প্রকাশনা একটি শিল্প:বইমেলা 
নানন্দিক সৌন্দর্য |আগরতলা বইমেলা :একটি খোলা প্রতিবেদন 
গোবিন্দ ধর 

সম্পাদনা যেমন কিছু লেখার সমাহার নয় তেমনি বই প্রকাশও কবিতার সমাহার নয়।পাশাপাশি বইমেলাও মূলত পাঠককে নান্দনিকভাবে পাঠে প্রলুব্ধ করার কৌশল অনেকটা।পাঠক --->লেখক--->পাবলিকেশন =কেন্দ্র বিন্দু মূলত হবে পাবলিশার্স এসোসিয়েশনগুলো।কিন্তু দপ্তরের উদাসীনতায় কেউ কেউ আদর খাতির সবই পাচ্ছেন। কেউ কেউ তুচ্ছতাচ্ছিল্য। এতে নানন্দিক এই অনুষ্ঠানে এবছর কখনো অতি সরল চটুল সিনেমার গান বেজে উঠছে।আবার খালি স্টল পড়ে আছে। যত্রতত্র চা ছানাচুরের পসরা সাজানো হয়েছে।কর্তপক্ষের নিকট এ বিষয়ের কিছু কিছু তুলে ধরেছেন কেউ কেউ । দাবি জানিয়েছেন প্রকাশনা মঞ্চও। ব্যক্তিগতভাবে কবি চয়ন সাহা Chayan Saha  সামাজিক মাধ্যমে লাইভে দেখিয়েছেন।আরো অনেকেই নানা বিষয়ে তাদের মত প্রকাশ করে যাচ্ছেন। 
৪২ তম আগরতলা বইমেলায় এতগুলো দূর্বলতা তো হওয়ার কথা ছিলো না।অথচ সরকারের সদিচ্ছার অভাব তো নয় এসব!সরকার নিশ্চিতভাবে মননের উৎসব মেধার উৎসব আগরতলা বইমেলাকে সামগ্রিকভাবেই সুন্দর পরিচ্ছন্ন করার জন্য নিয়ত প্রয়াস রেখেছেন। কিন্তু হচ্ছে না। আমরা দাবি করেছিলাম একটি ছোট স্টল প্রদান করার জন্য। দপ্তরকেও বারবার অবগত করেছিলাম স্টলটি প্রদানের জন্য। আমাদের সংস্থার পাবলিকেশন হাউস ও  ত্রিপুরার লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকদের নিয়ে ত্রিপুরা সরকারের সোসাইটি রেজিষ্ট্রেশন প্রাপ্ত একটি অরাজনৈতিক সরকার স্বীকৃত পাবলিশার্স এসোসিয়েশন। অথচ তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর,আগরতলা  আমাদের আবেদনকে লটারীর মাধ্যমে স্টল বিতরণের প্রক্রিয়ায় নেননি।আমরা অবাক হয়েছি।আমরা এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছি।দপ্তর তবুও আমাদের বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নিলেন আজোও লিখিত বা মৌখিক কোনোভাবেই জানি না।
আমাদের সংস্থার সকল সদস্যই ছোট। এমন চুয়াল্লিশটি সংস্থাকে এক ছাতার নিচে একত্রিত করে প্রকাশনা মঞ্চের মননের উৎসবকে সফল ও সৌন্দর্য দেওয়ার কাজ-ই সারা বছর ধরে করে চলেছে প্রকাশনা মঞ্চ ।আমাদের ছোট ছোট পাবলিকেশন সংস্থাগুলো আলাদাভাবে সকলে স্টল প্রদান করার আর্থিক সংস্থান এখনো অর্জন করতে পারেননি।অথচ এই পাবলিকেশনের প্রকাশকেরাও সারা বছর বই আন্দোলনে যুক্ত। আগরতলা বইমেলা কখন আসবে উদগ্রীব হয়ে থাকেন।বই প্রকাশ করার জন্য ধার দেনা করে বই প্রকাশ করেন।ত্রিপুরায় পাঠক তৈরী করতে নিজের পরিবার প্রতিপালনের বাজেট থেকে বই প্রকাশ করেন।বই তাদের নিকট প্রিয়।এতে পরিবারের অনেক কিছুতে টান পড়ে।নিজেরা তবুও লিটল ম্যাগাজিন করেন,বই প্রকাশ করেন।লিটল ম্যাগাজিন মেলা করেন।গ্রন্থ মেলা করেন।তাদের মনেও বইয়ের সৌন্দর্যকে পাঠকের দরজায় পৌঁছে দেওয়ার বাসনা।

আমরা  প্রকৃত লেখকের বই হোক সারা বছর ভাবি।প্রকৃত বইটি করতেই আমাদের গ্রন্থ আন্দোলন।  প্রকাশনা মঞ্চ রাজ্যের প্রতিটি লেখককে সম্মানজনক আমন্ত্রণ জানান নানা অনুষ্ঠানে উপস্থিত করেন।
বই প্রকাশনা একটি শৈল্পিক উৎসব।তরুণদের আবেগ।মনন ও মেধাচর্চার আন্দোলন ।উল্লেখযোগ্য কবি সাহিত্যিকের সৃষ্টির আনন্দ ও সম্মান।সব কিছু বজায় রেখে মানসম্মত বইটি পাঠকের নিকট নিয়ে যেতে লেখক পাঠক প্রকাশক মুদ্রক এবং বাঁধাইশিল্পীর সম্মিলিত সহযোগিতা ছাড়া, তিতাস একটি নদীর নাম হয় না।চিলেকোঠার সেপাই হয় না।খোয়াবনামা হয় না।হয় না লোদ্রভার কাছাকাছি। 
সুতরাং সকলের উর্বরতায় ত্রিপুরার প্রকাশনা ক্রমাগত আলোক উজ্জ্বল হয়ে উঠুক একজন সৃজনশীল লেখক ও প্রকাশকের কাছ থেকে যেমন আমরা চাই তেমনি এ রাজ্যের তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের নিকট থেকেও আমরা সকল পাবলিকেশন এসোসিয়েশনগুলোকে সমমর্যাদা প্রদান করার জন্য বারবার অবগত করে চলেছি।কারণ বইপত্র আন্দোলন লেখক প্রকাশক ও তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের সম্মিলিত রূপ হলো আগরতলা বইমেলা।এককভাবে বইপত্র আন্দোলন অসম্ভব। পাঠক যখন টিবি, মোবাইলে আটকে পড়েছেন সেই অন্ধকার থেকে পাঠককে আলোয় নিয়ে আসতে ছোট বড় মাঝারি সকল লিটল ম্যাগাজিন পাবলিশার্স ও দপ্তর পরস্পর পরস্পরের সহযোগী হওয়া জরুরী।  আর তাকে বিকশিত করেন ত্রিপুরা সরকার। ১৯৮১ সালে জুনের দাঙ্গার আগুন থেকে ফিনিক্স পাখির কিচিরমিচির, পরস্পরের ভাঙা আত্মবিশ্বাস জোড়া লাগিয়ছিলো  আগরতলা বইমেলা।তাকে আর কলসিত নয়।আসুন সকল পাবলিকেশন এসোসিয়েশন লেখক লিটল ম্যাগাজিন ও পাঠকের যৌথ সহযোগিতায় আগরতলা বইমেলাকে আরো নান্দনিক করে তুলতে পরস্পর পরস্পরের সহযোগী হই।প্রকাশনা মঞ্চ যত ছোট-ই হোক কিংবা যত বড়-ই হোক তাকে অবহেলা করে,তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে আগরতলা বইমেলা সফল হতে পারে না।
বিন্দু বিন্দু ভাবনার সম্মিলিত রূপ একটি আন্দোলনকে সৌন্দর্যের নন্দনকানন নির্মাণ করতে পারে বলেই প্রকাশনা মঞ্চ বিশ্বাস করে। 

২৮:০২:২০২০
সকাল:১০:৩৮মি
রাজেন্দ্রনগর।

0 Comments