ত্রিপুরার কবিতা সমবেত জার্নি || গোবিন্দ ধর
ত্রিপুরার কবিতা সমবেত জার্নি
গোবিন্দ ধর
সময় বদলে গেছে। কেউ জীবনানন্দ হওয়ার মতো নয়।তুমিও নয়।আমিও নয়।কিংবা এই পোস্টে যারা মন্তব্য করেছেন।কিংবা যারা করবেন।
ধরি তুমি আমাকে নিয়ে লিখছো যদি তা হতো ভালো হতো।কারণ এ রাজ্যে আমিই গত বছর এক সাথে দুটো বই প্রকাশ করেছি।ধরলাম তুমি আমাকে নিয়েও নয় তাও তোমাকে কানেকানে বলি কেউ কেউ নয় এই পোষ্টের মন্তব্য কারী একজন এক বছরে পাঁচটি বইও প্রকাশ করার সাহস করেছেন।তুমি জানো কিনা জানি না হৃদয়পুরের দৌড় সম্পাদক মধুমঙ্গল বিশ্বাস গত ২০১৭ সালে এক সাথে ১০টি কবিতার বই প্রকাশ করেছেন।কবিতা পাঠক কম।কিংবা বেশি এরকম বাজার জানা যায় না।বাজার এক অদৃশ্য রকম বিষয় আশয়ে আলোকিত।তাও কথা নয়।কবিতার পাঠক চিরকাল কমই হয়।সে রবীন্দ্রনাথ থেকে গোবিন্দ ধর সব ক্ষেত্রেই একই।তাহলে কি মুখবইয়ে কবিতা পোষ্ট করেই কবি তকমা বজায় রাখবো?সন্দীপ সাহুদা আবার একটিও বই করেননি।তা আসলে নিজ নিজ বিষয়।কে কটা কবিতা সংকলন করবেন কিংবা করবেন না তা নিজস্ব বিষয়।আমাদের রাজ্যের শঙ্খপল্লব আদিত্যের একটি কবিতার বই।আবার নীলিমা দাশগুপ্তের তিনটে কবিতার বই।কিংবা সুমন পাটারীর তিনটে কবিতার বই।কিংবা অভীককুমার দে তিনটি বইয়ের পিতা।তোমার অপেক্ষার অম্লবালি মৃত্তিকা ঋণ মেঘমিতাকে থেকে এক ফর্মার সেই নৌকোওয়ালা প্রচ্ছদ। পাশাপাশি তোমার যৌথ একক মিলে কখানা ছড়ার বইও আছে।গত বছর রত্না মজুমদারের দুটো বই প্রকাশিত হয়।এরকম অসংখ্য উদাহরণ আছে দুটো নয় আরো বেশিও করেছেন।কেউ কেউ সারা জীবনেও একটি বইও করতে চান না।কেউ বই প্রকাশ করলেই যেমন বড় কবি নয়।তেমনি বই প্রকাশ না করলেও যে তিনি জীবনানন্দ তাও ঠিক নয়।সময়ের একটি ভাষা আছে।সময়ের একটি ম্যাসেজ আছে।সময় ডিঙিয়ে গেলে হয়তো সে ভাষাকোড আর তার সময়কে জানান দিতে পারে না।যারা সময়ের কথা বলেও সময়কে পেরিয়ে কেউ কেউ হতে পারেন তিনিই কবি।বাকীরা পাখি সব করে রব।আমিও হয়তো পাখি সব।তুমিও হয়তো জীবনানন্দ। কিন্তু বই প্রকাশ করলেই তিনি মন্দ কবি কিংবা প্রকাশ না করকেই তিনি জীবনানন্দ সেই থিয়রীতে আমি বিশ্বাস করি না।এমন অনেক ঘটনা আছে জীবনে বারখানা কবিতা লেখে আজীবন পাঠ্য তালিকায়।আবার চল্লিশ হাজার কবিতা লিখে তার চল্লিশটি শ্রেষ্ঠ কবিতা নাই। কথা হলো কে কতটুকু সময়কে ধরতে পারলেন।কতটুকু সময় নামক স্বপন নন্দীর ঘোড়া ডিঙিয়ে শঙ্খ ঘোষ হলেন তিনিই সফল।জীবনানন্দের মতো তোরঙে কবিতা রাখলে এখন কবিতাও একদিন এই সময়ের উদাসীনতার কাছে হেরে যাবে।একজন কবি হয়তো লেখেন সারা জীবন নিজেকেই। আমিও লিখি আমাকে।তুমিও লেখো আসলে তোমাকেই। সকলেই লেখেন নিজেকে।কারো ভাষা চয়ন সহজ।কারও কারক প্রদান।এরকম অজস্র কৌশল ও ভাষার মিশ্রণ থেকে নিজস্ব জগত গঠিত হয়।পাঠ এক অতিপ্রয়োজনীয় বিষয়।যার পাঠ যত বেশি তিনি তত বেশি সতন্ত্র।যদিও লালন,মুকুন্দরামের প্রথাগত একাডেমিক সার্টিফিকেট নেই। কবির কোন শংসাপত্র দরকার নাই।কবির কোন সংগঠন দরকার নাই।কবিদের অধ্যাপক হওয়ার দরকার নাই।কবিদের যাপন দরকার।নিশ্চয়ই অসংখ্য বইয়ের জনক হলেই কবি তা ঠিক নয়।আবার একটি বইও নেই সত্যেন্দ্র দেবনাথ কিন্তু কবি।ত্রিপুরার কবিতা বিষয়ক আলোচনায় সত্যেন্দ্রকে আলোচনায় যিনি আনেননি তিনি তার অক্ষম চর্চার কাছে হেরে যান।
একটি বই ছাপবো না অনেকগুলো ছাপবো বিষয়টি যার যার।আমি মনে করি প্রতি বছর বই হওয়া,দরকার।বই হলেও কেউ বড় কিছু নয়।নাহলেও কেউ ছোট নয়।তবে লেখকের লেখা যেমন দরকার বইও দরকার।না না লিখে আরো অনেক কাজ আছে।কেন লিখি।কেন লিখবো।এই টুকু তো জানা আছে সুতরাং লিখি না লিখে পারি না যেমন সত্য তেমনি বই ছাপি না ছেপে পারি না যে।পাশাপাশি একটি বই ছাপা আর আরো কয়েকটি ছাপা পাঠকের নিকট একই।কালোত্তীর্ণ কেউ নয় কিছুই নয়।
কবিদের আবার একজন আরেকজনের শত্রু।আমি ভাবছি আমিই কবি।তিনি ভাবছেন তিনিই কবি।তুমি ভাবছো তুমিই। কিন্তু আমি ভাবি ত্রিপুরার কবিতায় শুধু আমি নয় তুমি নয় সকলেরই সমবেত জার্নি।
১২:১০:২০১৯
সময়:৭টা
কৈলাসহর
0 Comments