ক্যারন ভূটান সীমান্তে ভারতের বিচিত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

গোবিন্দ ধর

ভূটান সীমান্তে ভারতের ক্যারন গ্রাম।এখানে অসুর জাতি বাস করেন।ভারতে প্রায় ২২হাজার অসুর জনজাতির বসবাস।পশ্চিমবঙ্গ সরকর তাদের তপশীলি উপজাতি গোষ্ঠী ভুক্ত করেছেন।এখানে আমরা গত ২২মে ২০১৮ এক রাত যাপন করি।তাদের ভাষা সাঁত্রী।কেউ কেউ অসুর ভাষাও বলেন।তাদের দাবী তাদের নিজস্ব লিপিও আছে।
এই ভাষায় জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে কিছু অনুবাদ কর্মের চিহ্ন আছে।তাদের নিজস্ব লিপির একটি ছবিও আমরা নিলাম।
এই ভাষায় কাজ করছেন কবি অলোকসুন্দর সরকার।তিনিই আমাদের ভূটান সীমান্তের সৌন্দর্যরূপ উপভোগ করার সুযোগ করে দেন।
এই সীমান্ত ক্যারনেও সাঁত্রী ভাষায় কবিতা চর্চা হয়।ক্যারনের প্রকৃতি অপরূপ।ডুয়ার্স অঞ্চলের সৌন্দর্য পৃথিবীর মায়া।

পরিচিত হলাম দারা অসুর সহ মাস্টারজি জগন্নাথ সিং রাজপুতের সাথে।তাদের সরলতা মুগ্ধ হওয়ার মতো।
একটি স্কুলও আছে গ্রামে।
হিন্দি ভাষায় ক্লাস হয়।তাদের দাবী অসুর স্ক্রীপ্ট চালু করতে হবে।তাদের দাবী সরকারকেও জানিয়েছেন জগন্নাথজি।
এখানেই এই জাতির দ্বারা আমরা সম্মানিত হই ২২মে।
অলোকসুন্দর সরকার ছোট থেকে বড় সবার কাছেই পরিচিত। তিনি তিরিশ বছর থেকে অসুর জাতির জন্য সামাজিক উন্নতির সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
কবিতা পাঠ আলোচনা ও সম্মাননা পর্ব শেষ হলো রাত নয়টা তিরিশে।
তারপর রাতে অসুর জাতির হাতের রান্না ডালপনির সবজি ভাত খেয়ে স্কুলেই রাত্রিবাস আমাদের।
জগন্নাথজি মেট্রেস আনিয়ে বিছানা করে দিলেন।
রাতে ঘুম হলো।সারাদিন জার্নিতে ক্লান্ত শরীর।বিছানায় পড়তেই গোপালদার কী বিকট নাকডাক।আমাদের ঘুমে অনেকটা বিঘ্ন ঘটায়।
অশোকদার ঘুৃম মোটামুটি ভালোই হলো।
সকালে অঝোর বৃষ্টি।সকালের নাস্তা জগন্নাথ জির বাসায়।আমরা বেরুতে পারছি না।তিনি ছাতা পাঠালেন।আমরা উনার বাসায় গেলাম।পরাটা ঘুঘনিতে টিপিন খাসা হলো।
তারপর আবার স্কুলে এলাম।
জগন্নাথজির কাছে ইন্দিরা গান্ধীর স্বহাতে লেখা চিঠিও আছে।
আমরা এই মনোরম প্রকৃতির মায়া কাটিয়ে বেরুতে চাইছিলাম না।তবুও বেরুতে হলো। পরবর্তী যাত্রার কথা ভেবে  বেরিয়ে পড়ি।

৩০:০৫:২০১৮
সন্ধ্যা:৬:১০মি
লোয়ারপোয়া।