দারা অসুর ক্যারন ও ভূটান সীমান্ত

গোবিন্দ ধর

ভূটান সীমান্ত ক্যারন কিংবা ভারত সীমান্তে  গিয়ে পৌঁছতেই ২২মে :২০১৮ বিকেল তখন চারটে।সবুজ আর সবুজ ডুয়ার্স।চা বাগানের একাংশ।ইংরেজরা ভূটান যেতে ক্যারন অব্দি গাড়ি নিয়ে আসেন।তারপর আর গাড়ি যায়নি।তারপর পায়ে হেঁটে ভূটান পৌঁছান ইংরেজরা।CAR->গাড়ি ROAN->দৌড়।অর্থাৎ গাড়ি রণে ভঙ্গ দেওয়া।
এমন এক প্রাকৃতিক উপজাতি গ্রাম ক্যারন। আমরা কবি অশোকানন্দদা অভীক সঞ্জীব গোপালদাসহ গিয়ে পৌছতেই আপ্যায়ন করেন দারা অসুর।প্রায় সকলের সাথেই দারা অসুর ছবিতে দাঁড়ান।

আমরা যেখানে ঠিক তার কাছেই সীমান্ত স্তম্ভ।আমাদেরকে এই সীমান্ত গ্রাম ক্যারন দেখার আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলেন কবি অলোকসুন্দর সরকার।তিনি অসুর ভাষা সাঁত্রীতে কথা বলতে পারেন।অনুবাদও আছে তাঁর।
অলোকবাবু জগন্নাথ সিং রাজপুতের সাথে আগে থেকে যোগাযোগ করে আমাদের ক্যারন যাওয়ার সংবাদ পৌঁছে দিয়েছিললেন।বারবার জগন্নাথজি মোবাইলে যোগাযোগ রাখছিলেন।
আতিথেয়তা আর হার্দিক ব্যববহারে আমরা প্রীত না হয়ে পারিনি।
অসুর জতিও সভ্য বাঙ্গালীর চেয়ে আতিথেয়তায় কম নয় দারা অসুর থেকে সবাই তা প্রমাণ করলেন।
কবিতায় আড্ডায় আর অসুর উপজাতি বিষয়ক কথা জানা বুঝায় রাত তখন প্রায় দশটা। আমরা ক্লান্ত।রাতের খাবার রেডি।জগন্নাথজি ইশারা করতেই একদল মেয়ে খাবার টেবিলে নিয়ে এলো।পনিরডাল ভাত রাতে তাই ছিলো মেনু।আমাদের মতো তেল মশলা লঙ্কাগুড়োতে রান্না নয়।লবণ তেলও বর্জন রান্নায়।চেয়ে নিলাম নুন।পাতনুন না নিতে ডাক্তারের বারণ।তবুও নুন ছাড়া খাবার বিস্বাদ লাগে।অগত্যা নিলাম নুন।কোনক্রমে চারটে তো খেতে হবে না হয় রাত কি করে কভার হবে।খাওয়া হলো।এবার ঘুমের পালা।মেট্রেস পাডা আছে।সারাদিনের ক্লান্তি।সুতরাং ঘুমাতে প্রস্তুতি নিলাম।বিছানায় যেতেই গোপলদার নাকডাক যেন কুম্ভকর্ণের মতো।অভীক সঞ্জীব অশোকদা ও আমি হাসির ফুরায়।কখন যে ঘুমদেবী চোখে এলেন আমরা কেউ জানি না।ভাগ্যিস মশা নেই।না হয় ডুয়ার্সের চা বাগানেই চিরশায়িত থাকতে হতো।সুন্দর প্রকৃতি পরদিন আর দেখা হতো না।
পরদিন সকালে ঘুম ভাঙ্গলে আওয়াজ আসে ঘণবৃষ্টির।জগন্নাথজির বাসায় নাস্তা সেরে বের হওয়ার কথা।কিন্তু মুশলধারায় বৃষ্টি পড়ছে।থামার কোন লক্ষণ নাই।জগন্নাথজি ছাতা পাঠালেন। আমরা নাস্তা করতে গেলাম তখন সকাল নয়টা বেজে তিরিশ মিনিট।
জগন্নাথজির বাসায় পাই অসুর লিপি।আর ইন্দিরাজির হাতে লেখা একটি চিঠি।অসুর জনগোষ্ঠীকে উপজাতি হিসেবে স্বীকৃতি পত্র।
জগন্নাথজি এই গ্রামের রাস্তা অনেক লড়াই করে আদায় করেছেন।গ্রামে একটি প্রাইমারী স্কুলও আছে।হিন্দিতে পাঠদান হয়।
সব মিলে আমাদের ভূটান সীমান্ত দর্শন বেশ স্বরণীয় হয়ে রইলো।

০৩:০৬:২০১৮
রাত:১০:৩০মি
কুমারঘাট।