আ.ন.ন্দ.দো.তা.রা( প্রেমের কবিতা সংকলনা) :গো.বি.ন্দ.ধ.র
আ.ন.ন্দ.দো.তা. রা
গো.বি.ন্দ.ধ.র
প্র.চ্ছ.দ : গো.বি.ন্দ ধ.র
দৌড় প্রকাশন
উ.ৎ.স.র্গ.পৃ.ষ্টা
সন্ধ্যাতারা,তুমিই আমরা আনন্দদোতারা
মা.ঝ.রা.তে.র অ-ক.থা কু-ক.থা
এসো কাটাকাটি করি।
শরীর ক্রিকেট মাঠ।
খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখো।কোথায় বল ছুড়বে।
কোথায় বল নামবে।
কোথায় বল পড়বে।লোফালুফি হোক শরীরবল।
তুমি লোফে নিও।
লোফে নিলেই আমি আউট।তোমার একটি উইকেট দখল হলো।
আমিই আউট।
আমার শরীর উদোম মাঠ।তুমি ফিল্ডিং করো যত্নে।মাঠের কোথায় কতটুকু উঁচুনিচু নজরে রেখো।জানোই তো ক্রিজে জাঁকিয়ে থাকতে হলে
প্রতিটি বল বেডে ছুঁইয়ে দিয়ে বল গড়িয়ে যাবে প্রতিপক্ষের হাতের নাগাল থেকে দূরবর্তী প্রান্তের দিকে।
কক্ষনো বলকে প্রতিপক্ষের হাতের নাগালে রাখতে নেই। বল ঠিকঠিক মাথার উপর যেন না ছোঁড়া হয়।
একটি উইকেট হারিয়ে গেলে খেলা থেকে সামান্য হেরে যাবেন।
আমি চাই শেষ রানা অব্দি কুকুরের মতো প্রবৃত্তি দেখাবেন।
শরীর ক্রিকেট মাঠ।
তাকে ব্যবহার জানেন আপনি।
তাতে কোথায় বল পড়লে কতটুকু গর্ত হয় মাঠ তা আপনিই জানেন।
এতে জল জমে গেলে দু'একটি শামুক জন্ম নিলে আপনারই পা শামুকভাঙা মসৃণ কিরিচে কেটে যাবে।আপনিই হেরে যান কক্ষনো চাই না।
কারণ আপনার জিভ থেকে কুকুরের মতো প্রবৃত্তি লকলক করলে আমি আরো স্যুয়িং করি শরীরবল।
০৯:০১:২০২৪
রাত:২টা৩০মি
কুমারঘাট।
গো.প.ন ঈ.শ্ব.রী
গোপন স্তবগুলো প্রার্থনা ছিলো
সে সংগীতের সুর জানো তুমি
হারমোনিয়াম কোন স্কেলে তুললে
সমস্ত রাগমোচন হয়
সখি তাও জানো।
কেবল আমার ভোরবেলার আচরণ তুমি
মেনে নাওনি বলে
অনুরাগগুলো চৈত্র শেষের বৃক্ষ।
বৃক্ষের বেদনারা সবুজ পাতায়
আঁকবে গাছ
তুমি গানদিদিমনি।
আমায় সুর দাও।
২৮:৩:১৭
রাত:৮:২০মি
কুমারঘাট।
মৌ.প্রি.য়া
প্রিয় জামাটি পড়েন কালো জামাটি
তারপর ডেটিং এ চলুন কোথাও।
পাশাপাশি মুখোমুখি দীর্ঘসময় কাটিয়ে আসা যাক।
আপনাকেই বলি কানে কানে
আপনিই হৃদয়ের রানি।
আপনি মৌ।
আপনি আমার প্রিয়া - আপনিই মৌপ্রিয়া।
চলুন, না হয় মরুভূমির চিকচিক বালুকায়।
দীর্ঘক্ষণ পরস্পর পরস্পরের সাথে কথা বলি।
হারিয়ে যাই শরীরী ভাষা পড়তে পড়তে
মুখস্থ করবো- আপনাকে।
আপনার বাঁক নদীর মতো।
২৯:১২:২০২৫
রাত:৬টা২৫ মি
কুমারঘাট।
সু.ম.না এ.বং দাঁ.ড়ি.য়ে থা.কা
একটি ছবিতে আমি আছি, সুমনা।
সুমনা আমি আছি তাহলে?
আমি কি আছি?
আছি আমিও?
আদৌ কি আছি?
এরকম দাঁড়িয়ে ঠিক ছবিটি ক্লিকের কতক্ষণ
আগে থেকে দাঁড়িয়ে ছিলাম?
জানি না অনেক হিজিবিজি প্রশ্ন এসে
কিংকোবরার মতো ছোবল বসায় বুকের বাঁদিকে।
আমি দাঁড়িয়ে আছি।
দাঁড়িয়ে আছি অনন্তকাল।
সুমনা, আমিও দাঁড়িয়ে আছি। তুমিও।
এরকম দাঁড়িয়ে থেকে কত দিন দাঁড়ানো সম্ভব?
তবুও পাশাপাশি আছি দাঁড়িয়ে।
এক আলোকোজ্জ্বল সম্ভাবনা মেলারমাঠে
তুমি আমাকে আরো একধাপ হরিগঙ্গা বসাক রোডের দিকে হাঁটিয়ে রামনগর নিয়ে গেলো।
২১:১১:২০২৫
ভোর:৬টা
বটতলা, আগরতলা।
আ.ন.ন্দ.ন.গ.র
তোমার সিন্দুকে এসে রেখে যাবো গোপন স্রোত।
তুমি যদি যত্ন করো
ভুলে যাও চাবিতালা
এসো দাঁতে দাঁত চেপে
আরো একবার খুঁজি আনন্দনগর।
নিখিল সরোবর থেকে তুলে এনে গুজে দেবো
কবরীতে লাল গোলাপ।
এসো, কাটাকাটি ভুলে যাই নদীনির্ভর শিষ দিই
তোমার নদীর সাথে মিলে যাক আমার দেও।
২২:১১:২০১৭
সকাল:৭:২০মি
কুমারঘাট।
প্রি.য়.ত.মা
আঁকতে গিয়ে এঁকেছি আনন্দদোতারা
আর ঝরা ফুলের অশ্রু।
বুকে লেগে ছুরিকাহত, কেটে গেলো প্রেম।
এখন আমরা দুদিকে মুখ করে ক্রমাগত হাঁটছি হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর নিজস্ব গোয়ালে।
গেলো গেলো মনে করে দোতারাই নেই।
আছে শুধু রক্তমাংসের কিছুটা ঘৃণা।
থুথু লেপ্টে পড়ে আছে বাসি পুষ্প ও টগর।
মলিনতার নিকট হেরে গেলো সকল পূর্বরাগ।
এখন রাগ অনুরাগ সকল রজঃগুণ তমসাচ্ছন্ন একটুকরো অন্ধকারকে পতাকা ভেবে ঘাম মুছতে গিয়ে
বাসী স্বপ্নের ঘ্রাণ নাকে এসে দেশ দেশ যে তীব্র আতর ছিলো তা মনে হয়।
আগুন জ্বলছে।
মা পুড়ছে।
মানুষ পুড়ছে।
প্রিয়তমার অহংকার পুড়ছে।সকল বিশ্বাসে নদী নেই। নাব্যতা নেই।
আছে এক গভীর দ্রোহ। এখান থেকেই পালিয়ে গেলো
আকাশ রঙের পাখিটি।
এখন তুমি নেই পড়ে আছে পুড়ে যাওয়া ঝলসানো চাঁদ। আলো নেই আলো নেই
মলিন মুখের গভীরে এক কৃষ্ণ অন্ধকার থেকে আর কোন জাদু বাস্তবতার গান নেই বুড়োচণ্ডিদাস।
১৪:০১:২০২০
রাত:০৪টা
কুমারঘাট।
এ.সো গো.প.ন চি.ঠি
তুমি জলপদ্ম
আমি ফুটি তোমার শরীরী ভাষায়।
এসো,শরীর শরীরে ডুবুক।
সাঁতরে পাড়ি দিই
দুজনে দুজনার নদী।
এসো আলোকিত হই দুজন দুজনার আলোয়।
সীমানা টপকে যেতে চাই
তুমি আবার কাঁটাতার বসিও না
নাভিপদ্মের ঘ্রাণ নিই দুজন দুজনার।
২৭:১০:২০১৮
রাত:১০টা
কুমারঘাট।
য.দি ক.থা রা.খো
যদি কথা দাও মগডাল থেকে বসন্ত পেড়ে আনবো।
যদি কথা দাও সকল দরজা হাট করে খোলে দেবো
হাওয়া আসবে যাবে শীতল হবে মাটির শরীর।
ভোর আসবে প্রকৃত ভোর।
পরস্পর পরস্পরকে আঁকড়ে ধরে
লিখে ফেলবো একটি মাটির কবিতা।
কবিতাই প্রকৃত শিক্ষক প্রকৃত নদী
যে নদীর স্রোত এসে ধুয়ে দেয় আমার অন্ধকার।
আর আমি জ্যোৎস্নায় ভরে উঠি।
আমার সমস্ত আলো ঠিকরে পড়ছে।
এসো যদি কথা রাখো আলোয় আলোয়
ভিজিয়ে রাখি পরস্পরের মাটির শরীর।
১৭:০৮:২০২২
ভোর:৫টা২৫মি
কুমারঘাট।
লা.ল দী.ঘি.র পা.ড় র.বী.ন্দ্র স.দ.ন এ.বং ...
ইচ্ছে ছিলো দুদণ্ড বসে থাকি বহরমপুর বারে
মুখোমুখি যদি তুমি বসতে লালদীঘির মাছের তীক্ষ্ণ চোখ দিয়ে তীরের মতো
হৃদয়ে পৌঁছে দিতে কিছু দুঃখ দুঃখ কুসুম কুসুম জল।
আলাপন লজ থেকে হাঁটতে হাঁটতে আমি
আপনার কথা স্মরণে রেখে রবীন্দ্রসদন গিয়েছি।
বাসভূমি উৎসব থেকে যে উষ্ণতা অরূপদা ঢেলে দিলেন
তার সবটুকু উজাড় করে দিলাম
লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনের সকল সৈনিকদের।
তবুও আরো কিছু ছিলো কিছু তো ছিলো
বুকের ভেতর লালদীঘির জলের মতো
ঢেউ ছলাৎছল সত্তরের আগুন অথবা
যে কথা বলতে পারেননি কাদম্বরীকে রবীন্দ্রনাথ ?
১৬:১১:২০২৫
বিকেল:৪টা৩০মিনিট
কিশানগঞ্জ, পশ্চিমবঙ্গ।
শ্রী.ম.তি ত্রি.পু.রা
ধান পাকার সময় এসেছে।ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে।প্রতিদিনই এই পথ পরিক্রমণ করি।
পাহাড়ি পথ।
খাড়াই উৎরাই।
আর এবড়ো খেবড়ো।
কখন পথ থেকে বাইক পাহাড়ের খাড়াই বেয়ে লুঙ্গায় লাফিয়ে লাফিয়ে চলে যায় কে জানে।
শরীর সায় না দিলেও মন সায় না দিলেও কর্মই তো একজন মানুষকে সামনের দিকে আরো পথ চলতে সাহায্য করে।
সুতরাং প্রাণ হাতে চলতে হয় এই রাস্তায়।
কিন্তু জুমে যখন ধান সবজির লকলকানি সবুজ আর সবুজ বিস্তীর্ণ ভূমি বরাবর দৃশ্যে আসে তখন আর মনের সমস্ত ক্লান্তি শরীরের ক্লান্তি শুষে নেয় সবুজ।
জুমের ধানের ঘ্রাণের আবেশ ছড়ানো টিলাভূমির হাতছানি মন অজানা আনন্দে মেতে ওঠে।
আজ তিরিশে জুলাই ২০২২।জীবন তো নানাভাবে দেখে আসা এক বুড়োর দলের একজন আমিও।
এ রাজ্যের পাহাড় সমতল আর টিলাভূমির সৌন্দর্য, হিংসা হিংস্রতা যতটুকু জেনেছি বুঝেছি তাতে জীবনের মায়া কখন যে কেটে গেছে।
তবুও এই জুমের সবজি লাউ কুমড়ো নানারকম ধানের মায়ার নিকট অতি তুচ্ছ।
সুতরাং যদি বেঁচে থাকতেই হয় শ্রীমতি টিলাভূমির সৌন্দর্য সকলেরই অবলোকন দরকার।
৩০:০৭:২০২২
সময়:০৮:৩০মি
বৃক্ষরাম,ডেমছড়া।
তো.মা.কে,উ.ল্টা.নো চাঁ.দ
দূরে কোথাও ক্রমশঃ ফিকে হয়ে যাওয়া বিশ্বাস
ক্রমশঃ ক্ষয়ে যাওয়ার পর উল্টানো চাঁদ
আমরা এখনো তোমাকেই সঠিক দিশারি মানি।
তুমি পলাশরাঙা স্বপ্ন ফেরি করেছিলে কাঁঠাল ত্রিপুরায়।
তুমি মুষ্টিবদ্ধ হাত আকাশের দিকে তুলে ছিলে
ঘরে ঘরে জুঁই ফুলের মতো থালায় সাদা ভাত ফুটুক।
কাঁঠালবিচি আর বন আলু ছিলো পূর্বপুরুষের ক্ষুধা মেটানোর সম্বল।
সেখান থেকে আমাদের গর্বের স্মার্ট
সিটি।
তুমিই রূপকার।
তুমিই শৈল্পিক কলমে এঁকেছো
লংতরাই আমার ঘর।আমাদের ঘর হাপনরাজার সবুজ।
০৪:০৪:২০২৫
সন্ধ্যা :৬টা১৫ মি
কুমারঘাট।
সা.রা.দি.ন টা.পু.র.টু.পু.র আ.ষা.ঢ়
আজ বৃষ্টি ছিলো সারাদিন। আজ আষাঢ়।
আজ বৃষ্টি নামলো।
বৃষ্টি মানেই আষাঢ়।
আষাঢ় মানে বৃষ্টি।
যখন আষাঢ় তখনই বৃষ্টি। টাপুর টুপুর বৃষ্টি ছিল আজ জল থইথই বৃষ্টি ছিলো সারাদিন।
আজ সারাদিন আষাঢ়।
বৃষ্টি পড়ার শব্দ দূর বহু দূর থেকে ঝমঝম আওয়াজে হৃদয়ের ময়ূর ময়ুরী নেচে ছিলো আজ মুহুর্মুহু।
বৃষ্টি এলে মন ছমছম করে।পুলকিত হই।
বৃষ্টি এলে ভিজে একসা হলে মনের ভেতর একজন কালুকামার আরো শিল্পী হয়ে ওঠেন।
হৃদয়ে রক্তক্ষরণ থেকে নতুন কবিতার মতো ঝরঝর করে নেমে আসে বাড়ির উঠোনে।
উঠোন ভর্তি গাদাফুল লাল হলুদ চুপসে গেছে আজ।
আজ বৃষ্টি ছিলো সারাদিন। আজ আষাঢ় মাস।
আজ আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টিদিন।
আজ কালু কামার নতুন করে বানিয়ে দিলো ঊনকোটি।
২৭:০৭:২০২৫
রাত:৩টা৩৮ মি
কুমারঘাট।
মে.ঘ.নো.লি.য়া
অনেক দিন পর টানা ঘুম হলো।
ঘুম তো নিদ্রা।
দীর্ঘসময় নিজের মধ্যে না থাকা।
কে আমি ভুলে গিয়ে অচেতন নিদ্রায় কেটে গেলো সময়।বহুদিন ঘুম হতো না।
আজ তুমি কাছাকাছি।
আজ শরীর শান্ত। মনও।দেহমনে শান্তির বারিধারা প্রবাহিত, শান্ত।
খুব ক্লান্তির পর দীর্ঘসময় ঘুমিয়ে হঠাৎ সকাল দেখি।
আজ পূব আকাশে রোদ ঝলমল নয়।
সূর্য ঢাকা আছে তোমার ছায়ায়।
তুমি আছো তাই রোদ চলে গেছে মেঘ মেঘ আকাশে।
জানো, আজ বড় শান্ত লাগছে দেহমন।
মনে হচ্ছে সারা শরীরে প্রবাহিত হচ্ছে স্নিগ্ধ আরাম।
আমি খুব ভোরে সজাগ হয়েছি।
এখনো লেগে আছে রাতের আদর আদর শরীর।
ভোরে বেরিয়েছি।
আবার স্বল্পকালীন হাঁটাহাঁটি করে বিছানায় চলে আসি।
দক্ষিণের জানালা খোলা। হাওয়া আসছে তোমার শরীর ছুঁয়ে।
লাগছে আমার শান্ত শরীরে।শরীর জুড়িয়ে যায় আনন্দবাতাস আজ চারদিকে।
আরো দীর্ঘসময় বিছানা আর আমি লেপ্টে থাকতে মন চাইছে।
তুমি খুব শান্ত। সিগ্ধ।চিরহরিৎ।
১২:০৫:২০২৫
ভোর:০৬টা২০ মি
কুমারঘাট।
হা.র.মো.নি.য়া.ম
সারা শরীরই স্বরলিপি। বাজাতে জানি না আমি।রিডগুলো জং ধরে অকেজো।
গানের স্কুল থেকে আমি দূরবর্তী কাব্যগ্রামে আছি।
পড়ে থাকা হারমোনিয়াম নষ্ট হয়ে যায়।
আমি দূরবর্তী প্রান্তের স্বরলিপি না জানাই রয়ে গেছি।
৩০:০৬:২০২৫
সকাল :০৭টা
কুমারঘাট।
আ.ন.ন্দ.দো.তা.রা
শরীর হারমোনিয়াম।
তার স্বরলিপি বেজে উঠলেই
গেয়ে ওঠে আনন্দদোতারা।
শরীর বাদ্যযন্ত্র তুমি বাজালেই
বেজে ওঠে সারে গামা পা।
শরীরের যন্ত্রগুলো জং ধরলে
অসুখ এসে জাপটে ধরে
বর্ণমালা শরীর।
১৬:০৭:২০২৫
রাত:১২টা৫৫ মি
কুমারঘাট।
0 Comments