গোবিন্দ ধর এর তিনটি কবিতা

কবি


জীবনানন্দ পরবর্তী কেউ কেউ কবির
তকমা পাল্টে ভাবেন
জীবনানন্দকে অতিক্রমণ করে
তিনিই নিজস্ব ভাষাপথ।

কোন কোন কেউ কেউ কবিরা
সাহিত্য উৎসবে নিজেকে না ডাকলে 
অন্যের পিন্ডি চটকান
শৈশবের স্মৃতিকে বলেন মুখস্থপাঠ
দাসক্যাপিটাল না পড়েই
নিজেকে অতিবাম ভাবেন
তারা ঘেউ ঘেউ।

এই সকল কেউ কেউ কবিদের
দাদাদের 
হাতের নাগাল থেকে নিজেকে
মুক্ত করা ছাড়া আর কোন উৎসব নেই।
আর কোন গান নেই জীবনের 
লিখি হরফশ্রমিকের আত্মক্ষর।

লেখক হয়ে উঠতে হয়

একজন লেখকের উর্বর সময় 
যখন তিনি লেখেন।
অনুর্বর সময় লেখালেখি আসে না।
অনুর্বর সময়ে লেখক তৈরী হোন।

উর্বর সময় লেখক লেখেন।
যখন লেখকের লেখা আসে না
সেই সময়ই হলো প্রকৃতপক্ষে 
লেখকের সুসময়।নয়তো
তিনি নিজেকে ভালোবাসার সময়
কখনোই পেতেন না।

অনুর্বর সময়কে গতিশীল রাখলে
উর্বর সময়ের কাছে পৌঁছতে 
গভীর রকম আলিঙ্গন করে লেখককে।

এই-ই হলো এক অভিমুখ থেকে 
অন্য অভিমুখে হাঁটাচলা 
একজন লেখকের লেখক হবার উড়ালপুল।


প্রকৃত লেখক

প্রকৃত ভালোবাসার বিকল্প যেমন নেই 
প্রকৃত লেখকেরও বিকল্প নেই। 

প্রকৃত লেখক হয়ে উঠতে পারলে
একজন লেখকের কোনো সংগঠন 
সমিতি সভা দরকার নেই। 
তার বটতলা কিংবা বেলতলা 
কোন সভা সেমিনার কিচ্ছু দরকার নেই। 

প্রকৃত লেখক হয়ে উঠতে হলে
নিজেকে বইজীবনের সাথে রাখা জরুরী  
আর পাঠ করতে করতেই লেখক।

লেখক হয়ে ওঠার সিঁড়ি পেরিয়ে যাবেন:
ছোটবেলা গ্রামীণ হাকম আমরা সতর্কে 
ঠিক যেরকম পেরিয়ে ওপারে যেতাম।