পিঁপড়ে পিঁপড়ে গোবিন্দ ধর
পিঁপড়ে পিঁপড়ে
গোবিন্দ ধর
প্রকৃতিতে নানা জীবজন্তুর বসবাস।সকলের প্রয়োজনীয়তা আছে নিশ্চয়ই। না হয় এত জীব এত জীবন কেন।তুচ্ছতুচ্ছতমরাও পৃথিবীর অংশ। আমিও।তুমিও।আমরা কেউ-ই তুচ্ছতাচ্ছিল্যের বিষয় নয় প্রকৃতির নিকট।কিংবা কোন জীব-ই ছোট নয়।সামন্য জীবণু থেকে হাতি গণ্ডার কিংবা বাঘ সিংহ মানুষ থেকে বানর সবই পরিবেশের অংশ।
চারপাশের সব নিয়েই পরিবেশ।গাছ লতাগুল্ম প্রাণী সকলের সম্মিলিত শৃঙ্খল শৃঙ্খলা আমাদের জীবনের ভালো সুস্থ থাকার জীয়নকাঠি।
সামন্য পিঁপড়েকেও আমাদের দরকার।এই শৃঙ্খল থেকে মানুষের তৈরী শৃঙ্খলে যত আমরা জড়িয়ে পড়ছি ততই আমাদের বিপদ।
পিঁপড়ে দলবদ্ধ ভাবে সারিবদ্ধ চলাচল করে।সঙ্ঘবদ্ধ জীবন শিখতে পিঁপড়ে দৃষ্টান্ত।
একটি পিঁপড়ে তার নিজের ওজন থেকে বেশি পরিমাণ ওজন বয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম। একটি পিঁপড়ে সে শুধু তার জন্যেই শ্রমিক নয়।সে তার ছেলেপুলে দাসদাসী নাতিনাতনী সকলে সকলের জন্য কাজ করে।সকলেই মোটামুটি শ্রমিক।
পিঁপড়ের সংসার আছে।সেও এক দলবদ্ধ প্রাণী। তার দলের রাজা-রানি, সেনাপতি সৈনিক শ্রমিকদের নিয়ে গোষ্ঠী আছে।
পিঁপড়েরা খাদ্য মজুত রাখে।পিঁপড়ে দুধেল গরু পালন করে।প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেও জমানো খাদ্য খেয়ে নিজে বাঁচে।অন্য পিঁপড়েদের বাঁচায়।পিঁপড়ে পোকা মাকড় থেকে চিনি দই মিষ্টি খায়।রান্না করা ভাতেও তাদের অরুচি শুনিনি।মাটির গর্তে কিংবা গাছেও পিঁপড়ে বসবাস করে।আম গাছে আম পিঁপড়ে বাস করে।
পিঁপড়ের প্রজাতি অনেক।আবার লাল কালো নানা রকম রঙের পিঁপড়ে হয়।
গেছো পিঁপড়ে, খুঁদে পিঁপড়ে এরকম নানা প্রজাতির পিঁপড়ে আমাদের চারপাশে চলে ঘুরে।
আমাদের ছোটবেলায় দলবদ্ধ পিঁপড়ের সারির চলনকে উপভোগ করতাম।আবার পিঁপড়েদেরকে দলছুটও করে আনন্দ পেতাম।
আম পিঁপড়ে, ডাই পিঁপড়ে, খুদে পিঁপড়ে এরকম পিঁপড়ে নিয়ে নানান গল্পগাছা আমাদের লোকমুখে জনশ্রুতি হিসেবেও আছে।
শ্রীহট্টীয়রা ডাই পিঁপড়েকে ডাইয়া পিঁপড়ে বলতেন।ডাইয়া পিঁপড়ে কামড়ে দিলে সূক্ষ্ম ব্যথা লাগতো।তখন মা মাসীরা শ্লোক কাটতেন:ডাইয়া পিঁপড়েয় কামড় দিলে হাদা হাদা করে।
প্রাকৃতিক বিপন্নতা যেমন বন্যায় পিঁপড়ে দলবদ্ধ চাকতি মতন হয়ে ক্রমশ জলের তোড়ে ভেসে যাওয়ার সময় নিজেরা সবাই বাঁচতে চায়।তখন তারা চাকতি মতো গোল হয়ে ক্রমান্বয়ে ঘূর্ণনের মাধ্যমে নিচের পিঁপড়ে উপরে উঠে উপরের পিঁপড়ে নিচে যায়।এমন করে এক সময় সকলকেই নিচে নামতে হয়।আবার এক সময় সকলে উপরে উঠে।এরকম পিঁপড়ের কৌশল থেকেও পাঠ নিলে মানুষের জীবনের আরো কত রসদ হতো জীবনকেন্দ্রিক।পিঁপড়ে শুধু নিজে বাঁচতেই লড়াই জারী রাখে না।সে নিজে বাঁচে। অন্য পিঁপড়েদের বাঁচায়।এই আদর্শ একটি পিঁপড়েরও আছে।
অথচ জীবনের মূলমন্ত্র থেকে মানুষ বিচ্ছিন্ন। মানুষই মানুষের শত্রু। মানুষই মানুষের উপর চিরশত্রুতা করে।
পৃথিবীতে সব থেকে বুদ্ধিযুক্ত প্রাণী মানুষের যেন পিঁপড়ের চেয়ে বোধবুদ্ধি লোপ পেয়ে বসে আছে।খাই খাই চাই চাই।মানুষের শুধু আরো আরো চাই।
অথচ পিঁপড়ে প্রতিদিন লড়াই করে জীবনের জন্য।তাও তারা কত দলবদ্ধ শৃঙ্খলায় ঘুরে বেড়ায় খাদ্য অনুসন্ধান থেকে বাঁচার বাঁচানোই তাদের জীবনের গান।
১৭:০৬:২০১৯
সকাল :০৭:২০মি
কুমারঘাট।
0 Comments