অনামির আত্মবিন্দু|| মানবর্দ্ধন পাল

গোবিন্দ ধর 
লেখক মানবর্দ্ধন পাল নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন বইটি আত্মজীবনী নয়।আবার স্মৃতিকথা তাও নয়।ধুলোমাটি -মাখা জীবনের বিন্দুবৎ টুকরো কথামালা মাত্র। বুঁদের মত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র। বুঁদগুলো একত্র হয়ে জট বেঁধে লাড্ডুর আকার পায়নি।বিন্দু বিন্দু বুঁদের মতই রয়ে গেছে বিচ্ছিন্ন। তাই তাতে স্থান -কাল-ঘটনার কালানুক্রম নেই। অতীতে আশ্রয় নিয়েছে বর্তমাব আবার বর্তমানে বিরাজ করেছে অতীতের কঙ্কালের আসা-যাওয়া। ঘটনাক্রম বা বিষয়ও অবিচ্ছিন্ন নয়।তবু যেন বিনে সুতোর মালা। ঘটনার ঐকহীনতা ও বিষয়ের বিচ্ছিন্নতার দুর্বিপাক বইটির আদ্যোপান্তে থাকলেও এর যেকোনো পর্ব আলাদাভাবে পড়লে অন্তত ভাঙা সেতু পার হওয়ার ঋীতি বা ক্লান্তি অনুভূত হবে না। প্রতিটি লেখাই স্বতন্ত্র। তবে কোথাও পুনরাবৃত্তি দোষ থাকা অসম্ভব নয়।এতে স্মৃতিচারণ, স্মৃতিকাতরতা,স্বপ্ন, স্বপ্নভঙ্গ, হতাশা,আশাবাদ, ব্যক্তিক নৈব্যত্তিক কথকতা সবই আছে তবে অতিকথন ও অতিরঞ্জন নেই। 
এ বইয়ের বেশকিছু পর্ব দেশবিদেশের বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিন এবং ঢাকার দৈনিক আজকের পত্রিকায় উপসম্পাদকীয় কলমে ছাপা হয়েছে। তাতে সাম্প্রতিকতা ও কালের চিত্রশিল্পীর স্কেচের মতো হলেও অঙ্কিত আছে। 

এই সময়, অতীত এবং চলমানতা লেখকের কলমে স্মৃতিময়তা গভীর অনুভবে রূপায়িত হয়ে বইটি সমৃদ্ধ হয়েছে।এককথায় বই স্মৃতিময়তার সাথে গল্প আছে কিন্তু অতিরঞ্জিত রঙ-তুলির আঁচড় নেই।

মানবর্ন্ধন পাল মহোদয় ভালোবাসায় সিক্ত করেছেন আশি পর্বে স্রোত ও আমাকেও।তিনি আগরতলা এসে বইটি আমাকে উপহার স্বরূপ তুলে দিয়ে যান আগরতলা বইমেলায় গত ২৮ মার্চ ২০২৩।দীর্ঘ দিন বইটি নিয়ে আমি একটি কলমও লিখতে সময় ও সুযোগ পাইনি।অথচ মরমে মরমে আমি মরে আছি।এই ঋণ কোনোভাবেই পরিশোধ করার যোগ্য লোক আমি নই।তথাপি তাঁর ভালোবাসার অমূল্য রত্নে আমাকেও জড়িয়ে দেওয়ার জন্য আমি আপ্লুত।আনন্দিত।এই গৌরব স্রোতের। আমি একজন শ্রমিক শুধু সকলের নিকট ভাগ করে নিলাম।
বইটি বিভাস প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত। প্রচ্ছদ করেছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী ধ্রুব এষ।মূল্য :৪০০টাকা।

শ্রদ্ধা রইলো দাদা।



0 Comments