গুড়ের চা সঙ্গে খড়ম-বিস্কুট || চৈতন্য ফকির
গুড়ের চা সঙ্গে খড়ম-বিস্কুট
চৈতন্য ফকির
শিরোনামটি ধার করা।সুধীর সরকারের ওয়াল থেকে এটা নিলাম।আমাদের ছোটবেলা মানে যাদের বয়স কম বেশ চল্লিশের উপর তারা সকলেই এই বিষয়ে অবগত আছেন তখন আঁখের ফলন সারা ত্রিপুরায় প্রচুর পরিমান ছিলো।এখনের মতো সেকারিন মিশ্রিত চিনি তখন বাজার দখল করেনি।বিশ্বায়ন কি জানতাম না আমরা।আঁখ থেকে গুড় ও চিনি হতো।এই গুড়ের চায়ের সাথে কুকিচ খাননি এমন বাঙালি কোন ঘরেই অবিশিষ্ট ছিলেন না।
কুকিচের কত ডাক নাম।খড়ম বিস্কুট খুব প্রচলিত ছিলো।হাত থেকে পড়লেও বিকট শব্দ করতো।আর চিবিয়ে খেতে চাইলে কি সাংঘাতিক কড়মড় কড়মড় আওয়াজ পাশের জনও চমকে উঠতেন।
কুকিচকে একমাত্র গরম চায়ে চুবিয়ে নরম করে তারপর রসগোল্লার মতো খেতে ভারী মজা লাগতো।
তখনও মনুভ্যালী চা বাজারজাত হয়নি।আমরা খোলা চাপাতা বাজার থেকে কিনে আনতাম।আর আঁখের গুড়।আঁখের গুড়ের কত রঙ।কালো।লাল।সাদা।চিটার মতো রঙ।
গুড় দিয়ে মুড়ির নাড়ু তিলের নাড়ু নারিকেল নাড়ু এসব করা হতো।
ঠাকুরদার তামাকপাতায় চিটাগুড়সহ তামাক তৈরী হতো।তাতে একদুদিনসুখ টান দিয়ে দেখেছি কত আরাম,চোখ মুদে আসে।
সুধীরদা একদম ঠিক বলেছেন।গুড়কে রাব বলা হয়।রাবের গুণাগুণ অপরিসীম। রাব অনেকটা টিলটিলে হয়।গুড় একটু আটালো।কোনগুলো আবার বালু বালু রকম।গরম গরম রাব বা গুড় কড়াইয়ে যখন জ্বাল দেওয়া হয় তখন তা থেকে সরও হয়।তারপর নামানোর পর পরই ঠান্ডা করে খেলে জীবের জল ধরে রাখা মস্কিল হয়।আমাদেরও ছিলো আঁখ খেত।গরম গরম আঁখের গুড়,খেঁজুরের গুড় খেয়েছি।তার স্বাদ মরার পরও ভুলার নয়।
সকাল সন্ধ্যে গুড়ের চা।সাথে খড়ম বিস্কুট।আহা সেই আরাম আনন্দ এখন আর কোথাও পাইনা।
এখনো বাজারে গুড় আছে।খড়ম বিস্কুট আছে।আছে খোলা চা'ও।বিশ্বায়নের থাবায় সেসব স্বাদ আর পাই কোথায়।গুড়ের চাও আর খাই না।স্বাদও মিলে না।খড়ম বিস্কুটে সে স্বাদ নাই।বাজার ভরে গেছে নানা রকমের বিস্কুটে।
গুড়ের চা'ও আর কেউ খায় না।এসব স্ট্যাটাস মেনটেন করতে হলে এখন আর গুড়ের চা খাওয়া যাবে না।কেউ কেউ তো আঁখ ডায়াবেটিস বাড়ায় বলে তকমা লাগিয়ে কৃষকদের আঁখ খেত না করার জন্য নিরুৎসাহিতও করছেন।খড়ম বিস্কুটও হয়তো সঠিক খাদ্যগুণ রক্ষা করে বানানো হয় না সেটাও বলা হবে।কিন্তু ছোট ছোট কুঠির শিল্পগুলো এমনিতেই উঠে গেছে।এই যেমন ঢেঁকিছাটা চাল পাওয়া দুস্কর তেমনি হাতে ভাজা মুড়ি,ঢেঁকিতে পাড় দেওয়া চিড়াও আজকাল আর কেউ করেন না।
সময়ের সাথে খাদ্যের উপর আসে নানা রকম পরিবর্তন।আমরাও ছোটবেলার সেস্বাদ পাই না বিস্কুটগুলোতে।মনে হয় খড়ম বিস্কুট আর গুড়ের চায়ের বিকল্প কোথাও নাই।
১৪:০৯:২০১৯
সকাল:৮:৫মি
কুমারঘাট।
0 Comments