অশোকানন্দ রায়বর্ধন মহোদয়ের পোস্টে
লিটল ম্যাগাজিন প্রসঙ্গে তমালশেখর দে'র প্রস্তাব। 
অথচ ত্রিপুরায় লিটল ম্যাগাজিন ও গ্রন্থমেলা আয়োজন করে আসছেন প্রকাশনা মঞ্চ 

সংকলন :গোবিন্দ ধর


অশোকানন্দ রায়বর্ধন এর পোস্ট :
শুনলাম ৯—১৭ডিসেম্বর আগরতলা পুস্তকমেলা চিলড্রেন্স পার্কসংলগ্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে । উদ্যোক্তাদের প্রতি শুভকামনা রইল । সেইসঙ্গে মফঃস্বলের বইপিপাসুদের সুবিধার জন্যে আবেদন রাখছি মেলা প্রতিদিন একটা থেকে খোলা রাখা হোক । যাতায়াতের সুবিধার ফলে এখন প্রতিদিন বহু মানুষ মফঃস্বল থেকে রাজধানীতে আসেন।  দুপুরের পরটায় মেলাপ্রাঙ্গন খোলা থাকলে কিছুক্ষণ সময় মেলায় ঘুরে শেষ ট্রেনে বাড়ি ফিরে যাওয়া যাবে । বিষয়টা ভেবে দেখার জন্যে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আবেদন রাখছি ।


তমালশেখর দে এর প্রস্তাব :
যতদিন পুস্তকমেলার সাথে লিটল ম্যাগাজিন এক করা হচ্ছে না, ততদিন ত্রিপুরায় অন্তত পুস্তকমেলা জমজমাট বা ফলপ্রসূ হবে বলে মনে হয় না।  অনেক বছরের পর্যবেক্ষণ থেকে  মনে হল এটা। একবার পরীক্ষামূলক চেষ্টা করে দেখতে পারেন আয়োজকরা।  ফাঁকা মাঠ দেখতে কার ভালো লাগে।  আগরতলা বইমেলায় লিটল ম্যাগাজিন স্থান বা স্টল থাকে উপেক্ষিত। ভীড়ের মধ্যে কোথায় যেন সে তার  গরিমা হারিয়ে ফেলে। আমাদের এখানে আলাদা করে লিটল ম্যাগাজিন মেলাও হয় না, হওয়া সম্ভবও না,  নানা সংগত কারনে। 
সব মিলিয়ে তাই মনে হল, একবার ভেবে দেখতে পারেন পুস্তকমেলা কমিটি।

তমাল শেখর দে'র প্রস্তাব :এই প্রস্তাবটা নিয়ে আরও একটু খোলামেলা আলোচনা হলে মন্দ হয় না!!! 
মতামত রাখুন না!


তমাল শেখর দে'র প্রস্তাব :এই প্রস্তাবটা নিয়ে আরও একটু খোলামেলা আলোচনা হলে মন্দ হয় না!!! 
মতামত রাখুন না!



অনিকেত মৃণালকান্তি :২:এটা হলে ভালোই হবে।কিন্তু করবে না...

তমালশেখর দে:অনিকেত মৃণালকান্তি দুই জানি করবে না!  এমন একটা নিষ্প্রাণ পুস্তকমেলা দেখতে খারাপ লাগে। এই যা!

দিব্যেন্দু নাথ:ভালো হবে।


রতন চন্দ :সহমত। খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আলোচনা হোক, প্রস্তাবটি নিয়ে ইতিবাচক ভাবনা জরুরি।


চয়ন সাহা:দাদা আসলে এখন বইমেলা / পুস্তক মেলা এই সব আয়োজনে প্রকাশকদের দাপিয়ে বেড়ানোই মূল কথা। কোনো কোনো প্রকাশক একাধিক নামে স্টল বুক করেন। অনুষ্ঠানে সূচী নির্ধারণেও তারাই। কিন্তু লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে দুকথা বলার সুযোগ ও প্রয়োজন কারোর নেই। অথচ লিটল ম্যাগাজিন নিয়মিত ছাপান অনেক প্রকাশকই। এই লিটল ম্যাগাজিনকে একঘরে করে দেওয়া,প্রদর্শনীতে কোনঠাসা করে রাখা এটা নিয়মিত হয়ে আসছে। এই সব নিয়ে কেউই সাড়া দেয় না। কিন্তু.................


তমালশেখর দে:Chayan Saha তারপরও আশা নিয়েই তো বেঁচে থাকতে হয়।


চয়ন সাহা :Tamal Shekhar Dey সেই আশা নিয়েই আমরা বসি। অগ্রজরা সাহস দেয়। পথে হাঁটার সম্বল দেয়।


অপাংশু দেবনাথ :উদ্যোক্তাগণ মানে প্রকাশনা সংস্থাগুলোর বেশির ভাগই লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ করার  মাধ্যমেই প্রকাশনার জগতে এসেছেন। অথচ লিটল ম্যাগাজিনের প্রতি আর আগ্রহ রইলোনা তাদের কারও। ওরা উদ্যোগ নিলে নিশ্চয়ই পুস্তক মেলার সঙ্গে লিটল ম্যাগাজিন  মেলাও হতে পারে। তাতে লোক সমাগম নিশ্চয়ই বাড়বে।লোক সমাগম বেশি হলে বিক্রি একটু হলেও বৃদ্ধি পাবে।

তমালশেখর দে:Apangshu Debnath বিক্রিটাকে আমি বিষয় করছি না, আমি বিষয় করতে চাইছি অংশগ্রহণ করার  উৎসাহটাকে!  পুস্তকমেলা আলাদাভাবে পুস্তকপ্রেমীদের কোনো উৎসাহ বা উন্মাদনা তৈরি করতে প্রায় ব্যর্থ।  গতবারও তো দেখলাম, মেলায় সব আছে, কেবল কবি- লেখক নেই!  অথচ কাছেই সবাই আড্ডায় ছিল। এই না-যাওয়ার কারন  সেদিন আমাকে খুব ভাবিয়েছিল।

অপাংশু দেবনাথ :Tamal Shekhar Dey দেখো ওরা ওদের বৃত্ত ভেঙে বের হবেনা।  বৃত্তের ভেতর থেকে নিজেদের অহমের প্রকাশ করবেন। না কোনো প্রচার না কোনো বিশেষ উদ্যোগ।  জনবিচ্ছিন্ন এই মেলা কি করে সফল হবে।  তুমি কবি সাহিত্যিকদের কথা বলছো? আসলে নেমন্তন করে মানুষকে কোথাও নেওয়া যায়না এখানে বিনা নেমন্তনে কেন যাবেন কবিরা।  সামান্য প্রচার না করে একটি প্রেসমিট করে মেলা করলেই মানুষ যাবেন?  কি ভাবা হচ্ছে মানুষকে?


গোপেশ চক্রবর্তী :উত্তম প্রস্তাব।


চারু পিন্টু:এটা খুব জরুরী। লিটলম্যাগ কর্মীরাই বইমেলার প্রাণ।

দেবাশ্রিতা চৌধুরী :একদম, লিটলম্যাগ নতুন কবি/লেখকের প্রাণপ্রতিষ্ঠার আঁতুড়ঘর,অথচ এখনও সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। কিন্তু বুঝবে কে?


সম্রাট পাল:খুব ভালো হবে এমন হলে। লিটিলম্যাগ ছাড়া বইমেলা প্রাণহীন..


পার্থ প্রতীম গাঙ্গুলী:Khubvalo prostab


সোনালী রায় বাগচী:অবশ্যই সমর্থন করি প্রস্তাবটি । লিটল ম্যাগাজিন সাহিত্য তথা সাহিত্যিকের আঁতুড় ঘর । তাকে গুরুত্ব দেওয়াটা বিশেষভাবে জরুরি ।


সুমন মহালনবিশ :আমার মনে হয় লিটল ম্যাগাজিন নিয়ে স্বতন্ত্র ভাবে (প্রয়োজনে ছোট পরিসরে) কিছু এক উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। শুরুটা ফুটপাত থেকেই হোকনা।

তমালশেখর দে :Suman Mahalanabish  ভাবা যায়। কিন্তু কমিটি, বাজেট, স্থান,  আয়োজক -- সব মিলিয়ে অনেক বিষয় আছে দাদা। আমি আসলে তাই, একই আয়োজনে দুই প্রাপ্তির কথা বলেছিলাম।


সুমন মহালনবিশ :Tamal Shekhar Dey একবার আলোচনার শুরু করতে আপত্তি নেই। সমস্যা যেমন আছে,তার সমাধানও আছে।

গোবিন্দ ধর :ত্রিপুরা লিটল ম্যাগাজিন ও গ্রন্থমেলা আয়োজন করে আসছেন প্রকাশনা মঞ্চ গত তিন বছর ধরে। সকল লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদক এবং প্রকাশকদের আন্তরিকভাবে আমরা আমন্ত্রণ করি।চিঠি পাঠাই।ফোন ও ব্যক্তিগতভাবেও যোগাযোগ করে অনুষ্ঠানটি গত ২০২১ সাল থেকে আগরতলায় আয়োজিত হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস রাখি এই আয়োজনে সকলের উপস্থিতিতে হতে পারে লিটল ম্যাগাজিনের গতিবিধির উর্বর ভূমি।

তমালশেখর দে :Gobinda Dhar জানি দাদা। আমি পুস্তকমেলার কথা বলেছিলাম।

গোবিন্দ ধর :Tamal Shekhar Dey লিটল ম্যাগাজিনকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এই ভাবনায় কাজ তো শুরু হয়েছে।এই অনুষ্ঠানটিকেই সকলের সহযোগিতা মতামত প্রদর্শন ও উপস্থিতির মাধ্যমে দূর্বলতা যে যে জায়গায় আছে তাকে কাটিয়ে তুলতে সহযোগিতা করলে লিটল ম্যাগাজিনকেই তো গুরুত্ব দেওয়া হলো।তারপর আবার আরেকটি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা অনুভব হলো কেন হঠাৎ?

তমালশেখর দে :Gobinda Dhar হঠাৎ নয়, এটা আমার একটা নিছক আইডিয়া মাত্র। বেশ তিনচার বছরের পুস্তকমেলা দেখার অভিজ্ঞতা থেকে মনে হল।  তুমি যেটা করছ, সেটাও প্রশংসনীয়।

গোবিন্দ ধর :Tamal Shekhar Dey ত্রিপুরার সাহিত্যে যতদিন গোষ্ঠীবাজি থাকবে ততোদিন ত্রিপুরার সাহিত্যের প্রকৃত চরিত্র গঠন অসম্ভব। গোষ্ঠী থাক এতে অসুবিধা নেই। কিন্তু গোষ্ঠীবাজি সাহিত্যের ক্ষতি সাধনই করে।আখরে ত্রিপুরার কবি সাহিত্যিকদেরই ক্ষতি হচ্ছে। এই বিষয়টি যতদিন কবি সাহিত্যিকদের অনুভবে আসবে না ততোদিনই প্রকৃতপক্ষে বইপত্রের বিক্রিও কমবে।এক গোষ্ঠী আরেক গোষ্ঠীর পেছনে পড়বে।অথচ কবি সাহিত্যিকেরা প্রকৃত মর্যাদা পাওয়া জরুরী।জরুরী লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকদের প্রতি আমাদের গুরুত্ব আরোপ।নয়তো আরো আরো অনুষ্ঠান সংখ্যা বাড়বে।তবুও প্রকৃত মূল্যায়ণ হওয়া জরুরী যাদের তারাই হচ্ছেন  হবেনও উপেক্ষিত। আর যাদের কাছে কবি সাহিত্যিকেরা উপেক্ষিত সেখানেই বেশি বেশি করে যুক্ত থাকার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে যাবেন।সুতরাং আগে কবি সাহিত্যিক লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকদের যারা প্রকৃত মূল্যায়ণ করেন তাদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন।আর গোষ্ঠীবাজির দরজায় কড়া নাড়া প্রয়োজন।গোষ্ঠী থাক কিন্তু গোষ্ঠীবাজি নিপাত যাক।এই হওয়া জরুরী মূল মোক্ষম যুক্তি।

০৫:১২:২০২৩
সত্যব্রত চক্রবর্তী :সহমত। কলিকাতা বইমেলায় লিটল ম্যাগাজিনের আধিক্য, ভিড় বড় প্রেরণা জোগায়। এবং সেটা উদ্যোক্তাদের সাধু উদ্যোগও বটে। লোকসমাগম হয়, কেনাকাটা, আড্ডা, সাহিত্যের ভাব বিনিময় হয়। ছোট ছোট প্রকাশকেরা উৎসাহিত হন। এটাকে বাঁচিয়ে না রাখলে বৃহত্তর উত্তরণ অসম্ভব।

বিজন বোস :ঠিক এই কাজটিই গত তিন বছর ধরে করে আসছে প্রকাশনা মঞ্চ। বেশিরভাগ কবি সাহিত্যিক ও লিটলম্যাগ সম্পাদককে আমন্ত্রণ করা হয়। গত তিন বছরের প্রতিবার শত শত সাহিত্যপ্রেমীর উপস্থিতি বই মেলা ও লিটলম্যাগ মেলাকে অন্যমাত্রায় নিয়ে গেছে। সাথে যুক্ত হয়েছে ভারতের অনান্য প্রদেশের এবং বাংলাদেশের লিটলম্যাগ ম্যাগ সম্পাদকদের সানন্দ অংশগ্রহণ। ত্রিপুরা র সকল অংশের কবি সাহিত্যিক ও সম্পাদকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকলে ভবিষ্যতে প্রকাশনা মঞ্চের বইমেলা ও লিটলম্যাগ মেলা নির্দিষ্ট হল ঘর থেকে বেরিয়ে মুক্তাঙ্গনে তথা আরো বৃহত্তর পরিসরে আয়োজিত হয়ে জনমানষে এবং ত্রিপুরার সাহিত্য আন্দোলনকে আরো বেগবান করবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করি।

0 Comments