সম্পাদকের দায়িত্ব ও সম্পাদনা || গোবিন্দ ধর
সম্পাদকের দায়িত্ব ও সম্পাদনা
গোবিন্দ ধর
কথাপৃষ্ঠা
সম্পাদক এখন হাত বাড়ালেই। কিংবা যতজন লেখক সকলেই সম্পাদক। সকল সম্পাদকেরই নিজেকে সম্পাদনা করতে জানা জরুরী।সে নিজস্ব লিটল ম্যাগাজিন হোক কিংবা সংকলিত গ্রন্থ নির্মানই হোক।
হাউজসস্টল
প্রতিটি লিটল ম্যাগাজিনের একটি হাউসস্টাইল তৈরী করতে হবে।হাউজস্টাইল শব্দটির সাথে আমার পরিচয় হয় তথ্য সংস্কৃতি আধিকারিক দিনেশ দেবনাথদার মাধ্যমে স্রোত সাহিত্য পত্রিকা ও প্রকাশনা দীর্ঘদিন প্রকাশ করতে করতে বহু জ্ঞানীগুণীদের সান্নিধ্যে পৌঁছার প্রয়োজন হয়েছিলো। কখনো লিটল ম্যাগাজিনে লেখা সংগ্রহের আমন্ত্রণ চিঠি পৌঁছে দিতে গিয়েছি।কখন স্পনসর বিজ্ঞাপন তুলে আনতেও তাঁদের সান্নিধ্যে পৌঁছার প্রয়োজন হয়েছিলো। এরকম এক বইমেলায় তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরে যেতে হয়।তখন আমাদের স্রোত ত্রিপুরা সরকারের কোনো পুরস্কার সম্মান পায়নি।২০১০ সাল নাগাদ এই জ্ঞান সঞ্চয় হয় আমার।কথা সেরে দিনেশদাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নেমে আসছি।এমন সময় দিনেশদা লোক পাঠিয়ে নিজে দোতলা থেকে নেমে এসে বললেন আপনাকে একটি কথা বলা হয়নি তাই বিরক্ত করছি।স্রোত প্রকাশনার প্রতিটি বইয়ের হাউসস্টাইল এত সুন্দর। একই রকম।এই ভাবনাকে কুর্ণিশ জানাতেই আপনাকে ডাকলাম পিছন দিক থেকে। কিছু মনে করবেন না।আসলে আগরতলায় থেকেও অনেক প্রকাশনা এই বিষয়টি বুঝেন না অথচ আপনি মফস্বলের কুমারঘাট রাতাছড়া থেকে এই কাজটি করেও কী করে রপ্ত করলেন হাউজস্টাইল বিষয়টি?আমি তো থ বনে গেলাম।আমি তখন অব্দি হাউজসাস্টল কী খায় না মাথায় দেয় কিচ্ছু জানতাম না।বুঝতামই না।শব্দটি সাথে প্রথম শ্রবণ হলো।তিনি বললেন আপনি নিশ্চয়ই প্রকাশনা বিষয়ক ডিগ্রিপ্রাপ্ত?আমি সমধিক আশ্চর্য হয়ে সেদিন বললাম একাডেমিকভাবে আমি কোনো ডিগ্রিপ্রাপ্ত নয়।মাছি মারা কেরানিও নয়।তবে আমার নিজস্ব রুচিবোধ থেকে মনে হয়েছে এরকম হবে।আমি তাই করেছি।আর হাউজস্টাইল শব্দের সাথে আমি আজকেই পরিচিত হয়েছি।তিনি আমাদের কাজকর্মের প্রশংসা করে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন।আমিও না জেনেই যে কাজটি রপ্ত করেছিলাম জানার পর আরো নিবিড় পরিচর্যায় হাউজস্টাইল সমৃদ্ধ করেছি।এখনো দেখছি ত্রিপুরার প্রকাশনাগুলোর অধিকাংশ প্রকাশক কর্ণধার এমন কী লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদকেরা হাউজস্টাইল শব্দের সাথে পরিচিত নন।শব্দের সাথে পরিচয় মুখ্য নয় শিল্পের সাথে পরিচয় থাকা জরুরী। নয়তো কোনো কাজই শৈল্পিক হয় না।দুর্ভাগ্য ত্রিপুরায় ৫০টির উপর লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদকের অজান্তে এবং গোটা কয়েক প্রকাশককেও হাউজস্টাইল সমৃদ্ধ প্রকাশনার হাতেখড়ি দিয়েছি।এখনো বিষয়টি না বুঝলেও সেই সকল সম্পাদক ও অনেক প্রকাশক কৃতাজ্ঞতা তো দূরের বিষয় শব্দের সাথেই পরিচিত নয়।
নামলিপি
২০০৩ সালে ধর্মনগর রাজবাড়ী থেকে স্রোত প্রকাশ করার সময় অজয়কুমার রায় মহোদয়ের নিকট প্রথম বুঝলাম লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশের নানা দিক।নামলিপি একটি সুনিদ্রিষ্ট বিষয়।।কবি সন্তোষ রায় মহোদয় বলেন স্রোতের একটি লগো করা প্রয়োজন। অজয়দাকে বলি কী করবো।তখন তিনি কবি সুনীল ভৌমিকের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন।সুনীলদাকে রিক্যুয়েস্ট করতেই সানন্দে তিনি সম্মতি জানালেন।বিকেলের মধ্যে নামলিপি রেডি। প্রচ্ছদ রেডি। অজয়দার প্রেসে চলে আসে প্রচ্ছদ ও নামলিপি।২০০৩ সাল থেকে আমরা একই রকম স্রোত শব্দটি প্রকাশনা ও সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করার সময় ব্যবহার করে আসছি।এই বিষয়টি অধিকাংশ লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকই বুঝেন না।অধিকাংশ প্রায় ৫০ টি লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদককে আমি লগো বা নামলিপি করিয়ে দিয়েছি।নানা শিল্পীর নিকট থেকে। অধিকাংশ সম্পাদকই শিল্পীকে এই কাজের জন্য কোনো পারিশ্রমিক প্রদান করেননি।আমার নিজ গাট থেকে শিল্পীকে নামলিপির পারিশ্রমিক প্রদান করেছি।কিন্তু দুর্ভাগ্য সেই কৃতজ্ঞতা বোধ নেই এই সকল লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদকদের।পাশাপাশি নামলিপি ও শিল্পীর নাম প্রতিটি সংখ্যায় রাখতে হয়। এটা কোনো লজ্জার বিষয় নয়।প্রেস এক্ট অনুযায়ী তা সম্পাদককে মানতে বাধ্য।
প্রেসের নাম
প্রতিটি লিটল ম্যাগাজিন ও প্রকাশনা সংস্থা প্রতিটি লিটল ম্যাগাজিন ও বই প্রকাশ হবার আগে যত্নসহকারে প্রেসের নাম রাখা বাধ্যতামূলক।এই ছোট ছোট বিষয় মনোযোগ দিয়ে সম্পাদকদের করে নিতে হবে নয়তো ভারতীয় মুদ্রণ আইন অনুযায়ী তা না রাখার দায় থেকে মুক্ত নন সেই সকল সম্পাদকেরা।প্রেসের নাম রাখা বাধ্যতা মূলক।
প্রুফ সংশোধন
খুব জরুরী বিষয় হলো প্রুফ সংশোধন করা। প্রতিটি বইপত্র প্রকাশের আগে অবশ্যই প্রুফ বার কয়েক দেখা জরুরী। সম্পাদক নিজে প্রুফ সংশোধন করতে অপারগ হলে প্রফেশনাল প্রুফ রিডার দিয়ে এই কাজটি করানো দোষনীয় নয়।কিন্তু প্রুফ কারেকশন করেই ছাপাছাপির কাজ করতে হয়।যদিও ছাপার ভুত বলে একটি বিষয় প্রেস ও লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক প্রকাশকদের ঘাঢ় গুঁজে বসে থাকে তবুও যত্নের সাথে দক্ষতার সাথে প্রুফ রিডিং করা প্রয়োজন।
১লা অক্টোবর ২০২৩
সকাল:০৭টা২০মি
কুমারঘাট।
0 Comments