গোবিন্দ ধরকে লেখা চিঠি
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: শুভেচ্ছা
প্রতি
সম্পাদক
ত্রিপুরা প্রকাশনা মঞ্চ
আগরতলা, ত্রিপুরা
১৪ নভেম্বর থেকে পাঁচ দিনের যে লিটল ম্যাগাজিন প্রদর্শনী ও গ্রন্থমেলার আয়োজন করা হয়েছে তাতে উপস্হিত থাকতে পারলে ভালো লাগতো। কিন্তু বয়সের কারণে আর বিশেষ হাঁটাচলা করতে পারি না । ছেলে-মেয়ের কাছেও যাওয়া হয় না । ত্রিপুরায় কখনও যাইনি বলে আরো বেশি ইচ্ছে ছিল যাবার । আমাদের বন্ধু প্রয়াত কবি প্রদীপ চৌধুরী ত্রিপুরার মানুষ । উনি বলেছিলেন সঙ্গে যেতে, কোনও অসুবিধা হবে না । তখন আমার আচমকা হৃদরোগের জন্য যেতে পারিনি । আমি তো লিটল ম্যাগাজিনেই লিখি । বস্তুত লেখা আরম্ভ করেছিলুম লিফলেটে, যা লিটলের চেয়েও ক্ষুদ্র। আমার বইপত্রও লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক-প্রকাশকরা বের করেছেন । এককালে নিজেই নিজের পত্রিকা আর বই ছাপাতুম । এখন তরুণ লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক-প্রকাশকরা আমাকে লেখকের মান্যতা দিয়ে বই প্রকাশ করেন, আমার গল্প, উপন্যাস, কবিতা ছাপেন । লিটল ম্যাগাজিনে যে দলাদলি হতো তাও ইনটারনেটের ব্লগিজিনের কারণে বিদায় হয়েছে । আমরা সবাই একজুট হতে পেরেছি । বুড়ো বয়সে পৌঁছে এর চেয়ে বেশি আনন্দের আর কীই বা থাকতে পারে !
আমি চাই এই লিটল ম্যাগাজিন প্রদর্শনী আর গ্রন্থমেলা সফল হোক । পরস্পরের কাজ সম্পর্কে অবহিত হবার এরকম সুযোগ সহজে পাওয়া যায় না । কবিতার আবৃত্তি, সেমিনার, প্রচ্ছদ নিয়ে আলোচনা সম্পাদক-প্রকাশক ও কবি-লেখকদের নতুন করে ভাবতে উৎসাহ যোগাবে । আমি নিশ্চিত যে এই আয়োজন একটা উৎসবের রূপ নেবে । আসলে, আমরা যারা সারা জীবন লিটল ম্যাগাজিনে লিখলুম, লিটল প্রকাশকরা আমাদের বই প্রকাশ করলেন এবং বিভিন্ন মেলায় অংশ নিয়ে নতুন পাঠকদের কাছে বই পৌঁছে দিচ্ছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই হয় । উৎসব মানেই তো পরস্পরের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ আর আনন্দিত-আহ্লাদিত হওয়া ।
গোবিন্দ ধর মশায়কে বিশেষ করে ধন্যবাদ, কেননা আমি থাকি মুম্বাইতে এবং উনি আমার মতন নগণ্য এক লেখককে গুরুত্ব দিয়েছেন, ডাক দিয়েছেন এই উৎসবে ইনটারনেটের মাধ্যমে অংশ নিতে । এই সুযোগে বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকা ও ত্রিপুরা প্রকাশনা মঞ্চ নামক সংগঠনকেও স্যালুট জানাই তাঁদের উদ্যোগ ও পরিশ্রমের জন্য । সবাই ভালো থাকবেন । সাবধানে থাকবেন ।
মলয় রায়চৌধুরী
মুম্বাই
১৮-০৯-২০২১
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: ড্রাফট
প্রতি
সম্পাদক
ত্রিপুরা প্রকাশনা মঞ্চ
আগরতলা, ত্রিপুরা
সম্প্রতি ত্রিপুরা প্রকাশনা মঞ্চ আয়োজন করবেন "লিটল ম্যাগাজিন প্রদর্শনী ও গ্রন্থমেলা :২০২১ আাগামী ১৪ থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিন ধরে চলবে এই মেলা।এই সংবাদ জেনে আমরা আনন্দ অনুভব করছি।
দীর্ঘ কোভিডকালের বন্দী দুঃসময়ের দিন অতিবাহিত করিতেছি পৃথিবীব্যাপি সকল মানুষ। শিশু কিশোর থেকে সৃজনশীল কবি সাহিত্যিকরাও এতে টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে চলেছেন।
এই আবহেও সৃজনশীল" লিটল ম্যাগাজিন প্রদর্শনী ও গ্রন্থমেলা"র আয়োজনে মনন ও মেধাচর্চার বিকাশে দারুণভাবে সহায়তা করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।ত্রিপুরা প্রকাশনা মঞ্চ আমাকেও আমন্ত্রণ করেছেন এতে অংশগ্রহণ করার আমন্ত্রণ আমাকে দারুণভাবে আনন্দিত করেছে।ত্রিপুরা আমার প্রিয় রাজ্য।আগরতলা আসার সুযোগ পেয়ে প্রিয় মানুষদের সাথে দেখা হওয়ার সুযোগ পাবো এ আনন্দে আমি খুশিও হয়েছি।
মেলা সফল হোক।
শুভ কামনা রইলো।
ধন্যবাদান্তে
পবিত্র সরকার
কলকাতা,পশ্চিমবঙ্গ
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: শুভেচ্ছা বার্তা
বর্ষ শেষে একমাস আগে এক মাস বলবো না দেড় মাস আগে নভেম্বরের মাঝামাঝি ১৪ই নভেম্বর ত্রিপুরা প্রকাশনা মঞ্চ নামে একটি সংস্থা যার উদ্যোগতা স্রোত প্রকাশনার কর্ণধার গোবিন্দ ধর ও তার সহযোগী প্রকাশনা সংস্থাদের নিয়ে উদযাপিত করতে চাইছে এই আগরতলারই স্টুডেন্ট হেলথ হোমে লিটল ম্যাগাজিন প্রদর্শনী ও গ্রন্থমেলা :২০২১।তো এই যে উদ্যোগটা এখনকার এই সময়ে যেখানে একটা বিচ্ছিন্নতা কাজ করছে আরোপিত বিচ্ছিন্নতা আমি বলবো।কারণ এটাকে আর প্রাণজ্জ্বল করার দরকার নেই।লেখকরা এমনিতেই আপাত বিচ্ছিন্ন কিন্তু এই সময়টা আরো বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এই বিচ্ছিন্নতা থেকে শিল্পের জন্ম গ্রহণ করা খুবই কঠিন। একে অপরের সঙ্গে যদি সম্পৃক্ত না থাকে তাহলে লেখালেখির জগতে এইটি মানুষকে সঙ্কীর্ণতার দিকে নিয়ে যায়। হয়তো বা এজন্য মোবাইলের যুগে হয়তো অনেক লেখালেখি হচ্ছে। ছোটো- ছোটো অনেক লেখা হচ্ছে। মোবাইলে বড় লেখা কম খুবই দেখেছি।তো এই সময়টাকে নিয়ে যে ত্রিপুরা প্রকাশনা মঞ্চ যে উদ্দ্যোগ নিতে যাচ্ছে তাতে শিল্পীদের মধ্যে একটা সাক্ষাতের মাধ্যমে মেল বন্ধন করে উঠতে পারে। একটা কথা এখানে বলতে হয়- আজকে নয় সে অনেক আগে থেকেই লেখালেখির জগতটা কেমন জানি একটা সম্পর্ক কীরকম জটিল তাদের নিয়ে সোয়রাণী দুয়োরাণী এরকম গল্প বলা যায়।আমি যেটা ব্যক্তিগতভাবে মনে করি বইমেলা হবে কিনা গত বছর হয়েছিল সে মেলা তো মনে হয়েছে সে একটা শূন্যের উপর গড়ে উঠেছে। আমার ঐ মেলা ভালো লাগেনি।তো স্টুডেন্ট হেলথ হোম এর পরিসর বইমেলার উপযুক্ত নয়।তবুও ত্রিপুরা প্রকাশনা মঞ্চ আয়োজন করেছে পাঁচদিনের এই লিটল ম্যাগাজিন প্রদর্শনী ও গ্রন্থমেলা :২০২১। আমি ব্যক্তিগত ভাবে চাই এই মেলা সার্থক হয়ে উঠুক। আমার শুভেচ্ছা রইলো।
মানস দেববর্মন
কথাসাহিত্যিক
আগরতলা।
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: গোবিন্দ ধর-কে লেখা চিঠি :১
প্রিয় সম্পাদক ও প্রকাশক
গোবিন্দ ধর মহোদয়,
আপনার কাছে প্রত্যাশা অনেক।যার কাছে প্রত্যাশা থাকেনা-তার চাহিদা থাকেনা।আবার যার কাছে প্রাপ্তি নেই-তার চাহিদা নেই।তাই যথাসাধ্য কল্পতরু হয়ে থাকা, পথ প্রদর্শক হয়ে থাকার প্রচেষ্টায় থাকা জরূরী। আর আপনি তাই করছেন, করছেন সারাজীবন।
আপনি সফল সম্পাদক ও সফল প্রকাশক।
নতুন নতূন কবি, সাহিত্যিকদের সান্নিধ্যে এসে,আন্তরিকভাবে ওদের তুলে আনার কাজ ,ওদের বই প্রকাশের কাজ যেভাবে করে চলেছেন,তা আপনাকেও আরো করে যেতে হবে।এ প্রত্যাশা সবার থাকবে।
আপনি সারাবছর সক্রিয় থাকেন,মৌসুমী বায়ুর অপেক্ষায় থাকেন না।এটা আপনার কর্মদক্ষতার পরিচয় বহন করে। অবিরাম নানা উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন ও পালন করা সহজ কথা নয়।এসব চালিয়ে যাবার প্রত্যাশা সবার থাকবে।
সারাজীবন টিকে থাকার কঠিন সংগ্রামের অভিজ্ঞতা আপনার ঝুলিতে--সেসব বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করে রাখা জরুরী--এতে আগামী প্রজন্ম অনেক কিছু শিখবে, জানবে।এসব লিখে প্রকাশ করুন--এ প্রত্যাশা রইলো।
থেমে যাওয়া হলো সংকোচন,আর তৎপর থাকা হলো প্রসারণ।তাই সকলের প্রত্যাশা আপনি সচল থাকুন,নিরলস থাকুন।আপনার এতো এতো কর্মকান্ডে যারা অংশগ্রহণ করে--তারাও আপনার সাথে সাথে সক্রিয় থাকে,জীবন্ত থাকে। বেঁচে থাকতে হলে সচল থাকতে হবে, সাইনবোর্ড সর্বস্ব হলে হবে না।ক্যারিকেচার কৃত্তিমতা ধরা পরে যায়।সকলের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন,সকলে আপনাকে আপন ভাবুক।
এক প্রত্যাশা পূরণ হলে নতুন প্রত্যাশা জাগবে এবং আপনাকে চেতন রাখবে। নুনের মতো সকলের প্রয়োজনে থাকুন,হলুদের মতো সকলের আয়োজনে থাকুন।সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে কবি সাহিত্যিকদের চুম্বকের মতো আকর্ষণ করুন এবং তাঁদের সৃষ্টি সুখের উল্লাসে সামিল হোন। দীর্ঘজীবন লাভ করুন।
ইতি
কৃষ্ণকুসুম পাল।
সাধারণ সচিব।
বাংলা আকাদেমি।ত্রিপুরা।
১২ জানুয়ারি ২০২২
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: প্রতি
নির্মলেন্দু গুণ,কবি
বাংলাদেশ
মহাশয়
আপনার বই পত্র চাই।আমার লাইব্রেরিতে
নির্মলেন্দু গুণ কর্ণার করতে চাই।
সুতরাং সব বই আপনি পাঠানোর ব্যবস্থা করুন প্লীজ পাঠানোর ব্যবস্থা করুন।
আমাদের সংরক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানোর ঠিকানা
গোবিন্দ ধর
উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন পুঁথি পত্র পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র
হালাইমুড়া, কুমারঘাট, ঊনকোটি,ত্রিপুরা, ৭৯৯২৬৪
ফোন:৮৭৮৭৪৩৭৫৫৯
নির্মলেন্দু গুণের উত্তর
স্নেহের গোবিন্দ ধর
কুমারঘাট
ত্রিপুরা
আমার ১১০ টার মতো বই আছে বলে আমার প্রকাশকদের কাছে শুনেছি। এর খুব সামান্যই আমার সংগ্রহে আছে।
বই এবং ব্যাঙের মধ্যে একটা চমৎকার মিল আছে। কোনোটাকেই পাল্লায় তুলে পরিমাপ করা যায় না। না ওজনে, না সংখ্যায়। একটা পাল্লায় তুললে আরেকটা পাল্লা থেকে লাফিয়ে পড়ে।
উদ্যোগ নিয়েও আমি তো আমার সবগুলো বই আমি একত্রিত করে দেখতে পারিনি।
শেষে বিকল্প পথে রচনাবলি প্রকাশের পথ ধরেছিলাম-- দশ খন্ড প্রকাশের পরও বেশকিছু অগ্রন্থিত লেখা এবং গ্রন্থ রআনাবলির বাইরে পাওয়া যাচ্ছে। এবারের বই মেলায় আমার রচনাবলির আরও দুটিছবি খন্ত প্রকাশের পথে রয়েছে। নিজের রচনাকে একত্রে দেখতে পাওয়ার এ-এক চমৎকার ব্যবস্থা।
তোমার পাঠাগারে আমার নামে একটি কর্ণার যদি করতে চাও, আমি তো খুশিই হবো।
কিন্তু তুমি কৈয়ের তেল দিয়ে কৈ ভাজতে চাও যদি-- তবে তা হবার নয়। হওয়া উচিতই নয়।
একটা মধ্যপন্থা অবলম্বন করা যেতে পারে, যাতে তোমার এবং আমার -- উভয়েরই সম্মান বাঁচে। তুমি আমার রচনাবলির ৫ খন্ড কিনো, আমি ৫ খন্ড তোমাকে উপহার দিই। ব্যাস, কবি নির্মলেন্দু গুণ কর্নার কমপ্লিট।
রাজী থাকলে যোগাযোগ করো, না থাকলে সময় নষ্ট করো না।
সময় তো কিনতে পাওয়া যায় না। না আগরতলায় না ঢাকায়।
নির্মলেন্দু গুণ
ঢাকা,বাংলাদেশ।
১৬:০১:২০২২
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: প্রতি
গোবিন্দ ধর
কুমারঘাট
বিষয়:♥♥♥♥♥♥♥♥
কবি নির্মলেন্দু গুণ কর্নার
♥♥♥♥♥♥♥♥
আমার ১১০ টার মতো বই আছে বলে আমার প্রকাশকদের কাছে শুনেছি। এর খুব সামান্যই আমার সংগ্রহে আছে।
বই এবং ব্যাঙের মধ্যে একটা চমৎকার মিল আছে। কোনোটাকেই পাল্লায় তুলে পরিমাপ করা যায় না। না ওজনে, না সংখ্যায়। একটা পাল্লায় তুললে আরেকটা পাল্লা থেকে লাফিয়ে পড়ে।
উদ্যোগ নিয়েও আমি আমার সবগুলো বই একত্রিত করে দেখতে পারিনি।
আরবের শেখরা তাঁদের সন্তান শতককে কীভাবে একসঙ্গে দেখেন, আদৌ দেখতে পান কি-না, জানি না। আমি আদার ব্যাপারী জাহাজের খবর নিয়ে লাভ কী?
শেষে বিকল্প পথে আশা পূরণের জন্য রচনাবলি প্রকাশের পথ ধরি। দশ খন্ড ( প্রতি খন্ড ৫৬০ পৃ.) প্রকাশের পরও বেশকিছু অগ্রন্থিত লেখা এবং গ্রন্থ রচনাবলির বাইরে পাওয়া যেতে থাকলো। আমি বিরক্ত বোধ করলাম।
একবার শুরু যখন করেছি, শেষ করতেই হবে। আমার ভাগ্য ভালো যে আমার প্রকাশকও এই নীতিতে বিশ্বাসী, মানে আস্তিক। আমার বই নিয়ে তাঁর আলাদা অনুভূতি। আমার বই বিক্রি না হলেও তার কোনোই আপত্তি নেই।
আজ না হোক কাল হবে, কাল না হোক পরশু হবে, পরশু না হোক তরশু হবে।
তরুশর পর কী? তা আমিও জানি না। আমার প্রকাশকও জানেন না। "নিশিদিন ভরসা রাখিস, ওরে মন হবেই হবে।" রবীন্দ্রনাথের এই গানটাই তার জাতীয় সঙ্গীত।
নিজের বলেই শতাধিক বইয়ের নাম স্মরণে রাখাটা কোনো ভদ্রলোকের কাজ বলে মনে করি না।
এবারের বই মেলায় আমার রচনাবলির আরও দুটি খন্ড প্রকাশের পথে রয়েছে। রচনাবলি-- আহ কী চমৎকার একটা ব্যবস্থা আমার পূর্বজ কবি সাহিত্যিকরা সব করে রেখে গেছেন। এখন আমাহেন সামান্যরাও রচনাবলি প্রকাশের সেই সুযোগ গ্রহণ করতে পারছে। নিজের রচনাকে একত্রে দেখতে পাওয়ার এ-এক চমৎকার ব্যবস্থা। এর চেয়ে ভালো ব্যবস্থা আর হতেই পারে না। ধন্যবাদ রচনাবলি। তুমি বেঁচে থাকো। তুমি বিক্রি না হও।
এবার কাজের কথায় আসি। তোমার পাঠাগারে আমার নামে একটি কর্ণার যদি করতেই চাও, আমি তো খুশিই হবো।
কিন্তু তুমি কৈয়ের তেল দিয়ে কৈ ভাজতে চাও যদি-- তবে তা হবার নয়। হওয়া উচিতই নয়।
একটা মধ্যপন্থা অবলম্বন করা যেতে পারে, যাতে তোমার এবং আমার -- উভয়েরই সম্মান বাঁচে।
তুমি আমার রচনাবলির ৫ খন্ড কিনো, আমি ৫ খন্ড তোমাকে উপহার দিই। ব্যাস, কবি নির্মলেন্দু গুণ কর্নার কমপ্লিট।
রাজী থাকলে যোগাযোগ করো, না থাকলে সময় নষ্ট করো না।
সময় তো কিনতে পাওয়া যায় না। না আগরতলায়, না ঢাকায়।
নির্মলেন্দু গুণ
ঢাকা,বাংলাদেশ
♥♥♥♥♥♥♥
১৬ জানুরায়ী ২০২২।
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন:আমাদের অহংকার
গোবিন্দ ধর
কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৪জুন ১৯৪৭।রাজশাহী শহরে।পৈতৃক নিবাস বর্তমান লক্ষীপুর জেলার গাজীরপাড়া গ্রাম।পিতা এ কে মোশাররফ হোসেন রাজশাহী রেশমশিল্প কর্পোরেশন -এর পরুচালক ছিলেন।
সেলিনা হোসেনের লেখার জগৎ বাংলাদেশের মানুষ, তার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। বেশ কয়েকটি উপন্যাসে বাংলার লোক-পূরাণের উজ্জ্বল চরিত্রসমুহকে নতুনভাবে তুলে আনেন।তাঁর উপন্যাসে প্রতিফলিত হয় সমকালের সামাজিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব -সংকটের সামগ্রিকতা।বাঙালির অহঙ্কার ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযোদ্ধের প্রসঙ্গ তাঁর লেখায় নতুন মাত্রা অর্জন করে।জীবনের গভীর উপলব্ধির প্রকাশকে তিনি শুধু কঢথাসাহিত্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেন না, শানিত ও শক্তিশালী গদ্যের নির্মানে প্রবন্ধের আকারেও উপস্থাপন করেন।নির্ভীক তাঁর কন্ঠ-কথাসাহিত্য,প্রবন্ধ এবং ছোট গল্পও।
১৯৬৪ সালে রাজশাহীতে উচ্চামাধ্যমিক পড়ার সময় বিভাগীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নশিপ স্বর্গপদক পান।১৯৬৯ সালে প্রবন্ধের জন্য পান ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক।১৯৮০ সালে উপন্যাসের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার,১৯৮১সালে "মগ্নচৈতন্যে শিস"উপন্যাসের জন্য আলাওল পুরস্কার, ১৯৮২ সালে অগ্রনী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার, ১৯৮৭ সালে "পোকামাকড়ের ঘরবসতি"উপন্যাসের জন্য কমর মশতরী পুরস্কার, ১৯৯৪ সালে "অনন্য " ও "অলক্ত"পুরস্কার, ১৯৯৮ সালে জেবুড্রেসা ও মহবুবুল্লাহ ইন্সটিটিউট প্রদত্ত সাহিত্য পুরস্কার ও স্বর্ণ পদক সাহিত্য সাধনায় স্বীকৃতি।এছাড়া ১৯৯৪-৯৫ সালে তিনি ত্রয়ী উপন্যাস "গায়ত্রী সন্ধ্যা "রচনার জন্য ফোর্ড ফাউন্ডেশন ফেলোশিপ পেয়েছিলেন।২০০৬ সালে লাভ করেন দক্ষিণ এশিয়ার সাহিত্যে রামকৃষ্ণ জয়দয়াল হারমোনি অ্যাওয়ার্ডস, দিল্লি।
২০০৯ সালে পেয়েছেন একুশে পদক এবং ২০১০ সালে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা থেকে ডক্টর অব্ লিটারেচার (Honoris Causa)ডিগ্রি লাভ করেন।একই বছর গায়ত্রী সন্ধ্যা উপন্যাসের জন্য ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানিং এ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট প্রবর্তিত রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার লাভ করেন।সাহিত্য অকাদেমী, দিল্লি থেকে ২০১১সালে প্রেমচাঁদ ফেলোশিপ লাভ করেন।
ইংরেজি, হিন্দি, মারাঠি, কন্নড়, রুশ,ফরাসি, ফিনিস,পানিেরিয়ান,উর্দু,মালায়লাম,আরবি প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়েছে তাঁর গল্প,উপন্যাস।
পশ্চিম বঙ্গের রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর "যাপিত জীবন"এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে "নিরুত্তর ঘন্টাধ্বনি"উপন্যাসব পাঠ্যসূচীভুক্ত।
২০১৭সালে স্রোত উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় কথাসাহিত্যি উৎসবে তিনি ছিলেন প্রধান অতিথি। তাঁকে স্রোত সাহিত্য সম্মানে সম্মানিত করা হয়।
তিনি ২০১৮ ডি লিট উপাধিতে ভূষিত হোন।
ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও শুভেচ্ছা কথা
-----------------------
তাঁকে উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় কথাসাহিত্য উৎসব:২০১৭ এর অতিথি হিসেবে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ করতে তাঁর শ্যামলীস্থিত বাসায় যাই।তিনি সাড়া দিয়ে আমার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন।এসম্পর্কে তাঁর অনুভব তিনি কিখিত ভাবে আমাকে জানিয়েছিলেন।তাঁর অনুভবই আমি হুবহু তুলে দিলে দিলাম:
"ভারতের ত্রিপুরার কবি গোবিন্দ ধরের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয় ২০১৭ সালের ১০ই এপ্রিল। আমার ডাইরি থেকে তারিখটি পাই।সেদিন গোবিন্দ ধর শ্যামলীর বাসায় এসেছিল।সঙ্গে ছিল ত্রিপুরার আরো একজন কবি অভীককুমার দে আর চট্টগ্রামের আবৃত্তি শিল্পী প্রবীর পাল।ঘরোয়া পরিবেশে জমে উঠেছিলো আড্ডা।সঙ্গত কারণেই আড্ডার জোয়ার ছিলো মাতৃভাষার টানে।দেশ ভিন্ন হলেও ভাষা এক।একই ভাষার শিল্প সাহিত্যের টানে জমে উঠেছিল প্রাণের উচ্ছাস।
কবি গোবিন্দ ধরের সাহিত্যপত্র ও প্রকাশনা সংস্থার নাম 'স্রোত'।এই সংগঠনের পক্ষে ওরা একটি সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করবে।আমাকে নিমন্ত্রণ করার জন্য ওরা এসছে।সব সময় ফোনে বা ইমেলে নিমন্ত্রণ পাই।গোবিন্দ ধর নিজে আমার বাড়িতে এসেছে।খুবই ভালোলাগলো।সাহিত্য সম্মেলন আমার লেখক সত্ত্বার টান।অস্থিত্বের অংশ বলে মনে করি।সঙ্গে সঙ্গে যাবো বলে কথা দিলাম।ওরা আমাকে প্রণাম করলো।
স্রোত আয়োজিত কথা সাহিত্য উৎসব:২০১৭
১১ই জুন:২০১৭
রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন,আগরতলা।
বিকেল:৩টা -রাত:৯টা।
জুন মাসের ১০ তারিখ আমি আনোয়ার এবং কথাসাহিত্যিক নূরুদ্দিন জাহাঙ্গীর একসঙ্গে ট্রেনে করে আগরতলার উদ্দেশ্যে যাত্রা করি।লেখক জাহাঙ্গীরের সঙ্গে আমার প্রথমে দেখা হয় টেকনাফে।সেই সময়ে টেকনাফে আমার,"পোকা মাকড়ের ঘরবসতি"উপন্যাসের "সিনেমা সুটিং" হচ্ছিল।চলচ্চিত্র পরিচালক আখতারুজ্জামান সরকারি অনুদানে সিনেমা বানাচ্ছিলেনন।শিল্পী ছিলেন কবিতা,আলমগীর,খালেদ খানসহ অনেকে।তাঁরা আমাকে সুটিং দেখার জন্য টেকনাফে নিয়ে গেছিলেন। লেখক জাহাঙ্গীর তখন সরকারি চাকুরি সূত্রে টেকনাফে দায়িত্ব পালন করছিলেন।তিনি ছিলেন সহকারী কমিশনার,ভূমি।সময় তখন ১৯৯৬সালের মাঝামাঝি। তিনি তখন টেকনাফের রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প নয়াপাড়া দেখাশোনা করতেন।রোহিঙ্গাদের উদ্বাস্তু হয়ে বাংলাদেশে আসার খবর তখন ঢাকায় বসে দৈনিক পত্রিকায় পড়তাম।ইচ্ছা ছিল রোহিঙ্গাদের শরনার্থী জীবন নিয়ে একটি উপন্যাস।
""প্রতি
গোবিন্দ ধর
সম্পাদক
ও
ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন গিল্ড-এর সদস্য সদস্যাবৃন্দ
আমি জেনে আনন্দিত, ত্রিপুরায় প্রথমবারের মতো লিটল ম্যাগাজিন উৎসব:২০১৮ কুমারঘাটে আগামী ২৩:০৯:২০১৮ সকাল ০৯টা থেকে বিকেল ০৫টা পর্যন্ত সারাদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে।
ত্রিপুরার মহকুমা শহর কুমারঘাট। এখানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কবি ও সম্পাদক গোবিন্দ ধরের মাধ্যমে আমি সম্যক জানি।এখানে দেও নদী প্রবাহিত।এই দেওনদীকে নিয়ে পদ্মশ্রী মজুমদার কবিতা লিখেছে।তার বই "দেও"।গোবিন্দের পত্নী কথাকার পদ্মশ্রী মজুমদার।পদ্মশ্রী এই দেওনদীকে নিয়ে একটি উপন্যাসও লিখেছে।উপন্যাসের নাম"দেওনদীর জল"।ইদানিং গোবিন্দ ধরও লিখেছে "দেওনদীসমগ্র"কবিতা সংকলন।একটি কবিতার সিডিও পদ্মশ্রীর"দেও"চট্টগ্রামের আবৃত্তি শিল্পী প্রবীর পাল করেছে।সব মিলে কুমারঘাট আমার এক স্বপ্নের জায়গা।
শুনেছি কুমারঘাট ঊনকোটি জেলায় অবস্থিত। ঊনকোটির শৈব ভাস্কর্য প্রকৃতির কোলে এক অপরূপ সৌন্দর্যে ভ্রমণ পিয়াসী মানুষের কাছে অপূর্ব জায়গা।
সে জন্যও কুমারঘাটের প্রতি আমার টান অনুভব হয়।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এবার যোগ হলো কুমারঘাটে "ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন উৎসব:২০১৮"।
শুনেছি কুমারঘাটে গোবিন্দ ধর "স্রোত" থেকে পর পর চারবার "কুমারঘাট উৎসব পালন করে এই অঞ্চলের সাহিত্যে হইচই করে দিয়েছে।এবার আরো এক ধাপ এগিয়ে লিটল ম্যাগাজিন উৎসব উদযাপন সাহিত্য প্রেমিক হিসেবে আমাকেও মুগ্ধ করেছে।
লিটল ম্যাগাজিন সাহিত্যের বাতিঘর।
এই উৎসবে আমি আমন্ত্রিত থেকেও আসতে পারিনি।আমি নিজে এই সময় খুব ব্যস্ত। পাশাপাশি শরীরও বয়সের ভারে কিছুটা ক্লান্ত।
আবার দিল্লী যাওয়ারও আমন্ত্রণ আছে।সব মিলে লিটল ম্যাগাজিনের তরফে কোন আমন্ত্রণে আসতে না পারার বেদনা আমাকে যন্ত্রণা দেয়।
আমি গোবিন্দের মাধ্যমে জেনেছি এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কুমারঘাট থেকে বিশ(২০)টি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশিত হবে।প্রকাশিত হবে,"লিটল ম্যাগাজিন বার্তা"ও।
আমি সশরীরে উপস্থিত হতে পারিনি।এই অনুষ্ঠানের শুভ কামনা করি।অনুষ্ঠানের সাথে যুক্ত সকল লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক ও সহযোদ্ধাদের প্রতি আমার প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানাই।
ইতি
সেলিনা হোসেন।
শ্যামলী,ঢাকা,বাংলাদেশ।
২২:০৮:২০১৮""
২নং চিঠি
প্রতি
গোবিন্দ ধর
হালাইমুড়া, কুমারঘাট
"শুভ অপরাহ্ন। শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাই মঞ্চ ও মিলনায়তনে উপস্থিত সুধীবৃন্দকে। এমন একটি অনুষ্ঠানে আসার প্রস্তুতি নিয়েও আসতে পারলাম না। মন খারাপ হয়েছে বললে শুধুই বলা হবে। কষ্টদায়ক অনুভবকে শান্ত করা যাবে না।
‘স্রোত’ পঁচিশ বছরের জন্মদিনে পৌঁছেছে। এখন ‘স্রোত’ শুধু সাহিত্য পত্রিকা নয়, শিল্প-সাহিত্যের ঠিকানা হিসেবে নিজের গৌরব অর্জন করেছে। দীর্ঘ পঁচিশের পথযাত্রায় উত্থান পতন চড়াই উৎরাই অতিক্রম করেছে। আমি এই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে যাওয়াকে আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা জানাই। অভিনন্দিত করি।
আমার ভিসা থাকা সত্বেও ২৫ শে মে ত্রিপুরায় স্রোতের এই গৌরবময় রজতজয়ন্তী প্রকাশনা উৎসবে আসতে পারিনি। বয়স হয়েছে। একা দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া আমার শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে অসুবিধাজনক। সঙ্গী ছিলো তরুণ গবেষক অপূর্ব শর্মা। শেষ মুহূর্তের চেষ্টা থাকা সত্বেও তার ভিসা পাওয়া হলো না। তাই এরকম এক আবেগঘণ অনুষ্ঠানে আসতে পারলাম না।
স্রোত এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কথাসাহিত্যিক শ্যামল বৈদ্যকে দক্ষিণারঞ্জন ধর স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করবে।বই প্রদর্শনী, শ্রোতাদেরকে বই প্রদান, বই প্রকাশসহ স্রোত সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিবার চল্লিশের উপর শাখার সভাপতি ও সম্পাদকদের সম্মাননা স্নারক তুলে দেওয়ার মতো নানা কর্মকান্ডের এই আয়োজন সফল হবে এই বিশ্বাস আমার আছে। কথাসাহিত্যিক শ্যামল বৈদ্যকে অভিনন্দন জানাই।"
এরকমই না আসতে পারায় তিনি অকপটে স্বীকার করেন ও আমাকে তাঁর অকমপন স্নেহমাখা ওরশ জানান।
পরিশেষে বলি ‘স্রোত’ আমাকে নিয়ে এক
ইতি
সেলিনা হোসেন।
শ্যামলী,ঢাকা,বাংলাদেশ।
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: গোবিন্দ ধর-কে লেখা কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এর দুটো চিঠি
১নং চিঠি
প্রতি
গোবিন্দ ধর
সম্পাদক
ও
ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন গিল্ড-এর সদস্য সদস্যাবৃন্দ
আমি জেনে আনন্দিত, ত্রিপুরায় প্রথমবারের মতো লিটল ম্যাগাজিন উৎসব:২০১৮ কুমারঘাটে আগামী ২৩:০৯:২০১৮ সকাল ০৯টা থেকে বিকেল ০৫টা পর্যন্ত সারাদিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে।
ত্রিপুরার মহকুমা শহর কুমারঘাট। এখানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কবি ও সম্পাদক গোবিন্দ ধরের মাধ্যমে আমি সম্যক জানি।এখানে দেও নদী প্রবাহিত।এই দেওনদীকে নিয়ে পদ্মশ্রী মজুমদার কবিতা লিখেছে।তার বই "দেও"।গোবিন্দের পত্নী কথাকার পদ্মশ্রী মজুমদার।পদ্মশ্রী এই দেওনদীকে নিয়ে একটি উপন্যাসও লিখেছে।উপন্যাসের নাম"দেওনদীর জল"।ইদানিং গোবিন্দ ধরও লিখেছে "দেওনদীসমগ্র"কবিতা সংকলন।একটি কবিতার সিডিও পদ্মশ্রীর"দেও"চট্টগ্রামের আবৃত্তি শিল্পী প্রবীর পাল করেছে।সব মিলে কুমারঘাট আমার এক স্বপ্নের জায়গা।
শুনেছি কুমারঘাট ঊনকোটি জেলায় অবস্থিত। ঊনকোটির শৈব ভাস্কর্য প্রকৃতির কোলে এক অপরূপ সৌন্দর্যে ভ্রমণ পিয়াসী মানুষের কাছে অপূর্ব জায়গা।
সে জন্যও কুমারঘাটের প্রতি আমার টান অনুভব হয়।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এবার যোগ হলো কুমারঘাটে "ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন উৎসব:২০১৮"।
শুনেছি কুমারঘাটে গোবিন্দ ধর "স্রোত" থেকে পর পর চারবার "কুমারঘাট উৎসব পালন করে এই অঞ্চলের সাহিত্যে হইচই করে দিয়েছে।এবার আরো এক ধাপ এগিয়ে লিটল ম্যাগাজিন উৎসব উদযাপন সাহিত্য প্রেমিক হিসেবে আমাকেও মুগ্ধ করেছে।
লিটল ম্যাগাজিন সাহিত্যের বাতিঘর।
এই উৎসবে আমি আমন্ত্রিত থেকেও আসতে পারিনি।আমি নিজে এই সময় খুব ব্যস্ত। পাশাপাশি শরীরও বয়সের ভারে কিছুটা ক্লান্ত।
আবার দিল্লী যাওয়ারও আমন্ত্রণ আছে।সব মিলে লিটল ম্যাগাজিনের তরফে কোন আমন্ত্রণে আসতে না পারার বেদনা আমাকে যন্ত্রণা দেয়।
আমি গোবিন্দের মাধ্যমে জেনেছি এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কুমারঘাট থেকে বিশ(২০)টি লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশিত হবে।প্রকাশিত হবে,"লিটল ম্যাগাজিন বার্তা"ও।
আমি সশরীরে উপস্থিত হতে পারিনি।এই অনুষ্ঠানের শুভ কামনা করি।অনুষ্ঠানের সাথে যুক্ত সকল লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক ও সহযোদ্ধাদের প্রতি আমার প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানাই।
ইতি
সেলিনা হোসেন।
শ্যামলী,ঢাকা,বাংলাদেশ।
২২:০৮:২০১৮""
২নং চিঠি
প্রতি
গোবিন্দ ধর
হালাইমুড়া, কুমারঘাট
"শুভ অপরাহ্ন। শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা জানাই মঞ্চ ও মিলনায়তনে উপস্থিত সুধীবৃন্দকে। এমন একটি অনুষ্ঠানে আসার প্রস্তুতি নিয়েও আসতে পারলাম না। মন খারাপ হয়েছে বললে শুধুই বলা হবে। কষ্টদায়ক অনুভবকে শান্ত করা যাবে না।
‘স্রোত’ পঁচিশ বছরের জন্মদিনে পৌঁছেছে। এখন ‘স্রোত’ শুধু সাহিত্য পত্রিকা নয়, শিল্প-সাহিত্যের ঠিকানা হিসেবে নিজের গৌরব অর্জন করেছে। দীর্ঘ পঁচিশের পথযাত্রায় উত্থান পতন চড়াই উৎরাই অতিক্রম করেছে। আমি এই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে যাওয়াকে আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা জানাই। অভিনন্দিত করি।
আমার ভিসা থাকা সত্বেও ২৫ শে মে ত্রিপুরায় স্রোতের এই গৌরবময় রজতজয়ন্তী প্রকাশনা উৎসবে আসতে পারিনি। বয়স হয়েছে। একা দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া আমার শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে অসুবিধাজনক। সঙ্গী ছিলো তরুণ গবেষক অপূর্ব শর্মা। শেষ মুহূর্তের চেষ্টা থাকা সত্বেও তার ভিসা পাওয়া হলো না। তাই এরকম এক আবেগঘণ অনুষ্ঠানে আসতে পারলাম না।
স্রোত এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কথাসাহিত্যিক শ্যামল বৈদ্যকে দক্ষিণারঞ্জন ধর স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করবে।বই প্রদর্শনী, শ্রোতাদেরকে বই প্রদান, বই প্রকাশসহ স্রোত সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিবার চল্লিশের উপর শাখার সভাপতি ও সম্পাদকদের সম্মাননা স্নারক তুলে দেওয়ার মতো নানা কর্মকান্ডের এই আয়োজন সফল হবে এই বিশ্বাস আমার আছে। কথাসাহিত্যিক শ্যামল বৈদ্যকে অভিনন্দন জানাই।"
ইতি
সেলিনা হোসেন।
শ্যামলী,ঢাকা,বাংলাদেশ।
২৫ মে ২০১৯
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: প্রতি
গোবিন্দ ধর
সম্পাদক
স্রোত
গোবিন্দ, স্রোত সাহিত্য পত্র শেষ কবে দেখেছি মনে করতে পারছি না। সুতরাং তোমার প্রার্থিত বিষয় সম্পর্কে দিক নির্দেশ করা সম্ভব নয়। স্রোত প্রকাশনায় তুমি যে বৈচিত্র্য এযাবৎ দেখিয়েছ, তা আমার চোখে অতুলনীয় ও অভিনব। নোতুন করে অন্য কিছু বলা আমার ভাবনার অতীত। তৃতীয়ত, হাতের লেখা বয়সের কারণে খারাপ হয়ে গেছে। যে নভেলেটা শুরু করেছিলাম তা হাতে লেখার সমস্যাহেতু আদৌ কোনদিন শেষ হবে কিনা জোর গলায় বলতে পারছিনা। অপেক্ষাকৃত মধ্যবয়সী লেখকদের সাহায্য নিতে পার। একদিন এসো।
ইতি
পীযূষ রাউত
থানারোড
ধর্মনগর
২১:০১:২০২২
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: জামশেদপুর
২৫ জানুয়ারী ২০২২
প্রিয়জনেষু
গোবিন্দ ধর
কবি এবং সম্পাদক স্রোত সাহিত্য পত্রিকা
বিষয় : স্রোত প্রকাশনা ও স্রোত সাহিত্য এবং কবি গোবিন্দ ধরের কাছ থেকে আমরা কি প্রত্যাশা করি।
সুধী
আমি সৌভাগ্যবান যে, আমি স্রোত পরিবারের সাথে (হোয়াটস এপ গ্রুপ ‘প্রতিদিন বাংলা ভাষা,স্রোত’) যুক্ত। স্রোত সাহিত্য পত্র ও স্রোত প্রকাশনা যে ভাবে অধুনা সময়োপযোগী হয়ে সাবলীল স্রোতে বাংলা ভাষাকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই যে, দেও ও মনু নদীর সঙ্গমস্থল হালাইমুড়া উল্লেখযোগ্য স্থান হিসেবে চিহ্নিত হবে সাহিত্যের ইতিহাসের পাতায়। যদিও এই অনিন্দ্য সুন্দর স্থান আমার এখনও দেখার সৌভাগ্য হয় নি কিন্তু সেখানের অপরূপ বর্ণনায় বুঝি, যেখানে নদী কথা বলে,পাখি গান গায় সবুজ বনানীতে শান্তি বিরাজমান সেখানে নির্মল সাহিত্য রচনা অবশ্যই হওয়া সম্ভব। তাই শুধু সাহিত্য প্রকাশনার তীর্থক্ষেত্র নয়, উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় লিটল ম্যাগাজিন সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রও হয়ে উঠেছে। কোভিডের বাধা নিষেধ মেনে জানুয়ারী ২০২২ তেও ত্রিপুরার আট জেলায় স্রোত প্রকাশনী অবলীলায় বই উত্সব করে যাচ্ছে শুনে বোঝাই যায় সাহিত্য চর্চা কোথায় স্ফুরিত কোথায় স্তিমিত। আমি বিশ্বাস করি ত্রিপুরা অঞ্চলের বাইরে বহির্বঙ্গে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী সেইরকম আমি দেখছি না অন্তত সাহিত্যের মত নিত্য-প্রবহমান শিল্প প্রকরণের এমন উদ্যমী সংস্থায় আমরা যারা সাহিত্যকর্মী,ভরসা করতে পারি আপনাদের প্রকাশনা ও প্রসারের এই সাবলীল গতি বাংলা সাহিত্যের ক্যানভাস স্প্রেড করবে এটা বলা যায়। যদিও স্রোত সাহিত্য পত্রিকা এখন পূর্বাঞ্চলের অন্যতম একটি সুপ্রতিষ্ঠিত সাহিত্য পত্রিকা হিসেবে গণ্য করা হয় তবুও এর প্রচার ও প্রসার দেখে মনে হয় খুব শীঘ্রই সারা বাংলায় এর সমাদর হবেই। সাহিত্যিক প্রণব চৌধুরী বলেন, ‘স্রোত প্রকাশনা ত্রিপুরার প্রকাশনা ক্ষেত্রে একটি বিপ্লব বিশেষ। নতুন নতুন সাহিত্যিক এই প্রকাশনার মাধ্যমে উঠে এসেছেন। ত্রিপুরার সাহিত্য জগত সমৃদ্ধ হয়েছে এর মাধ্যমে’। বহু কথা সাহিত্যিক স্রোত পরিবারের সাথে জড়িত। মানস দেববর্মন, বিমল চক্রবর্তী,ডক্টর দেবব্রত দেবরায়,শ্যামল ভট্টাচার্য তন্ময় বীর প্রমুখ স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব এই মননশীল পত্রিকাতে আছেন। আরাত্রিক পত্রিকার একটি বিশেষ সংখ্যা ‘ভারতের বাংলা গল্প’ সম্পাদক তন্ময় বীর এই স্রোত প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। ৭৭টি বাংলা গল্পের এই সংকলন আমাদের দেশে চিরকালের ইতিহাস হয়ে থাকবে। সাহিত্য বিজ্ঞান অধ্যাত্মিকতা এইসব সৃজনশীল প্রবাহের আমাদের দেশে বর্তমান কালে কোনদিন সঠিক মূল্যায়ন হয়না। ভবিষ্যতে তাদের মূল্যাঙ্কন করে ভবিষ্যতের মানুষ। কিন্তু অদূরদর্শী মানুষেরা ঠিক তার সমাদর বোঝেন। শ্যামল ভট্টাচার্যের বহুস্তরীয় ভৌগলিক অভিজ্ঞতা ও তারফলে অন্যভাষার সাংস্কৃতিক সম্পদ তাঁর গল্প ও উপন্যাসে ব্যবহার একটি নতুন ধারা প্রবাহের সংযোজন করেছেন স্রোত প্রকাশক গোবিন্দ ধর। এবং আরও অনেক উল্লেখযোগ্য বই ও পত্রিকা প্রকাশনে আপনি দেখিয়েছেন কোলকাতা কেন্দ্রিক যে সব প্রকাশক ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে ধুয়ো তুলে নিজেদেরকে শিল্প প্রকরণের নতুনত্বের প্রতিষ্ঠান বলে বিজ্ঞাপন দেন, সেটা সবটা সত্য নয়। বাংলা সাহিত্যের ক্রমবিকাশ যে ত্রিপুরা ঝাড়খণ্ড মধ্যপ্রদেশ দিল্লি থেকেও যে হয় এবং আধুনিক হয় সে কথা পশ্চিমবঙ্গের কতিপয় সমালোচকের অহমিকায় ধরা পড়ে না। আপনি সর্বভারতীয় স্তরের বাংলাভাষার গুণী সাহিত্যিককে আপনার স্রোত প্রকাশনা মঞ্চে এনে সমস্ত প্রাদেশিক আবেগময়তাকে বিসর্জন দিয়ে, বাংলা গদ্যভাষাকে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে পেরেছেন এইকথা আমার মনে হয়। যদিও বাংলা সাহিত্যের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বলে এখন তেমন জোরদার কিছু নেই,সোশ্যাল মিডিয়া এবং প্রিন্ট মিডিয়ার
সহজগম্যতার ফলে বাজারে প্রচুর অপ্রাতিষ্ঠানিক ম্যাগাজিনের আবির্ভাব হয়েছে। তাই গতানুগতিক বাণিজ্যিক পত্রিকাগুলির আর রমরমা প্রসার সেরকম নেই। এবং তাদের নিজেদের ছক অনুযায়ী লেখকদের কথাও আর বেশি কেউ মনে রাখে না। পাঠকও অনেক বোদ্ধা হয়েছেন। এইসময় যিনি ঠিকমত ভাবী সাহিত্যের উত্তরসূরী খুঁজে নিতে পারেন, ইংরেজিতে যাকে বলে ট্যালেণ্ট হান্ট, তিনিই সফল প্রকাশক হতে পারেন। এবং আমার যা মনে হয় আপনি আপনার স্রোত প্রকাশনা থেকে তা পারবেন। এখন যে যুগ, তা হলো আধুনিকতা থেকে উত্তর আধুনিকতায় যাওয়া, লেখার ফর্ম ভেঙে এন্টিফর্মে যাওয়া, রোমান্টিসিজম না রেখে ডাডাইজমের দিকে এগিয়ে যাওয়া। সেই পুরোনো সাংসারিক টানাপোড়েন বিষয়ক একই রকম সংস্কৃতির বর্ণনা মানুষ আর পড়তে চায়না। সেইসব ভ্রান্তিবিলাস কিছু লোক যদি পড়েও, প্রকাশকের হয়তো লাভও হয়, কিন্তু সেটা কী প্রোগ্রেসিভ মানে প্রগ্রতিশীল? এককেন্দ্রিক মহানগর সভ্যতার ও সংস্কৃতি বাদ দিয়ে কত যে বিপুল পরিমাণে অজানা লোক সংস্কৃতি জীবনযাপন পড়ে আছে, প্রকাশকের একটা সরাসরি দায়িত্ব পাঠকদের কাছে তা উন্মেষ করা। এবং সেটা যেন অন্তরঙ্গ হয় পাঠকের কাছে এমন লেখককে খুঁজে বার করার দায়িত্বও বর্তায়। মর্মলোকের বিবর্তনধারায় সৃষ্টিশীল লেখকের একটা ভূমিকা রয়েছে। আর যখন সেই তাগিদে যখন সে লেখে সেটা পাঠকের কাছে প্রশংসনীয় হয়। কিন্তু কিছু লোভী ঠকবাজ প্রকাশক দুর্ভেদ্য জাল পেতে মহানগরে বসে আছেন। সেই ফাঁদে সত্যিকারের সৃষ্টিশীল লেখক ধরা পড়ে এবং ঠকে হেরে থকে তার সৃষ্টিশীলতার উদ্যম শেষ হয়ে বিমুখ হয়ে যায়। প্রকাশকের ব্যবসা লাটে উঠুক একথা আমি বলছিনা। তবে প্রোডাকশন খরচের অতিরিক্ত নিয়ে নিজের লাভটুকু হিসেব মতো বুঝে সেই লেখককে বইকিছু ডেলিভারি দিয়ে খালাস হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বহু প্রকাশককে দেখেছি। এতে লেখকের প্রাপ্য প্রশংসা ও প্রচার কিছুই হয় না। প্রকৃতির যেমন প্রত্যন্ত দুর্গম বিজন অরণ্যে ফোটা এবং মরে যাওয়া দুর্লভ বিস্ময়কর ফুলের মত সেই ধরনের সৃজনশীল লেখকেরা। যাকে কেউ দেখল না চিনল না। সে ফুটল আর অকালে ঝরে গেল। আপনাকে আমার বিশেষ অনুরোধ, সেই সব ট্যালেন্ট খুঁজুন। ব্যবসায়িক দিক দিয়ে কোনো ক্ষতি না করে, তার প্রচারের প্রসারের দায়িত্ব নিন। পরম সৃষ্টিকারের অশেষ কৃপা বর্ষণ হবে আপনার উপর।
ইতি
আপনার গুণগ্রাহী
সুবল দত্ত
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: প্রিয় গোবিন্দ
তোমার সঙ্গে আগে কেন পরিচয় হয়নি ? তোমার মতন পাঠক আর সম্পাদকের সঙ্গে পরিচয় হওয়া ভাগ্যের ব্যাপার । তোমার সঙ্গে পরিচয়ের পর আমি গুগল করে খুঁজে দেখলুম কুমারঘাট জায়গাটা কোথায় ? ত্রিপুরার সীমান্তে ! ত্রিপুরায় যাইনি কখনও । চাকুরিসূত্রে ভারতের প্রায় সমস্ত রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে ট্যুর করেছি কিন্তু ত্রিপুরায় যাওয়া হয়নি । কুমারঘাট জায়গাটা প্রাকৃতিক দিক থেকেও মনোরম মনে হলো ।
প্রদীপ চৌধুরীর বাড়ি ছিল ত্রিপুরায়, সম্ভবত জায়গাটার নাম কুলাই, ওর বাবা শিক্ষকতা করতেন আর স্ত্রী সরকারী চাকরি করতেন । ও বলেছিল যেতে, কিন্তু যাওয়া হয়নি ; সেসময়ে যাওয়া হয়নি । ওরা ছাড়া পেয়ে যাবার পর হাংরি আন্দোলনের মামলায় তখন আমার একার এমন অবস্হা যে কলকাতায় রাতের বেলায় মাথা গোঁজার ঠাই নেই, দুবেলা খাবার মতন রেস্ত নেই । মামলায় মুচলেকা দিয়ে বন্ধুরাও পালিয়েছে। তখন একাই মামলা লড়তে আদালতে গিয়ে বসে থাকতুম, কখন আমার কেসটা উঠবে । ত্রিদিব মিত্র জানিয়েছিল যে শৈলেশ্বর, সুভাষ, বাসুদেব আর প্রদীপ মিলে দল গড়েছে, ওদের বাদ দিয়ে দিয়েছে ; আমার থেকে ভয়ে আগেই শত হাত দূরে করে নিয়েছিল নিজেদের । প্রদীপ ওদের থেকে কিছুটা ভিন্ন মেজাজের ছিল । তাই মনে হয়, ত্রিপুরার মনোরম প্রভাব চরিত্রে ক্রিয়া করে । কাছেই শিলচরে গিয়েছিলুম একবার, কিন্তু শক্তিপদ ব্রহ্মচারী তখন মারা গেছেন । দেখা করার ইচ্ছে ছিল, হলো না, আগেই বিদায় নিলেন ।
শৈলেশ্বর ঘোষ তো মুচলেকা লিখে রাজসাক্ষী হয়ে আমার বিরুদ্ধে সেই যে বিষোদ্গার আরম্ভ করলো, যতোদিন বেঁচে ছিল, অবিরাম গালমন্দ করে গেছে । এমনকী নিজের মেয়ে আর শিষ্যদেরও তৈরি করে গিয়েছিল আমার বিরোধিতা করার জন্য । বাসুদেব দাশগুপ্ত গ্রেপ্তার হয়নি, তবু আমার বিরুদ্ধে লেখালিখি করে গেছে। শুনলুম ওকে নিয়ে একটা বই গাঙচিল থেকে বেরিয়েছে, তাতে আমার দিকে প্রচুর থুতু ছিটিয়েছে । যখন নাকতলায় থাকতুম তখন হঠাৎ একবার আমার বাসায় এসেছিল, মাতাল অবস্হায়, টাকা চাইতে। আমি জিগ্যেস করলুম, টাকার এমন কী দরকার যে আমার বাসায় হানা দিতে হলো ? ওর জবাব শুনে অবাক হলুম। বলল, ভায়াগ্রা ট্যাবলেট কিনবে । শরীরের অমন অবস্হা হয়েছে নাকি যে ভায়াগ্রা খেতে হবে ? বলল যে বেবি নামের যে যৌনকর্মীর সঙ্গে ও আর শৈলেশ্বর দুপুরবেলায় প্রেম করতে যায়, সেইই নাকি বলেছে যে বাসুদেবের যৌনতার ক্ষমতা ফুরিয়ে গেছে । ওর অনুরোধে এক হাজার টাকা দিয়ে টাটা করলুম । পরে দাদা সমীর রায়চৌধুরীর কাছে শুনলুম যে দাদার বাড়িতেও গিয়েছিল একদিন দুপুরে ভায়াগ্রার খরচ চাইতে ; দাদা দু-হাজার টাকা দিয়ে, ভাত আর ভেটকি মাছের ঝোল খাইয়ে রিকশায় তুলে দিয়েছিল ।
মামলার পরে হয়তো ত্রিপুরা যেতে পারতুম কিন্তু পঁয়ত্রিশ মাস মামলা লড়ে এমন ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলুম যে পাটনায় ফিরে গেলুম । উকিলদের বকেয়া মেটানো জরুরি ছিল । চাকরিতে জয়েন করে বাকি টাকা পেয়ে ওনাদের দিই । জানোই কলকাতা হাইকোর্টের উকিলদের ফিস কতো । আর আমার ছিলেন চারজন উকিল। তোমাকে তো বলেছি যে প্রথম চাকরিটা করতুম রিজার্ভ ব্যাঙ্কে, ব্যাঙ্ক নোট নষ্ট করিয়ে পোড়ানোর চাকরি। নোট পোড়ালে যে শ্মশানের গন্ধ পাওয়া যায় সেই তখন জানলুম । পচা স্যাঁতসেতে ছাতাপড়া নোটের পাহাড় ভল্ট থেকে চটের বস্তায় ভরে এনে স্যাম্পল চেক করিয়ে পোড়াতে হতো । এখন আর পোড়াতে হয় না । শ্রেডিঙ মেশিনে টুকরো করে পাল্প তৈরি করতে পাঠানো হয় । চটের বস্তার দিনও নেই । প্লাস্টিকের মোটা চাদরের বস্তা ব্যবহার হয় ।
পচা নোটের আবহাওয়ায় আমার শরীর খারাপ হয়ে গিয়েছিল । প্রথম সুযোগ পেতেই অমন ভালো মাইনের চাকরি ছেড়ে গ্রামোন্নয়নের চাকরিতে ঢুকলুম আর পাটনা থেকে চলে গেলুম লখনউ । লখনউ থেকে মুম্বাই । শুরু হলো সারা ভারতবর্ষের গ্রামগঞ্জ ঘোরা – কতো যে ঘুরেছি কী বলব তোমায় । পায়ে হেঁটে, গোরুর গাড়িতে, এক্কা গাড়িতে, ট্রাকে, জিপে, মোটর গাড়িতে, অটোতে, নৌকোয়, দক্ষিণ ভারতে পাতার তৈরি নৌকোয়, মোটর সাইকেল ট্যাক্সিতে, উটের পিঠে, হাতির পিঠে । কিন্তু রাতের বেলায় এমন সব জায়গায় থাকতে হতো যে মশার কামড়ে ঘুমোতে পারতুম না, গায়ে ওডোমস মাখা সত্ত্বেও । থাকার জন্য অনেক সময়ে হোটেল বা গেস্ট হাউস জুটতো না । কোথাও মেঝেতে, কোথাও বেঞ্চে, কোথাও চারপাইতে শুয়ে রাত কাটাতুম । অপরিষ্কার জল খেয়ে পেট খারাপ হয়ে যেতো । যেখানে কিনতে পেতুম সেখানে জলের বদলে লেমোনেড বা কোল্ড ড্রিংক খেতুম ; তখনও মিনারাল ওয়াটার আসেনি বাজারে । হাগবার জন্য সব জায়গায় পায়খানা থাকতো না । খেতে, মাঠে, খালের ধারে, গাছের আড়ালে কাজটা সেরে ফেলতে হতো । শুনে বাবা বলেছিলেন, একটা ফোলডিঙ ছাতা রাখ । কতো কিছু বইব, বলো ! তাছাড়া কলেজে পড়ার সময়ে ন্যাশানাল ক্যাডেট কোরের ক্যাম্পে সবাই দল বেঁধে হাগতে যেতুম বলে লজ্জাবোধ হতো না । যখন গ্রেপ্তার হয়ে লকাপে ছিলুম, তখন হাগবার জন্য কোমরে দড়ি বেঁধে কন্সটেবল বলেছিল, যাও হেগে এসো । কন্সটেবল দড়ির এক প্রান্ত ধরে বসে রইলো আর আমি অন্য প্রান্তে বাঁধা, হাগতে গেলুম । তাও পায়খানায় নয়, পুলিশ স্টেশনের পেছনের মাঠে, যেখানে আসামীরা চারিদিকে হেগে রেখেছিল । ছোঁচাবার জন্য অবিরাম পড়তে থাকা জলের কল, সেই দিকে পেছন করে ছুঁচিয়ে নিতে হলো ।
তুমি যেখানে থাকো, চারিদিকে প্রকৃতির সবুজ ঘেরাটোপ পাও নিশ্চয়ই । আমি নতুন চাকরিতে ওই ঘেরাটোপের আকর্ষণে বাঁধা পড়ে গিয়েছিলুম । তার আগে জানতুম না অড়র ডালের অমন গাছ হয় ; বাজরা আর জোয়ার গাছ কেমন দেখতে, কখন কার্পাস তুলো গাছ থেকে পাড়া হয়, অতো শুকনো লঙ্কা ছড়ানো মাঠে বউরা কেমন করে বসে বাছাই করে অথচ চোখ জ্বালা করে না হাঁচি পায় না ! সেচের ব্যাপারেও কিছুই জানতুম না, এমনকি খাল আর নালার তফাত জানতুম না, পারশিয়ান হুইলের কথা জানতুম না, বউরা মাইলের পর মাইল হেঁটে প্লাসটিকের ঘড়ায় জল ভরতে যায় তা জানতুম না, কয়েকটা বাচ্চা হবার পর বউরা সারামাস খেতে খাটার জন্য ইউরেটাস কাটিয়ে ফ্যালে তা জানতুম না । অদ্ভুত এক ভারতবর্ষের সঙ্গে পরিচয় ঘটেছিল । তাছাড়া আরেকটা ব্যাপার, তোমাকে সাক্ষাৎকারে বলেছি সম্ভবত, দেশভাগের ফলে যে বাঙালিদের ভারতের নানা জায়গায় বসবাসের জন্য সরকার ব্যবস্হা করেছিল, সেখানে তারা বাংলা ভাষা প্রায় ভুলে গেছে । তাদের ছেলেমেয়েরা স্হানীয় স্কুলে পড়ে, ক্রমে সেই অঞ্চলের ভাষা রপ্ত করে ফেলেছে । হিমালয়ের তরাইতে খাঁটি ভারতীয় গোরু আর আছে কিনা স্টাডি করতে গিয়েছিলুম, দেখলুম পাঞ্জাবিরা তাদের জমিজমায় তাদেরই বেগার খাটাচ্ছে, কেননা জমিজমা দেবার সময় সরকার ভেবে দেখেনি যে জেলে, তাঁতি, ছুতোর, কামার, কুমোররা চাষবাস তেমন জানে না । তারা তো দেশভাগের আগে চাষি ছিল না।
অনেক আবোল-তাবোল কথা লিখে ফেললুম । কলকাতায় যাচ্ছো, সেখানের সাহিত্যিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে পরিচয় হবে । আবার পরে চিঠি লিখব তোমাকে । মনে অনেক কথা জমে আছে । আসলে সময়ের অভাব । আমাদের বুড়ো-বুড়িকে সবকিছু করতে হয় । দুজনে যেটুকু পারি করি ।
সপরিবারে ভালো থেকো ।
শুভেচ্ছাসহ
মলয় রায়চৌধুরী
মুম্বাই
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২২
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: চিঠিক্রম
নির্মলেন্দু গুণ
পঙ্কজ ভট্টাচার্য
মলয় রায়চৌধুরী
সেলিনা হোসেন
উষারঞ্জন ভট্টাচার্য
রামকুমার মুখোপাধ্যায়
পবিত্র সরকার
তপোধীর ভট্টাচার্য
পীযূষ রাউত
রবীন্দ্র গুহ
সন্দীপ দত্ত
কমলেশ দাশগুপ্ত
অরুণোদয় সাহা
মানস দেববর্মন
বিকাশ সরকার
সুবল দত্ত
কৃষ্ণকুসুম পাল
মিলনকান্তি দত্ত
বিজয় রায়
ভানুলাল সাহা
তপন চক্রবর্তী
অপাংশু দেবনাথ
পৃথ্বীশ দত্ত
বনবিহারী মোদক
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: স্বজন আমার:কবি গোবিন্দ ধর
অপাংশু দেবনাথ
এই তো আবার শুরু করলে নতুন করে চিঠি লেখা। তুমি আমাকেই প্রথম চিঠি লিখেছিলে কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে এতোটা দিন আমার নজর এড়িয়ে গেছে।মনে আছে তোমার? স্রোত তখনও সিল্সক্রিনে ছাপা হচ্ছিলো। তুমি আমার প্রকাশিত কবিতাসহ স্রোত পাঠাতে।সেদিনও শান্তিদা দিয়ে গেছেন বাড়ি।স্পষ্ট মনে আছে পকেটে করে নিয়ে গেছি হাসপাতালে।কবি তপন দেবনাথ একটু সুস্থ হলে তাতে পড়ে শুনাবো।কিন্তু তা আর হলোনা। চোখের জলে স্রোত আমার বেদনার স্রোতে ভেসে যায়।তারপর সব ইতিহাস।
সময় গড়িয়ে যায় তবু ভূত এসে মাথার ভেতর নাড়া দিয়ে যায়।আমিও তার তালে নড়ে উঠি। আবার নিজেকে সামলে নিয়ে হাঁটতে থাকি।
এই যে হাঁটার কথা বললাম।তা তোমার হয়তো মনে আছে কবে থে তোমার সাথে হেঁটে যাচ্ছি। আমি স্বভাবতই ভুলে যাই। মানুষও তাই ভাবে
তবু কি যেন ভেতরে ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়।
তোমার সাথে আত্মার সম্পর্ক যেমন অনুভব করি তেমনি দ্বন্দ্বে কাটিয়েছি তোমার সাথেই খুব বেশী
এইসব বিবাদ বিষম্বাদের কথা বলতে আজ আত্মার এই ক্ষরা মরসুমে চিঠি লিখছিনা তোমাকে। চিঠিতো লিখিনা বহুদিন।এখন ডাকপিওন শান্তিদা আর আসেনা বাড়ি।দেখা হলে মুচকি হেসে চলে যান।তার যাওয়া ও আসাতে আমার কিছু যায় আসেনা। শুধু মনে পড়ে কত কত প্রিয় মানুষেরা তোমার মতো চিঠি লিখতো। এখন আরা ওরা কেউ চিঠি লেখেনা কেবল হাওয়ায় হাওয়ায় কেউ কেউ কথা বলেন শুধু নিজেরই প্রয়োজনে। এতো যে প্রযুক্তি চারিদিকে, তার চেও অবাক হই মানুষগুলো কেমন যেন বদলে গেছে। এই বদলে যাচ্ছে বলেই সুখে আছে ওরা।বদলাতে পারিনি আমি।আর পারিনি বলেই এই মধ্যরাতে সবাই যখন দরোজায় খিল দিয়ে ঘুমাচ্ছে তখন আমি এক উদভ্রান্ত বাউলের মতো তোমাকে চিঠি লিখছি। মনের ভেতর জমে থাকা অসুখের ডালি খুলে লিখছি
হয়তো তুমিও ঘুমাচ্ছো।ঘুমাও।ঘুম ভাংলে দেখতে পাবে এই মধ্যরাতে অসমাপ্ত শব্দলিপি।এইসব শব্দেরা আমাদের জাগিয়ে রাখে।জেগে থাকি অকারণ।আসলে অভ্যাসের দোষে জেগে থাকা।কোনো মানে নেই নিজেকে কষ্ট দেবার। তুমিও তো আর কম জাগোনা? কবিতার জন্য জেগে থাকো বুঝি। আমি বুঝতে পানি নিজের নামে যা লিখতে পারোনা তা চৈতন্য ফকির ছদ্ম নামে লিখো।জানো এ যাবৎ কোনো ছদ্মনাম নিতে পারিনি আমি।তবে কেউ কেউ ভুবন বলে যাকে অথচ আমি বাউল বলে ভাবি নিজেকে। আর কেনো যেন মনে হয় আমি এক চিরন্তন শব্দবাহক মাত্র।এর বাইরে কোনো পরিচয় নেই আমার। জানি তুমি ভাবছো এসব লিখছি কেনো তোমাকে? কি ন্তু কাকে বলি এসব ভঙ্গুর বেদনার কথা।কথার পীঠে কথার জাল বুনতে বুনতে ভুলে গেছি শুক্রবার ভেঙে গলে মিশে গেছে শণিবারের অন্ধকারের ভেতর। তোমার ধারণা সঠিক নয় প্রিয় কেমনা ভুটান যাইনি আমি
তবে সিকিম থেকে দার্জিলিং। ওখান থেকে মিরিক হয়ে ফিরে আসি নেপালের সীমান্ত বাজার ছুঁয়ে। কোনোদিন সময় হলে চলো মিনিকে রাত কাটাতে যাবো। আর যদি তোমার সময় না হয় আমি একা হলেও যাবো।মিরিকে রাত্রি কাটাবো।
অনেক কথা কথায় কথায় লিখে ফেললাম।তপনের বইয়ের প্রুফ অনেকটাই শেষ।আর আমার শৈশবের কথা বেশ কিছু এপিসোডে লিখেছিলাম।হয়তো কোনোদিন ছাপা হবে নাও হতে পারে কে পড়বে আমার ব্যর্থ জীবনের শব্দলিপি।তবু তোমার ভাবনার প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা রইলো আমার।
সামনে লিটিল ম্যাগাজিন উৎসব করছো। বিরাট কাজ।বলো কোনো কাজে এলে ভালো লাগবে আমারও।
তোমার চিঠির উত্তর লিখতে লিখতে রাত অনেক হলো। এখন ১.৫০ রাত। বহুদিন পর প্রাণ খুলে ঠিঠি লিখলাম। পদ্মশ্রীর উপন্যাসের কতদূর।এবার প্রকাশ হবে নিশ্চই। গৈরিকার দোলনা কবে প্রকাশ হচ্ছে। তাকে আমার আদর দিও। গৌরবদের বলো ঘুরে যেতে আমাদের এখানে।
ভালো থেকো।আর হ্যাঁ তোমার ক'টা বই বের হচ্ছে এবার?
শুভরাত্রি জেনো স্বজন আমার। ২৪-০৮-১৮
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: নতুন বই
নাম:
কবি সম্পাদক এবং প্রকাশক
গোবিন্দ ধরকে লেখা চিঠিপত্র
সম্পাদনা
স্রোত প্রকাশনা
চিঠিক্রম
নির্মলেন্দু গুণ
পঙ্কজ ভট্টাচার্য
মলয় রায়চৌধুরী
সেলিনা হোসেন
উষারঞ্জন ভট্টাচার্য
রামকুমার মুখোপাধ্যায়
পবিত্র সরকার
তপোধীর ভট্টাচার্য
পীযূষ রাউত
রবীন্দ্র গুহ
সন্দীপ দত্ত
কমলেশ দাশগুপ্ত
অরুণোদয় সাহা
মানস দেববর্মন
বিকাশ সরকার
সুবল দত্ত
কৃষ্ণকুসুম পাল
মিলনকান্তি দত্ত
বিজয় রায়
ভানুলাল সাহা
তপন চক্রবর্তী
অপাংশু দেবনাথ
পৃথ্বীশ দত্ত
বনবিহারী মোদক
বিদ্র:প্রতিজন চিঠি লেখক এর স্কেচ থাকবে।
এরকম কাজ করতে পারলে পাণ্ডুলিপি পাঠাবো।
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: প্রতি
গোবিন্দ ধর
সম্পাদক
স্রোত
হালাইমুড়া, কুমারঘাট, ঊনকোটি ত্রিপুরা
মহোদয়
আপনাকে লেখা দিতে গেলে আপনাকে জানতে হবে। পর্যাপ্ত জানার সুযোগ কোথায়? আমি যে লেখক নই, দাদা।
#
আপনার কার্যক্রম আমার পছন্দের।
#
গত ক' মাস আগে দীনেশচন্দ্র সেনের 'প্রপৌত্রী দেবকন্যা সেন' এসেছিলেন ময়মনসিংহে। অসাধারণ এক ব্যক্তিত্ব। মনজয় করা আচরণ তাঁর। আজকেও ফোনে কথা হল।
#
উনার সাথে ভাল যোগাযোগ আছে স্বপন ধর করে একজনের। যিনি ময়মনসিংহের মানুষ। মূলত ব্যাকরণবিদ। লেখকও। তিনি দীনেশচন্দ্র নিয়ে কাজ করছেন। মৈমনসিং গীতিকার(১৯১৯~১৯২৩) শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে পরপর ৫ বছর ৫টি বিশেষসংখ্যা প্রকাশের দায়িত্বে আছেন।
#
স্বপনদা অমায়িক ও সহযোগিতা-পরায়ণ মানুষ। ভাল সংগঠকও। উনার সাথে যোগযোগে আপনি উপকৃত হবেন নিশ্চিত।
#
আমি আপনার ব্যাপারে উনার সাথে কথা বলেছি। নিচে তার মোবাইল নম্বর দিলাম
+ ৮৮০১৭১১৪৮১৭৮৭
আমার মোবাইল +৮৮০১৮১৬৮৯৫৩১০
এবং +৮৮০১৫৫২৪৩৪৭৭১
বিদ্র # আমার টাইমলাইনে দেয়া বর্ধমানের ভাবনাচিন্তা -য় প্রকাশিত, আমার চিঠিটি পড়ার সুযোগ হয়েছিল?
ভাল থাকুন সবসময় এই প্রত্যাশায় ---
তোফায়েল হোসেন খান
সহযোগী অধ্যাপক
বাংলা বিভাগ
সরকারি আনন্দমোহন কলেজ
ময়মনসিংহ।
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: স্বজন আমার:কবি গোবিন্দ ধর
অপাংশু দেবনাথ
এই তো আবার শুরু করলে নতুন করে চিঠি লেখা। তুমি আমাকেই প্রথম চিঠি লিখেছিলে কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে এতোটা দিন আমার নজর এড়িয়ে গেছে।মনে আছে তোমার? স্রোত তখনও সিল্সক্রিনে ছাপা হচ্ছিলো। তুমি আমার প্রকাশিত কবিতাসহ স্রোত পাঠাতে।সেদিনও শান্তিদা দিয়ে গেছেন বাড়ি।স্পষ্ট মনে আছে পকেটে করে নিয়ে গেছি হাসপাতালে।কবি তপন দেবনাথ একটু সুস্থ হলে তাতে পড়ে শুনাবো।কিন্তু তা আর হলোনা। চোখের জলে স্রোত আমার বেদনার স্রোতে ভেসে যায়।তারপর সব ইতিহাস।
সময় গড়িয়ে যায় তবু ভূত এসে মাথার ভেতর নাড়া দিয়ে যায়।আমিও তার তালে নড়ে উঠি। আবার নিজেকে সামলে নিয়ে হাঁটতে থাকি।
এই যে হাঁটার কথা বললাম।তা তোমার হয়তো মনে আছে কবে থে তোমার সাথে হেঁটে যাচ্ছি। আমি স্বভাবতই ভুলে যাই। মানুষও তাই ভাবে
তবু কি যেন ভেতরে ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়।
তোমার সাথে আত্মার সম্পর্ক যেমন অনুভব করি তেমনি দ্বন্দ্বে কাটিয়েছি তোমার সাথেই খুব বেশী
এইসব বিবাদ বিষম্বাদের কথা বলতে আজ আত্মার এই ক্ষরা মরসুমে চিঠি লিখছিনা তোমাকে। চিঠিতো লিখিনা বহুদিন।এখন ডাকপিওন শান্তিদা আর আসেনা বাড়ি।দেখা হলে মুচকি হেসে চলে যান।তার যাওয়া ও আসাতে আমার কিছু যায় আসেনা। শুধু মনে পড়ে কত কত প্রিয় মানুষেরা তোমার মতো চিঠি লিখতো। এখন আরা ওরা কেউ চিঠি লেখেনা কেবল হাওয়ায় হাওয়ায় কেউ কেউ কথা বলেন শুধু নিজেরই প্রয়োজনে। এতো যে প্রযুক্তি চারিদিকে, তার চেও অবাক হই মানুষগুলো কেমন যেন বদলে গেছে। এই বদলে যাচ্ছে বলেই সুখে আছে ওরা।বদলাতে পারিনি আমি।আর পারিনি বলেই এই মধ্যরাতে সবাই যখন দরোজায় খিল দিয়ে ঘুমাচ্ছে তখন আমি এক উদভ্রান্ত বাউলের মতো তোমাকে চিঠি লিখছি। মনের ভেতর জমে থাকা অসুখের ডালি খুলে লিখছি
হয়তো তুমিও ঘুমাচ্ছো।ঘুমাও।ঘুম ভাংলে দেখতে পাবে এই মধ্যরাতে অসমাপ্ত শব্দলিপি।এইসব শব্দেরা আমাদের জাগিয়ে রাখে।জেগে থাকি অকারণ।আসলে অভ্যাসের দোষে জেগে থাকা।কোনো মানে নেই নিজেকে কষ্ট দেবার। তুমিও তো আর কম জাগোনা? কবিতার জন্য জেগে থাকো বুঝি। আমি বুঝতে পানি নিজের নামে যা লিখতে পারোনা তা চৈতন্য ফকির ছদ্ম নামে লিখো।জানো এ যাবৎ কোনো ছদ্মনাম নিতে পারিনি আমি।তবে কেউ কেউ ভুবন বলে যাকে অথচ আমি বাউল বলে ভাবি নিজেকে। আর কেনো যেন মনে হয় আমি এক চিরন্তন শব্দবাহক মাত্র।এর বাইরে কোনো পরিচয় নেই আমার। জানি তুমি ভাবছো এসব লিখছি কেনো তোমাকে? কি ন্তু কাকে বলি এসব ভঙ্গুর বেদনার কথা।কথার পীঠে কথার জাল বুনতে বুনতে ভুলে গেছি শুক্রবার ভেঙে গলে মিশে গেছে শণিবারের অন্ধকারের ভেতর। তোমার ধারণা সঠিক নয় প্রিয় কেমনা ভুটান যাইনি আমি
তবে সিকিম থেকে দার্জিলিং। ওখান থেকে মিরিক হয়ে ফিরে আসি নেপালের সীমান্ত বাজার ছুঁয়ে। কোনোদিন সময় হলে চলো মিনিকে রাত কাটাতে যাবো। আর যদি তোমার সময় না হয় আমি একা হলেও যাবো।মিরিকে রাত্রি কাটাবো।
অনেক কথা কথায় কথায় লিখে ফেললাম।তপনের বইয়ের প্রুফ অনেকটাই শেষ।আর আমার শৈশবের কথা বেশ কিছু এপিসোডে লিখেছিলাম।হয়তো কোনোদিন ছাপা হবে নাও হতে পারে কে পড়বে আমার ব্যর্থ জীবনের শব্দলিপি।তবু তোমার ভাবনার প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা রইলো আমার।
সামনে লিটিল ম্যাগাজিন উৎসব করছো। বিরাট কাজ।বলো কোনো কাজে এলে ভালো লাগবে আমারও।
তোমার চিঠির উত্তর লিখতে লিখতে রাত অনেক হলো। এখন ১.৫০ রাত। বহুদিন পর প্রাণ খুলে ঠিঠি লিখলাম। পদ্মশ্রীর উপন্যাসের কতদূর।এবার প্রকাশ হবে নিশ্চই। গৈরিকার দোলনা কবে প্রকাশ হচ্ছে। তাকে আমার আদর দিও। গৌরবদের বলো ঘুরে যেতে আমাদের এখানে।
ভালো থেকো।আর হ্যাঁ তোমার ক'টা বই বের হচ্ছে এবার?
শুভরাত্রি জেনো স্বজন আমার। ২৪-০৮-১৮
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: কবি গোবিন্দ ধর
প্রিয়বরেষু
তোমার কথার সূত্র ধরেই বলছি --আসলে শিল্প এক নির্মাণ, যা মেধায় লুকিয়ে থাকে।রহস্যের খোঁজ পেতে হলে জট খুলতে হয়।তার জন্যও সুসময় আছে। একটি কাঁধব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়লুম আর চাঁদের টুকরো বিলোতে-বিলোতে চল্লুম, তা হয় না।সবকিছু তো আর আমি সর্বস্ব নয়।মূক-বিষয়গুলি চাঙ্গা করতে মৌলবাদ খতম করতে হয়।সে আলোচনা অনেক দীর্ঘ। আপাতত থাক।আমার ডকুমেন্টশনের পাশাপাশি ইমাজিনেশনের জায়গাটার দিকে চোখ ফেরানো যাক।
একটি সাহিত্য -প্রকাশনার অন্যতম শর্ত হওয়া উচিত দায়বদ্ধতা (বাংলাভাষার সাহিত্য বলে কিছু আছে কি?)কর্ণধারকে বুঝতে হবে এটা ঝালমুড়ির কারবার নয়।মানুষের কাছে আমি কি পৌঁছে দেবো?যার কোন স্থিতিস্থাপকতা নেই -- আসে শেষ হয়ে যায়? কবরস্থ হয়? কোন তাৎপর্য নেই -- অগভীর --ভোঁতা দূষ্য ! বাণিজ্যিকবোধ কতটা থাকবে?
আমরা কি মার্কেট -ফেন্টাসি হব?
ভূত তাড়াতে ভূতকে ডেকে আনবো?
ডিসকোর্সটা কি হবে?
দ্যাখো, উপনিবেশিকতা মানেই, উত্তরউপনিবেশিকতা।
ভারতবর্ষে খনিজ সম্পদ, বলসম্পদ আছে -- সেখানে অঢেল মানুষ মানুষের চেয়ে অমানুষ বেশি-- দ্বন্দ্ব ফাসাদ বেশি।লিখতে বসে সবাই ডিগবাজি খাচ্ছে। গঙ্গার জলতলে মেট্রো --এই নিয়ে উপন্যাস হয়না? শুধু নির্মাণের কাজ।
আমি তো ভয়ংকর মেট্রো-দুর্ঘটনার কথা লিখেছি 'ইহা দিল্লি শহরনামায়।'সাতটি ব্লাস্ট ফার্নেস তৈরীর কথা লিখেছি 'সূর্যের সাত ঘোড়ায়'।১০০ মহিষের বাথানের (হরিয়ানাভিরা বলে নহেরখানা) কথা লিখেছি। আমাকে সেখানে থাকতে হয়েছে। অমিতাভ ঘোষকেও তো সুন্দরবনে থাকতে হয়েছে। 'হাংরি টাইড'লেখার জন্য। ভালো কিছু করার জন্য রক্তক্ষরণ করতেই হবে।এটা শর্ত।না হয় ঘরে বসে 'অরণ্যের দিনরাত্রি 'লেখো।'রাজপথ জনপথ'লেখো।তোমার জন্য আকাদেমি পুরস্কার আছে।আমজনতা প্রদত্ত উপাধি নেই। হ্যাঁ, সতীনাথ ভাদুড়িকে আমরা শ্রদ্ধা করি।চিন্তাবিদদের মতে,উত্তর অদুনান্তিকতা তথা ফিউচার ট্রুথের অনিশ্চিত সঙ্কটের কথা এখন থেকে ভাবা উচিত। গনতন্ত্র -ধনতন্ত্র থাকবে না।তাহলে?দ্বন্দ্ব তো থাকবেই। পর-অপর থাকবেই, ভাবা যেতে পারে।এবং ভোগসর্বস্বতা এবং দাম্ভিকতা, পছন্দ -অপছন্দ, উপায়স্বরূপ মূল্য (instrwmantal value)? প্রভূত্বের মনোভাব ত্যাজ্য মানেই আবেগ,বিশ্বাস অনুভূতি, স্বপ্নপছন্দ, প্রবৃত্তি-- এসবের মৃত্যু। এই প্রস্থান বিন্দুটি কেমন? ভারতীয় সবজান্তারা আজও কিছু বলেননি,বিদেশী নীতিবিদরাও চুপ।দ্বন্দ্ব -বিরোধীদের কি মত?
একদল বলছেন,সত্য বলে কিছু নেই, জ্ঞান বলে কিছু নেই, প্রগতি বলে কিছু নেই। আমরা যেখানে ছিলাম সেখানেই আছি,থাকব সেখানেই। দারিদ্র, অপুষ্টি, শোষণ, অগনতি মৃত্যু থাকবে।বাকি সব ভুলে যাও।গোঁড়ামিমুক্ত হও।জাক দেরিদা বেশ জোর দিয়ে বলেনঃ 'হ্যাঁ মশাই, এটাই ঠিক।'
আমরা এসব কিছুই জানি না।মেয়েদের ধর্ষিত হতে দেখছি। তন্দুর চুল্লিতে ঝলসে যেতে দেখছি। পথ অবরোধ করছি।পথের বাঁকে সার সার পথবাতি। আধুনান্তিককতার পথে সেক্যুলার হয়ে হাঁটছি।বা হাঁটার ভান করছি।এর কোন পূর্ণাঙ্গ ছবি নেই। যা আছে তা নাচগান সমৃদ্ধ। পড়তে গেলে হোঁচট খেতে হয়।উপাদান ছলনায় ভরা। সৃষ্টি তো নয়,অধিকাংশ অনাসৃষ্টি। International, তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করা। সেই গল্প চাই। পৃথিবীকে মুঠোর মধ্যে আনা হয়েছে --সে ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, রাজস্থান তো পাশের বাড়ি।বাঙালি সেখানেই যাক পরবাসী নয়।সেই অঞ্চল নিয়ে লেখা হোক ডায়াসপোরিক বাংলা সাহিত্য। হোক আঞ্চলিক শব্দের শংকরায়ন।গুণীজনেরা আসুক ভিন্ন রুচি তথা নীতিবোধ নিয়ে। দিল্লিতে বাংলাবইয়ের মেলা হলে দণ্ডকারণ্যে নয় কেন?এবং ভিলাইতে? এখন তো সর্বত্র প্রতিভাসম্পন্ন মানুষ। কতরকম চিন্তন। একজন দক্ষ লেখক যখন প্রকাশক হয়ে যান তখন তার জাস্টিস্ ফর্ ট্রুথ প্রশ্নাতীত। সুতরাং, সেদিক থেকে তোমাকে কি উপদেশ দেবো? সমস্ত ব্যাপারটাই দীর্ঘমেয়াদী। এখন তো জাঁকজমকের জমানা।সেকথা কেউ লিখছে না।
শুভেচ্ছা নিও।গুণমুগ্ধ
রবীন্দ্র গুহ
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: প্রতি
গোবিন্দ ধর
সম্পাদক
স্রোত
হালাইমুড়া, কুমারঘাট, ঊনকোটি ত্রিপুরা
মহোদয়
আপনাকে লেখা দিতে গেলে আপনাকে জানতে হবে। পর্যাপ্ত জানার সুযোগ কোথায়? আমি যে লেখক নই, দাদা।
#
আপনার কার্যক্রম আমার পছন্দের।
#
গত ক' মাস আগে দীনেশচন্দ্র সেনের 'প্রপৌত্রী দেবকন্যা সেন' এসেছিলেন ময়মনসিংহে। অসাধারণ এক ব্যক্তিত্ব। মনজয় করা আচরণ তাঁর। আজকেও ফোনে কথা হল।
#
উনার সাথে ভাল যোগাযোগ আছে স্বপন ধর করে একজনের। যিনি ময়মনসিংহের মানুষ। মূলত ব্যাকরণবিদ। লেখকও। তিনি দীনেশচন্দ্র নিয়ে কাজ করছেন। মৈমনসিং গীতিকার(১৯১৯~১৯২৩) শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে পরপর ৫ বছর ৫টি বিশেষসংখ্যা প্রকাশের দায়িত্বে আছেন।
#
স্বপনদা অমায়িক ও সহযোগিতা-পরায়ণ মানুষ। ভাল সংগঠকও। উনার সাথে যোগযোগে আপনি উপকৃত হবেন নিশ্চিত।
#
আমি আপনার ব্যাপারে উনার সাথে কথা বলেছি। নিচে তার মোবাইল নম্বর দিলাম
+ ৮৮০১৭১১৪৮১৭৮৭
আমার মোবাইল +৮৮০১৮১৬৮৯৫৩১০
এবং +৮৮০১৫৫২৪৩৪৭৭১
বিদ্র # আমার টাইমলাইনে দেয়া বর্ধমানের ভাবনাচিন্তা -য় প্রকাশিত, আমার চিঠিটি পড়ার সুযোগ হয়েছিল?
ভাল থাকুন সবসময় এই প্রত্যাশায় ---
তোফায়েল হোসেন খান
সহযোগী অধ্যাপক
বাংলা বিভাগ
সরকারি আনন্দমোহন কলেজ
ময়মনসিংহ।
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: কবি গোবিন্দ ধর
প্রিয়বরেষু
তোমার কথার সূত্র ধরেই বলছি --আসলে শিল্প এক নির্মাণ, যা মেধায় লুকিয়ে থাকে।রহস্যের খোঁজ পেতে হলে জট খুলতে হয়।তার জন্যও সুসময় আছে। একটি কাঁধব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়লুম আর চাঁদের টুকরো বিলোতে-বিলোতে চল্লুম, তা হয় না।সবকিছু তো আর আমি সর্বস্ব নয়।মূক-বিষয়গুলি চাঙ্গা করতে মৌলবাদ খতম করতে হয়।সে আলোচনা অনেক দীর্ঘ। আপাতত থাক।আমার ডকুমেন্টশনের পাশাপাশি ইমাজিনেশনের জায়গাটার দিকে চোখ ফেরানো যাক।
একটি সাহিত্য -প্রকাশনার অন্যতম শর্ত হওয়া উচিত দায়বদ্ধতা (বাংলাভাষার সাহিত্য বলে কিছু আছে কি?)কর্ণধারকে বুঝতে হবে এটা ঝালমুড়ির কারবার নয়।মানুষের কাছে আমি কি পৌঁছে দেবো?যার কোন স্থিতিস্থাপকতা নেই -- আসে শেষ হয়ে যায়? কবরস্থ হয়? কোন তাৎপর্য নেই -- অগভীর --ভোঁতা দূষ্য ! বাণিজ্যিকবোধ কতটা থাকবে?
আমরা কি মার্কেট -ফেন্টাসি হব?
ভূত তাড়াতে ভূতকে ডেকে আনবো?
ডিসকোর্সটা কি হবে?
দ্যাখো, উপনিবেশিকতা মানেই, উত্তরউপনিবেশিকতা।
ভারতবর্ষে খনিজ সম্পদ, বলসম্পদ আছে -- সেখানে অঢেল মানুষ মানুষের চেয়ে অমানুষ বেশি-- দ্বন্দ্ব ফাসাদ বেশি।লিখতে বসে সবাই ডিগবাজি খাচ্ছে। গঙ্গার জলতলে মেট্রো --এই নিয়ে উপন্যাস হয়না? শুধু নির্মাণের কাজ।
আমি তো ভয়ংকর মেট্রো-দুর্ঘটনার কথা লিখেছি 'ইহা দিল্লি শহরনামায়।'সাতটি ব্লাস্ট ফার্নেস তৈরীর কথা লিখেছি 'সূর্যের সাত ঘোড়ায়'।১০০ মহিষের বাথানের (হরিয়ানাভিরা বলে নহেরখানা) কথা লিখেছি। আমাকে সেখানে থাকতে হয়েছে। অমিতাভ ঘোষকেও তো সুন্দরবনে থাকতে হয়েছে। 'হাংরি টাইড'লেখার জন্য। ভালো কিছু করার জন্য রক্তক্ষরণ করতেই হবে।এটা শর্ত।না হয় ঘরে বসে 'অরণ্যের দিনরাত্রি 'লেখো।'রাজপথ জনপথ'লেখো।তোমার জন্য আকাদেমি পুরস্কার আছে।আমজনতা প্রদত্ত উপাধি নেই। হ্যাঁ, সতীনাথ ভাদুড়িকে আমরা শ্রদ্ধা করি।চিন্তাবিদদের মতে,উত্তর অদুনান্তিকতা তথা ফিউচার ট্রুথের অনিশ্চিত সঙ্কটের কথা এখন থেকে ভাবা উচিত। গনতন্ত্র -ধনতন্ত্র থাকবে না।তাহলে?দ্বন্দ্ব তো থাকবেই। পর-অপর থাকবেই, ভাবা যেতে পারে।এবং ভোগসর্বস্বতা এবং দাম্ভিকতা, পছন্দ -অপছন্দ, উপায়স্বরূপ মূল্য (instrwmantal value)? প্রভূত্বের মনোভাব ত্যাজ্য মানেই আবেগ,বিশ্বাস অনুভূতি, স্বপ্নপছন্দ, প্রবৃত্তি-- এসবের মৃত্যু। এই প্রস্থান বিন্দুটি কেমন? ভারতীয় সবজান্তারা আজও কিছু বলেননি,বিদেশী নীতিবিদরাও চুপ।দ্বন্দ্ব -বিরোধীদের কি মত?
একদল বলছেন,সত্য বলে কিছু নেই, জ্ঞান বলে কিছু নেই, প্রগতি বলে কিছু নেই। আমরা যেখানে ছিলাম সেখানেই আছি,থাকব সেখানেই। দারিদ্র, অপুষ্টি, শোষণ, অগনতি মৃত্যু থাকবে।বাকি সব ভুলে যাও।গোঁড়ামিমুক্ত হও।জাক দেরিদা বেশ জোর দিয়ে বলেনঃ 'হ্যাঁ মশাই, এটাই ঠিক।'
আমরা এসব কিছুই জানি না।মেয়েদের ধর্ষিত হতে দেখছি। তন্দুর চুল্লিতে ঝলসে যেতে দেখছি। পথ অবরোধ করছি।পথের বাঁকে সার সার পথবাতি। আধুনান্তিককতার পথে সেক্যুলার হয়ে হাঁটছি।বা হাঁটার ভান করছি।এর কোন পূর্ণাঙ্গ ছবি নেই। যা আছে তা নাচগান সমৃদ্ধ। পড়তে গেলে হোঁচট খেতে হয়।উপাদান ছলনায় ভরা। সৃষ্টি তো নয়,অধিকাংশ অনাসৃষ্টি। International, তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করা। সেই গল্প চাই। পৃথিবীকে মুঠোর মধ্যে আনা হয়েছে --সে ক্ষেত্রে মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, রাজস্থান তো পাশের বাড়ি।বাঙালি সেখানেই যাক পরবাসী নয়।সেই অঞ্চল নিয়ে লেখা হোক ডায়াসপোরিক বাংলা সাহিত্য। হোক আঞ্চলিক শব্দের শংকরায়ন।গুণীজনেরা আসুক ভিন্ন রুচি তথা নীতিবোধ নিয়ে। দিল্লিতে বাংলাবইয়ের মেলা হলে দণ্ডকারণ্যে নয় কেন?এবং ভিলাইতে? এখন তো সর্বত্র প্রতিভাসম্পন্ন মানুষ। কতরকম চিন্তন। একজন দক্ষ লেখক যখন প্রকাশক হয়ে যান তখন তার জাস্টিস্ ফর্ ট্রুথ প্রশ্নাতীত। সুতরাং, সেদিক থেকে তোমাকে কি উপদেশ দেবো? সমস্ত ব্যাপারটাই দীর্ঘমেয়াদী। এখন তো জাঁকজমকের জমানা।সেকথা কেউ লিখছে না।
শুভেচ্ছা নিও।গুণমুগ্ধ
রবীন্দ্র গুহ
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: গোবিন্দ ধরকে লেখা চিঠিপত্র
----------------------------------------
আমি কান পেতে রই ||
পঙ্কজ ভট্টাচার্য
আমি বিরাশি পেরিয়ে তিরাশিতে পা রেখেছি। কেন জানি আট আর তিন সংখ্যার যোগফল এগারোর যৌবন ও কৈশোর ফিরে পেতে আকুল হই। এ যেন আবেগ আবেশ বিহ্বল করা নেশাতুর দশা।
সে দিন গুলোর দিগন্ত প্রসারী মাঠ, ক্ষেত খাল বিল পাহাড় টিলা পুকুর দীঘি জলাশয়, বন বাদার,খড়ের গাদা, গুই সাপ, সজারু, বেজি, কাঠবিড়ালি চিল, শকুন, চড়ুই, টিয়া, কোকিল, বুলবুলি , মাছরাঙা, গাঙচিল সহ পাখি পাখৌলির কিচিরমিচির, বৈচিত্র্য বৈভবে ভরা প্রকৃতি নিসর্গ বাগ্ময় হয়ে ওঠা। ফেলে আসা দিনগুলোর কথা আজও ভেসে ওঠে দুচোখে, মনে আঁকে অম্যেচনীয় ছবি।
একথা ধ্রুব সত্য যে শিল্প সাহিত্যের জন্মভূমি বাসা বাধে মানুষের মন ও মস্তিষ্কে। জন্ম যন্ত্রনা ও সইতে হয় শিল্প সাহিত্যকে ইতিহাসের গর্ভ থেকে এরা জন্ম নেন। ইতিহাস রাজপুত্তুর আর রাজকন্যার গল্প গাঁথা নয়। নয় যুদ্ধ ও ফ্যাসিবাদের বিবর্ণ বিবরনী।
#
ইতিহাস মানব সমাজের কর্ম ও সংগ্রামের কাহিনী। কর্মজীবী নরনারী নিত্যদিন বৈরী প্রকৃতি এবং উৎপাদন সম্পর্কের মধ্যে এবং বিরুদ্ধ পক্ষে মালিক পক্ষের সাথে থাকে বিরোধে লিপ্ত। এক কথায় ইতিহাস হল মানব সংগ্রামেরই ইতিহাস। মার্কস এঙ্গেলস ১৮৪৮সালে প্রকাশিত কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোতে এই মৌল নিখাদ সত্যটি তুলে ধরেছেন। "আজ পর্যন্ত যত সমাজ দেখা গেছে তাদের সকলের ইতিহাস ই শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস" ইতিহাসের সামিয়ানার নীচে যুগে যুগে যাদের বসবাস শিল্পী সাহিত্যিক রাষ্ট্রের সাথে প্রায়ই থাকে অম্লমধুর। একথাটিও সত্য জনপ্রিয় ধারার শিল্প সাহিত্য দেশে সবসময় একাধারে সৃষ্ট ও বিলুপ্ত হতে থাকে। জনতোষ ধারার বাইরে মহৎ শিল্প সাহিত্য নরনারীর জীবন রাষ্ট্র শক্তির বিরূপতা ভোগ করলেও আগামীর পথভ্রষ্টা হয়ে উঠে এককথায় মহৎ শিল্প আগামী রচয়িতা। এভাবে শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি কর্মজীবী নরনারীর জীবনে এনে দেয় স্বপ্ন দেখার সুদিন , প্রেরণা এবং শক্তি যোগায় পরিবর্তনের। ব্রাজিলের বিখ্যাত নাট্যকার নাট্য রচয়িতা (১৯৩১থেকে২০০৯) অত্যাচারিতের নাটক, আন্দোলনের পথদ্রষ্টা অগাস্ত বিয়েলি নাটককে সঙ্গায়িত করেছেন "নাটক হচ্ছে বিপ্লবের মহড়া। "একথা শিল্প সাহিত্যের ক্ষেত্রে ও সমানভাবে প্রযোজ্য।
এরূপ নাটক গত শতকেও বিশ্বকে মানিয়েছে। প্রগতির হাত ধরাধরি করে আজ অবধি সংগ্রামী চেতনায় শান দিয়ে আলো ছড়িয়ে চলেছে অবিরাম। বৃটিশ আমলে উপমহাদেশে এই গননাট্যে উপনিবেশিক শাসন শোষণ ও শৃঙ্খল ভাঙার গৌরব ময় অধ্যায় রচনা করেছে। সেদিনকার নাটক "ছেড়া তার", অঙ্গার", লেনিন কোথায়? "নাটকের প্রাসঙ্গিকতা আজও অম্লান। আর গণ নাট্যের গান অবিভক্ত ভারতের বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রাম এমনকি মুক্তিযোদ্ধে বিজয়ী বাংলাদেশে স্বাধীনতা সংগ্রামেও জনযুদ্ধের হাতিয়ার হয়ে উঠে। অবিভক্ত বাংলার পথনাটক পথ দেখিয়েছে সেই দিনগুলোতে আজ ও পথের সন্ধান দেখায়। আর গণ সঙ্গীত আজও সৃষ্টি করে চলেছে গণ চেতনা, গণজাগরণ । এ ধরনের শিল্প সংস্কৃতির চর্চা বিশ্বজনীন গণসংগ্রামের সহোদর হয়ে উঠে। এর সাথে হাত ধরাধরি করে গণমুখী ভূমিকা পালন করে এসেছে কবিতা, গল্প, নাটক, যাত্রা লোকগান ও চলচ্চিত্র। সমগ্র পাকিস্তানি আমল জুড়ে ভাষা সংস্কৃতি ঐতিহ্য আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার সহ মুক্তিযুদ্ধে এই ধারার শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি পালন করে প্রধান সম্পূরক ভূমিকা। পাকিস্তানি শাসক চক্রের থেকে কোপানল থেকে রবীন্দ্রকাব্য সঙ্গীত ও নাটক রেহাই পায়নি। নিষিদ্ধাদেশ উপেক্ষা করে মহা সমারোহে ১৯৬৯সালে পালিত হয় রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান মালা, রবীন্দ্র সঙ্গীত গীতিনাট্য, নৃত্যনাট্য হয়ে উঠে সমাজ প্রগতির হাতিয়ার।
বিগত ২০১৩সনে রাজধানী ঢাকার প্রানকেন্দ্র শাহবাগ চত্বরে ফুঁসে উঠে তারুণ্যের এক বিদ্রোহ, কয়েক মাস ধরে দিবারাত্রি জেগে থাকে অনন্য এক জন জাগরণ মঞ্চ। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সর্বোচ্চ শাস্তি দানের দাবীতে অবিরাম আন্দোলনে উত্তাল হয় ঢাকা সহ সারা দেশে। এক্ষেত্রে রবীন্দ্র নজরুল সুকান্তের কবিতা, গান, জুগিয়েছে অনন্য সাধারণ প্রেরণা।
আতি সম্মতি বাংলাদেশের মানুষ অবাক বিস্ময়ে প্রত্যক্ষ করলো এক অভূতপূর্ব কিশোর বিদ্রোহ।। ২০১৮সনের২৯জুলাই সকালে প্রায় অধিকাংশ স্কুলের গেট খুলে হাজার হাজার শিশু কিশোর ইউনিফর্ম পড়ে বইয়ের ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে দখল নেয় রাজধানীর রাজপথ -জনপদ। ঐ দিন বাস চালায় নিহত হয় দুই সহপাঠী মর্মান্তিক ভাবে। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া ড্রাইভার নামধারী হাতে ঘটে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড। ক্ষোভে ফেটে পড়া সতীর্থ শিশু কিশোররা নিরাপদ সড়কের ঐতিহাসিক আন্দোলনে এক নতুন মাত্রা সৃষ্টি করে। রাস্তাঘাট থেকে পুলিশকে বিদায় দেয়। সুশৃঙ্খল ভাবে প্রতিটি গাড়ির লাইসেন্স, বডি ফিটনেস পরীক্ষা করে। লাইসেন্স ও ফিটনেস বিহীন গাড়ি সারিবদ্ধ ভাবে আটক রাখে, ছেড়ে দেয় বৈধ গাড়ি। অবৈধ ছাড়পত্র যুক্ত ফিটনেস বিহীন গাড়িতে চলছিলেন, জনৈক মন্ত্রী মহোদয়। কিশোর কিশোরীরা মন্ত্রীকে অবৈধ গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে যেতে অনুরোধ করে ,মন্ত্রী প্রবর তা মেনে নেন। অপর এক মন্ত্রীর গাড়ি অবৈধ পথে চলাচলের জন্য অনুরূপ ভাবে মন্ত্রীকে হেঁটে যেতে অনুরোধ করা হয়। মন্ত্রীও মেনে নেন দেশ গঠনে নিয়োজিত নব্য তুর্কীদের নির্দেশনা।
পথচারী জনগণ আবাল বৃদ্ধ বনিতা এহেন কিশোর বিপ্লবের ক্রিয়াকাণ্ড দেখে সপ্রশংস উক্তি করতে থাকে এবং এহেন আজব ঘটনায় দর্শনার্থীদের ভিড় জমে যায়। শুধুমাত্র নিরাপদ সড়কের দাবীতে সীমাবদ্ধ থাকে নি এই আন্দোলন। সমাজ ও রাষ্টযন্ত্রকে দেয় তীব্র ঝাঁকুনি। এই কিশোর বিদ্রোহ অবিষ্কার করে অভিনব স্লোগান - যা কাব্যিক সৌন্দর্য আর সামাজিক গভীরতা মণ্ডিত। শিশু কিশোর বিদ্রোহের অনুপম এই স্লোগান গুলো বৃহত্তর জনগুষ্ঠির অন্তরে দাগ কেটেছে সহানুভূতির ঢেউ জেগেছে মহানগরী জুড়ে। অপূর্ব সম্মোহনী শক্তি ছিল এই অনন্য আন্দোলনের।
আসুন এবার কিশোর বিদ্রোহের স্লোগানের তত্ত্ব তালাশ করি। পোস্টার গুলিতে কচি হাতের লেখা পড়ে পাঠকের জিহ্বা হতবাক দশা, যেমন _রাষ্ট্রের মেরামত চলছে, সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত, "ন টাকায় এক জি বি চাই না, নিরাপদ সড়ক চাই, ছাত্রীদের আপাতত রাস্তা সামলাতে দিন, মন্ত্রী পুলিশকে স্কুলে পাঠান শিক্ষিত করতে। "
নিরাপদ সড়কের মানবিক আবেদনের গভীরতা ও সার্বজনীনতা ফুটে উঠে শ্লোগানের মধ্য দিয়ে, যেমন "হয় নি বলে আর হবে না আমরা বলি বাদ দে, তরুণ চেঁচিয়ে বলে পাপ সরানো, হাত দে,, যদি তুমি ভয় পাওয়া তবে তুমি শেষ, যদি তুমি রুখে দাঁড়াতে তবে তুমি বাংলাদেশ, আমাদের উস্কানি দিচ্ছে আমাদের বিবেক। শ্লোগান গুলি হয়ে ওঠে বিবেকী মানবতার সমৃদ্ধ।
কিশোর বিদ্রোহ আবিষ্কার করে চেতনা দীপ্ত উজ্জ্বল শ্লোগান, "শাহবাগে রাত ভোর স্মৃতিতে একাদশ। "
এক আন্দোলনরত কিশোর হিসেব করে দেখালো ১৯৭১এর অংশগুলোর যোগফল ১৮ এবং আকারের খপ্পরে পড়েছে সড়ক ও দেশ। ইতিমধ্যে সুকান্ত ভট্টাচার্যের ১৮বছর নিয়ে লেখা কবিতা সামাজিক প্রচার মাধ্যমে আলোড়ন তোলে। কিশোর কবি সুকান্ত হয়ে ওঠে কিশোর বিদ্রোহের ভগীরথ।
জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের 'ঘুম ভাঙানিয়া' কবিতা পোষ্টারে তুলে ধরেছে এক কিশোর "আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে", আরেক কিশোর কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহ বার্তা আবিষ্কার করলো, "আমি হবো সকাল বেলার পাখী, "। কিশোর বিদ্রোহ জানিয়ে দিলো সাহিত্য আর জীবন অবিভাজ্য।
আন্দোলনরতন কিশোরের বাবাকেও ছাড় দেয়নি কিশোর, হাতে লেখা পোষ্টারে লেখা রয়েছে " বাবা তোমার আয়ের উৎস কী জানতে চাই। " পরিবার, প্রতিষ্ঠান সমাজ, ও রাষ্ট্রকে কলুষমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় দেখালো কিশোর বিদ্রোহ। যা চালু ছিল সাতদিন ধরে। সরকারের নিরাপদ সড়কের প্রতিশ্রুতিতে তারা ফেরত যায় স্কুল সমূহে, আবার ফিরে আসার আগাম ঘোষণা দিয়ে।
কিশোর বিদ্রোহ তার কথা রেখেছে_তারা ফিরে এসেছে ২০২১সনের শেষার্ধে যখন মুনাযশ-পাগল পরিবহন মালিকেরা আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত নিয়ে দুর্বল রাষ্ট্র যন্ত্রকে বাধ্য করে পরিবহনে শতকরা ২৮ভাগ ভাড়া বৃদ্ধিতে পাশাপাশি ঢাকা মহানগরীর দুটি পৌরসভার ময়লা পরিষ্কারের গাড়ি অদক্ষ পরিচ্ছন্ন কর্মীর হাতে কিশোর তরুণ দুই ছাত্রকে বেধোরে হত্যা করে, এ ঘটনার ক্ষোভে বিক্ষোভে উত্তাল হয় পুনরায় পথঘাট, ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে পিলপিল করে পথে নামে ,দখল নেয় পথঘাট স্কুল ছাত্রছাত্রীরা পুনরায়। স্কুল ড্রেস পড়ে বইয়ের ব্যাগ পিঠে নিয়ে পথঘাট লাইসেন্স বিহীন ড্রাইনামধারী খুনীদের চিন্হিত করে,বিচারে বাধ্য করে সরকারকে, ছাত্র ছাত্রীদের অর্ধেক ভাড়ায় বাসে চলাচলের অধিকার আদায়ের করে। সর্বোপরি পুনরায় হুশিয়ার করেছে রাষ্ট্র যন্ত্রকে রাজ্য পথে _জনপদে আর মৃত্যুর মিছিল দেখতে চাই না, পরিবহন মালিকের লোভের জিহ্বা সংযত করাও, নিয়মিত সড়ক, লঞ্চে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বন্ধে ব্যবস্থা নাও_ এরূপ মহা সংকেত জানিয়ে ৩দিন মহা সড়ক দখল শেষে ফিরে যায় কিশোর বাহিনী শ্রেণিকক্ষে। আর একদিন পুলিশ ও প্রশাসন কাটায় গ্লানিময় অলস দিন।
ত্রিপুরেশ্বরীর বরপুত্র যিনি তাঁর কাব্য আভা ছড়িয়েছেন পশ্চিম বঙ্গ এবং বাংলাদেশে সেই কবিবর গোবিন্দ ধরকে সবিনয়ে বলি, আপনি সাহিত্য বিশেষত প্রকাশনায় আমার মতো অভাজনের পরামর্শ ও মতামত চেয়েছেন যার বাধাধরা প্রামাণ্য জবাব আমার জানা নেই। আমি একজন প্রথাবিরোধী রাজনীতিক, সমাজ ও মানবাধিকার কর্মী। মেঠো কর্মী হিসেবে ছয় দশকের বেশি সময়কাল কেটেছে আমার পথেঘাটে, দেশের আনাচে কানাচে, মিছিলে মিছিলে, আন্দোলন সংগ্রামে গণ অভ্যুত্থানের এবং মুক্তি সংগ্রাম-মুক্তিযুদ্ধে। কেটেছে দিন কারাগৃহে এবং আত্মগোপনে দেহ ধারণের জন্য সাধারণ খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি মন মননের পুষ্টি বর্ধনে, মানসিক--মানবিক নিষ্ঠা ও শক্তি অর্জনে _হতাশা-বৈকল্য বর্জনে সাহিত্য-সঙ্গীত-নাটক-গল্প- উপন্যাস ছিল নিত্যসঙ্গী--আজো তার বিচ্ছেদ ও প্রত্যয় ঘটেনি। এছাড়া অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের জীবন থেকে পাঠ নিয়েছি- নিত্যদিন নিয়ে চলেছি।
আপনজন ,প্রিয়জন, জীবন সাথী হারানোর দুঃখ, শোক, বেদনা সইবার শক্তি এভাবে অর্জন করেছি। চারপাশের হীনতা, দীনতা, নীচের, হিংসা বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, জঙ্গিবাদ, শোষণ বঞ্চনা, অবিচার, প্রতিবাদ, প্রতিরোধে সর্বপরি মানবতার পতাকা পত্তন করে উড়তে আমার বৃদ্ধ দেহে তারুণ্যের শক্তি শেল সঞ্চারিত-সঞ্জীবিত করে শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি।
আমি স্বপ্ন দেখি সুদিনের- সুন্দর দিনের- শোষণ মুক্ত ধর্ম নিরপেক্ষ সমাজের। এই স্বপ্নের নায়কেরা আর কেউ নয় ---উপরে বর্ণিত শিশু কিশোর বিদ্রোহী এবং যুব জাগরণের অগ্রসেনানী।
এই নব প্রজন্মকে নিজ পায়ে দাঁড়াতে, মনোবল বাড়াতে, মানসিক পুষ্টি জোগাতে, দেশ দশের দায়িত্ব কাঁধে নিতে আদর্শিক নৈতিক মানসিক শক্তিতে শক্তিমান হতে সর্বপরি অগ্রবাহীনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চাই নিত্যনতুন সঞ্জীবনী সুধা শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির উদ্দীপক, উদ্ভাবক, স্বপ্ন বীজ।
পঙ্কজ ভট্টাচার্য।
সভাপতি, ঐক্যন্যাপ
সমাজ ও মানবাধিকার কর্মী
১৫.০১.২০২২
ঢাকা, বাংলাদেশ।
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: তনুশ্রী ঘোষ মহোয়ের একটি ফেসবুক পোস্ট এবং
আমি যখন দেখি একটা মানুষ আমার সাথে কথা বলে না আমি তখন বুঝি এই সম্পর্কটা এখানেই শেষ। প্রত্যেকটা সম্পর্কের একটা আয়ুষ্কাল আছে। উল্কার মতো খসে পড়ে যায় সম্পর্ক। এজন্য সম্পর্ক চাষ করতে হয়। প্রচুর বন্ধু-বান্ধব আত্মীয়-স্বজন। কিছুদুর গিয়ে একটা মানুষ সরে যেতে পারে হয়তো তোমাকে ভালো লাগছে না। এখন ভালো লাগাতো জোর করে তৈরি করা যায় না। এজন্য যখন মানুষ আস্তে আস্তে দূরে সরে যায় তাকে দূরে সরিয়ে দিতে হয়। মানুষ নিজেই বুঝে না একবার একটা আসন ছেড়ে চলে যাওয়ার পর আর সেই আসনটা পাওয়া যায় না। মানুষ যখন সরে যেতে চায় দুর্গা দুর্গা করে তাকে বিদায় দিন। আসলে পৃথিবী অনেক বড় অনেক মানুষের বসতি এখানে। একটা মানুষের জন্য কিছু আসে যায়না। মুহূর্তগুলি কলির মত বন্ধ হয়ে থাকে তাকে ফোটাবার দায়িত্ব আপনার। যেকোনো সম্পর্ক মামা কাকা দাদা পিসা মাসি কাকি পিসি দিদি বন্ধুবান্ধব চলে যেতে দিন মানুষকে। প্রয়োজন নাই দরকার নাই অযথা ভিড় বাড়ানোর। আপনি একা থাকুন সঙ্গে দুটি গল্পের বই, সামনে একটা টিভি, একটু দূরে মোবাইল ফোন, মাঝে মাঝে একটু গান শোনা, এক কাপ কফি খাওয়া। মাঝে মাঝে একটু আকাশ দেখা নক্ষত্রপুঞ্জ। মাঝে মাঝে বুঝতে চেষ্টা করা আমি অনেক বড় একটা জায়গায় এসে পড়েছি। আনন্দে বাঁচতে গেলে এর থেকে বেশি কিছু লাগে না। সবাইকে বিদায় করতে থাকুন, সম্পর্কের তালিকাগুলি ছাটতে থাকুন। যে চলে যায় তাকে চলে যেতে দিন আনন্দের সাথে চলে যেতে দিন ফিরিয়ে আনবার জন্য আর বায়না ধরবেন না। যে যায় সে ফিরে আসে না, আর যদি ফিরে আসে তাহলে কোন কারণবশত ফিরে আসে। এই ফেরার মধ্যে আগের আনন্দ থাকে না। আপনি কারো প্রিয়জন হতে পারবেন না, আর কারো প্রয়োজন হয়েও বেঁচে থাকতে পারবেন না। চলে যেতে দিন সবাইকে কোন সুযোগই দিবেন না আপনাকে অযথা দুটি কথা বলবার। সে আপনার যত নিকটাত্মীয় হউক।
--তনুশ্রী ঘোষ।
গোবিন্দ,
তোমার মনে এমনি ভাবে ছিল তনুশ্রী ঘোষ! ইনি কিনি? হবেন হয়ত বড় কবি সাহিত্যিক। আমি ক্ষুদ্র মানুষ, তার ওপর কুপমুণ্ডুক।
মানুষ মরে গেলে বিদায় দিতে হয়।
সৎকার করতে হয় জলে চোখ ডুবিয়ে
ধর্মের হাত ধরে কিম্বা বিজ্ঞানের হাত ধরে।
এটা একটা পরম প্রাকৃতিক কাঙ্খিত কাজ।
ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জড়াজড়ি করে মেশে এতে।
সৎকর্মে মানুষকে ভালোবাসা দিলে,
আয়ুস্কাল শেষ হলেও মানুষ মানুষকে
ভোলে না। বিদায় জানায় না, কিছুতেই।
সম্পর্কও মরে। বলা ভালো হত্যা করা হয়।
স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়মে মরে না।
সম্পর্কটা প্রাকৃতিক নয়। মানবিক।
মানুষ খুনি হলেই সম্পর্ক মরে!
সমস্ত সম্পর্কের মূলে আছে চুক্তি।
বস্তুময় জগতে বস্তুর অস্তিত্বও চুক্তি নির্ভর।
মানুষের বুদ্ধি মেধা মনও বস্তুময়।
এই চুক্তির ভিতে যতক্ষণ সম্মান থাকে,
সম্পর্ক খরস্রোতা। সব বাধা ভেঙ্গে এগিয়ে চলে।
পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় এই চুক্তি লাভ ভিত্তিক।
মানুষ ঠকানো, শোষণ নানা রূপে এতে থাকে।
প্রিয়জন, প্রয়োজন ভিত্তিক। এই ব্যবস্থায়
কেউ কারুর অপরিহার্য নয়। নিজেকে উঁচু তলায়
ভেবে আত্মরতিতে মুর্খের মতো সুখ পাওয়া।
আত্ম শ্লাঘায় তাই অপরকে সহজেই বিদায়
জানানো যায়। তবে দুর্গার নাম করে নয়।
মুখে বলো বামপন্থী, এরকম একটা ডানপন্থী
সহজ চটকদার ভাবনায় ভেসে গেলে!
মানুষের প্রতি এত ঔদ্ধত্য। এত অহংকার।
ব্যক্তিবাদ বড় হলে মানুষ নীতি হারায়,
ব্যাভিচার ঘিরে ধরে। মানুষ মরে, পচে।
সেই মানুষকে বিদায় দিতে হয়ই।
মানুষের সঙ্গে মানুষের চুক্তি হয় প্রতিটি কাজে।
চুক্তিকে সম্মান দাও, ভালোবাসা দাও।
দেখবে মানুষটা বেঁচে আছে,
তোমার কাছের মানুষ হয়ে।
তাকে বিদায় দাওয়ার কথা ভাবলে
বাম দিকটা চিন চিন করে।
চুক্তিকে মানলে নদী এখনো বয়ে চলবে।
##) আমার সঙ্গে তোমার চুক্তি, যা তুমি নিজেই করেছিলে, তা বোধহয় ভুলে গেছো। তোমার প্রকাশনার তিনখানি বই আলোচনা করলাম। সাম্মানিক, এখনো পর্যন্ত(তোমার চুক্তি মোতাবেক, সামান্যই) আমাকে সম্মান জানালো না! সম্মান না জানালে সম্পর্ককে খুন করা হয়। খুন হয়ে যাওয়া লোক, খুন হয়ে যাওয়া সম্পর্ক, কথা বলতে পারে না। এই কথা বলতে না পারাটাকে বুর্জোয়া কৌশলে অজুহাত করে নিজেকে মহান সাজানো বুর্জোয়াদের নিকৃষ্ট কৌশল। ত্রিপুরায় যদি একজন বামপন্থী শেষ পর্যন্ত কেউ থাকে, জানবে সে গোবিন্দধর ---- এমন দাবি যার, সে কিনা তনুশ্রীতে ভুললো! তোমার বামপন্থা নিয়ে তুমি নিজেই নিজের বিরুদ্ধে প্রশ্নকে দাঁড় করালে!
সন্দীপ সাহু
০৬:০৭:২০২২
সাহু সন্দীপদা
আপনার এমন লাগলো কেন বুঝিনি দাদা।আমি শুধু উনার (Tanusri Tanushree Ghosh) অনুভূতিকে আরো পাঠকের নিকট কোন মন্তব্য ছাড়া পোস্ট করেছি।আপনাকে বলিনি কিংবা কারো জন্য পোষ্ট করিনি।ব্যক্তি জীবনে দ্বিচারিতা আমি করি না।আমি ভুল করলে অকপটে স্বীকার করতে পারি।আর বামপন্থায় আস্থা আছে এমন অধিকাংশ এমন কি আপনিও সব বিষয়ে বামপন্থী নয়।কিন্তু সে বিষয় এখানে আলোচ্য নয়। সে হয়তো আপনার বিষয়ে আপনি অবগত নয় বলে বুঝেন না।আমিও বাম না ডান তা কোথাও বিজ্ঞাপন করিনি।সে সময় সুযোগ একজন শিক্ষক হিসেবে এখনো আমার নেই। যখন আসবে তখন ততোদিন আপনাকে কিংবা আমারও বাঁচা জরুরী।যে মানুষ অন্য মানুষের ক্ষতি করবে তার পায়ের নিকট পড়ে থাকলেও সে মানুষকে ছোটই করবে প্রকৃতপক্ষে এমন আচরণই মানুষের মধ্যে এখন দেখা যায়।আপনাকে সম্মান আর কিরকম করবো বলবেন দাদা।আমার হয়তো এ বিষয়টিও বোধগম্য নয়।আলোচনার বিনিময়ে সম্মান বিষয়টি পরিস্কার হলাম না!অন্যের বক্তব্যকে আরো পাঠকের গোচরে নিলেই তা আমার বা আপনার বক্তব্য হয়ে যায় না।সময় খুব সাংঘাতিক রকম পচে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে। তিনখানা আলিশান ফ্লেটের মালিকও ভাবেন তিনি বামপন্থী। আবার বামপন্থার বিজ্ঞাপন দিয়েও এখন বামপন্থী অনেককে বামপন্থী বলতে হয়।তারপরেও বলছি এ লেখা পোষ্ট করেছি আরো অনেকের মতামত আসুক সে জন্য। ব্যক্তিগতভাবে লেখককে পছন্দ করি বলে নয়।কিংবা এই মতবাদ আমার নিজস্ব মতবাদ বলেও নয়।আপনাকে লেখিওনি কথাগুলো। এমন করে বললেন কেন বুঝিনি।কথা থাকে এরকম বলতে হয়?অন্যকে ছোট করে নিজেকে মহৎ বলিনি কখনওই। কিন্তু এরকম গায়ে পড়ে যুদ্ধ কেন দাদা।কথা বলতে নেই মানা।কিন্তু আপনার সাথে এ স্থান মানায় না।আপনি কথা বলুন সরাসরি ফোনে।কিংবা ইনবক্সে হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা মেলেও বলতে অসুবিধা কি?
ধন্যবাদ।
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: দিন দিন পর মতে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। এতেই বুঝা যায় আমাদের মননেও পচন ধরতে শুরু করেছে। পচনরোধক বটিকা সেবন অতি জরুরী।নয়তো সম্পর্ককে সম্মান জানানোও দুরূহ হবে।আজকাল রক্তের সম্পর্কেও স্বার্থ এসে জোঁকের মতো লেগে আছে সেখানে পরমতে সহিষ্ণুতা আশা করাও মূর্খামি কিন্তু তারপরেও মানবিকতা, সহিষ্ণুতা এমন কি সাম্যবাদকে প্রতিষ্ঠা দেবার সংগ্রাম যাদের ব্রত তাদের আরো আরো রণকৌশলগতভাবে পরিশীলন দরকার।সে আমার আপনার প্রত্যেকেই আরো মানবিক হয়ে তৈরী হওয়ার শিক্ষা আজ ভীষণ রকম প্রয়োজন।তবেই সর্বহারা শ্রমিক মেহনতী মানুষের জয় নিশ্চয়ই হবে।
[28/05, 11:24] আদিত্য সিংহ, কলকাতা: প্রিয় অনুজ গোবিন্দ আশা করি তোমার হাড়ের সমস্যা কিছুটা কমেছে। চিন্তা কোরোনা।এটা আমারো আছে। আমি কুড়িদিন অসুস্থ হয়ে বিছানায়। বাংলাদেশে যেতে পারলাম না। তবে তোমাদের প্রকাশনা মঞ্চ আয়োজিত 27,28 মে লিটল ম্যাগাজিন উৎসবে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কমলেশ আসছেন। খুব ভালো হবে। অনেক সুন্দর সময় কাটবে আমাদের।
শুভ কামনা রইলো।
নৃপেন চক্রবর্তী
কবি ও সম্পাদক (শব্দ শাব্দিক)
দমদম।
২৪৮ সুনীল সেন সরণী
কলকাতা ৭০০০২৮
0 Comments