আত্মক্ষর||গোবিন্দ ধর
আত্মক্ষর
পর্ব:১০
(বাবাকে নিয়ে শুধু নয়।ধীরে ধীরে লেখাটা মোড় নেবে, বাঁক নেবে।কখনো বাবা।কখনো তাঁর বাবা।কখনো বা বাবার বাবা।কিংবা আমার মাকে নিয়েও লিখবো না এমন নয়।লেখাটা যে আমার কবিজীবন,কিংবা প্রকাশনার টুংটাং কিংবা প্রেম অপ্রেম,অন্ধকার কিংবা আলোকিত অধ্যায় আসবে না এমন নয়।সবই আমার আত্মার অক্ষর। ক্ষরণগুলো হরপের ডানায় উড়ুক চাই।পড়ুন।সাথে থেকে পরামর্শ চাই।প্রতি রবিবার,বুধবার ও শুক্রবার)
গোবিন্দ ধর
বাবাকে নিয়ে আমার কথার শেষ নাই।কথার পর কথা।বাবার হাঁটা,কথা বলা নির্দেশ, জীবন,যাপন মানুষকে নিয়ে বাবার ধারণাও উচ্ছে ছিলো।বাবা সকল মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতেন।বাবার দেখানো পথ আমার পথ।বাবা বলতেন বা দিক বরাবর হাঁটতে হয়।আমিও হাঁটছি।আজো।সারা জীবন হাঁটছি।এ হাঁটা থামবার নয়।হাঁটা চলছে।পা ক্লান্ত হলে বাবা বলতেন একটু জিরিয়ে আবার হাঁটবে।একটু থামবে আবার হাঁটবো।বাবা বলতেন ছাযায় ছায়ায় সিলেট যাওয়া যায়।থামবার প্রয়োজনে থামবে।আবার হাঁটবে।হাঁটা শরীর চর্চারই প্রয়োজন।মাঝে মাঝে পা-কে বিশ্রাম দিলে অনেকদূর হাঁটা যায়।
আমি বাবার সাথে ছোটবেলা থেকেই হাঁটছি।বাবার হাত ধরে বাবাকে বড় রাস্তায় গাড়িতে তুলে দিতাম।বাবার তখন বিলথৈ চাকুরী।বাবাকে নিয়ে আমি কুমারঘাট গাড়িতে তুলে দিতাম।তারপর বাসায় এসে স্কুলে যেতো হতো।সন্ধ্যায় আবার নিয়েও আসতাম।
বাবাকে গাড়িতে তুলে দেওয়া আর নিয়ে আসা মূলতো বাবার হাই ব্লাড প্রেসার তিনবার স্ট্রোক সে জন্য।
বাবারও চলছিলো।শেষবার বাবা গ্রীষ্মের ছুটি কাটাতে বাসায় এসে তিরিশ মে আমাদের ছেড়ে শেষ স্ট্রোক করেন।তখন থেকে বাবার হাঁটা বন্ধ হলেও আমি ক্রমাগত বাবার পথ বাম পথ ধরেই হাঁটছি।বাবা বাম পথকে মুক্তির পথ বলতেন।কোনদিন ফুরোয়নি এ পথ।আমার পথ তাই বাম পথে কেবল হাঁটতে থাকার পথ।হাঁটতে হাঁটতে আমি পথ পাই।পথ আমাকে পথ দেখায়।আমি পথ দেখি।পথ আমার সামনে চলার শিক্ষক।
১১:০৬:২০১৭
বেলা:০৭:২০মি
0 Comments