গোবিন্দ ধরের কবিতা
গোবিন্দ ধরের কবিতা
[20/01/2020, 6:47 am] GOBINDA DHAR: নদীশরীর
গোবিন্দ ধর
প্রতিবার বন্যা আসে,পলি পড়ে
এক একটি জন্মদিন গতিমুখ বদলে দেয়
সেই যে ঢেউ ছলাৎছল জীবন
এক একবার বন্যা এসে পাড় ভাঙ্গে
বদলে নেয় শরীর।
বন্যায় শরীর ডুবে গেলে অদৃশ মাছগুলো
বেরিয়ে পড়ে স্বাধীনজলে
তখন সাঁতার কাটে।কাটতে কাটতে পাখনায়
অসুখ লাগে।ক্লান্ত লেজ পাখনা
আঁশসহ জলেই ডুবে যায়।
জলজ জীবন জলেই শেষ এই বন্যা ভয়াবহ।
শরীরের পলিতে নতুন চারা ভালো লাগে
তরতর বেড়ে ওঠে চরায়।
শরীর নদীর মতো পলি জল আর মাছের চক্রব্যুহে
অভিমুন্যের মতো জলবন্দী।
২৫:০৬:২০১৮
বিকেল:৪:৫০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 6:47 am] GOBINDA DHAR: নেপোলিয়ন
গোবিন্দ ধর
রাজা নেই ঘোড়া নেই
আস্তাবল হলো বিবেকানন্দ উদ্যান।
দু 'একটি খচ্চর ঘাস খেতে ঘোড়া ডিঙায়।
সহিস নেই খচ্চরেরা ঘোড়া ভাবে নিজেদেরে।
খচ্চর কোনদিনই জানত না তারা ঘোড়া নয়।
গাধা ঘোড়া আর খচ্চর প্রায়
একই রকম দেখতে হলেও
নেপোলিয়ান জানতেন
কোনটা ঘোড়া
কোনটা গাধা
আর কোনটা সত্যি সত্যি খচ্চর।
২৬:০৬:২০১৮
সকাল:৭:৪০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 6:47 am] GOBINDA DHAR: ছবি
গোবিন্দ ধর
ছবিতে তোমাকে খুব ঘুম পাচ্ছে মনে হয়।
চুলগুলো এলোমেলো ফুটবলার পেলের মতো
ঘুমন্ত নারীর সৌন্দর্য ঠিকরে আলো ছড়ায়।
স্বর্গ নামে যেন জানলায় দরজার আলো।
ছবিটির মুখের পাশ হয়ে যে গীবা নামছে তা
একটু নেমেই শরীর হয়ে যাবে তুমিও জানতে না।
চুলের ক্লীপে প্রজাপতি উড়ে এমন আসলো
ছবিটি সুন্দর,তুমি ঘুমে নয় যতটা ছবিতে।
অনেক ছবিতেই তুমি ঘুমিয়ে পড়ো
মুদে রাখো চোখ যেন কতদিন ঘুমপরী
তোমার নিকট আসেনি ছবি তাই বলে।
কাছাকাছি তুমি চনমনে সব সিঁড়ি ভাঙছো।
২৭:০৬:২০১৮
সকাল:০৮:৩০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 6:47 am] GOBINDA DHAR: ঢেউ
চৈতন্য ফকির
কোথায় থমকে থাকে ঢেউ।
স্রোতের অপেক্ষায়।
তুমি তো কল্লোলিনী নদী
ঢেউ হয়ে এসো গহীন গাঙের।
মরানদীর পলি সরিয়ে ফল্গুপ্রবাহ
আনবো স্রোতস্বিনী।
২১:১১:২০১৮
বেলা:১১:৪০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 6:47 am] GOBINDA DHAR: মন্ত্র
গোবিন্দ ধর
ঈশ্বর আসলেই ঈশাণকোণে থাকেন না
থাকলে ঈশ্বরের নাম করে
মেয়েটির মাথা ভগবানের পায়ে দিতে হতো না
একটি মোবাইল ফোনের জন্য।
ঈশ্বর আসলেই পৃথিবীতে থাকেন না
থাকলে ঈশ্বরের নাম করে যা সকল ঘটছে
তার সিকিভাগও ঘটতো না।
ঈশ্বরের নাম নিয়ে জয় শ্রীরাম ধ্বনি
আল্লার নাম করে নারায়ে তকবির
মন্দির মসজিদ মাজার আখড়া
শ্মশান মশান এসব কিচ্ছুরই দরকার ছিলো না।
আমাদের বানানো ভগবানের নিশংসতা চাই।
আমাদের বানানো মন্দিরের আরো একটি মন্দির
তার ভেতরঘরে না গিয়েই ঈশ্বরেরর নামে
নিজেরা উৎসর্গ আমরা।
অন্যের মেয়ের মাথা কাটলে
নিজের মেয়ের মোবাইল পাওয়া যাবে
এমন ভাবনায় সাধুরা কেটে দিলো
একটি চারবছরের মেয়ের মাথা!
বানানো ঈশ্বর আপনাকে আমি ঘৃণা করি।
বানানো ঈশ্বর তোমাকে আমি থুথু দিলাম।
বানানো ঈশ্বর তোকে আমি থাপ্পড় দিলাম।
বানানো ঈশ্বর তুই আসলেই নেই
বানানো ঈশ্বর তুই ঈশ্বর হতে পারিস না
ঈশ্বর তুই ছিলে না
কোনোদিনই ছিলে না
বানিয়ে বানিয়ে তোকে দিয়ে
কত কুকাজ করিয়েছি
কুকাজ করানো যায়
এজন্যে তোকে ছাড়তে চাই নারে
তোকে রাখলে কত কিছু
হাতের কাছে আসে।
ঈশ্বর নেই
ঈশ্বর নেই
ঈশ্বর বানানো
আমার ছেলে গৌরব
মাটি দিয়ে ঈশ্বর গড়ে
অবিকল আমার বাবার মতো চোখ আঁকে।
অবিকল আমার মার মতো চোখ আঁকে।
ঈশ্বর নেই
বানানো ঈশ্বর দিয়ে ঈশ্বাণকোণ লাল করো না
আমরা মানুষ চাই
ঈশ্বরের বদলে আমাদের মানুষ করে দাও।
দেওহাট।।০৩/১১/২০১৬।।সকাল।।৬:১৫মি।।
নদীশরীর
গোবিন্দ ধর
প্রতিবার বন্যা আসে,পলি পড়ে
এক একটি জন্মদিন গতিমুখ বদলে দেয়
সেই যে ঢেউ ছলাৎছল জীবন
এক একবার বন্যা এসে পাড় ভাঙ্গে
বদলে নেয় শরীর।
বন্যায় শরীর ডুবে গেলে অদৃশ মাছগুলো
বেরিয়ে পড়ে স্বাধীনজলে
তখন সাঁতার কাটে।কাটতে কাটতে পাখনায়
অসুখ লাগে।ক্লান্ত লেজ পাখনা
আঁশসহ জলেই ডুবে যায়।
জলজ জীবন জলেই শেষ এই বন্যা ভয়াবহ।
শরীরের পলিতে নতুন চারা ভালো লাগে
তরতর বেড়ে ওঠে চরায়।
শরীর নদীর মতো পলি জল আর মাছের চক্রব্যুহে
অভিমুন্যের মতো জলবন্দী।
২৫:০৬:২০১৮
বিকেল:৪:৫০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 7:50 am] GOBINDA DHAR: দেওনদী সমগ্র :১৫
চৈতন্য ফকির
তুমি দেওনদী হয়ে এসো
পাহাড়ী ঝর্না হও
বুকে নামাও দেওজল।
ভূমধ্যসাগর থেকে পাঠাও :কম্পাস।
১৩:০১:২০১৮
সকাল:১০:১৫মি
বড়জলা,আগরতলা।
[20/01/2020, 7:50 am] GOBINDA DHAR: সিঁড়ি
চৈতন্য ফকির
সিঁড়িগুলো কিরকম অচেনা লাগছে।
একটি লোক উঠছে আনমনে
অন্যলোক নামছে আনমনে।
দুজনই পড়বে নিশ্চিত।
তবু কেউ উপরে উঠতে চায়।
কেউ অনিচ্ছাকৃত পড়ে যায়
গহীন অন্ধকারে।
২৭:০৫:২০১৮
রাত:০৯:৪৯মি
ইসলামপুর,পশ্চিমবঙ্গ।
[20/01/2020, 7:50 am] GOBINDA DHAR: ফরমান
চৈতন্য ফকির
কৌপিন
পরে যান
সৌখিন
হয়ে যান
তবু জিন্স
ছেড়ে
লেংটি
পরে
সাধু বাবা
সাধু বাবা
এমনটি
হও বাবা।
নয় তো
সাসপেন্ড
ফরমান
ওপেন্ড...
২৮:০৮:২০১৮
সকাল:৭:৩০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 7:50 am] GOBINDA DHAR: মনুখন্ড:৩
গোবিন্দ ধর
রোজ রাতে নদী আসে আমার শিয়রের নিকট।
মাথায় হাত রাখে আমার অসুখ নিয়ে চলে যায়।
নদীর নিকট চিরকাল ঋণপত্র লিখে ভাসাই
আমাকে ঋণাত্মক রেখে নদী আনবাড়ি যায়।
নদীর সরলতার কাছে কাশফুল হয়ে ফুটি
শরতের নিকট বন্ধক রাখি সমস্ত শীত।
আমিই আমার নিকট পরাজিত পারিজাত
কাশের ডগায় ভিজে কত শিশির টুপটাপ রাত।
১৭:০৯:২০১৮
রাত:১১:৪০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 7:50 am] GOBINDA DHAR: রাজকুমারী,মহাচক্রী
গোবিন্দ ধর
যুবকের বুকের পাঁজরে হেমম্তের হিম এসে
এই অগ্রহায়ণে কুয়াশা ঢাকা গভীর রাত নামা
প্রান্তিক গ্রামের জোনাক জ্বলা সময়ে
তুমি প্রিয়মুখ মহাচক্রী সিরিনধোর্ন থাইকুমারী
সবুজের ডাকে খুব কাছে এসে চলে যাবে জানি
আমি একবরো এই লাবণ্যের পিছে নেই।
রূপঝরে পড়বে ঊনকোটির প্রত্নপাথর আর
আমাদের পথের ধুলোকণায়
হর্ণ হুইসেল নিরাপত্তাবলয় ডিঙ্গিয়ে সাইকেল বয়সের ছেলেরা
তীব্রউত্তাপে টগবগ টগবগ করছে স্বপন নন্দীর ঘোড়ার হ্রেষা রবে।
ঠিক আলোর উৎসবের একটু দূরে টিম টিম জ্বলছে
কাজ চাই খাওন চাই :"মন্ত্রী ভাত দে,ভাত খামু"।
২৭:১১:২০১৮
সকাল:৫:৪৫মি
কৈলাসহর।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: গ্লাস
চৈতন্য ফকির
সম্পর্ক পানীয় নয় যে গ্লাসে গ্লাসে ঠুকে পান করি
তবুও প্রতিরাতে ঠুকে ঠুকে পান করি সম্পর্কসম্পদ।
শরীর মদময় মিলনকাল এক একটি রয়্যাল প্যাক।
প্রেম তো প্রেমই ভালোবাসায় তখনই মিলে স্বাদ।
এক একটি প্যাক ভরি গ্লাস উপচে পড়ে রিচার্স।
শরীর চৈতন্যময় ফাঁকাগ্লাসে পড়ে থাকি আমিই ফকির।
সম্পর্ক নট রিচ্যাবল হলে শূন্য পড়ে থাকা গ্লাস
আমিও মায়া শুধু মায়া ভরাগ্লাসে দিকশূন্যপুর।
০২:০২:২০১৮
সকাল:০৭:২০মি
ত্রিপুরা ভবন,সল্টলেক,কলকাতা।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: বাদ্যকর
আমাকে বাজানো সহজ যেকোন বাদ্যশিল্পী সহজেই ঠুকে দিলে গমকী পায়।
এরকম ধারণাপ্রসূত সকলেই ঠুকে দেয় লক্ষ্মণরেখা।
তারপর হঠাৎ বোল না ওঠায় ওরা কেমন চটে গিয়ে চাটুকার সাজে,হাসি পায়।
আমি অট্টহাসিতে ফেটে পড়ি ঘরময়।
আমার নিজের শব্দে আমি কেমন অচেনা
তবলায় তাল দেওয়া ওরা কেমন তালতাল তলোয়ার
আমার খাপ খোলা শরীর কুচিকুচি কেটে
টাটা লবণ ছিঁটিয়ে গায়কী ঢঙয়ে হাসে!
২৬:০৩:২০১৮
রাত:০৭:৪৫মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: উজ্জ্বয়ন্ত প্রাসাদ
চৈতন্য ফকির
হাঁটতে হাঁটতে ইতিহাস লেগে যায় পায়ে।
প্রাচীরের ইটের ভেতর কথা বলে জনগন।
রাণী দাসদাসী কর্তা ঠাকুরকর্তা সকলের শলা
পাঠ করতে করতে প্রতিটি কোঠরের ভেতর
কান পাতি।শুনি ইতিহাস।রাজার রাজধানী বদল।
শত্রুজয়।পরাজয়।ভাইয়ের হিংসার কাছে ভাই
রাজপাট তুলে দিয়ে কেমন চলে যেতে পারেন
উজ্জ্বয়ন্তের শরীর সে ইতিহাস বলে দেয়।
রাজা কেমন মিশে যান হসম ভোজে
রক্তের দাগ স্রোত হয়ে মিশে গোমতীর জলে।
সেই জলও ফুঁসে লাল ঢেউয়ে ঢেউয়ে।
ধীরে ধীরে সকল রাজার পোশাক আমার শরীরে
লেগে আমিই রাজা হই।মনে হয় আমি রাজা।
রাজার সকল সু আমি গ্রহণ করি।রাজার
সকল শুভ সময় নিমিষে আমি দেখি।
আর হাঁটতে হাঁটতে সারা প্রাসাদের গুপ্ত গৃহের
ভেতর কান্না শুনি অসহায় প্রজার।
আমি ফিরে আসি গুপ্ত ঘর থেকে।
রাজার পোশাক খুলে ফেলি। চিৎকার করি
আমি রাজা নয়।আমি রাজা নয়।
আমি একজন মানুষ।আমি মানুষ।
পাঁচশ বছর পরেও ইটে লেগে থাকা
ঘাম থেকে যে ঘ্রাণ নাকে লাগে
আমি সেই মানুষ।আমি ত্রিপুরী।
২:১:২০১৮
রাত:৭:৫৫মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: মূর্তি
চৈতন্য ফকির
আমি স্ট্যাচু নয় মনে হয় কোন অনার্য মানুষ।
আমি আর দাঁড়াই না কোথাও আলোকিত ময়দানে
অন্ধকারেও না।
দেশে দেশে এখন আমাকেই ভেঙ্গে করা হচ্ছে
মতাদর্শগত সংস্কার।
আমি আর দাঁড়াইনি কোথাও।
মাঠে মাঠে কৃষকের সব ধান ফলন কমছে।
আত্মহত্যা করে করে দেশের কৃষক সংখ্যালঘু এখন।
দেশ তবে গোল্লায় যাক
মজদুর শ্রমিক হাজিরা কামলা সব মরে যাক।
আর কোন স্ট্যাচু নয়
আমিই ঘরে ঘরে নিয়ে আসবো নতুন রান্নাঘর।
জয় কৃষক নয়
জয় বিজ্ঞান নয়
বলো ভারত মাতা কী জয়!
১৮:০৩:২০১৮
সন্ধ্যা:৫:৪৫মি
কৈলাসহর।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: মৌলভীবাজার
চৈতন্য ফকির
বাবার বাবা তাঁর বাবার হাত ধরে শ্রীমঙ্গল রোড়ে হাঁটতে হাঁটতে সারা শহর দেখতেন বৃটিশ পিরিউড।
তখনও নেতাজী রেঙ্গুন যাননি।
গান্ধীজীর টুপিও তখন জনপ্রিয় নয়।
বঙ্গবন্ধুর জয় বাংলা তেমন টেউ হয়ে আসেনি মনুর মুখ অব্দি।
তখনও শ্রীলেট সিলেট হয়নি কিংবা নাগরীলিপিও ধ্বংস হয়নি।
সুতরাং বাবাও জানতেন না ধীরেন দত্ত সংসদে দাঁড়িয়ে বাংলাভাষার জন্য আইন পাশ করাতে হবে।
চা গাছের দুপাতায় লেগে থাকা সোনার বাংলা
ধানের সবুজ পাতায় সোনার বাংলা
জলের স্রোতে মাছের সাঁতার সোনার বাংলা।
এমন কী ঘটলো
আমার বাবা তাঁর বাবার হাত ধরে সোনার বাংলা ফেলে
চাতলাপুর বর্ডার ক্রস করে হাঁটতে হাঁটতে
ছিঁড়া মানচিত্র বুকে জড়িয়ে চলে গেলেন রাতাছড়ায়?
পায়ের ছাপ আর ধুলো ঘাম বিন্দু বিন্দু গায়ে শুকালে
সারাদিন আনন্দাশ্রু টুপটাপ পড়বেই তো
প্রিয়ভূমি শ্রীভূমি সিলেটও দুজেলায় ভাগ হয়ে
মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গল।পুরো শহর শ্রীমঙ্গল মনে হলেও
বাবার ঘাম
তাঁর বাবার ঘাম
তাঁর বাবার বাবার ঘাম
আমার ঘাম হয়ে ঝরলো এই একই পথের ধুলোয়।
ঘাম আর ধুলো মেখে শীতলপাটির মতো শুয়ে থাকবো
সদর হাসপাতালের পেছনের দুতলায় একরাত।
০১:০৩:২০১৮
রাত:১১:১৫মি
সদর হাসপাতাল
মৌলভীবাজার।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: অর্জুন
চৈতন্য ফকির
লক্ষ্যস্থির রাখো পাখির চোখ হোক দিল্লি।
দ্রোণাচার্য:সামনে কি দেখছো অর্জুন?
অর্জুণ:শুধু চোখেরমণি আর কিছু না।
দ্রোণাচার্য :তাহলে গুণ টান টান করো।
অর্জুন:হ্যাঁ গুরুদেব।
দ্রোণাচার্য :সময় কম।আমাদের অনেক কাজ তৃতীয় পান্ডব।
অর্জুন :আপনার শিক্ষা,আপনার আদর্শ আর আদেশ শিরোধার্য গুরুদেব।আপনি আদেশ করুন।
দ্রোণাচার্য :জয় হোক পার্থ।
অর্জুন :যথা আজ্ঞা গুরুদেব।
স্থির লক্ষ্যে অর্জুন ধনুর্বাণ নিক্ষেপ করার আগেও পাখিটির চোখের ভেতর এক সাগর জল ছিলো।ছিলো জীবন।দানাপানি আর স্বপ্ন।পাখিটিও স্বপ্ন দেখতো নিজের ছানা। স্ত্রী।একটি নিবিড় নীড়।তার বুকেও ওম।সেও অর্জুনের মতো স্থির লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছিলো।
পাখিটির চোখের গভীর থেকে স্বপ্ন বেরিয়ে ডানা ঝাপটে উড়বে ঠিক সেই সময় তীর নিক্ষেপ হলো।পাখির চোখ থেকে মণি ফালা ফালা হয়ে রক্ত শুধু রক্ত গড়িয়ে যাচ্ছে।
ঠিক তখন:অর্জুনের মানুষ মন থেকে এক দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে গুরুদেবের শরীরের উপর পড়লো।গুরুদেব বিচিলিত নয়।
বললেন :লক্ষ্য স্থির রাখো শিষ্য।আমাদের এছাড়া কোন পথ নেই।কান্না মন বিবেক এসব এখন বড় বিষয় নয়।আমাদের সামনে পা ফেলতেই হবে।পায়ে পায়ে এগিয়ে যাবে সত্য।সত্য সুন্দর।তার কোন বিকল্প নেই।স্থির বিশ্বাসে এগিয়ে যাও।পাখিটির নির্বাণ অনিবার্য বৎস।
১২:০৩:২০১৮
বেলা:০১:৩০মি
দিল্লির আকাশ
(মাঝ আকাশ)
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: স্টিপেন হকিং
চৈতন্য ফকির
তিনি আসলেই তারাদের একজন তারা।তাঁর কাছে তারার হিসেব নিকেস গুনিতক ভগ্নাবশেষ ইশারা সব এসো কিলবিল ধরা দিতো।তিনি তো তারাপরিবারেরই একজন ধ্রুবতারা।তারা গুণতে গুণতে কখন তিনি ঘুমিয়ে পড়েন কখন জাগেন মনিটর জানে না।মনিটরে হেলে থাকা তাঁহার মাথার ভেতর এতো আকাশভরা তারার খবর তাঁর মুখস্থ। তিনি তারার দেশে ঘুমান।স্বপ্ন দেখেন।বাঁচা ও মরে যাওয়ার ভেতর শুধু জেতাকইয়ের সন্ধিবিচ্ছেদ ছাড়া তাঁর আর কোন উচ্চারণ অসীমান্তিকা জানে না।
১৭:০৩:২০১৮
ভোর:০৬:৩৬মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: দেওনদী সমগ্র :১৯
চৈতন্য ফকির
মিথ্যে মিথ্যে না হয় একটু কাছে আসো
একটু ভালোবাসো
একটু আদর একটু কিস করো।
মিথ্যে করে না হয় বসো
খুব কাছে খুব কাছে
আরো নিকট দূরত্বে আসো।
হোক না মিথ্যে সব সত্য
হোক মিথ্যে শরীর পরিক্রমা।
দেওনদীর পাড়ে আমার নৌক ভিড়ে আছে।
পাল তুলে দাও পাল তুলে দাও একটু লালন হোক।
একটু শাহ আব্দুল করিম।
কিংবা শরীর থেকে রাধারমণ রমণফুলে
তোমায় সাজিয়ে ফেলুক।
একটু না হও মিথ্যে হলো জগৎ এবং সকল সত্য বিষয়।
মিছেমিছি না হয় হলো একটু ভালোবাসা।
নদীর কাছে
নারীর কাছে
চিরকালই জিরিয়ে নেওয়ার জল
বন্যাজল দেওজল জলথইথই
নদীর কাছে
নারীর কাছে
আমার সমর্পণ।
০২:০৩:২০১৮
সন্ধ্যা:০৫:২৫মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: মাক্স
চৈতন্য ফকির
সামনে যে শহর তার দিকে তাকালে মাক্স পরিহিত পুরুষ
সামনে শহর যার দিকে তাকিয়ে মফস্বল শহর হবার গান গায়
সব কেমন ফাঁকি ও ফাঁক আর নিজেকে আড়াল করা একটুকরো মাক্স!
১১:০৩:২০১৮
রাত:০৭টা
আগরতলা।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: ইডিপাস
চৈতন্য ফকির
দুটো চাঁদচোখ অন্ধ করতে পারে সে আসলেই প্রকৃতপ্রেমিক।নষ্ট মেয়েটি বদলেছে মায়াপুরুষ।
পুরুষ শুধু প্রেমিক নয়।কামুক জিব আর লকলকে ছোবল নিয়ে যে পুরুষ পৌরুষ দাবী করে তাকে ইডিপাস বলি না।
ভেতরের ইডিপাসকে কতবার অন্ধ করেছি তোমার জন্য।তুমি সেই প্রেমিক পুরুষকে ফেলে জলজগমন করেছো কামার্ত ধর্ষকের কাছে।
তুমি নিজেকে এমন নির্লজ্জ করেছো।
ইডিপাস তার দুচোখ উপড়ে অন্ধ।
সে জন্মান্ধ নয়।নিজেকে আঘাত করেছে একজন মহিষীনারীকে প্রেম দিতে পারেনি।নারী এক ফাঁদ।
ইডিপাসের চেয়ে বড় প্রেমিকপুরুষ হয়?
তুমি তার চাঁদচোখ উপড়ে নেওয়ার পরেও মায়াপুরুষের বুকে লেগে আছো?
কেমন নষ্টকামুক তুমি,মায়ানারী?
২০:০২:২১৮
সময়:দুপুর:২:২৮মি
রাজেন্দ্রননগর।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: আমিই শূণ্য
চৈতন্য ফকির
অসংখ্য ভুলের যোগফল নিয়ে
বাঁচিয়ে রাখা জীবন থেকে পাঠ নিই
একটিও মুখ নেই।
মুখোশগুলোও মুখ খুঁজে এখন কঠিন সময়।
যোগ করতে করতে বিয়োগ ভুলে যাই।
বিয়োগ করতে গেলে টুটি চেপে ধরে
লটকে থাকা মুখোশ।
অসংখ্য ঘাতকের আঁকা মানচিত্র
বগলে নিয়ে বগল বাজাই।
যোগফল শুধুই শূণ্য।
হারাতে হারাতে নিজেই হারিয়ে যাই
সব থেকেও খাতাভরা
মনে হয় আমিই শূণ্য।
০৮:১২:২০১৭
রাত:০৯:৪৫মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: শ্রীদেবী
চৈতন্য ফকির
একদিন লাভডুব বাড়িয়ে দিতো রূপ।
আলো ঝরতো জ্যোস্নার কার্নিভাল থেকে।
মোহাচ্ছন্ন বয়:সন্ধি অর্হনিশ ঘোড়ার মতো
টগবগে করতো তাঁর হিলের টেপ গুনতে গুনতে
তাঁর নিক্কন থেকে শিৎকার ধ্বনি এসে
যুবকের দরজায় কড়া নাড়তো।
শ্রীদেবী পূর্ণিমা এসে বইয়ের ভাঁজে ভাঁজে
গোপন প্রেম লিখে দিতো।
বয়:সন্ধিবেলায় সকলের বুকের পালে
শ্রীদেবী বাতাস এসে ফাঁকি দিতো
বাবাদের চোখ।
বখাটে ছেলেরা তাঁর রূপে লাগা পালক থেকে যে উষ্ণতার রেণু মাখতো
শ্রীদেবীও তা জানতেন।
আমাদের বাৎসায়ন এখানে এসে
ঠিক কী লিখে রাখা দরকার ছিলো
শ্রীদেবী সিনেমায় আসার আগে জানতেন না।
সুতরাং যুবকের ঘুম আজও কেড়ে নেওয়া নাম শ্রীদেবীই।
তিনি আরো বহুদিন সকলের গোপন ভ্যালেন্টাইন।
২৫:০২:২০১৮
সকাল:০৮:০২মি
আমবাসা।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: নারিকেলগাছ
চৈতন্য ফকির
আমাদের কখনো নারিকেলগাছ ছিলো না রাতাছড়া বাড়ির উঠোন জুড়ে।
চিরকাল বাবার স্বপ্ন অপূর্ণ ছিলো।
আমি ভূমিহীন।বাবার ভূমি ভাইদেরে দিয়ে এলাম।
ভূমিহীন খাস জমিতে তিনটে নারিকেলগাছ নিজ হাতে লাগিয়েছিলাম।
তিনবছর হয় দুটো একটা ফলন আসে।
কাঠবেড়ালি খায়।আমি টের পাই।আমি ওদের তাড়াই না।
মেয়ে ও তার মা পেটের ব্যামোতে ভুগছে গত দিন।
পেটের ব্যামোতে নারিকেলের ডাবজল উপকারী উপশম।
ডাব পেড়ে আনতে পায়েই পড়লো।
পা প্রায় মচকে গিয়ে ব্যথায় কুকড়ে আছি।
মেয়ে আর তার মা বিছানায় পেটব্যামোতে কুকড়ে আছে।
গৌরব বাড়ি নাই।তার মাও নাই।
আমাদের বড় পরিবার ভাগ হয়ে দুজায়গায় ছোট পরিবার।আমিও একা।ওরাও।
গৈরিকা ও তার মাও একা।
আমরা পরস্পর অবিচ্ছিন্ন। অথচ একা।
রোগেশোকে আরো একা হয়ে যাই।
নারিকেলগাছ থেকে ডাবজল এলো।
বাবার স্বপ্ন আমার পূরণ হলো।
তবুও কত অসহায় একাকীত্ব আমাদের সুখি পরিবারে কাঠবেড়ালির খাদ্যের মতো ডাবগুলো জলশূন্য লাগে।
৩:২:২০১৮
রাত:০৯:টা
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: ভাতগাছ
চৈতন্য ফকির
ভাত শিকার করার দৌড়ে আমার বাবাকে দেখেছি
সকাল সকাল হাল নিয়ে বিনিময়করা জমিনে চাষ দিতে
মহিষ ও জোয়াললাঙ্গল নিয়ে যাওয়া নিত্য অভ্যাস।
বাবা বলতেন তাঁর তিনপুরুষ এমনই ভাত শিকারি।
আমিও ভাতের গাছ লাগাতাম নিজের জমিনে।
এখন আমাদের কিছু জমিন নদী গিলে খেয়েছে
বাকী যৌথ পরিবারের ঋণ মেটাতে শোধখেকো মহাজন।
আমার চাষের জমিন নাই।ভূমি নাই আমার।
আমার ছেলে হালচাষ জানে না।ভাতগাছ চেনে না।
আমার মেয়ে হালচাষ জানে না।ভাতগাছ চেনে না।
বিন্নিচাল আর গন্ধভাতের সাথে ইলিশের স্বাদ জানে না।
আমিও চাষবাস ভুলে যেতে যেতেও ভাতশিকার ভুলিনি। এখনো ঘুম ভেঙ্গে যায় হাল চাষে যাওয়া বাবার সেই সময়।
ভাতগাছ চাষ করতে আমি জমিনে নামি না এখন।
ভাতশিকার করতে রোজ প্যান্টশার্ট চশমা পরি
একটি কলম রাখি বুক প্যাকেটে:নাম দিয়েছি ভাতশিকারি।
০৩:০২:২০১৮
সকাল:৫:৫৫মি
আগরতলা-ধর্মনগর প্যাসেঞ্জার ট্রেন
আগরতলা।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: গ্লাস
চৈতন্য ফকির
সম্পর্ক পানীয় নয় যে গ্লাসে গ্লাসে ঠুকে পান করি
তবুও প্রতিরাতে ঠুকে ঠুকে পান করি সম্পর্কসম্পদ।
শরীর মদময় মিলনকাল এক একটি রয়্যাল প্যাক।
প্রেম তো প্রেমই ভালোবাসায় তখনই মিলে স্বাদ।
এক একটি প্যাক ভরি গ্লাস উপচে পড়ে রিচার্স।
শরীর চৈতন্যময় ফাঁকাগ্লাসে পড়ে থাকি আমিই ফকির।
সম্পর্ক নট রিচ্যাবল হলে শূন্য পড়ে থাকা গ্লাস
আমিও মায়া শুধু মায়া ভরাগ্লাসে দিকশূন্যপুর।
০২:০২:২০১৮
সকাল:০৭:২০মি
ত্রিপুরা ভবন,সল্টলেক,কলকাতা।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: ঢাকা
চৈতন ফকির
এই মাটির বুকে হাঁটলে ৭ মার্চের ভাসন শুনি
খান সেনার বুটের আওয়াজ শুনি
নিরীহ নিরস্ত্র ভাইটি-বোনটির কান্নার ধ্বনি
এখনো মাটির আওয়াজ।
রক্ত বয়ে যাওয়া নদী পদ্মা-ইলিশ নয় এক একজন লাশ জ্যান্ত লাফায় পদ্মায়।
ঢাকার মাটি থেকে রক্তের ঘ্রাণ নাকে লাগে
শহীদ আমিই আবার আমার রক্ত ঝরা মাটির উপর হাঁটতে হাঁটতে
এই জল এই পানি এই মাটি এই গাছ
সবই আমি মনে হয়,আমিই।
আমিই শাহাবাগের প্রজন্মচত্বর।
হাঁটতে হাঁটতে দোয়েল চত্বরে যাই
মুক্তির গান লিখি
স্বাধীনতার গানলিখি এইমাটির গান লিখি
মানুষের গানলিখি।
আর জয় বাংলা ধ্বনি আজোও বড় মধুর লাগে প্রিয়জন বঙ্গবন্ধু।
একই আওয়াজে পাকসেনার বুট মাঝরাতে ঘুম থেকে তুলে সটান আমায়।
আমার ভাইয়ের মতন
আমার বোনটি মা-টির মতন
এখনো যুদ্ধরত মনে হয় আমিও।
জয় বাংলা বলে সেদিন আমি মাঝরাতে বিছানায় দাঁড়িয়ে যাই।
মনে হলো আমি এখনো যুদ্ধের শহীদ।
২৩:০১:২০১৮
রাত:১২:৪০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: ত্রিকোণমিতি
চৈতন্য ফকির
ত্রিকোণেই মতিগতি ত্রিকোণ জ্যামিতি
প্রতিদিন জাল বিছাই করি ক্যারামতি।
তোমার ভূগোলে দেখি গোলক আর নলকূপ
গোলকে হাত রাখি নলকূপে জল টালি ছড়াই ধূপ।
তোমার গন্ধরাজ থেকে ঘ্রাণ এসে ভালো লাগা বাড়ে
অসংখ্য শব্দঋণ শরীরের টেলিগ্রাম তারে।
২৬:০১:২০১৮
সকাল:৬:৫৫মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: নদীঠোঁটরেখা
চৈতন্য ফকির
লাল রক্তপীতমিশ্রিত ঠোঁট থেকে
যে নদীরেখা বেরিয়ে
আবার ঠোঁটে এসে শেষ হয়ে গেলো
তোমার নদীর তিরতির স্রোতস্বিনী
এপাড় ওপাড় থেকে মাটি নিয়ে
গড়ে তটরেখা।
সে নদীর জলে নাই জাতপাত লেখা
কলকল প্রবাহিত নদীঠোঁটরেখা।
২৭:০১:২০১৮
সকাল:০৮:৫৮মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: চুম্বন
চৈতন্য ফকির
আচমকা আল টপকে মুখমন্ডল হাতের করতলে নিলাম
রাত গভীর অন্ধকার ভেতরে হয়তো আড্ডা চলছে।
তুমি কথা বলতে বলতে বাইরে কখন চলে গেলে।
তুমিবনেই আমিও অন্ধকারে খুঁজতে গিয়ে পেয়ে গেলাম
অনেকটা চেয়েছি তোমায় বাড়িয়ে দেবে ঠোঁট।
এই যে সেদিন তোমার ঠোঁটে আমার ঠোঁট লেগেছে
তাকে চুম্বন বললে তা হবারই ছিলো
সহস্র বছর থেকে এভাবেই তোমার ঠোঁট এসে আমার ঠোঁটে বসতো।
আমার তখন দানা বাঁধা রস গুলো চুম্বনের ভেতর থেকে বেরিয়ে পুরো
তুমিই আমার নক্ষত্রপরিক্রমা।
২৫:০১:২০১৮
সকাল:০৯টা
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: অমৃতচুম্বন
চৈতন্য ফকির
আচমকা আল টপকে মধুমন্ডল হাতের করতলে এলো নদীরেখা
বাইরে অন্ধকার ভেতরে আড্ডা চলছে-অমৃতযোগ।
তুমি কথা বলতে বলতে বাইরে চলে গেলে।
তুমি নেই আমিও অন্ধকারে খুঁজতে গিয়ে পেয়ে গেলাম কর্কটক্রান্তি।
অনেকটা চেয়েছি বাড়িয়ে দেবে ঠোঁট।
এই যে সেদিন ঠোঁটে লেগেছে ঠোঁটের গ্রহণ
তাকে চুম্বন বললে তা হবারই কথাছিলো।
সহস্র বছর থেকে এভাবেই চাঁদ সূর্য সরলরেখায় এলে গ্রহণ লাগে ঠোঁটে।
দানা বাঁধা ওম গুলো চুম্বনের ভেতর থেকে বেরিয়ে
পুরো তুমিই আমার নক্ষত্রপরিক্রমা।
২৫:০১:২০১৮
সকাল:০৯টা
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: ভূগোলবিদ্যা
চৈতন্য ফকির
কতটুকু নীচ থেকে ভূকম্পন শুরু হয় রিক্টার স্কেল জানে।
ভূগোল বিষয়ে কম্পন নিয়ে কোন পাঠ ছিলো না যতটুকু মনে হয়।।
শুধু জানি ভূগোল আমাদের মনের কম্পন আবিস্কার করতে পারে না।
ভূগোলবিদ ততটা নইও আমি যতটা কম্পন হলে ভূমিকম্প বলা যায় জানি না।
আমার ভূগোলবিদ্যা তোমার গোলক অব্দি সীমাবদ্ধ।
২১:০১:২০১৮
রাত:০৯:৪৫মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: আমিই শূণ্য
চৈতন্য ফকির
অসংখ্য ভুলের যোগফল নিয়ে
বাঁচিয়ে রাখা জীবন থেকে পাঠ নিই
একটিও মুখ নেই।
মুখোশগুলোও মুখ খুঁজে এখন কঠিন সময়।
যোগ করতে করতে বিয়োগ ভুলে যাই।
বিয়োগ করতে গেলে টুটি চেপে ধরে
লটকে থাকা মুখোশ।
অসংখ্য ঘাতকের আঁকা মানচিত্র
বগলে নিয়ে বগল বাজাই।
যোগফল শুধুই শূণ্য।
হারাতে হারাতে নিজেই হারিয়ে যাই
সব থেকেও খাতাভরা
মনে হয় আমিই শূণ্য।
০৮:১২:২০১৭
রাত:০৯:৪৫মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: বাছ বিচারেই সব খালি!
চৈতন্য ফকির
অনেকেই আত্মতৃপ্তি নিয়ে বসে আছেন।এ এমন পারে না।
ও তেমন পারে না।গবেষণায় বসে আছেন।কয়েকজন সাহিত্যিকই নর্থ ইষ্টের নজরুল!বাকীরা বিলকুল কিছু নয়? এমন বিতর্ক উৎসকে দিয়ে তৃপ্তিবোধক মুখাভিনয় করে যাচ্ছেন কেউ কেউ।
দরকার সম্মিলিত কাজ।কাজ কাজ আর কাজ।উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে সাহিত্যের শ্রমিক ও সাহিত্যিকদের ক্রমাগত কাজ করা চাই।এটুকু সকলের মনে পোশন করলেই আমাদের অগ্রগতি হয়।কাঁকড়ার মতো টেনে ধুতি খুলে কেউ সংস্কৃতিবান হতে পারেন না।
সকলেই সৃজনশীল কিন্তু সকলেই সুসাহিত্যিক তা নাও হতে পারে।তাই বলে অহরহ আত্মশ্লাঘার কী এমন ঘটলো?
২২:০৩:২০১৮
বেলা:১:৩০মি
রাজেন্দ্রনগর।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: তিনটে কবিতা
চৈতন্য ফকির
ভূমিকা
ত্রিশূল
কন্ডোম আসলে একটার সাথে অন্যটার বিরোধ চিরকালীন।
ত্রিশূল
ত্রিশূল ভয় ছোটবেলা থেকেই।
আমাদের রাতাছড়ায়
চড়কমেলায় বাবার হাত ধরে যেতাম।
শিবের নাচ দেখতে মন্দ লাগতো না।
শিবের উপর কালীর জিভ বের করা
ত্রিশূল নিয়ে শিব চুপটি শুয়ে থাকলেও মনে হতো
এই বুঝি সজোরে সব লন্ডভন্ড করে শিব ওঠে দাঁড়াবে
আর প্রলয় নাচন নাচবে
এফুড় ওফুড় করে দেবে কালীকে।
এই দৃশ্যে আমার ভয় আজোও গেলো না।
এখনো ত্রিশূলের ফলা চোখের সামনে বিষফলার মতো নাচছে।
কন্ডোম
.............
এখন তার ব্যবহার বেড়ে গেছে।
কে আর এডসফেডস ডিঙ্গিয়ে
নিজের লিঙ্গ এতটা উদোম রাখবে বাবা।
ছোটবেলা কন্ডোমকে নিরোদ বলেও জানতাম না
বেলুন মনে করে
কতটা ফুলিয়ে
সুতো দিয়ে বেঁধে বেলুনের আনন্দ পেতাম।
মনে হলে নিজেকে বোকাই লাগে।
আর বড়দের কাছে মুখ দেখাদেখি হয়
পাছে এই লজ্জায় থাকি।
ছবি:চৈতন্য ফকির
২৩:০৩:২০১৭
রাত:১০:২০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: পদ্যাণু
চৈতন্য ফকিট
শরীর ধারালো কিরিচ।নিজেকে নিজে কেটেকুটে ব্যবচ্ছেদ করি।টুকরো টুকরো আমি এক একজন ভিন্নমানুষ।
১৯:০৩:২০১৭
সকাল:৭:৫৬মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: পদ্যাণু
চৈতন্য ফকির
স্রোতের দিকেই জল গড়ায়, যতই উল্টো ঢালো নদী।
১৯:০৩:২০১৮
সকাল:৬:৩৬
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: পদ্যাণু
চৈতন্য ফকির
আলো নিভে গেলে রাত নেমে আসে অন্ধকার।
সেই গভীরগহন থেকে তুলে আনি আলোর উৎস।
১৩:০৩:২০১৮
রাত:০৮টা০৫মি
কালীবাড়ি দিল্লি।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: খেলা
চৈতন্য ফকির
আমি কোনদিনই মনোযোগী ছিলাম না
খেলা আমার মননে আছে
সেরকম কখনো সায় দেয়নি শরীর।
খেলার জগতের বাইরের লোক আমি
যেকোন দেশ জিতলেও আমার আনন্দ নেই।
হারলেও বিষাদ নেই
আমি খেলায় জিরো পাওয়া চৈতন্য ফকির।
১৯:০৩:২০১৮
ভোর:০৭টা
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: ঝরাপাতাঠোঁট
চৈতন্য ফকির
তোমার রঙচঙ করা ঠোঁট থেকে সবুজ হারিয়েছে
ঝরা পাতার আকার নিয়ে তা আরো রক্তাভ।
পৃথিবীর দিকে রাক্ষুসে ক্ষুধা নিয়ে বিকট হা।
ভাতের গন্ধ কোথায় হারিয়ে গেলো শুধু ঝরাপাতাকাম!
১২:০৩:২০১৮
সকাল:১১:২০মি
নেতাজী সুভাস চন্দ্র বসু
আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর
কলকাতা।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: আত্মখনন
চৈতন্য ফকির
নিজের ভেতর থেকে নিজেকে খনন করে
আমাকে আমি বের করে আনি উড়োখই।
ভেতরের আমার ভেতর আমি তো নই
অজস্র আমি কবেই মরে আছি লাশ।
আর এক আমি বেঁচে আছি মরে মরে
মনের ভেতর কত পুকুর ডুবে মরে রই।
১২:০৩:২০১৮
সকাল:১০:৪৫মি
নেতাজী সুভাস চন্দ্র বসু
আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর
কলকাতা।
কলকাতা
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: এসো চাঁদ
চৈতন্য ফকির
মিলন নিকটে এলে প্রেমিকা চাঁদ হয়ে যায়।
চাঁদ হয়ে এলে মনোময় আলো হয়ে জ্বলবো।
এসো চাঁদ আলোকিত হই।
১৩:০৩:২০১৮
সকাল:০৮:৪৫মি
নিউ দিল্লি.কালীবাড়ি।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: আত্মস্তব
চৈতন্য ফকির
টপকে যেতে চেয়েও নিজের উচ্চতার কাছে
হেরেগেছি চমৎকার।
কোথাও একাকী বসলেই মনে হয় স্ট্যাচু।
দাঁড়ালেও নিজেকে স্ট্যাচু লাগে।
হুড়মুড় বিরুদ্ধ বাতাস এলে মুসড়ে যাবো
তক্ষণাৎ শিকড়সহ সরে যাই অন্যত্র।
এরকম নিজেকে বদলাতে বদলাতে
সমপরিমান ভূমি খুঁজি।
সবুজ ভূমির দিকে চাই
পিতার কথামনে পড়ে।
আমাদের দিকনির্দেশ দিতে দিতে ভূমিহীন
পিতা।
যে টুকু নিজেকে করেছি উচ্চ-স্বচ্ছ সবই মায়া।
মায়ার বুক ঢপকে যেতে আমিও মরুদ্যান।
১১:০৩:২০১৮
বেলা:৪:৩০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: মিছিলমিছিল
চৈতন্য ফকির
মিছিল চলছে মিছিল চলছে
বুকের ভেতর।
রাত বাড়ছে রাত বাড়ছে
গভীর অন্ধকার।
সামনে পথ সামনে পথ
এগিয়ে যাওয়ার।
সকাল আসবে সকাল আসবে
সামনে যাওয়ার।
১২:০৩:২০১৮
সকাল:০৭:০৫মি
এয়ারপোর্ট, আগরতলা।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: সমদ্রকন্যা
চৈতন্য ফকির
তুমি সমদ্রে এলে জলের মতো লাগে।
আর আমাদের প্রতিবেশী যখন
তখন তোমাকে বাংলাদেশ মনে হয়।
হৃদয়ে রেখেছো অপরূপ সৌন্দর্য
মননে লালিত বন্ধুত্ব।
আমাদের প্রিয়জন
প্রিয়তম ঝর্ণা।
উৎসের অবিরত ক্ষরণ থেকে
যে জলজ অতল
তাতে তুমি সহজসুন্দর
এঁকে দিই সমুদ্রকন্যা।
১১:০৩:২০১৮
বেলা :৪:৫০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: চাতলাপুর
চৈতন্য ফকির
৬৮ বছর আগে এই পথেই বাবা দেশের বাড়ির মায়া বুকে কান্না চেপে পেরিয়ে গেছিলেন।
বাবার পায়ের ছাপ লেপ্টে আছে এই পথের প্রতিট ধুলোকণায়।
ধুলোগুলো উড়ে এসে আমার শ্বাসের ভেতর ঢুকে
অবিকল বাবার শরীরের গন্ধ বহুদিন পর পেলাম।
বাবাই বললেন চল ইন্ডিয়ায় যাই।
ইন্ডিয়া মানে ভারত।ভারতদেশ।
০২:০৩:২০১৮
সকাল:১১:৪৪মি
চাতলাপুর।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: ডিজিটাল ইন্ডিয়া
চৈতন্য ফকির
মায়া সবই মায়া আর বাকিটা যে যার মোবাইলস্ক্রীনে আটকে থাকা ডিজিটাল বিশ্বাস।
ক্রমাগত আঙ্গুল লাইক বটম ক্লীক করে যাচ্ছে
কেউ কারো দিকে মুখোমুখি বসিবার বনলতা সময় নেই।
সকলেই ফেঁসে আছে শ্রীদেবীর ত্বকের মতো স্কীনটাজ আনন্দে
ক্রমাগত পাখিউড়া আকাশ থেকে দৃশ্যপট পাল্টে যায়।
উঠোনের চড়াই কবেই তা দেয় অনিশ্চিত মমতা
আমাদের ভূখন্ড থেকে দিকভ্রম পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে
আরো এক আকাশ খোঁজে মুক্তির চাঁদ
ডিজিটাল ইন্ডিয়া আমার ভারত:ত্রিবিন্দু দ্বন্দ্বে লেখে নিজস্বী।
২৮:০২:২০১৮
ভোর :৭:০৫মি
কমলাপুর।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: কালিকাপ্রসাদ
চৈতন্য ফকির
সারা গায় মাটি লাগিয়ে মাটির কাছে গেলে
শেষ সকালেও মাটির সাথে কথা কিসের ছেলে?
গানের কাছে মাটি লেপে মাটির গান গাইলে
লোক গানের ঝাঁপির ভেতর এত মাটি দিলে।
দরাজ গলায় মাটির গানে মাটির সুর তুলে
সারা শহর কাঁপিয়ে দিয়ে দোহার তালে তালে।
০৮:০৩:২০১৭
রাত:১০:৩৩মি
দেওপাড়।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: পদ্যাণু
চৈতন্য ফকির
ভালোবাসলে আমি গলা জলে শীতকাল কাটাতে পারি।
২৭:০২:২০১৮
সকাল:০৮মি
আমবাসা
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: থাকা না থাকার কোথাও এত চিতাজ্বলে
চৈতন্য ফকির
যে নেই
সে সত্যি নেই
সে আর থাকে না।
তবু কেন সে এমন করে থাকে?
এমন করে কেন একজন থাকে।
এমন করে কেন না থেকেও থাকে।
আমরা থাকতে বুঝি না
সত্যি বুঝি না।
এত গভীর রকম সে একজন
আমার মজ্জায় ঘনিষ্ঠ হয়ে থাকে
থাকেন
থাকতে থাকতে তার অনুভব
আর আমার অনুভব এক নিশ্বাস
বিশ্বাসের খুব কাছে চলে এলে
আর কী সত্যি টের পাওয়া যায়?
কে আছেন?
কেন আছেন?
যে নেই
তিনি সত্যি নেই।
আর তখনই চিতা পোড়া আগুন এসে
আমাদের লাবডুবে আচ লাগে।
এ এক কঠিন নিষ্ঠুর আচ।
আমাদেরকে খুব একলা করে দেয়।
মৃত্যু এসে গভীরভাবে যন্ত্রণা দেয়
ঠিক তখনই।
যে নেই
সে নেই।
সে আর কখনো আসে না
থাকে না
শুধু চিতাজ্বলে বুকের কোথাও।
২৪:২:১৮
সন্ধ্যা:৫:৩০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: পোড়াশরীর
চৈতন্য ফকির
শ্মশান খুব সামনে চিতার ঘ্রাণ এসে নাকে লাগছে।
নিজের শরীর পুড়া গন্ধে রাত নামে।
রাত বড়ই অন্ধকার প্রিয়।
রাত বড়ই অন্ধকার।
এই অন্ধকার ভেদ করে নাকে আসছে শরীর পোড়া ঘ্রাণ।
চিতার আগুনের আচ বাড়লে শরীর ছাই হয়ে গেলো
আমি এখন শুধুই নিরাকার।
২৫:০২:২০১৮
সন্ধ্যা:৫:৪০মি
আগরতলা।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: প্রিয় বর্ণ- গ
চৈতন্য ফকির
আমার প্রিয় বর্ণ "গ"
গ-তে গরু
গ-তে গাঁধা
গ-তে গাড়ি
গ-তে গোলকপুর।
গ-তে গন্তব্য
গ-তে গমন
গ-তে গকুলনগর।
এমন অসংখ্য গন্তব্য শেষে
আমিই গোবিন্দ।
গোয়ার গোবিন্দ শ্রী শ্রী ১০৮।
২২:০২:২০১৮
বেলা:১১:৪৯মি
আগরতলা।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: পদ্যাণু
চৈতন্য ফকির
কুয়াশা আচ্ছন্ন পথ ধরেই পেরুতে হবে নদী সভ্যতা।
০৮:০২:২০১৮
সকাল:১১টা
কৈলাসহর।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: মিথ্যেলজি
চৈতন্য ফকির
এত মিথ্যে
এত মিথ্যে
এত মিথ্যে
কেমন করে বলা যায়!
মিথ্যেকে শিল্পে নিয়ে যাওয়া লোকটি একটি বক।
মিথ্যে বলতে বলতে সে আর সত্য বলতে পারে না।
মিথ্যে মিথ্যে স্বপ্নঘোড়ার সহিস টানে
মিথ্যে মিথ্যে একটি লক্ষ সামনে ঝুলিয়ে
তিনি ঘূর্ণয়মান
নিজেই নিজের গলায় রাখেন বিশ্বপ্রেমিক!
১৫:০২:২০১৮
রাত:০৭:৫৫মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: বর্ণমালা
চৈতন্য ফকির
বাংলা অক্ষরের শরীর জুড়ে জ্যোস্না ও উষ্ণতা।
২০:০২:২০১৮
রাত:০৯:৪৮মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: পদ্যাণু
চৈতন্য ফকির
তোমার কাছেই ভায়োলিন আমার,বাজাও।
০৮:০২:২০১৮
রাত:০৮মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: মোমশরীর
চৈতন্য ফকির
মোম হয়ে গলে গলে জ্বলি পুড়ে শরীর।
নয় দরজা আঠারো মোকাম পুড়ে।
হাতের উত্তাপে হাত পুড়ে
মোম গলে গলে ভেতরের পানপাতা নামে।
হাতের ওমে আমি গলছি।
মনের ওমে আমি গলছি।
ফুলের ঠোঁট থেকে গলে গলে
গলে গলে নামছি যত্নে রাখা ঘামে।
গন্ধ ধূপ হয়ে ছড়ায় গ্রহণলাগা চাঁদ।
২:২:১৮
রাত:৮:৪০মি
নতুননগর,আগরতলা।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: দেওনদীসমগ্র:২০
চৈতন্য ফকির
চোখের ভেতর দুঃখ জলের নদী আছে?
কান্না হয়ে নামতে চায়?
আটকে রাখো।
আটকে রাখো।
মিথ্যে কোন মায়ার ছায়া ভুলেও যদি মাড়িয়ে থেকো।
পা তুলে নাও
পা তুলে নাও
মরুমায়া টুটাল মায়া আসলেই তা জল নয়।
জলের ভেতর কান্না থামাও এক ফুটা আর অশ্রু না
মায়া এক বিরল নারী ধানের দুধের প্রোটিন খেকো।
০৬:০২:২০১৮
রাত:০২:২০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: পদ্যণু
চৈতন্য ফকির
আমিও রাধারমণ এক চিরকাল অক্ষর সাধন করি।
অক্ষরের আলো বেরিয়ে এলে নিজের প্রেমিক আমি নিজেই।
৬:২:১৮
রাত:১০:৩০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: দেওনদী সমগ্র :১৮
চৈতন্য ফকির
নদীর সাথে সখ্যতা করতে গিয়ে ডহর লাগে মনে।
ডহরের পানি এসে ভিজে গেলো সামন্যচর।
২৭:০১:২০১৮
রাত:০৮:০৫মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: জলউৎসব
চৈতন্য ফকির
নদীর নারীর মাঝে পাই জলজউৎসব।
সুতরং লিখি আমাকেই আমি।
আমার রক্তে লিখি কামের অক্ষর।
শিরার গভীর তানগুলো নদীই পাঠায়
নারীর বৈঠায়।
নিজেকে দ্রাব্য করি জলবর্ষায়।
২২:১:২০১৮
বেলা:০৪:৩০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: আক্তারবালা জেনিস
চৈতন্য ফকির
এমন পত্র তুমি লিখো সহস্রবার।
হাতিঝিলে এক সন্ধ্যায় চলো
বইয়ের ভেতর খু্ঁজবো আমলকি সময়।
কাঁটার গোপন থেকে পত্র তুমি লিখো সহস্রবার।
হাতিঝিলে এক সন্ধ্যায় চলো খুঁজি কাঁটাবন।
চলো বইয়ের ভেতর খু্ঁজবো আমলকি সময়।
শাপলা সময় থেকে তুলে আনি জাতীয় সুন্দর।
বুজে দিই খোপায়।
পত্র লিখো পাঠক সমাবেশ উঠে আসুক
বাতিঘর থেকে আলো বেরিয়ে সারা মন আলোকিত হোক।
কক্সবাজারের সমুূদ্র সৈকতে কাঁকড়ার ঠেং ধরে টানি
ভাজিখেকো রসনায় দিই শান।
মনের ভোজনালয় হোক সুস্থ সুন্দর বিচ্ছুরণ।
২২:১:২০১৮
বেলা:৩টা২০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: ভূগোলদিদিমণি
চৈতন্য ফকির
ঠিক যেখান থেকে আপনার অক্ষরেখা বদলে গেলো
ঠিক সেখানেই কর্কটক্রান্তিরেখা মুখদ্রাঘিমার উপর
সূক্ষ্মতম এক বৃত্তাংশ অথচ তার বাইরেই চেনা গোলক।
শীতকালে সাড়ে তেইশ ডিগ্রী হেলে আছেন মকরক্রান্তিতে
গ্রীষ্মকাল এলে সাড়ে ছেষট্টি ডিগ্রী বিষুবরেখায় গতিপথ।
আপনার আহ্নিকগতি আমাকে শেখায় সূর্যোদয়।
আপনার বার্ষিকগতি আমাকে শেখায় নতুন বছরের গল্প।
আমি সেদিন একটু হেলে ছিলাম জ্যোৎস্নার কার্নিভালে
যেখান থেকে পৃথিবীর জোয়ারভাটা হয়।
১৩:০১:২০১৮
ভোর:৬:৩০মি
নতুননগর,আগরতলা।
শিল্পী:স্বপন নন্দী।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: প্রেমপদাবলী
চৈতন্য ফকির
আজ সকালের আমন্ত্রণে আমি নিরস্ত্র
লিখি প্রেমপদাবলী
লিখি মিলনসঙ্গীত
লিখি আনন্দবিন্দু অব্দি তোমার প্রশ্রয়।
তোমাতে ভ্রমন লিখি প্রেমপদাবলী।
কামনার সাগর নয় প্রেমের আখড়া
প্রেমের দেব-দেবী রতিকান্ত
রাধারমণ জানে সে সঙ্গ সঙ্গত সংকটে
আনন্দবিন্দু অব্দি হোক আলিঙ্গন।
২২:১:২০১৮
সকাল:০৯টা
রাজেন্দ্রনগর
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: দেওনদী সমগ্র :১৬
চৈতন্য ফকির
নদীর কোন রঙ নেই।নদীর কোন নিজস্ব সাঁতার নেই।
অবগাহন আর স্নান করতে নেমে জলের তোড়ে আমি ভাসমান শব।জলের নদীর মতো নদীর জল কলকল নিম্নক্ত। আমি একা ভেসে যাই মেঘবালিকা।
২১:০১:২০১৮
সকাল:০৯:২৫মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: দেওনদী সমগ্র :৯
চৈতন্য ফকির
বাঁক নেওয়া নদীর চরিত্র
নদীর গাঙচিল এই আমি
সে পাঠ বুঝিনি।
তবুও নদীতেইভাসাই পানসি নাও।
১১:১:২০১৬
রাত:৯:৪৮মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: কাঁটাতার
চৈতন্য ফকির
কিছু স্বপ্ন আমার বাবা ওপারে রেখে গেছেন।
বাবার বাবাও কিছু স্বপ্ন ওপারে দেখতেন।
তাঁর বাবাও কিছু স্বপ্ন বুনতেন ওপারেই।
৫২র ভাষা আন্দোলনের আগে বাবার বাবা
আমাদের সকল স্বপ্নকে পাঁজাকোলা করে
এপারে নিয়ে আসেন।
তখনও কাঁটাতার দুই দেশের সীমানায় বসেনি।
বাবা চাতলা বর্ডার ক্রস করে
তাঁর প্রেমিকাকে ফুল দিতে পারতেন।
আমার কিছু মনের মানুষ ওপারে থাকেন
আমি ফুল নিয়ে কাঁটাতারে আসতেই
পাখির মতো সীমানা ভেদ করতে পারি না।
আমার ফুলগুলো সময় মতো প্রিয়জনের কাছে
দিতে পারি না।
আমার স্বপ্নের মতো ফুলও হেজেমজে যায়।
১১:০১:২০১৮
ভোর:৫:৪০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: দেওনদী সমগ্র :১৪
চৈতন্য ফকির
তুমি জলের মতো এতটা তরল জানতাম না।
জল হয়ে এরকম গড়িয়ে যাও দূর আর দূর।
কাশবন পেরিয়ে ঘন অরণ্যের থেকে আরো দূর।
১২:০১:২০১৮
রাত:১১:৫৪মি
নতুননগর,আগরতলা।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: পরিমাপ
গোবিন্দ ধর
মানুষকে চেনার কোন যন্ত্র নেই।
কাছের জন পর হয়।
দূরের জন নিকট।
সব কিছু মাপা গেলেও
সম্পর্ক মাপা সহজ নয়।
তুমি ভাবছো সব মেপে নিয়েছো
ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা দেখে।
আসলে ভেতরে অনেক লাভা
অস্থির,শুধু কি ফাঁটলেই
বেরিয়ে পড়ে আগ্নেয়গিরি?
০৮/০১/২০১৭
রাত:১২:০১মি।
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: বার্বিডল
চৈতন্য ফকির
এই শীতে পাইনি আমলকি বাগান।
বিচ্ছেদ কিছু বিপ্রতীপ সরীসৃপ শরীর।
মন নেই মন নেই সময় ঘোড়ার মত ঘাস খায়
আস্তাবলের মাঠের ভেতর।
ঘাসের ডগায় লেগে থাকা শিশির থেকে
যে মুখ ডিগবাজি খায়
যোগেন্দ্রনগর টু জিবিবাজার
বিশ্ববিদ্যালয় টু বিজয়কুমার
গণরাজ টু মঠচৌমুহনী
মঠচৌমুহনী টু ধলেশ্বর কলোনী
অসংখ্য জার্নিই জীবনের গান?
ঘোড়া তার পথ পাল্টে সময় ডিঙ্গাতে চায়
সময় শীতের দিকে ফেরি করা হাঁস।
লেপমুড়ি জীবন থেকে জীবনানন্দ হারিয়ে গেলে
বনলতা তুমি ঘাস খাওয়া তেপান্তর।
কাঁটাতার পেরিয়েও পাঠাও তোমার ঘাস?
এতটা ঘোড়া নয় যতটা মাঠ
তবুও কি তোমার ঘাসের নিকট তৃণ খুঁজে
যায়নি অশ্বারোহণ শেষে পরিশ্রান্ত কেউ
তথাপি তুমি শুধু মন নেই একখানা বার্বিডল?
৮:১:২০১৮
সকাল:৮:৪৫মি
নতুন নগর,আগরতলা।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: ভোর
চৈতন্য ফকির
মর্নিং ওয়ার্ক মর্নিং ওয়ার্ক হয় মন।
হাত ধরে বহুদর দেওনদীর উৎসে জলচাষ করি
চলো,সকালবেলারবালিকা।
সকাল:৫:২৩মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: জম্পুই
চেতন্য ফকির
মিজোমেয়ের থুথুনির চিকন টোল বেয়ে
বৃষ্টি ঝরে।ঠোঁটে অহেতুক লিপস্টিক।
শরীর বেঁয়ে ঝর্ণাকলম কবিতা লেখে।
আমি তোমাকেই আঁকি মেঘের আঙ্গিনায়।
বুকের আকাশে এত মেঘ জমে আছে
ক্লাস্কির চূড়োয় উঠেও বৃষ্টি আসে না।
শুধু মেঘ পাঠাই ঘন জঙ্গল থেকে
মেঘ এসে তোমার মুখ ঢেকে যায়।
সারাদিন মেঘ মেঘ তুমি বুকের পশম খাও।
বেতলিংচূড়ায় যে শিবলিঙ্গ ছিলো
তাতেও ক্রস চিহ্ন আঁকা
রতনমণি রিয়াং স্বপ্ন দেখতেন সকলের বুকে
শিব ঢুকে যাবেন।বেতলিংচূড়োয় শিব বসান তিনি।
সেই শিবও পুড়ে যান আমার মত অর্হনিশ।
সারাদিন শিব মেঘ তুমি বুকের পশম নিয়ে খেলো
মিজোমেয়ের টোলের চেয়ে তুমিই আঁকো ফুলদংশাই।
আমি ফুলের মাঝেই দংশে আছি দহন খুড়াই
তোমার কমলাপ্রান্তর জুড়ে দিয়েছি শিয়র
ইডেন এঁকেছি বুকে।ভাঙমুন থেকে চাঁদ নিয়ে এসো
নীল কুয়াশায় হারিয়ে যাবো কিচকঅরন্যে।
২৬:১২:২০১৭
রাত:১০:০৫মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: পদ্যাণু
চৈতন্য ফকির
অন্ধকারে সময় এসে চাঁদ লেগে যায়।
২:১:২০১৮
রাত:৯:৪৫মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: পদ্যাণু
চৈতন্য ফকির
রাতের চাঁদ তুমি সাম্যবাদী।
২:১:২০১৮
রাত:৭:১৫
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: ভাষাতত্ত্ব
চৈতন্য ফকির
তোমার বাক্যের ভেতর অস্ত্র লুঁকানো আছে।
কোনদিকে হেলে আছো কতটুকু বলে দেয়।
২:১:২০১৮
রাত:৮:২০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: নৌকাপথ
চৈতন্য ফকির
গঠনতন্ত্র মেনেই সব দিয়েছি
তুমি তাও অন্যস্রোতে সাঁতার কাটো!
২৫:১২:২০১৭
ভোর:৪:৫৫মি
কাঞ্চনপুর।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: আনন্দবালিকা
চৈতন্য ফকির
বিষন্নরাত তুমি নেবে না জানি
তুমি আনন্দ কুড়ানো বালিকা।
সাতচল্লিশ বছর পেরিয়েও কেউ
কথা রাখতে আসেনি।না তুমিও না।
রেডিমেট সভ্যতার চাই আনন্দনগর
নগর সভ্যতার কাছে সামন্য ধনেপাতার ঘ্রাণ
এমন কিছু নয় তার চাই ফ্রিসফাই।
পাতাকপি চিংড়ি কিংবা কাঁটাডাটার চচ্চড়ি
হতে পারে শ্রীহট্টীয় শুটকীর ঘ্রাণসহযোগে
রসনার স্বাদ।সবই হয়।হয় না
বিষন্নতার চুলের ভেতর তোমার নরম
আঙ্গুল চালনা আর কার্নিশে বসে
আগামীর স্বপ্ন দেখা।তবুও জীবন
মৃতনদীর মতো জল নাই অপেক্ষা।
অপেক্ষার রাত বড় দীর্ঘ হয়।দীখল তার সময়।
তোমার উপর উপর মন হাওয়ায় ভেসে গেলে
যে চড়ুই দানা খুঁজতে ঝড়ের দুপুরকে উপেক্ষা করে
তুমি তার খবর রাখো না
তোমার চাই আগুন।দেশলাই জ্বালিয়ে
অন্ধকার পেরনো সময় ফুরিয়েছে এখন।
এখন আনন্দনগর থেকে কিছু আনন্দ নিয়ে
আনন্দববালিকা তুমি।
০১:৯১:২০১৮
রাত:১১:৫০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: সম্রাট
চৈতন্য ফকির
বেচারা কবেই গঠনতন্ত্রে বিশ্বাস করে
সকলের সমানাধিকার দিয়েছে,পাখিকে
দিয়েছে উড়ার স্বাধীনতা, ইচ্ছে উড়াল
দিয়ে জাতিঙ্গারপাখি হও তাতেও তার
নীরব সম্মতি না হলে একটিও পাখি
খাঁচা ছেড়ে কোথাও যেতো না।
সম্রাট আপনি সম্রাট আপনি রাজা
আপনার চোখ থেকে কেন আলো
ঠিকরে বের হয় না?আগুন ঝরে না কেন?
ভেতরের সব লাভা কোথায় হারিয়ে
আপনি সম্রাট, আমাদের বিপন্ন সংকট।
২৪:১২:২০১৭
রাত:০৭:১৫মি
কাঞ্চনপুর।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: অসুখের পাঠশালা
চৈতন্য ফকির
ঝুলে গেলো পায়ের পেশি
ভূমিতে পা রেখে কোথায় হাঁটবো।
তুমি চলে যাও,যাও আনবাড়ি।
আমি না হয় জানবো খবর নেবো
কখন কোথায় কার কাছে আছো।
শ্রীমুখ এগিয়ে শীতের আদর মাখো
আমি তো জানি তুমি প্রতিদিন পাল্টে
পথ ও মত নিয়ে আরো হাতে হাতে
বিলিয়েছো,তাতে কি সব আছে?
সব পাওয়া যায় জীবনের সবুজ?
নিজেকে খুচরো করাই সব নয়
আরো এক অন্তর্গত ক্রোধ রাখি
পায়ের পেশির মতন ঝুলে রাখি
গোপন মানচিত্রে কিছু অসুখ রাখি
তবুও অপেক্ষায় দরজা তবু খোলা।
২৪:১২:২০১৭
বেলা:১২:৫৫মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: রাধাপুরাণ
চৈতন্য ফকির
গতিপথ আঁকা আছে যমুনার তীর
শত শত কৃষ্ণ কালা যাতনায় ভীড়।
রাধার মনের ভেতর অজস্র কৃষ্ণ
ক্রমাহত বাঁশি বাজে মন তার উষ্ণ।
কৃষ্ণের হৃদয় পুড়ে ছারকার ছাই
রাধা তো জলসই জলজ রাই।
২২:১২:২০১৭
রাত:১০:১০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: খোয়াই
গোবিন্দ ধর
নৃপেন চক্রবর্তী দিক নির্দেশ দিচ্ছেন
এদিকে যাও
ঠিক স্ট্যান্ডের ওদিক দেখো মোহর মুক্তমঞ্চ
সামনে তাকাও বইমেলা মাঠ
যে মেয়েটি কাব্যকরে
যে মেয়েটির বই বের হয়নি
যে মেয়ে লিখছে
তার কাব্য সংকলন হোক
আগামী বইমেলায়।
তারপর সামনে তাকাও
সামনে বয়েস স্কুল
তার পাশ হয়ে যে পথ তাঁর বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়
তাকে নিয়ে বেরিয়ে যাও কবিতাদেশ।
বাড়ির ছাদে দেখবে লাল সাদা ফুল
একদম ধরবে না
অনেক যত্নে বুঝলে এসব লাগিয়েছে সে।
দূর থেকে দেখো
তারপর চন্দন সেন স্বরণি
হীরেন্দ্র সিংহ স্বরণি
অদূরেই বনবীথি
কলকল বয়ে যায় নদী
নদীর কোনো গোপনীয়তা নেই
সে দেখো বিজ্ঞাপিত নয়
যা আছে রূপ রূপসা ঝলমল
আপন বেগেই বয়ে চলা স্বভাব
তিরতির স্রোত বয়ে নিয়ে যায় ময়লা
খড়খুটো চারদিকে সবুজ ঘাস গাঙশালিক ফড়িং
উড়ে বসে তারপর দিকবিদিক
সোনালি রূপালি মাছ
বাঁশপাতি
সব দেখো।দেখো
ভরা বর্ষায় উলুন।
নদীর গোপন নেই বলে এই আমার
এই-ই আছে সব তার বুকে নিয়ে বয়
ধীরে ধীরে অস্পস্ট ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় নৃপেন চক্রবর্তী সব বলে দেন।
সামনে পেছনে এখনো খোয়াই তিনি সর্বক্ষণ চোখে চোখে রাখেন।
৩০/০৫/২০১৬
খোয়াই
বেলা:৩:২০মি।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: ভুল স্বরলিপি
চৈতন্য ফকির
ভুল এক মারাত্বক রক্তচোষা ভ্যাম্প্যায়ার।
২০:১২:২০১৭
বেলা:১৩:৫০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: হননলিপি
চৈতন্য ফকির
রাশিচক্রে হননকাল এলে জ্যোতিষীকে হত্যা করলেই জীবন আলোকিত হয় না।
নেপোলিয়ান নিজেই
তলোয়ারের ধারালো আঘাতে হস্তরেখায় বাড়িয়েছেন আয়ুষ্কাল।
আমি তো নিমিত্তমাত্র সামন্য শিক্ষক।
আমার ঈশ্বর নেই জ্যোতিষী নেই,নেই গোপন ঈশ্বরী।
আয়ুষ্কাল জুড়ে মঘানক্ষত্র।জাতিতে মিথুন আমি।দেবগণ।রাশিচক্রে চরম হীনমন্য তুলাযন্ত্র।
ন্যায়দন্ড হাতে ঝুঁকে আছে আত্মার মেনোফেস্টো।
১২:১২:২০১৭
নিকেল:৩:৩০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: স্ক্রীপ্ট
চৈতন্য ফকির
যেরকম এক দাড়িতে মাফছো ওজন
হেরফের নেই ভাবছো ওজন সমানই হয়।
আমি সেরকম ওজন দরে বিক্রি হওয়া
কোন উপলখন্ড নয়।
আমার নিজস্ব ভূখন্ডে লিখে রাখি হলমার্ক।
ওজন সামান্য হলেও আমি আমিই।
তোমার জগৎ থেকে একটু দূরে
দেওনদী স্রোত মনুতেই মিশে।
১২:১২:২০১৭
সকাল:১১:৩৫মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: বিষপাখি
চৈতন্য ফকির
কিছু বিষ নিজের ভেতরেই প্রকৃতি জন্ম থেকে সোনা তরল পুঁতে রাখে।
ফোঁসফাঁস যতই করো একা করো আত্মরতি
নিজের বিষের কাছে।
প্রাচীন আচরণগগুলো হোঁচট আর খাবি খায় জনমভর।
নিজেই নিজের বিষে নীলকান্ত এই মেঘভারে নুঁয়ে পড়ে চিরহরিৎ সবুজের কাছে হেরে যাওয়া
এই আগুন তাড়িত আমি জলকাতর বালক।
আমার আমির ভেতর সাপ ঢুকে পড়ে।
সেই বিষ ক্রমাগত ভ্রু ইশারায় আঙ্গুরের স্বাদ নিতে যায়।
স্বাদ থেকে বিস্বাদের লেবু চিবিয়ে একটু কষ উঠে এলে
আগুনের বিষপাখি জুমের ছাইয়ের ভেতর উড়াল মুদ্রায় আকাশ ছুঁতে চায়।
আমার আত্মহত্যা লিখে পাঠানো বিষের কৌটো
তার ছিপি খুলে বেরিয়ে না আসা অব্দি যে রক্তক্ষরণ
তাতেই আমি বারবার ভেঙ্গে পড়া নির্বোধ পুষেরাখি বিষপাখি।
১৩:১২:২০১৭
রাত:১০:১০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: মেনোফেস্টো
চৈতন্য ফকির
চলো জলে ডুববো না
চলো জলে ভাসবো না
জলডুবুরীর জীবন থেকে
পাঠ নিই কিভাবে বাঁচতে হয়।
ধরো কিছুই হয়নি
ধরো এই প্রথম প্রতিশ্রুতি
তার আগে কিছুই ঘটেনি
হাত ধরো জেব্রাক্রসিং পেরিয়ে বাঁচি।
মনে করো সেডাক্টিভ জীবন নয়
সামনে অনেক পথ লাল গালিচায় মোড়া
আমাদের নতুন ধারাপাত লেখা হবে
সৃজনশীল ক্যানবাসে রংকরা হবে মুখশ্রী।
১২:১২:২০১৭
সকাল:১০:৪৫মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: তৃতীয়পুরুষ
চৈতন্য ফকির
মনে মনে সেই তোমার তৃতীয় পুরুষ।
মুখে শুধু লটকে রাখো আপেল।
পুরুষ অচ্যুত নয় তোমার ভূগোলবিদ্যায়।
সেও রাধারমণ রাধারমণ বার্তা পাঠালে
তুমিও লাইক দাও।গেরিলাযুদ্ধে তুমিও কামুক।
পরিপাটি করা নিপাট মুখের মানচিত্রে এঁকেছো জগৎকুঠির।প্রেমতলা।
তুমিও আনবাড়ি যাও জল নয় বইসখি
সন্তানের মুখ তখন অপরিচিত।
বইউৎসব গায়ে মেখে তুমিও কামুকের ছায়াশরীর।
১২:১২:২০১৭
সকাল:৬:৩৫মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: ঘাতক সময়
চৈতন্য ফকির
সহজ বর্ণমালায় আত্মীয়তা পাতি
বলি ভালোবাসী
বলি প্রিয়জন।
বলি এসো,অরণ্যসাধনা করি।
বলি সহজসুন্দর।
ঘাতকের মেধাবী উচ্চারণ
সব কিছুতেই কাটাকাটি তার।
সব কিছুতেই এলজেব্রা রুটিন।
বলি,চলো খুব ঘনিষ্ঠ সময় কাটাই।
বলি,ভূগোল থেকে পাঠ নিই জীবন।
বলি,সাম শের গাজীর বিনিময় শিখি।
ঘাতক নির্বাক।
ঘাতক নির্বিকল্প মুদ্রায়
আঁকে বৃত্ত।
লক্ষ্মণরেখা ডিঙ্গিয়ে যাওয়ায় তার মানা।
সবই মরুমায়া।
ঘাতকের মেধাবী মায়ার কাছে শিখি
তৈলাক্ত বাঁশের অংক।
১৭:১০:২০১৭
রাত:১০:৩০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: আজন্ম প্রেমিক আমি
চৈতন্য ফকির
আজন্ম প্রেমিক বলে তুমি তাৎচ্ছিলো করো।
অনুভূতিগুলো তুচ্ছার্থে নাও!
এই যে শীত শীত সকালগুলো গুড়িগুড়ি টুপটাপ পড়ছে
নির্লিপ্ত তুমি, সময় প্রবাহমান।
সারাক্ষণ রক্তঝরা হৃদপিন্ডের লাভডুব লাভডুব
ক্রমাগত অসুখের জানান দেয়।
তুমি ভাবো মস্করা।তুমি ভাবো নাট্যাৎসব।
শরীর কি শরীর চায় শুধু, তার যে মন আছে
মনোকষ্ট আছে তুমি বুঝো না!
চিরপ্রেমিকের প্রেম শুধু চাওয়া চেয়ে থাকা
বিষন্নদিন ঝরে পড়ে বর্ষার টুপটাপ।
১০:১২:২০১৭
দুপুর:২:২০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: পাক
চৈতন্য ফকির
বেশিপাক দেওয়া দড়ি টেকে না,বাবা বলতেন।
রাতাছড়াবাড়ির বড় উঠুনে
আমি পাটগাছের দড়ি পাক দিতাম।
বাবার হাতে দড়ির প্রথমপর্ব।
আমার হাতে শেষঅংশ।
একজন পাট আলাদা করে বাবার হাতে দিত
বাবা মূল কারিকর হিসেবে পাক সামাল দিতেন।
দীর্ঘক্ষন দাঁড়িয়ে পাক দিতে আমার অসহ্য হতো।
বেশি বেশি ঘুরাতাম পাকযন্ত্র।
বাবা আমার বিরক্তি বুঝতেন:
বলতেন বেশি পাক দিলে দড়ি ছিড়ে যায়।
তখন বাবার সহজ কথাকে পাত্তা দিইনি।
এখন বুঝি বেশি চাওয়াও অপূর্ণ থাকে
পাক দেওয়া দড়ির মতো ছিড়ে যায়।
১২:১২:২০১৭
সকাল:০৬:০৫মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: তর্জমা
চৈতন্য ফকির
হাসপাতাল ভেবে শয্যা চেয়েছি।
ব্যবচ্ছেদ করে পাঠিয়েছো মর্গে।
অসুখ বাড়িয়েছি মেডিসিন নয়
পেয়েছি বৈদ্যুতিনশক।
৬:১২:২০১৭
সন্ধ্যা:৭:৩০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: আঁকিবুঁকি
চৈতন্য ফকির
আত্মার ক্ষরণ দিয়ে লিখি জীবনের ধ্রুবপাঠ।
কবিতা লিখি না।লিখি আমাকেই আমি।
আমার লেখা আসলে আমারই মৃত্যুবাণ।
লিখি এক একটি আত্মার ম্যানোফেস্টো।
তুমি বলো এসবই নাটক।কি জানি কোথায় টক।
আমাকে আমিই হত্যা করি।মুক্ত আকাশ আঁকি।
তুমি লাল ভোর এনে দিতে পারো।কিংবা নাও বিষহরি।
৬:১২:২০১৭
সন্ধ্যা:৪:৫৮মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: ইউটার্ন
চৈতন্য ফকির
স্খলন থেকে চলে যাওয়া কিছুই
শীঘ্র হলে পচন্দ নয় কারো।
এই যে তুমি ইউটার্নে ঘুরে গেলে
রাজধানীমুখো কাম্য ছিলো না।
রাজধানী সব সময় আনন্দ নয়
তারও আছে অলিগলি খানাখন্দ।
ভেতরের অন্ধকারে লুঁকিয়ে থাকা
বেড়ালের থাবার ভেতর তুমি নাচছো।
একটু চকমকিই প্রদীপ নয় ভুলে গেলে
আমাদের সকল আলো খেকো হায়নারা
তীব্র নখদাঁত বের করে তেড়ে আসে
তুমি জানলেও বের হওয়া কঠিন।
০৯:১২:২০১৭
দুপুর:১২:৪৫মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: গোপীরাই
চৈতন্য ফকির
নিজেকে আড়াল করে
অলৌকিক নিরব তুমি।
উত্তাপের ভাষায় তুমি পাওনি পুরুষ?
আড়ালপ্রিয়তার কাছে আমিও বধির এক ভার্জিন সংকট।
সকল মসৃনতার কাছেই সমর্পিত সময়।
আমি তার দাসানুদাস,লুকোচুরি জানি।
তোমার পায়ের ছাপ পড়ে পায়ে পায়ে যার।
গোপনে রাধারমণ পাঠিয়েছে শিষ!
তারকাছে গোপীরাই চন্দন গন্ধ মেখে
শিখো ভ্রান্তিপাঠ।
২৮:১১:২০১৭
রাত:৬:১০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: অলৌকিক হাত থেকে স্বপ্ন হারানোর পাঠ
চৈতন্য ফকির
কেটেকুটে যা সমার্পিত হলো
সন্নিকটে ছিলো না অলৌকিক হাত।
প্রদক্ষিণরত স্বপ্নবীজ
সম্ভাবনার জমিন পায়নি।
দুতলার চিলে কোঠায় মরে গেলো
জীবনসঙ্গীত।
যাকে তর্জমা করি অহর্নিশ গহনে রেখেছি
তার সকাল আসে রবীন্দ্রকাননের আচরণ থেকে
পূর্বের সকল সংকট থেকে অকস্মাৎ এই বাঁক
নদীনির্ভর সকল ভাটিয়ালি স্তব্দ, দিকভ্রম আঁখিপাত।
অলৌকিক হাত থেকে জরুরী উপশম বদলে গেলে, থাকে শুধু ডুবু ডুবু জাহাজ।
২৮:১১:২০১৭
সকাল:৮টা
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: রিড
চৈতন্য ফকির
হারমোনিয়ামের রিড থেকে ঠিকরে পড়ছে আগুন।
শীতকাল চলে গেলে রিড বসে যায়।
তুমি চলে এসো,গান হবে।
২৮:১১:২০১৭
বেলা:২:২০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: কালখন্ড
চৈতন্য ফকির
দূরে কোথাও শিস শুনে ঘুড়ি উড়ছে।
ঘুড়ি উড়ানো বালক সূতো ছেড়ে যায়, ঘুড়ি ভূকাট্টা।বালকের হাতের সূতো হাতেই রইলো
ঘুড়ি ছুটছে লাগাম ছাড়া যেন বল্গাহীন হরিণী।
সীমিত আকাশ তার ভাললাগতো না,ঘুড়ি উড়ছে।
সূতো ছেড়ে দিই।দেখি ঘুড়ি উড়ছে তো উড়ছে।সে এখন দিকশূণ্য।তার সামনে পুরোটাই আকাশ।
০১:১২:২০১৭
সকাল:৮:৩০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: জল আলাপ
চৈতন্য ফকির
খুচরো হতে হতে শূণ্য তোরঙ্গ।
ভেতরে শুধুই শূণ্যতা।
বৃক্ষের কাছে নতজানু জীবন বাঁচার বাতাস
না পেলে মৃত্যু কেবল ট্রামের মতো আসে।
এতবার করেছি সমর্পন এই শূণ্যতা নাও।
কলসের জল রেখে কে আর জল আনতে যাবে নদীর নাব্যতায়।
সকল প্রাপ্তিযোগ পেরিয়ে একদিন
সমস্তনদীই মিশে যায় সাগর সঙ্গমে।
বেদনার কোন পরিভাষা নাই
তুমি তাতে প্রলেপ না দিলে বাড়ে জলাতঙ্ক।
৬:১২:২০১৭
সকাল:১০:৫০মি
রাজেন্দ্রনগর
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: ঘর
চৈতন্য ফকির
আমার ঘরের কোন উপর তলা নেই।
নিচ তলা বলতে ঘরের কয়েকটি কুঠুরী।
একজন কথা বললে সব ঘর গমগম করে।
নিচ তলায় আমরা কয়েকজন যে যার মতো।
কেউ কারো ভেতর ঘরের কেউ নয়।
একদিন সব ছেড়ে এক এক জন উড়ে যাবে।
অন্য কোন ঘরের দিকে অন্য কোন নীড়ের খুঁজে।
২১:১১:২০১৭
রাত:০৯:৩০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: হননকাল
চৈতন্য ফকির
তোমার দূঃখগুলো ঝাঁপি বন্দী থাক।
বাইরে প্রলেপ দেওয়া রঙচঙ আঁকা মুখ লটকে রাখো হাসি হাসি থিতুনি।
সকলের নিকট এমন ভাষায় মিশতে থাকো
যেন কিচ্ছুটি হয়নি।
উঠের গ্রীবার মতো মুখ তুলে হাঁটো।
কেউ কাছে এলে বলে দিও:ভালো আছি।
ভালো থাকা শিল্প।তার বয়ন থেকেই
তৈরী হয় সামনে হাঁটার পথ।
পথ একাই পথ দেখায়
আর সব বিপথ গামী হননকাল।
২৬:১১:২০১৭
রাত:৮টা
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: খোলস
চৈতন্য ফকির
যে কোন দিন খোলস ছেড়ে গেলে
শরীর পড়ে থাকে কোথাও।
খোলসের ভেতর এক আমি আছি।
আমার ভেতর যেমন আমি থাকি।
খোলস পাল্টে গেলে পড়ে থাকে শরীর।
শরীরের মন কই।মনেই শরীর।
আমার আমির ভেতর শুধু আছি আমি
বাকীটি আমি নয় সাপের ছলম।
২২:১১:২০১৭
রাত:৭:৩০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: ছাগল
চৈতন্য ফকির
যেখানেই ছড়িয়েছি ঘাস
তার জিব থেকে লালা ঝরে।
লাগানো মরিচগাছ মুড়িয়ে মহাআনন্দে
জীবি বাজারের দিকে ভ্যা ভ্যা ডাকতে ডাকতে
বয়স্ক ছাগল জনস্রোতে মিশে যায়।
হাঁড়িকাঠ এসব ছাগলামি না জেনেই
হুজুগে বাঙ্গালির পাতে মাটন তুলে দিতে
বৈশাখে তার গলায় মালা তুলে দেয়।
কূটচাল না বুঝে তুমি শুধু ঘাস তুলে দাও!
২৬:১১:২০১৭
রাত:৮:৫০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: ধারাপাত
চৈতন্য ফকির
সারারাত অসংখ্য আলো অন্ধকার বুদবুদ কিলবিল করছিলো।
সারারাত প্রতারণা বন্ধক নিয়েছিলো ঘুম।
সারারাত দুঃস্বপ্ন এবং ঘুম খেলছিলো কাবাডি।
সারারাত বিশ্বাস চকের গুড়োর মতো ঝরছিলো।
গহীন অন্ধকার গিলে খায় মগজ।
মাথার ভেতর থেকে অর্জিত বিশ্বাস
গহন চুম্বী পেন্টাগন মিনার ৯/১১ গুড়োগুড়ো মাটি রঙয়ের ভেতর আমি নিহত সৈনিক।
রাতের ভেতর থেকে সকাল বেরিয়ে এলো।
লাল চোখ তার।লাল বর্ণের সুসকাল।
১৩:১১:২০১৭
সকাল:৬:৫৬মি
জিরানীয়া।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: নদীমাতৃক
চৈতন্য ফকির
ঘাতক নদীর কাছে উৎস্বর্গ করেছি জল।
তল কই জলের বিবর্ণতা মরুমায়াময়।
জল দাও জল দাও নদীকে বলি।
নদী তার জল নিয়ে মরীচিকাময়।
জল রঙে নিজেকে ডুবাতে গিয়ে
ফিরে ফিরে আসে নদীর ছলনা।
ভুল বানানে লেখা পাঠটিকা সিলেবাস
নদীমাতৃক উপসর্গে হাঁটে বয়স্ক বায়না।
গভীর মায়ার কাছে জীবন উৎসর্গ রাখি
ভাবি মুখের মুখোশ নাই শুধুই মুখ
নদীর নাব্যতাই ভাবি এক জীবনের সব
তারি কাছে খুঁজে খুঁজে হয়রান সুখ।
২০:১১:২০১৭
রাত:১১:৫০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: শ্রীহট্টীয় লিপি
চৈতন্য ফকির
বিশল্যকরণী নিয়ে কেউ এসে নিয়ে যাবে ঘুম
সিংহদরজায় এমন কোন লিপি লিখিনি।
কিছু গোপন সংলাপ তোমাকেই দিয়েছি বলে
হাঁড়িকাঠ সাজাও।বারবার মাথা পেতে দিই।
মাথাকে জলের দরে তোমার কাঁধে রেখেছি।
বিনিময় চাইনি বলে ঠেলে দাও জলেই।
জলসই জলের গহন থেকে চাই বীজমন্ত্র।
শ্রাবণের আগুন দিলাম।দাও জল থই থই।
আমার আমির ভেতর আমাকেই পোড়াই।
পুড়ি।ছাইভস্ম মেখে নিই নিজের শরীরে।
১৯:১১:২০১৭
রাত:১০:০৬মি
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: আনুয়াছড়া একটি ছোটনদী
চৈতন্য ফকির
আঠারো.
সব পথ নদীতে এসেই মিশে যায়।
নদীই সাক্ষী থাকে প্রকৃতপ্রেমের।
আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টিজল বয়ে নিয়ে
সাক্ষী রইলো আনুয়ারার লোকশ্রুতি।
৫:১১:২০১৭
বেলা:৩:৪০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: আনুয়াছড়া একটি ছোটনদী
সতেরো.
চৈতন্য ফকির
আনুয়ারা একটি নদী ও মেয়ে।
তার শিৎকার শুনি মাঝরাতে।
তির তির তার কল্লোল বজ্র নির্ঘোষ।
২:১১:২০১৭
রাত:১১:২০মি
নতুননগর।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: মন্ত্র
গোবিন্দ ধর
ঈশ্বর আসলেই ঈশাণকোণে থাকেন না
থাকলে ঈশ্বরের নাম করে
মেয়েটির মাথা ভগবানের পায়ে দিতে হতো না
একটি মোবাইল ফোনের জন্য।
ঈশ্বর আসলেই পৃথিবীতে থাকেন না
থাকলে ঈশ্বরের নাম করে যা সকল ঘটছে
তার সিকিভাগও ঘটতো না।
ঈশ্বরের নাম নিয়ে জয় শ্রীরাম ধ্বনি
আল্লার নাম করে নারায়ে তকবির
মন্দির মসজিদ মাজার আখড়া
শ্মশান মশান এসব কিচ্ছুরই দরকার ছিলো না।
আমাদের বানানো ভগবানের নিশংসতা চাই।
আমাদের বানানো মন্দিরের আরো একটি মন্দির
তার ভেতরঘরে না গিয়েই ঈশ্বরেরর নামে
নিজেরা উৎসর্গ আমরা।
অন্যের মেয়ের মাথা কাটলে
নিজের মেয়ের মোবাইল পাওয়া যাবে
এমন ভাবনায় সাধুরা কেটে দিলো
একটি চারবছরের মেয়ের মাথা!
বানানো ঈশ্বর আপনাকে আমি ঘৃণা করি।
বানানো ঈশ্বর তোমাকে আমি থুথু দিলাম।
বানানো ঈশ্বর তোকে আমি থাপ্পড় দিলাম।
বানানো ঈশ্বর তুই আসলেই নেই
বানানো ঈশ্বর তুই ঈশ্বর হতে পারিস না
ঈশ্বর তুই ছিলে না
কোনোদিনই ছিলে না
বানিয়ে বানিয়ে তোকে দিয়ে
কত কুকাজ করিয়েছি
কুকাজ করানো যায়
এজন্যে তোকে ছাড়তে চাই নারে
তোকে রাখলে কত কিছু
হাতের কাছে আসে।
ঈশ্বর নেই
ঈশ্বর নেই
ঈশ্বর বানানো
আমার ছেলে গৌরব
মাটি দিয়ে ঈশ্বর গড়ে
অবিকল আমার বাবার মতো চোখ আঁকে।
অবিকল আমার মার মতো চোখ আঁকে।
ঈশ্বর নেই
বানানো ঈশ্বর দিয়ে ঈশ্বাণকোণ লাল করো না
আমরা মানুষ চাই
ঈশ্বরের বদলে আমাদের মানুষ করে দাও।
দেওহাট।।০৩/১১/২০১৬।।সকাল।।৬:১৫মি।।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: আনুয়াছড়া একটি ছোটনদী
ষোলো .
চৈতন্য ফকির
মেয়েটি পাখি ছিলো
মেয়েটি স্বপ্ন বুনতো আকাশের মতো
নানান রঙ্গের।
সব রঙ জলে মিশে জলাকার
মেয়েটি জলের মত
কলকল বয়ে যায় নদীর কাছে।
নদীও নারীর মতো
আনুয়ারা একটি ছোটনদী
তিরতির প্রবাহিত।
২রা নভেম্বর:২০১৭
সকাল:১০:২৫মি
রাজেন্দ্রনগর।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: আনুয়াছড়া একটি ছোটনদী
চৈতন্য ফকির
চৌদ্দ.
নিজেকে লুঁকাতে গিয়ে মেয়েটি তার প্রেম
কোথায় লুঁকালো?
আনুয়ারা তো একটি মেয়ে নয় শুধু
একটি সময় একটি সকাল।
তার সূর্য তো নেভে না কখনো।
গ্রামের একটি সমাজ বদলের সলতে
সে রোপন করেছিলো।
৩১:১০:২০১৭
সকাল:১১:১৬মি
রাজেন্দ্রনগর।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: আনুয়াছড়া একটি ছোটনদী
পনেরো.
চৈতন্য ফকির
ধীরে ধীরে মেয়েটি অভিমানে মিশে যায় গোলাজলে।
দূরে বসে কেউ একজন পাঁজরের হাঁড়ের ভেতর কনকনে শীত টের পায়।
মেয়েটির কোন রোগ ছিলো না।
মেয়েটির কোন জেদ ছিলো না।
মেয়েটির ভালোবাসা ছিলো নিখাদ।
কেউ একজন কেড়ে নিলো মেয়েটির
সকল পাখি।
১লা নভেম্বর:২০১৭
দুপুর:১:২৫মি
রাজেন্দ্রনগর।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: আনুয়াছড়া একটি ছোটনদী
চৈতন্য ফকির
দশ.
আনুয়ারা বেগম ছড়াজলে পা ডুবিয়ে
প্রিয়সখার বুকে মাথা রেখে
একটু ঘুমাতে চেয়েছিলো।
চারজন নিরক্ষর তার স্বপ্ন কেড়েনিলো
জলের স্রোতের মতো
মিশে গেলো জলে মেয়েটি।
মেয়েটি জলে গুলে গেলো।
২৮:১০:২০১৭
সন্ধ্যা:৫ ১০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: আনুয়াছড়া একটি ছোটনদী
চৈতন্য ফকির
দশ.
আনুয়ারা বেগম ছড়াজলে পা ডুবিয়ে
প্রিয়সখার বুকে মাথা রেখে
একটু ঘুমাতে চেয়েছিলো।
চারজন নিরক্ষর তার স্বপ্ন কেড়েনিলো
জলের স্রোতের মতো
মিশে গেলো জলে মেয়েটি।
মেয়েটি জলে গুলে গেলো।
২৮:১০:২০১৭
সন্ধ্যা:৫ ১০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: আষাঢ়ের দিনলিপি
চৈতন্য ফকির
কথা ছিলো কিচিরমিচির পাখি ডাকা ভোরে হাতে হাত ধরে আমরা রেল লাইন পেরিয়ে দূর বহু দূর অব্দি একটি সকালের জন্য হাঁটবো।ভোরবেলা তোমার আচরণ এমন হলো,হাত খুঁজতে খুঁজতে হয়রান আমি।তুমি পাশ ফিরে মুখ ঘুরিয়ে অসময়ে চুপ মেঘ হয়ে গেলে।তুমি জম্পুইয়ের গাভীন মেঘ ছিলে।তোমার মুখের উপর এক ভ্রান্ত মেঘ দেখে আমি ততটাই বিভ্রান্ত।মেঘ সরাতে সরাতে দেখি আসলে প্রলেপ দেওয়া মেঘ কখনো বৃষ্টি ঝরায় না।তুমি এমন মেঘ করা মুখে থাকো,অথচ এসব মেঘ নয়,যখন জানলাম তখন শ্রীহট্টীয় শোনিত থেকে ক্রোধ ও অপমান ঢাকতে একটি গভীর অরণ্য খোঁজি।
এসো,আষাঢ়ের মেঘ।
এসো,আমার বর্ষালিপি।
টুপটাপ টুপটাপ ঝরতে ঝরতে
একটি কষ্টনদী ডিঙ্গাতে, চলো সাঁতার শিখি।
১২:১০:২০১৭
সময়:১১:৩০মি
রাজেন্দ্রনগর।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: দ্বিতীয় বই
আনুয়াছড়া অথবা আনুয়ারা বেগম সমগ্র
চৈতন্য ফকির
স্রোত প্রকাশনা
[04/04, 21:52] GOBINDA DHAR: আনুয়াছড়া একটি ছোটনদী
চৈতন্য ফকির
আঠারো.
সব পথ নদীতে এসেই মিশে যায়।
নদীই সাক্ষী থাকে প্রকৃতপ্রেমের।
আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টিজল বয়ে নিয়ে
সাক্ষী রইলো আনুয়ারার লোকশ্রুতি।
৫:১১:২০১৭
বেলা:৩:৪০মি
কুমারঘাট।
[04/04, 21:53] GOBINDA DHAR: আনুয়াছড়া একটি ছোটনদী
সতেরো.
চৈতন্য ফকির
আনুয়ারা একটি নদী ও মেয়ে।
তার শিৎকার শুনি মাঝরাতে।
তির তির তার কল্লোল বজ্র নির্ঘোষ।
২:১১:২০১৭
রাত:১১:২০মি
নতুননগর।
[04/04, 21:53] GOBINDA DHAR: আনুয়াছড়া একটি ছোটনদী
ষোলো .
চৈতন্য ফকির
মেয়েটি পাখি ছিলো
মেয়েটি স্বপ্ন বুনতো আকাশের মতো
নানান রঙ্গের।
সব রঙ জলে মিশে জলাকার
মেয়েটি জলের মত
কলকল বয়ে যায় নদীর কাছে।
নদীও নারীর মতো
আনুয়ারা একটি ছোটনদী
তিরতির প্রবাহিত।
২রা নভেম্বর:২০১৭
সকাল:১০:২৫মি
রাজেন্দ্রনগর।
[04/04, 21:53] GOBINDA DHAR: আনুয়াছড়া একটি ছোটনদী
পনেরো.
চৈতন্য ফকির
ধীরে ধীরে মেয়েটি অভিমানে মিশে যায় গোলাজলে।
দূরে বসে কেউ একজন পাঁজরের হাঁড়ের ভেতর কনকনে শীত টের পায়।
মেয়েটির কোন রোগ ছিলো না।
মেয়েটির কোন জেদ ছিলো না।
মেয়েটির ভালোবাসা ছিলো নিখাদ।
কেউ একজন কেড়ে নিলো মেয়েটির
সকল পাখি।
১লা নভেম্বর:২০১৭
দুপুর:১:২৫মি
রাজেন্দ্রনগর।
[04/04, 21:54] GOBINDA DHAR: আনুয়াছড়া একটি ছোটনদী
চৈতন্য ফকির
চৌদ্দ.
নিজেকে লুঁকাতে গিয়ে মেয়েটি তার প্রেম
কোথায় লুঁকালো?
আনুয়ারা তো একটি মেয়ে নয় শুধু
একটি সময় একটি সকাল।
তার সূর্য তো নেভে না কখনো।
গ্রামের একটি সমাজ বদলের সলতে
সে রোপন করেছিলো।
৩১:১০:২০১৭
সকাল:১১:১৬মি
রাজেন্দ্রনগর।
[04/04, 21:54] GOBINDA DHAR: আনুয়াছড়া একটি ছোটনদী
চৈতন্য ফকির
তেরো.
কপট ভালোবাসার কাছে জীবন দিয়েছে
আনয়ারা বেগম?
নাকি সমাজ করেছে নিষিদ্ধ এই প্রেম
লোকমুখে গালগল্প ফিসফাস
তার প্রেম বুকে নিয়ে কলকল
শিৎকারে জল যায় মনুর নিকট।
সকল বেদনা মুছে নিতে
জল ছুঁই ছুঁই জলডুব
আনুয়ারা মিশে যায় মনুর পশমে।
২৯:১০:২০১৭
রাত:৯:৫৫মি
কুমারঘাট।
[04/04, 21:54] GOBINDA DHAR: আনুয়াছড়া একটি ছোটনদী
চৈতন্য ফকির
বারো.
একজন সংখ্যালঘু মেয়ের নাম আনুয়ারা
একজন মেয়ে মানুষের নাম আনুয়ারা
একজন প্রেমিকার নাম আনুয়ারা
একজন মানুষের নাম আনুয়ারা।
একটি অপূর্ণতার নাম আনুয়ারা।
একটি সবুজ ফুলের নাম আনুয়ারা।
একটি ছড়াজলের নদীর নাম আনুয়ারা।
একটি জীবনের নাম আনুয়ারা।
আনুয়ারা আসলে একটি প্রতিবাদও।
২৯:১০:২০১৭
২:৩২মি
কুমারঘাট।
[04/04, 21:54] GOBINDA DHAR: আনুয়াছড়া একটি ছোটনদী
চৈতন্য ফকির
এগারো.
ছোট ছোট টিলার জল লাফিয়ে লাফিয়ে
দুই টিলার ফাঁক বরাবর নামছে
সাগরের ঢেউ মতো।
জলের স্রোতে সব কেড়ে নেয়
মানুষের পুকুর মাছ
ধান বাড়িঘর সব ভাসিয়ে জল নামছে
গ্রাম ডুবুডুবু।
হাওর জলে জলাকার
জলকাতর মানুষেরা জলবন্দি।
জল নামছে জল নামছে
লাফিয়ে লাফিয়ে জল নামছে
জলের তোড়ে সব ভাসিয়ে নিলো।
মেয়েটি আনুয়ারা নামের মেয়েটিও।
২৯:১০:২০১৭
১০:২৩মি
কুমারঘাট।
[04/04, 21:55] GOBINDA DHAR: আনুয়াছড়া একটি ছোটনদী
চৈতন্য ফকির
দশ.
আনুয়ারা বেগম ছড়াজলে পা ডুবিয়ে
প্রিয়সখার বুকে মাথা রেখে
একটু ঘুমাতে চেয়েছিলো।
চারজন নিরক্ষর তার স্বপ্ন কেড়েনিলো
জলের স্রোতের মতো
মিশে গেলো জলে মেয়েটি।
মেয়েটি জলে গুলে গেলো।
২৮:১০:২০১৭
সন্ধ্যা:৫ ১০মি
কুমারঘাট।
[04/04, 21:55] GOBINDA DHAR: আনুয়াছড়া একটি ছোটনদী
চৈতন্য ফকির
নয়.
আনুয়ারা বেগম একজন সংখ্যালঘু মেয়ে।
প্রেমের সখ্যতা তার
ছিলো ছড়াজলের সাথে।
২৮:১০:২০১৭
দুপুর:১মি
রাজেন্দ্রনগর।
[04/04, 21:55] GOBINDA DHAR: আনুয়াছড়া একটি ছোট নদী
চৈতন্য ফকির
এক.
আমি যে গ্রামে বড় হয়েছি
নাম তার রাতাছড়া।
আমাদের বাড়ির চারদিকেই সামনা।
বাড়ির উঠোনে দাঁড়িয়ে সূর্য যে দিকে উঠে
সেদিকে মুখ করে দাঁড়ালে
বাম হাতে পড়ে করমছড়া কৈলাসহর রোড।
এই রোডের ডানদিকে আমাদের
ছোটবেলার ছবিগ্রাম রাতাছড়া।
দুই.
গ্রামের একটি ছড়া আছে।
তাহার নাম রাতাছড়া।
আমার পাঠশালা স্কুলের পাশ ঘেসে
ছড়াটি চিকচিক বালুস্রোত বয়ে
মনুর সাথে সঙ্গমে আসে।
তিন.
রাতাছড়ার ককবরক নাম রাতাগ্রাম।
রাতা মানে ককবরকে পুরুষ মোরগ।
রাজমালায় রাঝধর ছড়া
কালক্রমে রাজধরছড়া
ক্রমে ক্রমে রাতাছড়া।
চার.
রাজমালায় বলা আছে
রাজধরের অভিষেক হয়
মনুনদী নিকট রাতাছড়ায়।
তারপর আফিং সেবনে আত্মনিবেদন করেন তাঁর পিতা।
তারপর থেকে রাজধর ছড়াই আজকের রাতাছড়া।
পাঁচ.
আমার বাড়ির বাঁদিক বরাবর
একটি ছোট হাওর
এক কিমি অব্দি যাওয়ার পর টিলা হয়ে আছে।
এই হাওয়ার ধরে চোখ মুদে হাঁটলেও
যাওয়া যায় গঙ্গানগর।
ছয়.
হাওর থেকে অজগরের মতো নামছে
একটি নালকাটা ছড়া
তার নাম আনুয়াছড়া।
সাত.
আনুয়াছড়া নিয়ে জনশ্রুতি
একটি প্রেমকাহিনী।
একটি মেয়ের আত্মহত্যার গল্প
একটি মেয়ের স্বপ্ন বিকেলের আগেই
কিকম হেজেমজে গেলো
একটি মেয়ের বুকের চারাগাছ
অকালে মরে যাওয়া গল্প।
আট.
বিকেল আসার আগেই তার
মুখ থেকে সূর্য থেমে গেলো।
রোদ ঝলমল মুখ থেকে
ফেনিয়ে বেরিয়ে এলো
পূরণ না হওয়া একটি ছোটনদী
যার নাম আনুয়াছড়া।
২৬:১০:২০১৭
রাত:৯:৩০মিনিট
দেওপাড়
কুমাররঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: কাঠগোলাপ
চৈতন্য ফকির
কাঠগোলাপকে আমরা বরাবর গোলাচ বলতাম।
তার গন্ধ নাকে এলে হিয়ায় প্রেম প্রেম ওম জাগতো।
এমনিতে তেমন মনোরম না হলেও আবেদন লাস্যময়ী।
পাতা ঘাঢ় অনেকটা আকন্দের মতো একটু লম্বাটে।
সাধারনত মোহিত না করলেও মৃদু গন্ধে আকুল করে প্রাণ।
কাঠগোলাপ লালসাদা আবার কোনটা শুধু সাদাও।
এতে প্রেমিকার গোপায় কীরকম সৌন্দর্য বাড়ে জানি না।
মনের ভেতর ঢেউ খেলে যায় ফুড়ুৎ করা বসন্তে।
২৮:০৩:২০১৮
রাত:১২:২০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: এসলো টু পয়েন্ট ফাইব
গোবিন্দ ধর
প্রতিদিন খেয়ে রাখি এসলো টু পয়েন্ট ফাইব।
আমাকে নিয়ন্ত্রণ করে সে
আমার আমিকে নিয়ন্ত্রণ করে সে
অসংখ্য সে"র তালিকায় কখন সেও ঢুকে গেলো
একদিন অসহ্য বুকে ব্যথা নিয়ে
হাজির হয়েছিলাম ম্যডাম সুলক্ষনার বাসায়।
তিনি খসখস লিখে দিলেন মেডিপিস।
তারপর থেকে ১৪০/৯০ প্রেসারে গিলে খাই টেবলেট এসলো টু পয়েন্ট ফাইব।
কখন কাজে লাগবে নিয়ম করে খাই।
মাঝে মাঝে ভুলে গেলে বাবার কথা মনে পড়ে।
বাবা সন্যাসে তিনবার আক্রন্ত হয়েও
ভুলে যেতেন নিয়মিত টেবলেট সেবন।
একদিন রাত আর সকাল হলো না বাবার।
ভুলে গেলে বাবার কথা মনে পড়ে।
এসলো টু পয়েন্ট ফাইব গিলে খাই।
ম্যাডাম ভালোবেসে লিখে দিলে,না খেয়ে পারি?
এসলো জরুরী আমার বলে দিলেন চোখে চোখ রেখে।
তার চোখের ভাষায় উচ্চারণ ছিলো
ভালোবাসার ওঁ মন্ত্র।
এসলো জরুরী বলে দিলেন।
আর বললেন টু পয়েন্ট ফাইব যেন মনে রাখি।
ম্যাডামের চোখের চাওয়া অস্পষ্ট হলে মঝে মাঝে ভুলে যাই জরুরী মেডিপিস।
১১:০৬:২০১৮
সকাল:০৯:৩৫মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: নদীশরীর
গোবিন্দ ধর
প্রতিবার বন্যা আসে,পলি পড়ে
এক একটি জন্মদিন গতিমুখ বদলে দেয়
সেই যে ঢেউ ছলাৎছল জীবন
এক একবার বন্যা এসে পাড় ভাঙ্গে
বদলে নেয় শরীর।
বন্যায় শরীর ডুবে গেলে অদৃশ মাছগুলো
বেরিয়ে পড়ে স্বাধীনজলে
তখন সাঁতার কাটে।কাটতে কাটতে পাখনায়
অসুখ লাগে।ক্লান্ত লেজ পাখনা
আঁশসহ জলেই ডুবে যায়।
জলজ জীবন জলেই শেষ এই বন্যা ভয়াবহ।
শরীরের পলিতে নতুন চারা ভালো লাগে
তরতর বেড়ে ওঠে চরায়।
শরীর নদীর মতো পলি জল আর মাছের চক্রব্যুহে
অভিমুন্যের মতো জলবন্দী।
২৫:০৬:২০১৮
বিকেল:৪:৫০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: নেপোলিয়ন
গোবিন্দ ধর
রাজা নেই ঘোড়া নেই
আস্তাবল হলো বিবেকানন্দ উদ্যান।
দু 'একটি খচ্চর ঘাস খেতে ঘোড়া ডিঙায়।
সহিস নেই খচ্চরেরা ঘোড়া ভাবে নিজেদেরে।
খচ্চর কোনদিনই জানত না তারা ঘোড়া নয়।
গাধা ঘোড়া আর খচ্চর প্রায়
একই রকম দেখতে হলেও
নেপোলিয়ান জানতেন
কোনটা ঘোড়া
কোনটা গাধা
আর কোনটা সত্যি সত্যি খচ্চর।
২৬:০৬:২০১৮
সকাল:৭:৪০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:13 am] GOBINDA DHAR: ছবি
গোবিন্দ ধর
ছবিতে তোমাকে খুব ঘুম পাচ্ছে মনে হয়।
চুলগুলো এলোমেলো ফুটবলার পেলের মতো
ঘুমন্ত নারীর সৌন্দর্য ঠিকরে আলো ছড়ায়।
স্বর্গ নামে যেন জানলায় দরজার আলো।
ছবিটির মুখের পাশ হয়ে যে গীবা নামছে তা
একটু নেমেই শরীর হয়ে যাবে তুমিও জানতে না।
চুলের ক্লীপে প্রজাপতি উড়ে এমন আসলো
ছবিটি সুন্দর,তুমি ঘুমে নয় যতটা ছবিতে।
অনেক ছবিতেই তুমি ঘুমিয়ে পড়ো
মুদে রাখো চোখ যেন কতদিন ঘুমপরী
তোমার নিকট আসেনি ছবি তাই বলে।
কাছাকাছি তুমি চনমনে সব সিঁড়ি ভাঙছো।
২৭:০৬:২০১৮
সকাল:০৮:৩০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:20 am] GOBINDA DHAR: যুগশঙ্খের জন্যে পাঠালাম
গোবিন্দ ধরের এগুচ্ছ অনু-পরমাণু
(১)
একলাইনার
মন খারাপ হলে আকাশ একমাত্র ভরসা।
১২:১০:২০১৬
(২)
রাই
ছুঁয়ে দিলেই আমি কৃষ্ণতরল।
১২/১০/১৬
দেওপাড়
সময়:৫টা।
(৩)
ডাক দিলে দূরে যাও
রাই রাই বলে ডাকি।
মুখ ঘুরিয়ে হাঁটো?
ব্যয়াকরণ মানি না,
গ্রামারেই ফাঁকি?
১২/১০/১৬#দেওপাড়#
সকাল:১০:২৫মি।
(৪)
রক্তঝরার পাঠ(২)
সন্তানের মুখের হাসি কমে গেলে
অসহায় পিতার বুক
ভাঙা নৌকোর মৃতকাঠ।
২৬:০৭:২০১৯
সন্ধ্যা :০৬:৪৫মি
ব্যাঙ্গালুর
(৫)
উপলব্ধি
সম্পর্কে প্রাণ থাকলে, টান থাকে ;
সময়-দূরত্ব-ব্যস্ততা হার মানে ...
(৬)
পূর্বজ
প্রেম অপরাধ নয়।
পূর্ব নিধার্রিত শাস্তি।
১৮/১০/২০১৬
সময়:৪:১০মি।
(৭)
কৃষ্ণপক্ষ
বিদায়ের সময় বিয়োগ চাওনি
হৃদয়ে গেঁথে রাখলাম
চাঁদেরগুড়ো।
কুমারঘাট
১৯/১০/২০১৬
সকাল:৬:৪৫মি।
(৮)
খন্ড
ভাগ করতে করতে নিজেই ফতুর,রয়েছি
খন্ডবালক
কালখন্ডে লিখি শুধু পাললিক মেঘ।
২২/১০/২০১৬
সময়:৯:৩০মি।
কুমারঘাট।
(৯)
দেহতত্ত্ব
শরীরের আছে দেহ
দেহেরও শরীর।
দেহও ফু্ঁসে উঠে
শরীরও ব্যতিক্রম নয়
জং ধরা বারুদ থেকে চাই একটু বারুদ।
২২/১০/২০১৬
সময়:১১:২৫মি।
রাতাছড়া।
(১০)
সাতটি তারার আলো
(১)
পদ্যলেখা
নিজেকে হত্যা করার আনন্দই আলাদা।
(২)প্রেম
ছলনার কী আছে,মেখেছি চাঁদেরকণা।
(৩)অক্ষর ক্ষরণ
রক্তাক্ত করে জীবন তুলে দিই রাতের কাছে। রাতেও ক্ষরণ বুঝে না তুমি এমন ভ্যামপেয়ার!আরো ঝরুক,আরো...তুমি তখন থাকো বিপদসীমায়।
(৪)পূর্বরাগ
খুব করে যে শ্রাবণ চাও
এখন আশ্বিন জানলে না তাও?
চলেই এলো কাত্তিক মাস।
সব মাসেতেই সর্বনাস!
(৫)মন্ত্রলেখা
কবিতা আসলেই হত্যাপ্রবণ ভূস্বর্গ।
(৬)প্রেম
প্রতিটি মুহূর্তই কৌটোয় রেখো দেওয়া চাঁদের ভগ্নাংশ।
(৭)পূর্বরাগ
আমিও আমার নয়,জানি।
তবু কী মায়া
সবই তুমি ময়।
২০১৬-১৮
(১১)
ওয়েটিং লিষ্ট
কোন আইডেন্টি চাইনি
ওয়েটিং লিষ্ট মানি না।
যদি আসতেই চাও,তো
একটি পথ বানিয়ে নাও।
২৬:১০:২০১৭
বেলা:১:৪৫মি
রাজেন্দ্রনগর।
(১২)
বাবা
বাবা আর আমার মাঝে একটি সেতু
বাবা কোনদিন আর্থিক সচ্ছল ছিলেন না
আমিও নয়।
অন্য সব বিষয়ে বাবা ও আমি ভিন্ন স্টেশনের যাত্রী।
৩১:১০:২০১৮
রাত:০৯:৪৩মি
কুমারঘাট।
(১৩)
স্রোতস্বী
নদির মতোই আপনি একটি কবিতা।
৩১/১০/২০১৬#সকাল:৮:৩০মি।
কুমারঘাট
(১৪)
আত্মরতি
চ
লো
নি
জে
কে
দে
খি।
আ
র
প্রে
মে
প
ড়ি।
(১৫)
বুকের পশম
পশম গুলো পোষ মানে না বাতাস লেগেছে।
বিলিকাটা দুপুর গড়িয়ে সময় হিসহিস
খোঁজে একলা দ্বাপর।
কুমারঘাট
০২:১১:১৬
সময়:৫:১৫মি।
(১৬)
ব্রা
হুগ খুলতে রক্তাক্ত করে
অসতর্ক সেপ্টিপিন।
০৪/১১/১৬
দেওহাট
সময়:৬:৩৫মি।
(১৭)
সাপলুডো
জীবন শুধু সাপলুডো খেলা।
১২:১১:২০১৭
সকাল:৯:৩০মি
বাঁধারঘাট।
(১৮)
লুডো
মই চড়ে উপরে উঠবে ভেবো না
সাপের মুখ পেরিয়ে ওঠা
এত সহজ নয়।
(১৯)
ভাত
ভাতের স্বপ্নে দিনগুলো যায়
ভাতের নেশা সারাক্ষণই
সবুজ থেকে হলদে দেহ
ভাতের জন্য একলাটি হই।
১৩:১১:২০১৮
বেলা:১টা
রাজেন্দ্রনগর।
(২০)
ভাষা
ঠিকঠাক অনুবাদ করে রাত্রির গভীরে যাওয়া খুব খুব কঠিন।তবু আমরা চিরকাল প্রয়াস চালিয়ে যাই।রাত্রির ভাষা বুঝি না।এ এক অরণ্যসুন্দর।ভালো লাগা কেবল ভালা লাগা বেদনাবোধ।
১৪/১১/২০১৫
(২১)
পদ্য
পাখিটি খাঁচায় রাখিনি।
রেখেছি বুকে।
বুকের উষ্ণতায় সে ছট ফট করে।
ফুড়ুৎ দিলো উড়াল।
উড়ে যাওয়া পাখির দিকে চেয়ে থাকি।
১৪/১১/২০১৭
(২২)
পদ্যরাগ
যে শহর তোমার জীবন।
সে শহর থেকে ঝরে পড়ে নকল ইট।
১৯:১১:২০১৭
রাত:১১:০৭মি
(২৩)
পাখি
হারমোনিয়াম থেকে পাখিটি গান শেখাবার কথা ছিলো সে নিজেই গান হয়ে গেলো।
রিড থেকে ঝরে পড়ে নুনজল।
১৯:১১:২০১৭
রাত:১০:৫৯মি
(২৪)
মধ্যরাতের পদ্যাণু
রাত গভীর হলে হৃদডুবাতে মাছের খলবল।
তখন ধীবর জাল নিয়ে এলে পায়কি ডুবার তল?
২০:১১:২০১৮
রাত:০৭:২০মি
কুমারঘাট।
(২৫)
একলাইনার
এক.
আনন্দবিন্দুতে যে ফসল থাকে তারই চাষ বারোমাস।
দুই.
জীবনের শহর থেকে ঝরে পড়ে নকল ইট।
তিন.
পাখিটি গান শেখাতে গিয়ে গান হয়ে গেলো।
চার.
হারমোনিয়াম-রিড থেকে ঝরে পড়ে নুনজল।
পাঁচ.
ছবিমুড়ায় মায়াকীয়া মায়াপাহাড়।
ছয়.
নিদ্রাকাতর নির্ঘুম সময়ের চোখ।
সাত.
সুরের মুর্ছায় অনন্তশায়নে যায় প্রিয়ফুল।
আট.
এক একটি রিডের ভেতর ঘুমপরি অচেতন।
নয়.
গানের শ্রাবণ তুমি মায়ামেঘ।
দশ.
শ্রাবণ জুড়ে পদ্মার মনসামঙ্গল।
অসুস্থ মানুষের শহর কৃষ্ণনগর।
২০১১:২০১৮
রাত:০৭:৪০মি
কুমারঘাট।
(২৬)
হাট
যে যায় তাকে যেত দাও
হাট করে খুলে দাও খিড়কি।
যে কেউ আসুক যাক
উন্মুক্ত দোয়ার।
২৫:১১:২০১৭
সকাল:৭:২৫মি
মানিকভান্ডার।
[20/01/2020, 8:27 am] GOBINDA DHAR: জল জলা ও নদী বিষয়ে এক জলজপুরুষ কবি গোবিন্দ ধর
হারাধন বৈরাগী
ত্রিপুরায় লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলন
ছড়া আন্দোলনের
পুঁথি পুস্তক সংগ্রহ আন্দোলন
প্রকাশনা আন্দোলনসহ লেখালেখি মহুকুমাস্তরে পৌঁছে দিতে গোবিন্দ ধর এক অতিজীবিত দ্রোহপুরুষ।তিনি সংগঠক,সম্পাদক, প্রকাশক,সংগ্রাহক, কবি ও কথাশ্রমিকও।ত্রিপুরায় জল জলা নদ-নদী নিয়ে লেখালেখিও কবি সাহিত্যিেকের নিকট সহজতর করেন।এ রাজ্যে দিলীপ দাসের পর যারা নদী জল জলা নিয়ে লিখেছেন তাদের মাঝে অশোক দেব,পদ্মশ্রী মজুমদারের সাথে একই পংক্তির কবি গোবিন্দ ধর। তাঁর :দেওনদীসমগ্র,আনোয়ারা নামের মেয়েটি,মনুখণ্ড সমগ্র আমাদের নিকট প্রেম প্রতিবাদ ও দ্রোহবীজ।
[20/01/2020, 8:32 am] GOBINDA DHAR: মা রেণুকা সিনেমা হল
চৈতন্য ফকির
আমাদের সিনেমা হল"মা রেণুকা"।
আমাদের মা রেণুকা তিন শো চলতো।
বড়দা সকালে সিনেমায় যেতেন আর রাতে আসতেন।
বড়দা সিনেমার পোকা।
আমায় সিনেমা কখনো টানে না।
কত বিকেল সন্ধ্যা ঘুমিয়ে কাটিয়েছি
তার ইয়েত্তা নেই।
একদিন টিকিট কাউন্টারে হাত ঢুকিয়েছি
আমার হাতের সাথে আরো তিনখানা হাত
কি করে অন্য আরো তিনজন ঢুকিয়ে দিলো
আমার হাতও আর আনতে পারছি না।
ওরাও আনতে পারছে না।
প্রায় ভাঙবে হাঁড়গুড় এমন অবস্থা।
তারপর টিকিট কাউন্টারে আর কোনদিন হাত দিইনি।
জীবনের রঙিন রূপালি দিন মা রেণুকায় না গিয়ে
আমার বিকেলগুলো কাটতো চোখের বালি'র পাতায়।
পথের পাঁচালি শ্রীকান্ত আর কমলাকান্তের দপ্তর পাঠে
আমার বালকবেলা চলে গেলো কখন।
মা রেণুকার চলচিত্রের ঘোষক নিশীথ দে
হিন্দি ফাইটিং ছবি "আগের তুম না হতে"
আরো কত কী।
তার ভাসা ভাসা উচ্চারণ কানে লেগে আছে।
মা রেণুকা আর নেই।
আমাদের দেওশহরের যুবকেরাও বাইকে যুবতী নিয়ে
রাজপথে দাপিয়ে ঘুরে।
পার্কে প্রেমিকার ঠোঁট কামড়ে ধরে উঠতি বালকেরা।
ইকোপার্কের ঘণজঙ্গল নড়ে উঠলে আমরা ধরে নিই
কোন অজানা বালকের দুপুর এখন।
বনেও তো বাঘ নেই
হালকা জঙ্গল কেঁপে উঠলে ভাবি
হয় কোন বালকের হাত পা নড়ছে
নয় তো বিপথে চলে যাওয়া কেউ রিপিউজি লতার ঝোপে সময় নাড়ায়।
মা রেণুকা সিনেমা হল ঘরে ঘরে টিভি বন্দী এখন।
ছেলেরা মেয়েরা পগো ভিম ডরেমনে সময় কাটায়
স্কুলে কোন ফেল নাই
প্রথম দ্বিতীয় ক্লাসে নেই মূল্যায়ণ।
এমন সিনেমা দিনে মা রেণুকা নেই।
দেওনদীর সঙ্গম লাগে মনুর নিকট
এই সময় বালকেরা নিরাপত্তাহীনপ্রেমে মজে
সিনেমা হলের বাইরে।
০৭:০৬:২০১৮
বেলা:০১:০৫মি
কৈলাসহর।
[20/01/2020, 8:32 am] GOBINDA DHAR: শ্রীহট্টীয়পুরাণ
গোবিন্দ ধর
শেকড় উপড়ানো গাছ আমি।
নাগরীলিপি ভুলে গেছি কবেই
শব্দকোষ যৎসামন্য মনে থাকলেও
পুরায় বুঝি না হেরে বুঝি।
শ্রীমঙ্গল আগুন লাগলে এখনো দেখি।
বাবার পদধূলিমাখা চালতাপুর বর্ডার হয়ে
যেদিন আমিও ভারতে এলাম
শরীরের লোমকূপ কাঁটা দিয়ে উঠলো।
আমিও শ্রীহট্টীয় আমার রক্তেও আছে
সিলেটের লবণ ও মাটি
জেতাগাছ হয়তো মনের গভীরে
বাকীটা শেকড় উপড়ানো মৃতকাঠ।
০৮:০৬:২০১৮
রাত:১১টা ৪০মি
কুমারঘাট।
[20/01/2020, 8:32 am] GOBINDA DHAR: চুপ
চৈতন্য ফকির
এখন কথা বলা বারণ।
চুপ
চুপ থাকতে হয়।
চুপ লেনিন ভাঙ্গা হচ্ছে
একদম চুপ
কোন রা নয়।
গ্রাম পাহাড় জ্বলছে
কলেজ ইউনিয়ন দখল নিচ্ছে
ট্রেড ইউনিয়ন অফিশ দখল নিচ্ছে
এখন চুপ।
এখন কথা বলতে নেই!
এখন লেনিনের মতো হুড়মুড় করে
সুন্দর মনটাও কালিমায় ঢেকে যায় যাক।
চুপ কোন কথা নয়।
সভ্যতার চিৎকার কানে তুলো লাগাও।
মানুষগুলো মানুষের হাতে মরছে মরুক।
চুপ একদম চুপ
চারদিকে শ্মশানের নিস্তব্ধতা।
কেউ কিচ্ছু বলো না।
আমাদের লেনিন হুড়মুড় ভাঙ্গা হোক।
চুপ একদম চুপ এখন।
কথা বলা যাবে না।
লেনিন ভেঙ্গে গেলো চোখের সামনে।
মানুষ মার খাচ্ছে
গ্রাম পাহাড় দাউদাউ আগুন জ্বলছে জ্বলুক।
চুপ কেউ কথা বলবে না!
০৭:০৩:২০১৮
সজাল:০৭:৫০মি
কুমারঘাট
[20/01/2020, 8:32 am] GOBINDA DHAR: সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত কামুকের প্রতি
চৈতন্য ফকির
কে যে ওদেরকে এরকম ঠিকেদারি করার লাইসেন্স দিলেন ত্রিপুরার বাংলা কবিতায় কারা কোথায় ডিপরাইভ,কারা নিরস্ত্র, কারা ধারালো কিরিচ কিংবা কে কে হেমলিন।এই ব্যাখ্যা করার অধিকার কে দিলেন ওদের?
পূর্বেও এমন ছাগলামির দন্ড স্বরূপ অক্ষরাস্ত্র ছেড়েও বেল্লিকদের বেলাল্লাপনা দমানো যায়নি।কারণ ঢিল ছুড়ে ওরা ঢিল খেতে চায়।
এখন অব্দি বাংলা কবিতায় স্বউচ্চারণে শুধু নিজের ঢোল নিজে পেটানো ছাড়া মহাজাগতিক কোন বিস্ফারণ আদতেই নেই।তবুও ছাগল আয়নায় দাড়ি দেখে সোসালমিডিয়ায় বিজ্ঞাপন করেন তিনি রবীন্দ্রনাথ।
ইহা ত্রিপুরার বাংলা কবিতার দূর্দিন ছাড়া আর কিছুই নয়।তা অতি মোড়লও জানেন।হয়তো সাত চড়ে রা না করা কল্কে ধারীরা নীরবতাই পালন করবেন।তাতে আবহমান বাংলা কবিতার কিচ্ছু যায় আসে না।ভাবীকাল গ্যালিলিওই ধ্রুব সে রায় আসবে।
ততদিনে এইডস আক্রান্ত কামুক কবি চিরনিদ্রায় থাকবেন বলে আক্ষেপ হয়!
০৭:০৪:২০১৮
রাত:১০:৪৫মি
আগরতলা।
0 Comments