শঙ্খলাগা শহর


কথাপৃষ্ঠা 

কবিতা তো আত্মক্ষরণেরই ঈশ্বরকণা।আত্মার ভেতর থেকে দহনগুলো লিপি হয়ে কবির কাছে ধরা দেয়।কবিতা দহনলিপি।দহনকালের পান্ডুলিপি কবিতা।কবিতার কাছে কবি উপুড় দোয়াত।সুলেখাভরা কলম।কবিতা কবির আত্মার বিষ।যাপনের ধারাপাত।কবিতাই প্রকৃত যাপন।কবিতা একজন কবির সত্যিকারের জীবনকাল। কবির আলাদা কোন জীবনীর দরকার নেই।এক একটি কবিতাই কবির আত্মকথা।আত্মারক্ষরণ।কবি ক্রমশ সরে সরে এগিয়ে যান জীবনের বিচিত্র সিঁড়ি।কোথাও নামেন সিঁড়ি নিয়ন আলোয়।কোথাও শহরের এলইডির নিচেই কবির আত্মা আরো এক শহর খুঁজে জীবনের পরত দেখার জন্যে।শহর আলোকময়।তার নিচেই অন্য আলো।কবি অন্ধকারেও দেখেন।ছুটে যান ঈশ্বরকণার দিকে।কৃষ্ণগহ্বর থেকে তুলে আনেন সামন্য বেদনা।যা অতি সাধারণ তাতেই লেগে আছে হয়তো কবির আত্মারশীত।
কবিতা আসলেই ঈশ্বরকণা।কবির আত্মার শীত।

০৫:০৬:২০১৮
সকাল:০৬:৪০মি
কুমারঘাট।



শঙ্খলাগা শহর

আমাদের শঙ্খলাগা শহর মফস্বল হলেও
এখানেও দাঁড়িগোঁপে মুখ ঢেকে রাখার কৌশল রপ্ত হয়েছে খুব।
সামান্য কৃতজ্ঞতাবোধ অবশিষ্ট নেই।
আছে শুধু মঞ্চপ্রীতি আর এ গাইয়ের বাছুর ;-
ও গাইয়ে লাগিয়ে দুধ দোয়ানি পালা।
এই শহরেও দেও এসে শঙ্খলাগে মনুর ডহরলাগা ঘোরে। 
শনির পাঁচালী ঢপকে কালুকামার শিল্প গড়েন।
চিকন বালির'পর সকালের সূর্য ঢেলে আলোর রশ্মি 
আমাদের এখনো কিছু অবশিষ্ট আছে -একলব্য উপাখ্যান। 

২৭:১২:২০২৪
ভোর:৮টা১০মি
আনন্দপল্লী,কুমারঘাট।



এ শহর রিফিউজি ক্যাম্প

শহরে আসতে কারো পারমিশন লাগে না।
যাবোও বলতে হয় না। 
শহরের অলিগলি ঘুরতে ঘুরতে একা একা 
টুপ করে চলে যাওয়া যায়। 
চলে যেতে কিংবা আসতে কারো পারমিশন লাগে না।

নিজের কাজগুলো টুকটাক করে আলগোছে 
বেরিয়ে যাও স্টেশনে। স্টেশন সুন্দর। 
ইচ্ছে মতো ঘুরপাক খেতে খেতে সিদ্ধি আশ্রম 
একটু জিরিয়ে নিও জাগতিক বাস্তবতায়
তুমি হন্যে হয়ে ঘুরতে হবে না।

জগৎ বিশ্বসংসার শুধু নিজস্ব চিন্তার নিকট নতজানু। 
বাকী সব এই সময়ের খড়কুটো। জানি
মহাজাগতিক ধুলোঝড়ে খড়কুটোর মতো 
একদিন সকল স্ক্যাণ্ডেল থেমে যাবে। 

জগৎ সানান্য কুটির। এখানে কেউ কারো নয়।
এতো যে হুইসেল বাজিয়ে চলছে ট্রেন 
গন্তব্যের আগেই সেও থেমে যাবে নিশ্চিত। 

এখন শহরে আসতে আর কাউকে বলি না
যেতেও বলি না।সকল মুখের মুখোমুখি হয়ে 
বুঝেছি এ শহর শান্তিনিকেতন নয়।

এ শহর উদ্বাস্তু রিফিউজি ক্যাম্প।
চোখে চোখ রেখে কথা বলতে অক্ষম কণিষ্ক
লোকগুলো ছুরিমারা গোঁসাই। নিজের হাহুতাশ
অন্যের মুখের ঝাল খেয়ে শুয়ে বসে 
বাড়ি টু অফিস ডুৃ মারে পরচর্চায়।

এ ওর পা চাটা সময় ডিঙিয়ে আমি সাতেপাঁচে নেই। 

৩০:১০:২০২৩
দুপুর :৪টা৪০মি
কুমারঘাট।



যে শহরে তুমি নেই সে শহর আমার নয়

আমার কোনো নিজস্ব বাড়ি নেই 
নিজস্ব জমি নেই। 
নিজস্ব শহর নেই। 
দেওনদী শহরকে আপন করেছিলাম।
দেও মনুর শহরকে আমার শহর মনে করতাম।
দেও মনুর শঙ্খলাগা শহর আমার  শহর মনে করে
কাটিয়ে দিয়েছি জীবনের কুড়ি কুড়ি বসন্ত। 
শঙ্খলাগা শহর আমাকে  আপন করতে পারেনি।
এই শহরে একটি বাড়ি হোক চেয়েছিলাম।
এই শহরে একজন তুমি থাকবে চেয়েছিলাম।
এই শহর বরং আমার সব কেড়ে নিলো
মেয়েটি আমার থেকে দূরে ধর্মনগর এখন।
আমার ছেলেটি আমার সাথে অথচ সাথে নেই। 
আমার সুমিতা আমার সাথে অথচ এক ঘুরের মাঝে
সংসারের রূপকাঁথা সিলি দিতে দিতে নিঃসঙ্গ সেও।

এই শহরে একজন কেউ ছিলো যার জন্য পিতার বাস্ত ছেড়ে 
চলে এসেছিলাম একজন মানুষ আছে 
তার ভালোবাসার ডাক অস্বীকার করতে পারিনি।
তাকে আমার সব দিলাম।
তাকে আমার উজাড় করা রক্ত বিন্দু ঘাম শ্রম মন
সবই দিলাম।
একটি মেয়ে দিলাম।একটি ছেলে দিলাম।
এই শহরের পথে পথে আমার মিছিলের আওয়াজ
বাতাসে শ্রমিকের অধিকার আদায়ের স্লোগান 
কান পাতলে এখনো ধ্বনিত হয়।
এখানে গান দিলাম।ঐক্যের কথা বললাম। 
এই শহরের প্রতিটি মাটিতে আমার ঘামরেণু পড়ে রইলো।
এই শহরের ঘরে ঘরে সংস্কৃতির শেকড় গেঁথে রেখেছি 
অথচ এই শহর এতই বেইমান কৃতজ্ঞতা জানে না।

এই শহরের কাছে কিচ্ছু চাইবার নেই। 
এই শহর নিঃস্ব হওয়ার শহর।
এই শহর ব্যবসার শহর।এই শহর কেড়ে নেওয়ার শহর।
এই শহরে কেউ কারো নয়।
এই শহরের জন্য জীবন তচনচ করেছি।
এই শহরের নিকট নতজানু হয়েছি।
এই শহরকে বুকের ভেতর জলছলাৎছল ঢেউ দিয়েছি
মন দিয়েছি ঘাম দিয়েছি গান দিয়েছি
পরস্পর পরস্পরের নিকট নতজানু থাকার গল্প বলেছি
এই শহরে এসে সব উজাড় করে দিয়েছি
অথচ এই শহর আমার রক্ত সমেত শোষণ উৎপীড়ন
আর অপমানই ফিরিয়ে দিলো।
এই শহরের ঘাসলতাপাতায় আমার পায়ের আলতো ছাপ রাখা
যেন ঘাসের কষ্ট না হয় তা-ই করেছি।
বিনিময়ে এই শহর আমার সব কেড়ে নিলো।
এই শহর আমার মেয়েকে অন্য শহরে নিয়ে গেলো
এই শহরে একজন তুমি ছিলো তাকেও কেড়ে নিলো
এই শহরে আরেকজন তুমি ছিলো সেও মুখ ফিরিয়ে নিলে
আমার জীবনের গান থেমে যায়।
আমার শহরে এখন আমি নেই। তুমি নেই। মেয়ে নেই। 
মা নেই। বাবা নেই। অথচ এই শহর আমার মায়েরও শহর ছিলো।
এই শহর আমার বাবারও শহর ছিলো।
এই শহরের মাটির উপর আমার বাবার পায়ের চিহ্ন আছে।
এই শহরের বুকে আমার মায়ের মুখ পড়ে আছে।
এই শহরের চায়ের দোকানে আমার বাবা এখনো চা খান।
আমার মা ঘুরে বেড়ান।
আমার মায়ের বাবা মা এই শহরের হাওয়ায় উড়েন।
অথচ এই শহরে তুমি নেই। 
এই শহরে একজন তুনি নেই। 
যে শহরে আমার গান ছিলো সুর ছিলো
অথচ এই শহরে তুমি নেই। 
এই শহরে তুমি নেই। যে শহরে তুমি নেই 
সেই দেও-মনু শঙ্খলাগা শহর এখন আর আমার নয়।

১৮:০৬:২০২৩
সকাল:০৭:৩৫মি
কুমারঘাট।

শঙ্খলাগা শহর

এই শহরে একজনই গোবিন্দ মাণিকা।
যে পদ্মশ্রী উপাধি ভূষিত।
এই শহরে একজনই পদ্মশ্রী 
যার গোবিন্দে আরোগ্য হয়েছে।

বুকের ভেতর জলের ভেতর থেকে জলকাতর হয়ে একটু একটু মাইলস্টোন অতিক্রম করতে হয়।উপক্রমণিকার সিঁড়িগুলো না টপকে শর্টকাট কোন স্বর্গপথ নেই। সে বিষয় না জেনেই হাওয়ায় শব্দ ভাসান সদ্য গোঁফেয়ালারা।
আমার শহরকে রাজধানী বলে না।আমার শহরকে জেলা সদরও নয়।আমার শহর আসলে শহর ছিলো না।নিতান্ত গ্রামপঞ্চায়েত।হাততোলা ভোট দেখে বড় হয় শহর।গাইবাছুরে ভোট দিয়ে জোড়ানৌকো থেকে সেতু হলো দেওনদী পারের শহর।তারপর ৭৮।নৃপেন চক্রবর্তী হয়ে এই শহর নগর হলো।দশরথ হয়ে মানিকে এসে নগর হলো পুর পরিষদ। 
এ শহর রাজধানী প্রিয়তা পায়নি।এ শহর সে আকুলতা নির্ভরও নয়।এ শহরের প্রতিটি পথ আধুনিক বিশ্বের সড়ক মেরামতিতে রিপেয়ার হয়নি।এ শহর থেকে পায়ে হেঁটে দারচৈ দারুচিনি দ্বীপের স্বপ্ন আঁকে চোখ।চোখের মণি বেরিয়ে আসে বিবাহবার্ষিকীর আগেই। 
এই শহর থেকে পুবে চোখ তুলে তাকালে কমলালেবুর মতো সূর্য উদয় দেখা যায়। পশ্চিমে ধলাই কালোটিলা।দক্ষিণ বরাবর লংতরাই শাখানটাং থেকে কচি টেঁকিশাক ভর্তি খারাঙ নেচে নেচে পাহাড়ি রমণীর পিঠ দোলে উঠে।উত্তরে নটিংছড়া চা বাগান পেরিয়ে গেলে ঊনকোটি।মনুভ্যালি চা বিশ্ববাজার দখল করলেও আমাদের আনারস দারচৈ পেরোয়নি।নেই নেই  করেও আমাদের দুটি নদী আছে।চটি লাঠি পুঁটি আমাদের প্রিয় মাছ।নদী চরে লাউডগা লকলক করে বেড়ে উঠলে আমাদের কৃষক নবান্নের গান করে।
আমাদের শহরের নেতাজী সুভাষ চৌমুহনী হয়ে গ্রাম থেকে উঠে আসে একটি আওয়াজ।কেউ কেউ আওয়াজে আওয়াজ তুলে কিছুদিন বৈঠকী কবিতা পাঠে মিলিত হতেন।বছর দুয়েক পর আওয়াজ এসে থেমে যায় সূর্যসেন লেইন।কিছুদিন  প্রলাপ চলে।তারপর মে'বিকেলে দেওনদী পেরিয়ে আওয়াজ এসে মনুসমগ্রে মিশে গেলো।
রাজধরের আত্নহত্যার পর গোবিন্দ মাণিক্য আরো তেজস্ক্রিয় এখন।
আমাদের শহরে কবিদাদা নেই। আমাদের শহরের কবিদাদারা দাদাগিরি করতে এসে বাজারের পটল তুলে তারা এখন তুলোবাজ। 
আমাদের শহরে শঙ্খপল্লব আদিত্য বসবাস করেন না।
আমাদের শহর সুবোধ VS সুবোধকে জানে।এই শহরে বিজ্ঞানের বীজতলায় বিজ্ঞান চাষ হতে হতে শনিতলার সংখ্যা রাজধানীর মতো ধানিজমি।
তাও হাহুতাশ নেই। ফুটবলে লাথি দিলে এ শহরের বল দেওজলে ভেসে যায়।
জলপ্রপাতের কাছাকাছি তাও পা ডুবিয়ে ভাসমান বল তুলে আনতে এগিয়ে এলো না সিকামনুকতাই।
আমাদের নেই অনুপ দুলাল কিশোর দেবব্রত শ্যামল।
আমাদের নেই দিলীপ রামেশ্বর।আমাদের শহর তাতে কিচ্ছু ভাবে না।
আমাদের শহরের দাদা চাই না।
এ শহর থেকে দেওনদীসমগ্র দেওজল বাহিত মনুতেই শঙ্খ লাগে। 

১৩:০৫:২০২০
সকাল:০৮:১৫মি
কুমারঘাট।


যে শহরে
বৃক্ষের আবক্ষ প্রতিকৃতি, বসে না

বৃক্ষের আবক্ষ প্রতিকৃতি বসে না যে শহরে
সে শহর থেকে সব পাতা ঝরে গেলে,রবীন্দ্রপল্লী
গেয়ে উঠবে সারেগামা। 

শেষমেশ হাছাহাছা একদিন পাতা ঝরে যায়
পাখিরা বসে না আর মরা শাখায়,হাগ
ভেদ করে শূন্যতা নামে লংতরাই রিজার্ভফরেস্টের
পাদদেশে। গভীর আন্ধার করে মেঘ নামে
গাভিন উলানের মতো বৃষ্টির ঝিলিক দিয়ে 
হয়তো শ্রাবণের মেঘগুলো প্রেমিকার মতো 
জুলাইয়ের শরীর থেকে খসে পড়ে একতারা পাতা
রিয়্যালি কিছুই গ্রীবা উঁচু করে বাঁচতে পারে না।

সব পাতা ঝরে যায় ঝরে পড়ে জুমের আগুনে।
এইসব রাজনৈতিক মৃত্যু তো জুনের শেষে 
জুলাইয়ের শেষে মগডালে লটকে থাকা
শেষ পাতাটিও পড়ে গেলে তিনতলা বাড়িটার উপর থেকে দেখো বটতলাগামী শববাহী গাড়িতে
বৃষ্টিঝরা শ্রাবণের গভীর রাতে নিভু নিভু আলো
জ্বালিয়ে চালক নিয়ে যাবে মরাগাছ
শহরের কোলাহল থেকে বয়ে নিয়ে যাবে
বৃক্ষটির মতো তার কোনো আবক্ষ বসবে না
আই জি এমের পুরোনো গেটে কিংবা লংতরাই রিজার্ভফরস্টে।

০৪:০৭:২০২৩
রাত:০৭টা৩৫মি
কুমারঘাট।


শঙ্খলাগা শহর:২

আমাদের শঙ্খলাগা শহর মফস্বল হলেও
এখানেও দাঁড়িগোঁপে মুখ ঢেকে রাখার কৌশল রপ্ত হয়েছে খুব।
সামান্য কৃতজ্ঞতাবোধ অবশিষ্ট নেই।
আছে শুধু মঞ্চপ্রীতি আর এ গাইয়ের বাছুর ও গাইয়ে লাগিয়ে 
দুধ দোয়ানি পালা।
এই শহরেও দেও এসে শঙ্খলাগে মনুর ডহরলাগা ঘোরে। 
শনির পাঁচালী ঢপকে কালুকামার শিল্প গড়েন।
চিকন বালির'পর সকালের সূর্য ঢেলে আলোর রশ্মি 
আমাদেরও এখনো কিছু অবশিষ্ট আছে -একলব্য উপাখ্যান। 

২৭:১২:২০২৪
ভোর:৮টা১০মি
আনন্দপল্লী,কুমারঘাট।


এ শহর রিফিউজি ক্যাম্প

শহরে আসতে কারো পারমিশন লাগে না।
যাবোও বলতে হয় না। 
শহরের অলিগলি ঘুরতে ঘুরতে একা একা 
টুপ করে চলে যাওয়া যায়। 
চলে যেতে কিংবা আসতে কারো পারমিশন লাগে না।

নিজের কাজগুলো টুকটাক করে আলগোছে 
বেরিয়ে যাও স্টেশনে। স্টেশন সুন্দর। 
ইচ্ছে মতো ঘুরপাক খেতে খেতে সিদ্ধি আশ্রম 
একটু জিরিয়ে নিও জাগতিক বাস্তবতায়
তুমি হন্যে হয়ে ঘুরতে হবে না।

জগৎ বিশ্বসংসার শুধু নিজস্ব চিন্তার নিকট নতজানু। 
বাকী সব এই সময়ের খড়কুটো। জানি
মহাজাগতিক ধুলোঝড়ে খড়কুটোর মতো 
একদিন সকল স্ক্যাণ্ডেল থেমে যাবে। 

জগৎ সানান্য কুটির। এখানে কেউ কারো নয়।
এতো যে হুইসেল বাজিয়ে চলছে ট্রেন 
গন্তব্যের আগেই সেও থেমে যাবে নিশ্চিত। 

এখন শহরে আসতে আর কাউকে বলি না
যেতেও বলি না।সকল মুখের মুখোমুখি হয়ে 
বুঝেছি এ শহর শান্তিনিকেতন নয়।

এ শহর উদ্বাস্তু রিফিউজি ক্যাম্প।
চোখে চোখ রেখে কথা বলতে অক্ষম কণিষ্ক
লোকগুলো ছুরিমারা গোঁসাই। নিজের হাহুতাশ
অন্যের মুখের ঝাল খেয়ে শুয়ে বসে 
বাড়ি টু অফিস ডুৃ মারে পরচর্চায়।

এ ওর পা চাটা সময় ডিঙিয়ে আমি সাতেপাঁচে নেই। 

৩০:১০:২০২৩
দুপুর :৪টা৪০মি
কুমারঘাট।


গ্রাম যখন শহর হয়

একটি শহর এতই নির্দয় সব ফতুর করে নিলো।
একটি শহর বয়স খেলো বসন্তদিন ফুরিয়ে দিলো।
একটি শহর জ্বরা দিলো অসুখ দিলো সবই কেড়ে নিলো। 

একটি শহর আমার শহর প্রিয় শহর ভাবলাম
একটি জীবন কাটিয়ে দিতে নদীর চরে ঘর বানালাম।
অপূর্ণ ঘর অপূর্ণই র্আম কেবল ফতুর হলাম।

একটি শহর গ্রাম ছিলো ভালোই ছিলো
নগর হয়ে হৃদয়ে মোজাইক পাথর বসিয়ে দিলো।
এই শহুরে জীবন কেবল শূন্য কলস জল ফুরিয়ে গেলো। 

১৫:০৪:২০২৩
সকাল:৭টা১৫মি
জি বি হাসপাতাল, আগরতলা।

কাঙালজীবন


একটি গ্রাম ভালোবেসে কাটিয়েছি পঁয়ত্রিশ বছর। 
একটি শহর ভালোবেসে কাটিয়েছি পনেরো বছর। 
গ্রাম ও শহর মিলে পঞ্চাশ ক্রস করে বুঝলাম 
কোথাও আমার একজনও প্রকৃতজন নেই।

যাকে ভালোবেসেছি সে ভালোবাসায় পরিপূর্ণ।
আমি ভালোবাসা বিলোতে বিলোতে ফতুর
একজনও অপূর্ণ নেই কোথাও।

শহরের অলিগলিতে তীব্র হাহাকার শুধু 
আর তীব্র ঘৃণা বাতাসে খৈয়ের মতো উড়ে।

আমার দ্বিচক্রযানটি কখন জানি বায়ুশূন্য হয়ে
থমকে থাকে দেওনদীর ব্রীজের উপর।
নিচে দেওনদী থমকে আছে জলস্রোত নেই। 

উপরে চলমান লোকজন কারো মুখে নেই 
মায়াবী সকাল। তীব্র শীতে আমি অনুভব করি 
বিগত দিনগুলোর মতো তাহলে এভাবেই 
আত্মবিষ উগলে দিতে দিতে কাটিয়ে দেবো
গোটা এক ভালোবাসার কাঙালপনায়?

০৭:০২:২০২৪
সময় :১টা৪০মি
কুমারঘাট


প্রকৃতি ও আমি

সামনে তুলো তুলো মেঘ। পেছনেও।জাম্পুই নিজস্ব রূপ বদল করে।তাকে কেউ শাসন করে নিজের মতো করতে পারে না।প্রকৃতি এমনই।রূপ বদলায়।জাম্পুই ডাকলেই যাই।রূপে পুড়ি।পুড়তে পুড়তে শিখি।প্রকৃতি হাতছানি দেয়।প্রকৃতি বিমুখ করে না।তাকে কেউ শাসন করে নিজের মতো করতে পারে না। 
জাম্পুইের ইডেনে এই আমিও রূপ মেলে দিলাম।প্রকৃতি ও আমি একাকার হতে চেয়েছি।জানি প্রকৃতি নারীর মতো ছলনাময়ী।তবুও এখানে এলে নিজেকে তো ছড়িয়ে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। 
ইডেনের ছাদ থেকে কিচক পাহাড়, ক্লাস্কির উত্তুঙ্গ ঢেউ মাড়িয়ে আমি নিজেকে রক্তাভায় সাজাই।
বৃক্ষের সবুজ ও সন্যাস মেখে আমি ও আমরা মেঘে মেঘে ভিজে একসা।তবুও প্রকৃতি ছলনাময়ী।তথাপিও
যদি পুনরায় এসো শাখান রেঞ্জ থেকে কলকল নেমে যাবো মনুর শঙ্খলাগা শহর।

২৫:১০:২০২৩
সকাল:০৮টা
কুমারঘাট।

শঙ্খলাগা শহর

এই শহরে একজনই গোবিন্দ মাণিকা।
যে পদ্মশ্রী উপাধি ভূষিত।
এই শহরে একজনই পদ্মশ্রী 
যার গোবিন্দে আরোগ্য হয়েছে।

বুকের ভেতর জলের ভেতর থেকে জলকাতর হয়ে একটু একটু মাইলস্টোন অতিক্রম করতে হয়।উপক্রমণিকার সিঁড়িগুলো না টপকে শর্টকাট কোন স্বর্গপথ নেই। সে বিষয় না জেনেই হাওয়ায় শব্দ ভাসান সদ্য গোঁফেয়ালারা।
আমার শহরকে রাজধানী বলে না।আমার শহরকে জেলা সদরও নয়।আমার শহর আসলে শহর ছিলো না।নিতান্ত গ্রামপঞ্চায়েত।হাততোলা ভোট দেখে বড় হয় শহর।গাইবাছুরে ভোট দিয়ে জোড়ানৌকো থেকে সেতু হলো দেওনদী পারের শহর।তারপর ৭৮।নৃপেন চক্রবর্তী হয়ে এই শহর নগর হলো।দশরথ হয়ে মানিকে এসে নগর হলো পুর পরিষদ। 
এ শহর রাজধানী প্রিয়তা পায়নি।এ শহর সে আকুলতা নির্ভরও নয়।এ শহরের প্রতিটি পথ আধুনিক বিশ্বের সড়ক মেরামতিতে রিপেয়ার হয়নি।এ শহর থেকে পায়ে হেঁটে দারচৈ দারুচিনি দ্বীপের স্বপ্ন আঁকে চোখ।চোখের মণি বেরিয়ে আসে বিবাহবার্ষিকীর আগেই। 
এই শহর থেকে পুবে চোখ তুলে তাকালে কমলালেবুর মতো সূর্য উদয় দেখা যায়। পশ্চিমে ধলাই কালোটিলা।দক্ষিণ বরাবর লংতরাই শাখানটাং থেকে কচি টেঁকিশাক ভর্তি খারাঙ নেচে নেচে পাহাড়ি রমণীর পিঠ দোলে উঠে।উত্তরে নটিংছড়া চা বাগান পেরিয়ে গেলে ঊনকোটি।মনুভ্যালি চা বিশ্ববাজার দখল করলেও আমাদের আনারস দারচৈ পেরোয়নি।নেই নেই  করেও আমাদের দুটি নদী আছে।চটি লাঠি পুঁটি আমাদের প্রিয় মাছ।নদী চরে লাউডগা লকলক করে বেড়ে উঠলে আমাদের কৃষক নবান্নের গান করে।
আমাদের শহরের নেতাজী সুভাষ চৌমুহনী হয়ে গ্রাম থেকে উঠে আসে একটি আওয়াজ।কেউ কেউ আওয়াজে আওয়াজ তুলে কিছুদিন বৈঠকী কবিতা পাঠে মিলিত হতেন।বছর দুয়েক পর আওয়াজ এসে থেমে যায় সূর্যসেন লেইন।কিছুদিন  প্রলাপ চলে।তারপর মে'বিকেলে দেওনদী পেরিয়ে আওয়াজ এসে মনুসমগ্রে মিশে গেলো।
রাজধরের আত্নহত্যার পর গোবিন্দ মাণিক্য আরো তেজস্ক্রিয় এখন।
আমাদের শহরে কবিদাদা নেই। আমাদের শহরের কবিদাদারা দাদাগিরি করতে এসে বাজারের পটল তুলে তারা এখন তুলোবাজ। 
আমাদের শহরে শঙ্খপল্লব আদিত্য বসবাস করেন না।
আমাদের শহর সুবোধ VS সুবোধকে জানে।এই শহরে বিজ্ঞানের বীজতলায় বিজ্ঞান চাষ হতে হতে শনিতলার সংখ্যা রাজধানীর মতো ধানিজমি।
তাও হাহুতাশ নেই। ফুটবলে লাথি দিলে এ শহরের বল দেওজলে ভেসে যায়।
জলপ্রপাতের কাছাকাছি তাও পা ডুবিয়ে ভাসমান বল তুলে আনতে এগিয়ে এলো না সিকামনুকতাই।
আমাদের নেই অনুপ দুলাল কিশোর দেবব্রত শ্যামল।
আমাদের নেই দিলীপ রামেশ্বর।আমাদের শহর তাতে কিচ্ছু ভাবে না।
আমাদের শহরের দাদা চাই না।
এ শহর থেকে দেওনদীসমগ্র দেওজল বাহিত মনুতেই শঙ্খ লাগে। 

১৩:০৫:২০২০
সকাল:০৮:১৫মি
কুমারঘাট।


আমি

পৃথিবীর কোন শহরই আমার নয়।
না কুমারঘাট
না আগরতলা
আমি মফস্বলি।
রাতাছড়া আমার গ্রাম।
জন্ম শহর  ছিল ধর্মনগর
তাও আমার নয়।
আমি রোজ না শহর না গ্রাম
এক অজপাড়ায় ভুল বানানে
লিখি ভালবাসার গল্প।

হালাইমুড়া,১৬/১০/১৬,সময়:১০টা।


শহর

প্রতিটি শহর জেগে থাকুক অন্যায়ের বিরুদ্ধে। 
প্রতিটি শহর থেকে মানবতার গান হউক।
প্রতিটি শহর হোক জীবনের সুর।
প্রতিটি শহর হোক সকলের জন্য।

২০:০১:২০১৯
সকাল:১০:৫০মি
আগরতলা।

পাবিয়াছড়া

আমাদের শহর এখন কুমারঘাট।
দেওবাহিত শহরের মাঝ বরাবর কাটাকটি খেলে
পাবিয়াছড়া লিকলিকে নামছে
শহরের মলমূত্র
আর ব্যবহৃত নিরোধের ভেতর মৃত স্বপ্ন নিয়ে।

আমাদের শহর কুমারঘাট।
গ্রামীণ সারল্য ছিলো মানুষের বুকের ফসল।
সাহিত্য সংস্কৃতি যা ছিলো
প্রাণ ঢেলে দিতো তখন।

এখন দাদাদের চোখের তর্জনী থেকে আগুন ঝরে।
দেওবাহিত শহরের লোক পড়শির পিঠে হাত রেখে
কেউ বলে না"কেমন আছো"!

দিনে দিনে শহর বড় হয় নদীর নাব্যতা কমে
আমাদের শহর কখন যে
পাবিয়াছড়া বাদ দিয়ে এখন কুমারঘাট
জেঠামশাইও জানেন না।

আমরা পাবিয়াছড়ার পাবদাকে
হারিয়ে অন্ধ্ররুই রসনায় তুলে দিই

আমাদের শহর এখন কুমারঘাট।
দাদারা সাবলক।শহর পুরপরিষদ।
ড্রেন আর ডাস্টবিন নাই বা হলো
আমাদের শহর তবু আমাদের কুমারঘাট।

২০:১০:২০১৭
সকাল:১০:৩৫মি
কুমারঘাট।

শঙ্খলাগা শহর

আমাদের শঙ্খলাগা শহর মফস্বল হলেও
এখানেও দাঁড়িগোঁপে মুখ ঢেকে রাখার কৌশল রপ্ত হয়েছে খুব।
সামান্য কৃতজ্ঞতাবোধ অবশিষ্ট নেই।
আছে শুধু মঞ্চপ্রীতি আর এ গাইয়ের বাছুর ;-
ও গাইয়ে লাগিয়ে দুধ দোয়ানি পালা।
এই শহরেও দেও এসে শঙ্খলাগে মনুর ডহরলাগা ঘোরে। 
শনির পাঁচালী ঢপকে কালুকামার শিল্প গড়েন।
চিকন বালির'পর সকালের সূর্য ঢেলে আলোর রশ্মি 
আমাদের এখনো কিছু অবশিষ্ট আছে -একলব্য উপাখ্যান। 

২৭:১২:২০২৪
ভোর:৮টা১০মি
আনন্দপল্লী,কুমারঘাট।


শঙ্খলাগা শহর

এই শহরে একজনই গোবিন্দ মাণিকা।
একজনই নিরাময়যোগ্য 
যার গোবিন্দে আরোগ্য হয়েছে।

বুকের ভেতর জলের ভেতর থেকে জলকাতর হয়ে একটু একটু মাইলস্টোন অতিক্রম করতে হয়।
উপক্রমণিকার সিঁড়িগুলো না টপকে শর্টকাট কোন স্বর্গপথ নেই।
সে বিষয় না জেনেই হাওয়ায় শব্দ ভাসান সদ্য গোঁফেয়ালারা।
আমার শহরকে রাজধানী বলে না।
আমার শহর জেলা সদরও নয়।আমার শহর আসলে শহর ছিলো না।
নিতান্ত গ্রামপঞ্চায়েত।হাততোলা ভোট দেখে বড় হয় শহর।গাইবাছুরে ভোট দিয়ে জোড়ানৌকো থেকে সেতু হলো দেওনদী পারের শহর।
তারপর ৭৮।নৃপেন চক্রবর্তী হয়ে এই শহর নগর হলো।
দশরথ হয়ে মানিকে এসে নগর হলো পুর পরিষদ। 
এ শহর রাজধানী প্রিয়তা পায়নি।
এ শহর সে আকুলতা নির্ভরও নয়।
এ শহরের প্রতিটি পথ আধুনিক বিশ্বের সড়ক মেরামতিতে রিপেয়ার হয়নি।
এ শহর থেকে পায়ে হেঁটে দারচৈ দারুচিনি দ্বীপের স্বপ্ন আঁকে চোখ।
চোখের মণি বেরিয়ে আসে বিবাহবার্ষিকীর আগেই।
এই শহর থেকে পুবে চোখ তুলে তাকালে কমলালেবুর মতো সূর্য উদয় দেখা যায়।
পশ্চিমে ধলাই কালোটিলা।দক্ষিণ বরাবর লংতরাই শাখানটাং থেকে কচি টেঁকিশাক ভর্তি খারাঙ নেচে নেচে পাহাড়ি রমণীর পিঠ দোলে উঠে।
উত্তরে নটিংছড়া চা বাগান পেরিয়ে গেলে ঊনকোটি।মনুভ্যালি চা বিশ্ববাজার দখল করলেও আমাদের আনারস দারচৈ পেরোয়নি।
নেই নেই  করেও আমাদের দুটি নদী আছে।
চটি লাঠি পুঁটি আমাদের প্রিয় মাছ।
নদী চরে লাউডগা লকলক করে বেড়ে উঠলে আমাদের কৃষক নবান্নের গান করে।
আমাদের শহরের নেতাজী সুভাষ চৌমুহনী হয়ে গ্রাম থেকে উঠে আসে একটি আওয়াজ।কেউ কেউ আওয়াজে আওয়াজ তুলে কিছুদিন বৈঠকী কবিতা পাঠে মিলিত হতেন।
বছর দুয়েক পর আওয়াজ এসে থেমে যায় সূর্যসেন লেইন।কিছুদিন  প্রলাপ চলে।
তারপর মে'বিকেলে দেওনদী পেরিয়ে আওয়াজ এসে মনুসমগ্রে মিশে গেলো।
রাজধরের আত্নহত্যার পর গোবিন্দ মাণিক্য আরো তেজস্ক্রিয় এখন।
আমাদের শহরে কবিদাদা নেই। আমাদের শহরের কবিদাদারা দাদাগিরি করতে এসে বাজারের পটল তুলে তারা এখন তুলোবাজ। 
আমাদের শহরে শঙ্খপল্লব আদিত্য বসবাস করেন না।
আমাদের শহর সুবোধ VS সুবোধকে জানে।
এই শহরে বিজ্ঞানের বীজতলায় বিজ্ঞান চাষ হতে হতে শনিতলার সংখ্যা রাজধানীর মতো ধানিজমি।
তাও হাহুতাশ নেই।
ফুটবলে লাথি দিলে এ শহরের বল দেওজলে ভেসে যায়।
জলপ্রপাতের কাছাকাছি তাও পা ডুবিয়ে ভাসমান বল তুলে আনতে এগিয়ে এলো না সিকামনুকতাই।
আমাদের নেই অনুপ দুলাল কিশোর দেবব্রত শ্যামল।
আমাদের নেই দিলীপ রামেশ্বর।আমাদের শহর তাতে কিচ্ছু ভাবে না।
আমাদের শহরের দাদা চাই না।
এ শহর থেকে দেওনদীসমগ্র দেওজল বাহিত মনুতেই শঙ্খ লাগে। 

১৩:০৫:২০২০
সকাল:০৮:১৫মি
কুমারঘাট।


পাবিয়াছড়া

আমাদের শহর এখন কুমারঘাট।
দেওবাহিত শহরের মাঝ বরাবর কাটাকটি খেলে
পাবিয়াছড়া লিকলিকে নামছে
শহরের মলমূত্র
আর ব্যবহৃত নিরোধের ভেতর মৃত স্বপ্ন নিয়ে।

আমাদের শহর কুমারঘাট।
গ্রামীণ সারল্য ছিলো মানুষের বুকের ফসল।
সাহিত্য সংস্কৃতি যা ছিলো
প্রাণ ঢেলে দিতো তখন।

এখন দাদাদের চোখের তর্জনী থেকে আগুন ঝরে।
দেওবাহিত শহরের লোক পড়শির পিঠে হাত রেখে
কেউ বলে না"কেমন আছো"!

দিনে দিনে শহর বড় হয় নদীর নাব্যতা কমে
আমাদের শহর কখন যে
পাবিয়াছড়া বাদ দিয়ে এখন কুমারঘাট
জেঠামশাইও জানেন না।

আমরা পাবিয়াছড়ার পাবদাকে
হারিয়ে অন্ধ্ররুই রসনায় তুলে দিই

আমাদের শহর এখন কুমারঘাট।
দাদারা সাবলক।শহর পুরপরিষদ।
ড্রেন আর ডাস্টবিন নাই বা হলো
আমাদের শহর তবু আমাদের কুমারঘাট।

২০:১০:২০১৭
সকাল:১০:৩৫মি
কুমারঘাট।

0 Comments