উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলন থেকেই পেয়েছি আট থেকে আশির আগুন গোবিন্দ ধর
উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলন থেকেই পেয়েছি আট থেকে আশির আগুন
গোবিন্দ ধর
নান্দীমুখ
-------------
ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন গিল্ড
আয়োজনে ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন উৎসবে কবি মিলনকান্তি দত্ত বলেন :সকল ছোটকাগজই মূলত সবুজপত্র,
কেননা, সে যৌবনের কথা বলে। প্রাণের
কথা বলে। লিটল ম্যাগাজিন একটা
দোলন,আন্দোলন। প্রতিষ্ঠাহীন প্রতিষ্ঠান।
যদিও প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাই তার ধর্ম।
সাহিত্যে রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে, ভাষার
জড়ুত্বের বিরুদ্ধে, সমুদয় অচলায়তনের
বিরুদ্ধে প্রতিবাদ,প্রতিশোধ,প্রতিবোধ,প্রতিক্রোধই
তার কুললক্ষণ । সে বুদ্ধদেব বসুর ভাষায়
স্বল্পায়ু হলেও,আজকের ভাষায় আমরা চাই
সে দীর্ঘায়ু হোক। উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলন থেকে প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি বিষয়ে আলোচনার নান্দীমুখ উচ্চারণ করেছিলেন বলেই আমার মনে পড়ে।আসলে সকল লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলন সম্মেলনে এমনই এক আলোকে আলোকিত।
সহযোদ্ধা নবারুণ ভট্টাচার্য
------------------------------------
২০১২ সাল গুয়াহাটি বসেছিলো উত্তর পূর্বাঞ্চালীয় লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলন। স্রোত প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হয় কবি অভিজিৎ চক্রবর্তী'র নদীর নামে চিরকুট। মঞ্চে সাহিত্যিক নবারুণ ভট্টাচার্য প্রকাশ করেন বইটি।পাশে ছিলেন কবিও সেদিন।তারপর তিনি যে বক্তব্য রেখেছিলেন সব কথা মনে নেই কিন্তু আহীবন যা মনে গেঁথে আছে "মৃত্যুর পরেও যেন কমিউনিস্ট থাকতে পারি"। এই অমর কথা সাহিত্যিক নবারুণ ভট্টাচার্যের মুখ থেকে সেদিন জোরালো ভাবেই বেরিয়েছে। নবারুণ ভট্টাচার্যের মা কথাসাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী।পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বুদ্ধিজীবী মুখ। অথচ নবারুণ ভট্টাচার্য বলতে দ্বিধা করেননি তিনি কমিউনিস্ট।
এই প্রাপ্তির ঝুলি প্রতিটি সম্মেলন থেকেই। সপ্তম লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলনও ব্যতিক্রম নয়।
লেখালেখা রোগ
------------------------
কখন যে রোগটি হৃদরোগ হলো তা টের পেতে কেটে গেলো জীবনের অধের্ক হর্স পাওয়ার।আমি মফস্বলেরর পেশেন্ট।তাই রোগের নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা না হয়েই মেডিসিন প্রয়োগ চলছিলো।এখনো গ্রামে হাতুঁড়ে কবিরাজ দিয়ে রোগ টোগ সারাই হবে এমন বদ্ধমূল ধারণা গভীর অব্দি অনেক কর্তার।তাই রোগটা যখন শেকড় মাটিতে পুঁতে প্রধান মূল রস নিতে শুরু করলো ভুলেও টের পাননি,গৃহকর্তাও।তখন স্কুলে ছেলেমেয়েদেরে খাতা দেওয়া সব বাবা মায়ের পয়সায় কুলাতো না।
আমাদের জমিজমা থাকলেও বাবার মাসের রোজকার যা ছিলো তাতে আট ভাই বোনের স্কুল পোশাক আশাক ক্রয়ের পর বিলাসিতা করে একের অধিক লেখার খাতা কিনে দেবের সঙ্গতি ছিলো না আমার বাঁধাই শিল্পী,সংগ্রাহক বাবার।
সর্বশিক্ষা কিংবা রাষ্ট্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষারর মতো এতটা মাগনা পড়ার সুযোগ তখন আমাদের হাতের নাকালে ছিলো না।
তাই পড়ালেখার একটা খাতা আমাী কাঁচা হাতের আঁকিবুকি স্যারদের সহ্য হতো না।কিংবা তিনক্লাসের বাচ্চা শিশুটা লেখারোগে আক্রান্ত তা বাবা তো দূর আমাদের তিনকালের কেউ টের পাননি।বৈদ্য কবিরাজ ডাকাডাকিরও আর দরকার পড়েনি।বাবার মার খেয়ে স্কুলে যেতাম খাতায় আঁকাআঁকি কেন করি তার জন্য সে গালমন্দ শাসন ডিঙ্গিয়ে স্কুলে গিয়ে আবার আরেক দপা আমাদের শিক্ষক দিদিমণিদের শাসন শোষন, কোন কোন দিন হাতের তালু থেকে আঙ্গলের ডগা থেকে রক্ত রস যে কস্মিন কালেও বের হয়নি সে গেরেন্টি দিই কি করে।
আমার বেরাম বিলাসিতায় পর্যবসিত হতে লাগলো কোন রকম সার প্রয়োগ ছাড়াই।
ঘোর লাগা চিন চিন ব্যথা অনুভব তখনও বুঝিনি।
সুতরাং এটা রোগ বুঝলে না সারাইয়ের প্রয়োজনীয়তা আসতো।আমার অজাতে রোগটা মাধ্যমিক পাশ।আমি তখনও সদাশিব।
বাবাও জানলেন না।
বাবা চলে গেলেন।তেমন হলে তাকে হৃদরোগ বলা হয় জানলেন না।
আমাদের মফস্বলের কেউ বুঝলো না।
আমি শহরে আসলাম।কি মিডিসিন কেউ বললেন না।
আমি নিজে আরো দূর্বল কাহিল হচ্ছি।বুকে ব্যথা হতে শুরু হলো।
মা একটু একটু বুঝতে লাগলেন।আমার রোগের তীব্রতা একটু বুঝে যেতেই মাকেও রোগটা ডাকতে লাগলো।
মা চলে গেলেন।অভাব আরো চিনচিন বাড়িয়ে দিলো।
রোগটা শেষমেশ ধরা পড়লো।কিন্তু চিকিৎসার বাইরে ডাক্তারবাবু ফিসফাস করছেন কানে এলো।আমিও টের পাচ্ছি আর সারাই হবে না।নিরুপায় আমি হাল ছেড়ে দিলাম।বুঝলাম আরর রক্ষে নেই।আমি নিরাপদ নয়।রোগের তীব্রতা গভীর অব্দি এখন।
বুঝলাম এ রোগ আমার মারণাস্ত্র। আমি মারণমন্ত্র জানি না।
আমার আমি এই কঠিন রোগের শিকার। চিকিৎসার বাইরে।ডাক্তার রোগীর দায়িত্ব নিতে রাজি নয়।অগত্যা কি কররা যায় জানলাম মামলাবাজি করে লাভ নেই।আমি হাত তুলে যমরাজের স্মরণ করি প্রতিনিয়ত এখন।তথাপি মনে হয় প্রতিটি লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলন আমার আমিকে আরো লেখক সম্পাদক করে তুলেছে।এটা আমার প্রাপ্তি। নিঃসন্দেহে প্রাপ্তি আমার।
লিটল ম্যাগাজিন একটি হর্স পাওয়ারের নাম
--------------------------------------------------------------
আমরা যে কেউ যে কাউকে যুক্ত বিযুক্ত করতে পারি।কিন্তু করার আগে ভেবে নেওয়া চাই কাকে যুক্ত আর কাকে বিযুক্ত।কিন্তু লিটল ম্যাগাজিন আসলে সময়ের বাতিঘর।এক এজটি লিটল ম্যাগাজিন হর্স পাওয়ার। সাহিত্যকে দিক দেখাতে লিটল ম্যাগাজিন এক আন্দোলন।
উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলন
---------------------------------------------------------------
সপ্তম লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলন যদিও হওয়ার কথা দিয়ে আসা হয়েছিলো তিনসুকিয়ায় ত্রিপুরায় আয়োজিত হবে।সে আর হয়নি।আয়োজন হচ্ছে গুহাটি।প্রতিটি সম্মেলনেই আমি স্রোত সাহিত্য পত্রিকা নিয়ে হাজির হই।এবারও ব্যতিক্রম হয়নি।গৌতম ভট্টাচার্য ও প্রসূন বর্মনকে জানাই আমার সাথে আরো যারা গুয়াহাটি আসছি।নিজে লিটল ম্যাগাজিন ও লিটল ম্যাগাজিন যোদ্ধাদের নাম দিলাম।
প্রিয়জন
প্রসূন বর্মনদা/গৌতমদা
আমরা আসছি কাল ২২/১২/১৮)সকাল:০৭:৩০মি নামবো কথাটি জানাই।যারা সহযোদ্ধা ছিলেন সাথী তাদপর নাম
(১)অশোকানন্দ রায়বর্ধন:সম্পাদক-স্রোত(লোক গবেষক),ত্রিপুরা।বয়স:৬৫
phone:+919612515586
(২)রাজীব মজুমদার :সম্পাদক -রূপান্তর,কবি।উদয়পুর,ত্রিপুরা।
ফোন:৮৭৮৭৮৪৭০৬৯
(৩)গোবিন্দ ধর:সম্পাদক-স্রোত(কবি ও প্রকাশক),ত্রিপুরা।বয়স:৪৫
phone:9436167231
(৪)পদ্মশ্রী মজুমদার:কুসুম/কবিতাঘর(কবি ও কথাসাহিত্যিক ),ত্রিপুরা।বয়স:৪১ phone:9436927709
(৫)গৈরিকা ধর:সম্পাদক -দোলনা(শিশু সাহিত্য, ছড়া),ত্রিপুরা।বয়স:১০
phone:9436927709
(৬)গোপালচন্দ্র দাস:সম্পাদক মনুতট/সৃষ্টিলোক(কবি ও গল্পকার),ত্রিপুরা।বয়স:৫১
phone:9862555251
(৭)অভীককুমার দে:সম্পাদক-সমভূমি(কবি),ত্রিপুরা।বয়স:৩৮
phone:
+918257950218
(৮)শুভ্রশংকর দাশ :(কবি),ত্রিপুরা।
phone:
+917308903780
(৯)আ জাহিদ রুদ্র :সম্পাদক:মনন ভূমি(কবি),করিমগঞ্জ, আসাম।বয়স:৩০
phone:
9365147158
(১০)সঞ্জীব দে:সম্পাদক:বিজয়া(কবি প্রাবন্ধিক),ত্রিপুরা।বয়স:৩৯
phone:
+918974857751
(১১)আদিমা মজুমদার,সাহিত্যিক,আসাম ফোনঃ৭০০২৭২৩৪৯৬
(১২)অনুপকুমার বিশ্বাস,সম্পাদক:মুহূরী,বিলোনীয়া,ত্রিপুরা।
ফোন:9612212800
ধন্যবাদান্তে
গোবিন্দ ধর
সম্পাদক
স্রোত
মেল:boibari15@gmail.com,হোয়াটস অ্যাপ+
ফোন:০৯৪৩৬১৬৭২৩১
সপ্তম উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলন
-------------------------------------------------------------
এবারের আয়োজন সাউথ পয়েন্ট স্কুল,গুয়াহাটি।
আমরা পৌঁছে দেখি একটির পর একটি টেবিল আর তার ওপর বই, পেছনে চেয়ার নিয়ে বসে রয়েছেন অনেক লেখক সম্যুপাদক যুবক বা যুবতী। এই দৃশ্য সপ্তম উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলনের। আয়োজক ছিলেন বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি সমাজ, গুয়াহাটি। ২৪:১২:২০১৮ সম্মেলেনর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রখ্যাত অসমিয়া কথাসাহিত্যিক নিরুপমা বরগোহাঞি। প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন লিটল ম্যাগাজিনের নিবেদিত প্রাণ সন্দীপ দত্ত। কলকাতার লিটল ম্যাগাজিন লাইব্রেরি ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রাণপুরুষ। নিরুপমা বরগোহাঞি সহ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ছিলেন একা এবং কয়েকজন পত্রিকার সম্পাদক উদয়ন বিশ্বাস, বিশিষ্ট সাহিত্যিক-সমাজকর্মী অশীতিপর অণিমা গুহ, রবীন্দ্র গবেষক-প্রাবন্ধিক উষারঞ্জন ভট্টাচার্য, সন্দীপ দত্ত প্রমুখ।
দ্বিতীয় পর্বে প্রতিনিধিদের সঙ্গে সবার পরিচয় করিয়ে দেন শ্যামল বিশ্বাস। তৃতীয় পর্বে জলসিঁড়ি পত্রিকার সম্পাদক তিমির দে সঞ্চালনা করেন ‘বর্তমান সময়ে লিটল ম্যাগাজিনের গুরুত্ব’ আলোচনার। অংশগ্রহণ করেন সঞ্জীব দে ডেকা, মঞ্জরী হিরামণি রায় প্রমুখ।
বাসব রায়ের সঞ্চালনায় কবি সম্মলনে কবিতা পাঠ করেন প্রবুদ্ধসুন্দর কর, স্বর্ণালি বিশ্বাস, বিজয়শংকর বর্মন, তিমির দে, সুব্রত চৌধুরী, বিমলেন্দু চক্রবর্তী, দেবযানী ভট্টাচার্য, শবরী চৌধুরী, আদিমা মজুমদার, সমীর চক্রবর্তী, পদ্মশ্রী মজুমদার, রাজকুমার দাস, গোপালচন্দ্র দাস, নিশিথরঞ্জন পাল, জহর দেবনাথ, সঞ্জীব দে, রাজীব মজুমদার, সুমিতা ধর বসু ঠাকুর, সঞ্জীব দে, জহর দেবনাথ, মৃদুলা ভট্টাচার্য, ধনঞ্জয় চক্রবর্তী, রাজকুমার দাস, পদ্মশ্রী মজুমদার প্রমুখ।পরবর্তী সময় গোবিন্দ ধরও কবিতা পাঠ করেন।
ইমরান হোসেনের সঞ্চালনায় গল্পপাঠ করেন বরুণকুমার সাহা, কুশল ভট্টাচার্য, প্রলয় নাগ, আদিমা মজুমদার, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, মানবরতন মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।
সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছে ৫০টিরও বেশি লিটল ম্যাগাজিন পত্র পত্রিকা। এদের মধ্যে রয়েছে একা এবং কয়েকজন, নাইনথ কলাম, জলসিঁড়ি, নয়া ঠাহর, কবিতা এখন, মুখাবয়ব, ফোটামাটি, লালনমঞ্চ, প্রতিস্রোত, স্রোত, উত্তীয়, মানবী, বরাক-নন্দিনী, কথা, আকাশের ছাদ, মুহুরী, শ্যাডো ক্রাফট, বিজয়া, সমভূমি, জলজ, যাযাবর, মানাস দর্পণ, কিঞ্চিত্, সেবা, অবগাহন, মজলিশ সংলাপ, পূর্বাদ্রি, ভাষাসাহিত্য, আরশিনগর, সমতট, সময় সংকেত।
সপ্তম লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলনে সংবর্ধনা প্রদান করা হয় এই অঞ্চলের উজ্জ্বল সাহিত্যিক, সংগঠকদের। যাঁদের সংবর্ধনা জানানো হল : প্রমোদরঞ্জন সাহা, অমলেন্দু ভট্টাচার্য, নকুল রায়, দিলীপ দাস, পরেশ মালাকার, রবিজিতা গগৈ প্রমুখ। সম্মান জানানো হয়েছে শিলচরের বরাক-নন্দিনী, তিনসুকিয়ার উজান পত্রিকা গোষ্ঠী ও শিলং বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদকে।
সম্মেলনের আয়োজক বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি সমাজ, গুয়াহাটি। প্রকাশিত হয়েছে সম্মেলন উপলক্ষে ‘উৎসব’ সংখ্যা।গুয়াহাটিতে তিন বার এরকম সম্মেলন আয়োজিত হয়েছিল। প্রত্যেক বারই পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলনের ত্রুটিগুলো দূর হয়েছে।অভিজ্ঞতা সে সুযোগ দেয় তাই এই সম্মেলন সফল।কোথাও তেমন অসঙ্গতি সামনে আসেনি।শুধু কবি সম্মেলনে সঞ্চালক সকল কবিকে যথাযত সুযোগ প্রদান করেননি সে অভিযোগ সম্মেলন কক্ষেই কান পাতলে শুনতে পাওয়া যেতো।
বিশেষ প্রকাশ
--------------------
ত্রিপুরার সাম্প্রতিক ছোটগল্প সম্পাদনা-শ্যামল বৈদ্য স্রোত প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত। বইটি সপ্তম উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলনে প্রকাশ করলেন সন্দীপ দত্ত।স্রোত প্রকাশনার নিকট পরম গৌরব ছিলো।
দোলনার প্রকাশ:আট থেকে আশির দাপট
---------------------------------------------------------
লেখাকর্মী সম্পাদক আশি বছরেও লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনে যেমন ঝাপিয়ে পড়তেও পারেন তেমনিভাবে এই সম্মেলন সফল কারণ আট বছরের গৈরিকা ধর তার শিশুসাহিত্য কাগজ দোলনা নিয়ে উপস্থিত হয়।গৈরিকাও উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলনে পরপর চার বার উপস্থিত থাকার সুযোগ পেয়েছে। তারই ফলাফল তার নিজের ভাবনা থেকে দোলনার জন্ম।
উত্তর পূর্বের লিটল ম্যাগাজিন পুঁথিপত্র সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র
-------------------------------------------------------
১৯৯৫------২০২১ ত্রিপুরায় একমাত্র বেসরকারী
লিটল ম্যাগাজিন সংগ্রহশালা।লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক সাহিত্যিক কবি সকলের প্রতি আমাদের আবেদন আপনার প্রিয় বইটি লিটল ম্যাগাজিনটি আমাদের সংগ্রহশালায় পাঠিয়ে সংগ্রহশালা সমৃদ্ধ করুণ।
লিটল ম্যাগাজিন সংগ্রহ করার কোন সরকারী সংগ্রহশালা ত্রিপুরা কিংবা কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই।
সুতরাং আপনার সম্পাদিত লিটল ম্যাগাজিন পাঠিয়ে তাকে সংরক্ষিত করুণ।
লিটল ম্যাগাজিন সাহিত্যের বাতিঘর।তাকে অবহেলা কিংবা অসংরক্ষিত করা আমাদেরই ক্ষতি করার সামিল।
প্রয়োজন সম্মিলিত প্রয়াস।
আমাদের সংরক্ষকিত লিটল ম্যাগাজিনের সংখ্যা প্রায় ২০হাজার।
আপনারা আসুন।
আপনারা দেখুন।
আপনার সম্পাদিত লিটল ম্যাগাজিন পাঠিয়ে সংগ্রহশালাকে আরো সমৃদ্ধ করুণ।২০০৫ সালে শিলং লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলনে উপস্থিত থাকার সুযোগ পেয়েছি।তা থেকেই এই সংগ্রহশালাকে আরো সমৃদ্ধ করার তাগিদ অনুভব করি।জমিয়ে তুলি ১০-১৫ হাজার লিটল ম্যাগাজিন।
আরো সম্পাদক হতেই নিজেকে তৈরী রাখি
----------------------------------------------------------
নিজের বই প্রকাশিত বই অজস্র ভুলেভরা পাঠকের নিকট যায়।এরকম ত্রিপুরায় প্রকাশিত বইয়ের তালিকায় অসংখ্যজন যুক্ত। অথচ তিনিও জ্ঞান বিতরণ করেন।অসুবিধা নেই। কিন্তু সেটা অহংকার করে কেন?আমার বানান ভুল হয়।অনেকেই সংশোধন করতে আন্তরিক সহযোগিতা করেন।আমি সে সকল গুণীজনদের সম্মান ও শ্রদ্ধা করি।চিরকাল তাদের প্রতি শ্রদ্ধায় অবনত থাকি।
এ রাজ্যে অনেক প্রফেশনাল প্রুফ রিডার আছেন।তাঁদের প্রুফ কারেকশন করা বই ছাপার পরেও ভুল থেকে যায়।ভুল এক মারাত্মক অসুখ। আমার বারবার ভুল হয়।আমি এই ভুল বানানেই লিখি আত্মনীড়।
যাঁরা বারবার ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়ে আমাকে সম্পাদনা করতে সহায়তা করেন সত্যি উনারা রাজ্যের গর্ব।আমি কারো নাম এনে তাঁদের সহযোগিতা প্রাকাশ্য আনবো না।তাঁরা শ্রদ্ধেয়জন।চিরকাল শ্রদ্ধা তাঁদের প্রাপ্য।
কিন্তু যাদের অহংকার টুপটাপ গড়িয়ে পড়ে কুয়াশার শিশির বিন্দু হয়ে তাদের পাণ্ডিত্য নিয়ে আমার প্রশ্ন থেকেই যায়।আগে নিজের লেখা বইগুলো থেকে ভুল সংশোধন করুন।
হ্যাঁ ইচ্ছে থাকা সত্বেও কিছু ভুল থেকে যায় অনিচ্ছাকৃত।আমি সে সব জানি।
আমি বানানে কাঁচা। কিন্তু এও জানি বানান ঠিক করার জন্য প্রুফ রিডার থাকেন।কিন্তু প্রুফ রিডার ভুল করলে কিংবা অহংকারী পণ্ডিতদের বই ভুল বানানে বাজারে এলে ধরে নিতে হয় নিজের বেলা তিনি হয় যত্নবান নন।নয়তো তিনিও সব বানান জানেন না।কিংবা সেই পণ্ডিতদেরও ভুল হয়।তাহলে ধরে নিতেই হয় অন্যের বেলা পাণ্ডিত্য হোক অসুবিধা নয় আগে তো নিজেকে সম্পাদিত করা প্রয়োজন।
আমাদের রাজ্যে প্রুফ রিডারও নেই বললে হয়।তাও দু একজন প্রফেশনাল প্রুফ রিডার আছেন।সেই রিডারদেরও কারো কারো বানান ভুল হয়।হয়তো তিনিও সতর্ক সব সময় থাকেন না।অসতর্কতা দ্রুততা এবং ফেইসবুকে সরাসরি লেখলে এবং পোস্ট করার সময় শব্দটি লেখার সময় শব্দটি পাশে আসে।তখন অসতর্কে শব্দটিতে চাপ পড়ে। এতে পোস্ট করার সময় আবার বানান সংশোধন করা জরুরী। না হয় অসতর্কে হলেও ভুল থেকে যায়। এটা কাম্য নয়।
আমিও আরো সতর্ক থাকবো।তাও ভুল কারো চোখে, পাঠে ধরা পড়লে সংশোধনে সহযোগিতা করলে নতমস্তকে গ্রহণ করতে আমি দায়বদ্ধ।
শুধু অহংকার বাদ দিয়ে সহযোগিতা কামনা করি।অহংকার আমার হজম হয় না।আমি নিজে অহংকার করি না।
সবার আমি ছাত্র।
সকাল থেকে শিখছি দিবারাত্র। লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলন আমাকে আরো সম্পাদক হতে সহায়তা করছে নিরন্তর। এই সফলতা আমি লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলনকেই উৎসর্গ করতে চাই।
ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন উৎসব- 2০১৮ : একটি নিবিড় পর্যবেক্ষণ
--------------------------------------------------------------
ত্রিপুরার লিটল ম্যাগাজিনসমুহের চলমান সংকট ও সমস্যার পর্যালোচনা করার জন্যে, নিজেদের বেঁচে থাকার তাগিদে একটা প্ল্যাটফরমের প্রয়োজন অনুভব হচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে ৷২০০৫ সালে শিলং যে সম্মেলন শুরু হয়েছিল তারই প্রাপ্তি অসংখ্য লিটল ম্যাগাজিনের আত্মপ্রকাশ এবং ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন গিল্ড গঠন। প্রথম সম্মেলনের
সেই লক্ষে প্রাথমিকভাবে বার্তা ছড়ানোর জন্যে গঠন করা হয় ছোটো একটা অস্থায়ী কমিটি ৷ এই কমিটি রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ছোটোখাটো সভা করার মধ্য দিয়ে একটা উৎসব করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে ৷ ভিতরে একটা বেদনাও ছিল ৷ উত্তর-পূর্ব লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলনের তিনসুকিয়ার অনুষ্ঠানে আগরতলায় পরবর্তী সম্মেলন করার সিদ্ধান্তে স্বীকৃতি দানের পর ত্রিপুরায় এসে পরবর্তী একবছরেও সেই অনুষ্ঠান করা যায়নি উদ্যোগের অভাবে, পরনির্ভরতায় ও অকারণে ৷ আসলে যাঁরা দায়িত্ব নিয়ে এসেছিলেন তাঁরা উত্তর পূর্বাঞ্চলের লিটল ম্যাগাজিনের মেজাজটাই ধরতে পারেননি ৷লিটল ম্যাগাজিনের সৈনিক যে অন্যের কাঁধে বন্দুক রেখে লড়াই করেনা তা তাঁরা অনুমানই করতে পারেননি ৷ সমালোচনা হলেও বলতে হচ্ছে, দাদা কখন কাঁধ পেতে দেবেন সেই আশায় অপেক্ষা করতে করতে সুবর্ণ সময়টা হারিয়ে গেল ৷ সেই বেদনায়ও এই উৎসব করার তাগিদ বোধহয় রাজ্যের লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকদের ৷ সিদ্ধান্ত হয় উৎসব করার ৷ চারিদিকে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে রাজ্যের লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকদের কাছে ৷ সোস্যাল মিডিয়ায়ও পোস্ট দিলেন গোবিন্দ ধর, সঞ্জীব দে, গোপালচন্দ্র দাস, অপাংশু দেবনাথ প্রমুখ কবি ও সম্পাদকবৃন্দ ৷ কিন্তু তেমন বিশেষ সাড়া পাওয়া যায়নি ৷ একটা নীরব শীতলতা লক্ষ করা যায় ৷ ফলে উৎসবের প্রচেষ্টা সংকটের মুখে এসে দাঁড়ায় ৷ আর্থিক সাশ্রয় এবং সাংগঠনিক শক্তির প্রয়োজনে কুমারঘাটকেই বেছে নেওয়া হয় সম্মেলনের স্থান হিসেবে ৷ দায়িত্ব বর্তায় রাজ্যের শক্তিমান সাহিত্যসংগঠক , কবি ও প্রকাশক গোবিন্দ ধরের উপর ৷ স্রোত প্রকাশনার কর্ণধার সুমিতা পাল ধর ও কবি গোবিন্দ ধরের এই ধরণের বড়ো অনুষ্ঠান করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ৷ সহযোগী আছেন কবি ও সম্পাদক গোপালচন্দ্র দাস ৷ আর আছেন মাথার উপর ছাতা ধরে রাজ্যের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব কবি ও সপ্তপর্ণা সাহিত্যপত্রের সম্পাদক নিয়তি রায়বর্মন, কবি ও পূর্বমেঘ সম্পাদক রামেশ্বর ভট্টাচার্য, কবি দিলীপ দাস , কবি ও জলজ সাহিত্যপত্রের সম্পাদক সন্তোষ রায়, উত্তরপূর্বের শক্তিমান কথাসাহিত্যিক দেবব্রত দেব, কবি ও গল্পকার রণজিৎ রায় প্রমুখ ৷ এনারা যদি স্নেহের পরশ রাখেন তাহলে রাজ্যের যে কোনো প্রান্তেই সাহিত্য সংস্কৃতিতে ঝড় বইয়ে দেওয়া যায় ৷ তাঁরা প্রতি মুহূর্তে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সাহচর্য দিয়ে গেছেন ৷কাজেই এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বুদ্ধিদীপ্ত নীরবতা লক্ষ করা গেলেও কাজ কিন্তু থেমে থাকেনি ৷ গত দোসরা সেপ্টেম্বর বিশেষ আলোচনসভা ডাকা হল ৷ দেশের ও দেশের বাইরের অতিথিদের আমন্ত্রণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হল ৷ আরো দ্রুত গতিতে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয় ৷ সাবেক সমগ্র উত্তর ত্রিপুরার লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদকরা ঝাঁপিয়ে পড়লেন ৷ গোবিন্দ ধরের বাড়ির প্রত্যেক সদস্যই সাহিত্য-সংস্কৃতির মহীরুহের এক একটি ডালপালা ৷ তাঁর সঙ্গে যুক্ত হলেন সপরিবারে গোপালচন্দ্র দাস এবং রণজিৎ চক্রবর্তী ৷ সবাই মিলে তাঁরা নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে দিলেন ৷ অনুষ্ঠানের উদ্বোধক বাংলাদেশের অগ্রণী কথাসাহিত্যিকেরও দৃষ্টি এড়ায়নি বিষয়টি ৷
তেইশ সেপ্টেম্বর কুমারঘাটে হয়ে গেল 'ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন উৎসব ২০১৮,। এতদিনের কী হয়! কী হয় উৎকণ্ঠার অবসান ঘটে সেদিন ৷ কুমারঘাটের 'মাঙ্গলিক'এ আছড়ে পড়ে ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের ঢেউ ৷ কবিরা সাহিত্যসেবীরা মঙ্লচিন্তাই তো করেন ৷ জগতের মঙ্গল, সমাজের মঙ্গল, যাপনে মঙ্গল ৷ তাই এদিন মাঙ্গলিকে মিশেছিল সমস্ত শুভচেতনারা ৷ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া, কোনো দাদার শ্রীপাদুকা ছাড়া, কোনো রাজপুরুষের কাঠিছোঁয়া ছাড়া শুধুমাত্র সংহতিচেতনার অবগাহনে এতোবড়ো একটা অনুষ্ঠান করা যায় তা এদিন দেখা গেল কুমারঘাটে ৷আর্থিক দৈন্যে হয়তো সম্মানিত অতিথিদের যথাযোগ্য মর্যাদায় আপ্যায়ণ করা যায়নি কিন্তু আন্তরিকতায় খাদ ছিলনা ৷ গোবিন্দ ধর, গোপালচন্দ্র দাস, রণজিৎ চক্রবর্তী প্রমুখ তাঁদের গৃহকে রীতিমতো অতিথিশালা বানিয়ে ফেলেন ৷এই টান না হলে যে লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলন হয় না।
সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে আসেন খ্যাতনামা কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস, কবি জয়দুল হোসেন, প্রাবন্ধিক মানবর্ধন পাল ও কবি দেবব্রত সেন ৷
কথায়, কবিতায়, গানে, আলোচনায় টানটান ছিল অনুষ্ঠান ৷ লিটল ম্যাগাজিনের জন্যে বিজ্ঞাপন নীতি নিয়ে দাবি ওঠে উৎসবে ৷ একশো জনেরও অধিক কবি, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক কর্মী, লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদক এই উৎসবে যোগ দেন ৷ ত্রিশটিরও বেশি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয় ৷ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, উত্তরবঙ্গ ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট কবিদের কুড়িটির বেশি এক ফর্মার কবিতাসংকলন প্রকাশিত হয় ৷
অনুষ্ঠানের শেষলগ্নে কবি হারাধন বৈরাগি ও ছড়াকার অমলকান্তি চন্দ জানালেন আগামী উৎসব জম্পুই পাহাড়ের পাদদেশে কাঞ্চনপুরে অনুষ্ঠিত হতে হবে ৷কিন্তু আর হয়নি।
এতোবড়ো সাফল্যের পরেও কথা থেকে যায় লিটল ম্যাগাজিনের পরিচয়জনিত যে দুর্বলতা, ছোটো করে রাখার যে প্রবণতা তাকে কাটিয়ে উঠতে হলে তাহলে আরো বেশি সাংগঠনিক শক্ত দরকার ৷ আরো বেশি নিবিড় হওয়া দরকার পারস্পরিক সম্পর্ক ৷ এই বার্তাই দেন উদ্বোধক কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস ৷
উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলন সপ্তম বার ত্রিপুরায় হলো না।আবার সেই গুয়াহাটি। আমরা গেলাম।লিটল ম্যাগাজিনের সুখে উল্লাসে আরো তেজ আরো সফল তার হর্স পাওয়ার সচক্ষে দেখে নিজেকে আরো আরো সম্পাদক করে একবুক আশা নিয়ে ত্রিপুরায় এলাম।
শেষ কথা
-------------
৮ ম লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলন আমরা করবোই। আমরা করবো জয়।হয়তো নবারুণ ভট্টাচার্যের বিপ্লবী আওয়াজ শুনবো না তবুও লিটল ম্যাগাজিনের দীপ্ত উচ্চারণ বারবার ধ্বনিত হবে মৃত্যুর পরেও জেনো উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলন থেমে না যায়।আর ছোট ছোট বিচ্যূতিগুলো যেন দূর করে আরো পূণাঙ্গ আরো সফল হবে ৮ম উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন সম্মেলন।
২৭/১২/২০২০
রাত:১২টা
লিচুবাগান,আগরতলা
0 Comments