ইতিহাসের আলোকে সিলেটি সন্তান || গোবিন্দ ধর
ইতিহাসের আলোকে সিলেটি সন্তান || গোবিন্দ ধর
সিলেটিয়াদের সর্বকালেই ভয় পেতেন বিভিন্ন অঞ্চলের রাজা মহারাজা এবং সাধারণ লোকজন।সেই ভয় থেকেই বিচ্ছিন্ন করার মানসিকতা। সে মোগল আমল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত একই ধারা সমান্তরাল। কারণ একটাই সিলেটিরা শিল্প সাহিত্যে এমন কী রাজ্য শাসন কিংবা গনতান্ত্রিক সরকারের শাসন ব্যবস্থায়ও একজন সিলেটি সন্তান যা ভাবেন অন্যরা তা বহু পর বুঝেন।যে জন্য এতো হিংস্র হয়ে ওঠেন অনেকেই। এমন কি সিলেটের সন্তানদের মধ্যে যারা অগ্রসরমান চিন্তায় চেতনায় তাদের কার্যক্রমকে পরবর্তী সময় গ্রহণ করতে হয় অনেকেরই। কিন্তু সিলেটের অগ্রসরমান চিন্তায় যুক্ত সন্তানকে সিলেটের সন্তানরাও ভয় পেয়ে দূরে থাকেন।কার্যক্রমে নানা রকম প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে মূল স্রোত থেকে তাদের সরিয়ে দিতে অপচেষ্টা করা হচ্ছে। আগেও হতো।মোগল ইংরেজ আমল এমন কী দেশিয় রাজা থেকে বর্তমান রাজনীতিও সিলেটিদের দমিয়ে রাখার কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই। কিন্তু সিলেটের অগ্রসরমান চিন্তা পৃথিবীতে সুখ শান্তি সাহিত্য সংস্কৃতির পরিপূরক। আপাত দৃষ্টিতে তাদেরকে চক্রান্ত করে পরাস্ত করতে চাইলেও পরবর্তী সময় কালখন্ডে বিনয় বাদল দিনেশই প্রকৃতপক্ষে স্বরাজ চেয়েছিলেন ইংরেজদের নিকট থেকে। সিলেট অঞ্চলের আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে যখন যেখানে বৃহত্তর স্বার্থ পরিপন্থী কোনো কাজ চোখে পড়বে সেখানে সর্ব প্রথম সিলেটি সন্তান ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্ম উৎসর্গ করেছেন।ভারতবর্ষের স্বরাজ কায়েমে স্বরাজ আমাদের জন্মগত অধিকার প্রথম উচ্চারণ করেছিলেন সিলেটের সন্তান।যখন যেখানে কোন আন্দোলন হয়েছে দেখেন সে সিলেটের সন্তানদের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে। শ্রীচৈতন্যের ধর্মীয় আন্দোলন থেকে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলন সব জায়গায় সিলেটিরা অবদান রেখেছেন।
পূর্বে সিলেটে আজ যা ভাবা হতো পরবর্তী সময় সারা ভারত তা ভাবতেন।
সিলেটিদের মানচিত্র টুকরো টুকরো করে উপহাসের সম্মুখীন করছেন যারা তাদের নিকট গৌরব গাঁথার কোনো রকম ইতিহাস নেই।তবুও অন্যের গৌরবে শ্রীহট্টীয় সন্তান গৌরবান্বিত মনে করেন।আর সিলেটের সন্তানেরা সব সময় অন্য অঞ্চলের লোকজনকেও সম্মানিত করতে ভালোবাসেন।অন্য অঞ্চলের মানুষজন সে ইতিহাস না জেনেই ধেড়ে গলায় সুর চড়িয়ে বিচিত্রভঙ্গিতে কাশছেন।
আজকের বাংলা সাহিত্যও শ্রীহট্টীয় নাগরী লিপি পরবর্তী সময় নাগরী লিপি থেকে ক্রমবিকাশ। অর্থাৎ শ্রীহট্টীয় নাগরী লিপি বাংলা হরফেরও আগে থেকে সিলেট অঞ্চলে তাদের ভাষায় চর্চা করতেন।শ্রীলেট বা সিলেটকে টুকরো টুকরো করে পরবর্তী সময় সিলেটের নাগরী লিপি ও প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তন করে সিলেটের নাগরী ভাষাকে আটকে দেওয়া হয়। একটাই কারণ সময়ে সময়ে যখন যেখানে যারা নেতৃত্ব দিতে সক্ষম তাদেরকে রুখে দিতে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হতো পূর্বেও।বর্তমানেও তা করা হয়।শুধু ষড়যন্ত্রকারীদের আচরণে এতো মধু মিশ্রিত উচ্চারণ থাকে যারা এই ষড়যন্ত্রকারীদের সহযোগী সদস্য হোন তাদের মাথায় এতো দূর অভিসন্ধি না থাকায় ষড়যন্ত্রকারীদের ভাষাকোড বুঝতে পারেন না।এ জন্য ষড়যন্ত্রকারী যুগে যুগে নিজেদের স্বার্থের আসল রূপ লুকিয়ে ধুমপান করতেই পছন্দ করেন।
কিন্তু ইতিহাসের কালচক্র বড় সচেতন।সেই কালচক্র একদিন সত্যি সত্যি উদঘাটিত হয়।তখন যদিও বড্ড দেরি হয় তবুও ইতিহাস তো ইতিহাসই।তাকে অস্বীকার করার শক্তি কালচক্রেরও নেই।
১৯:১০:২০২৩
0 Comments