গোবিন্দ ধরের সংক্ষিপ্ত জীবন রচনা ও সম্মান পুরস্কার
গোবিন্দ ধর
পিতা:-- দক্ষিণা রঞ্জন ধর
মাতা:-- সুষমারাণী ধর
জন্ম: -- ৩০শে জুলাই ১৯৭১
জন্মস্থান :অফিশটিলা,ধর্মনগর,উত্তর ত্রিপুরা।
স্কুল:রাতাছড়া দ্বাদশশ্রেণি বিদ্যালয়।বর্তমান হাজিবাড়ি দ্বাদশশ্রেণি বিদ্যালয়।
পেশা:শিক্ষকতা।
প্রথম শিক্ষক জীবন:উত্তর রাতাছড়া উচ্চ বুনিয়াদি বিদ্যালয়:১৯৯১।
প্রথম প্রকাশিত রচনা:১৯৯১
প্রথম বই:জলঘর:২০০৭(কবিতা সংকলন)।
ছদ্মনাম:চৈতন্য ফকির
সম্পাদিত কাগজ:
স্রোত
কবিতাঘর
কুসুম
বইবাড়ি
অন্যপাঠ
কবিতা সংকলন:
(১)জলঘর
(২)সূর্যসেন লেন
(৩)দ্রোহববীজ পুঁতে রাখি,একা
(৪)মনসুনমাছি
(৫)শ্রীচরণেষু বাবা
যৌথ কবিতা সংকলন:
(১)মেঘ বৃষ্টি রোদ
(২)গোপন জোছনা
(৩)তামাদি হয়নি যে ভালোবাসা
(৪)কখনো পাহাড় কখনো নদী
(৫)এই সময়ের বত্রিশ জন কবির কবিতা
(৬)আঞ্চলিক ভাষার কবিতা
(৭)শেখড়ের ধ্বনি
(৮)কবিতা :২০০১/২০০২/২০০৩/২০০৯/২০১০
(৯)সমকালীন পনেরজন কবির কবিতা
(১০)ত্রিপুরার আবৃত্তির কবিতা
আবৃত্তির অডিও সিডি:
(১)দ্রোহবীজ:২০১৭
(২)আত্মদ্রোহ:২০১৭
(৩)শ্রীচরণেষু:২০১৭
ছড়া সংকলন:
(১)থইথই ছড়া
(২)তোমার উনিশ আমার একুশ
যৌথ ছড়া সংকলন:
(১)এই শতাব্দীর ছড়া
প্রবন্ধ ও গবেষণা:
(১)শ্রীহট্টীয় লৌকিক সংস্কৃতি ও শব্দকোষ
(২)আত্মক্ষর
(৩)ত্রিপুরার লিটল ম্যাগাজিন
(৪)ত্রিপুরার সাহিত্যকোষ
(৫)ত্রিপুরার লেখক অভিধান
(৬)কুমারঘাটের ইতিবৃত্ত ও তথ্যপুঞ্জী
(৭)কুমারঘাটেরর স্থান নাম
(৮)ত্রিপুরার লিটল ম্যাগাজিন শিশুসাহিত্য ও অন্যান্য
(৯)আলোকিত বিজয় রায়
ছদ্মনামের আড়ালে:
(১)সময়ের গোল্লাছুট
সম্পাদিত:
(১)শতবর্ষের আলোকে সমর সেন:ফিরে দেখা
(২)হিমাদ্রি দেব রচনা সমগ্র
(৩)ত্রিপুরার প্রথম কবিতাপত্র জোনাকি সমগ্র
(৪)অনন্য অনিল সরকার
(৫)জননেতা দশরথ দেব:জীবন ও সংগ্রাম
(৬)কথাসাহিত্যিক শ্যামল ভট্টাচার্য
(৭)সমকালীন ত্রিপুরার পাঁচজন কবি সাহিত্যিক
(৮)পীযুষ রাউত উজ্জল উদ্ধার
সম্মান ও পুরস্কার:
(১)অণির্বান দেশবার্তা:২০১০
(২)উত্তরণ :২০১২
(৩)প্রাণেরকথা:২০১৫
(৪)বিজয়া:২০১৬
(৫)বহ্নিশিখা সম্মান:২০১৭
(৬)বাংলাদেশ বুকক্লাব:২০১৭(বাংলাদেশ)
(৭)বজ্রকণ্ঠ:২০১৭(বাংলাদেশ)
(৮)চট্টগ্রাম ইতিহাস চর্চাকেন্দ্র:২০১৭(বাংলাদেশ)
(৯)ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমী:২০১৭(বাংলাদেশ)
(১০)কবিকন্ঠ:২০১৭
(বাংলাদেশ)
(১১)কথাশিল্প:২০১৭
(১২)সৃষ্টিলোক:২০১৭
(১৩)কন্ঠসাধন আবৃত্তি সম্মান:২০১৭(বাংলাদেশ)
(১৪)ক্রিয়েটিভ :২০১২
(১৫)ষষ্ট উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলন:২০১৬
(১৬)কুমারঘাট নগর পঞ্চায়েত :২০০১।
(১৭)ক্রিয়েটিভ সম্মাননা:২০১২
ত্রিপুরার তরুণ কবি গোবিন্দ ধরের আত্মখননের তর্জনী
সাক্ষাৎকার:সুস্মিতা দাস
কবি গোবিন্দ ধর শুধু কবি নন, একাধারে স্রোত পুস্তক প্রকাশনা, সাময়িকী সম্পাদনা লিটল ম্যাগ আন্দোলন সহ বিচিত্রবিধ সাহিত্যবিষয়ক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত অতি জীবিত এক দ্রোহবীজ।যা তাঁর স্বখোদিত ভাস্কর্যের মতো প্রস্ফুটিত।তাঁর কবিতা পাঠের সাথে সাথে পাঠক স্বখননের সলিলে ডুবে যাবেন নিজেরই অজান্তে এ আমার গভীর বিশ্বাস ।কবি যেন এক সুদক্ষ শৈল্যবিদের মতো নিজের জীবনকে নিজেই কাঁটাছেড়া করতে করতে বিশুদ্ধ উচ্চারে ছড়িয়ে দিচ্ছেন জীবনবেদ।আর পাঠক সেই বেদবীজে খুঁজে পাচ্ছেন যেন নিজেরই দ্রোহবীজ।
যখন কবি বলেন,-" পথের এত কাঁটা /চক্র, চক্রব্যুহ, খানাখন্দ মানুষ পার হতে পারে না/
এই চক্রে ঘুরপাক খায়/একটি লাটিম/
জলে থেকেও জল পিপাসায় জলের গভীরে ডুব দেই/ শুধু খাঁচা /খাঁচার দিকে এগিয়ে গেলে খোঁয়াড়ে প্রবেশন/এই স্বৈরিনীমুখ---/
তৃষ্ণা মেটেনি/বেলা মাসির পেন্টিতে সময়ের দাগ/এই পৃথিবীতে তুমুল তুফান/
আমি তুমি সবাই শিকার-----।
কিংবা বুকে তোমার অনেক কবুতর ছিল /অথবা "তবু, সোনাগাছির বিপিএল ছলনা----/
ভাঙচুর হওয়ার মতো যথেষ্ট /কিছুই নেই অবশিষ্ট /অথচ প্রতিবার ভাঙছি/
কিংবা আঁকাবাঁকা হাটি বুকে ভর দিয়ে /
মানুষ অথবা মানুষ নয় অন্য কেউ? /ভেতরে ভেতরে বাস্তুম্যাপ, কামড়ায় মন, মেধা, সংস্কৃতি/
কবির কাছে জীবন গিরগিটির মতো রঙ বদলায়।তাই তিনি রঙ বদলাতে বদলাতে বর্ণান্ধ।
এই একটি মাত্র শরীর/যার সাথে আত্মা আমার ডানার মতো লেপটে আছে/ কিংবা বারবার সরল রেখা আঁকতে /বিন্দু দিয়েছি/দুটি বিন্দু আর ঠিকঠাক মিলেনি/
কবি বলেন -জল ভেবে বহুদূর অব্দি এসেছি/---ফেরা কি সহজ? /কেউ ফিরতে পারে না/
কবির উচ্চার -শরীর তৃপ্তি হোটেল নয়----/
আবার বলেন-সর্বংসহা এই মাটি/---মাটিতেই বীজ জাগে/মাটিতেই বেড়ে ওঠে/মাটিতেই খাবি আর হোঁচট/মাটিতেই আমিত্ব শেষ /
টপকাতে চেয়েছি বারবার/আল টপকাতে পারিনি বলে আমি জমিন/
কবির বিশ্বাস---শুভরেখা তুমি আলোতে থেকো/------------ভেতরে ভেতরে নিক্কণের শব্দ বাজে/বাইরে আমি একা/সমস্ত দ্রোহবীজ পুঁতে রাখি একা, একা।
(১)সুস্মিতা:স্রোত প্রকাশনা কবে থেকে তার যাত্রা শুরু করেছে এবং এই যাত্রার সফলতার কাহিনীটা শুনতে চাই।
গোবিন্দ:ত্রিপুরার প্রত্যন্ত গ্রাম রাজধর মাণিক্যের স্মৃতি বিজড়িত রাতাছড়া থেকে ত্রিপুরার প্রকাশনা জগতে নিজের জায়গা করে নিয়েছে স্রোত। পরিচিতি ছড়িয়েছে ভারত বাংলাদেশ নেপালেও।১৯৯৫সালে শুরু হলেও স্রোত ২০০১সালে উত্তর পূর্বাঞ্চলের চল্লিশ জন কবির কবিতা গোবিন্দ ধর সম্পাদিত :"মেঘ বৃষ্টি রোদ "কাব্য সংকলন প্রকাশের মাধ্যমে প্রকাশনায় প্রবেশ করে।আবার নিরবতার পর ২০০৭সালে 'গোবিন্দ ধরের :সূর্যসেন লেন, পদ্মশ্রী মজুমদারের :আত্মস্তব,কাব্য সংকলন এবং দেবব্রত দেব এর ছোটগল্প সংকলন :অন্তস্থল প্রকাশের পর আর অদ্যাবধি যাত্রা বিরতি নেই।২০০৮ সালে ত্রিপুরার বিশিষ্ট কবি হিমাদ্রি দেবের কবিতা সংকলন"বৃষ্টিজল "প্রকাশিত হয়। ত্রিপুরা সরকারের সুকান্ত পুরস্কারে বৃষ্টিজলের কবি ভূষিত হন।শ্যামল ভট্টাচার্যের উপন্যাস "লোদ্রভার কাছাকাছিu "পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক বাংলা অকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়।উত্তর পূর্বাঞ্চলে এই সম্মান একমাত্র স্রোত প্রকাশনা'ই পায় ২০১০সালে।২০১৪সালে চাকমা ভাষায় "গীতাঞ্জলী 'অনুবাদ প্রকাশ করে ত্রিপুরা সরকারের শ্রেষ্ঠ প্রকাশনা সম্মানে ভূষিত হয় স্রোত।বাংলা ভাষার পাশাপাশি স্রোত প্রকাশ করেছে মনিপুরী, ককবরক,হালাম,মগ ভাষাভাষি সাহিত্যও।ত্রিপুরার সব কয়টি ভাষা সহ আগামীদিন ককবরক,চাকমা, মনিপুরী,মগ, হালাম নিয়ে একগুচ্ছ ভাবনা আছে স্রোত।২০১৭সালে মন্ডপ সজ্জায়ও ত্রিপুরা সরকারের দৃষ্টিতে তৃতীয় হয়েছে স্রোত ।সফল কতটুকু আর। কাজ করি এই যা।আরো অনেক কাজ বাকী। শ্রীহট্টীয় লৌকিক সংস্কৃতি ও শব্দকোষ:গোবিন্দ ধর এর বইটি ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা পাঠ্য তালিকার রেফারেন্স বই হিসেবে ব্যবহৃত হয়।একজন লেখক হিসেবে এ আমার প্রাপ্তি।স্রোত প্রকাশনার উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলে আমি মনে করি।যদিও তা নিজের ঢোল নিজে পেটানোর সামিল। তবুও এই আনন্দ এগিয়ে যেতে সহায়ক বলতে পারি।
(৩)সুস্মিতা:ছড়া কবিতা সম্পাদনা প্রকাশনা এতসব কি করে হয়ে ওঠে?
গোবিন্দ :
ছড়া কবিতা সম্পাদনা প্রকাশনা এই সকল বিষয়ের হয়ে ওঠার কোন রসায়ন নেই।যখন যা হয় তখন তা হয়।একজন ছড়াকার যখন ছড়া লেখেন তিনি ছড়াশিল্পী।কবিতা যখন আসে তখন নিশ্চয়ই ছড়া লেখা অসম্ভব।বিষয়টা হলো সব কটি শাখা একে ওপরের পরিপুরক হলেও একটার সাথে অন্যটির দ্বন্দ্ব চিরন্তন।
(৪)সুস্মিতা:আপনার কবিতা বাহুল্যহীন,শব্দের কারিকরি নেই, নেই গঠনের নীরিক্ষা,কিছু বলুন?
গোবিন্দ :কবিতা তো মক্তবের মেয়ে থেকে
আশ্রমের হয়ে যাচ্ছে ।আর তার শিষ্যদের
গুরুমুখি বাণী প্রচারের আশ্রয় আজ কবিতা।আশ্রম না হয়ে যদি আশ্রয় হতো
কবিতা
তো কবিদের একটা ঠিকানা ধরে নিতাম।
কবিতা দেখছি আশ্রম ছেড়ে বের হতে চাইলেও তার শিষ্যদের প্রাণ পন প্রচেষ্টায় আবার আশ্রমেই আশ্রয় নেয় কবিতা ।এ তো ভারি টোল নির্ভরতা।
কবিতা আমার কাছে সাবলীল ভাবে ধরা দেয়।আমার কবিতায় বুদ্ধির কোন চকমকি নেই।হৃদয়ের গহন থেকে ঠিক যেরকম আসে আমি খুব একটা কাঁটাছেড়া করি না।লেখার আগে এক পেইন কাজ করে। লেখা শেষ হলে ফেলে রাখি। পেইনও শেষ।তারপর আর এটা নিয়ে নাড়াচাড়ার সময় দিইও না।তাই হয়তো কবিতায় তেমন পরীক্ষা নিরীক্ষার বিষয়টা সরলভাবে ধরাও পড়ে না।আমিও চাই আমার কবিতা সহজ সরল হোক।কঠিন কঠিন শব্দ চয়ন আর মায়াজাল ছেদ করে সাধারণ পাঠক কবিতায় পৌঁছতে না পারার অপবাদ থেকে উত্তরণ চাই।এরকম চাওয়াই আমার স্বকিয়তা।
(৫)সুস্মিতা:অনেক কবিতাই বিবরণ ধর্মী,কোন গভীর অর্থ বহন করে না।এই ধারা কি আপনার নিজস্ব স্বত্বার পরিচায়ক?আদৌ কি তা কবিতা হয়ে উঠছে বলে আপনার মনে হয়?
গোবিন্দ :
আত্মবিশ্বাসটাই আসল কাজ।কে কবি আর কে কবি নয় কিংবা কতজন কবি আর কতজন নয় এসব কোন সার্ভের বিষয় নয়।কিংবা কেউ কবি নয় বললেও কেউ কবি হয় না।আবার কেউ সার্টিফিকেট না দিলেও কেউ কেউ কবি।এমন নয় যে অমুক দাদা তমুককে সার্টিফিকেট না দিলে কবি হওয়া যায় না।আসলে আমি কবি না কবি নয় সেটাও কেউ বলে বসলেও এরকম কবি হওয়া না হওয়ার কোনটারই কিছু যায় আসে না।কবি হয়ে ওঠা এক গভীর আত্ম অনুশীলন মাত্র। কারো কবি নয় বলাটা এখানে কোন আলোচনার বিষয়ই নয়।কবি সেই যার কবিতা কবিতা হয়।আর এটা কোন সার্টিফিকেট দিলে হয় না।সার্টিফিকেট কবিকে কবি করে না।কবিতাকে অকবিতা বললেও তা অকবিতা হয় না।কবি হওয়ার কোন কোর্স এখনো কোন ইউনিভার্সিটি বের করেনি।আবার কোন ওয়ার্কশপ থেকেও কবি হওয়া যায় না।সুতরাং কেউ যদি মনে করেন কবিতা হয় না তাহলে তার কবিতার পথ বদলে নেওয়াই প্রয়োজন নেই।কবি চান কবিতা লিখতে।কবিতা হলো কি হলো না কবির তা দায় নয়।কবিতার মনস্ক পাঠকই কবির বিচারক।নিজেকে নিজে কবি বলে সাকুল্যে কবির সংখ্যা নির্ধারণের পরিপন্থী আমি।কবিতা এমন এক শিল্প সময়ই তাকে টিকিয়ে রাখে বা বর্জন করে।বিষ্ণু দে,সুধীরেন্দ্র নাথ দত্তেরর কবিতা নিশ্চয় জীবনানন্দের চেয়ে কম পঠিত।তাহলে কি তাঁদের কবিতা কবিতা বলবো না? বিবরণ ধর্মীতা কবিতা নয় কিংবা কবিতা এভাবে নিশ্চয়ই কবিতার সংজ্ঞা নির্ধারণ হয় না।আমি লিখি।কবিতা হয় কিনা সে বিচার পাঠকের।
(৬)সুস্মিতা:"স্রোত" প্রকাশনা থেকে অনেক ভালো বই প্রকাশিত হয়েছে।আবার কিছু সাধারণ মানের বইও প্রকাশ হয়েছে।এই বৈপরীত্য কেন?নতুনদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই কি?
গোবিন্দ :প্রকাশনায় সব ধরনের বই-ই থাকবে এটাই স্বাভাবিক।তরুণদের বই মানেই সাধারণ কথাটির কোন যৌক্তিকতা নেই।
ত্রিপুরার তরুণরা লিখতে আসছেন না বলে একদল উষ্মা দেখালেন।তারাই শেষ আর কেউ নেই।এমনকি সাকুল্যে ছয় জন কবি বলে আত্মপ্রচারের ধ্বজা কেউ কেউ উড়িয়ে দেন।আর কেউ নেই বলেন রাজ্যে কবির তালিকায়।তাদের চোখের শর্ষেফুল ডিঙ্গিয়ে যখন হারাধন,অভীক,অমিত,চিরশ্রী,সৌমেন,পায়েল,রাজীব,অনুরাগ এমন কি অরিজিৎরা ঢুকে পড়েন ত্রিপুরার কাব্য মানচিত্রে।এত ভয় কিসের নিজের কুর্শির প্রতি জানি না।যাকগে আমাদের আরো উদার হওয়া প্রয়োজন।সে জন্যেই তরুণ কবি সাহিত্যিকদের বই স্রোত প্রকাশনা প্রকাশ করে থাকে।তরুণ কবি সাহিত্যিকরা লিখছেন ভালো। স্রোত প্রকাশনার প্রতিটি বই যত্ন করেই প্রকাশ করার চেষ্টা করা হয়।তারপরেও হয়তো সব বই প্রকাশনা শিল্পের সর্বোত্তম মানে পৌঁছতে পারেনি।
(৭)সুস্মিতা:লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে আপনি কাজ করছেন। প্রত্যেকটি লিটল ম্যাগাজিনের একটি লক্ষ বা উদ্দেশ্য থাকে।আজকের লিটল ম্যাগাজিন কি এই লক্ষকে সামনে রেখে চলেছে?আপনার কি মনে হয়?
গোবিন্দ :
লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদক একজন শ্রমিক।তার শ্রেনি চরিত্র একজন শ্রমিকের শ্রেনি চরিত্রের সমান।
কিন্তু চিন্তা চেতনায় দুজনের কৃষিই সমাজ গঠনের বটিকা।একজন পৃথিবীকে খাদ্য দিচ্ছেন।অন্যজন মননের খাদ্য যোগান।দুজনই সৃজন করেন প্রজন্ম।এগুনোর পথ।
কিন্তু প্রয়োগগত কারণে কৃষক তার পণ্য সার কীট নাসক ফরমালিন এই করে বাজার জাত করতে করতে কৃষিপণ্য তার সঠিক গুণাবলী নিয়ে আমাদের ভাতের থালায় আর পৌঁছে দিতে পারছেন না।মালিক শ্রেনির মুনাফার নেশায় কৃষকের মহৎ ভাবনাগুলো বিষ হয়ে আমাদের উদর কাটছে।
সৃষ্টিশীলদের অবস্থাও আজ বিপন্ন। আপনার ভাবনাগুলো নানা ডায়মনশনে মননের চিন্তককোষে গিয়ে বদল করে দেওয়া হচ্ছে।পুঁজিপতি ভাবনা সৃজন কৃষকদেরেও বদলে দিতে নানা টোপ ললিপপ নিয়ে আসেন।কেউ কেউ তা গিলে খান।তখন আর বড়শিতে আটকে যাওয়া মাছ আর কৃষক এক হয়ে পড়েন।
ইচ্ছা থাকলেও বের হবার পথ নাই।
কৃষকদের স্বপ্নগুলো এভাবেই মরে যায়।লিটল ম্যাগাজিন ও কৃষক দুজনকেই গভীর জীবনবোধে উৎসারিত হতে হবে।না হয় লক্ষ থেকে বিচ্যুতি ঘটবে।আর একজন কৃষক ও সম্পাদকের কিন্তু স্বপ্ন থাকা মাস্ট।লক্ষ থাকা মাস্ট।।
(৮)সুস্মিতা:"জোনাকি"ত্রিপুরার প্রথম কবিতাপত্র আপনার প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত। আজও বেরুচ্ছে "স্রোত"সাহিত্য পত্র।"জোনাকি" থেকে "স্রোত "কি পরিবর্তন হয়েছে?
গোবিন্দ:
ত্রিপুরার প্রথম কবিতাপত্র
'জোনাকি সমগ্র '
সংকলন ও সম্পাদনা গোবিন্দ ধর
তেরশো সত্তর বাংলা (১৯৬০ খ্রীষ্টাব্দ) সনের পঁচিশে বৈশাখ তারিখে ত্রিপুরার মহকুমা কৈলাসহর থেকে 'জোনাকি 'নামে কবিতা - সাময়িকী প্রকাশিত হয়েছিল। এর সম্পাদক ছিলেন পীযূষ রাউত। প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন শিল্পী বিমল দেব। পত্রিকাটি ছিল হাতে লেখা। অবশেষে ১৯৬৩ এর মে মাসে ত্রিপুরার প্রথম
কবিতাপত্র 'জোনাকির 'মুদ্রিত আকারের প্রকাশ ঘটল। প্রথম সংখ্যায় সম্পাদকের প্রতিবেদনের পরিবর্তে কৈলাসহর রামকৃষ্ণ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সচ্চিদানন্দ ধর সম্পাদকীয় লিখে দিয়েছিলেন, যেখান থেকে জানা যায় এভাবে "শনিবারের বিকালে কয়েকজন যুবক কবিতার আলোচনা করতে একত্রে মিলিত হতো, নিজেদের হাতে লিখা পত্রিকা 'জোনাকি 'নিয়ে "।
মোটামুটি ভাবে ষোল বছর ধরে জোনাকি প্রকাশিত হয়, সময়ের ধারাবাহিক ব্যবধান বজায় না রেখে এবং আরেকটি পঁচিশে বৈশাখে এসে জোনাকির যাত্রা শেষ হয়। জোনাকির প্রতিটি সংখ্যাকে একত্রিত করে এই সংকলন প্রকাশ করেছে 'স্রোত প্রকাশনা। সেইসময় ত্রিপুরা, আসাম পশ্চিমবঙ্গের বহু লেখক লেখিকার
সৃষ্টির স্বাক্ষর বহন করে এই সংকলনটি ত্রিপুরার সাহিত্য জগতের একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে।জোনাকি থেকে স্রোত এখানে পরিবর্তনের কিছু নেই কারণ জোনাকি তো জোনাকি আর স্রোত স্রোতই।দুটো ভিন্ন রকমের লিটল ম্যাগাজিন প্রত্যেকটির নিজস্বতা আছে।জোনাকি সমগ্র প্রকাশ করতে তাই কোন রকম পরিবর্তন সম্ভব নয়।জোনাকির সব কটি সংখ্যা একত্রে আনা হয়েছে শুধুমাত্র।
(৯)সুস্মিতা:উত্তর পূর্বের লিটল ম্যাগাজিন সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র -নামে আপনি একটি সংগ্রহশশালা গড়ে তুলেছেন।এর উদ্যেশ বা কেমন করে এটা গড়ে তুলেছেন তা জানতে চাই।
গোবিন্দ :তখন কি আর এত মানে টানে বুঝে আর শুরু করি।সময়ের সাথে সাথে মনে হচ্ছে সময়োপযোগীই ছিলো শুরুর শুরু।তারপর
হয়ে ওঠার গল্পো এরকম-
আমার স্রোতস্বিনী সাংস্কৃতিক সংস্থা গঠনের দিনই ১৯৯৫সালের ২৬সেপ্টেম্বর তারিখে আমার সংগ্রহশালাও গঠিত হয়।তখন সংগ্রহশালায় বাবার জমানো বই দিয়েই শুরু।বই পত্র যা ছিলো পুরানো বই।কয়েকটা সন্দেশ,সোভিয়েত দেশ আর বই নিয়েই সংগ্রহশালার যাত্রা শুরু হয়।রাতাছড়া হলেও সারা ত্রিপুরার বইমেলা থেকে প্রকাশিত সব বই পত্র কিনে আনতাম।যা প্রকাশ হতো সব কিনতাম।ভালো মন্দ বিচার করে নয়।ত্রিপুরার বই মানেই একটা লোভ মোহ আর টান টান উত্তেজনা।কার বই কি বই কোন বাছ বিচার নয়।বই মানে বই।তার বিচার কি।কিনতাম।ভালোবাসায়।আর মেলায় বসেই পড়তাম প্রচুর বই।কি কিনিনি।দশটাকা পাঁচটাকার গল্প থেকে অন্ধকারে প্রনামের ইচ্ছে হয় সবই কিনলাম বইমেলা থেকে।সন্তোষ রায়ের নদী মাতৃক স্বরূপের ভিটেমাটি শুভেশ চৌধুরীর বই।দুটো বই কিনে আনি ধর্মনগর সন্তোষদার নয়া পাড়ার ভাড়া বাড়ির প্রযত্ন আড্ডা থেকে।তখনো অজিতা চৌধুরী ধর্মনগর আছেন।কবি মণিকা চক্রবর্তী তখন ধর্মনগর হেড পোষ্ট অফিশে ডাকপাল।প্রতি রবিবার ফটিকরায় আসতেন মণিকাদি।আমি রাতাছড়া থেকে দিনবর কালীবাড়ি টিলায় আড্ডা আর কবিতা পাঠে যেতাম তখন।বাই সাইকেলে যেতাম।আবার বিকেলে বাই সাইকেলে ফিরতাম কবিতার আবেশ নিয়ে।মনে আছে মণিকাদি তখন ফটিকরায় অন্বেষা গ্রন্থাগারেও বসতেন মাঝে মাঝে।আমি সেখানেও যেতাম।তখন নীলিমেশ পালের সাথে পরিচয় হয়।নীলিমেশদা নিয়মিত দেশ পত্রিকা আমায় দিতেন।পরিচয় হয় প্রদীপ মুখার্জী সত্যব্রত পাল সবিতা(বুড়িদি)বিশ্বাস সহ গুরুপ্রসাদ (বাবন) রায় দার সাথেও অন্বেষায় পরিচয় হয়।আমার সংগ্রহশালার ভিত বাবার জমানো বই।অন্বেষার বইপত্র প্রেরণা।পরিচয় আড্ডা থেকে এক দিন মণিকাদি জানলেন আমি পর দিন কৈলাসহর কবি সত্যজিৎ দত্তের বাসায় যাবো।বললেন চিঠি আছে সত্যজিৎদার।নিয়ে যাওয়ার জন্য।নিলাম।খোঁজে বের করি সত্যজিৎদার কাজিরগাঁও এর বাসা।চিঠি পৌঁছে দিই।তাতে কি লেখা ছিলো গোপন বার্তা না পড়লেও অনুমান ছিলো।আমার অনুমান সত্য করে সত্যজিৎ আর মণিকাদির পরিনয় হলো।
এক সময় ২০০৩সালে আমার সংগ্রহশালা কিছু দিন বাসা বদল জনিত কারণে কৈলাসহরের বৌলাপাশায় স্থানান্তরিত হয়।অল্প কিছুদিনের মাঝেই কুমারঘাট বর্তমান হালাইমুড়ায় নিয়ে আসি।এখন এই বিপুল বইয়ের সংসারে আমি সময় কাটাই।লোকজন আসেন।অনেকেই গবেষণার জন্য খোঁজ খবর করেন।যথাসাধ্য চেষ্টা করি।বইগুলো এখনো এলোমেলো।কাজ আর সময় দুটোর এত ব্যবধান গুছিয়ে রাখতে পারছি না।অনেক বই।বই আছে মানে সংসারে ইঁদুর উঁই আর ধুলোবালি তার মাঝে আমাদের একচিলতে সুখ স্রোত পরিবার।বইপত্র আমার জীবন।বই সরিয়ে আমি গোবিন্দ কল্পনা করাও আমার সম্ভব নয়।এটা আমার ভালোবাসার টান।আমার বাবার দেখানো পথ।বাবা তখন বই পত্র পাঠ শেষে বিক্রি করতেন না চানাচুর ওয়ালার কাছে।আমিও সে রকমই শিখলাম।বই জমাতে জমাতে এখন আমার ঝুপড়ি গুলো বইআকার।উদ্দীপ্ত গ্রন্থাগার থেকে সংগ্রহশালা তারপর এখন তার নাম উত্তর পূর্বের লিটল ম্যাগাজিন সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র।
(১০)সুস্মিতা:স্রোত প্রকাশনা প্রতি বছর বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে। কবি ও সাহিত্য সম্মেলন করে থাকে।এবছর হয়ে গেলো কথাসাহিত্য উৎসব:২০১৭ -এ সম্পর্কে কিছু বলুন?
গোবিন্দ :রাতাছড়ায় যখন স্রোত কাজ করতো তখনই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও লিটল ম্যাগাজিন প্রদর্শনী পর পর কয়েক বছর উদযাপন করেছিলো।নাটক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা সহ একাধিক কর্ম কান্ডে জড়িত ছিলো স্রোত সেই ১৯৯৫সাল থেকে।তারপর সংগ্রহশালার দশম বর্ষ উদযাপন,স্রোত সাহিত্য পত্রের পনেরো বছর উদযাপন,কুমারঘাট উৎসব:২০১২ সালে শুরু করে পর পর চার বার আয়োজন,বইপত্র প্রকাশ,ভারত বাংলাদেশ আবৃত্তি উৎসব:২০১৫,প্রকাশনা ও সম্মাননা উৎসব :২০১৪,আন্তর্জাতিক লিটল ম্যাগাজিন উৎসব:২০১৬ উদযাপনেরই আরো একটি ফলক উত্তর পূর্ব কথাসাহিত্য উৎসব:২০১৭।
কথাসাহিত্য উৎসবে আমাদের সাফল্য বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপস্থিতি।সাথে আসেন নূরউদ্দীন জাহাঙ্গীর,আসেন আবৃত্তি শিল্পী প্রবীর পাল,শুভ্রা বিশ্বাস,রবীন্দ্র শিল্পী শ্রেয়সী রায়,নেপাল থেকে নেপালি লেখক সুরু কাবিয়া,আসামের তপন মহন্ত,মেঘালয়ের ফাল্গুনী চক্রবর্তী,আসেন খাসি লেখক ড.স্ট্রীমলেট ডখার,কলকাতা থেকে আসেন বিভাবসু,দৌড় সম্পাদক কবি মধুমঙ্গল বিশ্বাস কথা সাহিত্যিক রামকুমার মুখোপাধ্যায়,শ্যামল ভট্টাচার্য সহ ত্রিপুরার তরুণ থেকে প্রতিষ্টিত প্রায় সকলেই এই উৎসবের অংশিদার ছিলেন।আমি এরকম আয়োজনের একজন শ্রমিক হিসেবে কাজ করে দারুণ আনন্দিত হই।কথাসাহিত্য উৎসবে আসাম থেকে সুশান্ত করও ছিলেন আন্তর্জাল নিয়ে তাঁর আলোচনা ঋদ্ধ হবার মতো।সেলিনা হোসেন রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন।সফলতার নিরিখে কিছু বলছি না তবে একটা উৎসবকে কেন্দ্র করে আমাদের চর্চার বিকাশ কিছু হলেও আলোকপাত করে বৈকি।তাতেই আমি আনন্দিত।
(১১)সুস্মিতা :আপনার জীবনে প্রেরণার জায়গাটা দখল করে আছে কে?
গোবিন্দ :সৃষ্টিলোকের কাজে কেউ-ই কারো প্রেরণা হয় না।নিজের কাজ নিজেকেই চালিয়ে নিতে হয়।একটু হয় লেখাটা কপি করা,বই প্রকাশের সময় প্রুফ দেখে দেওয়া এসব বিবাহিত জীবন থেকে একটু আধটু সহযোগিতা পাওয়া যায়।প্রেরণা কি না জানি না।তবে আমরা ঘরের সবাই একজন অন্য জনকে পরস্পর সহযোগিতা করি।সময় কি আর সব সময় হয়।তখন যার যার কাজ যার যার করতে হয়।আমার কাজই আমার প্রেরণা। এক একটা কাজ করতে আমি নানা রকম স্বপ্নে বিভোর থাকি।ঘুমিয়ে নয়।জেগে জেগে স্বপ্ন দেখি।আমার কাজই প্রকৃত পক্ষে আমার প্রেরণা।আলাদা ভাবে আর কি চাই?
(১২)সুস্মিতা:যতক্ষণ আছি ততক্ষণ একটা সাড়া ফেলে যাওয়া নাকি কালের যাত্রায় সাক্ষী হওয়া-কোনটা কবি গোবিন্দ ধরকে নাড়া দেয় বেশি?
গোবিন্দ :কালখন্ডে কে থাকবে আর কে হারিয়ে যাবে এ এক জটিল বিষয়।হাজার হাজার বিষয়কে ডিঙ্গিয়েছি নিজেকে কালখন্ডে কালের যাত্রায় টিকিয়ে রাখার কোন সাধ আমার নাই।কাজ করি যখন তখন যা পাই তা-ই গ্রহণ করি।সে সফল হলে আনন্দিত হই।অসফল হলে কোথায় দূর্বলতা ছিলো খুঁজি।পরবর্তি কাজে সে রকম দূর্বলতাগুলো আবার হোক ঘটুক চাই না।সর্বোপরি অলস বসে থাকার চেয়ে কিছু করা । নিজের পরিমাপ কখনও আমি করি না।কতটুকু এগুলাম কিংবা পিছুচ্ছি তা মেপে দেখতে চাই না।আমার কাজ করাতেই আনন্দ।সময়ই বলবে দেওয়ালটা ঠেলছি।আসলেই কিছু হলো কিনা সময়ই তা বলবে।কাজ আর কাজ গোবিন্দ ধর তাতেই আনন্দিত।
(১৩)সুস্মিতা:আগামীতে কি পরিকল্পনা আছে প্রকাশনা বা লেখা বা সম্পাদনা নিয়ে?
গোবিন্দ :অনেকগুলো কাজ চলছে।স্রোত সাহিত্য পত্র-এর উপন্যাস সংখ্যা কম্পোজ চলছে।
আমার নিজেরই দশ থেকে বারো খানা পান্ডলিপির প্রুফ দেখে পড়ে আছে।তা প্রকাশ করার পাশাপাশি ত্রিপুরায় লেখকদের সাথে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করে আইনত বই প্রকাশের সময় এসছে বলে আমি মনে করি।এরকম জায়গায় আমি চাই প্রত্যেক লেখক প্রতিটি বই থেকে লেখকস্বত্ব পাক।স্রোত প্রকাশনাও লেখকদের মেধাস্বত্ব দেওয়া শুরু করেছে।আগামীদিন প্রত্যেক লেখককে তাঁর প্রাপ্য সম্মানটুকু তুলে দিতে পারলে আমি সব থেকে খুশি হবো।
গোবিন্দ ধরের কবিতা
লাল উড়নার বদলে মেঘমেঘ নীল আকাশ
জানি তো উড়না
পাহাড় ঢেকে রাখতে পারে।
লাল উড়না
লাল উড়নাটা তুমি তুলে নাও।
পাহাড় থেকে তরতর হাওয়া প্রবাহিত হোক।
সবুজ গাছপালা আগাছা হোক
পাখি আসুক
বাসা বাঁধুক।
দুুএকটা পাখি
কিচিরমিচির ভোর
ফুল প্রজাপতি আকাশ
নীল নীল আকাশ
মেঘ সাদাসাদা মেঘ
কত কিছু স্বপ্ন আঁকো।
লাল উড়নাটা
প্লীজ লাল উড়না
চোখ জ্বলে।
সরিয়ে বসাও মেঘমেঘ নীল আকাশ।
০২:০৯:২০১৭
তেলিয়ামুড়া
সকাল:০৯টা
ঘর
সম্রাট,মাপ করবেন।
আমি ঘরের ছন কামলা।
আপনি ঘর বানান
আমি বলবো
তার একটি দরজা দিয়েন।
তাও না হয় না দিন
নিদান পক্ষে একটি গবাক্ষা দিন।
না হয় আমি কামকলা জানলেও
কামলাগিরি করার পারবো না।
সম্রাট সারা জীবন
ঘর বানাইলাম
দরজা দিলাম
জানলা দিলাম
আপনে কিতা কইন
ঘরর কোন্তা লাগতো না?
আমি জাত কামলা সম্রাট
আমি ঘর বানাইলে দরজা দিমু
জানলা দিমু
ছাদ দিমু
ভেন্টিলেটার আজকাল খুব দরকার
না হয় দম বন্ধ হইয়া মরবা
এমন ঘর কি করে বানাই?
কাম না হয় না দিলেন
হকল কামলাই একই রকম
দরজা জানলা বানায়
ঘর বানাইতে যে কামলাই ডাকেন।
০৮:০৯:২০১৭
রাত:১০:১০মি
কুমারঘাট।
তোমার জন্য বৃষ্টিপাত
তোমার জন্য খরা
তোমার জন্য বৃষ্টিপাত
তোমার জন্য শীতকাতরে
প্রাচীন দিনরাত।
২৬/০৯/২০১৬#দেওপাড়#সময়:৮:২৫মি।
ম্যান্ডলের সন্ততি:মৃণালের কবিতা এবং আমার থ্রীপার্ট জীবন
মৃণালের কবিতায় কবিতা আছে।বলতে বলতে কথাগুলো কবিতা হয়ে যায়।কিন্তু একটি বই নেই।আমি আলোচনা করবো বলেছিলাম।জানি মৃণাল তাও দেবে না।আর দেবেই বা কেন আমি কে বাংলা সাহিত্যের।কিনেই পাঠ করবো
সময় থাকলে পাঠপ্রতিক্রিয়াও।কবিতা বইগুলো যাদেরকে নিবেদন করা হলো তাদের মতামত নেই।আমি বা কোন পাঠক আলোকপাত করি।জানি না।আগে তো কিনি,বইটা।পৈঠা পিছলে পড়লে পড়বো।পাঠ করা আমার বোধীলাভের জন্য।আমার তো আসলেই সেরকম বোধজ্ঞান নেই।তবু যদি বোধ হয়।হয়তো আমার জ্ঞান নেই তাই স্রোতের স্টল ভেঙ্গে দিয়ে প্রমাণ করেন কেউ কেউ তারাই বোধীলাভ করেছেন।জানি না ডাহুক ডাকা পুকুরগুলো হারিয়ে গিয়েই কি তাহলে আমাদের কবিতা মনের জমিন ছেড়ে ফ্লেটবাড়ির আদল নিতে চাইছে।মৃণাল সাথে থাকে তবু তার সাথী আমি নই।সে আমার সাথে থাকে তবু তার সাথি আমিও নই।তবু সাথে না থাকলে কবিতার পথ ধরে এগুনো যাবে কিনা আজ প্রশ্নচিহৃ।
আমাদের রাজ্যে এত কবি।এত কবিতা।বিবেকগুলো বাক্সবন্দী। কবিতার কবিদের বিবেক এতটাই বন্দী, কেউ কথা রাখে না।
তাই ভয়গুলো উঠুন বেঁয়ে লকলক করে ঘরের দিকে জীব বের করে সরীসৃপ চেয়ে আছে।
মৃণাল এতটাই এখন ঘুমে তার ঘুম কে ভাঙ্গায়।সে কি তাহলে সজাগ? জানিনা।মৃণাল ঘুম থেকে যখন সজাগ হলো,দেখলো তার কবিতার বই নিয়ে না পড়েই আমি একটি অদেখা দায়িত্ববোধ না নিয়েই কথা লিখে দিয়েছি।হয়তো তার ম্যান্ডেলের সন্ততি'র তাতে সন্তান সংখ্যা বাড়বেও না কমবেও না।তবু বইয়ের বিপদে, বইমেলার বিপদে মৃণাল গলা মেলাবে।আমাদের বই বই এবং বই ছাড়া আর কি আছে,যার সাথে জীবনের স্বপ্নগুলো মিশিয়ে রঙ লাগানো যায়।আমিও তাই করতে চাইছিলাম।তা না হয়ে আমার জীবন বারবার তার কবিতার মতো,
'আমাদের বাড়ির সামনে কোনো শমীবৃক্ষ ছিল না।যার নিচে এসে বসতে পারেন বেধিসত্বের মতো প্রাজ্ঞ তরুণ।'
মনে করে করে কাটিয়ে দিলাম তিরিশ বছর বইয়ের সাথে।আর মনে পড়ে তিরিশ বছর আগে বই লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে কাজটা যখন শুরু করেছিলাম রাতাছড়ায় তখন এক মদ্যউন্মাদ আমার বাড়ির সামনে রাত বারোটায় অশ্লীল গালি দিতে শুরু করার কথা। আজ তিরিশ বছর পর আগরতলায় আমার বইগুলো নষ্ট ও স্টলগুলো নষ্ট করে দিলো কেউ।আর আমার মনে পড়ছে আসলে আদল এবং স্থান বদল ঘটলেও দুটো ঘটনা এক।আমরা আরো কত তিরিশ পেরিয়ে গেলেও মৃণালের কবিতার বদল ঘটবে,কবিতার ভাষা সময় বদলের আগে বদল ঘটবে।আমাদের আগে আগে কবিতা দৌড়বে।কিন্তু আমরা ঠিক এক জায়গায় সারা সময় পড়ে থাকবো।এটাই কি কবিতা?এটাই কি জীবন।তোমার কবি জীবন সুন্দর হোক।বইয়ের বিপদে আমি বিপদনাশিনীর মানসে বিশ্বাসী নয়।এতে যদি কেউ শ্বাসরোধ করেও তবু আমার ভাষায় আমি কবিতা লিখবো।হয়তো মৃণাল তার ভাষায় লিখে ফেলবে,ধলাই নদীর কবিতা।
আমার তো তিনটে নদী
জন্মশহর ধর্মনগর থাকতে আমার জুরি ছিলো
বাবা সাঁতার শিখিয়ে দিতে নদীতে ছেড়ে দিতেন।
বড় হওয়া গ্রাম রাতাছড়ায় মনু নদী
গরুমহিষ চরাতে কতবার পেরিয়েছি
মনুর উত্তাল স্রোত
ছিলো না ভয়ডর।
মধ্য বয়সের নদী দেও
একদিন স্নান করতে গিয়ে ঘেন্নায় চলে এলাম
দেওনদীর নোংরা জল
দুপাড় থেকে পয়ঃপ্রণালী নামছে দেওজলে।
তিনটে নদীর সাথে জীবন মেপে মেপে
আমি নদীর শেওলা
দেও-মনুর শঙ্খলাগা হালাইমুড়ায় খাসবাড়ির কবি।
তিনটে নদী আমার থ্রীপার্ট জীবন।
১৭:০২:২০১৭
সকাল:৪টা।
কুমারঘাট।
আমার তো তিনটে নদী
জন্মশহর ধর্মনগর থাকতে আমার জুরি ছিলো
বাবা সাঁতার শিখিয়ে দিতে নদীতে ছেড়ে দিতেন।
বড় হওয়া গ্রাম রাতাছড়ায় মনু নদী
গরুমহিষ চরাতে কতবার পেরিয়েছি
মনুর উত্তাল স্রোত
ছিলো না ভয়ডর।
মধ্য বয়সের নদী দেও
একদিন স্নান করতে গিয়ে ঘেন্নায় চলে এলাম
দেওনদীর নোংরা জল
দুপাড় থেকে পয়ঃপ্রণালী নামছে দেওজলে।
তিনটে নদীর সাথে জীবন মেপে মেপে
আমি নদীর শেওলা
দেও-মনুর শঙ্খলাগা হালাইমুড়ায় খাসবাড়ির কবি।
তিনটে নদী আমার থ্রীপার্ট জীবন।
১৭:০২:২০১৭
সকাল:৪টা।
কুমারঘাট।
খন্ড
ভাগ করতে করতে নিজেই ফতুর,রয়েছি
খন্ডবালক
কালখন্ডে লিখি শুধু পাললিক মেঘ।
২২/১০/২০১৬
সময়:৯:৩০মি।
কুমারঘাট।
সমর সেন
সময় একশ শেষ,সমর সেন।
সমরবিজয় বলবো না
বলবো সময়বিজয় হলো।
বলবো একশ বছর আগেও
কেউ লেনিনের মতোই ভাবতেন।
মানুষের জন্য কিছু বলতেন।
মানুষের কান্না শুনতেন সমর সেন।
যে কান্না চিরকাল কালবৈশাখি।
২২/১০/২০১৬
সময়:০:২০মি।
কুমারঘাট।
আত্মদ্রোহ
নিজেই নিজের সাথে ফুঁসে উঠি।
ফুঁসফাঁস করি
লকলক করে বেরিয়ে আসে
একটি জুম পুড়া সাপ।
২২/১০/২০১৬
সময়:৬:৪৫মি
কুমারঘাট।
দেহতত্ত্ব
শরীরের আছে দেহ
দেহেরও শরীর।
দেহও ফু্ঁসে উঠে
শরীরও ব্যতিক্রম নয়
জং ধরা বারুদ থেকে চাই একটু বারুদ।
২২/১০/২০১৬
সময়:১১:২৫মি।
রাতাছড়া।
পাবিয়াছড়া
আমাদের শহর এখন কুমারঘাট।
দেওবাহিত শহরের মাঝ বরাবর কাটাকটি খেলে
পাবিয়াছড়া লিকলিকে নামছে
শহরের মলমূত্র
আর ব্যবহৃত নিরোধের ভেতর মৃত স্বপ্ন নিয়ে।
আমাদের শহর কুমারঘাট।
গ্রামীণ সারল্য ছিলো মানুষের বুকের ফসল।
সাহিত্য সংস্কৃতি যা ছিলো
প্রাণ ঢেলে দিতো তখন।
এখন দাদাদের চোখের তর্জনী থেকে আগুন ঝরে।
দেওবাহিত শহরের লোক পড়শির পিঠে হাত রেখে
কেউ বলে না"কেমন আছো"!
দিনে দিনে শহর বড় হয় নদীর নাব্যতা কমে
আমাদের শহর কখন যে
পাবিয়াছড়া বাদ দিয়ে এখন কুমারঘাট
জেঠামশাইও জানেন না।
আমরা পাবিয়াছড়ার পাবদাকে
হারিয়ে অন্ধ্ররুই রসনায় তুলে দিই
আমাদের শহর এখন কুমারঘাট।
দাদারা সাবলক।শহর পুরপরিষদ।
ড্রেন আর ডাস্টবিন নাই বা হলো
আমাদের শহর তবু আমাদের কুমারঘাট।
২০:১০:২০১৭
সকাল:১০:৩৫মি
কুমারঘাট।
পূর্বজ
প্রেম অপরাধ নয়।
পূর্ব নিধার্রিত শাস্তি।
১৮/১০/২০১৬
সময়:৪:১০মি।
বাবা বিষয়ক
আমার পাপা নেই
ফাদার নেই
ডেড নেই।
আমরা সকল ভাই বোনের
একজনই বাবা ছিলেন।
তিনিও নেই অনেকদিন।
বাবার শূন্য সময় ধরে
দাদার
আনুয়াছড়া একটি ছোটনদী
নয়.
আনুয়ারা বেগম একজন সংখ্যালঘু মেয়ে।
প্রেমের সখ্যতা তার
ছিলো ছড়াজলের সাথে।
২৮:১০:২০১৭
দুপুর:১মি
রাজেন্দ্রনগর
ধারাপাত
সারারাত অসংখ্য আলো অন্ধকার বুদবুদ কিলবিল করছিলো।
সারারাত কাল প্রতারণা বন্ধক নিয়েছিলো ঘুম।
সারারাত বিশ্বাসের দুঃস্বপ্ন এবং ঘুম নিয়ে খেলছিলো কাবাডি।
সত্যকে ঢেকে রাখতে গহীন অন্ধকার গিলে খায় মগজ।
মাথার ভেতর থেকে অর্জিত বিশ্বাস
গহন চুম্বী পেন্টাগন মিনার
৯/১১ গুড়োগুড়ো, মাটি রঙয়ের ভেতর আমি নিহিত সৈনিক।
রাতের ভেতর থেকে আরো এক সকাল বেরিয়ে এলো।লাল চোখ তার।
১৩:১১:২০১৭
সকাল:৬:৫৬মি
জিরানীয়া।
ভাতকে ভাতই বলি
নানা জায়গায় ভাত খেয়েছি
নানা জায়গায় পাত পেড়েছি।
কোথাও ভাত খেয়েছি তো
কোথাও খেয়েছি অন্ন।
কোথাও ভাত নয় ভাতের নাম
হয়েছে আনন্দবাজার।
কোথাও বা প্রসাদ।
আমি ভাতকে ভাতই বলি।
অন্ন বলার মতো সাহস হয়নি।
আমি ভাতকে ভাতই বলি
আনন্দবাজার বলার মতো হইনি।
আমি ভাতকে ভাতই বলি
প্রসাদ ভাবতে পারিনি।
ভাতকে শুধু ভাতই বলতে ইচ্ছে হয় আর কিচ্ছু না।
দিন আনি দিন খাই আমাদের ঘরে বহুদিন অরন্ধন নিত্যঘটনা।
অলৌকিক হাত থেকে স্বপ্ন হারানোর পাঠ
কেটেকুটে যা সমার্পিত হলো
সন্নিকটে ছিলো না অলৌকিক হাত।
প্রদক্ষিণরত স্বপ্নবীজ
সম্ভাবনার জমিন পায়নি।
দুতলার চিলে কোঠায় মরে গেলো
জীবনসঙ্গীত।
যাকে তর্জমা করি অহর্নিশ গহনে রেখেছি
তার সকাল আসে রবীন্দ্রকাননের আচরণ থেকে
পূর্বের সকল সংকট থেকে অকস্মাৎ এই বাঁক
নদীনির্ভর সকল ভাটিয়ালি স্তব্দ, দিকভ্রম আঁখিপাত।
অলৌকিক হাত থেকে জরুরী উপশম বদলে গেলে, থাকে শুধু ডুবু ডুবু জাহাজ।
২৮:১১:২০১৭
সকাল:৮টা
কুমারঘাট।
Show quoted text
গোবিন্দ ধরের সংক্ষিপ্ত জীবন রচনা ও সম্মান পুরস্কার
গোবিন্দ ধর
পিতা:-- দক্ষিণা রঞ্জন ধর
মাতা:-- সুষমারাণী ধর
জন্ম: -- ৩০শে জুলাই ১৯৭১
জন্মস্থান :অফিশটিলা,ধর্মনগর,উত্তর ত্রিপুরা।
স্কুল:রাতাছড়া দ্বাদশশ্রেণি বিদ্যালয়।বর্তমান হাজিবাড়ি দ্বাদশশ্রেণি বিদ্যালয়।
পেশা:শিক্ষকতা।
প্রথম শিক্ষক জীবন:উত্তর রাতাছড়া উচ্চ বুনিয়াদি বিদ্যালয়:১৯৯১।
প্রথম প্রকাশিত রচনা:১৯৯১
প্রথম বই:জলঘর:২০০৭(কবিতা সংকলন)।
ছদ্মনাম:চৈতন্য ফকির
সম্পাদিত কাগজ:
স্রোত
কবিতাঘর
কুসুম
বইবাড়ি
অন্যপাঠ
কবিতা সংকলন:
(১)জলঘর
(২)সূর্যসেন লেন
(৩)দ্রোহববীজ পুঁতে রাখি,একা
(৪)মনসুনমাছি
(৫)শ্রীচরণেষু বাবা
যৌথ কবিতা সংকলন:
(১)মেঘ বৃষ্টি রোদ
(২)গোপন জোছনা
(৩)তামাদি হয়নি যে ভালোবাসা
(৪)কখনো পাহাড় কখনো নদী
(৫)এই সময়ের বত্রিশ জন কবির কবিতা
(৬)আঞ্চলিক ভাষার কবিতা
(৭)শেখড়ের ধ্বনি
(৮)কবিতা :২০০১/২০০২/২০০৩/২০০৯/২০১০
(৯)সমকালীন পনেরজন কবির কবিতা
(১০)ত্রিপুরার আবৃত্তির কবিতা
আবৃত্তির অডিও সিডি:
(১)দ্রোহবীজ:২০১৭
(২)আত্মদ্রোহ:২০১৭
(৩)শ্রীচরণেষু:২০১৭
ছড়া সংকলন:
(১)থইথই ছড়া
(২)তোমার উনিশ আমার একুশ
যৌথ ছড়া সংকলন:
(১)এই শতাব্দীর ছড়া
প্রবন্ধ ও গবেষণা:
(১)শ্রীহট্টীয় লৌকিক সংস্কৃতি ও শব্দকোষ
(২)আত্মক্ষর
(৩)ত্রিপুরার লিটল ম্যাগাজিন
(৪)ত্রিপুরার সাহিত্যকোষ
(৫)ত্রিপুরার লেখক অভিধান
(৬)কুমারঘাটের ইতিবৃত্ত ও তথ্যপুঞ্জী
(৭)কুমারঘাটেরর স্থান নাম
(৮)ত্রিপুরার লিটল ম্যাগাজিন শিশুসাহিত্য ও অন্যান্য
(৯)আলোকিত বিজয় রায়
ছদ্মনামের আড়ালে:
(১)সময়ের গোল্লাছুট
সম্পাদিত:
(১)শতবর্ষের আলোকে সমর সেন:ফিরে দেখা
(২)হিমাদ্রি দেব রচনা সমগ্র
(৩)ত্রিপুরার প্রথম কবিতাপত্র জোনাকি সমগ্র
(৪)অনন্য অনিল সরকার
(৫)জননেতা দশরথ দেব:জীবন ও সংগ্রাম
:২০১৬
(১৭
ত্রিপুরার তরুণ কবি গোবিন্দ ধরের আত্মখননের তর্জনী
সাক্ষাৎকার:সুস্মিতা দাস
কবি গোবিন্দ ধর শুধু কবি নন, একাধারে স্রোত পুস্তক প্রকাশনা, সাময়িকী সম্পাদনা লিটল ম্যাগ আন্দোলন সহ বিচিত্রবিধ সাহিত্যবিষয়ক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত অতি জীবিত এক দ্রোহবীজ।যা তাঁর স্বখোদিত ভাস্কর্যের মতো প্রস্ফুটিত।তাঁর কবিতা পাঠের সাথে সাথে পাঠক স্বখননের সলিলে ডুবে যাবেন নিজেরই অজান্তে এ আমার গভীর বিশ্বাস ।কবি যেন এক সুদক্ষ শৈল্যবিদের মতো নিজের জীবনকে নিজেই কাঁটাছেড়া করতে করতে বিশুদ্ধ উচ্চারে ছড়িয়ে দিচ্ছেন জীবনবেদ।আর পাঠক সেই বেদবীজে খুঁজে পাচ্ছেন যেন নিজেরই দ্রোহবীজ।
যখন কবি বলেন,-" পথের এত কাঁটা /চক্র, চক্রব্যুহ, খানাখন্দ মানুষ পার হতে পারে না/
এই চক্রে ঘুরপাক খায়/একটি লাটিম/
জলে থেকেও জল পিপাসায় জলের গভীরে ডুব দেই/ শুধু খাঁচা /খাঁচার দিকে এগিয়ে গেলে খোঁয়াড়ে প্রবেশন/এই স্বৈরিনীমুখ---/
তৃষ্ণা মেটেনি/বেলা মাসির পেন্টিতে সময়ের দাগ/এই পৃথিবীতে তুমুল তুফান/
আমি তুমি সবাই শিকার-----।
কিংবা বুকে তোমার অনেক কবুতর ছিল /অথবা "তবু, সোনাগাছির বিপিএল ছলনা----/
ভাঙচুর হওয়ার মতো যথেষ্ট /কিছুই নেই অবশিষ্ট /অথচ প্রতিবার ভাঙছি/
কিংবা আঁকাবাঁকা হাটি বুকে ভর দিয়ে /
মানুষ অথবা মানুষ নয় অন্য কেউ? /ভেতরে ভেতরে বাস্তুম্যাপ, কামড়ায় মন, মেধা, সংস্কৃতি/
কবির কাছে জীবন গিরগিটির মতো রঙ বদলায়।তাই তিনি রঙ বদলাতে বদলাতে বর্ণান্ধ।
এই একটি মাত্র শরীর/যার সাথে আত্মা আমার ডানার মতো লেপটে আছে/ কিংবা বারবার সরল রেখা আঁকতে /বিন্দু দিয়েছি/দুটি বিন্দু আর ঠিকঠাক মিলেনি/
কবি বলেন -জল ভেবে বহুদূর অব্দি এসেছি/---ফেরা কি সহজ? /কেউ ফিরতে পারে না/
কবির উচ্চার -শরীর তৃপ্তি হোটেল নয়----/
আবার বলেন-সর্বংসহা এই মাটি/---মাটিতেই বীজ জাগে/মাটিতেই বেড়ে ওঠে/মাটিতেই খাবি আর হোঁচট/মাটিতেই আমিত্ব শেষ /
টপকাতে চেয়েছি বারবার/আল টপকাতে পারিনি বলে আমি জমিন/
কবির বিশ্বাস---শুভরেখা তুমি আলোতে থেকো/------------ভেতরে ভেতরে নিক্কণের শব্দ বাজে/বাইরে আমি একা/সমস্ত দ্রোহবীজ পুঁতে রাখি একা, একা।
(১)সুস্মিতা:স্রোত প্রকাশনা কবে থেকে তার যাত্রা শুরু করেছে এবং এই যাত্রার সফলতার কাহিনীটা শুনতে চাই।
গোবিন্দ:ত্রিপুরার প্রত্যন্ত গ্রাম রাজধর মাণিক্যের স্মৃতি বিজড়িত রাতাছড়া থেকে ত্রিপুরার প্রকাশনা জগতে নিজের জায়গা করে নিয়েছে স্রোত। পরিচিতি ছড়িয়েছে ভারত বাংলাদেশ নেপালেও।১৯৯৫সালে শুরু হলেও স্রোত ২০০১সালে উত্তর পূর্বাঞ্চলের চল্লিশ জন কবির কবিতা গোবিন্দ ধর সম্পাদিত :"মেঘ বৃষ্টি রোদ "কাব্য সংকলন প্রকাশের মাধ্যমে প্রকাশনায় প্রবেশ করে।আবার নিরবতার পর ২০০৭সালে 'গোবিন্দ ধরের :সূর্যসেন লেন, পদ্মশ্রী মজুমদারের :আত্মস্তব,কাব্য সংকলন এবং দেবব্রত দেব এর ছোটগল্প সংকলন :অন্তস্থল প্রকাশের পর আর অদ্যাবধি যাত্রা বিরতি নেই।২০০৮ সালে ত্রিপুরার বিশিষ্ট কবি হিমাদ্রি দেবের কবিতা সংকলন"বৃষ্টিজল "প্রকাশিত হয়। ত্রিপুরা সরকারের সুকান্ত পুরস্কারে বৃষ্টিজলের কবি ভূষিত হন।শ্যামল ভট্টাচার্যের উপন্যাস "লোদ্রভার কাছাকাছিu "পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক বাংলা অকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়।উত্তর পূর্বাঞ্চলে এই সম্মান একমাত্র স্রোত প্রকাশনা'ই পায় ২০১০সালে।২০১৪সালে চাকমা ভাষায় "গীতাঞ্জলী 'অনুবাদ প্রকাশ করে ত্রিপুরা সরকারের শ্রেষ্ঠ প্রকাশনা সম্মানে ভূষিত হয় স্রোত।বাংলা ভাষার পাশাপাশি স্রোত প্রকাশ করেছে মনিপুরী, ককবরক,হালাম,মগ ভাষাভাষি সাহিত্যও।ত্রিপুরার সব কয়টি ভাষা সহ আগামীদিন ককবরক,চাকমা, মনিপুরী,মগ, হালাম নিয়ে একগুচ্ছ ভাবনা আছে স্রোত।২০১৭সালে মন্ডপ সজ্জায়ও ত্রিপুরা সরকারের দৃষ্টিতে তৃতীয় হয়েছে স্রোত ।সফল কতটুকু আর। কাজ করি এই যা।আরো অনেক কাজ বাকী। শ্রীহট্টীয় লৌকিক সংস্কৃতি ও শব্দকোষ:গোবিন্দ ধর এর বইটি ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা পাঠ্য তালিকার রেফারেন্স বই হিসেবে ব্যবহৃত হয়।একজন লেখক হিসেবে এ আমার প্রাপ্তি।স্রোত প্রকাশনার উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলে আমি মনে করি।যদিও তা নিজের ঢোল নিজে পেটানোর সামিল। তবুও এই আনন্দ এগিয়ে যেতে সহায়ক বলতে পারি।
(৩)সুস্মিতা:ছড়া কবিতা সম্পাদনা প্রকাশনা এতসব কি করে হয়ে ওঠে?
গোবিন্দ :
ছড়া কবিতা সম্পাদনা প্রকাশনা এই সকল বিষয়ের হয়ে ওঠার কোন রসায়ন নেই।যখন যা হয় তখন তা হয়।একজন ছড়াকার যখন ছড়া লেখেন তিনি ছড়াশিল্পী।কবিতা যখন আসে তখন নিশ্চয়ই ছড়া লেখা অসম্ভব।বিষয়টা হলো সব কটি শাখা একে ওপরের পরিপুরক হলেও একটার সাথে অন্যটির দ্বন্দ্ব চিরন্তন।
(৪)সুস্মিতা:আপনার কবিতা বাহুল্যহীন,শব্দের কারিকরি নেই, নেই গঠনের নীরিক্ষা,কিছু বলুন?
গোবিন্দ :কবিতা তো মক্তবের মেয়ে থেকে
আশ্রমের হয়ে যাচ্ছে ।আর তার শিষ্যদের
গুরুমুখি বাণী প্রচারের আশ্রয় আজ কবিতা।আশ্রম না হয়ে যদি আশ্রয় হতো
কবিতা
তো কবিদের একটা ঠিকানা ধরে নিতাম।
কবিতা দেখছি আশ্রম ছেড়ে বের হতে চাইলেও তার শিষ্যদের প্রাণ পন প্রচেষ্টায় আবার আশ্রমেই আশ্রয় নেয় কবিতা ।এ তো ভারি টোল নির্ভরতা।
কবিতা আমার কাছে সাবলীল ভাবে ধরা দেয়।আমার কবিতায় বুদ্ধির কোন চকমকি নেই।হৃদয়ের গহন থেকে ঠিক যেরকম আসে আমি খুব একটা কাঁটাছেড়া করি না।লেখার আগে এক পেইন কাজ করে। লেখা শেষ হলে ফেলে রাখি। পেইনও শেষ।তারপর আর এটা নিয়ে নাড়াচাড়ার সময় দিইও না।তাই হয়তো কবিতায় তেমন পরীক্ষা নিরীক্ষার বিষয়টা সরলভাবে ধরাও পড়ে না।আমিও চাই আমার কবিতা সহজ সরল হোক।কঠিন কঠিন শব্দ চয়ন আর মায়াজাল ছেদ করে সাধারণ পাঠক কবিতায় পৌঁছতে না পারার অপবাদ থেকে উত্তরণ চাই।এরকম চাওয়াই আমার স্বকিয়তা।
(৫)সুস্মিতা:অনেক কবিতাই বিবরণ ধর্মী,কোন গভীর অর্থ বহন করে না।এই ধারা কি আপনার নিজস্ব স্বত্বার পরিচায়ক?আদৌ কি তা কবিতা হয়ে উঠছে বলে আপনার মনে হয়?
গোবিন্দ :
আত্মবিশ্বাসটাই আসল কাজ।কে কবি আর কে কবি নয় কিংবা কতজন কবি আর কতজন নয় এসব কোন সার্ভের বিষয় নয়।কিংবা কেউ কবি নয় বললেও কেউ কবি হয় না।আবার কেউ সার্টিফিকেট না দিলেও কেউ কেউ কবি।এমন নয় যে অমুক দাদা তমুককে সার্টিফিকেট না দিলে কবি হওয়া যায় না।আসলে আমি কবি না কবি নয় সেটাও কেউ বলে বসলেও এরকম কবি হওয়া না হওয়ার কোনটারই কিছু যায় আসে না।কবি হয়ে ওঠা এক গভীর আত্ম অনুশীলন মাত্র। কারো কবি নয় বলাটা এখানে কোন আলোচনার বিষয়ই নয়।কবি সেই যার কবিতা কবিতা হয়।আর এটা কোন সার্টিফিকেট দিলে হয় না।সার্টিফিকেট কবিকে কবি করে না।কবিতাকে অকবিতা বললেও তা অকবিতা হয় না।কবি হওয়ার কোন কোর্স এখনো কোন ইউনিভার্সিটি বের করেনি।আবার কোন ওয়ার্কশপ থেকেও কবি হওয়া যায় না।সুতরাং কেউ যদি মনে করেন কবিতা হয় না তাহলে তার কবিতার পথ বদলে নেওয়াই প্রয়োজন নেই।কবি চান কবিতা লিখতে।কবিতা হলো কি হলো না কবির তা দায় নয়।কবিতার মনস্ক পাঠকই কবির বিচারক।নিজেকে নিজে কবি বলে সাকুল্যে কবির সংখ্যা নির্ধারণের পরিপন্থী আমি।কবিতা এমন এক শিল্প সময়ই তাকে টিকিয়ে রাখে বা বর্জন করে।বিষ্ণু দে,সুধীরেন্দ্র নাথ দত্তেরর কবিতা নিশ্চয় জীবনানন্দের চেয়ে কম পঠিত।তাহলে কি তাঁদের কবিতা কবিতা বলবো না? বিবরণ ধর্মীতা কবিতা নয় কিংবা কবিতা এভাবে নিশ্চয়ই কবিতার সংজ্ঞা নির্ধারণ হয় না।আমি লিখি।কবিতা হয় কিনা সে বিচার পাঠকের।
(৬)সুস্মিতা:"স্রোত" প্রকাশনা থেকে অনেক ভালো বই প্রকাশিত হয়েছে।আবার কিছু সাধারণ মানের বইও প্রকাশ হয়েছে।এই বৈপরীত্য কেন?নতুনদের সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই কি?
গোবিন্দ :প্রকাশনায় সব ধরনের বই-ই থাকবে এটাই স্বাভাবিক।তরুণদের বই মানেই সাধারণ কথাটির কোন যৌক্তিকতা নেই।
ত্রিপুরার তরুণরা লিখতে আসছেন না বলে একদল উষ্মা দেখালেন।তারাই শেষ আর কেউ নেই।এমনকি সাকুল্যে ছয় জন কবি বলে আত্মপ্রচারের ধ্বজা কেউ কেউ উড়িয়ে দেন।আর কেউ নেই বলেন রাজ্যে কবির তালিকায়।তাদের চোখের শর্ষেফুল ডিঙ্গিয়ে যখন হারাধন,অভীক,অমিত,চিরশ্রী,সৌমেন,পায়েল,রাজীব,অনুরাগ এমন কি অরিজিৎরা ঢুকে পড়েন ত্রিপুরার কাব্য মানচিত্রে।এত ভয় কিসের নিজের কুর্শির প্রতি জানি না।যাকগে আমাদের আরো উদার হওয়া প্রয়োজন।সে জন্যেই তরুণ কবি সাহিত্যিকদের বই স্রোত প্রকাশনা প্রকাশ করে থাকে।তরুণ কবি সাহিত্যিকরা লিখছেন ভালো। স্রোত প্রকাশনার প্রতিটি বই যত্ন করেই প্রকাশ করার চেষ্টা করা হয়।তারপরেও হয়তো সব বই প্রকাশনা শিল্পের সর্বোত্তম মানে পৌঁছতে পারেনি।
(৭)সুস্মিতা:লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে আপনি কাজ করছেন। প্রত্যেকটি লিটল ম্যাগাজিনের একটি লক্ষ বা উদ্দেশ্য থাকে।আজকের লিটল ম্যাগাজিন কি এই লক্ষকে সামনে রেখে চলেছে?আপনার কি মনে হয়?
গোবিন্দ :
লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদক একজন শ্রমিক।তার শ্রেনি চরিত্র একজন শ্রমিকের শ্রেনি চরিত্রের সমান।
কিন্তু চিন্তা চেতনায় দুজনের কৃষিই সমাজ গঠনের বটিকা।একজন পৃথিবীকে খাদ্য দিচ্ছেন।অন্যজন মননের খাদ্য যোগান।দুজনই সৃজন করেন প্রজন্ম।এগুনোর পথ।
কিন্তু প্রয়োগগত কারণে কৃষক তার পণ্য সার কীট নাসক ফরমালিন এই করে বাজার জাত করতে করতে কৃষিপণ্য তার সঠিক গুণাবলী নিয়ে আমাদের ভাতের থালায় আর পৌঁছে দিতে পারছেন না।মালিক শ্রেনির মুনাফার নেশায় কৃষকের মহৎ ভাবনাগুলো বিষ হয়ে আমাদের উদর কাটছে।
সৃষ্টিশীলদের অবস্থাও আজ বিপন্ন। আপনার ভাবনাগুলো নানা ডায়মনশনে মননের চিন্তককোষে গিয়ে বদল করে দেওয়া হচ্ছে।পুঁজিপতি ভাবনা সৃজন কৃষকদেরেও বদলে দিতে নানা টোপ ললিপপ নিয়ে আসেন।কেউ কেউ তা গিলে খান।তখন আর বড়শিতে আটকে যাওয়া মাছ আর কৃষক এক হয়ে পড়েন।
ইচ্ছা থাকলেও বের হবার পথ নাই।
কৃষকদের স্বপ্নগুলো এভাবেই মরে যায়।লিটল ম্যাগাজিন ও কৃষক দুজনকেই গভীর জীবনবোধে উৎসারিত হতে হবে।না হয় লক্ষ থেকে বিচ্যুতি ঘটবে।আর একজন কৃষক ও সম্পাদকের কিন্তু স্বপ্ন থাকা মাস্ট।লক্ষ থাকা মাস্ট।।
(৮)সুস্মিতা:"জোনাকি"ত্রিপুরার প্রথম কবিতাপত্র আপনার প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত। আজও বেরুচ্ছে "স্রোত"সাহিত্য পত্র।"জোনাকি" থেকে "স্রোত "কি পরিবর্তন হয়েছে?
গোবিন্দ:
ত্রিপুরার প্রথম কবিতাপত্র
'জোনাকি সমগ্র '
সংকলন ও সম্পাদনা গোবিন্দ ধর
তেরশো সত্তর বাংলা (১৯৬০ খ্রীষ্টাব্দ) সনের পঁচিশে বৈশাখ তারিখে ত্রিপুরার মহকুমা কৈলাসহর থেকে 'জোনাকি 'নামে কবিতা - সাময়িকী প্রকাশিত হয়েছিল। এর সম্পাদক ছিলেন পীযূষ রাউত। প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন শিল্পী বিমল দেব। পত্রিকাটি ছিল হাতে লেখা। অবশেষে ১৯৬৩ এর মে মাসে ত্রিপুরার প্রথম
কবিতাপত্র 'জোনাকির 'মুদ্রিত আকারের প্রকাশ ঘটল। প্রথম সংখ্যায় সম্পাদকের প্রতিবেদনের পরিবর্তে কৈলাসহর রামকৃষ্ণ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সচ্চিদানন্দ ধর সম্পাদকীয় লিখে দিয়েছিলেন, যেখান থেকে জানা যায় এভাবে "শনিবারের বিকালে কয়েকজন যুবক কবিতার আলোচনা করতে একত্রে মিলিত হতো, নিজেদের হাতে লিখা পত্রিকা 'জোনাকি 'নিয়ে "।
মোটামুটি ভাবে ষোল বছর ধরে জোনাকি প্রকাশিত হয়, সময়ের ধারাবাহিক ব্যবধান বজায় না রেখে এবং আরেকটি পঁচিশে বৈশাখে এসে জোনাকির যাত্রা শেষ হয়। জোনাকির প্রতিটি সংখ্যাকে একত্রিত করে এই সংকলন প্রকাশ করেছে 'স্রোত প্রকাশনা। সেইসময় ত্রিপুরা, আসাম পশ্চিমবঙ্গের বহু লেখক লেখিকার
সৃষ্টির স্বাক্ষর বহন করে এই সংকলনটি ত্রিপুরার সাহিত্য জগতের একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে।জোনাকি থেকে স্রোত এখানে পরিবর্তনের কিছু নেই কারণ জোনাকি তো জোনাকি আর স্রোত স্রোতই।দুটো ভিন্ন রকমের লিটল ম্যাগাজিন প্রত্যেকটির নিজস্বতা আছে।জোনাকি সমগ্র প্রকাশ করতে তাই কোন রকম পরিবর্তন সম্ভব নয়।জোনাকির সব কটি সংখ্যা একত্রে আনা হয়েছে শুধুমাত্র।
(৯)সুস্মিতা:উত্তর পূর্বের লিটল ম্যাগাজিন সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র -নামে আপনি একটি সংগ্রহশশালা গড়ে তুলেছেন।এর উদ্যেশ বা কেমন করে এটা গড়ে তুলেছেন তা জানতে চাই।
গোবিন্দ :তখন কি আর এত মানে টানে বুঝে আর শুরু করি।সময়ের সাথে সাথে মনে হচ্ছে সময়োপযোগীই ছিলো শুরুর শুরু।তারপর
হয়ে ওঠার গল্পো এরকম-
আমার স্রোতস্বিনী সাংস্কৃতিক সংস্থা গঠনের দিনই ১৯৯৫সালের ২৬সেপ্টেম্বর তারিখে আমার সংগ্রহশালাও গঠিত হয়।তখন সংগ্রহশালায় বাবার জমানো বই দিয়েই শুরু।বই পত্র যা ছিলো পুরানো বই।কয়েকটা সন্দেশ,সোভিয়েত দেশ আর বই নিয়েই সংগ্রহশালার যাত্রা শুরু হয়।রাতাছড়া হলেও সারা ত্রিপুরার বইমেলা থেকে প্রকাশিত সব বই পত্র কিনে আনতাম।যা প্রকাশ হতো সব কিনতাম।ভালো মন্দ বিচার করে নয়।ত্রিপুরার বই মানেই একটা লোভ মোহ আর টান টান উত্তেজনা।কার বই কি বই কোন বাছ বিচার নয়।বই মানে বই।তার বিচার কি।কিনতাম।ভালোবাসায়।আর মেলায় বসেই পড়তাম প্রচুর বই।কি কিনিনি।দশটাকা পাঁচটাকার গল্প থেকে অন্ধকারে প্রনামের ইচ্ছে হয় সবই কিনলাম বইমেলা থেকে।সন্তোষ রায়ের নদী মাতৃক স্বরূপের ভিটেমাটি শুভেশ চৌধুরীর বই।দুটো বই কিনে আনি ধর্মনগর সন্তোষদার নয়া পাড়ার ভাড়া বাড়ির প্রযত্ন আড্ডা থেকে।তখনো অজিতা চৌধুরী ধর্মনগর আছেন।কবি মণিকা চক্রবর্তী তখন ধর্মনগর হেড পোষ্ট অফিশে ডাকপাল।প্রতি রবিবার ফটিকরায় আসতেন মণিকাদি।আমি রাতাছড়া থেকে দিনবর কালীবাড়ি টিলায় আড্ডা আর কবিতা পাঠে যেতাম তখন।বাই সাইকেলে যেতাম।আবার বিকেলে বাই সাইকেলে ফিরতাম কবিতার আবেশ নিয়ে।মনে আছে মণিকাদি তখন ফটিকরায় অন্বেষা গ্রন্থাগারেও বসতেন মাঝে মাঝে।আমি সেখানেও যেতাম।তখন নীলিমেশ পালের সাথে পরিচয় হয়।নীলিমেশদা নিয়মিত দেশ পত্রিকা আমায় দিতেন।পরিচয় হয় প্রদীপ মুখার্জী সত্যব্রত পাল সবিতা(বুড়িদি)বিশ্বাস সহ গুরুপ্রসাদ (বাবন) রায় দার সাথেও অন্বেষায় পরিচয় হয়।আমার সংগ্রহশালার ভিত বাবার জমানো বই।অন্বেষার বইপত্র প্রেরণা।পরিচয় আড্ডা থেকে এক দিন মণিকাদি জানলেন আমি পর দিন কৈলাসহর কবি সত্যজিৎ দত্তের বাসায় যাবো।বললেন চিঠি আছে সত্যজিৎদার।নিয়ে যাওয়ার জন্য।নিলাম।খোঁজে বের করি সত্যজিৎদার কাজিরগাঁও এর বাসা।চিঠি পৌঁছে দিই।তাতে কি লেখা ছিলো গোপন বার্তা না পড়লেও অনুমান ছিলো।আমার অনুমান সত্য করে সত্যজিৎ আর মণিকাদির পরিনয় হলো।
এক সময় ২০০৩সালে আমার সংগ্রহশালা কিছু দিন বাসা বদল জনিত কারণে কৈলাসহরের বৌলাপাশায় স্থানান্তরিত হয়।অল্প কিছুদিনের মাঝেই কুমারঘাট বর্তমান হালাইমুড়ায় নিয়ে আসি।এখন এই বিপুল বইয়ের সংসারে আমি সময় কাটাই।লোকজন আসেন।অনেকেই গবেষণার জন্য খোঁজ খবর করেন।যথাসাধ্য চেষ্টা করি।বইগুলো এখনো এলোমেলো।কাজ আর সময় দুটোর এত ব্যবধান গুছিয়ে রাখতে পারছি না।অনেক বই।বই আছে মানে সংসারে ইঁদুর উঁই আর ধুলোবালি তার মাঝে আমাদের একচিলতে সুখ স্রোত পরিবার।বইপত্র আমার জীবন।বই সরিয়ে আমি গোবিন্দ কল্পনা করাও আমার সম্ভব নয়।এটা আমার ভালোবাসার টান।আমার বাবার দেখানো পথ।বাবা তখন বই পত্র পাঠ শেষে বিক্রি করতেন না চানাচুর ওয়ালার কাছে।আমিও সে রকমই শিখলাম।বই জমাতে জমাতে এখন আমার ঝুপড়ি গুলো বইআকার।উদ্দীপ্ত গ্রন্থাগার থেকে সংগ্রহশালা তারপর এখন তার নাম উত্তর পূর্বের লিটল ম্যাগাজিন সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র।
(১০)সুস্মিতা:স্রোত প্রকাশনা প্রতি বছর বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে। কবি ও সাহিত্য সম্মেলন করে থাকে।এবছর হয়ে গেলো কথাসাহিত্য উৎসব:২০১৭ -এ সম্পর্কে কিছু বলুন?
গোবিন্দ :রাতাছড়ায় যখন স্রোত কাজ করতো তখনই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও লিটল ম্যাগাজিন প্রদর্শনী পর পর কয়েক বছর উদযাপন করেছিলো।নাটক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা সহ একাধিক কর্ম কান্ডে জড়িত ছিলো স্রোত সেই ১৯৯৫সাল থেকে।তারপর সংগ্রহশালার দশম বর্ষ উদযাপন,স্রোত সাহিত্য পত্রের পনেরো বছর উদযাপন,কুমারঘাট উৎসব:২০১২ সালে শুরু করে পর পর চার বার আয়োজন,বইপত্র প্রকাশ,ভারত বাংলাদেশ আবৃত্তি উৎসব:২০১৫,প্রকাশনা ও সম্মাননা উৎসব :২০১৪,আন্তর্জাতিক লিটল ম্যাগাজিন উৎসব:২০১৬ উদযাপনেরই আরো একটি ফলক উত্তর পূর্ব কথাসাহিত্য উৎসব:২০১৭।
কথাসাহিত্য উৎসবে আমাদের সাফল্য বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপস্থিতি।সাথে আসেন নূরউদ্দীন জাহাঙ্গীর,আসেন আবৃত্তি শিল্পী প্রবীর পাল,শুভ্রা বিশ্বাস,রবীন্দ্র শিল্পী শ্রেয়সী রায়,নেপাল থেকে নেপালি লেখক সুরু কাবিয়া,আসামের তপন মহন্ত,মেঘালয়ের ফাল্গুনী চক্রবর্তী,আসেন খাসি লেখক ড.স্ট্রীমলেট ডখার,কলকাতা থেকে আসেন বিভাবসু,দৌড় সম্পাদক কবি মধুমঙ্গল বিশ্বাস কথা সাহিত্যিক রামকুমার মুখোপাধ্যায়,শ্যামল ভট্টাচার্য সহ ত্রিপুরার তরুণ থেকে প্রতিষ্টিত প্রায় সকলেই এই উৎসবের অংশিদার ছিলেন।আমি এরকম আয়োজনের একজন শ্রমিক হিসেবে কাজ করে দারুণ আনন্দিত হই।কথাসাহিত্য উৎসবে আসাম থেকে সুশান্ত করও ছিলেন আন্তর্জাল নিয়ে তাঁর আলোচনা ঋদ্ধ হবার মতো।সেলিনা হোসেন রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন।সফলতার নিরিখে কিছু বলছি না তবে একটা উৎসবকে কেন্দ্র করে আমাদের চর্চার বিকাশ কিছু হলেও আলোকপাত করে বৈকি।তাতেই আমি আনন্দিত।
(১১)সুস্মিতা :আপনার জীবনে প্রেরণার জায়গাটা দখল করে আছে কে?
গোবিন্দ :সৃষ্টিলোকের কাজে কেউ-ই কারো প্রেরণা হয় না।নিজের কাজ নিজেকেই চালিয়ে নিতে হয়।একটু হয় লেখাটা কপি করা,বই প্রকাশের সময় প্রুফ দেখে দেওয়া এসব বিবাহিত জীবন থেকে একটু আধটু সহযোগিতা পাওয়া যায়।প্রেরণা কি না জানি না।তবে আমরা ঘরের সবাই একজন অন্য জনকে পরস্পর সহযোগিতা করি।সময় কি আর সব সময় হয়।তখন যার যার কাজ যার যার করতে হয়।আমার কাজই আমার প্রেরণা। এক একটা কাজ করতে আমি নানা রকম স্বপ্নে বিভোর থাকি।ঘুমিয়ে নয়।জেগে জেগে স্বপ্ন দেখি।আমার কাজই প্রকৃত পক্ষে আমার প্রেরণা।আলাদা ভাবে আর কি চাই?
(১২)সুস্মিতা:যতক্ষণ আছি ততক্ষণ একটা সাড়া ফেলে যাওয়া নাকি কালের যাত্রায় সাক্ষী হওয়া-কোনটা কবি গোবিন্দ ধরকে নাড়া দেয় বেশি?
গোবিন্দ :কালখন্ডে কে থাকবে আর কে হারিয়ে যাবে এ এক জটিল বিষয়।হাজার হাজার বিষয়কে ডিঙ্গিয়েছি নিজেকে কালখন্ডে কালের যাত্রায় টিকিয়ে রাখার কোন সাধ আমার নাই।কাজ করি যখন তখন যা পাই তা-ই গ্রহণ করি।সে সফল হলে আনন্দিত হই।অসফল হলে কোথায় দূর্বলতা ছিলো খুঁজি।পরবর্তি কাজে সে রকম দূর্বলতাগুলো আবার হোক ঘটুক চাই না।সর্বোপরি অলস বসে থাকার চেয়ে কিছু করা । নিজের পরিমাপ কখনও আমি করি না।কতটুকু এগুলাম কিংবা পিছুচ্ছি তা মেপে দেখতে চাই না।আমার কাজ করাতেই আনন্দ।সময়ই বলবে দেওয়ালটা ঠেলছি।আসলেই কিছু হলো কিনা সময়ই তা বলবে।কাজ আর কাজ গোবিন্দ ধর তাতেই আনন্দিত।
(১৩)সুস্মিতা:আগামীতে কি পরিকল্পনা আছে প্রকাশনা বা লেখা বা সম্পাদনা নিয়ে?
গোবিন্দ :অনেকগুলো কাজ চলছে।স্রোত সাহিত্য পত্র-এর উপন্যাস সংখ্যা কম্পোজ চলছে।
আমার নিজেরই দশ থেকে বারো খানা পান্ডলিপির প্রুফ দেখে পড়ে আছে।তা প্রকাশ করার পাশাপাশি ত্রিপুরায় লেখকদের সাথে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করে আইনত বই প্রকাশের সময় এসছে বলে আমি মনে করি।এরকম জায়গায় আমি চাই প্রত্যেক লেখক প্রতিটি বই থেকে লেখকস্বত্ব পাক।স্রোত প্রকাশনাও লেখকদের মেধাস্বত্ব দেওয়া শুরু করেছে।আগামীদিন প্রত্যেক লেখককে তাঁর প্রাপ্য সম্মানটুকু তুলে দিতে পারলে আমি সব থেকে খুশি হবো।
গোবিন্দ ধরের কবিতা
লাল উড়নার বদলে মেঘমেঘ নীল আকাশ
জানি তো উড়না
পাহাড় ঢেকে রাখতে পারে।
লাল উড়না
লাল উড়নাটা তুমি তুলে নাও।
পাহাড় থেকে তরতর হাওয়া প্রবাহিত হোক।
সবুজ গাছপালা আগাছা হোক
পাখি আসুক
বাসা বাঁধুক।
দুুএকটা পাখি
কিচিরমিচির ভোর
ফুল প্রজাপতি আকাশ
নীল নীল আকাশ
মেঘ সাদাসাদা মেঘ
কত কিছু স্বপ্ন আঁকো।
লাল উড়নাটা
প্লীজ লাল উড়না
চোখ জ্বলে।
সরিয়ে বসাও মেঘমেঘ নীল আকাশ।
০২:০৯:২০১৭
তেলিয়ামুড়া
সকাল:০৯টা
ঘর
সম্রাট,মাপ করবেন।
আমি ঘরের ছন কামলা।
আপনি ঘর বানান
আমি বলবো
তার একটি দরজা দিয়েন।
তাও না হয় না দিন
নিদান পক্ষে একটি গবাক্ষা দিন।
না হয় আমি কামকলা জানলেও
কামলাগিরি করার পারবো না।
সম্রাট সারা জীবন
ঘর বানাইলাম
দরজা দিলাম
জানলা দিলাম
আপনে কিতা কইন
ঘরর কোন্তা লাগতো না?
আমি জাত কামলা সম্রাট
আমি ঘর বানাইলে দরজা দিমু
জানলা দিমু
ছাদ দিমু
ভেন্টিলেটার আজকাল খুব দরকার
না হয় দম বন্ধ হইয়া মরবা
এমন ঘর কি করে বানাই?
কাম না হয় না দিলেন
হকল কামলাই একই রকম
দরজা জানলা বানায়
ঘর বানাইতে যে কামলাই ডাকেন।
০৮:০৯:২০১৭
রাত:১০:১০মি
কুমারঘাট।
তোমার জন্য বৃষ্টিপাত
তোমার জন্য খরা
তোমার জন্য বৃষ্টিপাত
তোমার জন্য শীতকাতরে
প্রাচীন দিনরাত।
২৬/০৯/২০১৬#দেওপাড়#সময়:৮:২৫মি।
ম্যান্ডলের সন্ততি:মৃণালের কবিতা এবং আমার থ্রীপার্ট জীবন
মৃণালের কবিতায় কবিতা আছে।বলতে বলতে কথাগুলো কবিতা হয়ে যায়।কিন্তু একটি বই নেই।আমি আলোচনা করবো বলেছিলাম।জানি মৃণাল তাও দেবে না।আর দেবেই বা কেন আমি কে বাংলা সাহিত্যের।কিনেই পাঠ করবো
সময় থাকলে পাঠপ্রতিক্রিয়াও।কবিতা বইগুলো যাদেরকে নিবেদন করা হলো তাদের মতামত নেই।আমি বা কোন পাঠক আলোকপাত করি।জানি না।আগে তো কিনি,বইটা।পৈঠা পিছলে পড়লে পড়বো।পাঠ করা আমার বোধীলাভের জন্য।আমার তো আসলেই সেরকম বোধজ্ঞান নেই।তবু যদি বোধ হয়।হয়তো আমার জ্ঞান নেই তাই স্রোতের স্টল ভেঙ্গে দিয়ে প্রমাণ করেন কেউ কেউ তারাই বোধীলাভ করেছেন।জানি না ডাহুক ডাকা পুকুরগুলো হারিয়ে গিয়েই কি তাহলে আমাদের কবিতা মনের জমিন ছেড়ে ফ্লেটবাড়ির আদল নিতে চাইছে।মৃণাল সাথে থাকে তবু তার সাথী আমি নই।সে আমার সাথে থাকে তবু তার সাথি আমিও নই।তবু সাথে না থাকলে কবিতার পথ ধরে এগুনো যাবে কিনা আজ প্রশ্নচিহৃ।
আমাদের রাজ্যে এত কবি।এত কবিতা।বিবেকগুলো বাক্সবন্দী। কবিতার কবিদের বিবেক এতটাই বন্দী, কেউ কথা রাখে না।
তাই ভয়গুলো উঠুন বেঁয়ে লকলক করে ঘরের দিকে জীব বের করে সরীসৃপ চেয়ে আছে।
মৃণাল এতটাই এখন ঘুমে তার ঘুম কে ভাঙ্গায়।সে কি তাহলে সজাগ? জানিনা।মৃণাল ঘুম থেকে যখন সজাগ হলো,দেখলো তার কবিতার বই নিয়ে না পড়েই আমি একটি অদেখা দায়িত্ববোধ না নিয়েই কথা লিখে দিয়েছি।হয়তো তার ম্যান্ডেলের সন্ততি'র তাতে সন্তান সংখ্যা বাড়বেও না কমবেও না।তবু বইয়ের বিপদে, বইমেলার বিপদে মৃণাল গলা মেলাবে।আমাদের বই বই এবং বই ছাড়া আর কি আছে,যার সাথে জীবনের স্বপ্নগুলো মিশিয়ে রঙ লাগানো যায়।আমিও তাই করতে চাইছিলাম।তা না হয়ে আমার জীবন বারবার তার কবিতার মতো,
'আমাদের বাড়ির সামনে কোনো শমীবৃক্ষ ছিল না।যার নিচে এসে বসতে পারেন বেধিসত্বের মতো প্রাজ্ঞ তরুণ।'
মনে করে করে কাটিয়ে দিলাম তিরিশ বছর বইয়ের সাথে।আর মনে পড়ে তিরিশ বছর আগে বই লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে কাজটা যখন শুরু করেছিলাম রাতাছড়ায় তখন এক মদ্যউন্মাদ আমার বাড়ির সামনে রাত বারোটায় অশ্লীল গালি দিতে শুরু করার কথা। আজ তিরিশ বছর পর আগরতলায় আমার বইগুলো নষ্ট ও স্টলগুলো নষ্ট করে দিলো কেউ।আর আমার মনে পড়ছে আসলে আদল এবং স্থান বদল ঘটলেও দুটো ঘটনা এক।আমরা আরো কত তিরিশ পেরিয়ে গেলেও মৃণালের কবিতার বদল ঘটবে,কবিতার ভাষা সময় বদলের আগে বদল ঘটবে।আমাদের আগে আগে কবিতা দৌড়বে।কিন্তু আমরা ঠিক এক জায়গায় সারা সময় পড়ে থাকবো।এটাই কি কবিতা?এটাই কি জীবন।তোমার কবি জীবন সুন্দর হোক।বইয়ের বিপদে আমি বিপদনাশিনীর মানসে বিশ্বাসী নয়।এতে যদি কেউ শ্বাসরোধ করেও তবু আমার ভাষায় আমি কবিতা লিখবো।হয়তো মৃণাল তার ভাষায় লিখে ফেলবে,ধলাই নদীর কবিতা।
আমার তো তিনটে নদী
জন্মশহর ধর্মনগর থাকতে আমার জুরি ছিলো
বাবা সাঁতার শিখিয়ে দিতে নদীতে ছেড়ে দিতেন।
বড় হওয়া গ্রাম রাতাছড়ায় মনু নদী
গরুমহিষ চরাতে কতবার পেরিয়েছি
মনুর উত্তাল স্রোত
ছিলো না ভয়ডর।
মধ্য বয়সের নদী দেও
একদিন স্নান করতে গিয়ে ঘেন্নায় চলে এলাম
দেওনদীর নোংরা জল
দুপাড় থেকে পয়ঃপ্রণালী নামছে দেওজলে।
তিনটে নদীর সাথে জীবন মেপে মেপে
আমি নদীর শেওলা
দেও-মনুর শঙ্খলাগা হালাইমুড়ায় খাসবাড়ির কবি।
তিনটে নদী আমার থ্রীপার্ট জীবন।
১৭:০২:২০১৭
সকাল:৪টা।
কুমারঘাট।
আমার তো তিনটে নদী
জন্মশহর ধর্মনগর থাকতে আমার জুরি ছিলো
বাবা সাঁতার শিখিয়ে দিতে নদীতে ছেড়ে দিতেন।
বড় হওয়া গ্রাম রাতাছড়ায় মনু নদী
গরুমহিষ চরাতে কতবার পেরিয়েছি
মনুর উত্তাল স্রোত
ছিলো না ভয়ডর।
মধ্য বয়সের নদী দেও
একদিন স্নান করতে গিয়ে ঘেন্নায় চলে এলাম
দেওনদীর নোংরা জল
দুপাড় থেকে পয়ঃপ্রণালী নামছে দেওজলে।
তিনটে নদীর সাথে জীবন মেপে মেপে
আমি নদীর শেওলা
দেও-মনুর শঙ্খলাগা হালাইমুড়ায় খাসবাড়ির কবি।
তিনটে নদী আমার থ্রীপার্ট জীবন।
১৭:০২:২০১৭
সকাল:৪টা।
কুমারঘাট।
খন্ড
ভাগ করতে করতে নিজেই ফতুর,রয়েছি
খন্ডবালক
কালখন্ডে লিখি শুধু পাললিক মেঘ।
২২/১০/২০১৬
সময়:৯:৩০মি।
কুমারঘাট।
সমর সেন
সময় একশ শেষ,সমর সেন।
সমরবিজয় বলবো না
বলবো সময়বিজয় হলো।
বলবো একশ বছর আগেও
কেউ লেনিনের মতোই ভাবতেন।
মানুষের জন্য কিছু বলতেন।
মানুষের কান্না শুনতেন সমর সেন।
যে কান্না চিরকাল কালবৈশাখি।
২২/১০/২০১৬
সময়:০:২০মি।
কুমারঘাট।
আত্মদ্রোহ
নিজেই নিজের সাথে ফুঁসে উঠি।
ফুঁসফাঁস করি
লকলক করে বেরিয়ে আসে
একটি জুম পুড়া সাপ।
২২/১০/২০১৬
সময়:৬:৪৫মি
কুমারঘাট।
দেহতত্ত্ব
শরীরের আছে দেহ
দেহেরও শরীর।
দেহও ফু্ঁসে উঠে
শরীরও ব্যতিক্রম নয়
জং ধরা বারুদ থেকে চাই একটু বারুদ।
২২/১০/২০১৬
সময়:১১:২৫মি।
রাতাছড়া।
পাবিয়াছড়া
আমাদের শহর এখন কুমারঘাট।
দেওবাহিত শহরের মাঝ বরাবর কাটাকটি খেলে
পাবিয়াছড়া লিকলিকে নামছে
শহরের মলমূত্র
আর ব্যবহৃত নিরোধের ভেতর মৃত স্বপ্ন নিয়ে।
আমাদের শহর কুমারঘাট।
গ্রামীণ সারল্য ছিলো মানুষের বুকের ফসল।
সাহিত্য সংস্কৃতি যা ছিলো
প্রাণ ঢেলে দিতো তখন।
এখন দাদাদের চোখের তর্জনী থেকে আগুন ঝরে।
দেওবাহিত শহরের লোক পড়শির পিঠে হাত রেখে
কেউ বলে না"কেমন আছো"!
দিনে দিনে শহর বড় হয় নদীর নাব্যতা কমে
আমাদের শহর কখন যে
পাবিয়াছড়া বাদ দিয়ে এখন কুমারঘাট
জেঠামশাইও জানেন না।
আমরা পাবিয়াছড়ার পাবদাকে
হারিয়ে অন্ধ্ররুই রসনায় তুলে দিই
আমাদের শহর এখন কুমারঘাট।
দাদারা সাবলক।শহর পুরপরিষদ।
ড্রেন আর ডাস্টবিন নাই বা হলো
আমাদের শহর তবু আমাদের কুমারঘাট।
২০:১০:২০১৭
সকাল:১০:৩৫মি
কুমারঘাট।
পূর্বজ
প্রেম অপরাধ নয়।
পূর্ব নিধার্রিত শাস্তি।
১৮/১০/২০১৬
সময়:৪:১০মি।
বাবা বিষয়ক
আমার পাপা নেই
ফাদার নেই
ডেড নেই।
আমরা সকল ভাই বোনের
একজনই বাবা ছিলেন।
তিনিও নেই অনেকদিন।
বাবার শূন্য সময় ধরে
দাদার
আনুয়াছড়া একটি ছোটনদী
নয়.
আনুয়ারা বেগম একজন সংখ্যালঘু মেয়ে।
প্রেমের সখ্যতা তার
ছিলো ছড়াজলের সাথে।
২৮:১০:২০১৭
দুপুর:১মি
রাজেন্দ্রনগর
ধারাপাত
সারারাত অসংখ্য আলো অন্ধকার বুদবুদ কিলবিল করছিলো।
সারারাত কাল প্রতারণা বন্ধক নিয়েছিলো ঘুম।
সারারাত বিশ্বাসের দুঃস্বপ্ন এবং ঘুম নিয়ে খেলছিলো কাবাডি।
সত্যকে ঢেকে রাখতে গহীন অন্ধকার গিলে খায় মগজ।
মাথার ভেতর থেকে অর্জিত বিশ্বাস
গহন চুম্বী পেন্টাগন মিনার
৯/১১ গুড়োগুড়ো, মাটি রঙয়ের ভেতর আমি নিহিত সৈনিক।
রাতের ভেতর থেকে আরো এক সকাল বেরিয়ে এলো।লাল চোখ তার।
১৩:১১:২০১৭
সকাল:৬:৫৬মি
জিরানীয়া।
ভাতকে ভাতই বলি
নানা জায়গায় ভাত খেয়েছি
নানা জায়গায় পাত পেড়েছি।
কোথাও ভাত খেয়েছি তো
কোথাও খেয়েছি অন্ন।
কোথাও ভাত নয় ভাতের নাম
হয়েছে আনন্দবাজার।
কোথাও বা প্রসাদ।
আমি ভাতকে ভাতই বলি।
অন্ন বলার মতো সাহস হয়নি।
আমি ভাতকে ভাতই বলি
আনন্দবাজার বলার মতো হইনি।
আমি ভাতকে ভাতই বলি
প্রসাদ ভাবতে পারিনি।
ভাতকে শুধু ভাতই বলতে ইচ্ছে হয় আর কিচ্ছু না।
দিন আনি দিন খাই আমাদের ঘরে বহুদিন অরন্ধন নিত্যঘটনা।
অলৌকিক হাত থেকে স্বপ্ন হারানোর পাঠ
কেটেকুটে যা সমার্পিত হলো
সন্নিকটে ছিলো না অলৌকিক হাত।
প্রদক্ষিণরত স্বপ্নবীজ
সম্ভাবনার জমিন পায়নি।
দুতলার চিলে কোঠায় মরে গেলো
জীবনসঙ্গীত।
যাকে তর্জমা করি অহর্নিশ গহনে রেখেছি
তার সকাল আসে রবীন্দ্রকাননের আচরণ থেকে
পূর্বের সকল সংকট থেকে অকস্মাৎ এই বাঁক
নদীনির্ভর সকল ভাটিয়ালি স্তব্দ, দিকভ্রম আঁখিপাত।
অলৌকিক হাত থেকে জরুরী উপশম বদলে গেলে, থাকে শুধু ডুবু ডুবু জাহাজ।
২৮:১১:২০১৭
সকাল:৮টা
কুমারঘাট।
Show quoted text
0 Comments