দ্রোহব্রীজ 
দুই পঙক্তির আত্মক্ষরণ||গোবিন্দ ধর


(১)রক্তঝরার পাঠ(২)

সন্তানের মুখের হাসি কমে গেলে 
অসহায় পিতার বুক ভাঙা নৌকোর মৃতকাঠ।



(২)উপলব্ধি 

সম্পর্কে প্রাণ থাকলে, টান থাকে ;
সময়-দূরত্ব-ব্যস্ততা হার মানে ...

(৩)পূর্বজ

প্রেম অপরাধ নয়।
পূর্ব নিধার্রিত শাস্তি।



(৪)কৃষ্ণপক্ষ

বিদায়ের সময় বিয়োগ চাওনি
হৃদয়ে গেঁথে রাখলাম চাঁদেরগুড়ো।


(৫)খন্ড

ভাগ করতে করতে নিজেই ফতুর,
খন্ডবালক কালখন্ডে লিখি শুধু পাললিক মেঘ।


(৬)বিরহমঙ্গল

আমিও আমার নয়,জানি।
তবু কী মায়া সবই তুমিময়।



(৭)ওয়েটিং লিষ্ট

কোন আইডেন্টি চাইনি ওয়েটিং লিষ্ট মানি না।
যদি আসতেই চাও,তো একটি পথ বানিয়ে নাও।



(৮)আত্মরতি

     লো     
              নি 
                   জে
                           কে

                                  দে
                                         খি।

       র 
            প্রে
                  মে
                         প
                                ড়ি।
(৯)বুকের পশম

পশম গুলো পোষ মানে না বাতাস লেগেছে।
বিলিকাটা দুপুর গড়িয়ে সময় হিসহিস একলা দ্বাপর।



(১০ধ)ব্রা

হুগ খুলতে রক্তাক্ত করে
অসতর্ক সেপ্টিপিন।


(১১)লুডো

মই চড়ে উপরে উঠবে ভেবো না
সাপের মুখ পেরিয়ে ওঠা এত সহজ নয়।


(১২)পদ্যরাগ

যে শহর তোমার জীবন।
সে শহর থেকে ঝরে পড়ে নকল ইট।


(১৩)পাখি

হারমোনিয়াম থেকে পাখিটি গান শেখাবার কথা ছিলো 
সে নিজেই গান হয়ে গেলো। রিড থেকে ঝরে পড়ে নুনজল।

(১৪)মধ্যরাতের পদ্যাণু

রাত গভীর হলে হৃদডুবাতে মাছের খলবল।
তখন ধীবর জাল নিয়ে এলে পায়কি ডুবার তল?


(১৫)বিবাহমঙ্গল

দীর্ঘদিন এক তক্তয় শুলে কেউ কারো 
সাক্ষাৎকার নিতে পারে না।

(১৬)গোপনস্তব

বাৎসায়ন-আকাশ থেকে পেড়ে আনলাম একটুকরো চিত্রিত মেঘ
শেষ রাতে ঝমঝমিয়ে ভিজিয়ে দেবো।


(১৭)ইতিহাস

হয়তো কোনো নতুন প্রভাত ডাকছে।
আমি তো ঘুমোলে হবে না।

(১৮)সময়

সময়ই ঘাঢ় ধরে বলে
এগিয়ে যা।

(১৯)নিরাময়

সম্পর্ক এক বৃক্ষ তার ফুল তার ফল
নিরাময় করে অসুখ।

(২০)গাঙগাথা 

নদী যেখানেই ছোবল বসায়
সেখানেই বসবাস করে আনন্দ ।

(২১)আত্মক্ষর_এক

নিজের সাথে নিজের দ্বন্দ্ব শেষে  পথ বেরিয়ে পড়ে।
প্রধানমন্ত্রী যার নাম দিয়েছেন গ্রাম সড়ক যোজনা।


(২২)অনুভাবনা

কখন ব্যয়াম কর আর কখন প্রেম
এ এক হেঁয়ালি তোমার ।

(২৩)দ্রোহকাল

চলো যাই অকালে মরি সই 
এই শ্রাবন দহনে।

(২৪)ত্রিপুরেশ্বরী এক্সপ্রেস

রাজধানী নির্ভর প্রেমগুলো বিউগল বাজিয়ে 
অন্য রাজধানীর দিকে ছুটছে ।

(২৫)ধানগাছ 

যখন পৌঁছবে আর ফিরবে না ধানগাছ শহর।

(২৬)পাখি

কিচিরমিচির ডাকো।
তুমি না ডাকলে শূন্য খাঁচা।


(২৭)পদ্যচূর্ণ

আহা চুমুতেই আগুনপাখি
চুমুতে চুমুতে এত মদ।

(২৮)শারীরিক 

শরীর শরীর খোঁজে নিশিদিন 
মুহূর্তেই উঠে ঝলমল রোদ।

(২৯)মেঘপদ্য

মেঘলা আকাশ মেঘলা দুপুর।
হৃদ মাঝারে বাজছে নুপুর।


(৩০)শ্রীমতি পর্ণাশ্রী ত্রিপুরা 

নদীর নিকট গেলেই শ্রীমতি পর্ণাশ্রী ত্রিপুরার মুখ 
ভেসে উঠে জলের দর্পণে।

(৩১)পদ্যচূর্ণ

সাঁকো তো ব্রীজ গ্রামীণ হাকম
দুপাড়ের মিলন-পুল।

(৩২)চক্রবুহ্য

চলো, এসো বেরিয়ে যাই
অসীমান্তিক চক্রবুহ্য।


(৩৩)আত্মপদ্য

পাথর হয়ে গেছি, কেউ নেই
ঘষে ঘষে ক্ষয় করে কৃষ্ণবংশ পাথর।

(৩৪)পদবীর ইতিহাস

ডাবল পদবী সিঙ্গেল হয়ে নিজস্ব উপাধি প্রাপ্ত হলে
তারা সুরুচীবালা খন্দকার।


(৩৫)ডাক দিলে দূরে যাও

রাই রাই বলে ডাকি মুখ ঘুরিয়ে হাঁটো? 
ব‌্যয়াকরণ মানি না,গ্রামারেই ফাঁকি?

(৩৬)রক্তঝরার পাঠ(২)

সন্তানের মুখের হাসি কমে গেলে পিতার বুক
ভাঙা নৌকোর মৃতকাঠ।

(৩৭)উপলব্ধি 

সম্পর্কে প্রাণ থাকলে, টান থাকে ;
সময়-দূরত্ব-ব্যস্ততা হার মানে ...

(৩৮)পূর্বজ

প্রেম অপরাধ নয়।
পূর্ব নিধার্রিত শাস্তি।

(৩৯)কৃষ্ণপক্ষ

বিদায়ের সময় বিয়োগ চাহনি
হৃদয়ে গেঁথে রাখলাম, চাঁদেরগুড়ো।

(৪০)খন্ড

ভাগ করতে করতে নিজেই ফতুর,রয়েছি
খন্ডবালক
কালখন্ডে লিখি শুধু পাললিক মেঘ।


(৪১)দেহতত্ত্ব

শরীরের আছে দেহ দেহেরও শরীর।
দেহও ফু্ঁসে উঠে শরীরও ব্যতিক্রম নয়


(৪২)জং

জং ধরা বারুদ থেকে চাই একটু বারুদ।
পুনরায় এসো আগুন লাগাই।

(৪৩)অক্ষর ক্ষরণ

রক্তাক্ত করে জীবন তুলে দিই রাতের কাছে। রাতেও ক্ষরণ বুঝে না তুমি এমন ভ্যামপেয়ার!


(৪৪)রক্তক্ষরণ 

আরো ঝরুক,আরো...তুমি তখন থাকো 
বিপদসীমায়।

(৪৫)পূর্বরাগ

খুব করে যে শ্রাবণ চাও
এখন আশ্বিন জানলে না তাও?

(৪৬)পৌষমাস

চলেই এলো কাত্তিক মাস।
সব মাসেতেই সর্বনাস!

(৪৭)মন্ত্রলেখা

কবিতা আসলেই হত্যাপ্রবণ ভূস্বর্গ।
প্রতিটি মুহূর্তই কৌটোয় রেখো দেওয়া চাঁদের ভগ্নাংশ। 

(৪৮)পূর্বরাগ

আমিও আমার নয়,জানি।
তবু কী মায়া সবই তুমি ময়।

(৪৯)ওয়েটিং লিষ্ট

কোন আইডেন্টি চাইনি
ওয়েটিং লিষ্ট মানি না।

(৫০)পথ

যদি আসতেই চাও,তো
একটি পথ বানিয়ে নাও।


(৫১)বাবা

সেতু বলতে কিছুই ছিলো না 
বাবা ও আমি ভিন্ন স্টেশনের যাত্রী।

(৫২)বুকের পশম

পশম গুলো পোষ মানে না বাতাস লেগেছে।
বিলিকাটা দুপুর গড়িয়ে সময় হিসহিস একলা দ্বাপর।

(৫৩)ব্রা

হুগ খুলতে রক্তাক্ত করে
অসতর্ক সেপ্টিপিন।

(৫৪)লুডো

মই চড়ে উপরে উঠবে ভেবো না
সাপের মুখ পেরিয়ে ওঠা এত সহজ নয়।
 
(৫৫)ভাত

ভাতের স্বপ্নে দিনগুলো যায়
ভাতের নেশায় একলা হই।

(৫৬)পদ্যরাগ

যে শহর তোমার জীবন।
সে শহর থেকে ঝরে পড়ে নকল ইট।

১৯:১১:২০১৭
রাত:১১:০৭মি

(৫৭)পাখিপুরাণ

হারমোনিয়াম থেকে পাখিটি গান শেখাবার কথা ছিলো নিজেই গান হয়ে রিড থেকে ঝরে পড়ে নুনজল।

(৫৮))মধ্যরাতের পদ্যাণু

রাত গভীর হলে হৃদডুবাতে মাছের খলবল।
তখন ধীবর জাল নিয়ে এলে পায়কি ডুবার তল?

(৫৯)হাট

যে যায় হাট করে খুলে দাও খিড়কি।
যে কেউ আসুক যাক উন্মুক্ত দোয়ার।

(৬০)হৃদয়পাখি:১

এসো লিখি মনের গভীর অসুখ। 
আঁকি একটি নদী

(৬১)হৃদয়পাখি:২

কাঁটাতার ডিঙিয়ে উড়ে এসো
আমার হৃদয়পাখি।

(৬২) অপেক্ষা

যা লিখি সব অশ্লীল যা লিখি সব স্ল্যাং 
যা বলি সব ভালোবাসা হয়ে যায়।

(৬৩)রাই

রাই রাই বলে ডাকি মুখ ঘুরিয়ে হাঁটো? 
ব‌্যয়াকরণ মানি না,গ্রামারেই ফাঁকি?

(৬৪)ভিখারিবালক

ভালেবাসা পেলে আমি গলে পড়ি।
শরীরের জল ছুঁইয়ে ভিজে যায় চোখ।

(৬৫)দিনাঙ্ক

দিনলিপি লিখি না আমি, লিখি আমাকেই আমি।
লিখি সমুদ্র সৈকতে লাফানো ডলফিন।

(৬৬)মোহনা

হঠাৎ তুমি চলে আসার জন্য ব্যাকুল।
নয়তো ভেসেনযেতো আমাদের দুকুল।

(৬৭)ঈশ্বরীরাই

মনের একতারায় বেজে চলেছে নিশিদিন
গোপন ঈশ্বরীরাই।

(৬৮)কানে কানে 

আমার বেশী কিছু চাই না
চাই আমার শহরে তুমি থাকো।

(৭০)ঘর

এমন একটি ঘর চাই যেখানে প্রশ্নহীন 
তুমি যাতায়াত করতে পারো।

(৭১)বাড়ন্তকাল

বেরিয়ে আসা স্তনের নিকট ঠোঁট নিয়ে একটু গভীর আদর করে দিতাম।
যেন সারাদিন লেগে থাকে আমার উষ্ণতা।

(৭২)গোপনস্তব

বাৎসায়ন-আকাশ থেকে পেড়ে আনলাম
একটুকরো চিত্রিত মেঘ শেষ রাতে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি দেবো।

(৭৩)ভাষাকোড

আমাকে বদলে নেওয়া সেকি সম্ভব? 
ভাষাকোড বদলে দিলাম থাক জীবনের স্পন্দন।

(৭৪)আত্মদ্রোহ

নিজেই নিজের সাথে ফুঁসে উঠি ফুঁসফাঁস করি
লকলক করে বেরিয়ে আসে একটি জুম পুড়া সাপ।

(৭৫)খন্ড

ভাগ করতে করতে নিজেই ফতুর,রয়েছি খন্ডবালক
কালখন্ডে লিখি শুধু পাললিক মেঘ।

(৭৬)সন্ধিপাঠ

হ্যাঁ চলো আজ আর কবিতা নয় হৃদয় লিখি।
আমি তোমার তুমি আমার পড় সন্ধিপাঠ।

(৭৭) আনোয়াছড়া একটি ছোটনদী

আনুয়ারা বেগম একজন সংখ্যালঘু মেয়ে।
প্রেমের সখ্যতা তার ছিলো ছড়াজলের সাথে।

(৭৮)হাট

যে যায় তাকে যেতে দাও।
হাট করে খুলে দাও খিড়কি।

(৭৯)দুয়ার

যে কেউ আসুক যাক
উন্মুক্ত দুয়ার।

(৮০)মেধাকে 

ভালোবেসে চলে গেলাম কবির হৃদয়পুরে।
কবি কুটুম রাখবে তোমার বাড়ি?

(৮১)শঙ্খদেও

কুটুমবাড়ি হালাইমুড়া 
মিলনপল্লী শঙ্খলাগি চলো।

(৮২)ভূমণ্ডলীয়করণ

চৈতন্য ফকির

ট্রেন ছুটছে ভূগোল ভেদ করে ভূমণ্ডলীয়  
অনন্তরেখায়-কৃষকের ভাতের থালা বরাবরই। 

(৮৩)বিজুপাখি

জুমেরধানের বিজুফুলে পাখি এসে গান ধরলে
কৃষকের ঘরে ঘরে ভাতের হাঁড়ি বসে।

(৮৪)ভ্রমন

জমিনে পুঁতে রাখি সম্ভাবনাবীজ।
কচিকচি পাতায় বেড়ে উঠে গাছ


(৮৫)ইচ্ছেশক্তি

একটি কাঠগোলাপ সেও পাতাশূন্য। 
অথচ পুনরায় ঘুরে দাঁড়ায়। 


রচনাকাল :২০১২-২০২৩

0 Comments