গোবিন্দ ধরের কবিতা
যে শহরে তুমি নেই সে শহর আমার নয়
গোবিন্দ ধর
আমার কোনো নিজস্ব বাড়ি নেই
নিজস্ব জমি নেই।
নিজস্ব শহর নেই।
দেওনদী শহরকে আপন করেছিলাম।
দেও মনুর শহরকে আমার শহর মনে করতাম।
দেও মনুর শঙ্খলাগা শহর আমার শহর মনে করে
কাটিয়ে দিয়েছি জীবনের কুড়ি কুড়ি বসন্ত।
শঙ্খলাগা শহর আমাকে আপন করতে পারেনি।
এই শহরে একটি বাড়ি হোক চেয়েছিলাম।
এই শহরে একজন তুমি থাকবে চেয়েছিলাম।
এই শহর বরং আমার সব কেড়ে নিলো
মেয়েটি আমার থেকে দূরে ধর্মনগর এখন।
আমার ছেলেটি আমার সাথে অথচ সাথে নেই।
আমার সুমিতা আমার সাথে অথচ এক ঘুরের মাঝে
সংসারের রূপকাঁথা সিলি দিতে দিতে নিঃসঙ্গ সেও।
এই শহরে একজন কেউ ছিলো যার জন্য পিতার বাস্ত ছেড়ে
চলে এসেছিলাম একজন মানুষ আছে
তার ভালোবাসার ডাক অস্বীকার করতে পারিনি।
তাকে আমার সব দিলাম।
তাকে আমার উজাড় করা রক্ত বিন্দু ঘাম শ্রম মন
সবই দিলাম।
একটি মেয়ে দিলাম।একটি ছেলে দিলাম।
এই শহরের পথে পথে আমার মিছিলের আওয়াজ
বাতাসে শ্রমিকের অধিকার আদায়ের স্লোগান
কান পাতলে এখনো ধ্বনিত হয়।
এখানে গান দিলাম।ঐক্যের কথা বললাম।
এই শহরের প্রতিটি মাটিতে আমার ঘামরেণু পড়ে রইলো।
এই শহরের ঘরে ঘরে সংস্কৃতির শেকড় গেঁথে রেখেছি
অথচ এই শহর এতই বেইমান কৃতজ্ঞতা জানে না।
এই শহরের কাছে কিচ্ছু চাইবার নেই।
এই শহর নিঃস্ব হওয়ার শহর।
এই শহর ব্যবসার শহর।এই শহর কেড়ে নেওয়ার শহর।
এই শহরে কেউ কারো নয়।
এই শহরের জন্য জীবন তচনচ করেছি।
এই শহরের নিকট নতজানু হয়েছি।
এই শহরকে বুকের ভেতর জলছলাৎছল ঢেউ দিয়েছি
মন দিয়েছি ঘাম দিয়েছি গান দিয়েছি
পরস্পর পরস্পরের নিকট নতজানু থাকার গল্প বলেছি
এই শহরে এসে সব উজাড় করে দিয়েছি
অথচ এই শহর আমার রক্ত সমেত শোষণ উৎপীড়ন
আর অপমানই ফিরিয়ে দিলো।
এই শহরের ঘাসলতাপাতায় আমার পায়ের আলতো ছাপ রাখা
যেন ঘাসের কষ্ট না হয় তা-ই করেছি।
বিনিময়ে এই শহর আমার সব কেড়ে নিলো।
এই শহর আমার মেয়েকে অন্য শহরে নিয়ে গেলো
এই শহরে একজন তুমি ছিলো তাকেও কেড়ে নিলো
এই শহরে আরেকজন তুমি ছিলো সেও মুখ ফিরিয়ে নিলে
আমার জীবনের গান থেমে যায়।
আমার শহরে এখন আমি নেই। তুমি নেই। মেয়ে নেই।
মা নেই। বাবা নেই। অথচ এই শহর আমার মায়েরও শহর ছিলো।
এই শহর আমার বাবারও শহর ছিলো।
এই শহরের মাটির উপর আমার বাবার পায়ের চিহ্ন আছে।
এই শহরের বুকে আমার মায়ের মুখ পড়ে আছে।
এই শহরের চায়ের দোকানে আমার বাবা এখনো চা খান।
আমার মা ঘুরে বেড়ান।
আমার মায়ের বাবা মা এই শহরের হাওয়ায় উড়েন।
অথচ এই শহরে তুমি নেই।
এই শহরে একজন তুনি নেই।
যে শহরে আমার গান ছিলো সুর ছিলো
অথচ এই শহরে তুমি নেই।
এই শহরে তুমি নেই। যে শহরে তুমি নেই
সেই দেও-মনু শঙ্খলাগা শহর এখন আর আমার নয়।
১৮:০৬:২০২৩
সকাল:০৭:৩৫মি
কুমারঘাট।
0 Comments