স্রোত আয়োজিত লোকসংস্কৃতি উৎসব :২০২৩

দিব্যেন্দু নাথ 

২৯শে ডিসেম্বর ছিল স্রোত প্রকাশনার আয়োজিত লোকসংস্কৃতি উৎসব ২০২৩। প্রকাশনার কর্ণধার গোবিন্দ ধরের আমন্ত্রণে, উত্তর ত্রিপুরা থেকে এসেছেন সস্ত্রীক লোকগবেষক মন্টু দাস ও কবি নিভা চৌধুরী, কবি মধু মঙ্গল সিনহা, কাঞ্চনপুর মহকুমা থেকে আমি ও ধামাইল দলের শিক্ষিকা তথা কবি নীলিমা নাথ। তাঁর দলের সদস্যা প্রায় কুড়ি জনের মতো। অন্যান্য জায়গা থেকে আগত শিল্পীদের পরিবেশনের মতো তাদের পরিবেশনও মনকাড়া ও আকর্ষণীয় ছিল। দক্ষিণ ত্রিপুরার আরেক স্বনামধন্য লোকগবেষক সকলের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি অশোকানন্দ রায়বর্ধন, কবি বিজন বোস, কবি সাচীরাম মানিক, সঙ্গীত শীল প্রমুখের উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। এছাড়া ত্রিপুরার নামকরা প্রাবন্ধিক বিমল চক্রবর্তী, আগরতলার কবি শিশির অধিকারী, কবি ক্রাইরি মগ, কবি অপর্না সিনহা কবি সুমিতা বর্ধন, কবি শিপ্রা রায়, কবি সংহিতা চৌধুরী ছাড়াও আরও অনেকের উপস্থিতি ছিল অনুষ্ঠানের শোভাবর্ধক। বাংলাদেশের গুণী মানুষ বীর মুক্তিযোদ্ধা, কবি ও গীতিকার মুহম্মদ আবদুল আওয়াল, প্রকাশক লেখক লোকমান হোসেন পলা, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক শাহ আলম, কবি রবিউল ও পুলককান্তি ধর (বিশ্ব কবিমঞ্চ - সাধারণ সম্পাদক) গৌরবময় উপস্থিতি ছিল। এছাড়াও আর গুণীজনের উপচে পড়া টেউ ছিল প্রেসক্লাবের আনাচে-কানাচে, এইমূহুর্তে সকলের নাম মনে পড়ছে না। 

লোকগবেষক মন্টু দাস সিলেটের বিভিন্ন লোকজ কথা নিয়ে বিশদে আলোচনা করলেন। আশোকানন্দ রায়বর্ধনের মূল্যবান ভাষণে উঠে আসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা। এবং তিনি গুরুত্ব নিয়ে বললেন - লোকজ বিষয়গুলি হল আমাদের ঐতিহ্য ও কবিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ আঁকর। সুফি, বাউল, আউল, শাহি তত্ত্ব গুলো আমাদের জাগ্রত লোকজ সম্পদ। ত্রিপুরার সমসাময়িক কবিদের নিয়েও আলোচনা করলেন। আক্ষেপ করে বললেন, ত্রিপুরার কবিদের কবিতা! বৃহৎ বাংলায় তেমন চর্চা হচ্ছে না। 

জনাব ডঃ মুহম্মদ আবদুল আওয়াল সম্মানিত হলেন। তাঁর বক্তব্যে পরিস্কার উঠে এল একমাত্র কবি সাহিত্যিকরা সুন্দর সুষ্ঠ সমাজ গঠন করতে পারেন, তাঁর কলমের কালি দিয়ে। পরিবেশ দূষণ থেকে ভয়াবহ দূষণ মানবিক দূষণ। জনাব প্রকাশক লেখক লোকমান হোসেন পলা, তার আলোচনার বিষয় পূতুল নাচ ছিল। তিনি অল্প পরিসরে মুগ্ধ আলোচনা করলেন। আধুনিকতার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের এই সংস্কৃতি, অন্যান্য সংস্কৃতির মতো হারিয়ে যাচ্ছে; বলে আক্ষেপ করলেন। প্রাবন্ধিক ও গবেষক বিমল চক্রবর্তী মূল্যবান  ভাষণ রাখলেন। তাঁর আলোচনার বিষয় ছিল ত্রিপুরার লোকসংস্কৃতি ও সাহিত্য। তিনি বললেন, ত্রিপুরার নব্বই শতাংশ মানুষ এখনও লোকজ বিষয় নিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে বসবাস করছে। এছাড়াও তুলে ধরলেন লোকজ সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক। 

মাঝে মাঝে নৃত্য, গান, ধামাইলের সঙ্গে স্বরচিত কবিতা পাঠ চলছিল। বরিষ্ঠ কবি ক্রাইরি মগ সঙ্গীত পরেবেশন করলেন মগ ভাষার, 'পুরানো সেই  দিনের কথা' - রবি ঠাকুরের বিখ্যাত গানটি বাংলা ও মগভাষায় একসাথে সুর করে গাইলেন। সঙ্গে আরেকটি মগ ভাষায় লোকসঙ্গীত পরিবেশন করলেন। পরে অবশ্য গানটি বাংলায় অনুবাদও করে দিলেন কথায় কথায়। সুমনা দাস পাটারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি সুন্দর পরিচালিত হল। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে উপভোগ করলেন উপচেপড়া দর্শক মন্ডলী। আমরা উত্তর থেকে যারা এসেছিলাম, তাদের রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা হল জগন্নাথ বাড়ি। 

এই দিনের সফরে নানাবিষয়ে আলোচনা এবং মতবিনিময় করে সমৃদ্ধ করেছি নিজেকে। কিন্তু কী যেন হারিয়েও এসেছি...। নাহলে, বুকের বরফ কেন এত দ্রুত ভাঙছে! এই শব্দ অনুরণ থাকবে বহুদিন....


0 Comments