ত্রিপুরার বাংলা সাহিত্য চর্চা:হাজার বছরের পরিক্রমা
ত্রিপুরার বাংলা সাহিত্য চর্চা:হাজার বছরের পরিক্রমা
সূচনা পর্বের ভূমিকা
গোবিন্দ ধর
এক কঠিন পরিক্রমায় পর্যটকের ভূমিকায় আমাকে অবতীর্ণ করে দিলেন অমিত দে মহোদয়। আমি
ত্রিপুরার বাংলা সাহিত্য চর্চা:হাজার বছরের পরিক্রমা বিষয়ে লেখাটি কতটুকু তুলে আনতে পারবো সে বিষয়ে সন্দিহান। তবুও কাজটি হোক প্রত্যাশা নিয়ে শুরু করা গেলো।বিভিন্ন পর্বে তা ভাগ করে পর্বে পর্বে তুলে ধরতে চেষ্টা করবো ত্রিপুরার সাহিত্যের আদি মধ্য ও বর্তমান সময়ের লেখালেখির পাঠ পাঠান্তর। পাঠক হয়তো ধারাবাহিকতা এতে খোঁজে পাবেন না।যখন যে বিষয়ে মনের ভেতর আলোড়ন তুলবে আমি এই পর্ব থেকে পর্বান্তরে এলোমেলো ভাবেই ত্রিপুরার বাংলা সাহিত্য চর্চা:হাজার বছরের পরিক্রমা করবো।শেষ হওয়ার পর হয়তো তা একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ ধারণ করবে। কিন্তু আমার লেখার সময় এর কোন ধারাবাহিকতা থাকা জরুরী হলেও তা প্রায় অসম্ভব হবে বিশাল এই পরিক্রমায়। তবুও শ্রদ্ধেয় অমিত দে মহাশয়ের প্রস্তাবকে মান্যতা দিতেই এই অযোগ্যের অক্ষম প্রচেষ্টা। তারপর পরেও পাঠক এতে যদি ত্রিপুরার সাহিত্য চর্চার সুলোক সন্ধান পেয়ে যান তাতে আমিই সব থেকে বেশি এই পরিশ্রম স্বার্থক হয়েছে ভেবে আনন্দিত হবো।
ত্রিপুরার বাংলা সাহিত্য চর্চা:হাজার বছরের পরিক্রমা
গোবিন্দ ধর
বাদ বাংলার স্বতন্ত্রতা:পর্ব
বাদ বাংলার কবিতা মানে কবিতা বাদ নয়।
বরং বাংলার কবিতার চেয়ে
বাদ বাংলার কবিতায় বাদ বাংলার ভিন্নস্বরই চিহ্নায়িতই হয়েছে।
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের বাইরে যারা বাংলাসাহিত্য চর্চায় যুক্ত তাদের ভূগোল হলো বাদ বাংলা।
আমাদের অঞ্চলে থেকে সাহিত্য চর্চা করা আর বাংলাদেশে বসে সাহিত্য চর্চার সুযোগ সুবিধা অভিঘাত এক নয়।আপনি এই খন্ডিত অবেহেলায় বড় হলে নিশ্চিত বুঝতেন আমাদের যন্ত্রণা আমাদের অসুবিধা আমাদের এই ভাবনা কেন এখন লালন করতে হয়।বৃহৎ বঙ্গের যে ভাবনা তা বোধ হয় ত্রিপুরার রাজদরবারে সাতবার রবীন্দ্রনাথকে বরণ করে আমরা কম মহত্ত্বের উদাহরণ নই।কিন্তু দীনেশচন্দ্র সেন মহোদয়কেও যে মানসিকতা নিয়ে ত্রিপুরা দুহাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তা বৃহৎবঙ্গ কি আর মনে রাখে?আমাদের বাংলা ভাষা চর্চার ইতিহাস ১০০০ হাজার বছরের হলেও বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বই থেকে মুছে দিত পারতো বলুন?সুতরাং বাহির বাংলা তাই আমাদের সতন্ত্র বলয় বানাতে চেষ্টা করছি ইচ্ছে করে তা নয় কিন্তু বরং আমাদের নিজের আইডেন্টিটি বাংলাসাহিত্য থেকে বিচ্ছিন্ন নয় তা জানান দিতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ বলতে অসুবিধা কোথায়?
যদিও জাহিদুর রহমান বলেন:"
বিহার, ঝাড়খণ্ড, উড়িষ্যা, আসাম, মেঘালয়, পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও পূর্ববাংলা (বাংলাদেশ) নিয়েই সুলতানী বাংলা/সুবে বাংলা/ বৃহত্তর বাংলা।
বাদ বাংলা বলতে কিছু নেই। সাহিত্যকে খন্ডিত ভূগোলে আবদ্ধ করার অবকাশ নেই।"
এই ইচ্ছে করে নয় বরং নিজেদেরকে জানান দিতেই ত্রিপুরাসহ আমাদের স্বতন্ত্রতা।
হাসনাইন সাজ্জাদি :আমি বিশ্বাস করি ত্রিপুরার কবিতাকে আগামী দিনে বাদ বাংলার নয় খাঁটি বাংলার কবিতা হিসাবে মূল ধারায় স্থান করে দিতে হবে।এখনি কবিতার আঙিক ও বিষয় চেতনা তা বলে দিচ্ছে।
কিন্তু আমি গর্বিত আমি বাদ বাংলায় থেকে সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও কবিতা লিখি।
১২:০৮:২০২২
ত্রিপুরার বাংলা সাহিত্য চর্চা:হাজার বছরের পরিক্রমা
গোবিন্দ ধর
কাঞ্চনপুর সাহিত্যের গোড়ার কথা:পর্ব
বনতট সম্পাদক হারাধন বৈরাগী, রসমালাই সম্পাদক অমলকান্তি চন্দ, দোপাতা সম্পাদক দিব্যেন্দু নাথ মহোদয় একটু দেখবেন নিচে লেখা বিষয়টি।
দেওভ্যালী সংবাদ কাঞ্চনপুর থেকে প্রকাশ হতো।এতে আমার অনেক কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। খারাঙের কথাও আলোচনায় আসুক।ছোট ছোট উদ্যোগগুলো হয়তো ছোটই তবুও এগুলোই ত্রিপুরার সাহিত্যচর্চায় আগামীদিনের ইতিহাস।এই ছোটো ছোটো কাজগুলোই সাহিত্যের এন্থ।এই শক্তিকে মনে রাখতেই হয়।সম্ভবত রূপম নাথ অনুপম নাথরা দেওভ্যালী সংবাদ প্রকাশ করতেন।সম্পাদক ছিলেন বিশ্বজিৎ সাহা। পত্রপত্রিকাটি লেটার প্রেস থেকে ছাপা হতো । নিজেরাও লেখালেখি করতেন।শেষে কখন কিরকম পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান সৎসঙ্গ যাওয়ার রাস্তার নিকট ১৯৯৫ সালেও আমি অনুপম নাথের বাসায় গিয়ে অনুপম নাথের কবিতা চর্চার খাতাগুলো পড়েছি।অনুপম বয়সে আমার চেয়ে ছোট।সে খেলাধূলাতেও পারদর্শী ছিল। সম্ভবত নেতাজীক্লাবের সাথেও যুক্ত ছিল। একটু খতিয়ে নিলে এরকম বিজয়া চাকমাসহ অনেককেই পাবেন।আগামীদিনের ত্রিপুরার ইতিহাসে কাঞ্চনপুর, কুমারঘাট,কৈলাসহর,কমলপুর,ধলাই,আগরতলা, বিশালগড়,বিশ্রামগঞ্জ,উদয়পুর,বাইখোড়া, সাব্রুমের সাহিত্য চর্চায় নতুন নতুন দিক উন্মোচন হলেই প্রকৃত ইতিহাস সামনে আসবে।সম্ভাবনা আছে আগামীদিন সোনামুড়া অঞ্চলেও।
হারাধন বৈরাগীর কলম থেকে এই চর্চা ছড়িয়ে পড়ুক।ত্রিপুরার সাহিত্য চর্চা শুধুমাত্র রাজধানী কেন্দ্রিক নয়।আমাদের সকল মহকুমা স্তরেই সাহিত্য চর্চায় নতুন নতুন সাহিত্যিকদের হাতেখড়ি হয়।হয়তো একটু দিক বাৎলে দেওয়ার জন্য তারা হারিয়ে যান।আমার বিশ্বাস এই কাজটুকু করলে ত্রিপুরার সাহিত্য চর্চার নানান সম্ভাবনাকে আমরা তুলে আনতে পারবো।
১৬:০১:২০২০
ত্রিপুরার বাংলা সাহিত্য চর্চা:হাজার বছরের পরিক্রমা
গোবিন্দ ধর
ত্রিপুরার বিদ্যালয়ের দেওয়াল পত্রিকা:পর্ব
ত্রিপুরায় দেওয়াল পত্রিকার একটি সিরিয়াস প্রকাশের ধারাবাহিকতা আছে।
বিগত ১০ বছর থেকে সাব্রুম সাতচাঁদ দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় থেকে চেতনা নামে একটি দেওয়াল পত্রিকা প্রকাশ হয়ে আসছে।এই গৌরব প্রশংসা পাওয়ার মতো।
পাশাপাশি রাজেন্দ্রনগর নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়েও বিগত পাঁচ বছর থেকে প্রকাশিত হয় :কিচিরমিচির। এবছর আরো একটি পত্রিকা :হাট্টিমাটিম টিম প্রকাশিত হলো।
ত্রিপুরার অন্যান্য স্কুল থেকেও প্রকাশিত হয় এরকম অসংখ্য দেওয়াল পত্রিকা।নামগুলো জানলে আলোকপাত করা যায়।
পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্ব-উদ্ভাবিত এই দেওয়াল পত্রিকা এক সময় ধ্বংসও হয়ে যায়।আবার কেউ কেউ এরকম কাজগুলোকে কুর্নিশও জানান।
শিক্ষকরা এই পোষ্টে দেওয়াল পত্রিকাগুলোর কপি পেষ্ট করুন। এতে ত্রিপুরার প্রাবন্ধিক ও গবেষকদের কাজে লাগবে।
আমার জানা মতো ফটিকরায় দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়,ধনসিং মেমোরিয়াল দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়,আর কে আই দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়সহ আরো অনেক বিদ্যালয় থেকে দেওয়াল পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
কবি ও গবেষক প্রাবন্ধিক অশোকানন্দ রায়বর্ধন জানালেন:সাব্রুমের দৌলবাড়ি হাইস্কুলের দৃষ্টিনন্দন দেও- য়াল পত্রিকা নতুন কুঁড়ি ৷ এবছর শিক্ষক দিবসে প্রকাশিত হয় ৷অশোকদার মতো অন্যরাও তথাগুলো দিন।
উজান সোনাইমুড়ি জে,বি স্কুলে প্রকাশ হয়, অংকুর।
দেওছড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়
কথালিপি।প্রথম প্রকাশ হয় ২০১৮ সালের ২৬শে জানুয়ারী।২০২০ সালেও আগামী ২৬ জানুয়ারী দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হবে।
গত ৪ঠা অক্টোবর ২০২১ইং সকাল ৯ টা ৩০ মিঘটিকায় শ্রীমতি উজ্জ্বলী মহাজন মজুমদার(প্রধান)এর সভানেতৃত্বে পৃর্বকৃষ্ণনগর উচ্চ বালিকা বিদ্যায়ের "দেওয়াল পত্রিকা"-প্রকাশ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাজ্যের বিশিষ্ট কবি ও প্রাবন্ধিক শ্রী অপাংশু দেবনাথ,দেওয়াল পত্রিকা"অঙ্কুর" উদ্বোধন করেন কবি ও প্রাবন্ধিক
সঞ্জীব দে,প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী
দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস,বিদ্যালয় পরিদর্শক,ছিলেন কবি ও প্রাবন্ধিক রূপন মজুমদার।
দেওছড়া দ্বাদশমান বিদ্যালয়ে ,দেওয়াল পত্রিকা "কথালিপি"র চতুর্থ সংখ্যা উন্মোচিত হলো ২৩শে ডিসেম্বর ২০২১।
শিশুর নিজস্ব কথায় সেজে উঠেছে কথালিপি।প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন--বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রদ্ধেয় বিজনকুমার দাস মহোদয়,
পানিসাগরের মহকুমা শাসক শ্রদ্ধেয় শ্যামজয় জমাতিয়া মহোদয় (Additional SDM), এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ ও ছাত্রছাত্রীরা।
আমাদের বিশ্বাস আগামীদিনের কবি সাহিত্যিকদের জন্ম কিন্তু স্কুলের দেওয়াল পত্রিকা এক বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করবে।
২১:০৯:২০১৯
সকাল:৮:৪৫মি
রাজেন্দ্রনগর।
ত্রিপুরার বাংলা সাহিত্য চর্চা:হাজার বছরের পরিক্রমা
আন্তর্জাতিক শিশুসাহিত্য উৎসব :২০২২ ও একটি আন্তরিক আমন্ত্রণ পর্ব
গোবিন্দ ধর
শিশুসাহিত্যের আমি হয়তো কেউ নয়।কিন্তু ত্রিপুরার শিশুসাহিত্যিকদের আমি জানি।আমাদের স্রোত প্রকাশনা থেকে এ যাবৎ প্রকাশিত শিশুসাহিত্য বিষয়ক বইগুলো নেহাত কম নয়।আমাদের সর্ব প্রথম প্রকাশিত ছড়া সংকলন কাজল চক্রবর্তীর কিরাত দেশের ছড়া।তারপর চয়ন কাননগো চিচিং ফাঁক,অমলকান্তি চন্দের আয়না উড়ি,অনুপ দেবের সাত শেয়ালে কোরাস গায় ও জোনাকিরা গায় নাকি সুরে।অমলকান্তি চন্দ ও অপাংশু দেবনাথের যৌথ ছড়া সংকলন চচ্চড়ি ও জল ডুব ডুব শাপলা শালুক বইটিও ত্রিপুরার শিশুসাহিত্য পাঠকের ভালোবাসা পেয়েছে।
গোবিন্দ ধরের থইথই ছড়া ত্রিপুরার সমস্ত বিদ্যালয়ে ত্রিপুরা সরকারের সমগ্র শিক্ষা প্রকল্প থেকে ক্রয় করা হয়।
শ্যামল ভট্টাচার্যের শিশুকিশোর গল্প সংকলন ছয়পোনার কাণ্ড এবং সন্তোষ রায় মহোদয়ের লণ্ডভণ্ড আমাদের ত্রিপুরার শিশুসাহিত্যের দিগন্তকে বিস্তৃত করতে পেরেছে। ছয়পোনার কাণ্ড বইটিও সমগ্র শিক্ষা প্রকল্প থেকে ক্রয় করা হয় ত্রিপুরার সমগ্র বিদ্যালয়ের জন্য।
কথাগুলো উচ্চারণ করতে হলো এ জন্য ত্রিপুরার শিশুসাহিত্যিকদের অনেকেই বিষয়টি মনে রাখেন না যে স্রোত প্রকাশনা ত্রিপুরার শিশুসাহিত্যের দিগন্তে কি অবদান রেখেছে।পাশাপাশি এ কথাও অনেকেরই মনে থাকে না স্রোত পরিবারের প্রথম পারিবারিক শিশুসাহিত্যের কাগজ কুসুম একটি ছোট পত্রিকা। তা গোবিন্দ ধর সম্পাদিত হয়ে আসছে ২০০০ সালের মে মাস থেকে। দোলনা কাগজটির সম্পাদক গৈরিকা ধর। উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসেবে গোবিন্দ ধর নিয়মিত দোলনা প্রকাশে সহযোগিতা করে আসছেন ২০১৮ সাল থেকে।
স্রোত পরিবারের সহযোগিতায় দোলনা আয়োজিত ত্রিপুরা ছড়া উৎসব অনুষ্ঠিত হয় ২০১৮ থেকে।অমলকান্তি চন্দ, ঝর্ণা মনি,অনুপ দেব ও আব্দুল হালিমকে দোলনা ছড়া সম্মানে সম্মানিত করা হয়।এ পর্যন্ত চারবার ত্রিপুরা ছড়া উৎসব আয়োজিত হয় কুমারঘাট স্রোত পরিবারকে কেন্দ্র করে।
হয়তো ত্রিপুরার শিশুসাহিত্য বিষয়ক এক পরিমন্ডল তৈরী হতে দীর্ঘ পরিচর্যা বিভিন্ন জনের হাত ধরে এগিয়ে চলেছে।সে আমাদের সৌভাগ্য। শিশুসাহিত্যের একটি পূর্ণাঙ্গ রূপদানে সকলের রূপকথা নয় পরিকল্পনা প্রয়োজন।সেই পরিকল্পনা হওয়া,দরকার সুগঠিত।
আমরা স্রোত প্রকাশনা ও দোলনা শিশুসাহিত্যের বিকাশে আরো কাজ করতে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছি।
সুদূর প্রতিবেশী দেশের থেকে যখন শিশুসাহিত্যিক হিসেবে আন্তর্জাতিক শিশুসাহিত্য উৎসব ২০২২ এ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পাওয়া যায় তখন এই আমন্ত্রণ পেয়ে মনের ভেতর নেচে উঠে একটি কিচিরমিচির পাখি।
সেই পাখির কলকাকলি কিচিরমিচির আপনাদের সাথে ভাগ করেও ভালো লাগে।
ত্রিপুরার বাংলা সাহিত্য চর্চা:হাজার বছরের পরিক্রমা
মৌলভীবাজার উৎসব:২০২২ জলভ্রমণ ও আরো এক অসাধারণ আমন্ত্রণ -পর্ব
গোবিন্দ ধর
মৌলভীবাজার আমার পিতৃপুরুষের সাতপুরুষের জন্মভিটা। আর সেই মৌলভীবাজার উৎসবের আমন্ত্রণ আমার মতো সাধারণজনকেও করা হলে বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে ওঠে দাদু দেবেন্দ্রনাথ ধরের সেই প্রতিষ্ঠিত মিঞাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ঘর,এখন যেখান দিয়ে মনুনদী তিরতির প্রবাহিত আমাদের বাস্তুভিটার অংশবিশেষের ছবিগুলো ভেসে ওঠে মানসচোখের আলোয়।
আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দিলেন মৌলভীবাজার জেলা সমিতি।মৌলভীবাজারের মাটির টান এই আমন্ত্রণের পরতে পরতে অনুভব করছি।নষ্টালজিক হয়ে দীর্ঘ ৭০ বছর পিছিয়ে গেলাম আমি।দাদুর তারুণ্য ভরপুর সময় বাবার যুবকবয়স মায়ের তরতর বেড়া ওঠা বয়সগুলো সেখানে কাটিয়ে ইন্ডিয়া পাকিস্তানের ইনিংস শুরুর সময়ই এক দিন ছেঁড়া মানচিত্র বগলদাবা করে এপারে চলে আসতে হলো বাবাঠাকুরদাদের।কাকাদের।আমাদের সাতহাল জমিন ছেড়ে,পুকুরভরা মাছ ছেড়ে, গোয়ালভরা গাভীদের মায়া ফেলে একদিন চলে আসেন চাতলা বর্ডার হয়ে কৈলাসহর দিয়ে রাজ আমলের বর্ধিষ্ণুগ্রাম রাতাছড়ায়।
রাতাছড়াজুড়ে তৎকালীন সময় থেকে এখনও জনশ্রুতি ও রাজমালায় উল্লেখিত আছে রাজধর মানিক্যের অভিষেকের গল্পগাথা। কথিত আছে অমর মানিক্যের আফিম সেবন। তারপর রাতাছড়া মোহনা এখন যে স্থান তরণীনগর ও রাতাছড়া ব্রীজ সংযোগস্থল সেখানে আত্মহত্যা করার অমরকাহিনী।
সেরকম এক জনপদ রাতাছড়ায় আমাদের পিতৃপুরুষেরা বাস্তু হারিয়ে বিনিময় করে আসেন রাতাছড়া।
কিন্তু শ্রীহট্টীয় রক্তের টান এখনো আমার কোষে কোষে। সুতরাং পিতৃপুরুষের বাস্তুভিটে মৌলভীবাজারের থেকে কোন আমন্ত্রণ পেলে হৃদয় আকুপাকু করে।মনে হয় আত্মীয়রা ডাকছেন।
না বলা খুব খুব কঠিন হয়ে পড়ে।তা আবার সেই আমন্ত্রণের সাথে সারাদিন সাগর জল ভ্রমন জড়িয়ে থাকলে তো মনকে আর ধরেবেঁধে রাখা কঠিন।
অগত্যা কি করা সাড়া দিলাম।
বঙ্গোপসাগরের জলে সারাদিন জাহাজে বসে আড্ডা কবিতা পাঠ আর ইলিশের নানা উপাদেয় পদের রান্না ইস্ এখনই জল টলমল রসনা আমার।
বিশাল নৌজান -৭ এ সোয়ারী হয়ে বুড়ি গঙ্গা পদ্না মেঘনা হয়ে বঙ্গোপসাগরের মোহনা জুড়ে এই জলভ্রমন আমার জীবনের পরম পাওয়া এক আমন্ত্রণ।
আসছি লুৎফর চৌধুরী ভাই।আসছি বন্ধু শিমুল।আসছি বন্ধু ঝর্ণা মনি।আসছি বন্ধু আঁখি।আসছি বন্ধু সুমনকুমার,।আসছি অপূর্বদা।আসছি পুলক।আসছি উপমহাদেশের অহংকার কথাসাহিত্যিক সেলিনা আপা।আসছি তপনদা।আসছি বীরেনদা।আসছি উপমহাদেশের অহংকার কবি নির্মলেন্দু গুণদা।আসছি মাসুদ পথিক।আসছি শামসুর আলম সেলিম।আসছি জাকির ভাই।আসছি আসছি মৌলভীবাজার। আসছি ঢাকা।আসছি বাংলাদেশ।
০৬:১২:২০২২
ত্রিপুরার বাংলা সাহিত্য চর্চা:হাজার বছরের পরিক্রমা
উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু-পর্ব
কথাপৃষ্টা
বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু-১ বা সংক্ষেপে মৈত্রী সেতু হল বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্ত গঠনকারী ফেনী নদীর উপরে অবস্থিত একটি অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেতু যা উত্তর-পূর্ব ভারতীয় রাজ্য ত্রিপুরার সাথে সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের স্থলসংযোগ স্থাপন করেছে। ১.৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাব্রুম শহর এবং বাংলাদেশের পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলাকে সংযুক্ত করেছে।
ইতিহাস
২০১৫ সালে সেতুটি নির্মাণকাজ শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। ঐ বছরের জুন মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।সেতু নির্মাণ এবং বাংলাদেশ ও ভারত উভয় পার্শ্বে সেতু-অভিমুখী সড়কগুলি নির্মাণের সমস্ত ব্যয় ভারত সরকার বহন করে। ত্রিপুরা রাজ্যের গণপূর্ত বিভাগ প্রকল্পটি নির্বাহ করার দায়িত্বে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়। প্রকল্পটি সমাপ্ত করতে ব্যয় হয় আনুমানিক ১৩৩ কোটি টাকা। ২০২১ সালের ৯ই মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি ভিডিও সম্মেলনের মাধ্যমে সেতুটি উদ্বোধন করেন। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য ক্রমবর্ধমান বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে সেতুটির নাম দেওয়া হয় "মৈত্রী সেতু"।
সেতুটির নির্মাণের ফলে
সীমান্তের দুই পাড়ে ৪১২ মিটার দীর্ঘ সেতু এবং সঙ্গে ১ হাজার ৪৭৬ মিটার সংযোগকারী সড়ক নির্মাণের জন্য ৮২ কোটি ৬৭ লাখ রুপির দরপত্র অনুমোদিত হয়েছিল। ফেনীর ওপর নির্মিত মূল সেতুটি ১৮০ মিটারের। দুই পাড়ে সেতু রয়েছে ৯০ মিটার করে। সেতুর সঙ্গে ২৩২ মিটারের সহযোগী সেতু রয়েছে। সহযোগী সেতুর ১৭৭ মিটার বাংলাদেশে ও ২৭.৫ মিটার ভারতে পড়েছে। সংযোগ সড়কের ২৮৩ মিটার বাংলাদেশে ও ১,১৯৩ মিটার ভারতে পড়েছে।
কথাশেষ
সেতুটি নির্মাণের ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে দেশটির অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলির সাথে সংযুক্ত হয়েছে। এর আগে রাজ্যগুলি কেবলমাত্র আসাম রাজ্যের মাধ্যমে ভারতের বাকী অংশের সাথে সংযুক্ত ছিল। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের সাথে কৌশলগত সংযোগের কারণে এটিকে বহির্বিশ্বের সাথে "উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার" হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে।সেতুটি ত্রিপুরার সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে সংযুক্ত করেছে, ফলে স্থলবেষ্টিত উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলি সমুদ্রের সাথে যুক্ত হয়েছে। এর বদৌলতে বাংলাদেশ হয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতে ভারী যন্ত্রপাতি ও পণ্য পরিবহন সম্ভব হবে।
গত ৩রা ডিসেম্বর ২০২২ প্রখর রোদ উপেক্ষা করে আমি সম্পাদক মনু থেকে ফেনী সম্পাদক ও কবি বিজন বোস এবং পাবলিশার্স এন্ড বুক সেলার্স এসোশিয়েশনের সম্পাদক রসগল্পকার রাখাল মজুমদার তিনজন এক ঝটিকাসফর সারলাম।প্রখর রোদের ঝিলিক এপারওপার দেখতে দেখতে চোখ ঝলসে উঠলো। তারপরেও একটু সময় বিজন বোস ঝটপট কিছু মোবাইল ক্লিক নিলেন তারমধ্যে একটি ছবি দিলাম।ছবিটি বেশ রোদমাখা।ঝলমল করছে।রোদের ঝিলিকে এপারওপার বেশ স্পষ্ট।
০৩/১২/২০২২
ত্রিপুরার বাংলা সাহিত্য চর্চা:হাজার বছরের পরিক্রমা
কবিতার পথ পরিক্রমণ ও কী পড়ব কেন পড়ব:দীপক দাস এবং ত্রিপুরার সাহিত্য চর্চায় এক মাইল ফলক ভ্রাম্যমাণ বইমেলা :২০২২-পর্ব
গোবিন্দ ধর
কবিতার পথ পরিক্রমণ ও কী পড়ব কেন পড়ব বইটি আশা করছি পাঠকের নিকট পৌঁছে যাবে বইমেলা ও লেখকের নিজস্ব প্রচেষ্টায়।আমরা আশা করবো প্রাবন্ধিক গবেষক অশোকানন্দ রায়বর্ধন মহোদয় একটি আলোচনাও করবেন সুধী পাঠকের জন্য।
সাব্রুম শেল্টার হাউসে বইটি আমরা নিতে পারিনি এ অক্ষমতা আমার নিজের।আসলে বইটি দীপক দাস মহোদয়ের নিকটও অনেকগুলো কপি ছিলো আমার নিকটও অনেকগুলো কপি আগরতলা লিচুবাগানস্থিত ভাড়াবাড়িতে আছে।সময় মতো ট্রেন ধরতে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আমার দুটো পেকেটের একটি ফেলে চলে যাওয়ায় আমাদের ৫০০ এর উপর টাইটেলের মধ্যে অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ বই যেমন নেওয়া সম্ভব হয়নি তেমনি কবিতার পথ পরিক্রমণ ও কী পড়ব কেন পড়ব:দীপক দাস মহোদয়ের বইটিও আমাদের একদিনের ভ্রাম্যমাণ বইমেলায় রাখা সম্ভব হয়নি।পরবর্তী বইমেলাগুলোতে নিশ্চয়ই থাকবে বইটি।কিন্তু সাব্রুম শেল্টার হাউসে স্রোত প্রকাশনা আয়োজিত একদিনের ভ্রাম্যমাণ বইমেলার উদ্বোধক সাব্রুম নগর পঞ্চায়েতের ভাইস চেয়ারপার্সন কবি ও প্রাবন্ধিক দীপক দাস মহোদয়ের বইটি থাকা জরুরী ছিলো। সে অনুশোচনা রইলো।
শুক্রবার সকালে প্রথমে ৫০ কিমি যেতে হয় স্কুলে। আসলাম স্কুল থেকে ৫০ কিমি আসা। আবার অনেক বলে গৌরব ধর ও তার মা স্রোত প্রকাশনার প্রকাশক সুমিতা পাল ধরকে সাথে করে লাস্ট ট্রেনে আগরতলা রাত সাড়ে নয়টায় পৌঁছে রাতে দুটো পেকেট রেডি করে ঘুমালাম রাত ১টা।
সকালে ট্রেনে সাব্রুম যাওয়ার জন্য কত চেষ্টা চরিত্র করেও গৌরব আর ঘুম থেকে উঠলো না।
আমরা প্রায় না ঘুমিয়ে টান টান উত্তেজনায় সাব্রুম শেল্টার হাউসে স্রোত প্রকাশনা আয়োজিত এবং অশোকানন্দ রায়বর্ধন মহোদয়ের জ্যেষ্ঠপুত্রের চতুর্থ মাঙ্গলিক বৌভাত অনুষ্ঠানে একদিনের ভ্রাম্যমাণ বইমেলায় উপস্থিত থাকার জন্য প্রস্তুত।গৌরব যখন আর ঘুম থেকে উঠবেই না তখন তাড়াহুড়োয় বেরিয়ে পড়ি একা।
পড়ে থাকে দুটো পেকেটের একটি পেকেট।
যে পেকেটে তিমিরবরণ চাকমা অনুদিত চাকমা ভাষায় রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলি (যে বইটি ত্রিপুরা সরকার শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ২০১৪ প্রদান করেন) থেকে শুরু করে সুমন পাটারীর প্রথম কাব্য সংকলন মাটির জীবন,অশোকানন্দ রায়বর্ধনের ফেনী নদীর প্রত্নকথা, রণজিৎ দে মহোদয়ের ত্রিপুরার আঞ্চলিক ইতিহাস নামক এরকম দক্ষিণ ত্রিপুরার লেখকদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বই আমরা একদিনের ভ্রাম্যমাণ বইমেলায় রাখতে পারিনি।
তারপরেও উপস্থিত গুণীজনেরা কবিতা পাঠে অংশগ্রহণ করে তারাপ্রসাদ বণিক কবিতা ও সংগীত পরিবেশন করে,অশোকানন্দ রায়বর্ধন,দীপক দাস,রাখাল মজুমদার, মাধুরী লোধ, সুমন পাটারী, রাজীব মজুমদার, বিভুলাল চক্রবর্তী, রতন আচার্য,অনামিকা লস্কর ভৌমিক, মিঠু বৈদ্য সঞ্চালক কবি বিজন বোসসহ সকলের সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় স্রোত প্রকাশনা এক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রইলো।
ত্রিপুরার সকল কবি লেখকদের অপরিসীম সহযোগিতায় স্রোত প্রকাশনা সংস্থা আজ ত্রিপুরা রাজ্যের ছোট পরিসরের গন্ডী থেকে আবহমান বাংলা সাহিত্যের সকল দিগন্তে পাঠকের নিকট পরিচিতি পেয়েছে সেই কৃতিত্বের দাবীদার ত্রিপুরার লেখক কবিদের অকৃত্রিম ভালোবাসা আর প্রাণের শুভকামনায়।আমাদের বিশ্বাস পাঠক কবি সাহিত্যিকদের শুভকামনায় আমরা ত্রিপুরার সাহিত্যকে আবহমান বাংলা সাহিত্যের আঙিনায় পৌঁছে দিতে আরো সযত্নে এগিয়ে যেতে প্রয়াসী হবো।সাথে থাকুন নিরন্তর।
৪:১২:২০২২
ত্রিপুরার বাংলা সাহিত্য চর্চা:হাজার বছরের পরিক্রমা
ত্রিপুরার সাহিত্য জগতে নতুন ইতিহাস একদিনের ভ্রাম্যমাণ বইমেলা আয়োজনে স্রোত -পর্ব
গোবিন্দ ধর
৩রা ডিসেম্বর ২০২২ ত্রিপুরার সাহিত্যজগতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত সাব্রুম শেল্টার হাউসে স্রোত প্রকাশনা আয়োজিত একদিনের ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ২০২২।মেলার উদ্বোধন করেন সাব্রুম নগর পঞ্চায়েতের ভাইস চেয়ারপার্সন কবি প্রাবন্ধিক দীপক দাস মহোদয়। গৌরবোজ্জ্বল উপস্থিতি ছিলো প্রাবন্ধিক অশোকানন্দ রায়বর্ধন,কথাসাহিত্যিক মাধুরী লোধ মহোদয়া। আয়োজকের সহযোগী হিসেবে মনু থেকে ফেনী সম্পাদক কবি বিজন বোস। এছাড়াও সহযোগিতায় ছিলেন সুবোধ, বইবাড়ি ও অন্যপাঠ।
উপস্থিত ছিলেন গোবিন্দ সিং বোরা মহোদয়।উল্লেখ্য আজ প্রাবন্ধিক অশোকানন্দ রায়বর্ধন মহোদয়ের জ্যেষ্ঠ্যপুত্রের চতুর্থ মাঙ্গলিক বৌভাত উপলক্ষে স্রোত প্রকাশনার এই একদিনের ভ্রাম্যমাণ বইমেলা অনুষ্ঠিত হলো।ত্রিপুরার সাহিত্যে একদিনের ভ্রাম্যমাণ বইমেলা প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়।সুবল দত্তের দাহপ্রদাহ ও নিয়তি রায়বর্মনের বিদ্যাসাগর দুটো নতুন বই আজকের অনুষ্ঠানে আবরণ উন্মোচন করা হয়। প্রথমটির আবরণ উন্মোচন করেন পাবলির্শাাস এন্ড বুক সেলার্স এসোসিয়েশনের সম্পাদক রাখাল মজুমদার মহোদয়। দ্বিতীয় বইটির আবারণ উন্মোচন করেন দীপন দাস মহোদয়।
কবিতা পাঠে অংশগ্রহণ করেন কবি অনামিকা লস্কর ভৌমিক , মিঠু বৈদ্য,রতন আচার্য,তিমিরবরণ চাকমা,রূপন মজুমদার, সুমন পাটারী,বিভুলাল চক্রবর্তী, তারাপ্রসাদ বণিক,বিজন বোস,দীপক দাস,মাধুরী লোধ মহোদয়াসহ আরো অনেকেই। প্রথম পর্বে কথা বলেন মাননীয় উদ্বোধক দীপক দাস,রাখাল মজুমদার, মাধুরী লোধ, অশোকানন্দ রায়বর্ধন,গোবিন্দ সিং বোরা।শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন কবি ও স্রোত সম্পাদক গোবিন্দ ধর। স্রোত সম্মাননা প্রদান করা হয় কবি দীপক দাস,প্রাবন্ধিক অশোকানন্দ রায়বর্ধন,মাধুরী লোধ ও বিজন বোস মহোদয়কে।সকলের কবিতা পাঠে ঋদ্ধ হয় অনুষ্ঠান। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকেই স্রোত প্রকাশনার বই উপহার দেওয়া হয়।বিবাহের বৌভাত উপলক্ষে এধরণের ভ্রাম্যমান বইমেলার অনুষ্ঠানটি ঋদ্ধ হয়ে ওঠে।উপস্থিত সকল কবিসাহিত্যিকেরাই সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রক্তদানসহ অন্যান্য বহুমাত্রিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হতে দেখলেও বৌভাতের অনুষ্ঠানে বইমেলার আয়োজন প্রথমবার অনুষ্ঠিত হয়। যদিও প্রাচীন কাল থেকে বিবাহ অনুষ্ঠানে বই উপহার দেওয়া হতো।এখন সেই প্রথা বিলুপ্ত কিন্তু বইমেলা রাজ্য তথা সারা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে স্রোর প্রকাশনা আয়োজিত ভ্রাম্যমাণ বইমেলা অনুষ্ঠিত হয় প্রথমবার। কবি সাহিত্যিকেরা বই ক্রয় করে ভ্রাম্যমাণ বইমেলাকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিলেন বলে কবি ও প্রাবন্ধিক দীপক দাস মহোদয় সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
0 Comments