আত্মক্ষর:পর্ব-১৬

গোবিন্দ ধর

আমরা অল্পতেই কত সুখি ছিলাম ছোটবেলা।স্কুলে যখন ভর্তি হই তখন থেকে আজ অব্দি আমার চাহিদা আর যোগান এক হয়নি।অবশ্য তখন আমাদের চাহিদাই বা কি এমন ছিলো। বাবার সাথে বাজার শেখা কিছু কিছু করে হয়ে যাওয়ার পর বাবা লিষ্ট ধরে দিতেন।লিষ্ট অনুসারে আমরা বাজার করতাম।তখন একদম নিচে হয়তো এ প্যাকেট লটাস বিস্কুট।কিংবা লেখা থাকতো চকলেট।কোন কোন দিন বাবার এক সংখ্যার কাছে আরো একটা শূন্য বসিয়ে দশ করে নিতাম ঠিকই তা বাবাকে আবার বলেও দিতাম।বাবা রাগ করতেন।পরে আর এমন করতাম না।বাবার পাছে কষ্ট হয় তাই।
এখনের বাচ্ছাদের মতো স্কুলে আমরা কোন টিপিন নিতাম না।কিংবা টিপিন দেবার মতো চল ছিলো না।আমাদের সব ভাই বোনদের জন্য টিপিন দিতে হলে সারা মাস আর খাওয়ার সুবন্দোবস্ত থাকতো না।রক্ষে এতটা বায়না আমরাও করিনি।না হয় আমাদের পরিবার আধপেটে থাকতে হতো।
আমরা খেলার সবও তেমন পেতাম না।স্কুল হাপেনাওয়ারে আমরা দুন্দুবুড়ি দুন্দুবুড়ি খেলেই সময় কাটিয়ে দিতাম।
দুন্দবুড়ি মাটির গভীর থেকে বের করে আনতে একটা ছড়া কাটতাম আমরা
দুন্দুবুড়ি
দুন্দুবুড়ি
-----------
------------।
তখন দুন্দুবুড়িও নেচে নেচে ঠিক বেরিয়ে আসতো।
এমনি করেই আমাদের ছোটবেলা স্কুলবেলা কাটিয়ে দিলাম।একটা মাত্র পোশাকে।তখন স্কুল ড্রেসের বেলাও এমন কড়া ছিলেন না হেড স্যার।আমাদের একটা মাত্র ড্রেস।সে বাড়িতে,বাজারে স্কুলে সব খানেই। আর আমরা ভাই বোনরা তো এক রকম ড্রেসই পরতাম
বাবা এক রকম পোশাক বানিয়ে দিতেন।আমাদের একজন খলিপা ছিলেন।নাম ক্ষিরোদ দেব
বাবা বলে দিলে আমাদের জামার মাপ নিতে তিনি বাসায় আসতেন।সবার মাপ নিতেন।বাবা খাকি পোশাক আর নীল জামা সবার জন্য দিতেন।
এমনি করে আমরা বড় হলাম।রাস্তায় বের হলে আমাদের বাবা কে নাম আর বলতে হতো না।আমাদের বাড়ির ড্রেস তখন রাতাছড়ায় আর কেউ তেমন পরতো না।
আমরা এই ড্রেসকোট বহুদিন বাবার কল্যানে বজায় রাখি।

১৮:০৬:২০১৭
রাত:১১:১০মি
কুমারঘাট।