আমাদের যুবসমাজ ও প্রতিবেশ || গোবিন্দ ধর
আমাদের যুবসমাজ ও প্রতিবেশ
গোবিন্দ ধর
আমাদের চারপাশের দুনিয়া থেকে সুখ নামক পায়রা কবেই উড়াল দিয়ে অন্য কোথাও হারিয়ে গেছে। প্রতিটি ঘরের চার দেওয়ালে অসংখ্য ফাঁটালগুলো যতই মেরামত করার চেষ্টা করা হয় ততই ফাঁটাল কেন জানি বড় হয় কে জানে।
আজকাল নিষ্পাপ বয়ঃসন্ধি থেকেই শকুনির ক্ষোভ যেন ধ্বংসাত্মক গতি বাড়িয়ে দিয়ে আক্রমণ করছে শুভবোধ।শুভচিন্তা। মুক্তমনা ছেলেমেয়েদের জীবন চক্রের মধ্যে ঢুকে গেছে আগাছার উপদ্রব। কেউ আর প্রকৃত সুখের পায়রা উড়িয়ে বাঁচতে পারছে না।
কেন এই সভ্যতায় অসুরের আস্ফালন?
খুব সন্তর্পনে ঢুকে গেছে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় এমন কি ঘরের মশারীর ভেতর।
প্রথমে টেলিভিশন আমাদের মেধা বোধ খেয়েছে।তারপর কম্পিউটার। এলো মোবাইল। লেপটপ।সামাজিক মাধ্যমের রাহুগ্রাস।
এখন পরস্পর বিচ্ছিন্ন আমরা।ঘরের সন্তান থেকে স্ত্রী স্বামী কেউ আর মুক্ত নন।সকলের মধ্যেই কোনো না নেশার বীজ সন্তর্পনে তৃতীয় বিশ্বের ধনকুবেরা ঢুকিয়ে দিয়ে আমাদের মধ্যবিত্ত আয় থেকে অধিকাংশ কামাই কামাল করে দিব্যি আরো ধনী হচ্ছেন। তাদের মুনাফা প্রতিটি অর্থবর্ষে চারগুণ থেকে কয়েক হাজার গুণ বেড়ে উঠছে।ফুলেফেঁপে এক একজন রাতারাতি আরো আরো ট্রিলিয়ন বিলিয়নের অধিকারী।আর মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন দরিদ্র মানুষ সব আরো নিম্নবর্গের রেখা পেরিয়ে অসংরক্ষিত না মানুষের মতোই দিনযাপন করতে হয়।তাদের না আছে চাউনি না বাসনকোসন।
এর জন্য কে দায়ী?আমাদের সামাজিক পরস্পর গাঁট বন্ধন কীরকম বিপদের মুখোমুখি তা আর লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজন নেই। প্রতিমুহূর্তে বিশ্বের হাজার হাজার মানুষ বেঁচে থাকার প্রাথমিক রসদ শিক্ষা স্বাস্থ্য বাসস্থান অন্ন এগুলো থেকে বঞ্চিত। অথচ এগুলোতেই পুঁজি খাটিয়ে ধনকুবেররা আরো ধনিকশ্রেণিতে উত্তীর্ণ।
এর বেশ কিছু পর্যায় আছে। মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় সব কিছু কব্জা করে তাতে নানা ধরনের টেক্স বসিয়ে আরো করে নিচ্ছেন তাঁরা।
যুব সমাজকে উনারা টার্গেট করেছেন। যুব সমাজের মেধাকে কীভাবে পঙ্গু করে দেওয়া যাবে সে রকমই প্রতি নিয়ত টার্গেট থিওরী তৈরী হচ্ছে। প্রথমে নেশায় আচ্ছন্ন করে দাও যুব সমাজ।নেশার যে কত ধরন তা এক সেমিনারে অংশগ্রহণ করে কিছু উপলব্ধি করেছিলাম। অসংখ্য নতুন নতুন রেকর্ড তৈরী হচ্ছে। যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন মোড়কে নেশাদ্রব্য। নেশায় আচ্ছন্ন যুবক যুবতীরা। বুড়ো-বুড়িরা।
তারপর নেশার ঘুরে আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে এইডস।শিক্ষার্থী থেকে দিনমজুর সকলেই নেশাগ্রস্ত এখন।
নেশাদ্রব্য কত প্রকার তা আমার আলোচ্য নয়।নেশায় কত বিপদে আপনি আমি আমরা তা-ই আলোচ্য।নেশার থাবায় একবার কাউকে ছুঁলে তুলেমূলে বিনাশ সে নিজে। পাশাপাশি পরিবার বন্ধু প্রতিবেশ হয়ে যায় অপরিচিত। তখন ভাই বন্ধু পিতামাতা বলে আর পরিচয় থাকে না বিশেষ করে যারা মদ গাঁজা ছেড়ে আরেকটু ব্যতিক্রমে ঢুকে যান তাদের নিকট সমাজ প্রতিবেশ পরিবার অচেনা।নেশা সেবনের সময় এলে একপর্যায়ে সে উন্মাদ হয়ে পড়ে।তখন তার চাই নেশা।আর এই নেশা যোগান দিতে চাই টাকা।যখন টাকা আসার রাস্তা বন্ধ অথচ নেশা এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকলো না হলে না হয় তখনই নেশাগ্রস্তের নিকট আর কিছু মনে থাকে না। তখন ভাই বন্ধু পিতামাতা সমাজ বড় নয়।সবের আগে তার চাই মাদক।নেশা।হিরোইন। আর কত নাম।
পরিবার ভেঙে পড়ে তখন।স্বামী স্ত্রী ডিভোর্স হয়।ভাই বন্ধু মুখ ফিরিয়ে নেন।
তখন একজন নেশাড়ু আরো উন্মাদ হয়ে পড়েন।এইভাবে প্রতিমূহুর্তে ধ্বংস হচ্ছে মানবসম্পদ।
উচ্চাশা থেকেও প্রথম প্রথম নেশা শুরু করে যুবসম্প্রদায়। অবসাদগ্রস্ত হয়েও সমাজে নেশা গ্রাস করে।
তারপর নেশার ঘুরে আত্মহত্যা করে বসে কেউ। এতে সমাজ এক বিশৃঙ্খল অবস্থার শিকার আজ।
পুরুষ থেকে মহিলা কে কাকে টেক্কা দেবে চলছে প্রতিযোগিতা। এ থেকে মুক্তির উপায় একমাত্র একজন সচেতন নাগরিকেরাই বাৎলে দিতে পারে। নিজেকে সংযত রেখে এগুতে হবে।নয়তো সমাজ একদিন সভ্যতা সংস্কৃতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে ঠেকবে। সেদিন খুব দূরে নয়।আমরা একবারে খাতের নিকট।প্রতিটি পরিবার থেকে নেশামুক্তির আওয়াজ না উঠলে আমাদের সভ্যতা বিপন্ন হয়ে আছে আরো বিপন্ন হবে নিশ্চিত।
সকল নাগরিকদের মধ্যে সুচেতনা জাগানো আজ খুব প্রয়োজন।
এই বিষয়ে দেশের সুসরকারই সুচিন্তায় উদ্বুদ্ধ হতে পারেন। এলোমেলো লণ্ডভণ্ড সংখ্যা লঘু সরকার নেশা মুক্ত দেশ রাজ্য গঠন করতে অক্ষম। নেশা মুক্ত সমাজ গঠনে অরাজনৈতিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।সচেতনতা বাড়াতে চাই সেমিনার আলোচনা বিতর্ক সভা।নাটক।
দেশের সরকারের আয়ের উৎস যতদিন নেশাদ্রব্য থাকবে ততোদিন নেশা বিরোধী আন্দোলন মাইলস্টোন রচিত করতে অক্ষম। হোক রাজ্য সরকার কিংবা দেশের সরকার। সরকারকেই পদক্ষেপ নিতে হবে নেশা মুক্ত সমাজ নাকি নেশা দ্রব বিক্রি থেকে উপার্জন করে দেশ পরিচালনা করবেন।সঠিক দিশায় পদক্ষেপ নিতে অক্ষম হলে নিশ্চিত আমাদের সমাজ একদিন মানবশূন্য হবে।
১৩:০৮:২০২৩
নিমহান্স, ব্যাঙ্গালুর।
0 Comments