চৈতন্য ফকিরের অনুগল্প
চৈতন্য ফকিরের অনুগল্প
(১)সূত্র
একটি মিসড্ কল।ইচ্ছাকৃত নয়।মোবাইল বিগড়ে যাওয়ায় কল ঢুকে যায় কারো না কারো কাছে।আর এতেই যত ভুল বুঝাবুঝি।কেউ ভাবে ইচ্ছে করেই এসব সে করছে।আবার অন্য কেউ হয়তো ভাবছে এভাবে কি বিগড়ে যাওয়া মোবাইল ফোন নিজে থেকে ফোন দিতে পারে?
ইদানিং প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতেই সকাল গড়িয়ে কখন রাত হয়ে যায় স্বপ্না জানে না।
সে শুধু স্বপ্ন দেখে কোনো মিসড্ কল বেয়ে তার জন্য অপেক্ষা করছে রাজকুমার।৩০/০৩/২০১৬ইং
(২) সেই পাড়াতো বোন ও রক্তকরবী
রক্তকরবীর গোটা খেয়ে আত্মহত্যা করেছিলো পাড়াতো একবোন।
তখনো আমার কাছে রবীন্দ্রনাথ অধরা।
রক্তকরবী নাটকের কথা জানি না।
বাড়িতে রবীন্দ্রচর্চা চোখেরবালি অব্দি থাকলেও
রক্তকরবীর গোটা খেলে আত্মহত্যা করা যায় তা বুঝার বয়স হয়নি।
রক্তকরবী নাটক লিখে রবীন্দ্রনাথ হইচই ফেলে দিলেও
তখনো আমাদের বাড়ির চৌকাট পেরোয়নি রক্তকরবী।
বাবা নাট্য অভিনেতা হলেও তিনি গল্পচ্ছলে বলেননি
রক্তকরবী শুধু ঘন্টাফুল নয়।
আমরা ঘন্টাফুলের মধু শুষে খেতাম।
তাতে লেগে থাকা কষে বিষ আছে বাবাও বলেননি।
নির্ধিধায় শুষে নিতাম বিষ ও মধু।
যেদিন পাড়ার বোনটি রক্তকরবী খেয়ে নীল হয়ে গেলো
সেদিনও ঘন্টাফুলকে রক্তকরবী বলে জানতাম না।
করবীর গোটা দিয়ে আমরা কড়ি খেলতাম।
কড়ির ভেতর বীজের মতো অংশ ফেলে দিতাম।
তাতে বিষ আছে কোনদিন বাবা বলেননি।
ঘন্টাফুলের ভেতরের অংশ জড় করা বিষ
খেয়ে পাড়াতো বোন
কেন আত্মহত্যা করতে গেলো তখন বুঝিনি।
কড়ি খেলতে খেলতে আমরা বালক হয়ে গেলাম।
ততদিনে শম্ভু মিত্রের গণনাট্যের হাত ধরে
রক্তকরবী পরিচিত মঞ্চসফল নাটক।
১০:০৫:২০১৮
বেলা:১২:২০মি
কুমারঘাট।
(৩)শান্তনু সুদীপ সুকান্ত সময়ের রেলগাড়ি এবং ডিজিটাল ডাটা
আমরা সময় নামক ট্রেনে চাপা নির্বোধ চশমা আটা কম দেখা পুরুষ। দেখি কম।শুনি কম।বধির।অন্ধ।সময় উঁই।অন্ধ উঁই।অথচ নিজেকে পুরানো আসবাব ভেবে প্রতিদিন কাটছি।খাচ্ছি। চিবুচ্ছি।রাতে ভয়ে সিটকিনি লাগছে কিনা বারবার পরখ করি।ভয়ে ঘরের ভেতর এটাস্ট কমোট লেট্রিন রাখি।বড় বড় বাথরুম। বাথটব রাখি।জানালায় ঘোড়ার দৌড় রাখি।মেঝেতে অত্যাধুনিক টাইলস লাগাই।মোজাইক পাথর।।সিনট্যাক্সে জল তুলি বৈদ্যুতিক মোটর চালিয়ে।ভেশিনের উপর আয়না লাগাই।ভাতঘুম সারি
চোখে মুখে জল ছিটাই।ফ্রেশ লাগছে কিনা থ্রিডি গ্লাসের সামনে নিজেকে মেলে ধরি।বাথরুমের আয়নার সামনে প্রতিদিন নগ্ন হই।এদিক ওদিক মাপি।নিজের ভুরি চর্বি দেখে ভয় পাই।ডায়েট কন্ট্রোল করি।নিয়মিত প্রেশার মাপি।সুগার কন্ট্রোল রাখতে জগিং করি সকাল বিকাল।হাঁটি।দৌড়ি।সব করি।এটা ওটা।মিছিলেও হাঁটি।মোমবাতি নিই।দুএকটা খিস্তি খেইড় দিই।রাতে ঘরে বসে বউয়ের সাথে একটি ইয়েটিয়ে খাই।বেশি টু বেশি চোখ মারি পুরানো প্রেমিকার টোল দেখে।
সকালে বাজারের সেরা মাছটা কিনি।সামনে সেভেন কমিশন। অফিশে কাজ সিকিত তুলে হিসেব করি কত বাড়বে।কত পাবো।কত পাওয়ার স্বপ্ন কেউ রাতদিন গিলাচ্ছিলো।ক্লাস কই।শুধু পাটিগণিত।গুন কষি।টাটকা সব্জি পুঁই কচু আনি।লতি আনি।সিদল নিই।কঁড়ুল আর ভেরমা নিই।আচ্ছাসে গোদক করি।মনে মনে আমি আমরা ত্রিপুরী।
ক্যুইনের সাথে সেলফি তুলি।সংবাদ পত্রে হাসি মাখানো দাঁত বের করা আমিও ছবিপুরুষ।
ছক।সব ছকে চলছে।ট্রেন আসছে। হাম সফর।দেওঘর আসছে যাচ্ছে। সব ঠাকুরের কৃপা।
রাজধানী আসে।ত্রিপুরীরেশ্বরী আসছে।যাচ্ছে।
রোগ হলে হাম সফর।মানত করতে দেওঘর এক্সপ্রেস। ট্রুিপ রাজধানী আনন্দবিহার করি।
বান্ধবীর টপ ছাট দিই।
বউকে কত বেশি সময় না দিয়ে কলিগের ঠোঁটের নিকট ঠোঁট বাড়াই।
কামুক পুরুষকে ধর্ষনের মিছিলে নিয়ে যাই।কলিগ ছাড়াও মহিলা সুন্দরীদের বুক মাপি।ঠোঁটের শেড দিয়ে লিপস্টিক দেখি।খাড়া হওয়া পুরুষ লাঠি নিয়ে মুখে মুখোশ পরে মোম নিয়ে হাঁটি।একটু গলে পড়া মোমকেই আটালো শুক্রাণু মনে করে জ্বলন সহ্য করি।
এতসব ঘরগেরস্থালির ফরমাস।
শান্তনু সুদীপ সুকান্ত সময় এরা চলন্ত ট্রেনে কাটা পড়া পোকা।অনুসূচনা নাই।কী আর দরকার।
তিন দিন নেট বন্ধ।৭২ঘন্টা।সাইন্স। আন ওয়ান্টেড সেভেন্টি টু।কাম খতম।গত রাতের উত্তেজিত মুহূর্ত দমানো আমার কাজ নয়।বিজ্ঞান আছে না।খতম করো।সব যেমন আন ওয়ান্টেড সেভেন্টি টু।নেট নেই সেভেন্টি টু।
অনিচ্ছাকৃত পেগনেন্টে আন ওয়ান্টেড সেভেন্টি টু।
সুকান্ত একজন মিছিল
সুদীপ মিছিল
শান্তনু মিছিল
ছেলে ধরা মিছিল
গুজব মিছিল
নেট নেই মিছিল
জিও মিছিল
নীরভ মিছিল
লেনিন মিছিল
গোবিন্দ তেলী মিছিল
ধনঞ্জয় মিছিল
ব্রজলাল মিছিল
সৌমেন্দ্র মিছিল
ব্রডগেজ মিছিল
এম এন রেগা মিছিল
সপ্তম মিছিল
সেভেন কমিশন মিছিল
সব মিছিল
মিছিলে থাকা লোকটা জানে
এখন আর কেউ রক্ত ঢালে না।
এখন রক্তদান উৎসব হয়
এখন দেহদান হয়
বডিদান হয়।
সেচ্ছায় বিবাহ বহির্ভুত দু একটা পুরুষ থাকবে
মেয়ে থাকবে সবার।
এসব সময়ের দাবী
সময়ের সৌন্দর্য।
সবচেয়ে তরুণ ভাইটি কম কাজ করবে
বেশি কথা বলবে।
চোখ রাঙ্গাবে সময়ের ভ্রু উল্টে
এসব সময়।
সবচেয়ে তরুণীটি তার মা
তার বাবা
তার আত্মজাকে লুঁকিয়ে
একজন পুরুষ রাখবে টেটাস।
বাবা
মা
বয়স্ক স্বজন নিকট কোন বৃদ্ধাশ্রমে থাকবেন সময় বলছে।
ঘরে শুধু
তুমি
আমি
আরো ফাঁকা রাখতে হবে
কারণ বন্ধুকে সময় দিতে হবে
প্রতিটি ঘরই
সেক্স রেকেট।
শহরের মদের দোকান
জাতীয় সড়ক থেকে ৫০০মিটার দূরে
অথচ রাতে নিজের মহিলার সাথে
বাসায় সাপ্লাই দেওয়া চুলাই খেয়ে
ঝুলে পড়ি বান্ধবীর উড়নায়!
সময় কত ডুগডুগি বাজায়
যে কেউ কমরেড থেকে কম রেড হন।
যে কেউ লেনিন হন
রেগার টাকা চেটেপুটে খান
এ দেশে গরুর খাওয়া মানুষ খায়।
এদেশে নোট বন্দী হয়
এদেশে হাওলা চাওলা
আর দেওলিয়া এই শব্দঋণ ছাড়া
আমাদের কোন পুরুষ শাসন আসেনি
নিরাপত্তা দিতে পারলো!
এখন মানুষ মানুষকে পিটিয়ে মারে।
এখন ভাই ভাইকে মদের আসরে বেটি সাপ্লাই করে।
এখন নিজের লাশের উপর নিজে দাঁড়িয়ে
নিজেই বীণ বাজায় সময়।
ক্লীক:১
সময়কে তাক করে দাও পেন্টাগণের মিনারে।
ক্লীক:২
সময়কে থাক করে দাও
বিন লাদেনের দিকে।
ক্লীক:৩
আবোল তাবোল বলো
জনরোষ তাক করে দাও
কিডনি
কিডন্যাপ
ডাইনি অপবাদ
শিশুপ্রচার
ধর্ষন
মার্ডার
খুন
রাহাজানি
আর তুলাবাজের দিকে।
ক্লীক:৪
নিজের স্বচ্ছতা তাক করো
ইরাক
রোহিঙ্গা
আর সাম্প্রতিক বন্যায়
কত ডকুমেন্ট নষ্ট হলো
প্রশাসন শিবির বসানো
কত বেশি পরিমান ডকুমেন্ট
হস্তান্তর করা যায়
ততই মঙ্গল।
এখন সব ডিজিটাল
ক্যাস লেস
জি এস টি
লাভক্ষতি অঙ্ক
পেকেজ
লেখাপড়া থেকে বিবাহ সবখানে।
সময় সব সময়।
সময় রেল গাড়ি।
শান্তনু
সুদীপ
সুকান্ত
গোবিন্দ
সবাই সময়ের খড়গের নীচে
মাথা রাখা নিরোপরাধী
এক একজন হেজেমজে যাওয়া
ডিজিাল ডাটা।
০৬:০৭:২০১৮
ভোর:০৫:৩০মি
কুমারঘাট।
(৪)চল্লিশ বছর আগের একদিন
ইরেশ নামে একটি ছেলে
তার বাবার নাম জানি না
তার মায়ের নাম জানি না।
এক সাথে প্রথম ক্লাসে ভর্তি হয়েছিলো ১৯৭৮সালে ঈশানের সাথে।
সে প্রতিদিন লাগতো
ঈশানের সাথে।অথচ সে ছিলো
তার বন্ধু।
ক্লাস টু-তে হঠাৎ একদিন সে আর আসছে না ।
স্যারের কাছ থেকে জানলো ঈশান, সে নেই।
যা আজো মন থেকে মেনে নিতে পারেনি ঈশান।
কেন নেই সে?
গতকালও তো ছিলো?
কি হলো তার?
না বলে সে কোথায় গেলো?
ঈশান তাকে খোঁজছে।
খোঁজেই চলেছে
কোথাও আর পায়নি।
কিসের এত অভিমান তার?
ঈশান আজো মনে মনে চল্লিশ বছর থেকে বুকে অভিমান নিয়ে চলে।
০৪/০৬/২০১৬
দেওপাড়া
সকাল :৬:২০মি।
(৫)চন্দ্রপ্রভা
কিছুদিন পরপর লাইকার বদল ঘটে। আবার কেউ কেউ নতুন লাইকারম্যান আসেন। দেখা যায় পুরানো দাদা লাইকার, দিদি লাইকার আর নেই।
মন্তব্যকারেরও বদল দেখি। প্রথম প্রথম টের পেতো চন্দ্রপ্রভা।
দেখা গেলো লাইকার একজন লাইক না দিলে এই লাইকারদলটাই আর লাইক কমেন্টস করছেন না।
তখন দলটাও চেনে চন্দ্রপ্রভা।
অবশ্য তাতে চন্দ্রপ্রভা দমে না।কারণ তার কাছে লাইক কমেন্টস নয় একটি ভাল লেখাই লাইক কমেন্টস করা দলের ভিতকম্পের কারণ টের পেয়ে যায় ইতিমধ্যেই চন্দ্রপ্রভা।
আবার শুধু লেখা নয় একটু আধটু মাংস লোলুপ লাইকার দলও যে চন্দ্রপ্রভার বন্ধু তালিকায় আছেন ইতিমধ্যেই রাস্ট্র হয়। চন্দ্রপ্রভা সব দল এড়িয়ে তার লেখায় মনোযোগ দেয়।
কাঞ্চনপুর#১৪/১০/২০১৬#সকাল#৬:২৫মি।
(৬)লাইকারম্যান
কিছুদিন পরপর লাইকার বদল ঘটে। আবার কেউ কেউ নতুন লাইকারম্যান আসেন। দেখে পুরানো দাদা লাইকার, দিদি লাইকার আর নেই।
মন্তব্যকারেরও বদল দেখে।। প্রথম প্রথম টের পেতো চন্দ্রপ্রভা।
দেখা গেলো লাইকার একজন লাইক না দিলে এই লাইকারদলটাই আর লাইক কমেন্টস করছেন না।
তখন দলটাও চেনে চন্দ্রপ্রভা।
অবশ্য তাতে চন্দ্রপ্রভা দমে না।কারণ তার কাছে লাইক কমেন্টস নয় একটি ভাল লেখাই লাইক কমেন্টস করা দলের ভিতকম্পের কারণ টের পেয়ে যায় ইতিমধ্যেই চন্দ্রপ্রভা।
আবার শুধু লেখা নয় একটু আধটু মাংস লোলুপ লাইকার দলও যে চন্দ্রপ্রভার বন্ধু তালিকায় আছেন ইতিমধ্যেই রাস্ট্র হয়। চন্দ্রপ্রভা সব দল এড়িয়ে তার লেখায় মনোযোগ দেয়।
কাঞ্চনপুর#১৪/১০/২০১৯
(৭)দিরং
এইটুকু পথ হাঁটতে হাঁটতে কখন সন্ধ্যা নেমে এলো বাড়ির ছাদে।মনেও নেই কখন সকাল ছিলো।এক একটি দিন এমন করেই রাত হয়ে যায়।দেরিদা জানতো না।
রাত্রি মুখ বেজার করে সকালের অপেক্ষা করে। সময় কাটায়।সময় যখন চলে গেলে ভালো তখন দেরিতে যায়।যখন দেরিতে গেলে ভালো তখন তাড়াতাড়ি যায়।সময়ের সাথে সাপলুডো খেলতে খেলতে চলা।
এই তো আকাশ কালো আরো কালো আর কিছু দেখার উপায় নাই।ঘণকালো চারদিক অন্ধকার। নিকষ কালো।দেরিদা থমকে আছে,এত দিরং হচ্ছে আজ,রাত্রি?
০৮:০৩:২০১৯
বেলা:০৫ঃ২০মি
কুমারঘাট।
(৮)বরাক:সন্ধ্যা নামার মুহূর্ত
চৈতন্য ফকির
সইন্ধ্যা অইযার।রূপসীবাড়ি এখনো আসেনি।ফুটাইল চানা লইয়া হকার রেলর ডাব্বায় ডাব্বায় ঘুরের।আদিমা,য়ুথিকা কেউ চানা খাইতে চাননা।অপূর্ব নিরাই রূপসীবাড়ির রূপ দেখছেন।লাল সূর্য বরাকে টুপ করে ডুব দিতেই রেল গিয়ে করিমগঞ্জ থামলো।দিকশূন্য।রাইত রাইত লাগের সারা বরাক।
১৪:১২:২০১৮
বেলা:৪:৪৫মি
নিলামবাজার
(৯)
একটি জ্যামাটকের গল্প
গোবিন্দ ধর
ঢাকার রাজপথে গতকাল এক বন্ধু
দীর্ঘ দুই থেকে তিন ঘন্টা জ্যামাটক থেকে
গেমেনেয়ে বাসায় ফিরলেন।
তখন থেকে নিজেকে অপরাধী
অপরাধী লাগছে।বন্ধু এরকম জ্যাম হওয়ার
জন্য কারন হিসেবে বললেন বাংলাদেশের
নাগরিক স্বাচ্ছন্দের গল্প।
গল্পটা এরকম-ঢাকার বিলাসী লোকজন এক একজনের একের অধিক গাড়ি আছে।বাসার সামনে শোভা হিসেবে।আর ঈদের সময় দিনেরবেলা প্রায় সকলেই একসাথে ঢাকার রাজপথে বেরিয়ে পড়েন।একধরনের উন্মত্ত প্রতিযোগিতা।পথ দখল করে সব ছোট বড় নানা বিলাসী কার।আর এজন্যই এই জ্যাম।কিন্তু বিকল্প সড়ক নেই।প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মডেলের কার।পথ নয় শুধু গাড়ি।তার উপর নেই বৃষ্টি।সীএনজী আর পেট্রোল ডিজেল সব কারেরই উষ্ণতা বাড়ানোর জুড়ি নেই।বাসা থেকে ঈদের আগে বিশেষ প্রয়োজনে যথা সময় যথা স্থানে পৌঁছনো কারো সাধ্য নেই।এই রকম অবস্থায় মূমুর্ষদের বয়স্কদের কি অবস্থা হয় বাংলাদেশের জনগন এবং শুভবিকেক আপনারা ভাবুন।
জ্যামাটকের পর বন্ধু কথা বলছেন খুব কম।আসলেই শরীর সুস্থ্য কিনা চিন্তিত আমি।
২৬/০৬/১৬*কুমারঘাট*সকাল:৮:৪৫মি।
(১০)
নোট
গোবিন্দ ধর
মনটি এত খারাপ কাল সারারাত ঘুমাতে পারিনি।একটি মেয়েকে বাঁচাতে আমরা সমবেত একটি আন্দোলন করলাম।সহযোগিতার জন্য মানুষের নিকট আবেদন নিবেদন করলাম।মানুষ এগিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে দিলেন।রাজ্য সরকার কেন্দ্র সরকার সহযোগিতা করলেন।মেয়েটি সুস্থ হয়ে এলো।মেয়েটি রিচেক করিয়ে এলো সদ্য।সে সুস্থ। ক্লাস প্রাইভেট সবই নিয়মিত করতো। লেখাপড়ায় ভালো।মুখে মমতাও ছিলো।তার বাবা,তার মা,তার কাকু সবাই যখন নিশ্চিন্ত সে গত কাল সুইসাইড নোট লিখলো,"আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়"।
এই নোট আমি মেনে নিতে পারিনি।
এই নোট ওর নিজের আত্মহত্যার বৈধ্যতা দিতে পারে না।তার বেঁচে থাকার সাথে যেখানে অনেকের জড়িয়ে থাকা ছিলো
সে এমন রকম লিখতে পারে না।
তাহলে ভেতরে ভেতরে তার কী হচ্ছিলো?
নিজেকে কেন খুন করলো সে?
নাকি সমাজেই কোন খুনি লুকিয়ে আছে?
কারো মুখে ঝামা ঘসতেই নিজেকে ঝুলিয়ে দিলো সে?
সে কে?
কেন এমন সিদ্ধান্ত?
এসব ভাবতে ভাবতে সারারাত চলে গেলো।
কবেই ভোর নামলো বাড়ির পূব দিকে।
এখন সকাল আটটা তিরিশ।
মেয়েটি এখনো মর্গে।
সে ঘুমাচ্ছে চিরঘুম।
২৪:০৬:২০১৮
সকাল:০৮:৩০মি
কুমারঘাট।
0 Comments