ত্রিপুরার ট্রেনে হকারদের ছড়া || গোবিন্দ ধর
ত্রিপুরার ট্রেনে হকারদের ছড়া
গোবিন্দ ধর
সারা ভারতেই হকারদের মুখে মুখে ছড়া লেগে থাকে।ওরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত নন।তাদের জীবন জীবিকার রসদ,থেকেই ক্রমাগত ছড়া বলেন।ছড়া কাটেন।
আমাদের ত্রিপুরায়ও রেল আসার ইতিহাস এক দীর্ঘ লড়াই আন্দোলনের ফসল।মানুষের যোগাযোগের সুযোগ না বাড়াতে পারলে ত্রিপুরার উন্নয়ন অসম্ভব। এই শুভবোধ জেগেছিলো সত্তরের দশকে তৎকালীন বিরোধী দলের কাছে।দল নিজেদের লড়াই আন্দোলনের প্রধান দাবি মালায় সাব্রুম পর্যন্ত রেল পৌঁছে দেওয়ার দাবিসনদ ছিলো। ধর্মনগর থেকে সাব্রুম পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপন এর স্বপ্নে বিভোর একটি দল।অন্য দল ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করছে।ভাব ছিলো তাও কি সম্ভব? এই বন ভাদর টিলা লুঙ্গা পাহাড় ঠেলে কি করে রেল লাইন পৌঁছে আগরতলা সাব্রুম।এক সময় সত্তরের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলো।অনেক দিন আনি দিন খাই মানুষের রুটি রোজগারের ধরণের পরিবর্তন হলো।
এখন ট্রেনে ট্রেনে ত্রিপুরায়ও নানা রকম খাবার থেকে বই বিক্রি হয় রেল হকারের মাধ্যমে।তাদের মুখে মুখে ছড়া লেগে থাকে।ছড়া কাটেন।একজন ঝালমুড়ি বিক্রেতা। তার ঝালমুড়ি বিক্রি করতে ছড়া কাটেন:
দেশের মানুষ
এই যে দেশের মানুষ
ঝালমুড়ি খান
অল্প কটি আছে।আস্তে আস্তে খান।
তাকে নকল করে জুনিয়র বিক্রেতাও ঐ ছড়াগুলো বলেন।প্রকৃতজন কিছুূদিন হয় ইহলোক ছেড়ে দীর্ঘ রোগ ভোগের পর চলে যান।
এই হকাররা তাদের সারাদিন যাত্রীদের মুখরোচক খাবার তুকে দেওয়ার পাশাপাশি ছড়া কেটে বিনোদন দেন।
অর্পিতা চৌধুরী মহোদয়া লিখে জানালেন নিচের একজনের বলা ছড়াটি।তাঁকে আমার ধন্যবাদ।
ধর্মনগর শিলচর ট্রেন রুটে একজনের মুখে শুনেছি...।এতে যাত্রীরা খুব মজাও পান।
চিঁড়া ভাজা মচমচ,
দুইটা কুড়ি একটা দশ,
খাইলে করে কচকচ,
না খাইলে আমার লস।
সারাদিন খেটেখুটে একজন হকার যখন বাসায় যান তখন হয়তো সন্তান ঘুমে।এই পরিস্থিতিতে সকালে আবার ছেলেটি মেয়েটিকে ঘুমে রেখেই হকার বন্ধুটি নিত্য রোজগারের আশায় রেলে চাপেন।তাদের থাকে না কোন জমানো টাকা।হকারদের লড়াই বাঁচার।দীর্ঘ হকারীর পর এক সময় পরিবারটিকে অসহায় রেখেই তার জীবন দীপ নিভে যায়।এসব বিষয়ে একটু ভাবার সময় হয়তো এসে গেছে এখন।হকারের বয়স হলে একটু পেনশনের ব্যবস্থা করা যায় কিনা।হকার পরিবারকে বাঁচানো এক রাজনৈতিক দাবী সনদ হতে পারে।কেউ কেউ দাবিমালায় রাখছেনও।সময়ের সাথে সাথে বিকল্প রেল পথ যেমন দরকার হকার সুরক্ষারও আন্দোলন প্রয়োজন।
২২:০৯:২০১৯
সকাল:১০টা
কুমারঘাট ।
0 Comments