পাঁচ বছরে ফেনির ভাটিয়াল:এক সন্ধ্যার সাহিত্য আড্ডা

গোবিন্দ ধর

সাহিত্যের কোন কাঁটাতার হয় না।মানবতাই তার ধর্ম।সমগ্র মননে চিন্তনে এমনই ভাবনার লালনে ভাটিয়াল লিটল ম্যাগাজিনের পাঁচ বছর উদ্ যাপন অনুষ্ঠিত হয় ত্রিপুরার আগরতলায়।আমাদের সকলের চিন্তায় ছিলো মানবতা।কবিরা স্বপ্ন দেখেন কাঁটাতারহীন এক পৃথিবী।যার কোন ধর্ম নয় বর্ণ নয় মানবতাই হবে আদর্শ।মানুষ মানুষকে মানুষ ভাববে।এমন স্বপ্ন বুকে নিয়েই ভাটিয়াল এলো ত্রিপুরায়।
ভাটিয়ালের সাথে এই সেদিন গত ফেব্রুয়ারি :২০১৯ আমার পরিচয়।ফেনির দেবব্রত সেন মহোদয় সবুজের জয়যাত্রার সাহিত্য উৎসবে আমিসহ কবি অপাংশু দেবনাথ, গোপালচন্দ্র দাস,অভীককুমার দে ও সঞ্জীব দে কে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন অতিথি হিসেবে।শেষ অব্দি স্কুলের নানাহ দায়িত্ব সামাল দিয়ে আমার আর ছুটি মঞ্জুর হয়নি।তখন ফেইসবুক আইডিতে বন্ধুত্বের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন সম্পাদক ভাটিয়ালের আলমগীর মাসুদ।আমি গ্রহণ করি আমন্ত্রণ। বন্ধু হই।তারপর থেকে আমাদের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে জমাট বাঁধতে শুরু করে।আমি এক সময় ফেনিতে স্রোত সাহিত্য সংস্কৃতি পরিবার এর ফেনি শাখা করার আমন্ত্রণও জানাই।আলমগীর মাসুূদ রাজী হোন।এরপরের ইতিহাস গতকাল জুনের ২ তারিখ সন্ধ্যায় আগরতলার ভগৎসিং যুব আবাসে বর্ষণক্লান্ত আবহে হয়ে গেল এক কোমলগান্ধার সাহিত্যানুষ্ঠান ৷ বাংলাদেশের লিটল ম্যাগাজিন 'ভাটিয়াল' উদ্ যাপন করল তার পঞ্চমবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান ৷ লিটল ম্যাগাজিনের পরিচিত ছকের শরীরের বাইরে একেবারে ঝকঝকে দৃষ্টিমুখর নন্দন নিয়ে প্রায় সংবাদপত্রের সাইজে উপস্থাপিত এই কাগজকে মুহূর্মুহূ জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করে প্রেমে ও প্রেরণায় ৷ এদিন আমার হাতে বর্ষ:  পাঁচ, সংখ্যা এক ও দুই তুলে দিলেন সম্পাদক আমগীর মাসুদ ৷ সংখ্যাটি আমি ছাড়াও উপস্থিত সকলের হাতে হাতে তুলে দেন সম্পাদক।আমাকেও মঞ্চে ঘোষক কবি প্রাবন্ধিক সঞ্জীব দে আমন্ত্রণ করেন।আমি কবি দিলীপ দাস, প্রবন্ধিক সুভাষ দাস ও গবেষক অশোকানন্দ রায়বর্ধনের উপস্থিতিতে আর মঞ্চে যাইনি।পরে এসে মঞ্চে বসেন কথাসাহিত্যিক শ্যামল বৈদ্য মহোদয়।সংখ্যা দুটিতে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত এবং তরুণতর লেখক কবিদের সৃজনের পাশাপাশি আমাদের ত্রিপুরা রাজ্যের সমকালীন তরুণ শব্দযোদ্ধাদেরও যত্ন করে স্থান দিয়েছেন ৷ এদিনের অনুষ্ঠানে নস্টালজিক অনুভব, সৃজনের দিগন্তবিস্তৃতি এবং ছোটো কাগজের দার্ঢ্যের অহংকারই বারবার উচ্চারিত হয়েছে আলোচক আলমগীর মাসুদ, দেবব্রত সেন, সুভাষ দাস, গোবিন্দ ধর, শ্যামল বৈদ্য, দিলীপ দাস প্রমুখের আলোচনায় ৷ দিলীপ দাস কবিতা নিয়েও কথা বলেন।একগুচ্ছ কবিতা পাঠ করেছেন রাজ্যের কবিগণ ৷ গানে গানে মুখর ছিলেন তারাপ্রসাদ বনিক, রাজীব মজুমদার, সুমিতা ধরবসুঠাকুর এবং সম্রাট পাল ৷ সমগ্র অনুষ্ঠানকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছে দিতে আলমগীর মাসুদকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করেছেন রাজ্যের কবি অপাংশু দেবনাথ, গোবিন্দ ধর,রাজীব মজুমদার, সঞ্জীব দে,  অমলকান্তি চন্দ, অভিককুমার দে ভগৎসিং যুব আবাসের কর্মকর্তা অর্জুন দেবনাথ ও অন্যান্য কর্মীবৃন্দ ৷ ভাষার টানে আর প্রাণের আবেগেই যেন এ সন্ধ্যায় 'ভাটিয়াল' উঠে এসেছিল উজানের পার্বত্যভূমি আমাদের অহংকারের এই রাজ্য ত্রিপুরায়।কবিতা পাঠ করেন দেবশ্রীতা চৌধুরী, গোপেশ চক্রবর্তী, রিয়া দেবী,অপাংশু দেবনাথ,মৃনালকান্তি পন্ডিত,শুভ্রশংকর দাশ, মুনমুন দেব,রতন আচার্য,গোবিন্দ ধর,সুজেতা দেববর্মা,অভিককুমার দে,অমলকান্তি চন্দ,গোপালচন্দ্র দাস,প্রসেনজিৎ কর মালাকার,রাজীব মজুমদার,আলপনা দেবনাথ, বিজন বোস প্রমুখ। গান কবিতা ছড়া আবৃত্তিতে ভাটিলের পাঁচ বছর উদ্ যাপন ভগৎসিং যুব আবাসে চাঁদের হাট বসে।সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু হয়ে অনুষ্ঠান চলে প্রায় সাড়ে আটটা অব্দি। শেষ হয়েও হয় না শেষ এমন এক আবেগঘন পরিবেশে ভিন্নমাত্রা পায়।আলমগীর মাসুদের কথায় ভাটিয়াল নামলিপির কারিগরের নামও শেষ  অব্দি উচ্চারণ হয়।পাশাপাশি আলমগীর মাসুদও অনুষ্ঠানের উচ্চতায় আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন।তিনি বলেন:" কথা বলার চেয়ে আসুন কাজ করি।আমি কাজের মানুষ।কাজই আমার প্রেরণা।"এই কথাগুলোর জন্যেই মাসুদ আমার আরো প্রিয়জন হয়ে উঠেন।

সূত্র:অশোকানন্দ রায়বর্ধনের সামাজিক মাধ্যম।
০২:০৬:২০১৯