লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক কি কি পারেন কি কি পারেন না

গোবিন্দ ধর 

ত্রিপুরা রাজ্যের কয়েকজন আঁতেল কবি সাহিত্যিক সেদিন বলেছিলেন প্রকাশনা সংস্থা নাকি লিটল ম্যাগাজিন উৎসব করতে পারে না।তাদের যুক্তি ছিলো প্রকাশনা সংস্থা ব্যবসায়ী।সুতরাং লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলন করবেন লিটল ম্যাগাজিন। 
কিন্তু যারা প্রশ্ন তুলে লিটল ম্যাগাজিন ও প্রকাশনা সংস্থা আয়োজিত লিটল ম্যাগাজিন ও প্রকাশকদের লিটল ম্যাগাজিন ও গ্রন্থমেলায় উপস্থিত থাকতে  সহযোগিতা করতে নিমরাজি ছিলেন তাদের মধ্যে অধিকাংশ লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক ও প্রকাশক এখন। এবং সেই সকল প্রলাশনা সংস্থার কেউ কেউ এখন লিটল ম্যাগাজিন উৎসব করেন।আর তার পৃষ্ঠ পোষকেরাপও সেই নাক উঁচু করা নাক সিঁটকানো লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকেরাই।বিধির কী অদ্ভুত পরিনতি ভাবুন।তাদের চাল চলন দেখুন।

আসলে লিটল ম্যাগাজিন কি পারে আর কি পারবে না তার সামান্য কিছুও না বুঝে সেই সকল লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকেরা সারা রাজ্যে হেড মাস্টারের ভূমিকা নিয়ে সদ্য লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ করতে শুরু করা লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকদের নিজ কার্য সিদ্ধির জন্য ভুল পথ দেখিয়ে ছিলেন।সেই ভুল পথ দেখানো ছিলো প্রকৃতপক্ষে তাদের ভুল।আজকের সময় সেই সকল স্বঘোষিত হেডস্যারদের পদস্খলন হয়ে গেলো।এখন সেই নিয়মকানুন থেকে সরে গিয়ে লিটল ম্যাগাজিনের হেড মাস্টারেরা এখন নিজেরাই প্রকাশক।নিজেরাই লিটল ম্যাগাজিন উৎসবের আয়োজক।
আর সব থেকে হাস্যকর লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদক যারা কিনা মনে করতেন লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশক হতে পারেন না।কিংবা লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশনায় হাত দিতে পারেন না।কিংবা লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশনা আন্দোলন করতে পারেন না।সেই সকল নীতিবাক্য তাদের কণ্ঠে আর আওড়ায় না এখন।এখন সেই মহা সম্পাদকেরাই প্রকাশনাগোষ্ঠীর লিটল ম্যাগাজিন উৎসব আয়োজক গোষ্ঠীর আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক থেকে ঝাড়ুদারের দায়িত্বও পালন করতে সম্পাদকের চারপাশে ঘুরঘুর করছেন।
ইহা বড় আশ্চর্যের বিষয় হলেও আমি আশ্চর্য হইনি।কারণ একটু তো দীর্ঘ সাহিত্য জীবনে অর্জন করতে পেরেছি একটি লিটল ম্যাগাজিন কি কি করতে পারে আর কি কি পারে না।এই বিশ্বাস ছিলো অটুট আমার।
আমি তবুও আমার অতি শিয়ানা লিটল ম্যাগাজিন বন্ধুদের সহযোগিতা দরকার মনে করে সেদিন দীর্ঘ পাঠদান করেছিলাম। কিন্তু সেদিন আমার বন্ধুরা আমার লিটল ম্যাগাজিন কি পারে আর কি পারে না জেনেছেন বুঝেছেন কিন্তু অসহযোগিতা করার জন্যই সাথে থাকেননি।
তারা নিজেদেরকে পিওর লিটল ম্যাগাজিন কর্মী মনে করে গর্বিত সম্পাদক হতে চেয়েছিলেন।
অথচ সময়ের কী নির্মম পরিহাস আজ সব থেকে তাদেরই করুন পদস্খলন। 
আমি কিমকর্তব্যবিমূঢ় হইনি।নিয়তি তো তা-ই হবে নিশ্চিত জানতাম।
কারন একটি লিটল ম্যাগাজিনের দায়িত্ব পালন করেছিলো স্রোত সাহিত্য পত্রিকা। 
সেদিন যারা নাকসিঁটকালো আজ তাদেরকেই অগ্রণী ভূমিকায় দেখে ভালো লাগছে।অন্ততঃ লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশক হতে পারে সে বোধ তাদের হয়েছে বিশ্বাস করি। পাশাপাশি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশনা ও লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলন করতেও পারে আশা রাখি সে বোধও হয়ে গেছে। 
শুধু সমালোচনা করার জন্য যারা সমালোচনা করেন তারা আর যা হোন হবেন তারা যে প্রকৃত বন্ধু নন সে বিষয়ে আমি সেদিনই উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম।
আমি চাই লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকদের আরো বেশি বেশি করে প্রকাশনায় আসা প্রয়োজন। লিটল ম্যাগাজিন ও প্রকাশকদের যৌথ লিটল ম্যাগাজিন ও গ্রন্থমেলা উৎসব আরো আয়োজিত হোক।এতেই পাঠকের সাথে লেখক কবিদের পরিচয় সম্ভব। পাঠক না বাড়লে আল্টিমেটলি সবটাই জিরো।সকল অহংকার এসে মিশে যাবে মাটির নিকট।
যতই নাকসিঁটকানো অভ্যেস হয়ে যায় যাক তথাপি আসল কাজেই আপনারা বড্ড দেরিতে যুক্ত হলেন।তবুও জানি এই লজ্জা ঢাকা কী যাবে? নিজের নিদান নিজেরাই তো পালন করতে পারলেন না?নাক কেটে যাত্রা ভঙ্গ করতে গিয়ে এখন নিজেদের নাক কেটে বসে আছেন।এই পরিনতি হবে জানাই ছিলো অপেক্ষা শুধু ছিলো সময়ের। 
         "আমরা সবাই রাজা রাজার রাজত্বে 
         নইলে মোরা রাজার সাথে মিলবো কী স্বত্বে।"

৩০:১১:২০২৩

0 Comments