কুমারঘাট মহকুমার বিভিন্ন স্থান নাম||গোবিন্দ ধর
#কুমারঘাট মহকুমার বিভিন্ন স্থান নাম#
পর্ব--(১)
গোবিন্দ ধর
#ভূমিকা#
ঊনকোটি জেলা (ইংরেজি: Unakoti district) হচ্ছে উত্তর-পূর্ব ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের একটি প্রশাসনিক জেলা। এই জেলা ২০১২ সালের জানুয়ারিতে যখন ত্রিপুরায় নতুন চারটি জেলা বাড়ানো হয় তখন গঠিত হয়।
কৈলাশহর হচ্ছে এই জেলার সদরদপ্তর। এই জেলা পূর্বে উত্তর ত্রিপুরা জেলার অংশ ছিল।
ঊনকোটি জেলার একটি দর্শনীয় স্থান। ঊনকোটি হচ্ছে একটি তীর্থক্ষেত্র। চারদিকে রয়েছে পাহাড় আর ঝরনা। প্রকৃতি যেন নিজ হাতে সাজিয়ে দিয়েছে জায়গাটির সৌন্দর্যককে।
ঊনকোটি মানে এক কোটির চেয়ে এক কম। লোকশ্রুতি আছে হাজার বছর আগে শিবের ভক্তরা এসে পাথুরে পাহাড়ের গায়ে বিভিন্ন দেবতার মূর্তি খোদাই করে রেখে গেছেন। সেই খোদাই করা মূর্তির সংখ্যা ছিল এক কোটির চেয়ে একটি কম। অর্থাৎ ঊনকোটি টি। সেই থেকে জায়গাটির নাম হয় ঊনকোটি।
প্রতি বছর অশোকাষ্টমীর সময় এখানে তীর্থযাত্রীরা দূর দূর দেশ থেকে তীর্থভ্রমণ করতে আসেন।আসেন দেশ বিদেশের সাহিত্য সংস্কৃতি প্রিয় লেখক কবি পর্যটকবৃন্দরাও।
ঊনকোটি জেলার আরো একটি মহকুমা শহর কুমারঘাট। রেল শহর নামেও কুমারঘাটের সুনাম আছে।দেওনদী ও মনুনদী বেষ্টিত এই শহর এক সময় কোমররা নদী দিয়ে এই অঞ্চলে হাঁড়ি কলসী পাতিল বিক্রি করতেন।কালক্রমে এই অঞ্চল কুমারঘাট নামে অভিহিত হতে শুরু করে।লোকশ্রুতি এমনই।
এখন যেখানে বাজার তাকে পাবিয়াছড়া বাজার বলা হতো।সমূহ অঞ্চলের উপর বাহিত হয়ে একটি ছড়া এসে দেওনদাীতে নেমেছে।ছড়াতে এক সময় প্রচুর পাবদা পাওয়া যেত।লোকে সেজন্য ছড়াএিকে পাবিয়াছড়া বলতো।কালক্রমে ছড়ারও গভীরতা কমে পাবিয়াছড়া আজ ব্যবসাহিক শহর।ছড়াকে আবদ্ধ করে বাড়ি ঘর দোকান পাঠ সারি সারি হয়ে জল প্রবাহের গতি পরিবর্তন ও বৃষ্টিপাতও তুলনায় কমে ছড়াও প্রায় মৃত।এখন পাবিয়াছড়াকেও লোকে আর পাবিয়াছড়া বলে তেমন উল্লেখ করেন না।প্রায় সকলের মুখে মুখে পাবিয়াছড়া এখন কুমারঘাটই।কুমারঘাট এখন নানা কারণে ব্যস্ততম শহরের রূপ নিয়েছে।
এই কুমারঘাট মহকুমার উল্লেখযোগ্য গ্রাম পাড়া ছড়া স্থান নিয়ে কিছু লেখার নেশাথেকে প্রায় ১৫বছর থেকে নানা তথ্য ও তত্ত্ব সংগ্রহ করতে শুরু করেছিলাম ২০০৩ সাল থেকে।
সেগুলোই ক্রমশঃ প্রকাশ করবো।
এতে আমার নেশা ও ভালোবাসা মেশানো থাকবে।কোথাও ভুল হলে সুধী গুণীজন পাঠক ধরিয়ে দিলে উপকৃত হবো।
#ফটিকরায়#
সোনা রায়ের পুত্র ফটিকরায় ছিলেন মোগল আমলে কৈলাসহরের এই অঞ্চলের একজন কারকোন।কারকোন হলো কারকোই।সোনা রায়ের পুত্র ফটিক রায় ছিলেন এই সদর অঞ্চলের কারকোন বা কারকোই।
এ সম্পর্কে ড:বিভাস কিলিকদার সুন্দর ভাবে তাঁর ফটিকরায়:সেকাল -একাল প্রবন্ধে লিখেছেন:"
"..উত্তর ত্রিপুরার* কৈলাশহর মহকুমায়** অবস্থিত মনু নদী দিয়ে ঘেরা অঞ্চলটির নাম ফটিকরায় ।এর অনেক প্রাচীন ঐতিহ্য আছে । বিশেষ করে 'ফটিকরায়' নামটাই অঞ্চলের অতীত ঐতিহ্য বহন করছে......
ত্রিপুরায় তখন কল্যাণ মাণিক্যের রাজত্বকাল (১৬২৬-১৬৫৯)। তাঁর রাজত্ব কালে বেশ কয়েকবার মোঘলদের সাথে তাকে যুদ্ধ করতে হয়েছে । কিন্তু রাজত্বের শেষ দিকে একবার মোঘলদের সাথে যুদ্ধে তাঁর শোচনীয় পরাজয় ঘটে । পরিণামে সমস্ত কৈলাশহর বিভাগ তার হাতছাড়া হয়ে যায় , এবং মোঘলদের হস্তগত হয় । তখন দিল্লীর সিংহাসনে সম্রাট শাহজাহান আর বাংলার শাসনকর্তা সূলতান সূজা । কৈলাশহর বিভাগের শাসন কার্য শ্রীহট্টের মোঘল শাসনকর্তার প্রত্যক্ষ কর্তৃত্বাধীনে আনা হল । সমস্ত কৈলাশহর বিভাগের শাসনকার্য পরিচালনার জন্য একজন 'কারকোন' নিযুক্ত করা হলো । এই কারকোন কে স্থানীয় ভাবে 'কানকোই'ও বলা হত। এই কারকোন বা কানকোই এর সদর কার্যালয় ছিল ফটিকরায় ।সোনা রায়ের পুত্র ফটিক রায় ছিলেন একজন কারকোন । তার নাম অনুসারেই অঞ্চলটির নাম হয় ফটিকরায় । কৈলাশহর বিভাগ যতদিন মোঘলদের অধীনস্থ ছিল ততদিন এই ফটিকরায়ই ছিল এই বিভাগের সদর কার্যালয়..."
ফটিকরায়ের সাথে কুমারঘাটের যোগাযোগ এই সেদিনও নৌক ছিলো ভরসা।মনু নদীর উপর পাকাব্রীজ দুই জনপদের সাথে মিলন ঘটায়।ততদিন ফটিকরায় ছিলো বিস্তীর্ণ অঞ্চলের শিক্ষা স্বাস্থ্য ব্যবসার প্রধান জনবহুল জনপদ।
কালক্রমে ফটিকরায় থেকে কুমারঘাটের যোগাযোগ যত সহজ হয়েছে ততই ফটিকরায় রক্ত শূন্যতায় আক্রন্ত মুমুর্ষ মানুষের মতোই হারিয়ে যাচ্ছে জৌলস।
ফটিকরায় এখন একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র তহশীল কাছারী একটি কলেজ একটি গ্রামীণ ব্যাঙ্কসহ দ্বাদশশ্রেণি বিদ্যালয় সহ অসংখ্য বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়ে পরিকাঠামোয় অনেক এগিয়ে।
ফটিকরায় বিদ্যালয় এক সময় চাঁদা তুলে গোপেশবাবু ব্যয় নির্বাহ করতেন।তাও এখন আধাসরকারী ব্যবস্থায় দেখবাল হয়।এক সময় থালছড়া গোবিন্দবাড়ি ছৈলেংটা মনু ময়নামা কাঞ্চনবাড়ি রাতাছড়া মশাউলীসহ প্রায় ধলাইজেলা থেকে উত্তর ত্রিপুরা জেলার প্রধান মুখ ছিলো শিক্ষা মানচিত্রে।
ফটিকরায়ের পার্শ্ববর্তী রাতাছড়া ছিলো রাজমালা কথিত রাজধর মানিক্যের রাজ অভিষেকের পীঠভূমি।পরবর্তী কিস্তি লিখবো সেই রাতাছড়া নিয়ে।পাঠক সঙ্গে থাকুন।
১১:০৬:২০১৮
বিকেল:০৫:২০মি
কুমারঘাট।
(চলবে)
0 Comments