গোবিন্দ ধরের কবিতা
বিদ্যালয়
চৈতন্য ফকির
বিদ্যালয় আমাদের মেধা বিকাশের হাসপাতাল।
আমার বাবা মা অথবা ইতিহাস সচেতন ঠাকুরদা দেবেন্দ্রনাথ
বড় রায়টের সময় দেশ ছেড়ে ছেঁড়া মানচিত্র
বগলে করে চাতলার বর্ডার ক্রস করে
দুচোখ বরাবর হাঁটতে হাঁটতে চলে আসেন ইন্ডিয়ায়।
ঠাকুরদার স্বপ্নে গড়া বিদ্যালয় মিঁয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
দীর্ঘ তিরিশ বছর শিক্ষকতা করে
দেশভাগ আটকাতে পারেননি।
ঠাকুমার মুক্তিযুদ্ধের স্পিহা তাও
ফেলে দিয়ে এলেন ভারতে।
লিগেসিডাটা নেই বলে আমি তাদের তৃতীয় পান্ডব মহাভারত থেকে ছিঁটকে পড়া স্কুল ছুট বালকের মতো বর্ণমালা জানি না।
বিদ্যালয় আমায় অক্ষর কেড়ে নিতে চায়।
আমি বাহান্ন হই।
একষট্টি হই।
একাত্তর হই।
সাতচল্লিশ হই।
আমি সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে নিহত স্পাইনবৃক্ষ।
দেশ পাহারাদার সৈনিক।
আমার শরীর শুধু বুলেট খেয়ে শহীদ হতেই জন্ম।বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা নিলাম দেশসেবার।
দেশ কোথায় শুধুই নষ্ট ভূগোলের সীমানায় রক্ত ছাড়া?
বংশবৃক্ষের শাখাপ্রশাখা জুড়ে আমিও নদীর দিকে দূরন্ত গতিতে ছুটছি।
০৬:০৫:২০১৯
সকাল:১০:৩০মি
রাজেন্দ্রনগর।
0 Comments