আত্মক্ষর || গোবিন্দ ধর 

পর্ব:৮
(বাবাকে নিয়ে শুধু নয়।ধীরে ধীরে লেখাটা মোড় নেবে, বাঁক নেবে।কখনো বাবা।কখনো তাঁর বাবা।কখনো বা বাবার বাবা।কিংবা আমার মাকে নিয়েও লিখবো না এমন নয়।লেখাটা যে আমার কবিজীবন,কিংবা প্রকাশনার টুংটাং কিংবা প্রেম অপ্রেম,অন্ধকার কিংবা আলোকিত অধ্যায় আসবে না এমন নয়।সবই আমার আত্মার অক্ষর। ক্ষরণগুলো হরপের ডানায় উড়ুক চাই।পড়ুন।সাথে থেকে পরামর্শ চাই।প্রতি রবিবার,বুধবার ও শুক্রবার)

গোবিন্দ ধর

গ্রীষ্মের বন্ধে বাবা বাসায় থাকতেন।প্রতিবারই।সব সময়।আর তখন আমাদের বাড়তি আনন্দ লেগেই থাকতো।আমরা বাবার কেটে দেওয়া আম খেতাম।পেড়ে দেওয়া জাম খেতাম।বাসার কাঁঠাল গাছের গাছ পাকা কাঁঠাল বাবা পেড়ে দিতেন।কোষগুলো নিয়ে সবাইকে ডাকতেন।আমরা একসাথে ভাইবোনরা খেতাম।কত আনন্দ।উদর ভরে যেতো কাঁঠালের রসে।বাবা যেন ছেলে মেয়ের মুখে পাকা কাঁঠাল কোষ তুলে দিয়ে পরম তৃপ্তি পেতেন।আমরাও বাবার আনন্দোৎজ্জ্বল মুখ দেখে নিজেরাও আনন্দিত হতাম।
বিকেলে বাবা বাসায় থাকলে বাড়ির সামনের ঝিলে বড়শি নিয়ে বসতেন।বাবার বড়শিতে মাছ গেঁথে উঠেনিএমন দিন নেই।যেন বাবার বড়শিতে ধরা দেওয়ার জন্য জন্ম নিয়েছে মাছগুলো।একদিন অনেক বড় রুই মাছ বড়শিতে ধরে।বাবা বড়শির ছিপ দিতেই বড়শির হাতল অংশ ভেঙ্গে যায়।আর বাবাও মাছের শক্তির কাছে পরাজিত হয়ে জলে পড়ে যান।বাবাও মাছ শিকারে কম নয়।বাবা বড়শির হাতল ছাড়েননি।জলে নেমে ধীরে ধীরে বুদ্ধিমত্তার সহিত নিজের কৌশলে নেন মাছ।রুই মাছকে বাগে আনতে পেরেও দেখেছি বাবার তৃপ্তি আঁকা চোখ।সেদিন বাবার সাথে আমিও ছিলাম।
যেদিন বড়শি নিয়ে বাবা বসতে পারতেন না সেদিন যখন যেখানে থাকেন সেখান থেকে মাছ কিনে আনতেন।মাছের প্রতি বাবার খুব জমতো।মাছেভাতে বাঙ্গালী হিসেবে আমাদের ছোটবেলা কেটেছে পরম রসনার তৃপ্তি সহযোগে।
আমরা মাঝে মাঝে ক্ষেতের থেকেও মাছ ধরতাম।জমিন চাষের সময় মাছ গোলা জলে ভেসে ওঠে।তখন মাছ শিকার খুবই সহজ।আমরা চাষের জমি থেকে সকাল সকাল ছোট ছোট পুঁটি,দাঁড়কিনা, লাঠি,কই,মাগুর,শিং মাছ ধরে আনতাম।ছোট মাছ খেতে খুব আনন্দ।রসনায় ছোটবেলার স্বাদ লেগে আছে আজো।এখন ক্ষেতে বিষ প্রয়োগ,নদী নালায় বিষ,নানান ঔষধ প্রয়োগের কারণে ছোট মাছ আর পাওয়াই দুষ্কর।এতে মাছেভাতে বাঙ্গালীর বৈশিষ্ট্যও ম্লান হচ্ছে।বিকল্প হিসেবে সার ও নানাহ কৃত্তিম পদ্ধতিতে মাছচাষ যদিও আমাদের মাছের চাহিদা দূরকরছে তবুও মাছের স্বাদ আর পাওয়া যায় না।
এটা শুধু মাছ নয়।সকল শাঁকসব্জীর আর আগের স্বাদ পাওয়া যায় না।আমাদেরও একটা ছোট পুকুরও ছিলো।তাতেও ছোট মাছসহ কিছু পরিমান বড় মাছ চাষ হতো।এতে আমাদের নিজেদের চাহিদা পূরণ হতো।আমাদের ছোটবেলা বেশ হেসে খেলে কাটিয়ে দিলাম।আজ আর সে আনন্দ নাই।

০৭:০৬:২০১৭
বেলা:১২:০০মি
কৈলাসহর।