাস লেখা থাকবে যে পৃথিবীতে মানুষ নামে এক উন্নত মানবিক গুণ সম্পূর্ণ জীব ছিলো।যাদের ছিলো কৃষ্টি, সৃষ্টি, কৃষি সংস্কৃতি বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু এক সময় মানবিক গুণ ধ্বংস করতে করতে প্রজন্ম সময়ের বিবর্তনে লুপ্ত হয়ে গেছে। জানি না।কে লিখবে এসব।একটি প্রজাতির এত গুণ থেকেও প্রকৃতির নিকট হার মানবে নাকি ঘুরে দাঁড়াবে সে এক দীর্ঘ পরীক্ষা নিরীক্ষার বিষয়।হয়তো পৃথিবীই কৃষ্ণগহ্বরে ঢুকে যাবে কখনো এক ঘুমন্ত সময়ে।আমরা অনন্ত কৃষ্ণ আবর্তনে হারিয়ে যাবো।কত কত প্রজাতি এরকমই হারিয়ে যাচ্ছে। কত কত প্রজাতি আবার জন্মও নিচ্ছে। কিন্তু লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি পৃথিবীর মতো গ্রহ নক্ষত্র গিলে খাচ্ছে ছায়াপথ তার হিসেব কোথাও লেখাজোকা নেই। 
আর সামান্য মানব সমাজের চলমান চালচিত্রের পরিবর্তন বিবর্তন ধ্বংস হলেও মহাজাগতিক মহাবিশ্বের কি আর আসে যায়।

২০:০৬:২০২২
ভোর:৪:৪৫মি
কুমারঘাট।