কবির ভূখন্ড কবির কবিতা গোবিন্দ ধর
কবির ভূখন্ড কবির কবিতা
গোবিন্দ ধর
চলুন বরং বিকাশঝোরা লিখি।লিখি বিষাদবালক কিংবা অনন্তছুঁতুর।লক্ষ্মীর পাঁচালী কিংবা কনিষ্কের মাথা লিখি।না হয় বরং হোক নতুন করে শ্রীরামকাহিনী।এ সময় চাইছে আত্ম উপাখ্যান।মুখাপেক্ষী নয় বরং লিখে নিন আত্নার নিজস্ব পতাকা।পতাকার রং হোক শীতলকুচির লাইনে দাঁড়ানো ভোটার গুলি খেয়ে মৃত্যুর পর যে রক্ত ফিনকি দিয়ে রাঙিয়ে ছিলো পৃথিবীর মাটি সেই রক্তরাঙানো নিজস্ব পতাকায় লিখুন জিওলছড়ার জাপনজয় রিয়াং হাঁটতে হাঁটতে কোথা থেকে কোথায় এলেন।কীরকম নাইশিংটিলায় একজন রমণীর বুক থেকে টুপটাপ অর্নগল করুণাঝরে অথচ তিনিও কেন দেশের ভেতর বিদেশী।লিখুন আপনাকেই লিখতে হবে ডেমছড়ার রাবারবাগানে যে পুরুষ তার প্রেমিকার সাথে মিলনের আগেই খুন হয়ে যান।লিখুন পানিসাগরের সেই মানুষটির কথা যে বিয়ে বাড়ি থেকে রাতে খাওঅদাওয়ার পর নিজের বাড়ি আর ফিরতে পারেনি।লিখুন কলমজীবী আপনি।আপনাকে মনে রাখতে হবে ভূমিরীতির দৃষ্টিভঙ্গি লোকগল্প সৃষ্টির যথেষ্ট সম্ভাবনা নিয়ে চারপাশে পড়ে আছে পানাপুকুর।অবহেলিত কাঞ্চনদীঘি।লিখুন আভাঙারধলাই।আনোয়াছড়ারজল তিরতির মিশে যায় মনুজলে।চৈতন্যছড়া কেমন লাফিয়েলাফিয়ে গারো মেয়েটির বিনুনি ডিঙিয়ে কিরকম মনুতে মিশে গেছে। দেওজল কেমন কলকল সঙ্গমে আসে মনুহালাইমুড়ায়।এসব না লিখে তুমি কি লিখছো কবি?অন্ধ বড় অন্ধ সময় চলছে।এ মাটির কান্না থামাতে আপনার কলমহোক শিলাছড়ির বিজনঝর্ণা।লিখতে হবে আত্মারখুন দিয়ে।
কবির আত্মার কোন বেইল নেই। একা একা একাকিত্ব ঘুচবে না কবির।কবির বুকে নূপুর বাজে আবার কান্নাজল গড়ায় কলকল।তাই নিজেকে না জেনে আনন্দ কোথায়।কান্না কোথায়।নিজের বাঁধাইশিল্পীবাবাকে আঁকতে আঁকতে চলেছি।রিপুজানা মাকে আঁকতে আঁকতে চলেছি। প্রতারক মেয়েটিকে আঁকতে আঁকতে চলেছি। তাও সাঁকো পেরিয়ে তৃণভূমি আঁকতে পারিনি।বিজয়নদীর কল্লোল আঁকতে পারিনি।তসবীরঅক্ষর আঁকতে পারিনি।বাঁশপাতার মর্মর আঁকতে পারিনি।শূকরের মৃত্যুযন্ত্রণা আঁকতে পারিনি।মগজে বয়লার মোরগ ঢুকে আছে।তাকে আরো শাণিত করতে ক্রমাগত ঘষছিমাজছি তাও ঝা-চকচকে চাঁদ আঁকতে পারিনি। বুলেটের গতি কমাতে পারিনি। বাঁচার নেশায় বুদ হয়ে বলতে পারছি না জীবন এক নেশা হে।মহেশপুর,নটিংছড়া,জগন্নাথপুর, মনুভ্যালি,রাংরুং চাবাগান না গেলে জীবন কত সহজ অথচ কত যন্ত্রণায় ওরা হাসে ভাদুগায়।পারছি না পারছি না।এই ব্যর্থতার ছাই মেখে গুণ গুণ করে যে ছায়াটি আমাকে মাড়িয়ে যেতে চায় তার নিকট হাঁটুভেঙে বসি গল্প বলি চৌদ্দজন দিব্যকান্তি পুরুষের ছাতিমবৃক্ষে লুঁকিয়ে স্বপ্ন আঁকার গল্প।একটি রিসাই পারে লক্ষ পুরুষের দামাল ঝলকানির আওয়াজ থামাতে।কোথাও কি ভুল হচ্ছে? কোথাও কি তরুণেরা থেমে গেছে? ঘেমে গেছে?নাকি তরুণদের ঘুমের টেবলেট কেউ রাতেরভাতে গোপনে মিশিয়ে দেয়?আঠারোয় আটকে দিলে সুকান্তপুজো করে বিদ্যাসাগর আসেন না ঘরে ঘরে। এ কথা কেউ বলবে না কবি।বরং লিখে নাও নিজস্ব ভূগোল।আঁকো লাবডুব।আঁকো পাঠশালার দুন্দুবুড়িউপাখ্যান।শব্দবাজি নয় শব্দবাজি নয় শব্দের গতরে লুঁকানো শব্দের আওয়াজ চাষ করি এসো।কবি আপনিই পারেন সায়দাছড়ায় ভেসে যাওয়া শিমুলফুলের সৌন্দর্য আঁকতে।কবি আপনিই পারেন বিড়িপাতাছড়ার কান্না লিখতে।হৃদয়ে আঁকুন সাইমা-রাইমার কলকল।আঁকুন সিকামনুকতাই। আঁকুন ঘন্টাপাখির ক্রমাগত আওয়াজ।লালমাটির শিকারি আঁকুন। আঁকুন দেওনদীরজল।মেঘ আঁকতে আঁকতে আপনি শুধু প্রেমিক হলেন প্রেমিকার কান্না আঁকতে লাগে জুরির সাঁতার । আঁকুন থালগাঙের জেলে জীবন।নওয়াগাওয়ের যশোয়া হালামের কন্ঠ থেকে লুফে নিন হেড়ম্বসাম্রাজ্য।শচীন কর্তার কন্ঠ থেকে নিন ভাইধনের বোন।ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ থেকে নিন তুলি।বীরচন্দ্র থেকে নিন বৈষ্ণব পদাবলী।আঁকুন পাহাড়টিলাজলজলা নীরমহল আর বৈশাখী ঝড়ের মতো লিখে নিন আপনার জীবনের ধারাপাত। বনজলটিলালুঙ্গা সমতটের বিস্তীর্ণ নদীখাতই একজন কবির ভূখণ্ড। তাকেই আঁকতে হবে।তাতেই লেগে আছে ঊনকোটির ঝর্ণাজল।মনে রেখো এ ছাড়া বেইল নেই কবির,শিল্পীর,কলমজীবীর,শব্দচাষীর,কথাশ্রমিকেরও।
১৯:০৪:২০২১
সকাল:০৬:১৫মি
কুমারঘাট।
0 Comments