স্রোত সাহিত্য পত্রিকা ও প্রকাশনা :আমার শ্রমের লালিত স্বপ্ন গোবিন্দ ধর
স্রোত সাহিত্য পত্রিকা ও প্রকাশনা :আমার শ্রমের লালিত স্বপ্ন
গোবিন্দ ধর
জীবন আসলে পরীক্ষা নিরীক্ষা আর সাধনার সমষ্টি।
২০১২ থেকে ২০১৮ এক ঝাঁক আঁতেল মুখোশধারী ঘিরে থাকতো স্রোত পরিবারের সাথে। বাইরে থেকে অনেকেই মনে করেছিলো ওরা আমাদের শুভানুধ্যায়ী। কিন্তু বিষয়টি বিচক্ষণতার সহিত উপলব্ধি করেছি।
সুতরাং তাদের উন্মোচন করতে সামান্য কিছু সাহিত্যটোটকা এপ্লাই করেছিলাম।তাতেই উন্মোচিত হয়েছিলো বেশ কজনের মুখ।ভাগ্যিস আজ তারা ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন। নয়তো আরো ক্ষতিগ্রস্ত হতে হতো স্রোত প্রকাশনাকে। স্রোত প্রকাশনা আপনাদের আশীর্বাদ লাভ করবে বিশ্বাস রাখি।
এতোটাই মোহাচ্ছন্ন করে বসেছিলো কে আপন কে পর তাঁরা ভুলিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে তো আর এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় বৃক্ষ শাখা-প্রশাখায় ডালপালা দিয়ে বসে না।আস্তে আস্তে সন্তর্পনে ডালপালা শাখা প্রশাখা ছেঁটে দিতেই নেমে আসে খড়গ।আমি ধারালো কিরিচের উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। ওঁরা মজা লুটছে।এমন এক সংক্রমণ থেকে আমি নয় স্রোতকে বাঁচিয়ে রাখতে বাইরে থেকে অনেকেই আমাকে নিরন্তর সহযোগিতা করে গেছেন।এখনো তাঁদের পরামর্শ উপদেশ আমার শিরোধার্য। আমি হারিয়ে গেলেও বিন্দুমাত্র আক্ষেপ নেই। স্রোত প্রকাশনা ও স্রোত সাহিত্য পত্রিকা এবং স্রোত পরিবারকে যাঁরা নিয়মিত বাঁচিয়ে রাখতে চেয়ে আমাকে নেতিবাচক শক্তির নিকট মাথা নত না করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন তাঁদের সবাইকে আমার শ্রদ্ধা। কৃতজ্ঞতা তাঁদের বুদ্ধিবৃত্তিক পরামর্শকে।সেই সকল উপদেষ্টা মণ্ডলীর অনেকের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আবার আমাদের অনেক উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য তখন মুখের আড়াল থেকে মুখোশ বের করে কিভাবে হেয় করা যায় স্রোতকে,কিভাবে স্রোত প্রকাশনাকে ত্রিপুরা তথা বাংলা সাহিত্যের পাবলিকেশন আন্দোলন থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় তলে তলে কেউ কেউ প্রকাশ্যে অনেকের শলাপরামর্শের নিকট মাথা নত করেছিলেন তাঁদের সবাইকেও আমার শ্রদ্ধা। কারণ সেই সব মুখগুলো না চেনা হলে নিজের দূর্বলতা আজও আমি বুঝতাম না।জামতাম না।
কারো কোনো পাকাধানে মই না দিলেও একজন সাহিত্যশ্রমিকেরও সমালোচক হতে পারে সেদিন আমি উপলব্ধি করতে পেরেছি।
স্রোত প্রকাশনা আমার পরিচালনা রক্ত ঘাম ও আর্থিক বিনিয়োগে গঠিত হলেও এ রাজ্যের নবীন প্রবীন যেখানেই সাহিত্যের অঙ্কুর দেখেছি তুলে এনে বীজতলা দিয়েছি।জল দিয়েছি।আগাছা পরিস্কার করার জন্য শ্রম দিয়েছি।বিনিয়োগ করেছি।কিন্তু ওঁরা ভেবেছে মহিরুহ।
সাহিত্য এক নিরলস সাধনা।নিরলস পঠনপাঠন অনুশীলন। এখানে মেটিক্যুলাস ডিজাইন খাটে না।এখানে প্রত্যেকে আমরা প্রত্যেকের প্রতিযোগী।সমবেত প্রতিদ্বন্দ্বীও।কিন্তু কেউ কারো শত্রু নই।কেউ কারো বন্ধু নাও হতে পারেন কিন্তু বন্দুক তো নয়-ই।
অথচ যাদের জন্য রচনা করেছি বীজতলা তাদের অনেকের নিকট তা হয়ে উঠেছিলো নষ্ট আশ্বিনের শশাক্ষেত।
সুতরাং অতি সন্তপর্ণে দরজা খোলা রেখে দিয়েছিলাম।তাঁদের পথ আটকে রাখিনি।
আমার দুঃসময়ে কবিতা হয়েছিল আশ্রয়। প্রশ্রয় পেয়েছি অনেকের।
সকলের নিকট নত মস্তকে আভূমি প্রণাম।
স্রোত সাহিত্য পত্রিকা ও প্রকাশনা আজ বত্রিশ বছরে পা দিয়েছে। আপনাদের সকলের সহযোগিতা ভালোবাসায় সিক্ত হোক স্রোত।
কাজ করতে এসেছি আমি।শুভেচ্ছা স্মারক সম্মাননা এসবের নিকট মাথা বন্ধক রাখিনি কখনোই।
মাথা নত করে রাখি সামনে এসে ভুলগুলো বলে সংশোধন করেন যে সকল বন্ধুজন তাঁদের নিকট। আগামীদিনেও আমি এই সংকল্প থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চাই না।
কাজ করতে এখনো অনেক ভুলের সম্মুখীন হতে হয়।ভুলগুলো ধরিয়ে দিলে আমি কৃতজ্ঞ থাকবো।
সমালোচনা হোক। সামনে বলুন।পেছনে নয়।যদি বন্ধু হও সামনে আসো।বিশ্বাস ভেঙে গেলেও পুনরায় সেতু নির্মাণ করা যায়।
স্রোত সাহিত্য পত্রিকা ও প্রকাশনাকে এগিয়ে নিতে আপনাদের সহযোগিতা দরকার। আমি শ্রমিকমাত্রা
আপনারা যারা লেখেন আপনারা তার প্রাণ ভ্রমরা।
২৩:০৯:২০২৫
0 Comments