হয়তো আমি হয়তো আমি নয়

গোবিন্দ ধর 

সেদিন পয়লা মে। ২০২৪ সাল।প্রখর রুদ্রতাপ।বাইরে লু প্রবাহিত।বিকেল তিনটে।কলকাতা তিলোত্তমা কলকাতা পুড়ে খাঁ খাঁ। বসে আছি একা।নিঝুম একা।একাকিত্ব নয়।চারদিকে উঠতিদের ঠাসাঠাসি শরীর লেপ্টে বসে থাকার উষ্ণতা ডিঙিয়ে নন্দনকানন গমগম আওয়াজে ভরপুর। আমি একা অথচ নন্দন ফাঁকা নয়।চালমুড়ি, চা,কপি,আইসক্রিম হকার হাকছে।কেউ চুষে চুষে খাঁ খাঁ রোদ্দুর থেকে নিজে শীতল হচ্ছেন। পাশাপাশি তারুণ্যের ছোঁয়াছুঁয়িতে বিপ্রতীপ বিশ্বকেও শীতল করে দিচ্ছে কাঠি আইসক্রিম। 
আমিই একা।এরকম রোদ্দুর থেকে মে দিনের উষ্ণতায় একাকিত্ব বোধ হওয়ারই দুঃসময়ে শিল্পী হনহনিয়ে আসলেন আমার নিকট।তিনি পেয়েই বসলেন আমাকে।ধরেই নিলেন ক্রেতা হিসেবে সহজ সরল স্বভাবের মুখমণ্ডল আমাকে।
কথা প্রসঙ্গে প্রস্তাব আঁকিয়ে নেওয়ার।আমি নিম রাজী।সুতরাং রাজনীতি খুঁজিনি।
বললাম কিরকম সংসার চলে?
তিনি মানে শিল্পী।মানে নন্দনচত্বরে একজনই।মানে তিনি।বললেন এই করে খাওয়া।মানে এঁকে খাই।
দিনে হাজার পনেরো হয়।
এ ছাড়া কি করা হয়?জানতে চাইলাম। 
বললেন আঁকার স্কুল থেকে আরো ১০/১২ আসে।
মানে?হাজার?
তা বেশ।
হ্যাঁ ঠিক ধরেছেন। তিনি মিঠুন।
মানে মিঠুন চক্রবর্তী। 
চারকোল শিল্পী মিঠুন চক্রবর্তী। 
সামনে বসিয়ে এঁকে দিলেন নিমিষেই। 
বললাম হয়নি।
তিনি বললেন আপনি মানে আমি নাকি এমনই। 
যদিও আমি আমাকে যতটুকু দেখি ততটুকু তা নয় এ বোধ থেকে বিশ্বাস থেকে আবারো বললাম-না এই আমি আমি নয়।
তিনি স্থীর বিশ্বাস নিয়ে বললেন এই-ই নাকি আমি।
যদিও তার বিশ্বাসকে আঘাত করিনি।
মে মাস গেলো।জুন গেলো।জুলাই চলছে।আজ ২৪।
মনে হলো পোস্ট করে রাখি।
আপনি আপনারাও হয়তো বিশ্বাস করবেন এই-ই আমি।
হয়তো কেউ কেউ বলবেন এই চারকোলে আঁকা ছবিটি আমি নয়।
তবুও মিঠুন চক্রবর্তীর পরিশ্রমের মূল্য সেদিন চুকিয়ে এলেও মনে হয়েছে আরো কিছু মূল্য তার প্রাপ্য। 
আজ হয়তো ঋণ কিছুটা পরিশোধ হলো।

২৪/০৭/২০২৪

0 Comments